পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পৃথক দুটি স্থানে গলায় ফাঁস দিয়ে দুই যুবক আত্মহত্যা করেছেন। তারা ‘প্রেমিকার প্রতারণা’ ও ‘ঋণের কিস্তির অতিরিক্ত চাপে’ এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) ভোরে উপজেলার কাঁকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের মকুমা ও উত্তর গাবুয়া গ্রামে এই ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতরা হলেন— মকুমা গ্রামের মো. জলিল খানের ছেলে নাজমুল হাসান (১৯) এবং উত্তর গাবুয়া গ্রামের মৃত মো. শহিদের ছেলে টমটম চালক মো. শাহীন (২৮)।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মকুমা গ্রামের নাজমুল হাসান বৃহস্পতিবার (১ মে) দিবাগত রাতে বসতঘরের দ্বিতীয় তলায় পড়াশোনা করতে যান। রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটের দিকে নাজমুলের ফুফাতো ভাই ফোনে তার খোঁজ নিতে বললে, মা দোতলায় গিয়ে দেখেন নাজমুল আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুঁলে আছেন। দ্রুত উদ্ধার করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাজমুলের মৃত্যুর পর তার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর মাত্র ৫ দিন আগে তিনি নিজের মৃত্যু নিয়ে একটি কাল্পনিক শোকবার্তা লিখেছিলেন।
সেখানে তিনি লিখেছিলেন, এই আইডির মালিক মো. নাজমুল হাসান খান আর পৃথিবীতে নেই... এমন একটি শোকবার্তা আর মাত্র কয়েকদিন পরেই আমার, আপনার টাইমলাইনে আসবে! ...আপনার মৃত্যুর খবর শুনে আপনার জন্য দুই রাকাত সালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করবে এমন একজন মানুষ হয়তো হাতে গুনেও পাওয়া যাবে না এই ভার্চুয়াল জগতে! তার এই স্ট্যাটাসটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।
স্থানীয়দের দাবি, জনৈক এক প্রেমিকার প্রতারণার শিকার হয়েই নাজমুল আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই অজ্ঞাত প্রেমিকা নাজমুলের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা, মালামাল হাতিয়ে নিয়ে তার সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। প্রেমিকার বিবাহ হয়েছে জেনেই নাজমুল আত্মহত্যা করেছেন।
মির্জাগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সালাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রেমঘটিত কারণে নাজমুল আত্মহত্যা করেছে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অন্যদিকে, উপজেলার উত্তর গাবুয়া গ্রামে ভোর ৫টার দিকে মো. শাহীন নামের এক যুবক বাড়ির পাশের আমগাছে কাঁথা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। মৃত শাহীনের স্ত্রী চাঁদনী জানান, তার স্বামী পেশায় একজন টমটম চালক ছিলেন এবং গত কয়েকদিন ধরে তিনি মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত ছিলেন। ভোরে শাহীনের মা ওজু করতে বাইরে বের হলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
তবে স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, এনজিওর (গ্রামীণ ব্যাংক) ঋণের কিস্তির অতিরিক্ত চাপের কারণেই শাহীন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। অভাবের সংসারে কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন।
মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক দুটি ঘটনায় আইনী প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরিত হয়েছে এবং অন্যটি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২০
১০–২০ হাজার টাকায় নদীতে মাছ ধরার সুযোগ, টাকা দিয়ে জেলে ও জাল ছাড়ানোর অভিযোগ
মা ইলিশ রক্ষায় তেঁতুলিয়া নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে নদীতে দিনরাত অভিযান চালানোর কথা নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের। কিন্তু এই অভিযান ঘিরেই পটুয়াখালীর বাউফলে উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে জেলেদের নদীতে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আটক জেলেদের কারও কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি অভিযানে জব্দ করা জাল ও মাছ গোপনে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে।
তেঁতুলিয়া নদীর চরফেডারেশন, বাতিরখাল, চরওয়াঢেল, খানকা, চরকলাইয়া ও চর শৌলা পয়েন্ট ঘিরে কয়েক দিনের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় জেলে, নদীপারের বাসিন্দা এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে অর্থ লেনদেনের একাধিক ঘটনা। তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত ৮ অক্টোবর থেকে তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়, যা ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানের কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রে এককভাবে অভিযান পরিচালনা করছেন। এসব অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের শুরু থেকেই একশ্রেণির জেলের সঙ্গে আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে নদীতে মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ট্রলারপ্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও নদীপারের বাসিন্দা।
গত ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর চরফেডারেশন ও দক্ষিণ চরওয়াঢেলের মাঝামাঝি এলাকায় সরেজমিন পর্যবেক্ষণে একাধিক মাছ ধরার ট্রলার দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, নৌ পুলিশের একটি টহল ট্রলার ওই এলাকায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় অবস্থান করছিল। কাছাকাছি দূরত্বে কয়েকটি জেলেট্রলারকে নদীতে জাল ফেলতে এবং মাছ ধরে চলে যেতে দেখা যায়।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পুলিশের টহল ট্রলারের কাছাকাছি এমন দৃশ্য দেখে অভিযান পরিচালনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওই সময় মাছ ধরতে দেখা যাওয়া জেলেরা কোনো আর্থিক চুক্তির আওতায় ছিলেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় জেলে ও নদীপারের বাসিন্দাদের দাবি, কিছু জেলে আগে থেকেই অভিযানের গতিবিধি জানতে পারেন। ফলে পুলিশ নদীতে নামার আগেই তাঁরা নিরাপদ স্থানে সরে যান। তাঁদের অভিযোগ, চরব্যারেট, বাতিরখাল, খানকা, দেবীরচর, চরকলাইয়া ও বগী-তুলাতলা এলাকার প্রায় অর্ধশত ট্রলারের জেলেদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সমঝোতা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, টাকার বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। তবে টহলের কাছাকাছি জেলেদের মাছ ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক অসচ্ছল মানুষ নদীতে জাল ফেলেন, মানবিক কারণে তাঁদের ধরা হয় না।
অভিযান ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আটক জেলে ও জব্দ করা সরঞ্জাম নিয়ে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সময় জেলেদের আটক করার পর কখনো নদীর মধ্যেই অর্থ লেনদেনের আলোচনা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে কোনো কোনো জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা জালও ১ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। জব্দ মাছ হালি হিসেবে ৪০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এসব লেনদেনে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্য, ট্রলারচালক জালাল গাজী এবং তাঁর ভাই ফিরোজ গাজীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে অভিযোগের প্রতিটি লেনদেনের স্বাধীন প্রমাণ বা পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযান শুরুর পর থেকে ২১ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার অভিযোগে ৪৪ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ২২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ১১টি নিয়মিত মামলার মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও মাছ জব্দের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস এবং মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
তবে আটক ও সাজাপ্রাপ্তদের সরকারি নথি, জব্দ করা জালের পরিমাণ, ধ্বংসের কার্যবিবরণী এবং মাছ বিতরণের রসিদ যাচাই করা গেলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
গত ১৬ অক্টোবর সকালে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তেঁতুলিয়া নদীতে জাল ফেলতে গিয়ে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে নুর আলম আটক হন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ফিরোজ গাজীর মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি মুক্তি পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
একইভাবে গত ১৮ অক্টোবর ভোরে তেঁতুলিয়া নদীর চরদিয়ারা এলাকা থেকে চারটি ট্রলারসহ কয়েকজন জেলেকে আটক করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ট্রলারপ্রতি ৫ হাজার টাকা হিসেবে মোট ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়া জেলেদের একজন রাকিব (ছদ্মনাম)। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চারটি ছোট ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ তাঁদের আটক করা হয়েছিল। পরে ট্রলারপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকায় ছেড়ে দেওয়ার সমঝোতা হয়। তাঁদের কাছে নগদ টাকা না থাকায় নৌ পুলিশের ট্রলারচালক জালাল গাজীর ভাই ফিরোজ গাজীর জিম্মায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁরা ওই টাকা পরিশোধ করেন বলে দাবি করেন রাকিব।
একই দিন চরদিয়ারা এলাকার জেলে শাহিন, হারুন গাজীসহ কয়েকজনকে জালসহ আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, হারুন গাজীসহ দুজনকে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে শাহিনকে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে মামলার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়।
শাহিনের অভিযোগ, তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নৌ পুলিশের এএসআই কবির হোসেন ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, জব্দ করা জাল ভোলার লালমোহনের নাজিম নামের এক ব্যক্তির কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই কবির হোসেনের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। জাল জব্দ, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তির সরকারি নথি পরীক্ষা করলেই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
গত ১৯ অক্টোবর চরফেডারেশন এলাকার একটি খাল থেকে মাছ ধরতে নামা এক জেলের ট্রলার জব্দ করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে নৌ পুলিশের ট্রলারচালক জালাল গাজীকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ট্রলারটি ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরদিন ২০ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে দক্ষিণ চরওয়াঢেল ও খানকা বাজারের পূর্ব-দক্ষিণ দিক থেকে চর রায়সাহেব এলাকা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ জন জেলের জাল জব্দ করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানান।
তাঁদের দাবি, জালগুলো জব্দের পর নৌ পুলিশের ট্রলারে রাখা হয়। পরে কয়েকজন জেলে জাল ফেরত পেতে ট্রলারচালকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে চরওয়াঢেলের জেলে শহিদুল ও সুজন ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে জাল ছাড়িয়ে আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জাল ফেরত আনার পর স্থানীয় আরেক জেলে নুর জামাল অভিযোগ করেন, শহিদুল টাকা দিয়ে তাঁর জালও নিয়ে এসেছেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে পূর্ব কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহাগের অভিযোগ, নদীতে জাল ফেলার পর চরফেডারেশন এলাকায় অবস্থানকালে নৌ পুলিশ তাঁর জাল জব্দ করে। পরে সেই জাল চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের কালা রাশেদ নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরকালাইয়া গ্রামের আরেক জেলে বলেন, শনিবার নদীতে জাল ফেলে তিনি চরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় নৌ পুলিশের ট্রলার তাঁর জাল তুলে নেয়। পরে সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর ১ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে জাল ফেরত পান বলে তাঁর দাবি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অভিযানে জব্দ করা জাল ও মাছ ট্রলারচালক জালাল গাজীর কাছে রাখা হতো। পরে সেগুলো বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো এবং এর বিনিময়ে কমিশন দেওয়া হতো। তবে এই অভিযোগের পক্ষে আর্থিক লেনদেনের নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টাকার বিনিময়ে জেলে ও তাঁদের নৌকা-জাল ছেড়ে দেওয়া এবং জব্দ করা মাছ ও জাল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার ও এএসআই কবির হোসেন। তাঁদের দাবি, এসব অভিযোগ মিথ্যা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল অঞ্চল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার এসএম নাজমুল হক বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ বলেন, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করার কথা। কিন্তু নৌ পুলিশ পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করায় সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।
মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন ধরে রাখা। এ সময়ে নদীতে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু অভিযানের মধ্যেই যদি অর্থের বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া বা জব্দ করা সরঞ্জাম বিক্রির অভিযোগ ওঠে, তাহলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযানের সরকারি নথি যাচাই, জব্দ করা জাল ও মাছের হিসাব পরীক্ষা এবং অভিযোগকারী জেলেদের বক্তব্য গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা উচিত। মা ইলিশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নদী রক্ষার উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।'
১০–২০ হাজার টাকায় নদীতে মাছ ধরার সুযোগ, টাকা দিয়ে জেলে ও জাল ছাড়ানোর অভিযোগ
মা ইলিশ রক্ষায় তেঁতুলিয়া নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে নদীতে দিনরাত অভিযান চালানোর কথা নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের। কিন্তু এই অভিযান ঘিরেই পটুয়াখালীর বাউফলে উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে জেলেদের নদীতে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আটক জেলেদের কারও কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি অভিযানে জব্দ করা জাল ও মাছ গোপনে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে।
তেঁতুলিয়া নদীর চরফেডারেশন, বাতিরখাল, চরওয়াঢেল, খানকা, চরকলাইয়া ও চর শৌলা পয়েন্ট ঘিরে কয়েক দিনের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় জেলে, নদীপারের বাসিন্দা এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে অর্থ লেনদেনের একাধিক ঘটনা। তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত ৮ অক্টোবর থেকে তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়, যা ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানের কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রে এককভাবে অভিযান পরিচালনা করছেন। এসব অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের শুরু থেকেই একশ্রেণির জেলের সঙ্গে আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে নদীতে মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ট্রলারপ্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও নদীপারের বাসিন্দা।
