প্যান্ডেল ঘেরা বাড়িতে চলছিল বাল্যবিয়ের আয়োজন। বাজছিল বিয়ের গান। কেউ কেউ টেবিলে বসে ভোজও সারছিলেন। অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া ইতি খাতুনকে ঘটা করে বিয়ে করতে এসেছিলেন বরও। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অভিযানে মুহূর্তেই বদলে যায় বিয়েবাড়ির সেই চিত্র।
বাল্যবিয়ে করতে আসার অপরাধে বর বাহারুল ইসলামকে (২৫) দুই মাসের জেল দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ। একই সঙ্গে বরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর নতুনপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করা হয়। শিক্ষার্থী ইতি খাতুন ওই গ্রামের শামসুল হকের মেয়ে।
নাজিরপুর উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইতি খাতুনকে বুধবার (০১ অক্টোবর) বিয়ের সাজে সাজানো হয়েছিল। বাল্যবিয়ের কবল থেকে রক্ষা পেয়ে ইতি জানায়, অনেক দূর পর্যন্ত লেখা-পড়ার ইচ্ছে আমার।
কিন্তু পিতামাতা আর প্রতিবেশীর চাপে পড়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছিল। সময় মতো এসে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করায় ইউএনওর প্রতি কৃতজ্ঞতা। এখন আবার বিদ্যালয়ে যেতে পারব, সহপাঠীদের সঙ্গে খেলা করতে পারব ভেবে আনন্দ হচ্ছে।
বাল্যবিয়ে করতে আসা বর বাহারুল ইসলাম গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের নবির উদ্দিনের ছেলে। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। মেয়ে দেখতে ভালো হওয়ায় দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব আলী।
তিনি বলেন, ‘বার বার বাধা নিষেধ করলেও কন্যার পিতা সামসুল তা মানেননি।’ নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, দূরন্ত ও চঞ্চল প্রকৃতির মেয়ে ইতি শিক্ষার্থী হিসেবে খুব ভালো। শুধু পড়াশোনা নয়, খেলাধুলাতেও পারদর্শী। অথচ খেলাপড়া বন্ধ করে জোর করে বিয়ে দিচ্ছিল পরিবারের লোকজন।
শিক্ষক হিসেবে তিনি বাল্য বিয়েটি বন্ধের জন্য চেষ্টা করেছেন। বিয়ে বন্ধ করে বরের জেল-জরিমানায় তিনিও খুশি। বরের জেল-জরিমানার বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আলোচনা করা হবে। যাতে বাল্যবিয়ের সম্পর্কে জেনে নারী শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে আরও সাহসী হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ে বাড়িতে অভিযান চালান তিনি। এ সময় বরকে হাতেনাতে ধরা হয়। বাল্যবিয়ের শাস্তি হিসেবে ২ মাসের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে মেয়ের পরিবারকেও।
তিনি বলেন, বাল্যবিয়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে অল্প বয়সে মা হওয়া। মা হতে গিয়ে অনেক সময় জরায়ু ছিঁড়ে যাওয়াসহ জরায়ুতে ক্যানসারের আশঙ্কা থাকে। জেনে না জেনে কিশোরীদেরকে ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে পরিবারগুলো।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও এর কুফল নিয়ে বিদ্যালয়গুলোতে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করবেন তিনি। কিশোরীরা নিজের বাল্যবিয়ে রোধ করলে পুরস্কারও দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৯
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুদিন পর একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বৈদ্যার বাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো হলো—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া এবং শিশু ছেলে সামিন।
স্থানীয় ও উদ্ধারকারী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমন্দী এলাকা থেকে সোনারগাঁয়ের মায়াময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গরু-ছাগলসহ ১৩ জন ট্রলারে করে রওনা দেন। বৈদ্যার বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পথে মেঘনা নদীর মাঝখানে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। একপর্যায়ে ট্রলারটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়।
এ সময় ৮ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে রাশিদা নামে একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর একই পরিবারের চারজন—হেলাল উদ্দিন, তার ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া ও শিশু ছেলে সামিন—নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে সজিব, সামিয়া ও সামিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হেলাল উদ্দিন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুদিন পর একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বৈদ্যার বাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো হলো—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া এবং শিশু ছেলে সামিন।
স্থানীয় ও উদ্ধারকারী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমন্দী এলাকা থেকে সোনারগাঁয়ের মায়াময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গরু-ছাগলসহ ১৩ জন ট্রলারে করে রওনা দেন। বৈদ্যার বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পথে মেঘনা নদীর মাঝখানে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। একপর্যায়ে ট্রলারটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়।
এ সময় ৮ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে রাশিদা নামে একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর একই পরিবারের চারজন—হেলাল উদ্দিন, তার ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া ও শিশু ছেলে সামিন—নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে সজিব, সামিয়া ও সামিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হেলাল উদ্দিন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১২
