আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে রাজনীতির মাঠে তৈরি হয়েছে ভিন্নমাত্রার সমীকরণ। এই আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর (ভিপি নুর)।
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মো. হাসান মামুন এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা ও ভিন্নমত। এতে ভোটারদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে কৌতূহল ও দ্বিধা।
বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা হাসান মামুন গলাচিপা-দশমিনা এলাকায় পরিচিত মুখ। স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকায় তার রয়েছে নিজস্ব অনুসারী ও সমর্থক গোষ্ঠী।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার বিষয়ে হাসান মামুন বলেন, আমি দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করেছি। এলাকার মানুষ আমাকে চায় সেটাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও জনগণের ভালোবাসা নিয়ে নির্বাচনে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, এই আসনে উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, এই নির্বাচন কেবল ব্যক্তি নয়, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি প্রার্থী হয়েছি এবং মাঠে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তিনি দাবি করেন, পটুয়াখালী-৩ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা স্বচ্ছ রাজনীতি ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে।
গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে প্রার্থীদের নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেকেই বলছেন, একই রাজনৈতিক ধারার একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটের হিসাব কষতে হচ্ছে নতুন করে।
গলাচিপা পৌর এলাকার ব্যবসায়ী মো. সেলিম হাওলাদার বলেন, হাসান মামুন আমাদের এলাকার মানুষ, বহুদিন রাজনীতি করছেন। আবার ভিপি নুরের জাতীয় পরিচিতি আছে। কার দিকে ভোট যাবে এটা এখনও ঠিক করতে পারছি না।
দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের কৃষক আবু তাহের বলেন, আমরা দল দেখি না, কাজ দেখি। যিনি কৃষকের জন্য কথা বলবেন, সার-বীজ আর ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবেন, তাকেই ভোট দেব।
গলাচিপার চরকাজল ইউনিয়নের জেলে ইসমাইল মাঝি বলেন, নদীভাঙন আর মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় আমরা বিপদে আছি। আগে যারা এমপি ছিল, তারা আমাদের কথা শোনেনি। এবার নতুন কাউকে সুযোগ দিতে চাই।
দশমিনা উপজেলার তরুণ ভোটার রাকিব হোসেন বলেন, ভিপি নুর ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতা। তার মধ্যে প্রতিবাদী ভাব আছে। আমরা তরুণরা চাই সংসদে কেউ জোরে কথা বলুক।
অন্যদিকে গলাচিপা উপজেলার প্রবীণ ভোটার মো. ইউনুস আলী বলেন, হাসান মামুন এলাকায় অনেক সামাজিক কাজ করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ভালো মানুষ। দলীয় বিষয় আমাদের কাছে তত গুরুত্বপূর্ণ না।
দশমিনা মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, আমরা নিরাপদ চলাচল, শিক্ষা আর চাকরির সুযোগ চাই। প্রার্থী যেই হোক, নারীদের বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাই।
একজন গৃহিণী শাহানারা বেগম বলেন, নির্বাচনের সময় সবাই আসে, পরে আর দেখা যায় না। এবার এমন কাউকে চাই, যিনি নির্বাচনের পরও এলাকায় থাকবেন।
স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, বিএনপির সাবেক ও বহিষ্কৃত নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় একই ধারার ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গলাচিপা বাজারের চা-স্টলের আড্ডায় বসা এক ভোটার বলেন, একদিকে জোট প্রার্থী, আরেকদিকে স্বতন্ত্র দুইজনই বিরোধী রাজনীতির। এই বিভাজন শেষ পর্যন্ত কাকে সুবিধা দেবে, সেটাই এখন আলোচনার বিষয়।
ভোটারদের ভাষ্যে স্পষ্ট। এবারের নির্বাচনে ব্যক্তি পরিচিতি, এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতিই মুখ্য হয়ে উঠেছে। দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি কে কতটা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছেন, সেটাই হয়ে উঠছে মূল বিচার্য।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাসান মামুনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া জোট প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা থাকায় নির্বাচন চারমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিয়েছে।
