নিরপরাধ মানুষসহ আ’লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে আসামি করা নিয়ে প্রশ্ন।
বরিশালের রায়পাশা-কড়াপুরে বিএনপি কর্মী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী খুনের ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে। আলোচিত এ খুনের নেপথ্যে কে বা কারা এই তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে না পারলেও বিএনপির একটি অংশ প্রতিপক্ষ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর দায় চাপানো চেষ্টা চালাচ্ছে।
পাশাপাশি মামলাটি নিয়ে বাণিজ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা আলোচনা শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পক্ষে বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপি কর্মী খুন করা সম্ভব কী না এমন প্রশ্নও তোলা হচ্ছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে বিএনপির সমর্থক গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী খুনের এই ঘটনায় ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশ দুজন ফোরকান চৌধুরী এবং মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা বর্তমানে কারান্তরীণ আছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট আলোচিত এই খুনের রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বোসেরহাট বাজারের ইজারাদার দেলোয়ার চৌধুরী ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফিরছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌছানোর আগেই তিনি স্থানীয় বড় আরিন্দা বাড়ি জামে মসজিদের কাছে খুন হন। ষাটোর্ধ্ব এই ব্যক্তির মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে অন্তত ৪/৫টি কোপ দেয় সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফেরার পথে তাকে কেউ বা কারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কুপিয়ে হত্যা করে। এবং রক্তাক্ত লাশটি রাস্তার পাশে ডোবার ভেতরে ফেলে রেখে গেছে।
খুনের কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে লোকজন নিয়ে পৌছে যান ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টু। এবং তিনি এই প্রাণবিয়োগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরী ও কবির চৌধুরীর নামটি সামনে নিয়ে আসেন। একই বাড়ির বাসিন্দা নিহত দেলোয়ার চৌধুরীর সাথে জমিসংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হওয়ার পর তারা পলাতক রয়েছেন।
এই মামলায় জামাল হোসেন নামের যাকে ১ নম্বর অভিযুক্ত করা হয়েছে, তিনি চৌধুরী বাড়ির মেয়ে জামাই। এছাড়া দুজন বিএনপির পদধারী নেতাকেও মামলায় আসামি করা হয়। শাহীন এবং রফিক নামের এই দুজন বিএনপি নেতাকে আসামি করায় বিতর্ক আরও জোরালো রূপ নেয়।
১ নং অভিযুক্ত জাকিরের স্বজনের অভিযোগ, দেলোয়ার চৌধুরী খুনের পর বোসেরহাট বাজারে তাদের মালিকানাধীন একটি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবং জাকিরকে মামলায় না জড়ানোর অভয় দিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টু ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
পুলিশ বলছে, আসামি করা নিয়ে বাণিজ্যের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু মামলায় যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তা বাদী কমলা বেগমের সিদ্ধান্তে। ফলে এখানে পুলিশের করণীয় কিছু নেই। তাছাড়া এই হত্যাকান্ডে কারা জড়িত এবং কেনো দেলোয়ারকে খুন করা হলো তা পুলিশের তদন্তেই উঠে আসবে।
নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিএনপি কর্মী খুনের আলোচিত এই মামলাটি পুলিশের উচ্চমহলের নির্দেশে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও তদন্ত করছে। ডিবি পুলিশের ওসি ছগির হোসেনের নেতৃত্ব একটি টিম শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট বলছে, সবকিছু বিশ্লেষণ করে বলা যায়, দেলোয়ার চৌধুরীকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এবং তাকে কোথায় ও কখন খুন করা হবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল বলে মনে হচ্ছে।
এই খুন আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা কবির চৌধুরী এবং জামাল-সবুজদের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা করেছে বলা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে মোড় ঘুরে যাওয়ার সম্ভবনা আছে। এক্ষেত্রে আলোচনায় আছে তৃতীয় একটি পক্ষ।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, স্বৈরাচারের দোষর পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের ৫ একর ভূমি নিয়ে একটি বাড়ি রয়েছে, যেটি বিএনপি নেতা মিন্টু মেম্বরের বাসার কাছাকাছি।
এই ভূসম্পত্তি নিয়ে মিন্টু মেম্বরের বিরোধ চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে দত্ত বাড়িটি দখল নিতে কয়েক দফা তোড়জোড় চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরীর স্বজনদের অভিযোগ, নিহত দেলোয়ার চৌধুরী তাদের স্বজন এবং তার সাথে জমিজমা নিয়ে কিছুটা বিরোধ ছিল। কিন্তু সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে খুন করার মতো কিছু অতীতে বা বর্তমানে ঘটেনি।
