নির্বাচন এলেই রাজনীতির মাঠে টাকার ঝনঝনানি ওঠে। কোটি কোটি টাকার হিসাব আর অদৃশ্য লেনদেনের কালো ছায়া নির্বাচনী পরিবেশকে গ্রাস করে। প্রচারণা মানেই তখন ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল, কর্মী নামানোর খরচ; উঠান বৈঠকের আড়ালে ব্যয়বহুল আয়োজন। ভোটের রাজনীতির এই চেনা ছবিতেই অভ্যস্ত মানুষ।
এমন কাঠামোর মধ্যেই বরিশালে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন গল্প। সেখানে নেই কোনো শিল্পগোষ্ঠী, নেই প্রভাবশালী দাতার নাম। রয়েছে শুধু মাটির ব্যাংক আর দুই থেকে ১০ টাকার ক্ষুদ্র সঞ্চয়, যার প্রতিটি নোটে মিশে আছে খেটে খাওয়া মানুষের ঘাম।
নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে এই পথ বেছে নিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
প্রচলিত রাজনৈতিক অর্থনীতিকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে মাটির ব্যাংক মডেল।
‘জনগণের টাকায় নির্বাচন করবেন জনগণের প্রার্থী’— এই স্লোগান শুধু বক্তব্যে নয়, বাস্তবেও প্রয়োগ করা হচ্ছে। বরিশাল-৫ আসনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত ও বাসদ মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী এই মডেলের উদ্যেক্তা।
মাসখানেক আগে নগরীর রিকশা গ্যারেজ, হোটেল, ছোট দোকান আর সাধারণ মানুষের বাড়িতে কয়েক শ মাটির ব্যাংক পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। কেউ নিজের আয় থেকে প্রতিদিন দুই টাকা করে জমিয়েছেন, কেউ পাঁচ টাকা, কেউ বা ১০ টাকা, টাকার অঙ্কে যা খুবই ছোট, কিন্তু প্রতীকে অনেক বড়।
মনীষার এই উদ্যোগ নিয়ে গত ২১ ডিসেম্বর কালের কণ্ঠে ‘মাটির ব্যাংকে ভোটের খরচ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বরিশাল জেলা বাসদ কার্যালয়ে সেই মাটির ব্যাংকগুলো ভাঙা হয়। একে একে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে কয়েন আর নোট। প্রতিটি মুদ্রাই যেন প্রচলিত রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি নীরব প্রতিবাদ।
ডা. মনীষা বলেন, এটি শুধু অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি নয়, নির্বাচনকে ‘ব্যবসা’ থেকে আলাদা করার রাজনৈতিক প্রয়াস। তাঁর ভাষায়, পুঁজিপতিরা বিনিয়োগের মতো করে নির্বাচনে টাকা ঢালেন। অনেক সময় কালো টাকা ছড়ানো হয়। পরে ক্ষমতায় গিয়ে সেই টাকা বহু গুণে তুলে নেওয়া হয়। এই চক্র ভাঙতেই সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকায় নির্বাচনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
বরিশাল মহিলা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা মনে করেন, এই উদ্যোগ রাজনীতির দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর মতে, বড় দাতার অর্থ মানেই ভবিষ্যতের সমঝোতা ও দেনাপাওনা। সেখানে রিকশাচালক বা দোকানির দেওয়া পাঁচ টাকার অনুদান কোনো সুবিধা দাবি করে না। বরং এই ক্ষুদ্র দান প্রার্থীকে জনগণের কাছে আরো বেশি জবাবদিহির মধ্যে রাখে।
মাটির ব্যাংকে ভোটের খরচ
মনীষা বলেন, এই নির্বাচন আমাদের কাছে শুধু ক্ষমতার হিসাব নয়, রাজনীতির চরিত্র বদলানোর চেষ্টা। এখানে নেই করপোরেট অর্থ, নেই প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর অনুগ্রহ। সাধারণ মানুষের ছোট ছোট সহায়তার ওপর ভর করেই চলছে পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম। সেই ভাবনা থেকেই মাটির ব্যাংকের ধারণা।
মনীষা আরো বলেন, সংসদ যেহেতু জনগণের, সেখানে প্রতিনিধিরা যাবেন জনগণের কথাই বলতে। তাই সেই যাত্রার ব্যয়ও জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণে হওয়াই স্বাভাবিক। এই উদ্যোগ প্রচলিত টাকার খেলা, পেশিশক্তি আর ভোট কেনাবেচার রাজনীতির ঠিক উল্টো ছবি তুলে ধরে।
মনীষা জানান, নির্বাচনী ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত নগদ সংগ্রহ হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। তবে তাঁর মতে, অর্থের চেয়েও বড় অবদান স্বেচ্ছাসেবকদের। কেউ নিজের গাড়ি নিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন, কেউ রিকশা বা ইজি বাইক নিয়ে এলাকায় এলাকায় ঘুরছেন। কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই চলছে এই কাজ, ফলে ব্যয় যেমন কমছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে অংশগ্রহণের এক নতুন রাজনীতি।
এ লড়াই কেন, কার বিরুদ্ধে- এমন প্রশ্নের জবাবে মনীষা বলেন, এই লড়াই কোনো একক দলের বিরুদ্ধে নয়। এই লড়াই সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, যেখানে কর্মী নামাতে টাকা লাগে, ভোটের আগে চলে নগদ বণ্টন। জয়-পরাজয়ের হিসাবের বাইরেও এই সংগ্রামের লক্ষ্য লুটপাটের রাজনীতি ও পুরনো ব্যবস্থার বদল।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, এই মডেল কতটা টেকসই হবে বা মূল ধারার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে কালো টাকার দাপটের রাজনীতিতে মাটির ব্যাংক অন্তত একটি নৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। আর এই নীরব প্রতিবাদই হয়তো আজকের রাজনীতিতে সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৪
