ছবি- সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী তারেক রহমানের নির্বাচনে ব্যয় হয়েছে ২৩ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রোববার (২৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে ব্যয়ের হিসাব জমা দেন। সোমবার (৩০ মার্চ) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ইসি সচিবালয়ে জমা দেওয়া রিটার্নে উল্লেখিত ব্যয়ের খাত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রচার-প্রচারণায় ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া পরিবহন বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, জনসভা আয়োজনের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং নির্বাচনী ক্যাম্প পরিচালনায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
রিটার্ন অনুযায়ী, নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ খরচ হয়েছে এজেন্ট ও অন্যান্য স্টাফ খাতে, যার পরিমাণ ৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এছাড়া আবাসন ও প্রশাসনিক খাতে ৬৬ হাজার টাকা এবং বর্তমান সময়ের ডিজিটাল প্রচারণার অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।
উল্লেখ্য, ঢাকা-১৭ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৭ জন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ অনুযায়ী, নির্বাচনে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা অথবা ভোটারপ্রতি ১০ টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে পারবেন। তারেক রহমানের ব্যয় নির্ধারিত এই সীমার মধ্যেই রয়েছে।
আইনি বাধ্যবাধকতা আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থীর নাম গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব (ফরম-২২) দাখিল করা বাধ্যতামূলক। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ অনুসারে নির্ধারিত ফরমে হলফনামাসহ এই রিটার্ন জমা দিতে হয় এবং এর অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে হয়। নির্ধারিত সময়ে হিসাব জমা না দিলে জেল-জরিমানাসহ প্রার্থীর সদস্যপদ বাতিলেরও বিধান রয়েছে।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪৯
নড়াইল জেলা আদালতে মামলার হাজিরা দিতে এসে দেশীয় অস্ত্রসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালত চত্বরের একটি আইনজীবীর চেম্বার থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, মারামারির মামলায় হাজিরা দিতে এসে তারা চেম্বারে অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে রামদা, চাপাতি ও দাসহ ১২টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
নড়াইল সদর থানার ওসি রাসেল সরোয়ার জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আদালতে অস্ত্র নিয়ে আসার কারণও তদন্ত করা হচ্ছে।
নড়াইল জেলা আদালতে মামলার হাজিরা দিতে এসে দেশীয় অস্ত্রসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালত চত্বরের একটি আইনজীবীর চেম্বার থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, মারামারির মামলায় হাজিরা দিতে এসে তারা চেম্বারে অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে রামদা, চাপাতি ও দাসহ ১২টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
নড়াইল সদর থানার ওসি রাসেল সরোয়ার জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আদালতে অস্ত্র নিয়ে আসার কারণও তদন্ত করা হচ্ছে।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫৪
সেনবাগে আ.লীগ সমর্থকের বাড়িতে ভূরিভোজ, ওসি প্রত্যাহার
নোয়াখালীর সেনবাগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক সমর্থকের বাড়িতে দাওয়াতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাতানিয়া গ্রামের চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শাহজাহান খোকনের বাড়িতে আয়োজিত ভূরিভোজে ওসি আবদুর রহিম সরকার অংশ নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এর মধ্যে শুক্রবার রাতে কাবিলপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের ঘটনাতেও ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই ঘটনায় শনিবার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ওসিকে প্রত্যাহারের পর তিনি থানা থেকে চলে যান। বর্তমানে তিনিই থানার দায়িত্ব পালন করছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার বলেন, একজনের বাড়িতে গিয়ে দাওয়াত খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসি আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।
সেনবাগে আ.লীগ সমর্থকের বাড়িতে ভূরিভোজ, ওসি প্রত্যাহার
নোয়াখালীর সেনবাগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক সমর্থকের বাড়িতে দাওয়াতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাতানিয়া গ্রামের চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শাহজাহান খোকনের বাড়িতে আয়োজিত ভূরিভোজে ওসি আবদুর রহিম সরকার অংশ নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এর মধ্যে শুক্রবার রাতে কাবিলপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের ঘটনাতেও ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই ঘটনায় শনিবার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ওসিকে প্রত্যাহারের পর তিনি থানা থেকে চলে যান। বর্তমানে তিনিই থানার দায়িত্ব পালন করছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার বলেন, একজনের বাড়িতে গিয়ে দাওয়াত খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসি আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:১৬
