পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় সরকারি রাস্তা সংস্কারের বরাদ্দের ইট ব্যবহার করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের নিজ বাড়ির রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. মিজান হাওলাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
রোববার (২৯ মার্চ) জিয়ানগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন তালুকদার এ নোটিশ জারি করেন। নোটিশে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জিয়ানগর উপজেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-গম) কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কালাইয়া গ্রামের রুস্তম মল্লিকের বাড়ি থেকে মামুন হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটির কাজসহ ইটসোলিং করে পুনর্নির্মাণের জন্য তিন মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকার বেশি।
তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত রাস্তায় কাজ না করে ওই প্রকল্পের ইট ব্যবহার করে ইউপি সদস্য মিজান হাওলাদারের নিজ বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা ইটসোলিং করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মামুন হাওলাদার স্থানীয় ওই ইউপি সদস্যের আপন ভাই এবং তারা একই বাড়িতে বসবাস করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রুস্তম মল্লিক, রুবেলসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে এলাকার অনেক মানুষ চলাচল করলেও রাস্তা সরু হওয়ায় ভ্যান বা রিকশা চলাচল করতে পারে না।’ তারা অভিযোগ করেন, সরকারি বরাদ্দের কাজ না করে ইউপি সদস্য নিজের বাড়ির রাস্তা নির্মাণ করেছেন। যদিও ইউপি সদস্য দাবি করেছেন, তিনি ব্যক্তিগত অর্থে ইট কিনে রাস্তা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. মিজান হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সরকারি রাস্তার বরাদ্দের ইট দিয়ে বাড়ির রাস্তা নির্মাণ করা যায় কি না, তা আমার জানা নেই। বরাদ্দের কাগজপত্রে ভুলও থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বিস্তারিত জানাব।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন তালুকদার বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিন তদন্তে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
এ কারণে ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি মিজান হাওলাদারের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। তাকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে এবং কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসন সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাস করে। অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৩
অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই যুবককে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রদীপ হালদার (৩০) এবং সমির চন্দ্র খরাতী (৪০) মাত্র তিন ঘণ্টায় একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৪৫২ টাকা লেনদেন করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া পৌরশহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে অঙ্গন শপিং সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত একটি বিকাশ অফিসে অভিযান চালিয়ে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তা করা হয়।
পুলিশ জানায়, একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন সমির চন্দ্র খরাতী। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১৭টি সিম কার্ড, দুটি ল্যাপটপ এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে সমিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর হরহর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভোররাতে বিকাশ ম্যানেজার প্রদীপ হালদারকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার আলামত ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার প্রদীপ হালদার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর হরহর গ্রামের মৃত পরিমল হালদারের ছেলে এবং সমির চন্দ্র খরাতী পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের নলী গোলবুনিয়া গ্রামের মৃত সন্তোষ কুমার খরাতীর ছেলে। এই দুজনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসান সিকদার বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। অনলাইন জুয়া প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে, জানান পুলিশ কর্মকর্তা।’
অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই যুবককে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রদীপ হালদার (৩০) এবং সমির চন্দ্র খরাতী (৪০) মাত্র তিন ঘণ্টায় একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৪৫২ টাকা লেনদেন করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া পৌরশহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে অঙ্গন শপিং সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত একটি বিকাশ অফিসে অভিযান চালিয়ে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তা করা হয়।
পুলিশ জানায়, একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন সমির চন্দ্র খরাতী। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১৭টি সিম কার্ড, দুটি ল্যাপটপ এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে সমিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর হরহর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভোররাতে বিকাশ ম্যানেজার প্রদীপ হালদারকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার আলামত ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার প্রদীপ হালদার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর হরহর গ্রামের মৃত পরিমল হালদারের ছেলে এবং সমির চন্দ্র খরাতী পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের নলী গোলবুনিয়া গ্রামের মৃত সন্তোষ কুমার খরাতীর ছেলে। এই দুজনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসান সিকদার বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। অনলাইন জুয়া প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে, জানান পুলিশ কর্মকর্তা।’

২২ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৪৬
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরে এক ভাড়া বাসা থেকে ওবায়দুর রহমান সুমন (৩০) নামে এক রাজমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুইচগেট এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওবায়দুর রহমান বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম ময়েন প্রামাণিক। তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের সুইজগেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আর্থিক সংকট ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে প্রায়ই বিরোধ হতো। এ কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতের স্ত্রী সখি বেগম জানান, তার স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে বাসায় বাজার করতো না এবং এমনকি ছেলেরও খরচ দিতো না। সে প্রতিদিন কাজ করতো আবার অন্যের কাছ থেকে টাকা ধারদেনা করতো। গতকালও বাজার করে নাই। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। দেনার চাপ ও পারিবারিক অশান্তির মধ্যে বুধবার সকালে তার স্বামী আত্মহত্যা করে।
মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরে এক ভাড়া বাসা থেকে ওবায়দুর রহমান সুমন (৩০) নামে এক রাজমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুইচগেট এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওবায়দুর রহমান বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম ময়েন প্রামাণিক। তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের সুইজগেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আর্থিক সংকট ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে প্রায়ই বিরোধ হতো। এ কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতের স্ত্রী সখি বেগম জানান, তার স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে বাসায় বাজার করতো না এবং এমনকি ছেলেরও খরচ দিতো না। সে প্রতিদিন কাজ করতো আবার অন্যের কাছ থেকে টাকা ধারদেনা করতো। গতকালও বাজার করে নাই। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। দেনার চাপ ও পারিবারিক অশান্তির মধ্যে বুধবার সকালে তার স্বামী আত্মহত্যা করে।
মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪১
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় স্মার্ট ফোন চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ২টি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সেউতিবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই কিশোরের নাম জাকারিয়া (১৭)। সে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেউতিবাড়িয়া গ্রামের জসিম মল্লিকের ঘর থেকে শনিবার দুপুরে প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি স্মার্ট ফোন ও কিছু নগদ টাকা চুরি হয়।
এ সময় স্থানীয়রা ওই কিশোরকে সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্ট ফোন এবং টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় কিছু লোক গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর মাথার চুল কেটে দেয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্থানীয় কিছু লোক মারধর করছেন। এ সময় চুরির কথা স্বীকার করে ওই কিশোর। এরপর কিশোরটির মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কিশোর জাকারিয়া এর আগেও বিভিন্ন চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। সেউতিবাড়িয়া গ্রামের জসিম মল্লিকের ঘর থেকে দুটি অ্যানড্রয়েড ফোন চুরি করে। চোর পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘরের মালিক জসিমের সন্দেহ হলে চোরকে আটক করেন।
এ সময় ওই চোরের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ফোন দুটি পাওয়া যায়। এর আগেও দুটি ঘরে চুরি করে বলে স্বীকারোক্তি দেয় অভিযুক্ত জাকারিয়া।
সেউতিবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ হোসেন জানান, স্থানীয় জসিম মল্লিকের ঘর থেকে দুটি অ্যানড্রয়েড ফোন চুরি করে যাওয়ার সময় সন্দেহজনকভাবে ওই চোরকে আটক করেন। এ সময় চোরের কাছ থেকে দুটি ফোন উদ্ধার করা হয়, তখন স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে চোরকে মারধর করেন। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকায় এ রকম চুরির ঘটনা ঘটছে। এসব চোরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহাব্বত খান বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় স্মার্ট ফোন চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ২টি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সেউতিবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই কিশোরের নাম জাকারিয়া (১৭)। সে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেউতিবাড়িয়া গ্রামের জসিম মল্লিকের ঘর থেকে শনিবার দুপুরে প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি স্মার্ট ফোন ও কিছু নগদ টাকা চুরি হয়।
এ সময় স্থানীয়রা ওই কিশোরকে সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্ট ফোন এবং টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় কিছু লোক গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর মাথার চুল কেটে দেয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্থানীয় কিছু লোক মারধর করছেন। এ সময় চুরির কথা স্বীকার করে ওই কিশোর। এরপর কিশোরটির মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কিশোর জাকারিয়া এর আগেও বিভিন্ন চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। সেউতিবাড়িয়া গ্রামের জসিম মল্লিকের ঘর থেকে দুটি অ্যানড্রয়েড ফোন চুরি করে। চোর পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘরের মালিক জসিমের সন্দেহ হলে চোরকে আটক করেন।
এ সময় ওই চোরের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ফোন দুটি পাওয়া যায়। এর আগেও দুটি ঘরে চুরি করে বলে স্বীকারোক্তি দেয় অভিযুক্ত জাকারিয়া।
সেউতিবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ হোসেন জানান, স্থানীয় জসিম মল্লিকের ঘর থেকে দুটি অ্যানড্রয়েড ফোন চুরি করে যাওয়ার সময় সন্দেহজনকভাবে ওই চোরকে আটক করেন। এ সময় চোরের কাছ থেকে দুটি ফোন উদ্ধার করা হয়, তখন স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে চোরকে মারধর করেন। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকায় এ রকম চুরির ঘটনা ঘটছে। এসব চোরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহাব্বত খান বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

২৯ মার্চ, ২০২৬ ১৭:২৫
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় সরকারি রাস্তা সংস্কারের বরাদ্দের ইট ব্যবহার করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের নিজ বাড়ির রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. মিজান হাওলাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
রোববার (২৯ মার্চ) জিয়ানগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন তালুকদার এ নোটিশ জারি করেন। নোটিশে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জিয়ানগর উপজেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-গম) কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কালাইয়া গ্রামের রুস্তম মল্লিকের বাড়ি থেকে মামুন হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটির কাজসহ ইটসোলিং করে পুনর্নির্মাণের জন্য তিন মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকার বেশি।
তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত রাস্তায় কাজ না করে ওই প্রকল্পের ইট ব্যবহার করে ইউপি সদস্য মিজান হাওলাদারের নিজ বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা ইটসোলিং করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মামুন হাওলাদার স্থানীয় ওই ইউপি সদস্যের আপন ভাই এবং তারা একই বাড়িতে বসবাস করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রুস্তম মল্লিক, রুবেলসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে এলাকার অনেক মানুষ চলাচল করলেও রাস্তা সরু হওয়ায় ভ্যান বা রিকশা চলাচল করতে পারে না।’ তারা অভিযোগ করেন, সরকারি বরাদ্দের কাজ না করে ইউপি সদস্য নিজের বাড়ির রাস্তা নির্মাণ করেছেন। যদিও ইউপি সদস্য দাবি করেছেন, তিনি ব্যক্তিগত অর্থে ইট কিনে রাস্তা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. মিজান হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সরকারি রাস্তার বরাদ্দের ইট দিয়ে বাড়ির রাস্তা নির্মাণ করা যায় কি না, তা আমার জানা নেই। বরাদ্দের কাগজপত্রে ভুলও থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বিস্তারিত জানাব।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন তালুকদার বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিন তদন্তে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
এ কারণে ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি মিজান হাওলাদারের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। তাকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে এবং কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসন সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাস করে। অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’