তাদের অভিযোগ, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের আলোচিত দত্ত বাড়িটি দখলে নিতে চাচাতো ভাই দেলোয়ার চৌধুরী খুনের মামলায় জড়িয়ে দৌড়ের ওপর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি দত্ত বাড়ি দেখভালে জড়িতদের খুন-জখমের হুমকির দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বাবার খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে স্থানীয় নোংরা রাজনীতি চলছে, তা খোদ দেলোয়ার চৌধুরীর ছেলে পুলিশ কনস্টেবল রায়হানও অনুমান করতে পেরেছেন। ক্ষুব্ধ রায়হান অভিযোগ করেন, ঘটনার চারদিনেও পুলিশ কোনো রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি।
তবে যাদের মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারা পলাতক থাকলেও এই খুনের সাথে জড়িত থাকার সম্ভবনা আছে। আবার তাদের ওপর দোষ চাপিয়ে অন্য কেউও ফায়দা লুটতে পারেন বলে সন্দেহ করেন তিনি। তবে রায়হান শুধু তার বাবার প্রকৃত খুনিকেই দেখতে চাইছেন।
দেলোয়ারের স্ত্রী কমলা বেগম এই মামলার বাদী হলেও তিনি আসামিদের কজনকে চেনেন না এবং তাদের নাম কি ভাবে আসল তাও বলতে পারছেন না। তিনি সাংবাদিকদের জানান, চাচাতো দেবরদের সাথে তার স্বামীর জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। তিনি তাদের নাম জানেন, মামলার এজাহারেও তা উল্লেখ করেছেন।
খুনের ঘটনাটি নিয়ে যে রাজনীতি হচ্ছে তা নিহতের স্ত্রীর বক্তব্যেও কিছুটা অনুমান করা গেছে। পুলিশ বলছে, মামলাটি গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না, বাদী যেভাবে এজাহার দিয়েছেন, সেভাবেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান জানান, খুনের ঘটনাটি নিয়ে তারা বিভিন্ন এঙ্গেলে কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি গোয়েন্দাপুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে।
শনিবার সকালে ঘটনাস্থল ডোবা থেকে পুরুষ মানুষের তিনটি জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে একটি চাদর উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে খুনিরা মোটরসাইকেলযোগে চাদরে ধারালো অস্ত্র মুড়িয়ে নিয়ে আসে এবং বড় আরিন্দা বাড়ি মসজিদের পাশে দেলোয়ারকে কুপিয়ে খুন করে।
দেলোয়ার চৌধুরীকে যে পূর্বপরিকল্পনার আলোকে খুন করা হয়, তা খোদ পুলিশও আচ করতে পেরেছে। পুলিশ কর্মকর্তা মিজান জানান, দেলোয়ার সেই রাতে সাথে করে দেড় লাখ টাকা নিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন। খুনের পরে তার পকেটেই টাকা পাওয়া যাওয়ায় পুলিশের এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, দেলোয়ার চৌধুরীকে যেখানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, তার আশেপাশে ২/১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। আবার ২/৪টি প্রতিষ্ঠানে ক্যামেরা থাকলেও তা অকেজো হওয়ায় ভিডিও ধারণ হয়নি। ফলে এই খুনের ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রচন্ড বেগ পেতে হচ্ছে।
তবে তথ্য-প্রযুক্তির সহযোগিতায় খুব শিগগিরই খুনের নেপথ্য কী এবং কারা জড়িত তাদের সামনে আনতে পুলিশ সফল হবে মন্তব্য করেন ওসি মিজান। এবং এই খুনে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে, তারা জড়িত থাকলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, জানান ওসি।’

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৬
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’

২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩১

২৬ জুলাই, ২০২৬ ১৫:০৩
বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগের প্রতিবাদ এবং বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিতর্কিত ও শাস্তিপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তারা মেনে নেবেন না।
পরে শিক্ষার্থীরা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, যোগদানের শেষ দিন হলেও ডা. মনিরুজ্জামান অফিসে উপস্থিত হননি। এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার জন্য নির্ধারিত কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জানিয়েছেন, যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, তাকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তার দাবি, ডা. মনিরুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। বরিশালে একজন সৎ, যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার বলেছেন, বরিশালের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। তাই জনস্বার্থে বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগ দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন জনস্বার্থে।
কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগ বাতিল এবং একজন যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।’

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০৫
বরিশালের রায়পাশা-কড়াপুরে বিএনপি কর্মী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী খুনের ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে। আলোচিত এ খুনের নেপথ্যে কে বা কারা এই তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে না পারলেও বিএনপির একটি অংশ প্রতিপক্ষ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর দায় চাপানো চেষ্টা চালাচ্ছে।