মাদারীপুরের শিবচরসংলগ্ন ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দুই বাসের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শিবচরের পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ যাত্রী। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার অপরাহ্ণে খুলনা থেকে যাত্রী নিয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল পালকি পরিবহনের একটি বাস। স্থানীয় পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি এলাকায় বাসটির চাকা বিকল হয়ে গেলে সেটি সড়কের পাশে থামানো হয়। এ সময় বরিশাল থেকে আসা দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে পালকি পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে পালকি পরিবহনের চালকের সহকারী এবং হানিফ পরিবহনের দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
দুর্ঘটনার পর রাজধানী ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিবচর হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আবু জাফর সরদার সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। চাকা পাংচার হয়ে গেলে পালকি পরিবহনের বাসটি এক্সপ্রেসওয়েতে থামিয়ে রাখা হয়। এ সময় দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাস সামনের বিকল বাসটিকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
শিবচর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মুনতাসির রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি এবং মরদেহ উদ্ধার করি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।’
মাদারীপুরের শিবচরসংলগ্ন ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দুই বাসের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শিবচরের পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ যাত্রী। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার অপরাহ্ণে খুলনা থেকে যাত্রী নিয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল পালকি পরিবহনের একটি বাস। স্থানীয় পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি এলাকায় বাসটির চাকা বিকল হয়ে গেলে সেটি সড়কের পাশে থামানো হয়। এ সময় বরিশাল থেকে আসা দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে পালকি পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে পালকি পরিবহনের চালকের সহকারী এবং হানিফ পরিবহনের দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
দুর্ঘটনার পর রাজধানী ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিবচর হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আবু জাফর সরদার সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। চাকা পাংচার হয়ে গেলে পালকি পরিবহনের বাসটি এক্সপ্রেসওয়েতে থামিয়ে রাখা হয়। এ সময় দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাস সামনের বিকল বাসটিকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
শিবচর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মুনতাসির রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি এবং মরদেহ উদ্ধার করি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।’

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

০২ অক্টোবর, ২০২৫ ১৪:০৭
প্যান্ডেল ঘেরা বাড়িতে চলছিল বাল্যবিয়ের আয়োজন। বাজছিল বিয়ের গান। কেউ কেউ টেবিলে বসে ভোজও সারছিলেন। অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া ইতি খাতুনকে ঘটা করে বিয়ে করতে এসেছিলেন বরও। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অভিযানে মুহূর্তেই বদলে যায় বিয়েবাড়ির সেই চিত্র।
বাল্যবিয়ে করতে আসার অপরাধে বর বাহারুল ইসলামকে (২৫) দুই মাসের জেল দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ। একই সঙ্গে বরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর নতুনপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করা হয়। শিক্ষার্থী ইতি খাতুন ওই গ্রামের শামসুল হকের মেয়ে।
নাজিরপুর উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইতি খাতুনকে বুধবার (০১ অক্টোবর) বিয়ের সাজে সাজানো হয়েছিল। বাল্যবিয়ের কবল থেকে রক্ষা পেয়ে ইতি জানায়, অনেক দূর পর্যন্ত লেখা-পড়ার ইচ্ছে আমার।
কিন্তু পিতামাতা আর প্রতিবেশীর চাপে পড়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছিল। সময় মতো এসে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করায় ইউএনওর প্রতি কৃতজ্ঞতা। এখন আবার বিদ্যালয়ে যেতে পারব, সহপাঠীদের সঙ্গে খেলা করতে পারব ভেবে আনন্দ হচ্ছে।
বাল্যবিয়ে করতে আসা বর বাহারুল ইসলাম গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের নবির উদ্দিনের ছেলে। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। মেয়ে দেখতে ভালো হওয়ায় দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব আলী।
তিনি বলেন, ‘বার বার বাধা নিষেধ করলেও কন্যার পিতা সামসুল তা মানেননি।’ নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, দূরন্ত ও চঞ্চল প্রকৃতির মেয়ে ইতি শিক্ষার্থী হিসেবে খুব ভালো। শুধু পড়াশোনা নয়, খেলাধুলাতেও পারদর্শী। অথচ খেলাপড়া বন্ধ করে জোর করে বিয়ে দিচ্ছিল পরিবারের লোকজন।
শিক্ষক হিসেবে তিনি বাল্য বিয়েটি বন্ধের জন্য চেষ্টা করেছেন। বিয়ে বন্ধ করে বরের জেল-জরিমানায় তিনিও খুশি। বরের জেল-জরিমানার বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আলোচনা করা হবে। যাতে বাল্যবিয়ের সম্পর্কে জেনে নারী শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে আরও সাহসী হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ে বাড়িতে অভিযান চালান তিনি। এ সময় বরকে হাতেনাতে ধরা হয়। বাল্যবিয়ের শাস্তি হিসেবে ২ মাসের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে মেয়ের পরিবারকেও।
তিনি বলেন, বাল্যবিয়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে অল্প বয়সে মা হওয়া। মা হতে গিয়ে অনেক সময় জরায়ু ছিঁড়ে যাওয়াসহ জরায়ুতে ক্যানসারের আশঙ্কা থাকে। জেনে না জেনে কিশোরীদেরকে ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে পরিবারগুলো।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও এর কুফল নিয়ে বিদ্যালয়গুলোতে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করবেন তিনি। কিশোরীরা নিজের বাল্যবিয়ে রোধ করলে পুরস্কারও দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২২
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৪
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪০