বরিশালের গৌরনদীতে সরকারি বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে মাছের খাদ্যে ক্ষতিকর মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করছেন অধিকাংশ মৎস্য খামারিরা। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। যে কারণে চাষের মাছ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিঘি, পুকুর এবং ঘেরের উপরে লেয়ার এবং পোলট্রি মুরগির খামার তৈরি করে মিশ্র পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছেন খামারিরা। এসব মুরগির খামারের বিষ্ঠা মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এমনকি বয়লার মুরগির বিষ্ঠা যা স্থানীয় ভাষায় লিটার হিসেবে প্রচলিত, তা মুরগির খামারিদের কাছ থেকে কম দামে কিনে মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য ২০১৯ সালে এ উপজেলার মৎস্য খামারিদের নিয়ে একটি সচেতনতা সভা করেছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস। সে সময় মৎস্য চাষিরা পর্যায়ক্রমে মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহার বন্ধ করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন খামারিরা। ওই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বদলির পর বিষয়টি আর আলোর মুখ দেখেনি।
মৎস্য খামারিরা জানান, একটা সময়ে সরকার থেকেই মিশ্র পদ্ধতিতে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হতো। যে কারণে পূর্ব থেকেই এই পদ্ধতিতে চাষ করে আসছেন তারা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যদি আগে থেকেই মুরগির বিষ্ঠার ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে খামারিদের সঙ্গে আলোচনা করতেন তবে অনেক খামারি মাছের খাদ্য হিসেবে বিষ্ঠা ব্যবহার বন্ধ করে দিত। এছাড়াও মৎস্য খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক চাষি বিষ্ঠা ব্যবহার করছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ দেবনাথ বলেন, মুরগির বিষ্ঠা মাছের খামারে ব্যবহার করলে ওই মাছ মানুষ খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি পুকুরের পরিবেশ নষ্ট হয়ে পানি ব্যবহার করা যায় না। এজন্য মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার বন্ধে খামারিদের সচেতন করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ সরকারবলেন, মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা ইতোমধ্যে তালিকা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছি। এটার ব্যবহার বন্ধে প্রাথমিকভাবে খামারিদের সতর্ক করব। না ফিরলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এটা দিয়ে কম্পোস্ট তৈরি করার পর ব্যবহার করলে কোনো ক্ষতি নেই। এছাড়াও মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে বায়োগ্যাস তৈরি করা যায়। আমরা খামারিদের বায়োগ্যাস তৈরিতে উৎসাহ প্রদান করবো।
উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহতা জারাব সালেহীন বলেন, মুরগির খাবারে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ও কেমিক্যাল রয়েছে। মুরগির মল মাছের শরীরে প্রবেশ করলে সহজে ধ্বংস হয় না। তাই এগুলো মাছের মাধ্যমে পরবর্তীতে মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যানসারসহ নানাবিধ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য মুরগির খাবারে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমিয়ে আনাসহ এ বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহিম বলেন, মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে খামারিদের নিয়ে আলোচনা করে বিষ্ঠার ব্যবহার বন্ধ করা হবে।

২৯ জুলাই, ২০২৬ ০০:৩০
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৬
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’

২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩১
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘফষন তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে ২২ জুলাই চাকরিচ্যুৎ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া স্থানীয় রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরে ২২ জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়। ওই দিন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন। এবং দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিবিবর্জিত এই কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়। এরপরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘফষন তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে ২২ জুলাই চাকরিচ্যুৎ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া স্থানীয় রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরে ২২ জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়। ওই দিন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন। এবং দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিবিবর্জিত এই কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়। এরপরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

০৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১৫:৩৭
বরিশালের গৌরনদীতে সরকারি বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে মাছের খাদ্যে ক্ষতিকর মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করছেন অধিকাংশ মৎস্য খামারিরা। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। যে কারণে চাষের মাছ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিঘি, পুকুর এবং ঘেরের উপরে লেয়ার এবং পোলট্রি মুরগির খামার তৈরি করে মিশ্র পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছেন খামারিরা। এসব মুরগির খামারের বিষ্ঠা মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এমনকি বয়লার মুরগির বিষ্ঠা যা স্থানীয় ভাষায় লিটার হিসেবে প্রচলিত, তা মুরগির খামারিদের কাছ থেকে কম দামে কিনে মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য ২০১৯ সালে এ উপজেলার মৎস্য খামারিদের নিয়ে একটি সচেতনতা সভা করেছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস। সে সময় মৎস্য চাষিরা পর্যায়ক্রমে মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহার বন্ধ করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন খামারিরা। ওই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বদলির পর বিষয়টি আর আলোর মুখ দেখেনি।
মৎস্য খামারিরা জানান, একটা সময়ে সরকার থেকেই মিশ্র পদ্ধতিতে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হতো। যে কারণে পূর্ব থেকেই এই পদ্ধতিতে চাষ করে আসছেন তারা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যদি আগে থেকেই মুরগির বিষ্ঠার ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে খামারিদের সঙ্গে আলোচনা করতেন তবে অনেক খামারি মাছের খাদ্য হিসেবে বিষ্ঠা ব্যবহার বন্ধ করে দিত। এছাড়াও মৎস্য খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক চাষি বিষ্ঠা ব্যবহার করছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ দেবনাথ বলেন, মুরগির বিষ্ঠা মাছের খামারে ব্যবহার করলে ওই মাছ মানুষ খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি পুকুরের পরিবেশ নষ্ট হয়ে পানি ব্যবহার করা যায় না। এজন্য মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার বন্ধে খামারিদের সচেতন করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ সরকারবলেন, মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা ইতোমধ্যে তালিকা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছি। এটার ব্যবহার বন্ধে প্রাথমিকভাবে খামারিদের সতর্ক করব। না ফিরলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এটা দিয়ে কম্পোস্ট তৈরি করার পর ব্যবহার করলে কোনো ক্ষতি নেই। এছাড়াও মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে বায়োগ্যাস তৈরি করা যায়। আমরা খামারিদের বায়োগ্যাস তৈরিতে উৎসাহ প্রদান করবো।
উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহতা জারাব সালেহীন বলেন, মুরগির খাবারে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ও কেমিক্যাল রয়েছে। মুরগির মল মাছের শরীরে প্রবেশ করলে সহজে ধ্বংস হয় না। তাই এগুলো মাছের মাধ্যমে পরবর্তীতে মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যানসারসহ নানাবিধ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য মুরগির খাবারে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমিয়ে আনাসহ এ বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহিম বলেন, মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে খামারিদের নিয়ে আলোচনা করে বিষ্ঠার ব্যবহার বন্ধ করা হবে।