ছবি: সংগৃহীত
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়ে ১৫০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ জাল এবং ৭ লাখ টাকা মূল্যের মাছ জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্যসহ বিভিন্ন অপরাধে ২২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে ভোলার খাল এলাকায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার জামিলুর রহমান।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের আওতাধীন নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে শুধু অভিযান পরিচালনাই নয়, জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করছে কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে কার্যকর করা গেলে ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ জন্য জেলেদের পাশাপাশি মাছ ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রিসহ যেকোনো অনিয়মের তথ্য জানাতে কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে বাহিনীটি।

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৫
ভোলার বোরহানউদ্দিনে ঢাকা থেকে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরের পানিতে ডুবে আবু বকর (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। আবু বকর একই উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শহিদুল হক কাজির ছেলে।
প্রতিবেশীরা জানান, আবু বকর দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকায় থাকত। শনিবার সকাল ৮টার দিকে মামা ইমনের সঙ্গে ঢাকা থেকে নানা ছিঠু খানের বাড়িতে বেড়াতে আসে সে। সকাল ১১টার দিকে ওই বাড়ির পুকুরে মাছ ধরতে দেখে পুকুরপাড়ে যায় শিশুটি।
কিছুক্ষণ পর তাকে দেখতে না পেয়ে আত্মীয়স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরের পানিতে তাকে ভাসতে দেখে উদ্ধার করা হয়। পরে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির এমন মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাচড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কয়ছর আহমেদ পরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে ঢাকা থেকে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরের পানিতে ডুবে আবু বকর (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। আবু বকর একই উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শহিদুল হক কাজির ছেলে।
প্রতিবেশীরা জানান, আবু বকর দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকায় থাকত। শনিবার সকাল ৮টার দিকে মামা ইমনের সঙ্গে ঢাকা থেকে নানা ছিঠু খানের বাড়িতে বেড়াতে আসে সে। সকাল ১১টার দিকে ওই বাড়ির পুকুরে মাছ ধরতে দেখে পুকুরপাড়ে যায় শিশুটি।
কিছুক্ষণ পর তাকে দেখতে না পেয়ে আত্মীয়স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরের পানিতে তাকে ভাসতে দেখে উদ্ধার করা হয়। পরে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির এমন মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাচড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কয়ছর আহমেদ পরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০১
ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে পূর্ববিরোধের জেরে বিএনপির এক ওয়ার্ড সভাপতিকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত এক যুবককে স্থানীয় লোকজন গণপিটুনি দেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হোসেন হাওলাদারের পরিবারের সঙ্গে ৪ নম্বর মেদুয়া গ্রামের দলু হাওলাদারের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যায় বাজারে যাওয়ার পথে হোসেন হাওলাদারকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে অভিযুক্ত আসিফ হোসেন হাওলাদারকে এলাকায় গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা হোসেন হাওলাদারের সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল। তবে বিরোধের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইলিশা তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ বশির আলম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে পূর্ববিরোধের জেরে বিএনপির এক ওয়ার্ড সভাপতিকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত এক যুবককে স্থানীয় লোকজন গণপিটুনি দেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হোসেন হাওলাদারের পরিবারের সঙ্গে ৪ নম্বর মেদুয়া গ্রামের দলু হাওলাদারের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যায় বাজারে যাওয়ার পথে হোসেন হাওলাদারকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে অভিযুক্ত আসিফ হোসেন হাওলাদারকে এলাকায় গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা হোসেন হাওলাদারের সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল। তবে বিরোধের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইলিশা তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ বশির আলম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৪৮
ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে থামছে না ইলিশ শিকার। চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচির আওতায় গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নদীর অভয়াশ্রমে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ‘ঢিলেঢালা’ ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পর্যন্ত ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার অভিযোগে পরিচালিত অভিযানে অর্ধশতাধিক জেলেকে আটক করা হয়েছে। মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এসব অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫১টি মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ৩৫ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কয়েকজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার করা ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১ লাখ ৭০ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। আটক কয়েকটি নৌকা নিলামে বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন।
এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পৃথক অভিযান চালায়। ভোলা সদর উপজেলায় ১৭ জন জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা হয়। এ সময় তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযানকালে তিনটি নৌকা, ১০ কেজি ইলিশ ও ২৫ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। দৌলতখান উপজেলায় তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক জেলেকে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি একটি নৌকা, ১৫ কেজি ইলিশ ও ১ লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। তজুমদ্দিন উপজেলায় ১০ জন জেলেকে আটক করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁদের কাছ থেকে দুটি নৌকা, ছয় কেজি মাছ ও ২০ হাজার মিটার জাল উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে চরফ্যাশন উপজেলায় আটক আটজনের মধ্যে ছয়জনকে কারাদণ্ড এবং দুজনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ অভিযানে ১০ কেজি ইলিশ ও ২২ হাজার মিটার জাল জব্দ করে পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ।
মৎস্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাতটি উপজেলায় সরকারি নিবন্ধনভুক্ত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১২ জন। তবে চলতি বছর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে খাদ্যসহায়তা হিসেবে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলের জন্য ৩ হাজার ৫৯১ দশমিক ৪ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে ভোলা সদরে ৫২৫ টন, দৌলতখানে ৫০০ টন, বোরহানউদ্দিনে ৪৩০ টন, তজুমদ্দিনে ৪৩২ দশমিক ৫ টন, লালমোহনে ৫২৫ টন, চরফ্যাশনে ৮৯১ দশমিক ৪ টন এবং মনপুরায় ২৮৭ দশমিক ৫ টন চাল রয়েছে। প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও নিবন্ধিত হয়েও ২৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলে এ সহায়তার বাইরে থাকছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বরাদ্দ করা চালের ৫০ শতাংশ ইতিমধ্যে জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে ভোলার সাতটি উপজেলার নদীবেষ্টিত এলাকায় মাছ ধরে প্রায় তিন লাখ জেলে জীবিকা নির্বাহ করেন। অথচ সরকারি নিবন্ধনে তাঁদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন মাত্র ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১২ জন। উপজেলাভিত্তিক হিসাবে ভোলা সদরে ২২ হাজার ২৫২ জন, দৌলতখানে ২১ হাজার ৫০২ জন, বোরহানউদ্দিনে ১৯ হাজার ৩৫০ জন, তজুমদ্দিনে ১৮ হাজার ৭১৭ জন, মনপুরায় ১৬ হাজার ৪০০ জন, লালমোহনে ২৪ হাজার ৮০৬ জন এবং চরফ্যাশনে ৪৪ হাজার ২৮৫ জন জেলে নিবন্ধিত রয়েছেন।
স্থানীয় মাঝিরা জানান, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে জেলেরা আর্থিক কষ্টের মধ্যেও তা মেনে চলেন। তবে নিষেধাজ্ঞার সময় তাঁদের দুরবস্থা ও পরিবারের ভরণপোষণের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায় না বলে অভিযোগ তাঁদের। কয়েকজন জেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চার-পাঁচ বছর আগে জেলে কার্ড পেলেও এখন পর্যন্ত সরকারি চাল পাননি তাঁরা। প্রতিবছর চাল পাওয়ার আশায় ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়। পরিষদ থেকে জানানো হয়, সবার নামে বরাদ্দ আসেনি। ফলে সংসারের খরচ চালাতে বাধ্য হয়ে ধারদেনা করতে হচ্ছে তাঁদের।
পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের জংষন গ্রামের জেলে আবুল কালাম মাঝি বলেন, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মাছ ধরতে না পারায় কোনো আয় থাকবে না। এ অবস্থায় পরিবারের খরচ চালানো এবং ব্যাংক ও এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। জাল ও নৌকা কেনার জন্য প্রায় সব জেলেকেই ব্যাংক কিংবা এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। তাই নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে জেলেদের আর্থিক চাপ কমাতে ব্যাংক ও এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, চলতি বছর দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণের কার্যক্রম চলছে। কোনো জেলে যেন নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল না পান, সে জন্য মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালে এনজিওগুলোর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অভিযানে জনবল ও প্রয়োজনীয় সহায়তার কিছুটা ঘাটতি থাকলেও ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে কঠোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে থামছে না ইলিশ শিকার। চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচির আওতায় গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নদীর অভয়াশ্রমে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ‘ঢিলেঢালা’ ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পর্যন্ত ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার অভিযোগে পরিচালিত অভিযানে অর্ধশতাধিক জেলেকে আটক করা হয়েছে। মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এসব অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫১টি মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ৩৫ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কয়েকজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার করা ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১ লাখ ৭০ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। আটক কয়েকটি নৌকা নিলামে বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন।
এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পৃথক অভিযান চালায়। ভোলা সদর উপজেলায় ১৭ জন জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা হয়। এ সময় তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযানকালে তিনটি নৌকা, ১০ কেজি ইলিশ ও ২৫ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। দৌলতখান উপজেলায় তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক জেলেকে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি একটি নৌকা, ১৫ কেজি ইলিশ ও ১ লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। তজুমদ্দিন উপজেলায় ১০ জন জেলেকে আটক করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁদের কাছ থেকে দুটি নৌকা, ছয় কেজি মাছ ও ২০ হাজার মিটার জাল উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে চরফ্যাশন উপজেলায় আটক আটজনের মধ্যে ছয়জনকে কারাদণ্ড এবং দুজনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ অভিযানে ১০ কেজি ইলিশ ও ২২ হাজার মিটার জাল জব্দ করে পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ।
মৎস্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাতটি উপজেলায় সরকারি নিবন্ধনভুক্ত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১২ জন। তবে চলতি বছর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে খাদ্যসহায়তা হিসেবে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলের জন্য ৩ হাজার ৫৯১ দশমিক ৪ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে ভোলা সদরে ৫২৫ টন, দৌলতখানে ৫০০ টন, বোরহানউদ্দিনে ৪৩০ টন, তজুমদ্দিনে ৪৩২ দশমিক ৫ টন, লালমোহনে ৫২৫ টন, চরফ্যাশনে ৮৯১ দশমিক ৪ টন এবং মনপুরায় ২৮৭ দশমিক ৫ টন চাল রয়েছে। প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও নিবন্ধিত হয়েও ২৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলে এ সহায়তার বাইরে থাকছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বরাদ্দ করা চালের ৫০ শতাংশ ইতিমধ্যে জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে ভোলার সাতটি উপজেলার নদীবেষ্টিত এলাকায় মাছ ধরে প্রায় তিন লাখ জেলে জীবিকা নির্বাহ করেন। অথচ সরকারি নিবন্ধনে তাঁদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন মাত্র ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১২ জন। উপজেলাভিত্তিক হিসাবে ভোলা সদরে ২২ হাজার ২৫২ জন, দৌলতখানে ২১ হাজার ৫০২ জন, বোরহানউদ্দিনে ১৯ হাজার ৩৫০ জন, তজুমদ্দিনে ১৮ হাজার ৭১৭ জন, মনপুরায় ১৬ হাজার ৪০০ জন, লালমোহনে ২৪ হাজার ৮০৬ জন এবং চরফ্যাশনে ৪৪ হাজার ২৮৫ জন জেলে নিবন্ধিত রয়েছেন।
স্থানীয় মাঝিরা জানান, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে জেলেরা আর্থিক কষ্টের মধ্যেও তা মেনে চলেন। তবে নিষেধাজ্ঞার সময় তাঁদের দুরবস্থা ও পরিবারের ভরণপোষণের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায় না বলে অভিযোগ তাঁদের। কয়েকজন জেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চার-পাঁচ বছর আগে জেলে কার্ড পেলেও এখন পর্যন্ত সরকারি চাল পাননি তাঁরা। প্রতিবছর চাল পাওয়ার আশায় ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়। পরিষদ থেকে জানানো হয়, সবার নামে বরাদ্দ আসেনি। ফলে সংসারের খরচ চালাতে বাধ্য হয়ে ধারদেনা করতে হচ্ছে তাঁদের।
পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের জংষন গ্রামের জেলে আবুল কালাম মাঝি বলেন, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মাছ ধরতে না পারায় কোনো আয় থাকবে না। এ অবস্থায় পরিবারের খরচ চালানো এবং ব্যাংক ও এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। জাল ও নৌকা কেনার জন্য প্রায় সব জেলেকেই ব্যাংক কিংবা এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। তাই নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে জেলেদের আর্থিক চাপ কমাতে ব্যাংক ও এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, চলতি বছর দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণের কার্যক্রম চলছে। কোনো জেলে যেন নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল না পান, সে জন্য মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালে এনজিওগুলোর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অভিযানে জনবল ও প্রয়োজনীয় সহায়তার কিছুটা ঘাটতি থাকলেও ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে কঠোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৩১
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়ে ১৫০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ জাল এবং ৭ লাখ টাকা মূল্যের মাছ জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্যসহ বিভিন্ন অপরাধে ২২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে ভোলার খাল এলাকায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার জামিলুর রহমান।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের আওতাধীন নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে শুধু অভিযান পরিচালনাই নয়, জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করছে কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে কার্যকর করা গেলে ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ জন্য জেলেদের পাশাপাশি মাছ ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রিসহ যেকোনো অনিয়মের তথ্য জানাতে কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে বাহিনীটি।