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির সূচনা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বরিশাল আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে। এরপর বেলা ১১টায় সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে বৃক্ষরোপণ, বাদ যোহর মরহুমের নিজ এলাকা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা মিয়ার পুল এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও স্থানীয় এতিমখানাসমূহে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় কাউনিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেল ৩টা থেকে সেখানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টায় বরিশাল রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রদর্শিত হবে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের বর্নাঢ্য জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র, যে জীবন মানুষের।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, তিনি বরিশালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাহাউদ্দিন গোলাপের পিতা।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৫
বরিশালের বাবুগঞ্জে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় এক সহকারী শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দ্বারিকা-শিকারপুর ব্রিজের ঢালের পশ্চিম পাশে রাকুদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেহানা বেগম (৪৫) রাকুদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে শিকারপুর ব্রিজের ঢাল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন রেহানা বেগম। এ সময় ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা কোম্পানির ‘আহনাফ পরিবহন’ নামের একটি বেপরোয়া গতির বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাদরাসার শিক্ষকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রেহানা বেগমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবর মাদরাসায় পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের বিচার ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে রাখার কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
সংবাদ পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও বাবুগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে চালক ও বাস আটকের আশ্বাসসহ লাবিবা কোম্পানির কয়েকটি বাস আটক করা হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ব্রেকিংনিউজ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।’

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২০

৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:১৫
নির্বাচন এলেই রাজনীতির মাঠে টাকার ঝনঝনানি ওঠে। কোটি কোটি টাকার হিসাব আর অদৃশ্য লেনদেনের কালো ছায়া নির্বাচনী পরিবেশকে গ্রাস করে। প্রচারণা মানেই তখন ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল, কর্মী নামানোর খরচ; উঠান বৈঠকের আড়ালে ব্যয়বহুল আয়োজন। ভোটের রাজনীতির এই চেনা ছবিতেই অভ্যস্ত মানুষ।
এমন কাঠামোর মধ্যেই বরিশালে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন গল্প। সেখানে নেই কোনো শিল্পগোষ্ঠী, নেই প্রভাবশালী দাতার নাম। রয়েছে শুধু মাটির ব্যাংক আর দুই থেকে ১০ টাকার ক্ষুদ্র সঞ্চয়, যার প্রতিটি নোটে মিশে আছে খেটে খাওয়া মানুষের ঘাম।
নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে এই পথ বেছে নিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
প্রচলিত রাজনৈতিক অর্থনীতিকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে মাটির ব্যাংক মডেল।
‘জনগণের টাকায় নির্বাচন করবেন জনগণের প্রার্থী’— এই স্লোগান শুধু বক্তব্যে নয়, বাস্তবেও প্রয়োগ করা হচ্ছে। বরিশাল-৫ আসনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত ও বাসদ মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী এই মডেলের উদ্যেক্তা।
মাসখানেক আগে নগরীর রিকশা গ্যারেজ, হোটেল, ছোট দোকান আর সাধারণ মানুষের বাড়িতে কয়েক শ মাটির ব্যাংক পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। কেউ নিজের আয় থেকে প্রতিদিন দুই টাকা করে জমিয়েছেন, কেউ পাঁচ টাকা, কেউ বা ১০ টাকা, টাকার অঙ্কে যা খুবই ছোট, কিন্তু প্রতীকে অনেক বড়।
মনীষার এই উদ্যোগ নিয়ে গত ২১ ডিসেম্বর কালের কণ্ঠে ‘মাটির ব্যাংকে ভোটের খরচ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বরিশাল জেলা বাসদ কার্যালয়ে সেই মাটির ব্যাংকগুলো ভাঙা হয়। একে একে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে কয়েন আর নোট। প্রতিটি মুদ্রাই যেন প্রচলিত রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি নীরব প্রতিবাদ।
ডা. মনীষা বলেন, এটি শুধু অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি নয়, নির্বাচনকে ‘ব্যবসা’ থেকে আলাদা করার রাজনৈতিক প্রয়াস। তাঁর ভাষায়, পুঁজিপতিরা বিনিয়োগের মতো করে নির্বাচনে টাকা ঢালেন। অনেক সময় কালো টাকা ছড়ানো হয়। পরে ক্ষমতায় গিয়ে সেই টাকা বহু গুণে তুলে নেওয়া হয়। এই চক্র ভাঙতেই সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকায় নির্বাচনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
বরিশাল মহিলা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা মনে করেন, এই উদ্যোগ রাজনীতির দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর মতে, বড় দাতার অর্থ মানেই ভবিষ্যতের সমঝোতা ও দেনাপাওনা। সেখানে রিকশাচালক বা দোকানির দেওয়া পাঁচ টাকার অনুদান কোনো সুবিধা দাবি করে না। বরং এই ক্ষুদ্র দান প্রার্থীকে জনগণের কাছে আরো বেশি জবাবদিহির মধ্যে রাখে।
মাটির ব্যাংকে ভোটের খরচ
মনীষা বলেন, এই নির্বাচন আমাদের কাছে শুধু ক্ষমতার হিসাব নয়, রাজনীতির চরিত্র বদলানোর চেষ্টা। এখানে নেই করপোরেট অর্থ, নেই প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর অনুগ্রহ। সাধারণ মানুষের ছোট ছোট সহায়তার ওপর ভর করেই চলছে পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম। সেই ভাবনা থেকেই মাটির ব্যাংকের ধারণা।
মনীষা আরো বলেন, সংসদ যেহেতু জনগণের, সেখানে প্রতিনিধিরা যাবেন জনগণের কথাই বলতে। তাই সেই যাত্রার ব্যয়ও জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণে হওয়াই স্বাভাবিক। এই উদ্যোগ প্রচলিত টাকার খেলা, পেশিশক্তি আর ভোট কেনাবেচার রাজনীতির ঠিক উল্টো ছবি তুলে ধরে।
মনীষা জানান, নির্বাচনী ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত নগদ সংগ্রহ হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। তবে তাঁর মতে, অর্থের চেয়েও বড় অবদান স্বেচ্ছাসেবকদের। কেউ নিজের গাড়ি নিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন, কেউ রিকশা বা ইজি বাইক নিয়ে এলাকায় এলাকায় ঘুরছেন। কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই চলছে এই কাজ, ফলে ব্যয় যেমন কমছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে অংশগ্রহণের এক নতুন রাজনীতি।
এ লড়াই কেন, কার বিরুদ্ধে- এমন প্রশ্নের জবাবে মনীষা বলেন, এই লড়াই কোনো একক দলের বিরুদ্ধে নয়। এই লড়াই সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, যেখানে কর্মী নামাতে টাকা লাগে, ভোটের আগে চলে নগদ বণ্টন। জয়-পরাজয়ের হিসাবের বাইরেও এই সংগ্রামের লক্ষ্য লুটপাটের রাজনীতি ও পুরনো ব্যবস্থার বদল।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, এই মডেল কতটা টেকসই হবে বা মূল ধারার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে কালো টাকার দাপটের রাজনীতিতে মাটির ব্যাংক অন্তত একটি নৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। আর এই নীরব প্রতিবাদই হয়তো আজকের রাজনীতিতে সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির সূচনা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বরিশাল আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে। এরপর বেলা ১১টায় সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে বৃক্ষরোপণ, বাদ যোহর মরহুমের নিজ এলাকা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা মিয়ার পুল এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও স্থানীয় এতিমখানাসমূহে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় কাউনিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেল ৩টা থেকে সেখানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টায় বরিশাল রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রদর্শিত হবে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের বর্নাঢ্য জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র, যে জীবন মানুষের।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, তিনি বরিশালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাহাউদ্দিন গোলাপের পিতা।
