গাজীপুরের কালিয়াকৈর সাব রেজিস্ট্রার অফিস এখন ওমেদার (দিনে ৬০টাকা মজুরির অস্থায়ী কর্মচারি) রাকিবুল ইসলামের দখলে। তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে। এছাড়া এসব অবৈধ টাকা দিয়ে কিনেছেন আলিশান বাড়ি ও গাড়ি। সম্প্রতি দলিল লেখকদের অভিযোগ থেকে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সাব-রেজিস্টার সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে ওমেদার রাকিবুলের নানা অপকর্মের কথা উল্লেখ করে দলিল লেখকরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
দলিল লেখক ও অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার অফিস চলছে ওমেদারদের নিয়ে। ওই অফিসে চারজন ওমেদার রয়েছে। এর মধ্যে রাকিবুল ইসলাম একজন। ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার শুক্তাগড় গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে এই রাকিবুল ইসলাম।
গত ২১.০৫.২০১৭ সালে চাকুরিতে যোগদান করেন তিনি। এরপর আর তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। সাব রেজিস্ট্রার এজলাস কক্ষে দলিলপত্র নাড়াচাড়াসহ লেখক ও গ্রাহকদের হয়রানি করে টাকা আদায় করেন তিনি। সম্প্রতি উপজেলার কৌচাকূড়ি মৌজার প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি জাল দলিল মাধ্যমে হস্তান্তরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
৬০ টাকা মজুরিতে চাকরি করলে রাকিবুল ইতোমধ্যে ৫ লাখ টাকার (আর ওয়ান ফাইভ) মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও উপজেলার শীফতলী এলাকায় ৫ শতাংশ জমি কিনেছেন। গাজীপুর এলাকায় দেড় কোটি টাকার আলিশান বাড়ি কেনারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ওমেদার রাকিবুলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দলিল লেখকগণ উপজেলা সাব রেজিস্টার কর্মকর্তা ও জেলা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরে নানা অপকর্মের কথা উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানান তারা।
দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আজিজুর রহমান জানান, টাকা না দিলে আমাদের দলিল আটক করে রাখে রাকিবুল। টাকা দিলে ছেড়ে দেয় সে। তার কথায় চলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারিরও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ওমেদার রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমার সকল আয়ের টেক্স প্রদান করা আছে। যারা আমার নামে অভিযোগ দায়ের করেছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট।
এ বিষয়ে উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, ওমেদার রাকিবুলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তাকে কয়েকদিনের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে তদন্ত করে দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৯
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুদিন পর একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বৈদ্যার বাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো হলো—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া এবং শিশু ছেলে সামিন।
স্থানীয় ও উদ্ধারকারী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমন্দী এলাকা থেকে সোনারগাঁয়ের মায়াময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গরু-ছাগলসহ ১৩ জন ট্রলারে করে রওনা দেন। বৈদ্যার বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পথে মেঘনা নদীর মাঝখানে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। একপর্যায়ে ট্রলারটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়।
এ সময় ৮ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে রাশিদা নামে একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর একই পরিবারের চারজন—হেলাল উদ্দিন, তার ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া ও শিশু ছেলে সামিন—নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে সজিব, সামিয়া ও সামিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হেলাল উদ্দিন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুদিন পর একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বৈদ্যার বাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো হলো—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া এবং শিশু ছেলে সামিন।
স্থানীয় ও উদ্ধারকারী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমন্দী এলাকা থেকে সোনারগাঁয়ের মায়াময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গরু-ছাগলসহ ১৩ জন ট্রলারে করে রওনা দেন। বৈদ্যার বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পথে মেঘনা নদীর মাঝখানে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। একপর্যায়ে ট্রলারটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়।
এ সময় ৮ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে রাশিদা নামে একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর একই পরিবারের চারজন—হেলাল উদ্দিন, তার ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া ও শিশু ছেলে সামিন—নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে সজিব, সামিয়া ও সামিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হেলাল উদ্দিন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১২
