ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর বিপরীতে বড় ধরনের পতন হয়েছে বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন ডলার ও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
সোমবার (২ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৪.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬.০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনের একপর্যায়ে এটি স্বল্প সময়ের জন্য ৮২ ডলারও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
অন্যদিকে, মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩.৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৯.৫৯ ডলার। নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ১.০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৩২৭ ডলারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই যুদ্ধে টেনে আনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই সংঘাত আরও চার সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথের তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশই প্রবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি অবরুদ্ধ না হলেও এর দুপাশে অসংখ্য তেলবাহী ট্যাঙ্কার জড়ো হতে দেখা গেছে। হামলার আতঙ্ক এবং বীমা সুবিধা না পাওয়ার কারণে অনেক জাহাজ যাত্রা শুরু করতে পারছে না।
রাইস্ট্যাড এনার্জির ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ প্রধান জর্জ লিওন বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়া মানে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে পৌঁছাতে বাধা পাওয়া। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জাপানের নিক্কেই সূচক ১.৪ শতাংশ কমেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমান সংস্থাগুলো। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ার সূচক কমেছে ১.২ শতাংশ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত তাদের শেয়ারবাজার সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইউরোপের বাজারগুলোতেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে; ইউরোস্টক্স-৫০ ফিউচার ১.৪ শতাংশ ও ড্যাক্স ফিউচার ১.৩ শতাংশ কমেছে।
জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতিতে ডলার শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ইউরোর দাম ০.২ শতাংশ কমে ১.১৭৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জাপানি ইয়েন নিরাপদ মুদ্রা হিসেবে বিবেচিত হলেও তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ডলারের বিপরীতে এর মান কিছুটা কমেছে।
উড ম্যাকেঞ্জির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালান গেল্ডার এই পরিস্থিতিকে ১৯৭০-এর দশকের তেল নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সে সময় তেলের দাম ৩০০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে সরবরাহ ব্যাহত হলে তেলের দাম বর্তমান ৯০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
চলতি সপ্তাহটি মার্কিন অর্থনীতির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদন, খুচরা বিক্রয় এবং বেতন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং যুক্তরাজ্যের বন্ধকী ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এমএফএসের পতন ব্যাংকিং ও এআই খাতের শেয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বাজার বিশ্লেষকরা এখন তাকিয়ে আছেন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
বরিশাল টাইমস

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৩
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হলেও, এ বিষয়ে ঢাকা থেকে নয়াদিল্লিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেছে ভারত।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা নিয়ে রাখছে।
শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসে।
এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ বের হলেও বাংলাদেশ সরকার তাদের কূটনৈতিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে এবং সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, বিগত সরকারের করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যাচাই-বাছাই করে দেখছে। দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো শর্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পরেই এসব চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবর প্রসঙ্গে ভারতের মুখপাত্র বলেন, দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্বটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারেরই।
এ ছাড়া পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন যেকোনো বিষয় তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। তিনি জানান, গঙ্গার পানি বণ্টন ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি সংক্রান্ত বিষয়াদি সমাধানের জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হলেও, এ বিষয়ে ঢাকা থেকে নয়াদিল্লিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেছে ভারত।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা নিয়ে রাখছে।
শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসে।
এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ বের হলেও বাংলাদেশ সরকার তাদের কূটনৈতিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে এবং সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, বিগত সরকারের করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যাচাই-বাছাই করে দেখছে। দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো শর্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পরেই এসব চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবর প্রসঙ্গে ভারতের মুখপাত্র বলেন, দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্বটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারেরই।
এ ছাড়া পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন যেকোনো বিষয় তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। তিনি জানান, গঙ্গার পানি বণ্টন ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি সংক্রান্ত বিষয়াদি সমাধানের জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪০
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে পুলিশ সদর দপ্তরের ভেতরের একটি মসজিদে বোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৬ জনের বেশি।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি মসজিদের প্রবেশদ্বারে ধাক্কা দিলে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে নিশ্চিত করেছেন।
বিস্ফোরণের পর কয়েকজন অস্ত্রধারী পুলিশ কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। হামলায় মসজিদটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুলিশ স্টেশনের বাইরের সীমানাপ্রাচীর ধসে পড়েছে।
হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সক্রিয় এবং এর আগে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন হামলা চালিয়েছে।
আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে পুলিশ সদর দপ্তরের ভেতরের একটি মসজিদে বোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৬ জনের বেশি।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি মসজিদের প্রবেশদ্বারে ধাক্কা দিলে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে নিশ্চিত করেছেন।
বিস্ফোরণের পর কয়েকজন অস্ত্রধারী পুলিশ কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। হামলায় মসজিদটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুলিশ স্টেশনের বাইরের সীমানাপ্রাচীর ধসে পড়েছে।
হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সক্রিয় এবং এর আগে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন হামলা চালিয়েছে।
আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৮
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থানে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বান জানানো হয়। এ কর্মসূচি নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।
ভারতের বন্যা পরিস্থিতি, মূল্যবৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের সংকটের প্রসঙ্গ তুলে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বানকে ‘বেদনাদায়ক পরিহাস’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শ্রীলেখা লেখেন, মানুষের জীবন যখন নানা সংকটে বিপর্যস্ত, তখন তাদের প্রদীপ জ্বালাতে বলা হচ্ছে। তার ভাষায়, মানুষের জীবন কঠিন করে তোলার পর এমন প্রত্যাশা নিঃসন্দেহে এক ধরনের বেদনাদায়ক পরিহাস।
মোদি ও বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে শ্রীলেখা তাদের ‘স্বৈরাচারী’ বলেও মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পত্তি ও জীবিকার ওপর সংকট তৈরি করার পাশাপাশি সম্প্রদায়, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিভেদও বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন—এভাবে সমাজ কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? কেমন সমাজ তৈরি হচ্ছে, যেখানে অন্ধ অনুসারীদের ভক্ত হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়, আর শিক্ষিত ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ‘দিমাগি নকশাল’ তকমা দেওয়া হয়?
শ্রীলেখার মতে, এমন পরিস্থিতিতে ভয় শাসনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং ভিন্নমতকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখা হয়। পুরো পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঘোরতর পরিহাস’ ও ‘অন্ধকার যুগ’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
এদিকে অভিনেত্রীর এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। পোস্টটির মন্তব্যে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা; অনেকে আবার শ্রীলেখার বক্তব্যের সঙ্গে একমতও পোষণ করেছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থানে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বান জানানো হয়। এ কর্মসূচি নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।
ভারতের বন্যা পরিস্থিতি, মূল্যবৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের সংকটের প্রসঙ্গ তুলে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বানকে ‘বেদনাদায়ক পরিহাস’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শ্রীলেখা লেখেন, মানুষের জীবন যখন নানা সংকটে বিপর্যস্ত, তখন তাদের প্রদীপ জ্বালাতে বলা হচ্ছে। তার ভাষায়, মানুষের জীবন কঠিন করে তোলার পর এমন প্রত্যাশা নিঃসন্দেহে এক ধরনের বেদনাদায়ক পরিহাস।
মোদি ও বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে শ্রীলেখা তাদের ‘স্বৈরাচারী’ বলেও মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পত্তি ও জীবিকার ওপর সংকট তৈরি করার পাশাপাশি সম্প্রদায়, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিভেদও বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন—এভাবে সমাজ কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? কেমন সমাজ তৈরি হচ্ছে, যেখানে অন্ধ অনুসারীদের ভক্ত হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়, আর শিক্ষিত ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ‘দিমাগি নকশাল’ তকমা দেওয়া হয়?
শ্রীলেখার মতে, এমন পরিস্থিতিতে ভয় শাসনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং ভিন্নমতকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখা হয়। পুরো পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঘোরতর পরিহাস’ ও ‘অন্ধকার যুগ’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
এদিকে অভিনেত্রীর এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। পোস্টটির মন্তব্যে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা; অনেকে আবার শ্রীলেখার বক্তব্যের সঙ্গে একমতও পোষণ করেছেন।

০২ মার্চ, ২০২৬ ১১:২১
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর বিপরীতে বড় ধরনের পতন হয়েছে বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন ডলার ও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
সোমবার (২ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৪.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬.০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনের একপর্যায়ে এটি স্বল্প সময়ের জন্য ৮২ ডলারও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
অন্যদিকে, মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩.৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৯.৫৯ ডলার। নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ১.০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৩২৭ ডলারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই যুদ্ধে টেনে আনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই সংঘাত আরও চার সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথের তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশই প্রবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি অবরুদ্ধ না হলেও এর দুপাশে অসংখ্য তেলবাহী ট্যাঙ্কার জড়ো হতে দেখা গেছে। হামলার আতঙ্ক এবং বীমা সুবিধা না পাওয়ার কারণে অনেক জাহাজ যাত্রা শুরু করতে পারছে না।
রাইস্ট্যাড এনার্জির ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ প্রধান জর্জ লিওন বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়া মানে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে পৌঁছাতে বাধা পাওয়া। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জাপানের নিক্কেই সূচক ১.৪ শতাংশ কমেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমান সংস্থাগুলো। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ার সূচক কমেছে ১.২ শতাংশ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত তাদের শেয়ারবাজার সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইউরোপের বাজারগুলোতেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে; ইউরোস্টক্স-৫০ ফিউচার ১.৪ শতাংশ ও ড্যাক্স ফিউচার ১.৩ শতাংশ কমেছে।
জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতিতে ডলার শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ইউরোর দাম ০.২ শতাংশ কমে ১.১৭৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জাপানি ইয়েন নিরাপদ মুদ্রা হিসেবে বিবেচিত হলেও তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ডলারের বিপরীতে এর মান কিছুটা কমেছে।
উড ম্যাকেঞ্জির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালান গেল্ডার এই পরিস্থিতিকে ১৯৭০-এর দশকের তেল নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সে সময় তেলের দাম ৩০০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে সরবরাহ ব্যাহত হলে তেলের দাম বর্তমান ৯০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
চলতি সপ্তাহটি মার্কিন অর্থনীতির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদন, খুচরা বিক্রয় এবং বেতন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং যুক্তরাজ্যের বন্ধকী ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এমএফএসের পতন ব্যাংকিং ও এআই খাতের শেয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বাজার বিশ্লেষকরা এখন তাকিয়ে আছেন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
বরিশাল টাইমস
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১২
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৩
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪৩
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৫