ইতোমধ্যে গলাচিপা ও দশমিনার বিভিন্ন হাট-বাজার, গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে প্রার্থীদের পক্ষে গণসংযোগ শুরু হয়েছে। পোস্টার-ব্যানার ছাড়াই নানা কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা, যদিও ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে সংযম ও সতর্কতা।
সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচন এবার শুধু দ্বিমুখী নয়, চারমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিয়েছে যার ফলাফল নির্ধারণ করবে ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫৪
বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় ইলিশ। বুধবার সকালে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিলামে মাছটির দাম ওঠে ৭ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা হিসেবে মাছটি কিনে নেন কুয়াকাটা মা-মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান।
মাছটি নিয়ে আসা জেলে সোহরাফ গাজী জানান, মঙ্গলবার পায়রা বন্দর সংলগ্ন পাইপ বয়ার গভীর সমুদ্রে জাল ফেলেছিলেন তিনি। জাল তোলার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে বড় ইলিশটি উঠে আসে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মাছটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন সোহরাফ গাজী। পরে প্রকাশ্য নিলামে প্রতি কেজি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মণ দরে মাছটির দাম নির্ধারণ হয়।
জেলে সোহরাফ গাজী বলেন, প্রায় এক দশক ধরে বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে মাছ ধরছেন তিনি। তার ভাষ্য, সাধারণত এত বড় ইলিশ জালে পাওয়া যায় না। প্রায় সাত বছর পর এবার আবার বড় আকৃতির একটি ইলিশ পেয়েছেন তিনি।
মাছটির ক্রেতা কুয়াকাটা মা-মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান বলেন, বাজারে বর্তমানে এ আকারের ইলিশ খুব বেশি পাওয়া যায় না। এ কারণে নিলামে মাছটি কিনেছেন। মাছটি শরীয়তপুরের এক প্রবাসীর ভাইয়ের বাড়িতে পাঠানো হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বড় ইলিশ বাজারে উঠলেও এর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। জামাল ঘরামি বলেন, প্রতি কেজি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দিয়ে ইলিশ কেনা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কঠিন। আগে বছরে অন্তত একবার ইলিশ কেনা সম্ভব হলেও এখন সেটি অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো।
মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলছেন, বড় ইলিশের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার জানান, ছোট ইলিশ নির্বিচারে আহরণ, নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইসগেটের কারণে অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং সহ-ব্যবস্থাপনার ঘাটতি বড় ইলিশের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ ছাড়া পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের স্বল্পতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার পরিবর্তনের মতো পরিবেশগত বিষয়গুলোও ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলছে বলে জানান তিনি।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, গভীর সমুদ্রে এ ধরনের বড় ইলিশ ধরা পড়া ইতিবাচক বিষয়। তার মতে, এটি ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার সুফলের একটি দিক হতে পারে। বড় ইলিশে তুলনামূলক বেশি ফ্যাট থাকায় এতে ওমেগা-৩ ও বিভিন্ন ভিটামিন পাওয়া যায়। জালের প্রশস্ততা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় ইলিশ। বুধবার সকালে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিলামে মাছটির দাম ওঠে ৭ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা হিসেবে মাছটি কিনে নেন কুয়াকাটা মা-মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান।
