Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:৩৯
নেতৃত্বসারির নেতাদের সাথে আপসরফার গুঞ্জন, বিএনপির তৃণমূলে বাড়ছে ক্ষোভ।
বহু অঘটন পটিয়াসি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী গ্রেপ্তার এবং জনরোষের ভয়ে এলাকা ত্যাগ করলেও হঠাৎ করে তারা ফিরতে শুরু করেছেন। তাদের নামে জুলাই আন্দোলনের একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরছেন এবং গাড়িযোগে এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন। এনিয়ে জুলাই আন্দোলনকারীদের ভেতরকার প্রচন্ড ক্ষোভ আছে এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে খোদ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বকে দোষারোপ করা হচ্ছে। বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন লিটন লিটন মোল্লা শুক্রবার রাতে কোনো এক সময় গড়িয়ারপাড় এলাকায় গাড়ি নিয়ে কর্মী-সমর্থকসমেত মহড়া দেন এবং এর বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে পড়লে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। একাধিক মামলার আসামি হয়েও কাশিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিটন মোল্লা কি ভাবে এলাকায় প্রকাশ্যে মহড়া দিলেন তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানববন্দর থানা পুলিশকেও বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতার মহড়ার বিষয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ মিডিয়ায় দায়সাড়া বক্তব্য রাখলেও ইউনিয়নের তৃণমূল বিএনপিতে ক্ষোভ চরমাকারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের পদধারী একাধিক নেতা গত ১৬ বছর গোটা বরিশাল শহর দাপিয়ে বেরিয়েছেন এবং দলীয় ব্যানারে বিভিন্ন অপকর্ম করা ও বিএনপি-জামায়াতসহ সাধারণ মানুষকে নিপিড়ন করে বিতর্কের শীর্ষ আছেন তারা একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছেন। এনিয়ে তৃণমূল বিএনপিতে ক্ষোভ থাকলেও নেতৃত্বসারির নেতাদের রহস্যজনক নিরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অভিযোগ আছে, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ইস্যুতে এক ধরনের নমনীয়তা দেখাচ্ছেন। বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা কাশিপুরের চেয়ারম্যান লিটন মোল্লার ক্ষেত্রে পুলিশকে একটু বেশিমাত্রায় উদাসীন দেখা যাচ্ছে।
বিগত সময়ে মামলা-হামলার শিকার তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীর অভিযোগ, বরিশাল শহরের উত্তর-পশ্চিম গড়িয়ারপাড় এলাকায় লিটন মোল্লা এবং তার ভাই কালাম মোল্লা গত ১৭ বছর এক ধরনের শাসন-শোষণ করেছেন। তাদের ভুমিদস্যুতা-চাঁদাবাজি এবং অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বহু মানুষ হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু তাদের ক্ষমতার প্রভাবের কাছে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাননি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তারা দুই ভাইসহ বাহিনীর অপরাপর সদস্যরা জনরোষ এবং গ্রেপ্তার এড়াতে কিছুদিনের জন্য অন্তর্ধানে চলে যান। কিন্তু তারা পলাতক থাকলেও সরকারকে বিপদে ফেলতে বিভিন্ন মাধ্যম তৎপরতা অব্যাহত রাখেন।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত সন্ত্রাসী লিটনের ভাই বরিশাল সিটির ৩০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কালাম মোল্লা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় বলয়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের নিয়ে মশালমিছিল করে নিজের শক্তি জানান দিয়েছেন। সেই ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসন কজনকে গ্রেপ্তার করলেও কালাম মোল্লা এখনও পলাতক আছেন। এবার দীর্ঘ ১৮ মাস পরে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে আলোচনায় এসেছেন তারই আপন ভাই কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন মোল্লা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে লিটন মোল্লা একটি প্রাইভেটকারযোগে গড়িয়ারপাড়ে আসেন। এবং তার সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপও ছিল। তারা বেশ কিছুক্ষণ ৩০ নং ওয়ার্ডের গড়িয়ারপাড়ে অবস্থান নিয়ে ছিলেন এবং কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বিশেষ দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্যও রাখেন। এসময় সেখানে এক উত্তেজনাকর পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
