স্বরূপকাঠী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদিম মাহমুদ । ছবি:সংগ্রহীত
পিরোজপুরের নেছারাবাদে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ স্কুল ফিডিংয়ের ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাদিম মাহমুদ নামে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ২৭ প্যাকেট দুধ কিনে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ফেরত দেন তিনি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ে এসে ওই দুধ ফেরত দেওয়া হয়।
নাদিম মাহমুদ উপজেলার সরকারি স্বরূপকাঠী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শিক্ষা অফিসকে অবহিত না করায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিন্না খালে নৌকাবাইচ উপলক্ষে পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী বিদ্যালয়ে আসেন। তাঁদের বসার ব্যবস্থা ও আপ্যায়নে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সুযোগে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে রাখা শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ৭৯ প্যাকেট দুধের মধ্যে ৩০ প্যাকেট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. আশা বেগম বলেন, ‘শিক্ষকরা অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকার সুযোগে নাদিমসহ কয়েকজন যুবক লাইব্রেরিতে রাখা দুধ নিয়ে যান। পরে বিষয়টি ধরা পড়ে। বুধবার অভিযুক্তরা ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত দিয়ে গেছে। বাকি তিন প্যাকেট তারা খেয়ে ফেলেছে বলে জানা গেছে।’
প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, অতিথিদের আপ্যায়নে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সময় তিনি ওয়াশরুমে যান। এ সময় লাইব্রেরিতে রাখা দুধের ৩০ প্যাকেট নিয়ে যাওয়া হয় বলে পরে জানতে পারেন। মাসের শেষ দিন ৩০ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের দুধ দিতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, ছাত্রনেতা নাদিম মাহমুদের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক দুধ নিয়ে বিদ্যালয়ের আশপাশে বসে খেয়েছেন।

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৯
পিরোজপুরের নেছারাবাদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা পুষ্টিকর দুধের ৩০ প্যাকেট খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযোগ রয়েছে, একটি কার্টনের নিচের অংশ খুলে সেখান থেকে দুধের প্যাকেটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুধ সংরক্ষণ করে রাখা হয়। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুধ বিতরণের প্রস্তুতির সময় একটি কার্টন খোলা হলে এর ভেতরে প্যাকেট কম পাওয়া যায়। পরে হিসাব করে ৩০ প্যাকেট দুধের ঘাটতি ধরা পড়ে। ফলে নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিন্না ইয়ংমেন্স ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাদিম মাহমুদ ও তাঁর বন্ধু রাশেদের বিরুদ্ধে দুধ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার বিষয়ে চারজন শিক্ষার্থী ও একজন অভিভাবক সাক্ষী রয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কত বড় কলিজা, স্কুল থেকে ছোট ছোট বাচ্চাদের দুধ চুরি করে খায়!’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাদিম মাহমুদ বলেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ওই এলাকায় নৌকা বাইচের আয়োজন ছিল। ওই সময় স্কুলে অতিথিদের জন্য ফল কাটার সময় দুধের প্যাকেটগুলো তাঁদের নজরে আসে। সেখান থেকে তাঁরা তিনটি প্যাকেট খেয়েছেন। তবে ৩০ প্যাকেট দুধ নেওয়া বা খাওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে দুধ বিতরণের আগে কার্টন খুলে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি প্যাকেট নেই। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে সরাসরি জানাব। তাই ফোনে বিস্তারিত কিছু বলতে চাইনি।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি এখনো আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পিরোজপুরের নেছারাবাদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা পুষ্টিকর দুধের ৩০ প্যাকেট খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযোগ রয়েছে, একটি কার্টনের নিচের অংশ খুলে সেখান থেকে দুধের প্যাকেটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য দুধ সংরক্ষণ করে রাখা হয়। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুধ বিতরণের প্রস্তুতির সময় একটি কার্টন খোলা হলে এর ভেতরে প্যাকেট কম পাওয়া যায়। পরে হিসাব করে ৩০ প্যাকেট দুধের ঘাটতি ধরা পড়ে। ফলে নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিন্না ইয়ংমেন্স ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাদিম মাহমুদ ও তাঁর বন্ধু রাশেদের বিরুদ্ধে দুধ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার বিষয়ে চারজন শিক্ষার্থী ও একজন অভিভাবক সাক্ষী রয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কত বড় কলিজা, স্কুল থেকে ছোট ছোট বাচ্চাদের দুধ চুরি করে খায়!’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাদিম মাহমুদ বলেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ওই এলাকায় নৌকা বাইচের আয়োজন ছিল। ওই সময় স্কুলে অতিথিদের জন্য ফল কাটার সময় দুধের প্যাকেটগুলো তাঁদের নজরে আসে। সেখান থেকে তাঁরা তিনটি প্যাকেট খেয়েছেন। তবে ৩০ প্যাকেট দুধ নেওয়া বা খাওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে দুধ বিতরণের আগে কার্টন খুলে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি প্যাকেট নেই। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে সরাসরি জানাব। তাই ফোনে বিস্তারিত কিছু বলতে চাইনি।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি এখনো আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১১
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে আনা ১৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ি ও পাঞ্জাবি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে উপজেলার আমান উল্লাহ কলেজের সামনে ভাণ্ডারিয়া-কাঁঠালিয়া সড়কে অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন—গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার মো. বাকি বিল্লাহ সিকদার (৫৫), বরিশালের মুলাদী উপজেলার মো. শামীম বেপারী (৪৫) এবং শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার মো. সিয়াম সরদার (১৯)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমান উল্লাহ কলেজের সামনে একটি ট্রাকে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ট্রাক থেকে বিভিন্ন ধরনের শাড়ি ও পাঞ্জাবি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, এসব পণ্য শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছিল।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জগলুল হাসান জানান, চোরাচালানের পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে আনা ১৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ি ও পাঞ্জাবি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে উপজেলার আমান উল্লাহ কলেজের সামনে ভাণ্ডারিয়া-কাঁঠালিয়া সড়কে অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন—গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার মো. বাকি বিল্লাহ সিকদার (৫৫), বরিশালের মুলাদী উপজেলার মো. শামীম বেপারী (৪৫) এবং শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার মো. সিয়াম সরদার (১৯)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমান উল্লাহ কলেজের সামনে একটি ট্রাকে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ট্রাক থেকে বিভিন্ন ধরনের শাড়ি ও পাঞ্জাবি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, এসব পণ্য শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছিল।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জগলুল হাসান জানান, চোরাচালানের পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩১