গত ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর চরফেডারেশন ও দক্ষিণ চরওয়াঢেলের মাঝামাঝি এলাকায় সরেজমিন পর্যবেক্ষণে একাধিক মাছ ধরার ট্রলার দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, নৌ পুলিশের একটি টহল ট্রলার ওই এলাকায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় অবস্থান করছিল। কাছাকাছি দূরত্বে কয়েকটি জেলেট্রলারকে নদীতে জাল ফেলতে এবং মাছ ধরে চলে যেতে দেখা যায়।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পুলিশের টহল ট্রলারের কাছাকাছি এমন দৃশ্য দেখে অভিযান পরিচালনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওই সময় মাছ ধরতে দেখা যাওয়া জেলেরা কোনো আর্থিক চুক্তির আওতায় ছিলেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় জেলে ও নদীপারের বাসিন্দাদের দাবি, কিছু জেলে আগে থেকেই অভিযানের গতিবিধি জানতে পারেন। ফলে পুলিশ নদীতে নামার আগেই তাঁরা নিরাপদ স্থানে সরে যান। তাঁদের অভিযোগ, চরব্যারেট, বাতিরখাল, খানকা, দেবীরচর, চরকলাইয়া ও বগী-তুলাতলা এলাকার প্রায় অর্ধশত ট্রলারের জেলেদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সমঝোতা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, টাকার বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। তবে টহলের কাছাকাছি জেলেদের মাছ ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক অসচ্ছল মানুষ নদীতে জাল ফেলেন, মানবিক কারণে তাঁদের ধরা হয় না।
অভিযান ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আটক জেলে ও জব্দ করা সরঞ্জাম নিয়ে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সময় জেলেদের আটক করার পর কখনো নদীর মধ্যেই অর্থ লেনদেনের আলোচনা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে কোনো কোনো জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা জালও ১ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। জব্দ মাছ হালি হিসেবে ৪০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এসব লেনদেনে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্য, ট্রলারচালক জালাল গাজী এবং তাঁর ভাই ফিরোজ গাজীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে অভিযোগের প্রতিটি লেনদেনের স্বাধীন প্রমাণ বা পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযান শুরুর পর থেকে ২১ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার অভিযোগে ৪৪ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ২২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ১১টি নিয়মিত মামলার মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও মাছ জব্দের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস এবং মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
তবে আটক ও সাজাপ্রাপ্তদের সরকারি নথি, জব্দ করা জালের পরিমাণ, ধ্বংসের কার্যবিবরণী এবং মাছ বিতরণের রসিদ যাচাই করা গেলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
গত ১৬ অক্টোবর সকালে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তেঁতুলিয়া নদীতে জাল ফেলতে গিয়ে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে নুর আলম আটক হন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ফিরোজ গাজীর মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি মুক্তি পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
একইভাবে গত ১৮ অক্টোবর ভোরে তেঁতুলিয়া নদীর চরদিয়ারা এলাকা থেকে চারটি ট্রলারসহ কয়েকজন জেলেকে আটক করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ট্রলারপ্রতি ৫ হাজার টাকা হিসেবে মোট ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়া জেলেদের একজন রাকিব (ছদ্মনাম)। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চারটি ছোট ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ তাঁদের আটক করা হয়েছিল। পরে ট্রলারপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকায় ছেড়ে দেওয়ার সমঝোতা হয়। তাঁদের কাছে নগদ টাকা না থাকায় নৌ পুলিশের ট্রলারচালক জালাল গাজীর ভাই ফিরোজ গাজীর জিম্মায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁরা ওই টাকা পরিশোধ করেন বলে দাবি করেন রাকিব।
একই দিন চরদিয়ারা এলাকার জেলে শাহিন, হারুন গাজীসহ কয়েকজনকে জালসহ আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, হারুন গাজীসহ দুজনকে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে শাহিনকে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে মামলার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়।
শাহিনের অভিযোগ, তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নৌ পুলিশের এএসআই কবির হোসেন ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, জব্দ করা জাল ভোলার লালমোহনের নাজিম নামের এক ব্যক্তির কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই কবির হোসেনের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। জাল জব্দ, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তির সরকারি নথি পরীক্ষা করলেই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
গত ১৯ অক্টোবর চরফেডারেশন এলাকার একটি খাল থেকে মাছ ধরতে নামা এক জেলের ট্রলার জব্দ করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে নৌ পুলিশের ট্রলারচালক জালাল গাজীকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ট্রলারটি ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরদিন ২০ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে দক্ষিণ চরওয়াঢেল ও খানকা বাজারের পূর্ব-দক্ষিণ দিক থেকে চর রায়সাহেব এলাকা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ জন জেলের জাল জব্দ করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানান।