আলোচিত সন্ত্রাসী লিটন মোল্লার এলাকায় উপস্থিতি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবগত না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তৃণমূল বিএনপি অভিযোগ করেছে, আলোচিত জল কাদের মোল্লার তিন সন্তান কালাম মোল্লা, লিটন মোল্লা এবং মুন্না মোল্লা সকলেই অতীতে আওয়ামী লীগ শাসনামলে বহুমুখী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। এবং জুলাই আন্দোলনে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়। এরপরে গণরোষ এবং পুলিশী হয়রানি এড়াতে তারা কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও ধীরে ধীরে বিএনপির নেতৃত্বসারির নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলতে সক্ষম হন। শোনা যাচ্ছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে তারা থানা পুলিশের সাথেও আপসরফা করেছেন, এই কারণে থানাসংলগ্ন তাদের বাসা হওয়া সত্ত্বেও পুলিশকে সেখানে অভিযান চালাতে দেখা যাচ্ছে না।
অবশ্য প্রতাপশালী এই পরিবারের সাথে যে বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমানের যোগাযোগের বিষয়টি শোনা যায়, তাও অমুলক বলছে না স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা। কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা বিএনপি কর্মী আবির আহমেদ রূপালী বাংলাদেশের কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে তাদের তিন ভাইয়ের সন্ত্রাসের ভয়ংকর রূপ কাশিপুর-বাবুগঞ্জসহ আশপাশের মানুষ কিছুটা হলেও দেখেছে। দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তারা একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়েও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মহড়া দিচ্ছে, যা আতঙ্ক-উদ্বেগের বটে।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এমন প্রত্যার্বতনে বিএনপির কর্মীরা তাদের দলের ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতৃত্বসারির নেতাদের দোষারোপ করেছেন। অনেকে বলছেন, নেতারা টাকার কাছে ম্যানেজ হয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, লোকবল এবং অর্থ দুটিতেই আওয়ামী লীগের নেতারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। ফলে তাদের সাথে ঝামেলা না করে বিএনপি নেতারা সমঝোতা বা আপসরফার পথ বেচে নিচ্ছেন।
তবে লিটন মোল্লা বা কোনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা এলাকায় মহড়া দেওয়ার বিষয়ে তেমন কিছু জানা নেই বলে দাবি করেছেন কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির ওয়াসিম। তার সাথে আপসরফার বিষয়টি অস্বীকার করে বলছেন, লিটন বা কালামের নামে একাধিক মামলা আছে, পুলিশ ইচ্ছা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
তাহলে কি পুলিশের নির্লুপ্তায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাহিনী নিয়ে মহড়া দেওয়ার সাহস বা শক্তি প্রদর্শন করছেন- এমন প্রশ্নে উত্তরে ওয়াসিম বলেন, এই বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারেন।
পুলিশের সাথে লিটন মোল্লার সখ্যতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, লিটন মোল্লা শুক্রবার রাতে গাড়িযোগে গড়িয়ারপাড়ে এসেছিলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি এর আগেই স্থান ত্যাগ করায় তাকে আর আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ, লিটন মোল্লা নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় ঘুরছেন এবং বাসায় রাত্রিযাপন করেন? এই প্রশ্নে ওসি মিজানুর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, নিষিদ্ধ কোনো গোষ্ঠীকে সক্রিয় হতে দেওয়ার সুযোগ নেই। মাঠপুলিশকে এমন নির্দেশনা দেওয়া আছে। এক্ষেত্রে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্যর যদি গাফলতি দেখা যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’
নেতৃত্বসারির নেতাদের সাথে আপসরফার গুঞ্জন, বিএনপির তৃণমূলে বাড়ছে ক্ষোভ।
