চলতি বছরের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৭ জনে। একই সময়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৭৬ হাজার ৫১৪ জন। এমন পরিস্থিতিতে শঙ্কা কাটছে না সাধারণ মানুষের। ডেঙ্গু মোকাবিলা করার উপায় নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা। ডেঙ্গুর কি কোনো ভ্যাকসিন বা টিকা আছে? বাংলাদেশে এই টিকা কেন ব্যবহার করা হয় না?
সাধারণত বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ে চিন্তায় থাকতো মানুষ। কিন্তু এখন আর কোনো মৌসুম নেই। বছরের যেকোনো সময়ই হতে পারে ডেঙ্গু জ্বর।
কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নগরায়নসহ নানা কারণে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। আর এ কারণেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যাও আরও বাড়বে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একদিকে যেমন ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে হবে আবার ভ্যাকসিন বা টিকার ব্যবহারও বাড়ানোর কথা বলছেন তারা।
তবে, ডেঙ্গুর কার্যকর ভ্যাকসিন আছে কি না এমন প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, টিকা আবিষ্কার হলেও সেগুলো সবার উপযোগী নয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোশতাক হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর জন্য দুটি টিকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে, সেগুলো ব্যবহারেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা।
আর এ কারণেই বিশ্বের অনেক দেশ ডেঙ্গু টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিলেও বাংলাদেশ এখনো এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি।
এছাড়া টিকা ব্যবহারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির বিষয়টিও জড়িত বলে মনে করেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, টিকার অনুমোদন দিতে আগে এই রোগকে এপিডেমিক ডিক্লেয়ার করতে হবে। কিন্তু সেটা করলে তো সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।
এছাড়া এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক আরও বেড়ে যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। ডেঙ্গু মোকাবিলায় টিকার থেকে মানুষের সচেতনতা বেশি জরুরি বলেও মনে করেন অধ্যাপক বাশার।
কেবল বাংলাদেশ নয় ডেঙ্গুর প্রভাব রয়েছে বিশ্বজুড়েই। বিশেষ করে আফ্রিকা ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতে এর ব্যাপ্তি ভয়াবহ। ইউরোপ-আমেরিকার নানা উন্নত দেশও ডেঙ্গুমুক্ত নয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় চারশ কোটি মানুষ ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করে।
বিশ্ব পরিসরে ডেঙ্গুর এমন প্রভাব থাকলেও এর ভ্যাকসিন বা টিকা খুব একটা বিস্তার লাভ করেনি। ডেঙ্গু মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত ‘ডেঙ্গাভেক্সিয়া’ এবং ‘কিউডেঙ্গা’ নামে দুই ধরনের টিকা পৌঁছেছে মানুষের হাতে।
ফ্রান্সের বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান সানোফি-অ্যাভেন্টিজের ডেঙ্গু টিকা ‘ডেঙ্গাভেক্সিয়া’ অনুমোদন দিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ।
এছাড়া ২০২৩ সালে জাপানের তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালসের ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’র অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দুই ডোজের এই টিকা শুধু ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে এর কোনোটিই ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। অর্থাৎ বাংলাদেশে ডেঙ্গু টিকা ব্যবহারের সুযোগ নেই। এর কারণ হিসেবে দুই ধরনের টিকারই নানা সীমাবদ্ধতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলছেন কীটতত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ডেঙ্গুর ভ্যাক্সিনের কিছু লিমিটেশনস আছে, একটা নির্দিষ্ট বয়সের মানুষকে ছাড়া দেওয়া যায় না, ১৬ বছরের নিচে বয়স হতে হয়।
এছাড়া ‘ডেঙ্গাভেক্সিয়া’ দিতে হলে আগে একবার ডেঙ্গু হতে হবে। ডেঙ্গু যার জীবনে কখনো হয়নি তাকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না, বলেন তিনি।
এখনো ডেঙ্গু টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ। তবে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের আবিষ্কার করা ডেঙ্গু টিকার দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বা আইসিডিডিআরবির গবেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের লার্নার কলেজ অব মেডিসিন এবং বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবির গবেষকরা যৌথভাবে এটি পরিচালনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ বা এনআইএই আবিষ্কৃত ওই টিকার নাম দেয়া হয়েছিল টিভি০০৫।
ওই সময় বলা হয়েছিল, ভারতে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা সফল হলে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে। তবে পরবর্তী সময় এ নিয়ে আর আলোচনা এগোয়নি বলে জানান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোশতাক হোসেন।
তিনি বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে ডেঙ্গু যে পর্যায়ে যাচ্ছে এবং এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে খুব একটা সফলতাও আমরা দেখাতে পারছি না তাতে ভ্যাকসিন আনা যায় কি না এটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার সময় এসেছে’।
ডেঙ্গু ভ্যাসকিনের পাশাপাশি কমিউনিটি অ্যাওয়ারনেস বা সাধারণ মানুষের সচেতনতার কথা বলছেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন ব্যবহার করার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশে। এটি নিতেও আমাদের সময় লাগবে কারণ এখানে সরকারি সিদ্ধান্ত, বিশেষজ্ঞ মতামত, ট্রায়ালসহ নানা বিষয় জড়িত’।
‘তবে মানুষ যদি নিজে থেকেই পরিচ্ছন্ন থাকা, পানি জমতে না দেওয়া, মশারি টাঙানো এমন পদক্ষেপগুলো নেয় তাহলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমিয়ে আনা সম্ভব’, বলেন তিনি।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৬
কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ‘বিএনপির দোসরদের’ তালিকা করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘সময় এসেছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বিএনপির দোসরদের তালিকা করার।’
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’: পাটওয়ারী
তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছেন- পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাকিদের নাম কমেন্টে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
এর আগে গতকাল এক পোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ‘বিএনপির দোসরদের’ তালিকা করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘সময় এসেছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বিএনপির দোসরদের তালিকা করার।’
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’: পাটওয়ারী
তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছেন- পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাকিদের নাম কমেন্টে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
এর আগে গতকাল এক পোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২২
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাসায় কী কারণে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের পরিচয় ও তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেনি পুলিশ।
ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রিমন বাসায় ছিলেন না।
রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাসায় কী কারণে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের পরিচয় ও তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেনি পুলিশ।
ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রিমন বাসায় ছিলেন না।
রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
‘২ কোটি টাকার কমে নড়ব না’, ‘সব সই করে দেব’—আর্থিক লেনদেন নিয়ে এমন বিস্ফোরক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি অংশে মো. নুরুল আমিনকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।”
কথোপকথনের আরেক অংশে একটি বিলের বিপরীতে দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এ সময় তিন লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার কথা উল্লেখ করে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের হিসাবের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। ওই অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে সই করে দেওয়ার কথাও উঠে আসে ভিডিওতে।
ভিডিওর এসব বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজের হিসাব, বিল অনুমোদন এবং কথিত আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এক লাখ ৩৫।’ পরে ওই ব্যক্তি আগে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ভিডিওতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, তাঁদের মুখ স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিডিবির দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধি অনুযায়ী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বিধি অনুসারে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।”
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন মূল প্রশ্ন—কথোপকথনে উঠে আসা কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে বাস্তব কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, কথিত লেনদেনের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বিল ও মালামালের হিসাব কতটা সঠিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।'
‘২ কোটি টাকার কমে নড়ব না’, ‘সব সই করে দেব’—আর্থিক লেনদেন নিয়ে এমন বিস্ফোরক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি অংশে মো. নুরুল আমিনকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।”
কথোপকথনের আরেক অংশে একটি বিলের বিপরীতে দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এ সময় তিন লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার কথা উল্লেখ করে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের হিসাবের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। ওই অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে সই করে দেওয়ার কথাও উঠে আসে ভিডিওতে।
ভিডিওর এসব বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজের হিসাব, বিল অনুমোদন এবং কথিত আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এক লাখ ৩৫।’ পরে ওই ব্যক্তি আগে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ভিডিওতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, তাঁদের মুখ স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিডিবির দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধি অনুযায়ী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বিধি অনুসারে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।”
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন মূল প্রশ্ন—কথোপকথনে উঠে আসা কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে বাস্তব কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, কথিত লেনদেনের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বিল ও মালামালের হিসাব কতটা সঠিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।'

০৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:২৬
চলতি বছরের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৭ জনে। একই সময়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৭৬ হাজার ৫১৪ জন। এমন পরিস্থিতিতে শঙ্কা কাটছে না সাধারণ মানুষের। ডেঙ্গু মোকাবিলা করার উপায় নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা। ডেঙ্গুর কি কোনো ভ্যাকসিন বা টিকা আছে? বাংলাদেশে এই টিকা কেন ব্যবহার করা হয় না?
