জীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম, অভিমানে ভরা হৃদয়বিদারক কিছু কষ্টের কথা ফেসবুকে লিখে না ফেরার দেশে চলে গেলেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তরুণ সাংবাদিক রাকিব হোসেন (৩৫)। কৃষিপণ্যে ব্যবহৃত অত্যন্ত বিষাক্ত অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড সেবনের পর রোববার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে রাকিব সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দিয়ে যায় আবেগঘন বিদায়বার্তা। রাকিব হোসেন ছিলেন দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার দশমিনা উপজেলা প্রতিনিধি এবং তিনি দশমিনা বাজারে একটি ফার্মেসি ব্যাবসা পরিচালনা করতেন।
জানা যায়, গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোক্তার হোসেনের মেজো ছেলে রাকিব শৈশব থেকেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন।
২০০১ সালে মায়ের মৃত্যুর পর তিনি ও তার বোন দশমিনায় নানার বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানেই বেড়ে ওঠা, লেখাপড়া এবং পরবর্তীকালে কর্মজীবনের পথচলা।
মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে সকাল ৫টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক হৃদয়স্পর্শী পোস্টে রাকিব লেখেন, একটা মানুষ জীবনে কত যুদ্ধ করতে পারে? যুদ্ধ করতে করতে আজ আমি ক্লান্ত। আপন বলা মানুষগুলো ভালো থাকুক। আফসোস, রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলো আমাকে চিনতে পারল না।
পোস্টে তিনি মৃত্যুর পর মায়ের কবরের পাশে শায়িত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ছোট বোন জান্নাতুল ফেরদৌসের কাছে নিজের ব্যাবসায়িক ও আর্থিক বিষয়গুলো বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে ব্যাবসায়িক অংশীদার গৌতমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাকে কোনো ধরনের হয়রানি না করার আহ্বানও জানান।
পোস্টের একপর্যায়ে রাকিব লেখেন, ছোটবেলা থেকেই পরিবার ছাড়া বড় হয়েছি। রক্তের মানুষগুলোর কাছ থেকে কখনো কিছু পাইনি, পেয়েছি শুধু অবহেলা। জীবনে যাদের কাছ থেকে ভালোবাসা পেয়েছি, তাদের সঙ্গে আমার কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই। আজ বিদায়ের সময় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
সবশেষে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি লেখেন, চলার পথে যদি কেউ আমার আচরণে কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। তার এই কথাগুলো এখন স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের হৃদয়ে গভীর বেদনার রেখা এঁকে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে রাকিব চারটি অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড ট্যাবলেট সেবন করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি তার ছোট বোনকে ফোন করেন। খবর পেয়ে বোন ও কয়েকজন বন্ধু দ্রুত তার ভাড়া বাসায় ছুটে যান। পরে তাকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অ্যাম্বুলেন্স কিছু পথ যাওয়ার পর সকাল ৬টার দিকে তার জীবনপ্রদীপ নিভে যায়।
নিহতের বোন জান্নাতুল ফেরদৌস কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, মা মারা যাওয়ার পর তিনি ও রাকিব নানার বাড়িতে বড় হয়েছেন। ভাইটি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন, নিজের চেষ্টায় দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর ধরে রাখা গেল না।
রোববার দশমিনা মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় রাজনৈতিক সহকর্মী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী গলাচিপা উপজেলার নিজ এলাকায় মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজা শেষে অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু। কেউ হারিয়েছেন সহকর্মী, কেউ বন্ধু, কেউ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। আর একজন মা-হারা সন্তানের জীবনের দীর্ঘ অভিমান, কষ্ট আর নীরব যুদ্ধের গল্প শেষ হলো মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার মধ্য দিয়ে।
দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রাহুল বিন হালিম জানান, অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড অত্যন্ত বিষাক্ত একটি রাসায়নিক পদার্থ। এর নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই এবং সামান্য পরিমাণ সেবনও প্রাণঘাতী হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও রাকিবকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
দশমিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিষাক্ত ওষুধ সেবনের ঘটনায় রাকিব হোসেনের মৃত্যুর খবর পুলিশ পেয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’

১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:১১
পটুয়াখালীর বাউফলে বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, আসবাবপত্রসহ পুড়ে গেছে নিজের ও বোনের বিয়ের জন্য ১০ থেকে ১২ বছরে জমানো প্রায় সাত লাখ টাকা। এতে সর্বস্ব হারিয়ে পড়েছেন মোশাররফ হোসেনের (৩০) পরিবার।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলালিংক টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ মোশাররফের বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ঘরের মালামাল, গবাদিপশু ও নগদ টাকা পুড়ে যায়।
মোশাররফ হোসেন জানান, কৃষিকাজের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গরু-ছাগল পালন করে আসছেন তিনি। এর আগে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি হয়ে যাওয়ায় সেটি বিক্রি করে দেন। এরপর গবাদিপশু পালন শুরু করেন।
মোশাররফ বলেন, গত ১০ থেকে ১২ বছরে পাঁচটি গরু ও ৪০টির বেশি ছাগল বিক্রি করে প্রায় সাত লাখ টাকা জমিয়েছিলেন। নিজের ও বোনের বিয়ের খরচের জন্য টাকাগুলো ঘরে রেখেছিলেন। কিন্তু আগুনে তাঁর সব সঞ্চয় পুড়ে গেছে। প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের দুটি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ঘরের আসবাবপত্রও আগুনে নষ্ট হয়েছে। এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
বাউফল ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ছাব্বির আহমেদ বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
পটুয়াখালীর বাউফলে বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, আসবাবপত্রসহ পুড়ে গেছে নিজের ও বোনের বিয়ের জন্য ১০ থেকে ১২ বছরে জমানো প্রায় সাত লাখ টাকা। এতে সর্বস্ব হারিয়ে পড়েছেন মোশাররফ হোসেনের (৩০) পরিবার।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলালিংক টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ মোশাররফের বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ঘরের মালামাল, গবাদিপশু ও নগদ টাকা পুড়ে যায়।
মোশাররফ হোসেন জানান, কৃষিকাজের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গরু-ছাগল পালন করে আসছেন তিনি। এর আগে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি হয়ে যাওয়ায় সেটি বিক্রি করে দেন। এরপর গবাদিপশু পালন শুরু করেন।
মোশাররফ বলেন, গত ১০ থেকে ১২ বছরে পাঁচটি গরু ও ৪০টির বেশি ছাগল বিক্রি করে প্রায় সাত লাখ টাকা জমিয়েছিলেন। নিজের ও বোনের বিয়ের খরচের জন্য টাকাগুলো ঘরে রেখেছিলেন। কিন্তু আগুনে তাঁর সব সঞ্চয় পুড়ে গেছে। প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের দুটি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ঘরের আসবাবপত্রও আগুনে নষ্ট হয়েছে। এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
বাউফল ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ছাব্বির আহমেদ বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৬
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর ১০ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে আল আমিনের বাড়ির পাশের একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রাইয়ান ওই গ্রামের রাসেল খানের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে বাবার সঙ্গে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল রাইয়ান। এ সময় শিশুটির মা রুমানা বেগম ঘরের বাইরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে রাসেল ঘুম থেকে উঠে ঘরে তাঁর স্ত্রীর বোনের স্বামী আল আমিনকে দেখতে পান। এরপর তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে আর খুঁজে পাননি।
এ ঘটনায় পারিবারিক বিরোধের জেরে আল আমিন শিশুটিকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে রাইয়ানের পরিবার। বৃহস্পতিবার রাতেই আল আমিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় মামলা করেন রুমানা বেগম। এর আগে ওই দিন দুপুরে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর ১০ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে আল আমিনের বাড়ির পাশের একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রাইয়ান ওই গ্রামের রাসেল খানের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে বাবার সঙ্গে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল রাইয়ান। এ সময় শিশুটির মা রুমানা বেগম ঘরের বাইরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে রাসেল ঘুম থেকে উঠে ঘরে তাঁর স্ত্রীর বোনের স্বামী আল আমিনকে দেখতে পান। এরপর তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে আর খুঁজে পাননি।
এ ঘটনায় পারিবারিক বিরোধের জেরে আল আমিন শিশুটিকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে রাইয়ানের পরিবার। বৃহস্পতিবার রাতেই আল আমিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় মামলা করেন রুমানা বেগম। এর আগে ওই দিন দুপুরে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:১১
পটুয়াখালীর দুমকিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীনের বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন ঘিরে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। বদলি আদেশ প্রত্যাহার ও বহাল রাখার দাবিতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর। এদিকে কর্মঘণ্টায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানববন্ধনে অংশগ্রহণের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ‘দুমকি উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. জি এম এনামুল হকের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে চিকিৎসক, নার্স, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাঠকর্মী, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকেরা অংশ নেন।
তবে মানববন্ধন চলাকালে স্থানীয়দের অপর একটি অংশ কর্মসূচির বিরোধিতা করে ডা. শাহীনের বদলি আদেশ বহাল রাখার দাবি জানান। এ সময় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও বাগ্বিতণ্ডায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওয়াসিমের নেতৃত্বে প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে ডা. শাহীনের নেতৃত্বে হাসপাতালকেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাঁদের দাবি, এই সিন্ডিকেট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
প্রতিবাদকারীরা আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ বেশি থাকায় এমনিতেই সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এর মধ্যে বদলি আদেশ ঠেকাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে কর্মঘণ্টায় মানববন্ধন আয়োজন করায় রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
তাঁদের দাবি, ডা. শাহীনের বদলি ঠেকাতে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল হকের নেতৃত্বে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ফলে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে। এমনকি উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের মাঠপর্যায়ের কর্মীদেরও মানববন্ধনে উপস্থিত করা হয়েছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
মানববন্ধনে স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিবাদকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, একজন সরকারি কর্মকর্তার বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানের মালিকদের এত তৎপরতার কারণ কী? এর পেছনে কোনো বিশেষ স্বার্থ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তাঁরা।
অন্যদিকে, বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জি এম এনামুল হক, কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদ, কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কাজী ফাবিয়া জাহানসহ স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীনকে একজন মানবিক ও জনবান্ধব চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি উপজেলার সাধারণ মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর বদলির ফলে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাঁরা বলেন, সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার স্বার্থে ডা. শাহীনের বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ সময় অবিলম্বে বদলি আদেশ প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
এদিকে একই কর্মকর্তার বদলি নিয়ে দুই পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পক্ষ বদলি প্রত্যাহারকে জনস্বার্থের দাবি হিসেবে তুলে ধরলেও অপর পক্ষ সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রাখা এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
তবে হাসপাতালকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট গড়ে তোলা এবং কর্মঘণ্টায় চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে মানববন্ধন আয়োজনের অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পৃথক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বদলি আদেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এ বিরোধের মধ্যে সাধারণ রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে।
পটুয়াখালীর দুমকিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীনের বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন ঘিরে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। বদলি আদেশ প্রত্যাহার ও বহাল রাখার দাবিতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর। এদিকে কর্মঘণ্টায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানববন্ধনে অংশগ্রহণের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ‘দুমকি উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. জি এম এনামুল হকের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে চিকিৎসক, নার্স, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাঠকর্মী, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকেরা অংশ নেন।
তবে মানববন্ধন চলাকালে স্থানীয়দের অপর একটি অংশ কর্মসূচির বিরোধিতা করে ডা. শাহীনের বদলি আদেশ বহাল রাখার দাবি জানান। এ সময় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও বাগ্বিতণ্ডায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওয়াসিমের নেতৃত্বে প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে ডা. শাহীনের নেতৃত্বে হাসপাতালকেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাঁদের দাবি, এই সিন্ডিকেট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
প্রতিবাদকারীরা আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ বেশি থাকায় এমনিতেই সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এর মধ্যে বদলি আদেশ ঠেকাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে কর্মঘণ্টায় মানববন্ধন আয়োজন করায় রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
তাঁদের দাবি, ডা. শাহীনের বদলি ঠেকাতে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল হকের নেতৃত্বে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ফলে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে। এমনকি উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের মাঠপর্যায়ের কর্মীদেরও মানববন্ধনে উপস্থিত করা হয়েছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
মানববন্ধনে স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিবাদকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, একজন সরকারি কর্মকর্তার বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানের মালিকদের এত তৎপরতার কারণ কী? এর পেছনে কোনো বিশেষ স্বার্থ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তাঁরা।
অন্যদিকে, বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জি এম এনামুল হক, কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদ, কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কাজী ফাবিয়া জাহানসহ স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীনকে একজন মানবিক ও জনবান্ধব চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি উপজেলার সাধারণ মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর বদলির ফলে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাঁরা বলেন, সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার স্বার্থে ডা. শাহীনের বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ সময় অবিলম্বে বদলি আদেশ প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
এদিকে একই কর্মকর্তার বদলি নিয়ে দুই পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পক্ষ বদলি প্রত্যাহারকে জনস্বার্থের দাবি হিসেবে তুলে ধরলেও অপর পক্ষ সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রাখা এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
তবে হাসপাতালকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট গড়ে তোলা এবং কর্মঘণ্টায় চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে মানববন্ধন আয়োজনের অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পৃথক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বদলি আদেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এ বিরোধের মধ্যে সাধারণ রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে।

০১ জুন, ২০২৬ ১১:১১
জীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম, অভিমানে ভরা হৃদয়বিদারক কিছু কষ্টের কথা ফেসবুকে লিখে না ফেরার দেশে চলে গেলেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তরুণ সাংবাদিক রাকিব হোসেন (৩৫)। কৃষিপণ্যে ব্যবহৃত অত্যন্ত বিষাক্ত অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড সেবনের পর রোববার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে রাকিব সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দিয়ে যায় আবেগঘন বিদায়বার্তা। রাকিব হোসেন ছিলেন দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার দশমিনা উপজেলা প্রতিনিধি এবং তিনি দশমিনা বাজারে একটি ফার্মেসি ব্যাবসা পরিচালনা করতেন।
জানা যায়, গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোক্তার হোসেনের মেজো ছেলে রাকিব শৈশব থেকেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন।
২০০১ সালে মায়ের মৃত্যুর পর তিনি ও তার বোন দশমিনায় নানার বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানেই বেড়ে ওঠা, লেখাপড়া এবং পরবর্তীকালে কর্মজীবনের পথচলা।
মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে সকাল ৫টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক হৃদয়স্পর্শী পোস্টে রাকিব লেখেন, একটা মানুষ জীবনে কত যুদ্ধ করতে পারে? যুদ্ধ করতে করতে আজ আমি ক্লান্ত। আপন বলা মানুষগুলো ভালো থাকুক। আফসোস, রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলো আমাকে চিনতে পারল না।
পোস্টে তিনি মৃত্যুর পর মায়ের কবরের পাশে শায়িত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ছোট বোন জান্নাতুল ফেরদৌসের কাছে নিজের ব্যাবসায়িক ও আর্থিক বিষয়গুলো বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে ব্যাবসায়িক অংশীদার গৌতমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাকে কোনো ধরনের হয়রানি না করার আহ্বানও জানান।
পোস্টের একপর্যায়ে রাকিব লেখেন, ছোটবেলা থেকেই পরিবার ছাড়া বড় হয়েছি। রক্তের মানুষগুলোর কাছ থেকে কখনো কিছু পাইনি, পেয়েছি শুধু অবহেলা। জীবনে যাদের কাছ থেকে ভালোবাসা পেয়েছি, তাদের সঙ্গে আমার কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই। আজ বিদায়ের সময় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
সবশেষে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি লেখেন, চলার পথে যদি কেউ আমার আচরণে কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। তার এই কথাগুলো এখন স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের হৃদয়ে গভীর বেদনার রেখা এঁকে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে রাকিব চারটি অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড ট্যাবলেট সেবন করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি তার ছোট বোনকে ফোন করেন। খবর পেয়ে বোন ও কয়েকজন বন্ধু দ্রুত তার ভাড়া বাসায় ছুটে যান। পরে তাকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অ্যাম্বুলেন্স কিছু পথ যাওয়ার পর সকাল ৬টার দিকে তার জীবনপ্রদীপ নিভে যায়।
নিহতের বোন জান্নাতুল ফেরদৌস কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, মা মারা যাওয়ার পর তিনি ও রাকিব নানার বাড়িতে বড় হয়েছেন। ভাইটি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন, নিজের চেষ্টায় দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর ধরে রাখা গেল না।
রোববার দশমিনা মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় রাজনৈতিক সহকর্মী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী গলাচিপা উপজেলার নিজ এলাকায় মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজা শেষে অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু। কেউ হারিয়েছেন সহকর্মী, কেউ বন্ধু, কেউ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। আর একজন মা-হারা সন্তানের জীবনের দীর্ঘ অভিমান, কষ্ট আর নীরব যুদ্ধের গল্প শেষ হলো মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার মধ্য দিয়ে।
দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রাহুল বিন হালিম জানান, অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড অত্যন্ত বিষাক্ত একটি রাসায়নিক পদার্থ। এর নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই এবং সামান্য পরিমাণ সেবনও প্রাণঘাতী হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও রাকিবকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
দশমিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিষাক্ত ওষুধ সেবনের ঘটনায় রাকিব হোসেনের মৃত্যুর খবর পুলিশ পেয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১১
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫৮
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১১