বহু অঘটন পটিয়াসি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী গ্রেপ্তার এবং জনরোষের ভয়ে এলাকা ত্যাগ করলেও হঠাৎ করে তারা ফিরতে শুরু করেছেন। তাদের নামে জুলাই আন্দোলনের একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরছেন এবং গাড়িযোগে এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন। এনিয়ে জুলাই আন্দোলনকারীদের ভেতরকার প্রচন্ড ক্ষোভ আছে এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে খোদ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বকে দোষারোপ করা হচ্ছে। বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন লিটন লিটন মোল্লা শুক্রবার রাতে কোনো এক সময় গড়িয়ারপাড় এলাকায় গাড়ি নিয়ে কর্মী-সমর্থকসমেত মহড়া দেন এবং এর বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে পড়লে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। একাধিক মামলার আসামি হয়েও কাশিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিটন মোল্লা কি ভাবে এলাকায় প্রকাশ্যে মহড়া দিলেন তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানববন্দর থানা পুলিশকেও বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতার মহড়ার বিষয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ মিডিয়ায় দায়সাড়া বক্তব্য রাখলেও ইউনিয়নের তৃণমূল বিএনপিতে ক্ষোভ চরমাকারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের পদধারী একাধিক নেতা গত ১৬ বছর গোটা বরিশাল শহর দাপিয়ে বেরিয়েছেন এবং দলীয় ব্যানারে বিভিন্ন অপকর্ম করা ও বিএনপি-জামায়াতসহ সাধারণ মানুষকে নিপিড়ন করে বিতর্কের শীর্ষ আছেন তারা একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছেন। এনিয়ে তৃণমূল বিএনপিতে ক্ষোভ থাকলেও নেতৃত্বসারির নেতাদের রহস্যজনক নিরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অভিযোগ আছে, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ইস্যুতে এক ধরনের নমনীয়তা দেখাচ্ছেন। বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা কাশিপুরের চেয়ারম্যান লিটন মোল্লার ক্ষেত্রে পুলিশকে একটু বেশিমাত্রায় উদাসীন দেখা যাচ্ছে।
বিগত সময়ে মামলা-হামলার শিকার তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীর অভিযোগ, বরিশাল শহরের উত্তর-পশ্চিম গড়িয়ারপাড় এলাকায় লিটন মোল্লা এবং তার ভাই কালাম মোল্লা গত ১৭ বছর এক ধরনের শাসন-শোষণ করেছেন। তাদের ভুমিদস্যুতা-চাঁদাবাজি এবং অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বহু মানুষ হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু তাদের ক্ষমতার প্রভাবের কাছে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাননি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তারা দুই ভাইসহ বাহিনীর অপরাপর সদস্যরা জনরোষ এবং গ্রেপ্তার এড়াতে কিছুদিনের জন্য অন্তর্ধানে চলে যান। কিন্তু তারা পলাতক থাকলেও সরকারকে বিপদে ফেলতে বিভিন্ন মাধ্যম তৎপরতা অব্যাহত রাখেন।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত সন্ত্রাসী লিটনের ভাই বরিশাল সিটির ৩০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কালাম মোল্লা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় বলয়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের নিয়ে মশালমিছিল করে নিজের শক্তি জানান দিয়েছেন। সেই ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসন কজনকে গ্রেপ্তার করলেও কালাম মোল্লা এখনও পলাতক আছেন। এবার দীর্ঘ ১৮ মাস পরে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে আলোচনায় এসেছেন তারই আপন ভাই কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন মোল্লা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে লিটন মোল্লা একটি প্রাইভেটকারযোগে গড়িয়ারপাড়ে আসেন। এবং তার সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপও ছিল। তারা বেশ কিছুক্ষণ ৩০ নং ওয়ার্ডের গড়িয়ারপাড়ে অবস্থান নিয়ে ছিলেন এবং কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বিশেষ দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্যও রাখেন। এসময় সেখানে এক উত্তেজনাকর পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