ভারপ্রাপ্তদের কাঁধে প্রশাসন, চাপে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান
পিরোজপুরে ৯৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৩৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ফলে এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে পদগুলো শূন্য থাকায় বাড়ছে সহকারী শিক্ষকদের ওপর কাজের চাপ; কোথাও কোথাও ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদানও।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাত উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৯৮৯টি। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদও সমানসংখ্যক। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪৫০ জন প্রধান শিক্ষক।
অন্যদিকে, জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী রয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৫১ জন। তাঁদের পাঠদানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে কর্মরত আছেন ৫ হাজার ১৮৪ জন।
প্রধানের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন সহকারীরা
প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও করতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সময় ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষক সংকটের কারণে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে অনুমোদিত পদের তুলনায় অর্ধেকেরও কম শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
৬৩ নম্বর বাশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সালমা সুলতানা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষা অফিসে যেতে হলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাহত হয়।
৯১ নম্বর মধ্য পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুলতানা মমতাজ বলেন, প্রতিদিন তাঁকে তিন থেকে চারটি ক্লাস নিতে হয়। এর পাশাপাশি পালন করতে হচ্ছে প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব। একজন সহকারী শিক্ষক চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকায় তাঁর ক্লাসও নিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
৯০ নম্বর মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আকিকুন্নেছা জানান, ২০২৪ সাল থেকে তাঁদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজও সামলাতে হচ্ছে।
২৪৫ জন নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এতে ২৪৫ জন শিক্ষক সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, তাঁদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ও এনএসআই রিপোর্টের কার্যক্রম চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারপ্রাপ্তদের কাঁধে প্রশাসন, চাপে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান
পিরোজপুরে ৯৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৩৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ফলে এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে পদগুলো শূন্য থাকায় বাড়ছে সহকারী শিক্ষকদের ওপর কাজের চাপ; কোথাও কোথাও ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদানও।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাত উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৯৮৯টি। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদও সমানসংখ্যক। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪৫০ জন প্রধান শিক্ষক।
অন্যদিকে, জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী রয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৫১ জন। তাঁদের পাঠদানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে কর্মরত আছেন ৫ হাজার ১৮৪ জন।
প্রধানের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন সহকারীরা
প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও করতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সময় ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষক সংকটের কারণে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে অনুমোদিত পদের তুলনায় অর্ধেকেরও কম শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
৬৩ নম্বর বাশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সালমা সুলতানা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষা অফিসে যেতে হলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাহত হয়।
৯১ নম্বর মধ্য পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুলতানা মমতাজ বলেন, প্রতিদিন তাঁকে তিন থেকে চারটি ক্লাস নিতে হয়। এর পাশাপাশি পালন করতে হচ্ছে প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব। একজন সহকারী শিক্ষক চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকায় তাঁর ক্লাসও নিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
৯০ নম্বর মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আকিকুন্নেছা জানান, ২০২৪ সাল থেকে তাঁদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজও সামলাতে হচ্ছে।
২৪৫ জন নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এতে ২৪৫ জন শিক্ষক সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, তাঁদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ও এনএসআই রিপোর্টের কার্যক্রম চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০৪
পিরোজপুরের নেছারাবাদে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ স্কুল ফিডিংয়ের ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাদিম মাহমুদ নামে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ২৭ প্যাকেট দুধ কিনে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ফেরত দেন তিনি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ে এসে ওই দুধ ফেরত দেওয়া হয়।
নাদিম মাহমুদ উপজেলার সরকারি স্বরূপকাঠী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শিক্ষা অফিসকে অবহিত না করায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিন্না খালে নৌকাবাইচ উপলক্ষে পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী বিদ্যালয়ে আসেন। তাঁদের বসার ব্যবস্থা ও আপ্যায়নে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সুযোগে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে রাখা শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ৭৯ প্যাকেট দুধের মধ্যে ৩০ প্যাকেট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. আশা বেগম বলেন, ‘শিক্ষকরা অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকার সুযোগে নাদিমসহ কয়েকজন যুবক লাইব্রেরিতে রাখা দুধ নিয়ে যান। পরে বিষয়টি ধরা পড়ে। বুধবার অভিযুক্তরা ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত দিয়ে গেছে। বাকি তিন প্যাকেট তারা খেয়ে ফেলেছে বলে জানা গেছে।’
প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, অতিথিদের আপ্যায়নে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সময় তিনি ওয়াশরুমে যান। এ সময় লাইব্রেরিতে রাখা দুধের ৩০ প্যাকেট নিয়ে যাওয়া হয় বলে পরে জানতে পারেন। মাসের শেষ দিন ৩০ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের দুধ দিতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, ছাত্রনেতা নাদিম মাহমুদের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক দুধ নিয়ে বিদ্যালয়ের আশপাশে বসে খেয়েছেন।
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৬
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০৪
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৫
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:১৭