মাদারীপুরের শিবচরসংলগ্ন ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দুই বাসের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শিবচরের পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ যাত্রী। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার অপরাহ্ণে খুলনা থেকে যাত্রী নিয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল পালকি পরিবহনের একটি বাস। স্থানীয় পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি এলাকায় বাসটির চাকা বিকল হয়ে গেলে সেটি সড়কের পাশে থামানো হয়। এ সময় বরিশাল থেকে আসা দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে পালকি পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে পালকি পরিবহনের চালকের সহকারী এবং হানিফ পরিবহনের দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
দুর্ঘটনার পর রাজধানী ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিবচর হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আবু জাফর সরদার সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। চাকা পাংচার হয়ে গেলে পালকি পরিবহনের বাসটি এক্সপ্রেসওয়েতে থামিয়ে রাখা হয়। এ সময় দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাস সামনের বিকল বাসটিকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
শিবচর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মুনতাসির রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি এবং মরদেহ উদ্ধার করি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।’
মাদারীপুরের শিবচরসংলগ্ন ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দুই বাসের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শিবচরের পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ যাত্রী। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার অপরাহ্ণে খুলনা থেকে যাত্রী নিয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল পালকি পরিবহনের একটি বাস। স্থানীয় পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি এলাকায় বাসটির চাকা বিকল হয়ে গেলে সেটি সড়কের পাশে থামানো হয়। এ সময় বরিশাল থেকে আসা দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে পালকি পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে পালকি পরিবহনের চালকের সহকারী এবং হানিফ পরিবহনের দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
দুর্ঘটনার পর রাজধানী ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিবচর হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আবু জাফর সরদার সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। চাকা পাংচার হয়ে গেলে পালকি পরিবহনের বাসটি এক্সপ্রেসওয়েতে থামিয়ে রাখা হয়। এ সময় দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাস সামনের বিকল বাসটিকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
শিবচর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মুনতাসির রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি এবং মরদেহ উদ্ধার করি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।’

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৩:৩৩
গাজীপুরের কালিয়াকৈর সাব রেজিস্ট্রার অফিস এখন ওমেদার (দিনে ৬০টাকা মজুরির অস্থায়ী কর্মচারি) রাকিবুল ইসলামের দখলে। তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে। এছাড়া এসব অবৈধ টাকা দিয়ে কিনেছেন আলিশান বাড়ি ও গাড়ি। সম্প্রতি দলিল লেখকদের অভিযোগ থেকে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সাব-রেজিস্টার সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে ওমেদার রাকিবুলের নানা অপকর্মের কথা উল্লেখ করে দলিল লেখকরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
দলিল লেখক ও অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার অফিস চলছে ওমেদারদের নিয়ে। ওই অফিসে চারজন ওমেদার রয়েছে। এর মধ্যে রাকিবুল ইসলাম একজন। ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার শুক্তাগড় গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে এই রাকিবুল ইসলাম।
গত ২১.০৫.২০১৭ সালে চাকুরিতে যোগদান করেন তিনি। এরপর আর তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। সাব রেজিস্ট্রার এজলাস কক্ষে দলিলপত্র নাড়াচাড়াসহ লেখক ও গ্রাহকদের হয়রানি করে টাকা আদায় করেন তিনি। সম্প্রতি উপজেলার কৌচাকূড়ি মৌজার প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি জাল দলিল মাধ্যমে হস্তান্তরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
৬০ টাকা মজুরিতে চাকরি করলে রাকিবুল ইতোমধ্যে ৫ লাখ টাকার (আর ওয়ান ফাইভ) মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও উপজেলার শীফতলী এলাকায় ৫ শতাংশ জমি কিনেছেন। গাজীপুর এলাকায় দেড় কোটি টাকার আলিশান বাড়ি কেনারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ওমেদার রাকিবুলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দলিল লেখকগণ উপজেলা সাব রেজিস্টার কর্মকর্তা ও জেলা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরে নানা অপকর্মের কথা উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানান তারা।
দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আজিজুর রহমান জানান, টাকা না দিলে আমাদের দলিল আটক করে রাখে রাকিবুল। টাকা দিলে ছেড়ে দেয় সে। তার কথায় চলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারিরও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ওমেদার রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমার সকল আয়ের টেক্স প্রদান করা আছে। যারা আমার নামে অভিযোগ দায়ের করেছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট।
এ বিষয়ে উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, ওমেদার রাকিবুলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তাকে কয়েকদিনের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে তদন্ত করে দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২২
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৪
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪০