পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ভাড়ানী খালে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতের তোড়ে খালের উভয় পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা প্রতিনিয়ত বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বসতভিটা, কৃষিজমি, গাছপালা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অংশ ভেঙে খালে চলে যাওয়ায় দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খালের বিভিন্ন স্থানে পাড় ধসে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষকসহ প্রতিদিন যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় বিকল্প রাস্তা না থাকায় মানুষের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
কার্তিক পাশা গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার মৃধা জানান, ভাঙনের ফলে তার বাড়ির সামনের জমি ও রাস্তার বড় অংশ ইতোমধ্যে খালের মধ্যে চলে গেছে। এতে বাড়িতে যাতায়াত করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবশিষ্ট অংশও হারানোর আশঙ্কা করছেন তিনি।
একই গ্রামের নুরুল ইসলাম সিকদার বলেন, প্রতিদিনই খালের পাড় ভেঙে পড়ছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে। যে কোনো সময় ঘরবাড়িও খালের মধ্যে বিলীন হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা হৃদয় সিকদার অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কোনো স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত ব্লক ফেলা বা টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়বে।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে। ভাঙনের কারণে শুধু বসতভিটাই নয়, কৃষিজমিও হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে অনেকের ফলজ ও বনজ গাছপালা খালে বিলীন হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদেকুর রহমান বলেন, ভাঙনের বিষয়টি তার জানা ছিল না। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করা হবে।
এদিকে দ্রুত ভাঙনরোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৩২
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বজ্রপাতে তপন শিকারী (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের পশ্চিম কাচারিকান্দা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তপন শিকারী একই গ্রামের অনিল শিকারীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পশ্চিম পাশে নিজের জমিতে বীজ বপন করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তপন শিকারীর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) মিজান দেওয়ান।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, বজ্রপাতে মৃত্যু হলে লাশ পরিবারের কাছেই হস্তান্তর করা হবে।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বজ্রপাতে তপন শিকারী (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের পশ্চিম কাচারিকান্দা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তপন শিকারী একই গ্রামের অনিল শিকারীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পশ্চিম পাশে নিজের জমিতে বীজ বপন করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তপন শিকারীর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) মিজান দেওয়ান।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, বজ্রপাতে মৃত্যু হলে লাশ পরিবারের কাছেই হস্তান্তর করা হবে।

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:২২
পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে চাষাবাদের অভিযোগে তা অপসারণে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝামাঝি সরকারি রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার স্ত্রী ডেইজি বেগম ও ছেলে রামিম প্যাদা সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। এতে স্থানীয়দের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সরকারি লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শাহজাহান প্যাদাকে সাত দিনের মধ্যে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করব, তবে ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেব না।’
উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বেড়া অপসারণ না করলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে চাষাবাদের অভিযোগে তা অপসারণে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝামাঝি সরকারি রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার স্ত্রী ডেইজি বেগম ও ছেলে রামিম প্যাদা সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। এতে স্থানীয়দের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সরকারি লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শাহজাহান প্যাদাকে সাত দিনের মধ্যে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করব, তবে ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেব না।’
উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বেড়া অপসারণ না করলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:২০
দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল পটুয়াখালীর বাউফলে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে নারিকেলের ফলন। চাষিদের একাংশ মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারের ক্ষতিকর তরঙ্গকে এর জন্য দায়ী করলেও কৃষিবিদ ও বিজ্ঞানের স্পষ্ট বক্তব্য- এই দাবির পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। মূলত জলবায়ূর বিরুপ প্রভাব, অতিমাত্রায় রোগবালাই এবং সঠিক পরিচর্যার অভাবই নারিকেল উৎপাদন কমে যাওয়ার মূল কারণ।
স্থানীয় চাষি ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একসময় পটুয়াখালীর এই উপকূলীয় অঞ্চল ছিল নারিকেলের জন্য সুপরিচিত। বসতবাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বাগান-সবখানেই সারি সারি গাছে ঝুলত কাঁদিকাঁদি ডাব ও নারিকেল। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হতো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথচ গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে নারিকেলের ফলন কমে গেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। বর্তমানে অধিকাংশ গাছই ফলশূন্য হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার শৌলা গ্রামের ‘নুরজাহান গার্ডেন’-এ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৭০০ নারিকেল গাছ রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৫০০ গাছে প্রচুর ফলন হতো। তবে কয়েক বছর ধরে এসব গাছে ফলন এক প্রকার বন্ধ বললেই চলে।
বাগান দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. খবির হোসেন বলেন, আগে প্রচুর নারিকেল হতো। কিন্তু গত দুই-তিন বছর ধরে প্রায় সব গাছই ফলশূন্য। দু-একটি গাছে কড়ি এলেও তা ঝরে পড়ে যায়।
একই হতাশার কথা জানান চর কালাইয়াা গ্রামের কৃষক মো. রফিক প্যাদা। তার বাড়িতে ১০-১২টি গাছ থেকে একসময় ভালো আয় হলেও এখন ফুল আসার পর তা ঝরে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
নারিকেলের এই ফলন বিপর্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা গুজবের সৃষ্টি হয়েছে। চর মিয়াজান গ্রাামের বাসিন্দা লোকমান মাঝিসহ স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বাড়ার পর থেকেই নাকি নারিকেলের উৎপাদন কমেছে।
তবে এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল ও ভ্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞ ও সচেতন চাষিরা। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি এবং সময়ের সাথে বিভিন্ন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়াই মূল সমস্যা।
বাউফল উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. রেদওয়ান তালুকদার বলেন, মোবাইল টাওয়ারের তরঙ্গের কারণে ফলন কমার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মূলত পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন মিয়া বলেন, জলবায়ুর প্রতিকূল পরিবর্তনের ফলে ‘হোয়াইট ফ্লাই’ বা সাদা মাছিসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা ও রোগের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। কোনো ভিত্তিহীন গুজবে কান না দিয়ে চাষিদের আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক সময়ে বালাইনাশক ব্যবহার করলেই আগের মতো ফলন ফিরে পাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল পটুয়াখালীর বাউফলে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে নারিকেলের ফলন। চাষিদের একাংশ মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারের ক্ষতিকর তরঙ্গকে এর জন্য দায়ী করলেও কৃষিবিদ ও বিজ্ঞানের স্পষ্ট বক্তব্য- এই দাবির পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। মূলত জলবায়ূর বিরুপ প্রভাব, অতিমাত্রায় রোগবালাই এবং সঠিক পরিচর্যার অভাবই নারিকেল উৎপাদন কমে যাওয়ার মূল কারণ।
স্থানীয় চাষি ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একসময় পটুয়াখালীর এই উপকূলীয় অঞ্চল ছিল নারিকেলের জন্য সুপরিচিত। বসতবাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বাগান-সবখানেই সারি সারি গাছে ঝুলত কাঁদিকাঁদি ডাব ও নারিকেল। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হতো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথচ গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে নারিকেলের ফলন কমে গেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। বর্তমানে অধিকাংশ গাছই ফলশূন্য হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার শৌলা গ্রামের ‘নুরজাহান গার্ডেন’-এ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৭০০ নারিকেল গাছ রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৫০০ গাছে প্রচুর ফলন হতো। তবে কয়েক বছর ধরে এসব গাছে ফলন এক প্রকার বন্ধ বললেই চলে।
বাগান দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. খবির হোসেন বলেন, আগে প্রচুর নারিকেল হতো। কিন্তু গত দুই-তিন বছর ধরে প্রায় সব গাছই ফলশূন্য। দু-একটি গাছে কড়ি এলেও তা ঝরে পড়ে যায়।
একই হতাশার কথা জানান চর কালাইয়াা গ্রামের কৃষক মো. রফিক প্যাদা। তার বাড়িতে ১০-১২টি গাছ থেকে একসময় ভালো আয় হলেও এখন ফুল আসার পর তা ঝরে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
নারিকেলের এই ফলন বিপর্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা গুজবের সৃষ্টি হয়েছে। চর মিয়াজান গ্রাামের বাসিন্দা লোকমান মাঝিসহ স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বাড়ার পর থেকেই নাকি নারিকেলের উৎপাদন কমেছে।
তবে এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল ও ভ্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞ ও সচেতন চাষিরা। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি এবং সময়ের সাথে বিভিন্ন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়াই মূল সমস্যা।
বাউফল উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. রেদওয়ান তালুকদার বলেন, মোবাইল টাওয়ারের তরঙ্গের কারণে ফলন কমার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মূলত পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন মিয়া বলেন, জলবায়ুর প্রতিকূল পরিবর্তনের ফলে ‘হোয়াইট ফ্লাই’ বা সাদা মাছিসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা ও রোগের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। কোনো ভিত্তিহীন গুজবে কান না দিয়ে চাষিদের আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক সময়ে বালাইনাশক ব্যবহার করলেই আগের মতো ফলন ফিরে পাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:১২
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ভাড়ানী খালে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতের তোড়ে খালের উভয় পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা প্রতিনিয়ত বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বসতভিটা, কৃষিজমি, গাছপালা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অংশ ভেঙে খালে চলে যাওয়ায় দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খালের বিভিন্ন স্থানে পাড় ধসে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষকসহ প্রতিদিন যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় বিকল্প রাস্তা না থাকায় মানুষের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
কার্তিক পাশা গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার মৃধা জানান, ভাঙনের ফলে তার বাড়ির সামনের জমি ও রাস্তার বড় অংশ ইতোমধ্যে খালের মধ্যে চলে গেছে। এতে বাড়িতে যাতায়াত করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবশিষ্ট অংশও হারানোর আশঙ্কা করছেন তিনি।
একই গ্রামের নুরুল ইসলাম সিকদার বলেন, প্রতিদিনই খালের পাড় ভেঙে পড়ছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে। যে কোনো সময় ঘরবাড়িও খালের মধ্যে বিলীন হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা হৃদয় সিকদার অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কোনো স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত ব্লক ফেলা বা টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়বে।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে। ভাঙনের কারণে শুধু বসতভিটাই নয়, কৃষিজমিও হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে অনেকের ফলজ ও বনজ গাছপালা খালে বিলীন হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদেকুর রহমান বলেন, ভাঙনের বিষয়টি তার জানা ছিল না। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করা হবে।
এদিকে দ্রুত ভাঙনরোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