ছবি- সংগৃহীত
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পৃথক দুটি স্থানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবককে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্ত ও প্রতিপক্ষ।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়ন এবং ফুলঝুরি গ্রামে এই দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম (৩০) ও জমিজমা বিরোধের জেরে নিহত মোহাম্মদ ইউসুফ শরীফ (৩৫)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে ধানীসাফা ইউনিয়নের ফুলজুরি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে মোহাম্মদ ইউসুফ শরীফকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত ইউসুফ ওই গ্রামের ফজলুল হক শরীফের ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার আলমগীর শরীফের ছেলে মোঃ আরাফাত শরিফ (৩০), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (২৪) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জন মিলে ধারালো দা দিয়ে ইউসুফের গলা, ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, উপজেলার ৬ নম্বর টিকিকাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাজু হাওলাদারের বাড়িতে নিজ শোবার ঘর থেকে আব্দুল কাইয়ুম নামে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কাইয়ুম ওই এলাকার জালাল হাওলাদারের ছেলে। তিনি স্থানীয় সাধনা ব্রিজ ও বড় ব্রিজ এলাকায় রেডিমেড জামাকাপড়ের দোকান দিতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কাইয়ুমের স্ত্রী বাপের বাড়িতে থাকায় আজ দুপুরে তিনি ঘরে একাই ছিলেন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে শোবার ঘরে তাঁকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। নিহত কাইয়ুমের একটি সন্তান রয়েছে। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, নিহত কাইয়ুম মাদকাসক্ত ছিলেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।
একই দিনে পৃথক দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল দুটি পরিদর্শন করে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, ফুলজুরি গ্রামের হত্যাকাণ্ডটি জমিজমা বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। অন্যদিকে টিকিকাটা ইউনিয়নে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। দুটি ঘটনার প্রেক্ষিতেই পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বরিশাল টাইমস

১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৪৯
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বসতঘরে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুভ সাচকী (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় অলিউর রহমান (৪৯) নামে আরেক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) মঠবাড়িয়া থানা-পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চালিতাবুনিয়া গ্রামের একটি বসতঘরে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল।
এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করে তিনটি প্যাকেটে সংরক্ষিত ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সুভ সাচকীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও অলিউর রহমান পালিয়ে যান।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চার কেজি গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বসতঘরে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুভ সাচকী (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় অলিউর রহমান (৪৯) নামে আরেক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) মঠবাড়িয়া থানা-পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চালিতাবুনিয়া গ্রামের একটি বসতঘরে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল।
এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করে তিনটি প্যাকেটে সংরক্ষিত ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সুভ সাচকীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও অলিউর রহমান পালিয়ে যান।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চার কেজি গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০৯
কষ্টের উপার্জনে কিনেছিলেন দুটি ছাগল। নিজের শ্রম আর যত্নে সেগুলো লালন পালন করে ধীরে ধীরে ছাগলের সংখ্যা বাড়িয়ে করেছিলেন সাতটি। স্বপ্ন ছিল, ছাগলগুলোই এক দিন অভাবের সংসারে কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন যেন মুহূর্তেই ভেঙে গেল।
গ্রাম্য পশু চিকিৎসকের চিকিৎসা দেওয়ার পর একে একে মারা গেছে তার চারটি গর্ভবতী ছাগল। এতে প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন হতদরিদ্র ভ্যানচালক শহিদুল ইসলাম। এখন প্রিয় ছাগলগুলো হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেসন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেলের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে বিচার চেয়ে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হতদরিদ্র শহিদুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেসন্ডা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন ভ্যানচালক। ভ্যান চালিয়ে কষ্ট করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে প্রথমে দুটি ছাগল কেনেন তিনি। যত্ন নিয়ে ছাগলগুলো লালন পালন করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার ছাগলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় সাতটিতে। এর মধ্যে চারটি ছাগল ছিল গর্ভবতী। ছাগলগুলোকে ঘিরে তার মনে