খুলনা নগরের একটি ছাত্রাবাসে ‘ভাত চুরি করে খাওয়ার’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে আজমুল হোসেন (২১) নামে এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার গভীর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ইসলাম নগর রোডের একটি চারতলা ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, ঘটনাটি নিয়ে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আজমুলের বাবা মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চারতলা ভবনটি পুরোপুরি ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র থাকেন। প্রায় এক বছর আগে আজমুল চারতলার ডি-৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। একই তলায় ডি-২ নম্বর কক্ষে থাকেন মেসের ম্যানেজার ও গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মেহেদী।
মেসের ছাত্রদের কাছ থেকে স্থানীয়রা জানতে পারেন, শুক্রবার রাতে মেহেদীর রান্না করা ভাত আজমুল খেয়ে ফেলেন। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে মেহেদীসহ মেসের কয়েকজন ছাত্র ও বাইরে থেকে আসা কয়েকজন ব্যক্তি আজমুলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
রাত পৌনে ১টার দিকে আশপাশের বাসিন্দারা ছাদ থেকে কিছু পড়ে যাওয়ার মতো জোরে শব্দ শুনতে পান। পরে গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মেসের কয়েকজন ছাত্র তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর দুই পা ভাঙা ছিল। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মেসের ছাত্ররা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে দ্রুত চলে যান বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মেসের বুয়া ফাতেমা বলেন, আজমুলের বিরুদ্ধে এর আগেও টাকা ও ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ উঠেছিল। তবে শুক্রবার রাতে ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে মেসের ছাত্র ও বহিরাগত কয়েকজন তাকে মারধর করেন। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা তাঁর কথা শোনেননি বলে জানান তিনি।
পাশের ভবনের এক নারী বাসিন্দা বলেন, রাত পৌনে ১টার দিকে তিনি জোরে একটি শব্দ শুনে দরজা খুলে বাইরে আসেন। তখন বাড়ির সামনের গলিতে একজন তরুণকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে মেসের ছাত্ররা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন বলেন, প্রায় এক বছর আগে পড়াশোনার জন্য আজমুল বাড়ি থেকে খুলনায় আসেন। ২০২৫ সালে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি তিনি। মাত্র ১০ দিন আগে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন আজমুল।
কুতুব উদ্দিন জানান, শুক্রবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আজমুল খুলনায় পৌঁছান। রাত ৯টার দিকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন আজমুল বলেছিলেন, তিনি ভালো আছেন এবং তাঁকে নিয়ে চিন্তা না করতে।
নিহতের বাবা আরও অভিযোগ করেন, রাত ১২টার পর আজমুলের মোবাইল ফোন থেকে অন্য একজন তাঁকে কল করেন। ওই ব্যক্তি তাঁর ছেলেকে পেতে দ্রুত এক লাখ টাকা নিয়ে খুলনায় আসতে বলেন। টাকা না আনলে ছেলেকে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
কুতুব উদ্দিন বলেন, তিনি কৃষিকাজ করেন এবং এত টাকা তাঁর পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয় বলে জানালে ওই ব্যক্তি তাঁকে দ্রুত খুলনায় আসতে বলেন। পরে সকালে খুলনায় এসে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ছেলে আর বেঁচে নেই।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে ঘটেছে। ফলে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি কোনো এখতিয়ার নেই। তবে ঘটনা জানার পর থেকে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খুলনা নগরের একটি ছাত্রাবাসে ‘ভাত চুরি করে খাওয়ার’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে আজমুল হোসেন (২১) নামে এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার গভীর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ইসলাম নগর রোডের একটি চারতলা ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, ঘটনাটি নিয়ে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আজমুলের বাবা মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চারতলা ভবনটি পুরোপুরি ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র থাকেন। প্রায় এক বছর আগে আজমুল চারতলার ডি-৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। একই তলায় ডি-২ নম্বর কক্ষে থাকেন মেসের ম্যানেজার ও গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মেহেদী।