সাধারণত বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ে চিন্তায় থাকতো মানুষ। কিন্তু এখন আর কোনো মৌসুম নেই। বছরের যেকোনো সময়ই হতে পারে ডেঙ্গু জ্বর।
কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নগরায়নসহ নানা কারণে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। আর এ কারণেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যাও আরও বাড়বে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একদিকে যেমন ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে হবে আবার ভ্যাকসিন বা টিকার ব্যবহারও বাড়ানোর কথা বলছেন তারা।
তবে, ডেঙ্গুর কার্যকর ভ্যাকসিন আছে কি না এমন প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, টিকা আবিষ্কার হলেও সেগুলো সবার উপযোগী নয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোশতাক হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর জন্য দুটি টিকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে, সেগুলো ব্যবহারেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা।
আর এ কারণেই বিশ্বের অনেক দেশ ডেঙ্গু টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিলেও বাংলাদেশ এখনো এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি।
এছাড়া টিকা ব্যবহারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির বিষয়টিও জড়িত বলে মনে করেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, টিকার অনুমোদন দিতে আগে এই রোগকে এপিডেমিক ডিক্লেয়ার করতে হবে। কিন্তু সেটা করলে তো সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।
এছাড়া এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক আরও বেড়ে যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। ডেঙ্গু মোকাবিলায় টিকার থেকে মানুষের সচেতনতা বেশি জরুরি বলেও মনে করেন অধ্যাপক বাশার।
কেবল বাংলাদেশ নয় ডেঙ্গুর প্রভাব রয়েছে বিশ্বজুড়েই। বিশেষ করে আফ্রিকা ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতে এর ব্যাপ্তি ভয়াবহ। ইউরোপ-আমেরিকার নানা উন্নত দেশও ডেঙ্গুমুক্ত নয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় চারশ কোটি মানুষ ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করে।
বিশ্ব পরিসরে ডেঙ্গুর এমন প্রভাব থাকলেও এর ভ্যাকসিন বা টিকা খুব একটা বিস্তার লাভ করেনি। ডেঙ্গু মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত ‘ডেঙ্গাভেক্সিয়া’ এবং ‘কিউডেঙ্গা’ নামে দুই ধরনের টিকা পৌঁছেছে মানুষের হাতে।
ফ্রান্সের বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান সানোফি-অ্যাভেন্টিজের ডেঙ্গু টিকা ‘ডেঙ্গাভেক্সিয়া’ অনুমোদন দিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ।
এছাড়া ২০২৩ সালে জাপানের তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালসের ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’র অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দুই ডোজের এই টিকা শুধু ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে এর কোনোটিই ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। অর্থাৎ বাংলাদেশে ডেঙ্গু টিকা ব্যবহারের সুযোগ নেই। এর কারণ হিসেবে দুই ধরনের টিকারই নানা সীমাবদ্ধতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলছেন কীটতত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ডেঙ্গুর ভ্যাক্সিনের কিছু লিমিটেশনস আছে, একটা নির্দিষ্ট বয়সের মানুষকে ছাড়া দেওয়া যায় না, ১৬ বছরের নিচে বয়স হতে হয়।
এছাড়া ‘ডেঙ্গাভেক্সিয়া’ দিতে হলে আগে একবার ডেঙ্গু হতে হবে। ডেঙ্গু যার জীবনে কখনো হয়নি তাকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না, বলেন তিনি।
এখনো ডেঙ্গু টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ। তবে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের আবিষ্কার করা ডেঙ্গু টিকার দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বা আইসিডিডিআরবির গবেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের লার্নার কলেজ অব মেডিসিন এবং বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবির গবেষকরা যৌথভাবে এটি পরিচালনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ বা এনআইএই আবিষ্কৃত ওই টিকার নাম দেয়া হয়েছিল টিভি০০৫।
ওই সময় বলা হয়েছিল, ভারতে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা সফল হলে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে। তবে পরবর্তী সময় এ নিয়ে আর আলোচনা এগোয়নি বলে জানান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোশতাক হোসেন।
তিনি বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে ডেঙ্গু যে পর্যায়ে যাচ্ছে এবং এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে খুব একটা সফলতাও আমরা দেখাতে পারছি না তাতে ভ্যাকসিন আনা যায় কি না এটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার সময় এসেছে’।
ডেঙ্গু ভ্যাসকিনের পাশাপাশি কমিউনিটি অ্যাওয়ারনেস বা সাধারণ মানুষের সচেতনতার কথা বলছেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন ব্যবহার করার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশে। এটি নিতেও আমাদের সময় লাগবে কারণ এখানে সরকারি সিদ্ধান্ত, বিশেষজ্ঞ মতামত, ট্রায়ালসহ নানা বিষয় জড়িত’।
‘তবে মানুষ যদি নিজে থেকেই পরিচ্ছন্ন থাকা, পানি জমতে না দেওয়া, মশারি টাঙানো এমন পদক্ষেপগুলো নেয় তাহলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমিয়ে আনা সম্ভব’, বলেন তিনি।