তাঁদের দাবি, জালগুলো জব্দের পর নৌ পুলিশের ট্রলারে রাখা হয়। পরে কয়েকজন জেলে জাল ফেরত পেতে ট্রলারচালকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে চরওয়াঢেলের জেলে শহিদুল ও সুজন ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে জাল ছাড়িয়ে আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জাল ফেরত আনার পর স্থানীয় আরেক জেলে নুর জামাল অভিযোগ করেন, শহিদুল টাকা দিয়ে তাঁর জালও নিয়ে এসেছেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে পূর্ব কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহাগের অভিযোগ, নদীতে জাল ফেলার পর চরফেডারেশন এলাকায় অবস্থানকালে নৌ পুলিশ তাঁর জাল জব্দ করে। পরে সেই জাল চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের কালা রাশেদ নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরকালাইয়া গ্রামের আরেক জেলে বলেন, শনিবার নদীতে জাল ফেলে তিনি চরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় নৌ পুলিশের ট্রলার তাঁর জাল তুলে নেয়। পরে সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর ১ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে জাল ফেরত পান বলে তাঁর দাবি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অভিযানে জব্দ করা জাল ও মাছ ট্রলারচালক জালাল গাজীর কাছে রাখা হতো। পরে সেগুলো বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো এবং এর বিনিময়ে কমিশন দেওয়া হতো। তবে এই অভিযোগের পক্ষে আর্থিক লেনদেনের নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টাকার বিনিময়ে জেলে ও তাঁদের নৌকা-জাল ছেড়ে দেওয়া এবং জব্দ করা মাছ ও জাল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার ও এএসআই কবির হোসেন। তাঁদের দাবি, এসব অভিযোগ মিথ্যা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল অঞ্চল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার এসএম নাজমুল হক বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ বলেন, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করার কথা। কিন্তু নৌ পুলিশ পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করায় সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।
মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন ধরে রাখা। এ সময়ে নদীতে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু অভিযানের মধ্যেই যদি অর্থের বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া বা জব্দ করা সরঞ্জাম বিক্রির অভিযোগ ওঠে, তাহলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযানের সরকারি নথি যাচাই, জব্দ করা জাল ও মাছের হিসাব পরীক্ষা এবং অভিযোগকারী জেলেদের বক্তব্য গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা উচিত। মা ইলিশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নদী রক্ষার উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।'

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৮
আগামী তিন মাসের মধ্যে ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেতে পারে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী। একই সঙ্গে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ও পর্যটন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় কুয়াকাটায় দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
জোনায়েদ সাকী বলেন, ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক প্রকল্প আগামী তিন মাসের মধ্যে একনেকে অনুমোদন পেতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কুয়াকাটাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পিতভাবে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হলে দীর্ঘসূত্রিতা কমবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
মতবিনিময় সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনসহ বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী তিন মাসের মধ্যে ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেতে পারে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী। একই সঙ্গে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ও পর্যটন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় কুয়াকাটায় দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
জোনায়েদ সাকী বলেন, ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক প্রকল্প আগামী তিন মাসের মধ্যে একনেকে অনুমোদন পেতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কুয়াকাটাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পিতভাবে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হলে দীর্ঘসূত্রিতা কমবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
মতবিনিময় সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনসহ বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:২৫
পটুয়াখালীর বাউফলে গাছের ডাল মাথায় পড়ে মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার (৬৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে বাউফল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার ওই এলাকার মৃত আনালি হাওলাদারের ছেলে। তিনি পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন।