মাছটি নিয়ে আসা জেলে সোহরাফ গাজী জানান, মঙ্গলবার পায়রা বন্দর সংলগ্ন পাইপ বয়ার গভীর সমুদ্রে জাল ফেলেছিলেন তিনি। জাল তোলার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে বড় ইলিশটি উঠে আসে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মাছটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন সোহরাফ গাজী। পরে প্রকাশ্য নিলামে প্রতি কেজি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মণ দরে মাছটির দাম নির্ধারণ হয়।
জেলে সোহরাফ গাজী বলেন, প্রায় এক দশক ধরে বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে মাছ ধরছেন তিনি। তার ভাষ্য, সাধারণত এত বড় ইলিশ জালে পাওয়া যায় না। প্রায় সাত বছর পর এবার আবার বড় আকৃতির একটি ইলিশ পেয়েছেন তিনি।
মাছটির ক্রেতা কুয়াকাটা মা-মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান বলেন, বাজারে বর্তমানে এ আকারের ইলিশ খুব বেশি পাওয়া যায় না। এ কারণে নিলামে মাছটি কিনেছেন। মাছটি শরীয়তপুরের এক প্রবাসীর ভাইয়ের বাড়িতে পাঠানো হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বড় ইলিশ বাজারে উঠলেও এর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। জামাল ঘরামি বলেন, প্রতি কেজি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দিয়ে ইলিশ কেনা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কঠিন। আগে বছরে অন্তত একবার ইলিশ কেনা সম্ভব হলেও এখন সেটি অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো।
মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলছেন, বড় ইলিশের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার জানান, ছোট ইলিশ নির্বিচারে আহরণ, নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইসগেটের কারণে অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং সহ-ব্যবস্থাপনার ঘাটতি বড় ইলিশের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ ছাড়া পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের স্বল্পতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার পরিবর্তনের মতো পরিবেশগত বিষয়গুলোও ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলছে বলে জানান তিনি।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, গভীর সমুদ্রে এ ধরনের বড় ইলিশ ধরা পড়া ইতিবাচক বিষয়। তার মতে, এটি ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার সুফলের একটি দিক হতে পারে। বড় ইলিশে তুলনামূলক বেশি ফ্যাট থাকায় এতে ওমেগা-৩ ও বিভিন্ন ভিটামিন পাওয়া যায়। জালের প্রশস্ততা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২২
কুয়াকাটার অদূরে পর্যটনপল্লী গঙ্গামতি লেকের পাশেই সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘেঁষে স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। ধুলাসার ইউনিয়নের ধোলাই মার্কেটের পশ্চিম দিকে এই স্থাপনা তোলা হচ্ছে। গত চারদিন ধরে নির্বিঘ্নে স্থাপনাটি তোলার কাজ চললেও বনবিভাগ ও ভূমি অফিসের কেউ বিষয়টি নজরে নেয়নি। ফলে সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলসহ প্রাকৃতিক জলাশয় লেক সব ধ্বংসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এনিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। পরিবেশ প্রকৃতি ও পর্যটন এলাকা রক্ষায় কুয়াকাটা সৈকতের লেম্বুরবন খাজুরা থেকে গঙ্গামতি হয়ে কাউয়ার চর পর্যন্ত বেড়িবাঁধের বাইরে কোন ধরনের স্থাপনা তুলতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা উপেক্ষা করে চলছে এই স্থাপনা তোলার কাজ।
দেখা গেছে, জলাশয় ও লেকের পাশে কাঠের এই স্থাপনা তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খুটি বসানো হয়েছে। কাঠের পাটাতনের কাজ চলছে। সবুজ ম্যানগ্রোভ বনঘেঁষা এমন স্থাপনা তোলার কাজ চললেও ওখানকার কোন সাধারণ মানুষ এনিয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি। কে তুলছে, কেন তুলছে, কী হচ্ছে-এমনটি পর্যন্ত কেউ বলেননি। তবে জনশ্রুতি রয়েছে তিন প্রভাবশালী ব্যক্তি মিলে এই স্থাপনা তোলার কাজ চলমান রেখেছেন। এটি যাতে বন্ধ না হয় এজন্য আবার তাঁদের ভিন্ন প্রস্তুতি রয়েছে!
