বরগুনার আমতলীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির কর্মসূচি পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কে বাসচাপায় মো. রেজাউল করিম (৩৮) নামের ইসলামী আন্দোলনের এক নেতা নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কর্মসূচি শেষ করে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি যাওয়ার পথে বাসচাপায় নিহত হন তিনি।
নিহত রেজাউল করিম বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোছখালী গ্রামের মো. নুরুল হকের ছেলে। তিনি গুলিশাখালী ইউনিয়নের ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ও আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুলিশাখালী ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কর্মসূচি পালন শেষে আমতলী শহর থেকে মোটরসাইকেলে সন্ধ্যা ৬টায় বরিশাল-কুয়াকাটার আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে বাড়ি ফিরছিলেন।
ঘটখালী ব্রিজের কাছে গেলে ঢাকাগামী ছন্দা পরিবহন নামের একটি বাস রেজাউল করিমের মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
পরে নেতাকর্মীরা ঘাতক বাসচালক ও হেলপারকে আটকের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় আমতলী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশ উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তারা তাদের ফিরিয়ে দেন।
সড়ক অবরোধ করলে দুই পাশে কয়েকশ গাড়ি আটকা পড়ে। এ সময় সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এর দুই ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে এ বিষয়ে কোনও সমাধান না পেয়ে বুধবার (৬ আগস্ট) মরদেহ দাফন না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা পুনরায় বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন।
এতে সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। যার ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা গাড়িতে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার সড়ক বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পথচারীরা।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা সহকর্মী রেজাউল করিমকে হারিয়েছি। চালক, হেলপারকে আটক করতে হবে।
যতক্ষণে নিহত রেজাউল করিমের পরিবারকে ওই বাস কোম্পানি ক্ষতিপূরণ না দেবে ততক্ষণে আমরা এই মরদেহ দাফন করবো না। পাশাপাশি আমাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, ‘বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ আসছেন। তাদের নিয়ে বৈঠক চলছে। আশা করি সমাধান হবে।’

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪৮
বরগুনার আমতলীতে আমড়া ও লেবু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হোসেন হাওলাদার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার আমড়া ও লেবু দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে সহপাঠীরা তার চাচিকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাত দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, মসজিদে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের স্ত্রী মমতাজ বেগম। তার দাবি, জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বরগুনার আমতলীতে আমড়া ও লেবু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হোসেন হাওলাদার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার আমড়া ও লেবু দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে সহপাঠীরা তার চাচিকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাত দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, মসজিদে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের স্ত্রী মমতাজ বেগম। তার দাবি, জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২৫
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে বরগুনার নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তার নাম সাইকুল মীর (৪৫)। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাত মীরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযানে মঙ্গলবার বিকালের দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই জেলের লাশ ভাসতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটার ঘাটে পৌঁছান।
বরগুনা জেলা মৎস্য মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে আমাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক দুটি ট্রলার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ডুবুরি দলও পাঠানো হয়। তবে সেখানে আমাদের উদ্ধার অভিযানে যাও দুটি ট্রলার নিখোঁজদের খুঁজতে থাকে, পরে বিকালে একজনের লাশ ভাসতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে করে আজ সকালে ঘাটে পৌঁছায়। তবে আমাদের উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, অন্য নিখোঁজ চার জেলেদের জন্য।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচ জন।
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে বরগুনার নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তার নাম সাইকুল মীর (৪৫)। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাত মীরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযানে মঙ্গলবার বিকালের দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই জেলের লাশ ভাসতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটার ঘাটে পৌঁছান।
বরগুনা জেলা মৎস্য মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে আমাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক দুটি ট্রলার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ডুবুরি দলও পাঠানো হয়। তবে সেখানে আমাদের উদ্ধার অভিযানে যাও দুটি ট্রলার নিখোঁজদের খুঁজতে থাকে, পরে বিকালে একজনের লাশ ভাসতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে করে আজ সকালে ঘাটে পৌঁছায়। তবে আমাদের উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, অন্য নিখোঁজ চার জেলেদের জন্য।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচ জন।