পাশাপাশি মামলাটি নিয়ে বাণিজ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা আলোচনা শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পক্ষে বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপি কর্মী খুন করা সম্ভব কী না এমন প্রশ্নও তোলা হচ্ছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে বিএনপির সমর্থক গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী খুনের এই ঘটনায় ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশ দুজন ফোরকান চৌধুরী এবং মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা বর্তমানে কারান্তরীণ আছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট আলোচিত এই খুনের রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বোসেরহাট বাজারের ইজারাদার দেলোয়ার চৌধুরী ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফিরছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌছানোর আগেই তিনি স্থানীয় বড় আরিন্দা বাড়ি জামে মসজিদের কাছে খুন হন। ষাটোর্ধ্ব এই ব্যক্তির মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে অন্তত ৪/৫টি কোপ দেয় সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফেরার পথে তাকে কেউ বা কারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কুপিয়ে হত্যা করে। এবং রক্তাক্ত লাশটি রাস্তার পাশে ডোবার ভেতরে ফেলে রেখে গেছে।
খুনের কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে লোকজন নিয়ে পৌছে যান ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টু। এবং তিনি এই প্রাণবিয়োগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরী ও কবির চৌধুরীর নামটি সামনে নিয়ে আসেন। একই বাড়ির বাসিন্দা নিহত দেলোয়ার চৌধুরীর সাথে জমিসংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হওয়ার পর তারা পলাতক রয়েছেন।
এই মামলায় জামাল হোসেন নামের যাকে ১ নম্বর অভিযুক্ত করা হয়েছে, তিনি চৌধুরী বাড়ির মেয়ে জামাই। এছাড়া দুজন বিএনপির পদধারী নেতাকেও মামলায় আসামি করা হয়। শাহীন এবং রফিক নামের এই দুজন বিএনপি নেতাকে আসামি করায় বিতর্ক আরও জোরালো রূপ নেয়।
১ নং অভিযুক্ত জাকিরের স্বজনের অভিযোগ, দেলোয়ার চৌধুরী খুনের পর বোসেরহাট বাজারে তাদের মালিকানাধীন একটি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবং জাকিরকে মামলায় না জড়ানোর অভয় দিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মেম্বর হাবিবুর রহমান মিন্টু ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
পুলিশ বলছে, আসামি করা নিয়ে বাণিজ্যের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু মামলায় যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তা বাদী কমলা বেগমের সিদ্ধান্তে। ফলে এখানে পুলিশের করণীয় কিছু নেই। তাছাড়া এই হত্যাকান্ডে কারা জড়িত এবং কেনো দেলোয়ারকে খুন করা হলো তা পুলিশের তদন্তেই উঠে আসবে।
নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিএনপি কর্মী খুনের আলোচিত এই মামলাটি পুলিশের উচ্চমহলের নির্দেশে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও তদন্ত করছে। ডিবি পুলিশের ওসি ছগির হোসেনের নেতৃত্ব একটি টিম শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট বলছে, সবকিছু বিশ্লেষণ করে বলা যায়, দেলোয়ার চৌধুরীকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এবং তাকে কোথায় ও কখন খুন করা হবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল বলে মনে হচ্ছে।
এই খুন আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা কবির চৌধুরী এবং জামাল-সবুজদের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা করেছে বলা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে মোড় ঘুরে যাওয়ার সম্ভবনা আছে। এক্ষেত্রে আলোচনায় আছে তৃতীয় একটি পক্ষ।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, স্বৈরাচারের দোষর পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের ৫ একর ভূমি নিয়ে একটি বাড়ি রয়েছে, যেটি বিএনপি নেতা মিন্টু মেম্বরের বাসার কাছাকাছি।
এই ভূসম্পত্তি নিয়ে মিন্টু মেম্বরের বিরোধ চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে দত্ত বাড়িটি দখল নিতে কয়েক দফা তোড়জোড় চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরীর স্বজনদের অভিযোগ, নিহত দেলোয়ার চৌধুরী তাদের স্বজন এবং তার সাথে জমিজমা নিয়ে কিছুটা বিরোধ ছিল। কিন্তু সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে খুন করার মতো কিছু অতীতে বা বর্তমানে ঘটেনি।
তাদের অভিযোগ, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের আলোচিত দত্ত বাড়িটি দখলে নিতে চাচাতো ভাই দেলোয়ার চৌধুরী খুনের মামলায় জড়িয়ে দৌড়ের ওপর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি দত্ত বাড়ি দেখভালে জড়িতদের খুন-জখমের হুমকির দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বাবার খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে স্থানীয় নোংরা রাজনীতি চলছে, তা খোদ দেলোয়ার চৌধুরীর ছেলে পুলিশ কনস্টেবল রায়হানও অনুমান করতে পেরেছেন। ক্ষুব্ধ রায়হান অভিযোগ করেন, ঘটনার চারদিনেও পুলিশ কোনো রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি।