পরিবেশ সংগঠক নজরুল ইসলাম বলেন, “ গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল” পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা। এখানে সংরক্ষিত কিংবা ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের মধ্যে প্রাকৃতিক জলাশয়, লেকের আশাপাশে কোন ধরনের স্থাপনা তোলা হলে তা পরিবেশের জন্য ঝুঁকি বয়ে আনবে। বনাঞ্চল ধ্বংসের শঙ্কা তৈরি হবে। এছাড়া কুয়াকাটা সৈকত এরিয়া রক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। যা অনুসরণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে এই পরিবেশ কর্মী মনে করছেন।
বনবিভাগ গঙ্গামতির বিট কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, প্রথমদিন তিনি ওই স্থাপনা তুলতে বাধা দিয়েছেন। কিন্তু তারা নিজের জমি দাবি করে কাজ করছেন। তারপরও তিনি উপজেলা ভূমি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানান। তবে পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকায় স্থাপনা তুলতে বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে কি না তা তিনি জানাতে পারেননি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে সচেতনমহলের প্রশ্ন পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকায় কোন স্থাপনা তুলতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তর, বনবিভাগের ছাড়পত্র প্রয়োজন রয়েছে। এসব ছাড়াই মূলত পরিবেশবিনাশি এ কর্মকান্ড চলছে। যাতে কুয়াকাটার প্রকৃতি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে।
কুয়াকাটার অদূরে পর্যটনপল্লী গঙ্গামতি লেকের পাশেই সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘেঁষে স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। ধুলাসার ইউনিয়নের ধোলাই মার্কেটের পশ্চিম দিকে এই স্থাপনা তোলা হচ্ছে। গত চারদিন ধরে নির্বিঘ্নে স্থাপনাটি তোলার কাজ চললেও বনবিভাগ ও ভূমি অফিসের কেউ বিষয়টি নজরে নেয়নি। ফলে সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলসহ প্রাকৃতিক জলাশয় লেক সব ধ্বংসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এনিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। পরিবেশ প্রকৃতি ও পর্যটন এলাকা রক্ষায় কুয়াকাটা সৈকতের লেম্বুরবন খাজুরা থেকে গঙ্গামতি হয়ে কাউয়ার চর পর্যন্ত বেড়িবাঁধের বাইরে কোন ধরনের স্থাপনা তুলতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা উপেক্ষা করে চলছে এই স্থাপনা তোলার কাজ।
দেখা গেছে, জলাশয় ও লেকের পাশে কাঠের এই স্থাপনা তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খুটি বসানো হয়েছে। কাঠের পাটাতনের কাজ চলছে। সবুজ ম্যানগ্রোভ বনঘেঁষা এমন স্থাপনা তোলার কাজ চললেও ওখানকার কোন সাধারণ মানুষ এনিয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি। কে তুলছে, কেন তুলছে, কী হচ্ছে-এমনটি পর্যন্ত কেউ বলেননি। তবে জনশ্রুতি রয়েছে তিন প্রভাবশালী ব্যক্তি মিলে এই স্থাপনা তোলার কাজ চলমান রেখেছেন। এটি যাতে বন্ধ না হয় এজন্য আবার তাঁদের ভিন্ন প্রস্তুতি রয়েছে!