নিহতের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মিজানুর রহমান জানান, কালাইয়ার এক ব্যক্তির কাছে তাঁদের বাড়ির কয়েকটি গাছ বিক্রি করা হয়েছিল। বুধবার দুপুরে এক কাঠুরিয়া গাছে উঠে একটি ডাল কাটেন। পরে আরেক কাঠুরিয়া রশি দিয়ে ডালটি বেঁধে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় গাছের অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিন হাওলাদারের মাথার ওপর ডালটি পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে তাঁকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইরফান উদ্দিন তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় এ ঘটনায় আইনি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পটুয়াখালীর বাউফলে গাছের ডাল মাথায় পড়ে মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার (৬৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে বাউফল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার ওই এলাকার মৃত আনালি হাওলাদারের ছেলে। তিনি পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন।
নিহতের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মিজানুর রহমান জানান, কালাইয়ার এক ব্যক্তির কাছে তাঁদের বাড়ির কয়েকটি গাছ বিক্রি করা হয়েছিল। বুধবার দুপুরে এক কাঠুরিয়া গাছে উঠে একটি ডাল কাটেন। পরে আরেক কাঠুরিয়া রশি দিয়ে ডালটি বেঁধে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় গাছের অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিন হাওলাদারের মাথার ওপর ডালটি পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে তাঁকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইরফান উদ্দিন তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় এ ঘটনায় আইনি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

১৬ মে, ২০২৬ ১৪:৩৭
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পৃথক দুটি স্থানে গলায় ফাঁস দিয়ে দুই যুবক আত্মহত্যা করেছেন। তারা ‘প্রেমিকার প্রতারণা’ ও ‘ঋণের কিস্তির অতিরিক্ত চাপে’ এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) ভোরে উপজেলার কাঁকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের মকুমা ও উত্তর গাবুয়া গ্রামে এই ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতরা হলেন— মকুমা গ্রামের মো. জলিল খানের ছেলে নাজমুল হাসান (১৯) এবং উত্তর গাবুয়া গ্রামের মৃত মো. শহিদের ছেলে টমটম চালক মো. শাহীন (২৮)।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মকুমা গ্রামের নাজমুল হাসান বৃহস্পতিবার (১ মে) দিবাগত রাতে বসতঘরের দ্বিতীয় তলায় পড়াশোনা করতে যান। রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটের দিকে নাজমুলের ফুফাতো ভাই ফোনে তার খোঁজ নিতে বললে, মা দোতলায় গিয়ে দেখেন নাজমুল আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুঁলে আছেন। দ্রুত উদ্ধার করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাজমুলের মৃত্যুর পর তার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর মাত্র ৫ দিন আগে তিনি নিজের মৃত্যু নিয়ে একটি কাল্পনিক শোকবার্তা লিখেছিলেন।
সেখানে তিনি লিখেছিলেন, এই আইডির মালিক মো. নাজমুল হাসান খান আর পৃথিবীতে নেই... এমন একটি শোকবার্তা আর মাত্র কয়েকদিন পরেই আমার, আপনার টাইমলাইনে আসবে! ...আপনার মৃত্যুর খবর শুনে আপনার জন্য দুই রাকাত সালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করবে এমন একজন মানুষ হয়তো হাতে গুনেও পাওয়া যাবে না এই ভার্চুয়াল জগতে! তার এই স্ট্যাটাসটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।
স্থানীয়দের দাবি, জনৈক এক প্রেমিকার প্রতারণার শিকার হয়েই নাজমুল আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই অজ্ঞাত প্রেমিকা নাজমুলের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা, মালামাল হাতিয়ে নিয়ে তার সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। প্রেমিকার বিবাহ হয়েছে জেনেই নাজমুল আত্মহত্যা করেছেন।
মির্জাগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সালাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রেমঘটিত কারণে নাজমুল আত্মহত্যা করেছে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অন্যদিকে, উপজেলার উত্তর গাবুয়া গ্রামে ভোর ৫টার দিকে মো. শাহীন নামের এক যুবক বাড়ির পাশের আমগাছে কাঁথা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। মৃত শাহীনের স্ত্রী চাঁদনী জানান, তার স্বামী পেশায় একজন টমটম চালক ছিলেন এবং গত কয়েকদিন ধরে তিনি মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত ছিলেন। ভোরে শাহীনের মা ওজু করতে বাইরে বের হলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
তবে স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, এনজিওর (গ্রামীণ ব্যাংক) ঋণের কিস্তির অতিরিক্ত চাপের কারণেই শাহীন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। অভাবের সংসারে কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন।
মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক দুটি ঘটনায় আইনী প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরিত হয়েছে এবং অন্যটি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৪
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৭
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২০
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪২