টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা জামে মসজিদের সাবেক খতিব ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বিদ্যুৎস্পর্শে মারা গেছেন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পক্ষ থেকে প্রথমে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে বিদ্যুৎস্পর্শের এ ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় বলে জানান তার জামাতা ডা. হিমেল।
ডা. হিমেল জানান, বুধবার রাতের কোনো এক সময়ে বিদ্যুৎস্পর্শে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বৃহস্পতিবার সকালে তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি ফসলি ক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকরাজান ইউনিয়নে। পরিবার নিয়ে তিনি ঘাটাইল পৌর কলেজ রোড এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন।
ইসলামী শিক্ষায় সুদক্ষ এই আলেম একাধারে একজন মুহাদ্দিস ও বিজ্ঞ ইসলামিক চিন্তাবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে সারারাত তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটির সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানান ডা. হিমেল।
কাকরাজান এলাকার স্থানীয়রা জানান, তার বসতবাড়ির পাশে নিজস্ব একটি ফসলি ক্ষেতে বিদ্যুৎ চালিত সেচযন্ত্রে তড়িতায়িত হয়ে বুধবার রাতের কোনো এক সময়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পরে বাড়ির পাশের ওই ক্ষেত থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের আকস্মিক মৃত্যুতে ঘাটাইলের আলেম সমাজ ও সচেতন মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং তার ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বিএনপিসহ বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক সংগঠন তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর কাকরাজান এলাকায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটি বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হলে তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন এবং সম্প্রতি এক সভায় ওই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসিরকে সমর্থন জানান।

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে সার মজুদ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে সার মজুদ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৮
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০২
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।

২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৪৫
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা জামে মসজিদের সাবেক খতিব ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বিদ্যুৎস্পর্শে মারা গেছেন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পক্ষ থেকে প্রথমে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে বিদ্যুৎস্পর্শের এ ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় বলে জানান তার জামাতা ডা. হিমেল।
ডা. হিমেল জানান, বুধবার রাতের কোনো এক সময়ে বিদ্যুৎস্পর্শে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বৃহস্পতিবার সকালে তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি ফসলি ক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকরাজান ইউনিয়নে। পরিবার নিয়ে তিনি ঘাটাইল পৌর কলেজ রোড এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন।
ইসলামী শিক্ষায় সুদক্ষ এই আলেম একাধারে একজন মুহাদ্দিস ও বিজ্ঞ ইসলামিক চিন্তাবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে সারারাত তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটির সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানান ডা. হিমেল।
কাকরাজান এলাকার স্থানীয়রা জানান, তার বসতবাড়ির পাশে নিজস্ব একটি ফসলি ক্ষেতে বিদ্যুৎ চালিত সেচযন্ত্রে তড়িতায়িত হয়ে বুধবার রাতের কোনো এক সময়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পরে বাড়ির পাশের ওই ক্ষেত থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের আকস্মিক মৃত্যুতে ঘাটাইলের আলেম সমাজ ও সচেতন মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং তার ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বিএনপিসহ বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক সংগঠন তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর কাকরাজান এলাকায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটি বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হলে তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন এবং সম্প্রতি এক সভায় ওই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসিরকে সমর্থন জানান।
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৩৪
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৬
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১