পটুয়াখালীতে দিন দিন বাড়ছে মামলার জট। দীর্ঘদিন ধরে বিচার না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন বিচারপ্রার্থীরা। জেলার বিভিন্ন আদালতে হাজার হাজার মামলা বছরের পর বছর ধরে বিচারাধীন অবস্থায় পড়ে আছে। বিচারক সংকটই এর মূল কারণ বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
বিচার প্রার্থীদের অভিযোগ, মামলার সাক্ষী উপস্থিত না থাকা, বাদীর অনুপস্থিতি, বিচারকের বদলি ও ছুটির কারণে বিচার কার্যক্রমে বিলম্ব ঘটছে। এতে বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকছে।
বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শংকর চন্দ্র ধুপি বলেন, ‘১৯৬১ সালে আমার বাবা ও দাদার বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলা হয় বরিশাল সাব-জজ দ্বিতীয় আদালতে। পরে মামলাটি একতরফা রায় ও ডিক্রি হয় বরিশাল জজ আদালতে। এরপর আমরা তা চ্যালেঞ্জ করে বর্তমানে পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে মামলা নম্বর ১৯৪/১৯৬১ হিসেবে লড়ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭৯ সালে আবার আমাদের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা হয়। সেটিও এখনো চলমান। দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে কোর্টের বারান্দায় সঠিক বিচারের দাবিতে ঘুরে বেড়াচ্ছি।’
তার মতো আরও অনেকেই বছরের পর বছর ধরে আদালতের দুয়ারে ঘুরছেন বিচার না পেয়ে। বারবার আদালতে আসা-যাওয়ায় খরচও বেড়েছে। ফলে আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
বারের সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মামলার সাক্ষী উপস্থিত কম এবং বিচারক সংকটের কারণে দিন দিন বেড়েই চলেছে মামলার জট।’
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন বলেন, ‘দিন দিন পটুয়াখালীতে মামলা বাড়ছে, কিন্তু বিচারিক আদালতের সংখ্যা বাড়ছে না। আদালতে বিচারক সংকট প্রকট। কোনো আদালতের বিচারক বদলি বা ছুটিতে গেলে মামলার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এতে মামলা জট আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
বর্তমানে পটুয়াখালী জেলার ২৯টি এজলাসের বিপরীতে বিচারক রয়েছেন মাত্র ২৬ জন। এর মধ্যে স্পেশাল জজ আদালত, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে কোনো বিচারক নেই বলে জানা গেছে।
বিচারক সংকট নিরসন এবং দ্রুত বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত না হলে পটুয়াখালীর আদালতগুলোতে মামলার জট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৫
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজেল নিউজের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। অপরাধের গুরুত্ব এবং সময় ও স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সাজা দেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখে এবং সাজা কার্যকরের জন্য রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়।
তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন বাস্তবায়নে সৌদি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও আজেল নিউজ।
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজেল নিউজের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। অপরাধের গুরুত্ব এবং সময় ও স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সাজা দেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখে এবং সাজা কার্যকরের জন্য রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়।
তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন বাস্তবায়নে সৌদি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও আজেল নিউজ।

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২৮
পটুয়াখালীর বাউফলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জেরে স্থানীয় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানিকর অপপ্রচার ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো: মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বর্তমানে পটুয়াখালী জেলা সিআইডি (CID) কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী মো: মাসুম বিল্লাহ জাতীয় দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন এবং স্থানীয়ভাবে 'Bauphal News 24' পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ ও ভিডিও প্রচার করে থাকেন। সম্প্রতি বাউফলের শৌলা এলাকায় জোরপূর্বক শিবির নেতার বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। তারই জের ধরে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়।
এই শিরোনামের সংবাদটি খবর বাউফল ও বাউফল টুডের ফেইসবুকেও প্রচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখ রাত ১০টা ৪৯ মিনিটের দিকে ২নং আসামি মো আমিনুল ইসলাম তার মোবাইল নম্বর থেকে সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ'র নম্বরে ফোন করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এরপর ৩নং আসামি মো: ইমরান খানের ফেসবুক আইডি ও বিভিন্ন পেজ থেকে সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ'র বিরুদ্ধে ১ ও ২ নং আসামি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য ও হুমকি সহ “পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ করেন ১ নং আসামি তরিকুল ইসলাম ফাহিম” এই ভিডিওটি চাদাঁবাজির শিরোনাম দিয়ে তিনি তার বক্তব্য প্রচার করেন। যাহা মিথ্যা বানোয়াট সাজানো মানহানিকর ভিডিও বক্তব্য দিয়ে ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় বাদীর পেশাগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ায় তিনি প্রথমে বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৯৭০, তাং- ১৯/০৮/২০২৬) করেন। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া ও ডিজিটাল আলামত সুরক্ষার মাধ্যমে গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে এই মামলা (সাইবার পিটিশন মামলা নং- ২৬২/২০২৬) দায়ের করা হয়।
মামলায় চারজনকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— মো. তরিকুল ইসলাম ফাহিম (২৬), মো. আমিনুল ইসলাম (৩২), মো. ইমরান খান (৩৫) এবং প্রধান প্ররোচণাকারী ও ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে মো. আবুল কালাম হাওলাদার (কালু) (৬৫)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ, ফেসবুক আইডির প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্তকরণ (IP log, login history ও metadata বিশ্লেষণ) এবং অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার জন্য মামলাটি বর্তমানে সিআইডির নিবিড় তদন্তাধীন রয়েছে। সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
পটুয়াখালীর বাউফলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জেরে স্থানীয় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানিকর অপপ্রচার ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো: মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বর্তমানে পটুয়াখালী জেলা সিআইডি (CID) কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী মো: মাসুম বিল্লাহ জাতীয় দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন এবং স্থানীয়ভাবে 'Bauphal News 24' পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ ও ভিডিও প্রচার করে থাকেন। সম্প্রতি বাউফলের শৌলা এলাকায় জোরপূর্বক শিবির নেতার বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। তারই জের ধরে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়।
এই শিরোনামের সংবাদটি খবর বাউফল ও বাউফল টুডের ফেইসবুকেও প্রচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখ রাত ১০টা ৪৯ মিনিটের দিকে ২নং আসামি মো আমিনুল ইসলাম তার মোবাইল নম্বর থেকে সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ'র নম্বরে ফোন করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এরপর ৩নং আসামি মো: ইমরান খানের ফেসবুক আইডি ও বিভিন্ন পেজ থেকে সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ'র বিরুদ্ধে ১ ও ২ নং আসামি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য ও হুমকি সহ “পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ করেন ১ নং আসামি তরিকুল ইসলাম ফাহিম” এই ভিডিওটি চাদাঁবাজির শিরোনাম দিয়ে তিনি তার বক্তব্য প্রচার করেন। যাহা মিথ্যা বানোয়াট সাজানো মানহানিকর ভিডিও বক্তব্য দিয়ে ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় বাদীর পেশাগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ায় তিনি প্রথমে বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৯৭০, তাং- ১৯/০৮/২০২৬) করেন। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া ও ডিজিটাল আলামত সুরক্ষার মাধ্যমে গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে এই মামলা (সাইবার পিটিশন মামলা নং- ২৬২/২০২৬) দায়ের করা হয়।
মামলায় চারজনকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— মো. তরিকুল ইসলাম ফাহিম (২৬), মো. আমিনুল ইসলাম (৩২), মো. ইমরান খান (৩৫) এবং প্রধান প্ররোচণাকারী ও ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে মো. আবুল কালাম হাওলাদার (কালু) (৬৫)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ, ফেসবুক আইডির প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্তকরণ (IP log, login history ও metadata বিশ্লেষণ) এবং অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার জন্য মামলাটি বর্তমানে সিআইডির নিবিড় তদন্তাধীন রয়েছে। সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০০
দীর্ঘ সময় বসে থেকেও মেলেনি বিএনপি নেতার সাক্ষাৎ, ক্ষোভে ফুঁসছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
বরিশাল সদর আসনের এমপি বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারের বাসায় গেলে ইজ্জত নিয়ে ফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনও খোদ সাংসদ তৃণমূল নেতাকর্মী ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে সাক্ষাৎ না দিয়ে বিদায় করছেন। আবার কখনও তার পালিত কজন রাজনৈতিক সহকর্মীর দ্বারা অপমান-অপদস্থ হতে হচ্ছে। এই জনপ্রতিনিধির বাসায় গিয়ে বহু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীও বেইজ্জতি হওয়ার উদাহরণ আছে। সার কথা হচ্ছে, বরিশাল-৫ আসনের এমপি বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা সরোয়ারের সাক্ষাৎ লাভের আশায় শহরের সাধুর বটতলায় তার বাসায় গেলে বেশির ভাগ মানুষকে বেইজ্জতি হতে হয়। এই বিষয়টি নিয়ে বরিশালের নেতৃত্বস্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এতদিন কানাঘুষা বা আলোচনা-সমালোচনা শোনা গেলেও বুধবার সদর উপজেলার ৪০০/৫০০ কর্মী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে সাক্ষাতে ব্যর্থ হলে তৃণমূলে ক্ষোভ ও অসন্তোস ছড়িয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, একজন রাজনৈতিক এমপি হলে তিনি সংসদীয় আসনের সকল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। এবং তার সাথে জনসাধারণে অবাধ যোগাযোগের সুযোগ থাকার কথা। কিন্তু জাতীয় সংসদের ১২৩ নং আসন অর্থাৎ বরিশাল সদরের চিত্র একদম ভিন্ন, যা মজিবর রহমান সরোয়ারের মতো অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যের কাছ থেকে জনগণ আশা করেনি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের মধ্যেকার বিরোধ এবং কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে। এমপি সরোয়ার অনুসারী সাবেক জামায়াত নেতা নুরুল আমিনকে আহ্বায়ক এবং সাইফুল ইসলাম আব্বাসকে সদস্যসচিব করে চলতি বছরের জুলাই মাসে ১৬১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করা হলে পদবঞ্চিত একটি বড় অংশ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে তারা বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে সরোয়ার নিয়ন্ত্রিত এই কমিটি বাতিল চেয়ে বিএনপির হাইকমাণ্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু প্রতাপশালী সরোয়ারের হস্তক্ষেপের কারণে এই অংশটি কমিটি ভাঙতে বা পদবঞ্চিতদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন। এনিয়ে তাদের মধ্যেকার প্রচন্ড রূপে ক্ষোভ এবং অভিমান আছে।