ছবি:সংগ্রহীত
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ২ নম্বর শ্রীরামপুর ইউনিয়নে রাসায়নিক সারের (বিসিআইসি/বিএডিসি) ডিলারশিপ বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নীতিমালা উপেক্ষা করে দুমকি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ‘দুমকি বীজ ভান্ডার’-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সাঈদ হাসানকে এ ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের ভাষ্য, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সারের ডিলারশিপ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কৃষি ব্যবসায় অভিজ্ঞতা, আর্থিক সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা এবং আবেদনকারীর গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করার কথা। তবে এসব শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করে রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে দলীয় পদধারী এক ব্যক্তিকে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ডিলারশিপ বরাদ্দ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে সার বিতরণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অনিয়মের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাঁদের মতে, সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সারের ডিলারশিপ দেওয়া হলে মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা থাকে। এতে সাধারণ কৃষকেরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন এবং সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হতে পারে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলার সাঈদ হাসান। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বাদশা আমার ঘনিষ্ঠ বড় ভাই। তাঁর সঙ্গে আমার চলাফেরা ছিল, এটা সত্য। তবে আমি সরাসরি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই।’ সরকারি নিয়ম ও নীতিমালার সব শর্ত পূরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করার পর তিনি ডিলারশিপ পেয়েছেন দাবি করে সাঈদ হাসান আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো দলীয় প্রভাব বা অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, ডিলারশিপের বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে ওই ব্যক্তির আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছেন তিনি। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত তদন্ত ফরমে আবেদনকারীর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ঘর বা অপশন না থাকায় বিষয়টি সেখানে লিপিবদ্ধ করার সুযোগ ছিল না।

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫৮
‘বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন’—ওসিকে এমপির খোঁচা, পাল্টা জবাবে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
থানার ভেতরে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, একের পর এক অভিযোগ আর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সরগরম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানা। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে থানায় হাজির হয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে সরাসরি বাদানুবাদে জড়ালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে ওসিকে উদ্দেশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার।’ জবাবে ওসিও পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে বাধা দেন। দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে থানার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশি সহায়তা চেয়েছিলেন রুমিন ফারহানা। তবে তাঁকে নিরাপত্তা দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার কারণ জানতে এবং ওসির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে থানায় যান সংসদ সদস্য। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি ওসির কক্ষে অবস্থান করেন।
এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। উল্টো ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ওই ব্যক্তি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত।
এদিকে, ওসির বিরুদ্ধে ইটভাটা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলেন সংসদ সদস্য। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ওসি বলেন, হাওর এলাকায় ইটভাটাগুলো পানির নিচে থাকায় সেখান থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সংসদ সদস্যের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পুলিশের একটি দল রাখা কঠিন ছিল বলে জানান ওসি।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে রুমিন ফারহানা বলেন, ওসি তাঁকে জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জনগণই তাঁর নিরাপত্তা দেবে। কিন্তু তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটার কাজ থেকে অর্থ নেওয়া এবং ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়াসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন রুমিন ফারহানা। তাঁর ভাষ্য, এলাকাটি দাঙ্গাপ্রবণ; সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসব বিষয়ের ব্যাখ্যা চাইতেই তিনি থানায় গিয়েছিলেন।
ওসির আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে এভাবে কথা বলা যায় না। একপর্যায়ে তিনি ওসিকে ‘আওয়ামী লীগের চোর ওসি’ বলেও আখ্যা দেন।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।'
‘বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন’—ওসিকে এমপির খোঁচা, পাল্টা জবাবে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
থানার ভেতরে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, একের পর এক অভিযোগ আর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সরগরম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানা। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে থানায় হাজির হয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে সরাসরি বাদানুবাদে জড়ালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে ওসিকে উদ্দেশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার।’ জবাবে ওসিও পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে বাধা দেন। দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে থানার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশি সহায়তা চেয়েছিলেন রুমিন ফারহানা। তবে তাঁকে নিরাপত্তা দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার কারণ জানতে এবং ওসির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে থানায় যান সংসদ সদস্য। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি ওসির কক্ষে অবস্থান করেন।
এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। উল্টো ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ওই ব্যক্তি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত।
এদিকে, ওসির বিরুদ্ধে ইটভাটা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলেন সংসদ সদস্য। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ওসি বলেন, হাওর এলাকায় ইটভাটাগুলো পানির নিচে থাকায় সেখান থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সংসদ সদস্যের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পুলিশের একটি দল রাখা কঠিন ছিল বলে জানান ওসি।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে রুমিন ফারহানা বলেন, ওসি তাঁকে জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জনগণই তাঁর নিরাপত্তা দেবে। কিন্তু তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটার কাজ থেকে অর্থ নেওয়া এবং ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়াসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন রুমিন ফারহানা। তাঁর ভাষ্য, এলাকাটি দাঙ্গাপ্রবণ; সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসব বিষয়ের ব্যাখ্যা চাইতেই তিনি থানায় গিয়েছিলেন।
ওসির আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে এভাবে কথা বলা যায় না। একপর্যায়ে তিনি ওসিকে ‘আওয়ামী লীগের চোর ওসি’ বলেও আখ্যা দেন।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।'

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮
বরিশালের উজিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক শয্যাশায়ী ব্যক্তির বসতঘর থেকে চিকিৎসার জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গৌরনদী সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে গত এক মাসে দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল ওড়াবাশবাড়ি গ্রামের কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন সাদা পোশাকে আসা ডিএনসি সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী কামরুজ্জামান কালুর চিকিৎসার জন্য বালিশের নিচে ১৫ হাজার টাকা রাখা ছিল। ঘরে তল্লাশির সময় ওই টাকা নিয়ে যান অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন কালুর স্ত্রী সুখী বেগম।
সুখী বেগমের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে ফাইজুল ইসলাম ও হৃদয়সহ চার থেকে পাঁচজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। শুরুতে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে তাঁর স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তাঁরা।
সুখী বেগম বলেন, অভিযানে আসা ব্যক্তিরা তাঁকে বলেন, তাঁর স্বামী মাদক সেবন ছেড়ে দিলেও ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আগের মাদক সেবনের বিষয়টি বের করে মামলা দেওয়া হবে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন বাড়িতে জড়ো হন। পরে গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেনকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর উপস্থিতিতে বসতঘরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
সুখী বেগমের অভিযোগ, তল্লাশির একপর্যায়ে বালিশের নিচে রাখা চিকিৎসার ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, স্বামী কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি গৌরনদী সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার। তাঁর নেতৃত্বে অভিযানে রুবেল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। এটি তাঁদের একটি ‘নিষ্ফল অভিযান’ ছিল।
তবে তল্লাশির সময় টাকা চুরি এবং এর আগে দুই দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেন বলেন, সাদা পোশাকে ডিএনসি কর্মকর্তারা কালুর বাড়িতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে বাড়ি থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান বলেন, গৌরনদী সার্কেল থেকে সকালে একটি অভিযান পরিচালনার তথ্য তাঁর জানা আছে। তবে সেটি উজিরপুরে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন।
টাকা চুরি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসআই ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার দীর্ঘ সাত বছর ধরে গৌরনদী সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। একই স্টেশনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা হারানোর অভিযোগ তুলে সুখী বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে কী উঠে আসে।
বরিশালের উজিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক শয্যাশায়ী ব্যক্তির বসতঘর থেকে চিকিৎসার জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গৌরনদী সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে গত এক মাসে দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল ওড়াবাশবাড়ি গ্রামের কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন সাদা পোশাকে আসা ডিএনসি সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী কামরুজ্জামান কালুর চিকিৎসার জন্য বালিশের নিচে ১৫ হাজার টাকা রাখা ছিল। ঘরে তল্লাশির সময় ওই টাকা নিয়ে যান অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন কালুর স্ত্রী সুখী বেগম।
সুখী বেগমের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে ফাইজুল ইসলাম ও হৃদয়সহ চার থেকে পাঁচজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। শুরুতে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে তাঁর স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তাঁরা।
সুখী বেগম বলেন, অভিযানে আসা ব্যক্তিরা তাঁকে বলেন, তাঁর স্বামী মাদক সেবন ছেড়ে দিলেও ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আগের মাদক সেবনের বিষয়টি বের করে মামলা দেওয়া হবে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন বাড়িতে জড়ো হন। পরে গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেনকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর উপস্থিতিতে বসতঘরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
সুখী বেগমের অভিযোগ, তল্লাশির একপর্যায়ে বালিশের নিচে রাখা চিকিৎসার ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, স্বামী কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি গৌরনদী সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার। তাঁর নেতৃত্বে অভিযানে রুবেল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। এটি তাঁদের একটি ‘নিষ্ফল অভিযান’ ছিল।
তবে তল্লাশির সময় টাকা চুরি এবং এর আগে দুই দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেন বলেন, সাদা পোশাকে ডিএনসি কর্মকর্তারা কালুর বাড়িতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে বাড়ি থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান বলেন, গৌরনদী সার্কেল থেকে সকালে একটি অভিযান পরিচালনার তথ্য তাঁর জানা আছে। তবে সেটি উজিরপুরে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন।
টাকা চুরি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসআই ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার দীর্ঘ সাত বছর ধরে গৌরনদী সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। একই স্টেশনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা হারানোর অভিযোগ তুলে সুখী বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে কী উঠে আসে।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১১
বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শ্রমিক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এসএস প্রি-ক্যাডেট স্কুলসংলগ্ন ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন (৫০) এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ (৪২)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সৃষ্টি শিক্ষা একাডেমির শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, দুপুরে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের বাঁশ খুলতে গিয়ে দুই শ্রমিক ভেতরে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে তাঁরা বিপদে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিককে ট্যাংকের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে অক্সিজেন ব্যবহার করে গ্যাস অপসারণের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁদের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, সেপটিক ট্যাংকে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফুর আজিজের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শ্রমিক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এসএস প্রি-ক্যাডেট স্কুলসংলগ্ন ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন (৫০) এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ (৪২)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সৃষ্টি শিক্ষা একাডেমির শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, দুপুরে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের বাঁশ খুলতে গিয়ে দুই শ্রমিক ভেতরে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে তাঁরা বিপদে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিককে ট্যাংকের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে অক্সিজেন ব্যবহার করে গ্যাস অপসারণের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁদের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, সেপটিক ট্যাংকে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফুর আজিজের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১১
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ২ নম্বর শ্রীরামপুর ইউনিয়নে রাসায়নিক সারের (বিসিআইসি/বিএডিসি) ডিলারশিপ বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নীতিমালা উপেক্ষা করে দুমকি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ‘দুমকি বীজ ভান্ডার’-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সাঈদ হাসানকে এ ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের ভাষ্য, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সারের ডিলারশিপ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কৃষি ব্যবসায় অভিজ্ঞতা, আর্থিক সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা এবং আবেদনকারীর গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করার কথা। তবে এসব শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করে রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে দলীয় পদধারী এক ব্যক্তিকে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ডিলারশিপ বরাদ্দ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে সার বিতরণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অনিয়মের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাঁদের মতে, সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সারের ডিলারশিপ দেওয়া হলে মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা থাকে। এতে সাধারণ কৃষকেরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন এবং সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হতে পারে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলার সাঈদ হাসান। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বাদশা আমার ঘনিষ্ঠ বড় ভাই। তাঁর সঙ্গে আমার চলাফেরা ছিল, এটা সত্য। তবে আমি সরাসরি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই।’ সরকারি নিয়ম ও নীতিমালার সব শর্ত পূরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করার পর তিনি ডিলারশিপ পেয়েছেন দাবি করে সাঈদ হাসান আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো দলীয় প্রভাব বা অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, ডিলারশিপের বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে ওই ব্যক্তির আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছেন তিনি। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত তদন্ত ফরমে আবেদনকারীর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ঘর বা অপশন না থাকায় বিষয়টি সেখানে লিপিবদ্ধ করার সুযোগ ছিল না।
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১১
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫৮
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১১