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৫২
বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটার মাছ ধরার ট্রলার ‘এফবি বরকত’ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর পাঁচ জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) গভীর সমুদ্র থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
ট্রলারটির মালিক ও মাঝি বাদল মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, গভীর সমুদ্র থেকে পাঁচ জেলের লাশ উদ্ধার করে একটি ট্রলার বর্তমানে উপকূলের দিকে ফিরছে। পাথরঘাটায় পৌঁছাতে তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচজন।
নিখোঁজ পাঁচ জেলে হলেন—নুর আলম (৩৭), কাওসার (৩০), সাইকুল (৩৩), ইব্রাহিম (২৮) ও বেল্লাল (২২)। তাদের বাড়ি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।
উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের বাবুর্চি ইউনুস মোল্লা জানান, দুর্ঘটনার সময় সাগরে প্রচণ্ড ঝড় ও তুফান চলছিল। জাল ফেলার প্রস্তুতির মধ্যে ক্লান্ত হয়ে কয়েকজন জেলে ট্রলারের ব্রিজের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড় ও ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উলটে যায়। পরে আট জেলে প্রায় দুই ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলারে উঠে প্রাণে বাঁচেন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে একটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ জেলের লাশের সন্ধান পাওয়া যায়।
বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটার মাছ ধরার ট্রলার ‘এফবি বরকত’ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর পাঁচ জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) গভীর সমুদ্র থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
ট্রলারটির মালিক ও মাঝি বাদল মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, গভীর সমুদ্র থেকে পাঁচ জেলের লাশ উদ্ধার করে একটি ট্রলার বর্তমানে উপকূলের দিকে ফিরছে। পাথরঘাটায় পৌঁছাতে তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচজন।
নিখোঁজ পাঁচ জেলে হলেন—নুর আলম (৩৭), কাওসার (৩০), সাইকুল (৩৩), ইব্রাহিম (২৮) ও বেল্লাল (২২)। তাদের বাড়ি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।
উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের বাবুর্চি ইউনুস মোল্লা জানান, দুর্ঘটনার সময় সাগরে প্রচণ্ড ঝড় ও তুফান চলছিল। জাল ফেলার প্রস্তুতির মধ্যে ক্লান্ত হয়ে কয়েকজন জেলে ট্রলারের ব্রিজের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড় ও ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উলটে যায়। পরে আট জেলে প্রায় দুই ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলারে উঠে প্রাণে বাঁচেন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে একটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ জেলের লাশের সন্ধান পাওয়া যায়।

০৬ আগস্ট, ২০২৫ ১৪:৪৯
বরগুনার আমতলীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির কর্মসূচি পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কে বাসচাপায় মো. রেজাউল করিম (৩৮) নামের ইসলামী আন্দোলনের এক নেতা নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কর্মসূচি শেষ করে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি যাওয়ার পথে বাসচাপায় নিহত হন তিনি।
নিহত রেজাউল করিম বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোছখালী গ্রামের মো. নুরুল হকের ছেলে। তিনি গুলিশাখালী ইউনিয়নের ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ও আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুলিশাখালী ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কর্মসূচি পালন শেষে আমতলী শহর থেকে মোটরসাইকেলে সন্ধ্যা ৬টায় বরিশাল-কুয়াকাটার আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে বাড়ি ফিরছিলেন।
ঘটখালী ব্রিজের কাছে গেলে ঢাকাগামী ছন্দা পরিবহন নামের একটি বাস রেজাউল করিমের মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
পরে নেতাকর্মীরা ঘাতক বাসচালক ও হেলপারকে আটকের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় আমতলী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশ উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তারা তাদের ফিরিয়ে দেন।
সড়ক অবরোধ করলে দুই পাশে কয়েকশ গাড়ি আটকা পড়ে। এ সময় সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এর দুই ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে এ বিষয়ে কোনও সমাধান না পেয়ে বুধবার (৬ আগস্ট) মরদেহ দাফন না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা পুনরায় বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন।
এতে সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। যার ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা গাড়িতে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার সড়ক বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পথচারীরা।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা সহকর্মী রেজাউল করিমকে হারিয়েছি। চালক, হেলপারকে আটক করতে হবে।
যতক্ষণে নিহত রেজাউল করিমের পরিবারকে ওই বাস কোম্পানি ক্ষতিপূরণ না দেবে ততক্ষণে আমরা এই মরদেহ দাফন করবো না। পাশাপাশি আমাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, ‘বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ আসছেন। তাদের নিয়ে বৈঠক চলছে। আশা করি সমাধান হবে।’
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