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যার আগে অর্থাৎ ৫টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সালাম রাঢ়ী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউল ইসলাম সাবু, রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজ, চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের কাজী ফিরোজ, সদর উপজেলা বিএনপির আমিনুল ইসলাম পাখি, কবির মাঝি এবং রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪০০/৫০০ লোক এমপি সরোয়ারের সাধুর বটতলার বাসবভনে যান। তখন এমপি বাসার ভেতরে থাকায় তৃণমূলের এই অংশটি বাসার সামনে অপেক্ষা করছিলেন এবং তাদের আসার বিষয়টি সরোয়ারকে বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার অবহিত করেন। রাত গভীর হয়, কিন্তু এমপির আর দেখা মেলেনি।
এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজ। তৃণমূল বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে বরিশাল-৫ আসনে মজিবর রহমান সরোয়ারকে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই নিজের পছন্দসই বিতর্কিত ব্যক্তি-বিশেষকে স্থানীয় কমিটিগুলোর শীর্ষ পদে আনতে কাজ করছেন। বিশেষ করে সদর উপজেলা কমিটিতে সাবেক জামায়াত নেতা নুরুল আমিনসহ স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের লোকজনদের পদ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি।
সংক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কমিটিসহ স্থানীয় রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার সালাম রাঢ়ী এবং সাবুর নেতৃত্বে ৫ শতাধিক নেতাকর্মী এমপি সরোয়ারের বাসায় গেলেও তাদের কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে শেষে রাত সোয়া ১০টার দিকে সাক্ষাৎ না দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। জনপ্রতিনিধির এই রাজনীতিবিমুখ আচরণে কর্মী-সমর্থকেরা তিক্ত-বিরক্ত, এমনকি হতাশও হয়েছেন বটে।
অনুরূপ মন্তব্য করেছেন প্রবীণ রাজনৈতিক সাবেক চেয়ারম্যান সালাম রাঢ়ী এবং জিয়াউল ইসলাম সাবু। নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, একজন এমপির কাছ থেকে সাধারণ মানুষ বা কর্মীরা এমনটা আশা করেন না। মজিবর রহমান সরোয়ার যে কাজটি করেছেন বা করছেন তা নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ এবং অসন্তোস তৈরি হচ্ছে। তার বাসায় সরকারি কর্মকর্তা বা সাধারণ মানুষ গিয়ে ইজ্জত নিয়ে ফেরা দায় হয়ে পড়েছে।
এর আগে মাস দুয়েক আগে বরিশাল জেলাপর্যায়ের একজন সরকারি কর্মকর্তা এমপির সাথে বাসায় কথা বলতে গিয়ে ব্যাপক হেনস্থা হন। এমপি সরোয়ারের উপস্থিতিতে সেই কর্মকর্তাকে গালিগালাজ করাসহ বেইজ্জতি করেন রিয়াজ ওরফে ডিম রিয়াজ নামের জনৈক ব্যক্তি। তখন সেখানে বরিশাল মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হাসান মামুন এবং শ্রমিক দলনেতা আক্তারুজ্জামান সাব্বিরসহ বেশ কজন উপস্থিত থাকলেও কোনো প্রতিবাদ করা হয়নি। সেই ঘটনার সাক্ষী বরিশালের একজন সাংবাদিক। এমপির বাসার মন্দরমহলের এই নোংরা কীর্তিকলাপ শেষ পর্যন্ত আর চাপা থাকেনি। বরিশাল বিএনপির শীর্ষস্থানীয় সকল রাজনৈতিকেরা অবগত হন এবং দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, জনপ্রতিনিধিদের বাসায় গেলে বেইজ্জতি হওয়া নতুন কিছু নয়। আওয়ামী লীগের শাসনামলের গত ১৭ বছরেও একই ধরনের বহু উদাহরণ আছে। কিন্তু নিজের দলের ৪০০/৫০০ নেতাকর্মীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে সাক্ষাৎ না করা একধরনের রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়ার ইঙ্গিত বহন করছে। বরিশাল সদর আসনের মতো স্থানে কর্মী ধরে না রাখতে পারলে আগামীতে সরোয়ারকে এর মাশুল গুনতে হতে পারে।