ছিল বাড়তি আয়ের স্বপ্ন। কিন্তু গত দুদিন আগে হঠাৎ ছাগলগুলো অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি স্থানীয় গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেলের শরণাপন্ন হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসক অসুস্থ ছাগলগুলোকে একাধিক ইনজেকশন ও কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগ করেন। এর পরপরই তিনটি ছাগল কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। অপর ছাগলটিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে সেটিকে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। মারা যাওয়া ছাগলগুলো উন্নত জাতের যমুনাপাড়ি বলে দাবি করেছেন মালিক শহিদুল ইসলাম। তার অভিযোগ, গ্রাম্য পশু চিকিৎসক সোহেলের ভুল চিকিৎসার কারণে ছাগলগুলোর মৃত্যু হয়েছে। এতে তার প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কষ্টের উপার্জনে গড়া স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় হতাশ শহিদুল। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছাগল লালন পালন করে আর্থিকভাবে কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়ার আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু চারটি গর্ভবতী ছাগলের মৃত্যুতে সেই আশায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গৌতম পাল চাংকি বলেন, শহিদুল ইসলামের চারটি ছাগল মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ভ্যান চালিয়ে অনেক কষ্টে ছাগলগুলো লালন পালন করছিলেন শহিদুল। তার দাবি অনুযায়ী, ছাগল চারটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা। তিনি আরও বলেন, গ্রামে কিছু ব্যক্তি যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে নেওয়া প্রয়োজন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেল বলেন, ছাগলগুলোর পিপিআর রোগ হয়েছিল। তাই তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। ছাগলগুলোর পাতলা পায়খানা হওয়ায় খাবারের জন্য কৃমিনাশক ওষুধও দিয়েছিলেন। তার দাবি, ওই ওষুধে ছাগল মারা যাওয়ার কথা নয়। চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার ঘোষ বলেন, গর্ভবতী ছাগলকে কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে, যা মেনে চলা জরুরি। পিপিআর রোগ হলে ছাগলের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা যায়। সেসব লক্ষণ পর্যবেক্ষণ না করে চিকিৎসা দেওয়া হলে ছাগলের মৃত্যু হতে পারে। তবে ছাগলগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।
নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় তারা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কষ্টের উপার্জনে কিনেছিলেন দুটি ছাগল। নিজের শ্রম আর যত্নে সেগুলো লালন পালন করে ধীরে ধীরে ছাগলের সংখ্যা বাড়িয়ে করেছিলেন সাতটি। স্বপ্ন ছিল, ছাগলগুলোই এক দিন অভাবের সংসারে কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন যেন মুহূর্তেই ভেঙে গেল।
গ্রাম্য পশু চিকিৎসকের চিকিৎসা দেওয়ার পর একে একে মারা গেছে তার চারটি গর্ভবতী ছাগল। এতে প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন হতদরিদ্র ভ্যানচালক শহিদুল ইসলাম। এখন প্রিয় ছাগলগুলো হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেসন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেলের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে বিচার চেয়ে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হতদরিদ্র শহিদুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেসন্ডা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন ভ্যানচালক। ভ্যান চালিয়ে কষ্ট করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে প্রথমে দুটি ছাগল কেনেন তিনি। যত্ন নিয়ে ছাগলগুলো লালন পালন করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার ছাগলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় সাতটিতে। এর মধ্যে চারটি ছাগল ছিল গর্ভবতী। ছাগলগুলোকে ঘিরে তার মনে ছিল বাড়তি আয়ের স্বপ্ন। কিন্তু গত দুদিন আগে হঠাৎ ছাগলগুলো অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি স্থানীয় গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেলের শরণাপন্ন হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসক অসুস্থ ছাগলগুলোকে একাধিক ইনজেকশন ও কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগ করেন। এর পরপরই তিনটি ছাগল কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। অপর ছাগলটিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে সেটিকে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। মারা যাওয়া ছাগলগুলো উন্নত জাতের যমুনাপাড়ি বলে দাবি করেছেন মালিক শহিদুল ইসলাম। তার অভিযোগ, গ্রাম্য পশু চিকিৎসক সোহেলের ভুল চিকিৎসার কারণে ছাগলগুলোর মৃত্যু হয়েছে। এতে তার প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কষ্টের উপার্জনে গড়া স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় হতাশ শহিদুল। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছাগল লালন পালন করে আর্থিকভাবে কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়ার আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু চারটি গর্ভবতী ছাগলের মৃত্যুতে সেই আশায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গৌতম পাল চাংকি বলেন, শহিদুল ইসলামের চারটি ছাগল মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ভ্যান চালিয়ে অনেক কষ্টে ছাগলগুলো লালন পালন করছিলেন শহিদুল। তার দাবি অনুযায়ী, ছাগল চারটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা। তিনি আরও বলেন, গ্রামে কিছু ব্যক্তি যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে নেওয়া প্রয়োজন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেল বলেন, ছাগলগুলোর পিপিআর রোগ হয়েছিল। তাই তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। ছাগলগুলোর পাতলা পায়খানা হওয়ায় খাবারের জন্য কৃমিনাশক ওষুধও দিয়েছিলেন। তার দাবি, ওই ওষুধে ছাগল মারা যাওয়ার কথা নয়। চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার ঘোষ বলেন, গর্ভবতী ছাগলকে কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে, যা মেনে চলা জরুরি। পিপিআর রোগ হলে ছাগলের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা যায়। সেসব লক্ষণ পর্যবেক্ষণ না করে চিকিৎসা দেওয়া হলে ছাগলের মৃত্যু হতে পারে। তবে ছাগলগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।
নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় তারা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১১
পিরোজপুর সদর উপজেলার কঁচা নদীতে অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (বেকুটিয়া সেতু)–এর নিচ থেকে সরকারি লোহার পাইপ চুরির অভিযোগে শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হেমায়েত বেপারিসহ নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সেতুর নিচে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাতে একটি চক্র সেতুর নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে সরকারি লোহার পাইপ কেটে চুরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা-পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে নয়জনকে আটক করে। এ সময় পাইপ কাটার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আটক হেমায়েত বেপারির বিরুদ্ধে চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, তদন্তে হেমায়েত বেপারির সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পিরোজপুর সদর উপজেলার কঁচা নদীতে অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (বেকুটিয়া সেতু)–এর নিচ থেকে সরকারি লোহার পাইপ চুরির অভিযোগে শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হেমায়েত বেপারিসহ নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সেতুর নিচে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাতে একটি চক্র সেতুর নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে সরকারি লোহার পাইপ কেটে চুরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা-পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে নয়জনকে আটক করে। এ সময় পাইপ কাটার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আটক হেমায়েত বেপারির বিরুদ্ধে চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, তদন্তে হেমায়েত বেপারির সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

২৬ মে, ২০২৬ ১৮:১৩
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পৃথক দুটি স্থানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবককে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্ত ও প্রতিপক্ষ।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়ন এবং ফুলঝুরি গ্রামে এই দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম (৩০) ও জমিজমা বিরোধের জেরে নিহত মোহাম্মদ ইউসুফ শরীফ (৩৫)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে ধানীসাফা ইউনিয়নের ফুলজুরি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে মোহাম্মদ ইউসুফ শরীফকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত ইউসুফ ওই গ্রামের ফজলুল হক শরীফের ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার আলমগীর শরীফের ছেলে মোঃ আরাফাত শরিফ (৩০), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (২৪) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জন মিলে ধারালো দা দিয়ে ইউসুফের গলা, ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, উপজেলার ৬ নম্বর টিকিকাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাজু হাওলাদারের বাড়িতে নিজ শোবার ঘর থেকে আব্দুল কাইয়ুম নামে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কাইয়ুম ওই এলাকার জালাল হাওলাদারের ছেলে। তিনি স্থানীয় সাধনা ব্রিজ ও বড় ব্রিজ এলাকায় রেডিমেড জামাকাপড়ের দোকান দিতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কাইয়ুমের স্ত্রী বাপের বাড়িতে থাকায় আজ দুপুরে তিনি ঘরে একাই ছিলেন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে শোবার ঘরে তাঁকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। নিহত কাইয়ুমের একটি সন্তান রয়েছে। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, নিহত কাইয়ুম মাদকাসক্ত ছিলেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।
একই দিনে পৃথক দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল দুটি পরিদর্শন করে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, ফুলজুরি গ্রামের হত্যাকাণ্ডটি জমিজমা বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। অন্যদিকে টিকিকাটা ইউনিয়নে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। দুটি ঘটনার প্রেক্ষিতেই পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বরিশাল টাইমস
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৭
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০৬