Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৪৬
বহু অঘটন পটিয়াসী বরিশালের ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের পরিচালক জহিরুল ইসলামের এবার অর্থ আত্মসাতের একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। তার মালিকাধীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের নামে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানপ্রধানের চৌর্যবৃত্তির এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ নার্সিং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল শহরের সিঅ্যান্ডবি রোডস্থ প্রতিষ্ঠানটিতে বিক্ষোভ করে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য উপাত্ত্ব মিডিয়ায় তুলে ধরেছে। এর কিছুদিন আগে জহিরুল ইসলামের অতীতের বেশকিছু নোংরা কাহিনী মিডিয়ায় প্রকাশ পায়। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আয়েশা আক্তার নামের এক বিবাহিত তরুণীর সাথে হৃদয়ঘটিত সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করলে ওই নারীর স্বামী ঝালকাঠিতে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় জহির এবং তার নবাগত স্ত্রী আয়েশাকে অভিযুক্ত করে সাবেক স্বামী।
ঝালকাঠির সেই মামলার খবর পত্রিকায় প্রকাশ হলে জহির বরিশাল প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন এবং অনলাইন নিউজপোর্টাল বরিশালটাইমসের প্রকাশক হাসিবুল ইসলামসহ বরিশাল-পটুয়াখালীর অন্তত ১৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। আলোচিত ওই মামলায় জহির তার বড় স্ত্রী মেহেরুন্নেছাকেও অভিযুক্ত করেছেন। সেই বিতর্কের রেশ না কাটতেই এবার ডিডাব্লিউএফ প্রতিষ্ঠানপ্রধান জহিরুলের অর্থ কেলেংকারির বিষয়টি বেশ আলোচনায় আসল।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্লিনিক প্রাক্টিসের জন্য তাদের কাছ থেকে কোনো রসিদ ছাড়াই ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা দাবি করে এই টাকা শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়।
অন্দোলনরত একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, পরিচালক জহিরুল ইসলামের অধীনে থাকা আনোয়ারা, রাজধানী ও পটুয়াখালীর জহির-মেহেরুন নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও একইভাবে টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী অন্তু বিশ্বাস বলেন, আমরা যখন প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করি, তখন থিওরিক্যাল আলাপের পর আমাদের ক্লিনিক প্রাক্টিসে বের হতে হয়। তখন শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের ডেমো দেখিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের ব্যাচ থেকে ২৭ লক্ষ টাকা নিয়ে নেয়, এটা শুধু আমাদের কলেজ না বাকি কলেজের থেকেও নিয়েছে।
আরেক আন্দোলনরত শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, আমাদের সবার কাছ থেকে ক্লিনিক প্রাক্টিস বাবদ ১২ হাজার টাকা নেয়। প্রথমে আন্দোলন করার পর বলছে ফেরত দিবে। আমরা যখন টাকা আনতে গেছি তখন কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, এটা শেবাচিমে দিয়েছি।
বৃহস্পতিবার সকালে সিঅ্যান্ডবি রোডস্থ প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ করে অর্থ ফেরত চেয়েছে শিক্ষার্থীরা। তখন কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরতদের অবহিত করে, এই টাকা পুরোটা প্রশিক্ষণ বাবদ শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালককে দেওয়া হয়। এরপরে শিক্ষার্থীরা শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করেন। তখন পরিচালক ব্রি. জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনির সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এবং জানান, তিনি ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে শেবাচিমের দায়িত্বগ্রহণ করেছেন। সুতরাং তদন্ত না করে পূর্বের বিষয়টি নিয়ে কোনো কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে ডিডাব্লিউএফ যে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জর্জরিত তা শিক্ষার্থীদের সাথে স্বল্প সময়ের আলোচনায় অনুমান করেন পরিচালক। এবং তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সাথে পূর্বের করা সকল চুক্তি বাতিল করার আশ্বাসও রাখেন।
প্রশিক্ষণের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে জহিরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি তাকে একাধিকবার হোটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও তিনি তার কোনো উত্তর দেননি। ফলে কিছুটা হলেও অনুমান করা যায় জহিরুল ইসলাম কত মস্তবড় টাউট বা প্রতারক।
বরগুনার আমতলীর বাসিন্দা জহিরুল এক সময় হেলথ কেয়ারের ওষুধ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে কয়েক বছরের মধ্যে তিনি ক্রোড়পতি বনে যান। এবং বরিশাল-বরগুনা-পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক নার্সিং কলেজ গড়ে তোলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক আইন অমান্য করে একটি ভবনে একাধিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন।
জহিরের এই অর্থ বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজ অধ্যক্ষ বাসন্তী রাণী সাংবাদিকদের বলছেন, পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ইতিপূর্বে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। এবং পরক্ষণে তারা দলবেধে শেবাচিম পরিচালকের কাছে গেছে। সেখান থেকে ফেরার পরেও শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা হয়েছে। আশা করা যায়, শিগগিরই বিষয়টি মীমাংসা হবে।
বরিশালের বেসরকারি নার্সিং কলেজের এই অনিয়ম-দুর্নীতির জানতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বরিশালের পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও অপরপ্রান্ত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।’
বহু অঘটন পটিয়াসী বরিশালের ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের পরিচালক জহিরুল ইসলামের এবার অর্থ আত্মসাতের একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। তার মালিকাধীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের নামে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানপ্রধানের চৌর্যবৃত্তির এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ নার্সিং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল শহরের সিঅ্যান্ডবি রোডস্থ প্রতিষ্ঠানটিতে বিক্ষোভ করে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য উপাত্ত্ব মিডিয়ায় তুলে ধরেছে। এর কিছুদিন আগে জহিরুল ইসলামের অতীতের বেশকিছু নোংরা কাহিনী মিডিয়ায় প্রকাশ পায়। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আয়েশা আক্তার নামের এক বিবাহিত তরুণীর সাথে হৃদয়ঘটিত সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করলে ওই নারীর স্বামী ঝালকাঠিতে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় জহির এবং তার নবাগত স্ত্রী আয়েশাকে অভিযুক্ত করে সাবেক স্বামী।
ঝালকাঠির সেই মামলার খবর পত্রিকায় প্রকাশ হলে জহির বরিশাল প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন এবং অনলাইন নিউজপোর্টাল বরিশালটাইমসের প্রকাশক হাসিবুল ইসলামসহ বরিশাল-পটুয়াখালীর অন্তত ১৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। আলোচিত ওই মামলায় জহির তার বড় স্ত্রী মেহেরুন্নেছাকেও অভিযুক্ত করেছেন। সেই বিতর্কের রেশ না কাটতেই এবার ডিডাব্লিউএফ প্রতিষ্ঠানপ্রধান জহিরুলের অর্থ কেলেংকারির বিষয়টি বেশ আলোচনায় আসল।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্লিনিক প্রাক্টিসের জন্য তাদের কাছ থেকে কোনো রসিদ ছাড়াই ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা দাবি করে এই টাকা শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়।
অন্দোলনরত একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, পরিচালক জহিরুল ইসলামের অধীনে থাকা আনোয়ারা, রাজধানী ও পটুয়াখালীর জহির-মেহেরুন নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও একইভাবে টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী অন্তু বিশ্বাস বলেন, আমরা যখন প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করি, তখন থিওরিক্যাল আলাপের পর আমাদের ক্লিনিক প্রাক্টিসে বের হতে হয়। তখন শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের ডেমো দেখিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের ব্যাচ থেকে ২৭ লক্ষ টাকা নিয়ে নেয়, এটা শুধু আমাদের কলেজ না বাকি কলেজের থেকেও নিয়েছে।
আরেক আন্দোলনরত শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, আমাদের সবার কাছ থেকে ক্লিনিক প্রাক্টিস বাবদ ১২ হাজার টাকা নেয়। প্রথমে আন্দোলন করার পর বলছে ফেরত দিবে। আমরা যখন টাকা আনতে গেছি তখন কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, এটা শেবাচিমে দিয়েছি।
বৃহস্পতিবার সকালে সিঅ্যান্ডবি রোডস্থ প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ করে অর্থ ফেরত চেয়েছে শিক্ষার্থীরা। তখন কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরতদের অবহিত করে, এই টাকা পুরোটা প্রশিক্ষণ বাবদ শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালককে দেওয়া হয়। এরপরে শিক্ষার্থীরা শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করেন। তখন পরিচালক ব্রি. জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনির সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এবং জানান, তিনি ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে শেবাচিমের দায়িত্বগ্রহণ করেছেন। সুতরাং তদন্ত না করে পূর্বের বিষয়টি নিয়ে কোনো কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে ডিডাব্লিউএফ যে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জর্জরিত তা শিক্ষার্থীদের সাথে স্বল্প সময়ের আলোচনায় অনুমান করেন পরিচালক। এবং তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সাথে পূর্বের করা সকল চুক্তি বাতিল করার আশ্বাসও রাখেন।
প্রশিক্ষণের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে জহিরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি তাকে একাধিকবার হোটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও তিনি তার কোনো উত্তর দেননি। ফলে কিছুটা হলেও অনুমান করা যায় জহিরুল ইসলাম কত মস্তবড় টাউট বা প্রতারক।
বরগুনার আমতলীর বাসিন্দা জহিরুল এক সময় হেলথ কেয়ারের ওষুধ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে কয়েক বছরের মধ্যে তিনি ক্রোড়পতি বনে যান। এবং বরিশাল-বরগুনা-পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক নার্সিং কলেজ গড়ে তোলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক আইন অমান্য করে একটি ভবনে একাধিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন।
জহিরের এই অর্থ বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজ অধ্যক্ষ বাসন্তী রাণী সাংবাদিকদের বলছেন, পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ইতিপূর্বে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। এবং পরক্ষণে তারা দলবেধে শেবাচিম পরিচালকের কাছে গেছে। সেখান থেকে ফেরার পরেও শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা হয়েছে। আশা করা যায়, শিগগিরই বিষয়টি মীমাংসা হবে।
বরিশালের বেসরকারি নার্সিং কলেজের এই অনিয়ম-দুর্নীতির জানতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বরিশালের পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও অপরপ্রান্ত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।’

২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০

২৪ মে, ২০২৬ ১৫:২৬
শিশু রামিসা হত্যা এবং দেশব্যাপী শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে বরিশালে ‘শিশু বন্ধন’ কর্মসূচি পালন করেছে খেলাঘর। দ্রুত বিচার ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আজ শনিবার সকাল ১০টায় নগরের অশ্বিনীকুমার হলের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা শিশু ধর্ষণসহ সব ধরনের শিশু নির্যাতন বন্ধ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে শিশুদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানান।
খেলাঘর বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি পঙ্কজ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রামিসার মতো নির্মম হত্যাকাণ্ড আর দেখতে চায় না শিশুরা। প্রধানমন্ত্রী এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার যে আশ্বাস দিয়েছেন, এখন সবাই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, নিরাপদ শিশু পরিবেশ গড়ে তুলতে শিশু ধর্ষণসহ সব ধরনের নির্যাতন বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে শিশুদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানান তাঁরা।
শুকতারা খেলাঘর আসর–এর সভাপতি কাজী সেলিনা–র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জীবন কৃষ্ণ দে, খেলাঘর বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শুভংকর চক্রবর্তী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজত টিপু এবং সাধারণ সম্পাদক তৌছিক আহমেদ রাহাত।রক্তঝুমুর খেলাঘরের শিশু সদস্য রাইসা ও নাফি, তিলক, শিক্ষকনেতা আমিনুল ইসলাম খোকন, সনাকের সভাপতি টুলু রাণী কর্মকার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের শিউলি সিংহ, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শিশির, চারুকলা বরিশালের সংগঠক সুষাভ চন্দ্র নিতাই, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সুশান্ত ঘোষ, রক্তঝুমুর খেলাঘর আসরের সভাপতি কামরুন নাহার মেরী এবং জাগৃহী খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক নাহিদ সুলতানা পলি প্রমুখ।’

২৪ মে, ২০২৬ ১৪:০৯
বরিশালে গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ পালরদী এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ও বিপরীতমুখী কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে দক্ষিণ পালরদী এলাকায় বরিশালগামী একটি হাইচ মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১৯-০৭৪২) এবং ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যানের (ঢাকা মেট্রো-উ-১২-১৭৮৯) মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মাত্র এক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত তৎপরতার সাথে আহতদের উদ্ধার করেন।
আহত পাঁচজনই বরগুনা জেলার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। আহতদের মধ্যে একজন পুরুষ, দুইজন নারী এবং দুইজন শিশু রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সরিয়ে নেয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি অথবা অসতর্কতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বরিশাল টাইমস
বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে আবারও রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার মধ্যরাতে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসকরা গতকাল রোববার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। এ নিয়ে গত ১৫ দিনে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তিনটি মারামারির ঘটনা ঘটল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক রোগীকে শনিবার রাত ১২টার পর শেবাচিম হাসপাতালে আনা হয়। তিনি পটুয়াখালী সদরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকার বাসিন্দা। চতুর্থ তলার সার্জারি ওয়ার্ডে নেওয়ার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতের ছোট ভাই রুবেল হাওলাদার বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় লিমন ব্যবস্থাপত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় আমাদের সঙ্গে থাকা বিএম কলেজের শিক্ষার্থী নাহিদ সরোয়ার কারণ জানতে চাইলে বচসা হয়। এক পর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও কর্মচারীরা নাহিদসহ রোগীর স্বজনদের মারধর করে আটকে রাখেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হন। ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও পাল্টা অবস্থান নিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
বরিশালের কোতোয়ালি থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার রাতের ঘটনার জের ধরে নিরাপত্তার অজুহাতে গতকাল সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের প্রায় আড়াইশ ইন্টার্ন চিকিৎসক রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার মূল দায়িত্ব পালন করেন। তারা ধর্মঘটে যাওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে।
ইন্টার্ন ডা. তানভীর হোসেন বলেন, ‘শনিবার রাতে সার্জারি ওয়ার্ডে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর এক মৃতের স্বজনরা হামলা করেছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে হামলা হয়েছে। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ওয়ার্ডে ডিউটি করব না।’
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীম বলেন, শনিবার রাতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে এবং তিনি ইন্টার্নদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। পরিচালক দাবি করেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকরাই বারবার রোগীর স্বজনদের হাতে মার খাচ্ছেন।’
হাসপাতালে গত ১৫ দিনে এই নিয়ে তিনটি মারামারির ঘটনা ঘটল। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নবজাতক ওয়ার্ডে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলায় শিশুটির মামা জয়দেবকে মারধর করেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় আরেকজনকে মারধর করে আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
গত ১৩ মে মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন দীপালি রাণী সিকদারের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বজনের অভিযোগ, এক ট্রলিম্যান অন্য রোগীর কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়ে দীপালির অক্সিজেনের নল খুলে ফেলে। এতে দীপালির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মিলন সিকদার প্রতিবাদ করলে হাসপাতালের কর্মচারীরা একজোট হয়ে তাঁকে মারধর করেন। এ ঘটনায় আউটসোর্সিং কর্মচারী সোহেলকে বরখাস্ত ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
শেবাচিম হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের ওপর চিকিৎসকদের হামলা ও পাল্টা হামলার অভিযোগ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ ধরনের প্রতিটি ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হলেও তার ফলাফল বা শাস্তি সবসময় অজানা থেকে যায়।
এ বিষয়ে হাসপাতালের মুখপাত্র সহকারী পরিচালক (ভাণ্ডার) ডা. মুনেম সাদ বলেন, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্বজনরা অভিযোগ দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন; পরে সাক্ষ্য দিতে আসেন না। এ ছাড়া ইন্টার্নরা যেহেতু চাকরি করেন না, তাই তদন্তে অপরাধী প্রমাণিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে বড় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।’
আগের ঘটনাগুলোর তদন্ত ও শাস্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিয়ে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাহমুদুল হাসান দাবি করেন, প্রতিটি অভিযোগেরই তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল মহানগরের সম্পাদক রফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থায় ধস নামছে এবং চিকিৎসকদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। রোগী ও স্বজনদের ওপর হামলাকে আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে এবং এই দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও নিতে হবে।’
বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে আবারও রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার মধ্যরাতে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসকরা গতকাল রোববার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। এ নিয়ে গত ১৫ দিনে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তিনটি মারামারির ঘটনা ঘটল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক রোগীকে শনিবার রাত ১২টার পর শেবাচিম হাসপাতালে আনা হয়। তিনি পটুয়াখালী সদরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকার বাসিন্দা। চতুর্থ তলার সার্জারি ওয়ার্ডে নেওয়ার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতের ছোট ভাই রুবেল হাওলাদার বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় লিমন ব্যবস্থাপত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় আমাদের সঙ্গে থাকা বিএম কলেজের শিক্ষার্থী নাহিদ সরোয়ার কারণ জানতে চাইলে বচসা হয়। এক পর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও কর্মচারীরা নাহিদসহ রোগীর স্বজনদের মারধর করে আটকে রাখেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হন। ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও পাল্টা অবস্থান নিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
বরিশালের কোতোয়ালি থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার রাতের ঘটনার জের ধরে নিরাপত্তার অজুহাতে গতকাল সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের প্রায় আড়াইশ ইন্টার্ন চিকিৎসক রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার মূল দায়িত্ব পালন করেন। তারা ধর্মঘটে যাওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে।
ইন্টার্ন ডা. তানভীর হোসেন বলেন, ‘শনিবার রাতে সার্জারি ওয়ার্ডে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর এক মৃতের স্বজনরা হামলা করেছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে হামলা হয়েছে। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ওয়ার্ডে ডিউটি করব না।’
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীম বলেন, শনিবার রাতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে এবং তিনি ইন্টার্নদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। পরিচালক দাবি করেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকরাই বারবার রোগীর স্বজনদের হাতে মার খাচ্ছেন।’
হাসপাতালে গত ১৫ দিনে এই নিয়ে তিনটি মারামারির ঘটনা ঘটল। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নবজাতক ওয়ার্ডে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলায় শিশুটির মামা জয়দেবকে মারধর করেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় আরেকজনকে মারধর করে আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
গত ১৩ মে মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন দীপালি রাণী সিকদারের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বজনের অভিযোগ, এক ট্রলিম্যান অন্য রোগীর কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়ে দীপালির অক্সিজেনের নল খুলে ফেলে। এতে দীপালির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মিলন সিকদার প্রতিবাদ করলে হাসপাতালের কর্মচারীরা একজোট হয়ে তাঁকে মারধর করেন। এ ঘটনায় আউটসোর্সিং কর্মচারী সোহেলকে বরখাস্ত ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
শেবাচিম হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের ওপর চিকিৎসকদের হামলা ও পাল্টা হামলার অভিযোগ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ ধরনের প্রতিটি ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হলেও তার ফলাফল বা শাস্তি সবসময় অজানা থেকে যায়।
এ বিষয়ে হাসপাতালের মুখপাত্র সহকারী পরিচালক (ভাণ্ডার) ডা. মুনেম সাদ বলেন, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্বজনরা অভিযোগ দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন; পরে সাক্ষ্য দিতে আসেন না। এ ছাড়া ইন্টার্নরা যেহেতু চাকরি করেন না, তাই তদন্তে অপরাধী প্রমাণিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে বড় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।’
আগের ঘটনাগুলোর তদন্ত ও শাস্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিয়ে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাহমুদুল হাসান দাবি করেন, প্রতিটি অভিযোগেরই তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল মহানগরের সম্পাদক রফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থায় ধস নামছে এবং চিকিৎসকদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। রোগী ও স্বজনদের ওপর হামলাকে আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে এবং এই দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও নিতে হবে।’
শিশু রামিসা হত্যা এবং দেশব্যাপী শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে বরিশালে ‘শিশু বন্ধন’ কর্মসূচি পালন করেছে খেলাঘর। দ্রুত বিচার ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আজ শনিবার সকাল ১০টায় নগরের অশ্বিনীকুমার হলের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা শিশু ধর্ষণসহ সব ধরনের শিশু নির্যাতন বন্ধ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে শিশুদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানান।
খেলাঘর বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি পঙ্কজ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রামিসার মতো নির্মম হত্যাকাণ্ড আর দেখতে চায় না শিশুরা। প্রধানমন্ত্রী এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার যে আশ্বাস দিয়েছেন, এখন সবাই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, নিরাপদ শিশু পরিবেশ গড়ে তুলতে শিশু ধর্ষণসহ সব ধরনের নির্যাতন বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে শিশুদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানান তাঁরা।
শুকতারা খেলাঘর আসর–এর সভাপতি কাজী সেলিনা–র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জীবন কৃষ্ণ দে, খেলাঘর বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শুভংকর চক্রবর্তী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজত টিপু এবং সাধারণ সম্পাদক তৌছিক আহমেদ রাহাত।রক্তঝুমুর খেলাঘরের শিশু সদস্য রাইসা ও নাফি, তিলক, শিক্ষকনেতা আমিনুল ইসলাম খোকন, সনাকের সভাপতি টুলু রাণী কর্মকার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের শিউলি সিংহ, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শিশির, চারুকলা বরিশালের সংগঠক সুষাভ চন্দ্র নিতাই, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সুশান্ত ঘোষ, রক্তঝুমুর খেলাঘর আসরের সভাপতি কামরুন নাহার মেরী এবং জাগৃহী খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক নাহিদ সুলতানা পলি প্রমুখ।’
বরিশালে গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ পালরদী এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ও বিপরীতমুখী কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে দক্ষিণ পালরদী এলাকায় বরিশালগামী একটি হাইচ মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১৯-০৭৪২) এবং ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যানের (ঢাকা মেট্রো-উ-১২-১৭৮৯) মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মাত্র এক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত তৎপরতার সাথে আহতদের উদ্ধার করেন।
আহত পাঁচজনই বরগুনা জেলার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। আহতদের মধ্যে একজন পুরুষ, দুইজন নারী এবং দুইজন শিশু রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সরিয়ে নেয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি অথবা অসতর্কতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বরিশাল টাইমস
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০
২৫ মে, ২০২৬ ১০:১৮
২৪ মে, ২০২৬ ১৫:৩৭
২৪ মে, ২০২৬ ১৫:২৬