তবে যাদের মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারা পলাতক থাকলেও এই খুনের সাথে জড়িত থাকার সম্ভবনা আছে। আবার তাদের ওপর দোষ চাপিয়ে অন্য কেউও ফায়দা লুটতে পারেন বলে সন্দেহ করেন তিনি। তবে রায়হান শুধু তার বাবার প্রকৃত খুনিকেই দেখতে চাইছেন।
দেলোয়ারের স্ত্রী কমলা বেগম এই মামলার বাদী হলেও তিনি আসামিদের কজনকে চেনেন না এবং তাদের নাম কি ভাবে আসল তাও বলতে পারছেন না। তিনি সাংবাদিকদের জানান, চাচাতো দেবরদের সাথে তার স্বামীর জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। তিনি তাদের নাম জানেন, মামলার এজাহারেও তা উল্লেখ করেছেন।
খুনের ঘটনাটি নিয়ে যে রাজনীতি হচ্ছে তা নিহতের স্ত্রীর বক্তব্যেও কিছুটা অনুমান করা গেছে। পুলিশ বলছে, মামলাটি গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না, বাদী যেভাবে এজাহার দিয়েছেন, সেভাবেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান জানান, খুনের ঘটনাটি নিয়ে তারা বিভিন্ন এঙ্গেলে কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি গোয়েন্দাপুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে।
শনিবার সকালে ঘটনাস্থল ডোবা থেকে পুরুষ মানুষের তিনটি জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে একটি চাদর উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে খুনিরা মোটরসাইকেলযোগে চাদরে ধারালো অস্ত্র মুড়িয়ে নিয়ে আসে এবং বড় আরিন্দা বাড়ি মসজিদের পাশে দেলোয়ারকে কুপিয়ে খুন করে।
দেলোয়ার চৌধুরীকে যে পূর্বপরিকল্পনার আলোকে খুন করা হয়, তা খোদ পুলিশও আচ করতে পেরেছে। পুলিশ কর্মকর্তা মিজান জানান, দেলোয়ার সেই রাতে সাথে করে দেড় লাখ টাকা নিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন। খুনের পরে তার পকেটেই টাকা পাওয়া যাওয়ায় পুলিশের এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, দেলোয়ার চৌধুরীকে যেখানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, তার আশেপাশে ২/১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। আবার ২/৪টি প্রতিষ্ঠানে ক্যামেরা থাকলেও তা অকেজো হওয়ায় ভিডিও ধারণ হয়নি। ফলে এই খুনের ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রচন্ড বেগ পেতে হচ্ছে।
তবে তথ্য-প্রযুক্তির সহযোগিতায় খুব শিগগিরই খুনের নেপথ্য কী এবং কারা জড়িত তাদের সামনে আনতে পুলিশ সফল হবে মন্তব্য করেন ওসি মিজান। এবং এই খুনে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে, তারা জড়িত থাকলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, জানান ওসি।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘফষন তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে ২২ জুলাই চাকরিচ্যুৎ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া স্থানীয় রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরে ২২ জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়। ওই দিন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন। এবং দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিবিবর্জিত এই কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়। এরপরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘফষন তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে ২২ জুলাই চাকরিচ্যুৎ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া স্থানীয় রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরে ২২ জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়। ওই দিন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন। এবং দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিবিবর্জিত এই কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়। এরপরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগের প্রতিবাদ এবং বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিতর্কিত ও শাস্তিপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তারা মেনে নেবেন না।
পরে শিক্ষার্থীরা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, যোগদানের শেষ দিন হলেও ডা. মনিরুজ্জামান অফিসে উপস্থিত হননি। এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার জন্য নির্ধারিত কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জানিয়েছেন, যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, তাকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তার দাবি, ডা. মনিরুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। বরিশালে একজন সৎ, যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার বলেছেন, বরিশালের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। তাই জনস্বার্থে বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগ দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন জনস্বার্থে।
কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগ বাতিল এবং একজন যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।’