মেসের ছাত্রদের কাছ থেকে স্থানীয়রা জানতে পারেন, শুক্রবার রাতে মেহেদীর রান্না করা ভাত আজমুল খেয়ে ফেলেন। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে মেহেদীসহ মেসের কয়েকজন ছাত্র ও বাইরে থেকে আসা কয়েকজন ব্যক্তি আজমুলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
রাত পৌনে ১টার দিকে আশপাশের বাসিন্দারা ছাদ থেকে কিছু পড়ে যাওয়ার মতো জোরে শব্দ শুনতে পান। পরে গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মেসের কয়েকজন ছাত্র তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর দুই পা ভাঙা ছিল। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মেসের ছাত্ররা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে দ্রুত চলে যান বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মেসের বুয়া ফাতেমা বলেন, আজমুলের বিরুদ্ধে এর আগেও টাকা ও ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ উঠেছিল। তবে শুক্রবার রাতে ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে মেসের ছাত্র ও বহিরাগত কয়েকজন তাকে মারধর করেন। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা তাঁর কথা শোনেননি বলে জানান তিনি।
পাশের ভবনের এক নারী বাসিন্দা বলেন, রাত পৌনে ১টার দিকে তিনি জোরে একটি শব্দ শুনে দরজা খুলে বাইরে আসেন। তখন বাড়ির সামনের গলিতে একজন তরুণকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে মেসের ছাত্ররা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন বলেন, প্রায় এক বছর আগে পড়াশোনার জন্য আজমুল বাড়ি থেকে খুলনায় আসেন। ২০২৫ সালে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি তিনি। মাত্র ১০ দিন আগে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন আজমুল।
কুতুব উদ্দিন জানান, শুক্রবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আজমুল খুলনায় পৌঁছান। রাত ৯টার দিকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন আজমুল বলেছিলেন, তিনি ভালো আছেন এবং তাঁকে নিয়ে চিন্তা না করতে।
নিহতের বাবা আরও অভিযোগ করেন, রাত ১২টার পর আজমুলের মোবাইল ফোন থেকে অন্য একজন তাঁকে কল করেন। ওই ব্যক্তি তাঁর ছেলেকে পেতে দ্রুত এক লাখ টাকা নিয়ে খুলনায় আসতে বলেন। টাকা না আনলে ছেলেকে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
কুতুব উদ্দিন বলেন, তিনি কৃষিকাজ করেন এবং এত টাকা তাঁর পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয় বলে জানালে ওই ব্যক্তি তাঁকে দ্রুত খুলনায় আসতে বলেন। পরে সকালে খুলনায় এসে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ছেলে আর বেঁচে নেই।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে ঘটেছে। ফলে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি কোনো এখতিয়ার নেই। তবে ঘটনা জানার পর থেকে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

৩০ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী তারেক রহমানের নির্বাচনে ব্যয় হয়েছে ২৩ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রোববার (২৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে ব্যয়ের হিসাব জমা দেন। সোমবার (৩০ মার্চ) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ইসি সচিবালয়ে জমা দেওয়া রিটার্নে উল্লেখিত ব্যয়ের খাত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রচার-প্রচারণায় ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া পরিবহন বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, জনসভা আয়োজনের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং নির্বাচনী ক্যাম্প পরিচালনায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
রিটার্ন অনুযায়ী, নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ খরচ হয়েছে এজেন্ট ও অন্যান্য স্টাফ খাতে, যার পরিমাণ ৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এছাড়া আবাসন ও প্রশাসনিক খাতে ৬৬ হাজার টাকা এবং বর্তমান সময়ের ডিজিটাল প্রচারণার অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।
উল্লেখ্য, ঢাকা-১৭ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৭ জন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ অনুযায়ী, নির্বাচনে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা অথবা ভোটারপ্রতি ১০ টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে পারবেন। তারেক রহমানের ব্যয় নির্ধারিত এই সীমার মধ্যেই রয়েছে।
আইনি বাধ্যবাধকতা আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থীর নাম গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব (ফরম-২২) দাখিল করা বাধ্যতামূলক। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ অনুসারে নির্ধারিত ফরমে হলফনামাসহ এই রিটার্ন জমা দিতে হয় এবং এর অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে হয়। নির্ধারিত সময়ে হিসাব জমা না দিলে জেল-জরিমানাসহ প্রার্থীর সদস্যপদ বাতিলেরও বিধান রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১১
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৪
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৪