সাক্ষাতে ব্যর্থ তৃণমূল ক্ষোভে ফুঁসছেন— এই প্রাসঙ্গিক বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান সরোয়ারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও অপরপ্রান্ত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। তবে ঘনিষ্ট বেশ কজন নামপ্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বুধবার যারা এমপির বাসায় দেখা করতে গিয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ সদর উপজেলা বিএনপির কমিটিতে থাকলেও সিটি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এবং তারা কিছুদিন পূর্বে নুরুল আমিন-আব্বাসের কমিটি বাতিল চেয়ে কর্মসূচি পালন করেছিলেন, সম্ভবত এই কারণে ক্ষোভে এমপি সরোয়ার তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেননি।
বরিশাল সদর আসনের এমপির বাসার মন্দরমহলে কতিপয় লোকের যে আধিপত্য চলে তা নিয়ে খোদ কর্মী-সমর্থকদের বেকায়দায় আছেন। একাধিক কর্মী অভিযোগ করে বলছেন, সাব্বির-ডিম রিয়াজদের দাপটের কারণে এমপি সরোয়ারের বাসায় যাওয়া এবং তার সাথে কোনো সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গুটিকয়েক লোক জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে রাখে, ফলে সেখানে গিয়ে কেউ ইজ্জত নিয়ে ফিরতে পারছে না।
বরিশাল সদরের এমপির বাসায় গেলে যে ইজ্জত যায়— তা শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতারাও স্বীকার করেন এবং এই বিষয়টি ইতিমধ্যে ঢাকায় হাইকমান্ডকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান।’
দীর্ঘ সময় বসে থেকেও মেলেনি বিএনপি নেতার সাক্ষাৎ, ক্ষোভে ফুঁসছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
বরিশাল সদর আসনের এমপি বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারের বাসায় গেলে ইজ্জত নিয়ে ফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনও খোদ সাংসদ তৃণমূল নেতাকর্মী ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে সাক্ষাৎ না দিয়ে বিদায় করছেন। আবার কখনও তার পালিত কজন রাজনৈতিক সহকর্মীর দ্বারা অপমান-অপদস্থ হতে হচ্ছে। এই জনপ্রতিনিধির বাসায় গিয়ে বহু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীও বেইজ্জতি হওয়ার উদাহরণ আছে। সার কথা হচ্ছে, বরিশাল-৫ আসনের এমপি বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা সরোয়ারের সাক্ষাৎ লাভের আশায় শহরের সাধুর বটতলায় তার বাসায় গেলে বেশির ভাগ মানুষকে বেইজ্জতি হতে হয়। এই বিষয়টি নিয়ে বরিশালের নেতৃত্বস্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এতদিন কানাঘুষা বা আলোচনা-সমালোচনা শোনা গেলেও বুধবার সদর উপজেলার ৪০০/৫০০ কর্মী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে সাক্ষাতে ব্যর্থ হলে তৃণমূলে ক্ষোভ ও অসন্তোস ছড়িয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, একজন রাজনৈতিক এমপি হলে তিনি সংসদীয় আসনের সকল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। এবং তার সাথে জনসাধারণে অবাধ যোগাযোগের সুযোগ থাকার কথা। কিন্তু জাতীয় সংসদের ১২৩ নং আসন অর্থাৎ বরিশাল সদরের চিত্র একদম ভিন্ন, যা মজিবর রহমান সরোয়ারের মতো অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যের কাছ থেকে জনগণ আশা করেনি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের মধ্যেকার বিরোধ এবং কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে। এমপি সরোয়ার অনুসারী সাবেক জামায়াত নেতা নুরুল আমিনকে আহ্বায়ক এবং সাইফুল ইসলাম আব্বাসকে সদস্যসচিব করে চলতি বছরের জুলাই মাসে ১৬১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করা হলে পদবঞ্চিত একটি বড় অংশ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে তারা বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে সরোয়ার নিয়ন্ত্রিত এই কমিটি বাতিল চেয়ে বিএনপির হাইকমাণ্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু প্রতাপশালী সরোয়ারের হস্তক্ষেপের কারণে এই অংশটি কমিটি ভাঙতে বা পদবঞ্চিতদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন। এনিয়ে তাদের মধ্যেকার প্রচন্ড রূপে ক্ষোভ এবং অভিমান আছে।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যার আগে অর্থাৎ ৫টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সালাম রাঢ়ী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউল ইসলাম সাবু, রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজ, চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের কাজী ফিরোজ, সদর উপজেলা বিএনপির আমিনুল ইসলাম পাখি, কবির মাঝি এবং রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪০০/৫০০ লোক এমপি সরোয়ারের সাধুর বটতলার বাসবভনে যান। তখন এমপি বাসার ভেতরে থাকায় তৃণমূলের এই অংশটি বাসার সামনে অপেক্ষা করছিলেন এবং তাদের আসার বিষয়টি সরোয়ারকে বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার অবহিত করেন। রাত গভীর হয়, কিন্তু এমপির আর দেখা মেলেনি।
এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজ। তৃণমূল বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে বরিশাল-৫ আসনে মজিবর রহমান সরোয়ারকে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই নিজের পছন্দসই বিতর্কিত ব্যক্তি-বিশেষকে স্থানীয় কমিটিগুলোর শীর্ষ পদে আনতে কাজ করছেন। বিশেষ করে সদর উপজেলা কমিটিতে সাবেক জামায়াত নেতা নুরুল আমিনসহ স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের লোকজনদের পদ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি।
সংক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কমিটিসহ স্থানীয় রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার সালাম রাঢ়ী এবং সাবুর নেতৃত্বে ৫ শতাধিক নেতাকর্মী এমপি সরোয়ারের বাসায় গেলেও তাদের কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে শেষে রাত সোয়া ১০টার দিকে সাক্ষাৎ না দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। জনপ্রতিনিধির এই রাজনীতিবিমুখ আচরণে কর্মী-সমর্থকেরা তিক্ত-বিরক্ত, এমনকি হতাশও হয়েছেন বটে।
অনুরূপ মন্তব্য করেছেন প্রবীণ রাজনৈতিক সাবেক চেয়ারম্যান সালাম রাঢ়ী এবং জিয়াউল ইসলাম সাবু। নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, একজন এমপির কাছ থেকে সাধারণ মানুষ বা কর্মীরা এমনটা আশা করেন না। মজিবর রহমান সরোয়ার যে কাজটি করেছেন বা করছেন তা নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ এবং অসন্তোস তৈরি হচ্ছে। তার বাসায় সরকারি কর্মকর্তা বা সাধারণ মানুষ গিয়ে ইজ্জত নিয়ে ফেরা দায় হয়ে পড়েছে।
এর আগে মাস দুয়েক আগে বরিশাল জেলাপর্যায়ের একজন সরকারি কর্মকর্তা এমপির সাথে বাসায় কথা বলতে গিয়ে ব্যাপক হেনস্থা হন। এমপি সরোয়ারের উপস্থিতিতে সেই কর্মকর্তাকে গালিগালাজ করাসহ বেইজ্জতি করেন রিয়াজ ওরফে ডিম রিয়াজ নামের জনৈক ব্যক্তি। তখন সেখানে বরিশাল মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হাসান মামুন এবং শ্রমিক দলনেতা আক্তারুজ্জামান সাব্বিরসহ বেশ কজন উপস্থিত থাকলেও কোনো প্রতিবাদ করা হয়নি। সেই ঘটনার সাক্ষী বরিশালের একজন সাংবাদিক। এমপির বাসার মন্দরমহলের এই নোংরা কীর্তিকলাপ শেষ পর্যন্ত আর চাপা থাকেনি। বরিশাল বিএনপির শীর্ষস্থানীয় সকল রাজনৈতিকেরা অবগত হন এবং দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, জনপ্রতিনিধিদের বাসায় গেলে বেইজ্জতি হওয়া নতুন কিছু নয়। আওয়ামী লীগের শাসনামলের গত ১৭ বছরেও একই ধরনের বহু উদাহরণ আছে। কিন্তু নিজের দলের ৪০০/৫০০ নেতাকর্মীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে সাক্ষাৎ না করা একধরনের রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়ার ইঙ্গিত বহন করছে। বরিশাল সদর আসনের মতো স্থানে কর্মী ধরে না রাখতে পারলে আগামীতে সরোয়ারকে এর মাশুল গুনতে হতে পারে।
সাক্ষাতে ব্যর্থ তৃণমূল ক্ষোভে ফুঁসছেন— এই প্রাসঙ্গিক বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান সরোয়ারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও অপরপ্রান্ত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। তবে ঘনিষ্ট বেশ কজন নামপ্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বুধবার যারা এমপির বাসায় দেখা করতে গিয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ সদর উপজেলা বিএনপির কমিটিতে থাকলেও সিটি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এবং তারা কিছুদিন পূর্বে নুরুল আমিন-আব্বাসের কমিটি বাতিল চেয়ে কর্মসূচি পালন করেছিলেন, সম্ভবত এই কারণে ক্ষোভে এমপি সরোয়ার তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেননি।
বরিশাল সদর আসনের এমপির বাসার মন্দরমহলে কতিপয় লোকের যে আধিপত্য চলে তা নিয়ে খোদ কর্মী-সমর্থকদের বেকায়দায় আছেন। একাধিক কর্মী অভিযোগ করে বলছেন, সাব্বির-ডিম রিয়াজদের দাপটের কারণে এমপি সরোয়ারের বাসায় যাওয়া এবং তার সাথে কোনো সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গুটিকয়েক লোক জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে রাখে, ফলে সেখানে গিয়ে কেউ ইজ্জত নিয়ে ফিরতে পারছে না।
বরিশাল সদরের এমপির বাসায় গেলে যে ইজ্জত যায়— তা শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতারাও স্বীকার করেন এবং এই বিষয়টি ইতিমধ্যে ঢাকায় হাইকমান্ডকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান।’

০৪ নভেম্বর, ২০২৫ ২২:২২
পটুয়াখালীতে দিন দিন বাড়ছে মামলার জট। দীর্ঘদিন ধরে বিচার না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন বিচারপ্রার্থীরা। জেলার বিভিন্ন আদালতে হাজার হাজার মামলা বছরের পর বছর ধরে বিচারাধীন অবস্থায় পড়ে আছে। বিচারক সংকটই এর মূল কারণ বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
বিচার প্রার্থীদের অভিযোগ, মামলার সাক্ষী উপস্থিত না থাকা, বাদীর অনুপস্থিতি, বিচারকের বদলি ও ছুটির কারণে বিচার কার্যক্রমে বিলম্ব ঘটছে। এতে বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকছে।
বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শংকর চন্দ্র ধুপি বলেন, ‘১৯৬১ সালে আমার বাবা ও দাদার বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলা হয় বরিশাল সাব-জজ দ্বিতীয় আদালতে। পরে মামলাটি একতরফা রায় ও ডিক্রি হয় বরিশাল জজ আদালতে। এরপর আমরা তা চ্যালেঞ্জ করে বর্তমানে পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে মামলা নম্বর ১৯৪/১৯৬১ হিসেবে লড়ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭৯ সালে আবার আমাদের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা হয়। সেটিও এখনো চলমান। দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে কোর্টের বারান্দায় সঠিক বিচারের দাবিতে ঘুরে বেড়াচ্ছি।’
তার মতো আরও অনেকেই বছরের পর বছর ধরে আদালতের দুয়ারে ঘুরছেন বিচার না পেয়ে। বারবার আদালতে আসা-যাওয়ায় খরচও বেড়েছে। ফলে আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
বারের সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মামলার সাক্ষী উপস্থিত কম এবং বিচারক সংকটের কারণে দিন দিন বেড়েই চলেছে মামলার জট।’
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন বলেন, ‘দিন দিন পটুয়াখালীতে মামলা বাড়ছে, কিন্তু বিচারিক আদালতের সংখ্যা বাড়ছে না। আদালতে বিচারক সংকট প্রকট। কোনো আদালতের বিচারক বদলি বা ছুটিতে গেলে মামলার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এতে মামলা জট আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
বর্তমানে পটুয়াখালী জেলার ২৯টি এজলাসের বিপরীতে বিচারক রয়েছেন মাত্র ২৬ জন। এর মধ্যে স্পেশাল জজ আদালত, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে কোনো বিচারক নেই বলে জানা গেছে।
বিচারক সংকট নিরসন এবং দ্রুত বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত না হলে পটুয়াখালীর আদালতগুলোতে মামলার জট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩৪
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩১
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৫
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৫৩