বরিশালের বাবুগঞ্জে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় এক সহকারী শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দ্বারিকা-শিকারপুর ব্রিজের ঢালের পশ্চিম পাশে রাকুদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেহানা বেগম (৪৫) রাকুদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে শিকারপুর ব্রিজের ঢাল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন রেহানা বেগম। এ সময় ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা কোম্পানির ‘আহনাফ পরিবহন’ নামের একটি বেপরোয়া গতির বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাদরাসার শিক্ষকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রেহানা বেগমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবর মাদরাসায় পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের বিচার ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে রাখার কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
সংবাদ পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও বাবুগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে চালক ও বাস আটকের আশ্বাসসহ লাবিবা কোম্পানির কয়েকটি বাস আটক করা হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ব্রেকিংনিউজ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।’
একসময় ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ আর নদী-খালের সৌন্দর্যে ‘বাংলার ভেনিস’ নামে পরিচিত ছিল বরিশাল। বন্দরে দূর-দূরান্তের বণিকদের আনাগোনা ছিল। সেই বরিশাল এখন দেশের সবচেয়ে দরিদ্র বিভাগ। কৃষি উৎপাদন কমেছে, গড়ে ওঠেনি শিল্প-কারখানা, তৈরি হয়নি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। গ্যাসের বড় মজুদ থাকার পরও কাজে লাগানো যায়নি সেই সম্পদ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২ অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ২ শতাংশ।
বরিশাল বিভাগে এ হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশের আট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। একসময় দেশের দরিদ্রতম বিভাগ রংপুর হলেও এখন সেই অবস্থানে বরিশাল। কর্মসংস্থানের অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বরিশালের স্থানীয় বাসিন্দাদের ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এখন ঢাকায় বসবাস করছে। স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বস্তিবাসীর প্রায় ১৩ শতাংশ বরিশালের।
বরিশালকে একসময় শস্যভাণ্ডার বলা হলেও ধান উৎপাদনে এখন পিছিয়ে পড়ছে বিভাগটি। বিবিএসের ইয়ারবুক অব অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৫ অনুযায়ী, আউশ উৎপাদনে বরিশাল চতুর্থ, আমনে পঞ্চম এবং বোরো উৎপাদনে অষ্টম।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভাগটিতে আউশ উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার ২০ টন।
পরের অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯৯ টনে। আমন উৎপাদনও ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৯ টন থেকে কমে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ টনে নেমেছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক এ এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরিশাল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বাড়ায় অনেক জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষক বিকল্প হিসেবে চিংড়ি চাষসহ অন্য কাজে যাচ্ছেন।
আরো পড়ুন
মৎস্যসম্পদেও একই চিত্র। বিভাগীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরিশালে ৩ লাখ ৭২ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার টন। তিন বছরে উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিবিএসের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ধান, গম ও শস্য উৎপাদনে বরিশালের কৃষকদের বার্ষিক নিট আয় মাত্র ৬ হাজার ৮১ টাকা আট বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ভোলায় রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ সম্পদকে ঘিরে বড় শিল্পায়ন হয়নি।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে শিল্প-কারখানা কার্যত সীমিত। বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশাল ছাড়া বাকি পাঁচ জেলায় উল্লেখযোগ্য কলকারখানা নেই। বরিশাল জেলায় কারখানা রয়েছে ৪০৯টি, যেখানে কাজ করেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, যে ধরনের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। কৃষি ও মৎস্যকে ঘিরে আগের অর্থনৈতিক তৎপরতাও কমেছে। ফলে কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নদীনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্পায়নের অভাব বরিশালের অর্থনৈতিক বিকাশে বড় বাধা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবও সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের বড় রাজনৈতিক নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে বেশি মনোযোগী ছিলেন। পুরো অঞ্চলের জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।
তবে পরিস্থিতি বদলাতে বর্তমান সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতা এবং দুর্গম যোগাযোগের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্প গড়ে ওঠেনি। ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার, পায়রা বন্দর সচল, কুয়াকাটায় পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগ বাড়ানো গেলে দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক কাঠামো দ্রুত বদলে যেতে পারে।
একসময় ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ আর নদী-খালের সৌন্দর্যে ‘বাংলার ভেনিস’ নামে পরিচিত ছিল বরিশাল। বন্দরে দূর-দূরান্তের বণিকদের আনাগোনা ছিল। সেই বরিশাল এখন দেশের সবচেয়ে দরিদ্র বিভাগ। কৃষি উৎপাদন কমেছে, গড়ে ওঠেনি শিল্প-কারখানা, তৈরি হয়নি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। গ্যাসের বড় মজুদ থাকার পরও কাজে লাগানো যায়নি সেই সম্পদ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২ অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ২ শতাংশ।
বরিশাল বিভাগে এ হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশের আট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। একসময় দেশের দরিদ্রতম বিভাগ রংপুর হলেও এখন সেই অবস্থানে বরিশাল। কর্মসংস্থানের অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বরিশালের স্থানীয় বাসিন্দাদের ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এখন ঢাকায় বসবাস করছে। স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বস্তিবাসীর প্রায় ১৩ শতাংশ বরিশালের।
বরিশালকে একসময় শস্যভাণ্ডার বলা হলেও ধান উৎপাদনে এখন পিছিয়ে পড়ছে বিভাগটি। বিবিএসের ইয়ারবুক অব অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৫ অনুযায়ী, আউশ উৎপাদনে বরিশাল চতুর্থ, আমনে পঞ্চম এবং বোরো উৎপাদনে অষ্টম।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভাগটিতে আউশ উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার ২০ টন।
পরের অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯৯ টনে। আমন উৎপাদনও ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৯ টন থেকে কমে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ টনে নেমেছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক এ এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরিশাল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বাড়ায় অনেক জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষক বিকল্প হিসেবে চিংড়ি চাষসহ অন্য কাজে যাচ্ছেন।
আরো পড়ুন
মৎস্যসম্পদেও একই চিত্র। বিভাগীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরিশালে ৩ লাখ ৭২ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার টন। তিন বছরে উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিবিএসের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ধান, গম ও শস্য উৎপাদনে বরিশালের কৃষকদের বার্ষিক নিট আয় মাত্র ৬ হাজার ৮১ টাকা আট বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ভোলায় রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ সম্পদকে ঘিরে বড় শিল্পায়ন হয়নি।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে শিল্প-কারখানা কার্যত সীমিত। বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশাল ছাড়া বাকি পাঁচ জেলায় উল্লেখযোগ্য কলকারখানা নেই। বরিশাল জেলায় কারখানা রয়েছে ৪০৯টি, যেখানে কাজ করেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, যে ধরনের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। কৃষি ও মৎস্যকে ঘিরে আগের অর্থনৈতিক তৎপরতাও কমেছে। ফলে কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নদীনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্পায়নের অভাব বরিশালের অর্থনৈতিক বিকাশে বড় বাধা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবও সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের বড় রাজনৈতিক নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে বেশি মনোযোগী ছিলেন। পুরো অঞ্চলের জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।
তবে পরিস্থিতি বদলাতে বর্তমান সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতা এবং দুর্গম যোগাযোগের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্প গড়ে ওঠেনি। ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার, পায়রা বন্দর সচল, কুয়াকাটায় পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগ বাড়ানো গেলে দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক কাঠামো দ্রুত বদলে যেতে পারে।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:১৬
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৮
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:৫৬