আলোচিত সন্ত্রাসী লিটন মোল্লার এলাকায় উপস্থিতি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবগত না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তৃণমূল বিএনপি অভিযোগ করেছে, আলোচিত জল কাদের মোল্লার তিন সন্তান কালাম মোল্লা, লিটন মোল্লা এবং মুন্না মোল্লা সকলেই অতীতে আওয়ামী লীগ শাসনামলে বহুমুখী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। এবং জুলাই আন্দোলনে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়। এরপরে গণরোষ এবং পুলিশী হয়রানি এড়াতে তারা কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও ধীরে ধীরে বিএনপির নেতৃত্বসারির নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলতে সক্ষম হন। শোনা যাচ্ছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে তারা থানা পুলিশের সাথেও আপসরফা করেছেন, এই কারণে থানাসংলগ্ন তাদের বাসা হওয়া সত্ত্বেও পুলিশকে সেখানে অভিযান চালাতে দেখা যাচ্ছে না।
অবশ্য প্রতাপশালী এই পরিবারের সাথে যে বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমানের যোগাযোগের বিষয়টি শোনা যায়, তাও অমুলক বলছে না স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা। কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা বিএনপি কর্মী আবির আহমেদ রূপালী বাংলাদেশের কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে তাদের তিন ভাইয়ের সন্ত্রাসের ভয়ংকর রূপ কাশিপুর-বাবুগঞ্জসহ আশপাশের মানুষ কিছুটা হলেও দেখেছে। দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তারা একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়েও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মহড়া দিচ্ছে, যা আতঙ্ক-উদ্বেগের বটে।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এমন প্রত্যার্বতনে বিএনপির কর্মীরা তাদের দলের ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতৃত্বসারির নেতাদের দোষারোপ করেছেন। অনেকে বলছেন, নেতারা টাকার কাছে ম্যানেজ হয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, লোকবল এবং অর্থ দুটিতেই আওয়ামী লীগের নেতারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। ফলে তাদের সাথে ঝামেলা না করে বিএনপি নেতারা সমঝোতা বা আপসরফার পথ বেচে নিচ্ছেন।
তবে লিটন মোল্লা বা কোনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা এলাকায় মহড়া দেওয়ার বিষয়ে তেমন কিছু জানা নেই বলে দাবি করেছেন কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির ওয়াসিম। তার সাথে আপসরফার বিষয়টি অস্বীকার করে বলছেন, লিটন বা কালামের নামে একাধিক মামলা আছে, পুলিশ ইচ্ছা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
তাহলে কি পুলিশের নির্লুপ্তায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাহিনী নিয়ে মহড়া দেওয়ার সাহস বা শক্তি প্রদর্শন করছেন- এমন প্রশ্নে উত্তরে ওয়াসিম বলেন, এই বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারেন।
পুলিশের সাথে লিটন মোল্লার সখ্যতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, লিটন মোল্লা শুক্রবার রাতে গাড়িযোগে গড়িয়ারপাড়ে এসেছিলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি এর আগেই স্থান ত্যাগ করায় তাকে আর আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ, লিটন মোল্লা নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় ঘুরছেন এবং বাসায় রাত্রিযাপন করেন? এই প্রশ্নে ওসি মিজানুর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, নিষিদ্ধ কোনো গোষ্ঠীকে সক্রিয় হতে দেওয়ার সুযোগ নেই। মাঠপুলিশকে এমন নির্দেশনা দেওয়া আছে। এক্ষেত্রে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্যর যদি গাফলতি দেখা যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’

২৫ মে, ২০২৬ ২৩:৫৭
বরিশালের হিজলায় ঝড়ে নৌকাডুবিতে বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় এক দুর্ঘটনায় তাঁরা নিখোঁজ হন। আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটে যাওয়ার সময় আটজন যাত্রী, জেলে কার্ডের ৫০০ কেজি চালসহ একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।
এ সময় জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও ৩ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার রাতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে হিজলা ফায়ার সার্ভিস, থানা ও নৌ পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালায়। হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার ধুলখোলা গ্রামের জাফর জোমাদ্দারের ছেলে নুর ইসলাম জোমাদ্দার (৪৫), নুর ইসলাম জোমাদ্দারের ছেলে মো. ইব্রাহিম (১২) এবং হামিদ বিশ্বাসের ছেলে মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫)।
হিজলা নৌ পুলিশ জানায়, আজ বিকেলে জেলে কার্ডের সরকারি ৫০০ কেজি চাল নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। নৌকাটিতে চালের পাশাপাশি আটজন যাত্রীও ছিল। নৌকাটি হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে।
বাতাসের তীব্রতা ও ঢেউয়ের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়। নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পরপরই কাছাকাছি থাকা স্থানীয় জেলেরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে নদী থেকে পাঁচজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করলেও তিনজন নিখোঁজ হয়। সংবাদ পেয়ে হিজলা থানা-পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং হিজলা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান শুরু করে।
হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় প্রশাসনের উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।’

২৫ মে, ২০২৬ ২১:১২
কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ‘ত্রিশ গোডাউন’ এলাকায় ট্রলার মাঝিদের সিন্ডিকেট ও পর্যটক হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ‘জাস্টিস অব দ্যা পিস’ এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ।
ভ্রমণপিপাসুদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং দুর্ব্যবহারের বিষয়টি এই বিচারকের নজরে এলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পর্যটকদের এভাবে ঠকানো স্পষ্টত ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন’ এর চরম লঙ্ঘন।
শুধু আদেশই দেননি, সংশ্লিষ্টদের ডেকে সতর্ক করেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারকের নির্দেশের পরই বদলে গেছে ত্রিশ গোডাউন ঘাটের চিত্র। এখন নৌকাঘাটেই শোভা পাচ্ছে নির্ধারিত ভাড়ার মূল্যতালিকা।
ত্রিশ গোডাউনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সাদ্দাম কিবরিয়া বলেন, 'আগে মাঝিরা মুখ দেখে ভাড়া চাইত। প্রতিবাদ করলে দল বেঁধে এসে অপমান করত। ঘাটে ভাড়ার তালিকা দেখে স্বস্তি লাগছে।'
পরিবার নিয়ে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন বলেন বলেন, 'আগে এখানে এসে মাঝিদের সাথে দরদাম করতে গিয়ে মেজাজটাই খারাপ হয়ে যেত। কোনো দরাদরি নেই, তালিকায় যা লেখা, তা-ই দিচ্ছি।'
বিচারক এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ’র এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বরিশালের স্থানীয় সুশীল সমাজ ও পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, পর্যটন নগরী হিসেবে বরিশালের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের আইন কানুন অনেক আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে তার প্রয়োগ দেখা যায় খুব কম। একজন ম্যাজিস্ট্রেট যখন নিজের স্ব-প্রণোদিত ক্ষমতায় নৈরাজ্য থামান, তখন আইনের প্রতি মানুষের আস্থা শতগুণ বেড়ে যায়। বরিশালের অন্যান্য সেক্টরেও এমন দৃশ্যমান তদারকি চলুক।'

২৫ মে, ২০২৬ ২১:০৬
বরিশালে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোট ১ হাজার ৩৭৮ জন কর্মীকে এ উপহার দেওয়া হয়।
সোমবার (২৫ মে) বিকেলে বরিশাল নগর ভবনের নগর মিলনায়তনে (অডিটোরিয়াম) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব উপহার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
তিনি বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাদের এ পরিশ্রমের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এই উপহার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এবং কর্মীদের কল্যাণে বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, সাবেক কাউন্সিলর আলতাফ মাহমুদ সিকদার, শাহ্ আমিনুল ইসলাম আমিন, হাবিবুর রহমান টিপুসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বরিশালের হিজলায় ঝড়ে নৌকাডুবিতে বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় এক দুর্ঘটনায় তাঁরা নিখোঁজ হন। আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটে যাওয়ার সময় আটজন যাত্রী, জেলে কার্ডের ৫০০ কেজি চালসহ একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।
এ সময় জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও ৩ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার রাতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে হিজলা ফায়ার সার্ভিস, থানা ও নৌ পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালায়। হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার ধুলখোলা গ্রামের জাফর জোমাদ্দারের ছেলে নুর ইসলাম জোমাদ্দার (৪৫), নুর ইসলাম জোমাদ্দারের ছেলে মো. ইব্রাহিম (১২) এবং হামিদ বিশ্বাসের ছেলে মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫)।
হিজলা নৌ পুলিশ জানায়, আজ বিকেলে জেলে কার্ডের সরকারি ৫০০ কেজি চাল নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। নৌকাটিতে চালের পাশাপাশি আটজন যাত্রীও ছিল। নৌকাটি হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে।
বাতাসের তীব্রতা ও ঢেউয়ের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়। নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পরপরই কাছাকাছি থাকা স্থানীয় জেলেরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে নদী থেকে পাঁচজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করলেও তিনজন নিখোঁজ হয়। সংবাদ পেয়ে হিজলা থানা-পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং হিজলা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান শুরু করে।
হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় প্রশাসনের উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।’
কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ‘ত্রিশ গোডাউন’ এলাকায় ট্রলার মাঝিদের সিন্ডিকেট ও পর্যটক হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ‘জাস্টিস অব দ্যা পিস’ এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ।
ভ্রমণপিপাসুদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং দুর্ব্যবহারের বিষয়টি এই বিচারকের নজরে এলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পর্যটকদের এভাবে ঠকানো স্পষ্টত ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন’ এর চরম লঙ্ঘন।
শুধু আদেশই দেননি, সংশ্লিষ্টদের ডেকে সতর্ক করেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারকের নির্দেশের পরই বদলে গেছে ত্রিশ গোডাউন ঘাটের চিত্র। এখন নৌকাঘাটেই শোভা পাচ্ছে নির্ধারিত ভাড়ার মূল্যতালিকা।
ত্রিশ গোডাউনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সাদ্দাম কিবরিয়া বলেন, 'আগে মাঝিরা মুখ দেখে ভাড়া চাইত। প্রতিবাদ করলে দল বেঁধে এসে অপমান করত। ঘাটে ভাড়ার তালিকা দেখে স্বস্তি লাগছে।'
পরিবার নিয়ে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন বলেন বলেন, 'আগে এখানে এসে মাঝিদের সাথে দরদাম করতে গিয়ে মেজাজটাই খারাপ হয়ে যেত। কোনো দরাদরি নেই, তালিকায় যা লেখা, তা-ই দিচ্ছি।'
বিচারক এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ’র এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বরিশালের স্থানীয় সুশীল সমাজ ও পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, পর্যটন নগরী হিসেবে বরিশালের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের আইন কানুন অনেক আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে তার প্রয়োগ দেখা যায় খুব কম। একজন ম্যাজিস্ট্রেট যখন নিজের স্ব-প্রণোদিত ক্ষমতায় নৈরাজ্য থামান, তখন আইনের প্রতি মানুষের আস্থা শতগুণ বেড়ে যায়। বরিশালের অন্যান্য সেক্টরেও এমন দৃশ্যমান তদারকি চলুক।'
বরিশালে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোট ১ হাজার ৩৭৮ জন কর্মীকে এ উপহার দেওয়া হয়।
সোমবার (২৫ মে) বিকেলে বরিশাল নগর ভবনের নগর মিলনায়তনে (অডিটোরিয়াম) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব উপহার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
তিনি বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাদের এ পরিশ্রমের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এই উপহার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এবং কর্মীদের কল্যাণে বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, সাবেক কাউন্সিলর আলতাফ মাহমুদ সিকদার, শাহ্ আমিনুল ইসলাম আমিন, হাবিবুর রহমান টিপুসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।