পরিবেশ সংগঠক নজরুল ইসলাম বলেন, “ গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল” পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা। এখানে সংরক্ষিত কিংবা ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের মধ্যে প্রাকৃতিক জলাশয়, লেকের আশাপাশে কোন ধরনের স্থাপনা তোলা হলে তা পরিবেশের জন্য ঝুঁকি বয়ে আনবে। বনাঞ্চল ধ্বংসের শঙ্কা তৈরি হবে। এছাড়া কুয়াকাটা সৈকত এরিয়া রক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। যা অনুসরণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে এই পরিবেশ কর্মী মনে করছেন।
বনবিভাগ গঙ্গামতির বিট কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, প্রথমদিন তিনি ওই স্থাপনা তুলতে বাধা দিয়েছেন। কিন্তু তারা নিজের জমি দাবি করে কাজ করছেন। তারপরও তিনি উপজেলা ভূমি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানান। তবে পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকায় স্থাপনা তুলতে বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে কি না তা তিনি জানাতে পারেননি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে সচেতনমহলের প্রশ্ন পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকায় কোন স্থাপনা তুলতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তর, বনবিভাগের ছাড়পত্র প্রয়োজন রয়েছে। এসব ছাড়াই মূলত পরিবেশবিনাশি এ কর্মকান্ড চলছে। যাতে কুয়াকাটার প্রকৃতি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে।
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:০৫
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে সেতু নির্মাণের দাবিতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সব শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ।
ভোলা (ভেলুমিয়া)- পটুয়াখালী (ধুলিয়া) সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তেঁতুলিয়া নদীর তীরের পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মঠবাড়িয়া-ধুলিয়া লঞ্চঘাট ও বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশা এলাকার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. মোফাজ্জেল হোসেন মফু। তিনি লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশের সড়ক পথের সঙ্গে দ্বীপ জেলা ভোলাকে যুক্ত করতে সবচেয়ে সহজ পথ তেঁতুলিয়া নদীর ভোলার ভেলুমিয়া থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া পয়েন্টে সেতু নির্মাণ। যার দুরত্বমাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার। এতে দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে। যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
ভোলা থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া হয়ে বরিশালের বারেকগঞ্জ হয়ে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বরিশাল শহরে পৌঁছানো যাবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও ভোলার সাথে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে, মংলা বন্দর সহ দক্ষিণের ৬টি জেলার ২৫টি উপজেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে।
ওই সংবাদ সম্মেল ও মানববন্ধনে তেঁতুলিয়া নদী বেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নসহ ধুলিয়া, নাজিরপুর ও কাছিপাড়া ইউনিয়ন রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণেরও জোরালো দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভার্চুয়াল বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক(ভারপ্রাপ্ত) তসলিম তালুকদার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাও. রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি আ. রব খান, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মো. বাবুল মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মো. নাইম সিকদার তারেক, ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম, সৈয়দ মো. রিপন, মো. তৌসিফুর রহমান রাফা প্রমূখ।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে সেতু নির্মাণের দাবিতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সব শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ।
ভোলা (ভেলুমিয়া)- পটুয়াখালী (ধুলিয়া) সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তেঁতুলিয়া নদীর তীরের পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মঠবাড়িয়া-ধুলিয়া লঞ্চঘাট ও বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশা এলাকার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. মোফাজ্জেল হোসেন মফু। তিনি লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশের সড়ক পথের সঙ্গে দ্বীপ জেলা ভোলাকে যুক্ত করতে সবচেয়ে সহজ পথ তেঁতুলিয়া নদীর ভোলার ভেলুমিয়া থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া পয়েন্টে সেতু নির্মাণ। যার দুরত্বমাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার। এতে দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে। যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
ভোলা থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া হয়ে বরিশালের বারেকগঞ্জ হয়ে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বরিশাল শহরে পৌঁছানো যাবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও ভোলার সাথে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে, মংলা বন্দর সহ দক্ষিণের ৬টি জেলার ২৫টি উপজেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে।
ওই সংবাদ সম্মেল ও মানববন্ধনে তেঁতুলিয়া নদী বেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নসহ ধুলিয়া, নাজিরপুর ও কাছিপাড়া ইউনিয়ন রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণেরও জোরালো দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভার্চুয়াল বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক(ভারপ্রাপ্ত) তসলিম তালুকদার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাও. রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি আ. রব খান, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মো. বাবুল মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মো. নাইম সিকদার তারেক, ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম, সৈয়দ মো. রিপন, মো. তৌসিফুর রহমান রাফা প্রমূখ।

১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:১৩
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে রাজনীতির মাঠে তৈরি হয়েছে ভিন্নমাত্রার সমীকরণ। এই আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর (ভিপি নুর)।
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মো. হাসান মামুন এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা ও ভিন্নমত। এতে ভোটারদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে কৌতূহল ও দ্বিধা।
বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা হাসান মামুন গলাচিপা-দশমিনা এলাকায় পরিচিত মুখ। স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকায় তার রয়েছে নিজস্ব অনুসারী ও সমর্থক গোষ্ঠী।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার বিষয়ে হাসান মামুন বলেন, আমি দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করেছি। এলাকার মানুষ আমাকে চায় সেটাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও জনগণের ভালোবাসা নিয়ে নির্বাচনে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, এই আসনে উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, এই নির্বাচন কেবল ব্যক্তি নয়, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি প্রার্থী হয়েছি এবং মাঠে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তিনি দাবি করেন, পটুয়াখালী-৩ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা স্বচ্ছ রাজনীতি ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে।
গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে প্রার্থীদের নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেকেই বলছেন, একই রাজনৈতিক ধারার একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটের হিসাব কষতে হচ্ছে নতুন করে।
গলাচিপা পৌর এলাকার ব্যবসায়ী মো. সেলিম হাওলাদার বলেন, হাসান মামুন আমাদের এলাকার মানুষ, বহুদিন রাজনীতি করছেন। আবার ভিপি নুরের জাতীয় পরিচিতি আছে। কার দিকে ভোট যাবে এটা এখনও ঠিক করতে পারছি না।
দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের কৃষক আবু তাহের বলেন, আমরা দল দেখি না, কাজ দেখি। যিনি কৃষকের জন্য কথা বলবেন, সার-বীজ আর ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবেন, তাকেই ভোট দেব।
গলাচিপার চরকাজল ইউনিয়নের জেলে ইসমাইল মাঝি বলেন, নদীভাঙন আর মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় আমরা বিপদে আছি। আগে যারা এমপি ছিল, তারা আমাদের কথা শোনেনি। এবার নতুন কাউকে সুযোগ দিতে চাই।
দশমিনা উপজেলার তরুণ ভোটার রাকিব হোসেন বলেন, ভিপি নুর ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতা। তার মধ্যে প্রতিবাদী ভাব আছে। আমরা তরুণরা চাই সংসদে কেউ জোরে কথা বলুক।
অন্যদিকে গলাচিপা উপজেলার প্রবীণ ভোটার মো. ইউনুস আলী বলেন, হাসান মামুন এলাকায় অনেক সামাজিক কাজ করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ভালো মানুষ। দলীয় বিষয় আমাদের কাছে তত গুরুত্বপূর্ণ না।
দশমিনা মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, আমরা নিরাপদ চলাচল, শিক্ষা আর চাকরির সুযোগ চাই। প্রার্থী যেই হোক, নারীদের বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাই।
একজন গৃহিণী শাহানারা বেগম বলেন, নির্বাচনের সময় সবাই আসে, পরে আর দেখা যায় না। এবার এমন কাউকে চাই, যিনি নির্বাচনের পরও এলাকায় থাকবেন।
স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, বিএনপির সাবেক ও বহিষ্কৃত নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় একই ধারার ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গলাচিপা বাজারের চা-স্টলের আড্ডায় বসা এক ভোটার বলেন, একদিকে জোট প্রার্থী, আরেকদিকে স্বতন্ত্র দুইজনই বিরোধী রাজনীতির। এই বিভাজন শেষ পর্যন্ত কাকে সুবিধা দেবে, সেটাই এখন আলোচনার বিষয়।
ভোটারদের ভাষ্যে স্পষ্ট। এবারের নির্বাচনে ব্যক্তি পরিচিতি, এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতিই মুখ্য হয়ে উঠেছে। দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি কে কতটা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছেন, সেটাই হয়ে উঠছে মূল বিচার্য।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাসান মামুনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া জোট প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা থাকায় নির্বাচন চারমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিয়েছে।
ইতোমধ্যে গলাচিপা ও দশমিনার বিভিন্ন হাট-বাজার, গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে প্রার্থীদের পক্ষে গণসংযোগ শুরু হয়েছে। পোস্টার-ব্যানার ছাড়াই নানা কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা, যদিও ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে সংযম ও সতর্কতা।
সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচন এবার শুধু দ্বিমুখী নয়, চারমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিয়েছে যার ফলাফল নির্ধারণ করবে ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৬
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫৪