দীর্ঘ অনাবৃষ্টির পর অতিবর্ষণে বরিশালের প্লাবিত ফসলের মাঠের ক্ষত ফুটে উঠতে শুরু করেছে। সরকারি হিসেবেই লক্ষাধিক কৃষকের ৮৫ কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে। বেসরকারি মতে ক্ষতির পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকারও বেশি। গত তিন দিন ভারী কোনো বর্ষণ না হওয়ায় ইতোমধ্যে উঠতি বোরো, রোপা আউশসহ বীজতলা এবং মুগ, সয়াবিন ও সূর্যমুখীসহ অন্তত ১৭টি ফসলের ভয়াবহ ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এ অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাদের অভিযোগ, ‘গণমাধ্যমসহ সরকারি প্রশাসন সবাই শুধু হাওর নিয়ে আছে, তারা আমাদের কোনো খোঁজ রাখে না’।
মার্চে বৃষ্টিপাতের ৪৯ ভাগ ঘাটতির পর এপ্রিলে ১৬৯ ভাগ বেশি বৃষ্টিপাত বরিশালের অনেক ফসলের মাঠ বিরান করে দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের রেকর্ড ভারী বৃষ্টিপাতে বরিশালের প্রায় ২৫ হাজার টন ফসলের উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৮৫ কোটি টাকা। সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় বোরো ধান ছাড়াও মুগ ডাল, চীনা বাদাম, মরিচ, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল ফসল ছাড়াও বিপুল রোপা আউশ ও আউশ বীজতলা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)-র মতে, সদ্য বিদায়ী রবি মৌসুমে আবাদকৃত প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার হেক্টরের মধ্যে এখনো ২.৮১ লাখ হেক্টর জমির ফসল মাঠে। যার ১.৯১ লাখ হেক্টরই গত সপ্তাহের লাগাতার প্রবল বর্ষণে আক্রান্ত হয়েছে। এর প্রায় পুরোটাই সম্পূর্ণ থেকে আংশিক ক্ষতির কবলে পড়ে। তবে এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জমির প্রায় ২৫ হাজার টন ফসল সম্পূর্ণভাবেই বিনষ্ট হয়েছে।
ডিএই’র মতে, ৭৫,৬১১ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির তলায় চলে যাওয়ার ফলে ৫০০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রায় আড়াই হাজার টন বোরো চালের উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৭৭ হাজার হেক্টরের মুগ ডালের জমি প্লাবনের শিকার হয়েছে; যার মধ্যে প্রায় ৯ হাজার হেক্টরের মুগ সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে। ফলে প্রায় ১০ হাজার টন মুগ ডালের উৎপাদন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা।
অনুরূপভাবে সাড়ে ১০ হাজার হেক্টরের চীনা বাদাম ছাড়াও বিপুল পরিমাণ রোপা আউশ ও আউশ বীজতলা এবং প্রায় ৪ হাজার হেক্টরের গ্রীষ্মকালীন সবজি ও ৫ হাজার হেক্টরের সয়াবিন এবং আড়াই হাজার হেক্টরের সূর্যমুখী তেল বীজের বাগান অতিবর্ষণে প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ ক্ষতির কবলে পড়েছে।
তবে এখনো প্রায় ১ লাখ হেক্টরের উঠতি বোরো ধান মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদকৃত প্রায় ৪ লাখ হেক্টরে চলতি মৌসুমে প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো চাল ঘরে তোলার কথা। কিন্তু মাঝারি থেকে বড় ধরনের কোনো ঝড় ছাড়াই অনাবৃষ্টির পর অতিবৃষ্টিতে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ হতে চলেছে। এখনো বোরো ধানের মাত্র ৩০ ভাগও কর্তন সম্ভব হয়নি। অন্তত পৌনে ৩ লাখ হেক্টর জমির বোরো ধান মাঠে। এসব ধানের অন্তত ১ লাখ হেক্টরই ‘হার্ড ডাব’ বা পাকার পর্যায়ে রয়েছে, যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঘরে তুলতে হবে। অবশিষ্ট আরও অন্তত দেড় লাখ হেক্টর ‘সফট ডাব’ বা দুধ পর্যায়ে, যা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কর্তন শুরু করতে হবে। ফ্লাওয়ারিং স্টেজে রয়েছে অবশিষ্ট ধান, যা চলতি মাসের শেষভাগে কর্তন শুরু করতে হবে।
কিন্তু বোরোর মাঠে পানি এবং নরম মাটির কারণে এসব জমিতে হার্ভেস্টার নামতে পারছে না। উপরন্তু বরিশাল অঞ্চলে এখনো কৃষি ব্যবস্থার অর্ধেকও যান্ত্রিকীকরণ সম্ভব হয়নি, ফলে হার্ভেস্টার সংকটও রয়েছে।
সব মিলিয়ে বৈশাখের ভারী বর্ষণ বোরো ধান নিয়ে চরম বিপাকে ফেলেছে বরিশাল অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাদের। টানা অনাবৃষ্টিতে অতিরিক্ত সেচ আর ডিজেল নিয়ে নানামুখী অপতৎপরতার পর বাড়তি দামে জ্বালানি সংগ্রহে সেচ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যেই বৈশাখের অতিবর্ষণে বিপুল পরিমাণ বোরো ধান পানির তলায়। এমনকি অতিবর্ষণের সাথে হালকা ঝড়ো হাওয়ায় অনেক জমির ধান ইতোমধ্যে নুয়ে পড়েছে। ফলে এসব ধানে চিটা ছাড়াও আংশিক থেকে পূর্ণ ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
টানা ১২৭ দিন পর গত ৯ মার্চ বরিশালে প্রথম বৃষ্টি হলেও পুরো মার্চ জুড়ে ঘাটতি ছিল প্রায় ৪৯%। ফলে বোরো ধানের জমিতে অতিরিক্ত সেচ দিতে হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ এপ্রিলে বরিশালে ১২০-১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিলেও ২০ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছিল মাত্র ৩১ মিলিমিটার। ফলে বোরো ধানে বাড়তি সেচের প্রয়োজনে ডিজেলের অতিরিক্ত চাহিদার সাথে মূল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। সাথে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওপরে উঠে যাওয়ায় জমিতে পানি ধরে রাখতে বাড়তি দামেই অতিরিক্ত সেচ দিতে এবার বোরো ধানের উৎপাদন ব্যয় সাড়ে ১২০০ টাকার ওপরে উঠে যাওয়ার মধ্যে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ জুড়ে লাগাতার ভারী বর্ষণে বোরোসহ সব রবি ফসলের জমি পানির তলায় চলে যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, ভাটি এলাকা বিধায় এ অঞ্চলে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রোপণ অব্যাহত থাকায় বোরো ধান পাকে প্রায় এক মাস বিলম্বে। কিন্তু এবারের বৈশাখের অতিবর্ষণসহ নানামুখী প্রাকৃতিক ছন্দপতন এ অঞ্চলের কৃষকের সব স্বপ্নকে মুছে দিতে উদ্যত।
এসব বিষয়ে ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী ও অতিরিক্ত পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদারের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, “আমরা আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা শংকিত থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি করতে সব ব্লক সুপারভাইজারদের মাঠে থাকতে বলা হয়েছে।” পরিস্থিতি অনুযায়ী কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। ইতোমধ্যে বরিশালে প্রায় ৩২ ভাগ বোরো কর্তন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়ে ‘হার্ড ডাব’ স্তরের ধানের কোনো ক্ষতি হবে না বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ‘সফট ডাব’ স্তরের ধানের জমি থেকে পানি বের করতে কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ প্রদানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ধানেরও তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে যেসব বোরো ধান ফুল স্তরে রয়েছে সেখানে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও দ্রুত পানি সরে যাওয়ায় ক্ষতি হ্রাস করা সম্ভব হচ্ছে বলেও জানান অতিরিক্ত পরিচালক।

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৪
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সামনের বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক সংস্কারের কোন কাজ না করায় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম।
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সওজ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ার কারণ জানতে চায়। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম তাদের তোপের মুখে পড়েন বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত চলতি বছরের ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার মৃত্যুর পর বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক সংস্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
ওই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সামনে এসে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সড়কের বিটুমিন উঠে গেলে তা পুনরায় সংস্কার করা, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সড়কের দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু করা এবং ১০ নভেম্বরের মধ্যে মূল সড়কে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করার কথা ছিল। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশে আলোর ব্যবস্থা করারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলনের পর মাত্র একবার সড়কের গর্তগুলো বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করা হলেও পরবর্তীতে আর কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দপদপিয়া সেতুর টোল প্লাজা থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোড পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে । বিশেষ করে দপদপিয়া সেতুর ওপর বেশ কয়েকটি বড় গর্ত দেখা গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের সামনেও ড্রেনে পানি জমে থাকতে ও অসংখ্য ছোট বড় গর্ত দেখা যায়।
স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ করে বলছে , সড়কের খানাখন্দের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসে প্রায় পাঁচটি থ্রি-হুইলার উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানান। এসব ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্য মো. রাজীব বলেন, কথা ছিল আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সকল প্রক্রিয়া শেষ করে রাস্তার দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে, পাশাপাশি ১০ নভেম্বরের ভিতর আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। এই কাজের তদারকি করার জন্য সড়ক জনপদের কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা প্রতিনিধি টিম গঠন করা হয়। আমরা দেখেছি তাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কোন কাজই হচ্ছে না। এখনো পর্যন্ত কোন কাজের টেন্ডারই করতে পারিনি। তাহলে তারা কিভাবে নির্ধারিত সময়ের ভিতরে কাজ শুরু করবে? তাদের কাজের সময় পার হচ্ছে যাচ্ছে সেটা জানান দিতেই আজ এখানে আসা।
আরেক সদস্য মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, সড়ক ও জনপদের কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেছিল রাস্তায় যতবার গর্ত হবে ততবার সেটা বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করে দিবে। কিন্তু নামে মাত্র একবার সংস্কার করে দিয়েই সড়ক ও জনপদের লোক হাওয়া হয়ে গেছে। রাস্তায় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে প্রতিদিনই কোন না দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় দুরবস্থার কারণে আমরা মাইশা, ইয়াসিন আরাফাতকে হারিয়েছি। এখন আর কত লাশ দিলে এই রাস্তার সংস্কার হবে? লিখিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত সড়ক সংস্কার, ফুটপাত নির্মাণ, আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যই এখানে আসা।
অপর দিকে বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে ফুটপাত নির্মাণ, আরসিসি রোড নির্মাণ, সড়কে লাইটের ব্যবস্থা করা। সে ব্যাপারে একটা প্রস্তবনা ইতিমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। সেটা যদি অনুমোদন হয় তাহলে আমরা অতিশীগ্রই নতুন দরপত্র আহ্বান করে এই কাজগুলো করতে পারবো। তবে কবে নাগাত এই কাজ শুরু করতে পারবো সেটা বলতে পারছি না।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সামনের বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক সংস্কারের কোন কাজ না করায় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম।
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সওজ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ার কারণ জানতে চায়। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম তাদের তোপের মুখে পড়েন বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত চলতি বছরের ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার মৃত্যুর পর বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক সংস্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
ওই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সামনে এসে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সড়কের বিটুমিন উঠে গেলে তা পুনরায় সংস্কার করা, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সড়কের দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু করা এবং ১০ নভেম্বরের মধ্যে মূল সড়কে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করার কথা ছিল। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশে আলোর ব্যবস্থা করারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলনের পর মাত্র একবার সড়কের গর্তগুলো বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করা হলেও পরবর্তীতে আর কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দপদপিয়া সেতুর টোল প্লাজা থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোড পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে । বিশেষ করে দপদপিয়া সেতুর ওপর বেশ কয়েকটি বড় গর্ত দেখা গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের সামনেও ড্রেনে পানি জমে থাকতে ও অসংখ্য ছোট বড় গর্ত দেখা যায়।
স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ করে বলছে , সড়কের খানাখন্দের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসে প্রায় পাঁচটি থ্রি-হুইলার উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানান। এসব ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্য মো. রাজীব বলেন, কথা ছিল আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সকল প্রক্রিয়া শেষ করে রাস্তার দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে, পাশাপাশি ১০ নভেম্বরের ভিতর আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। এই কাজের তদারকি করার জন্য সড়ক জনপদের কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা প্রতিনিধি টিম গঠন করা হয়। আমরা দেখেছি তাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কোন কাজই হচ্ছে না। এখনো পর্যন্ত কোন কাজের টেন্ডারই করতে পারিনি। তাহলে তারা কিভাবে নির্ধারিত সময়ের ভিতরে কাজ শুরু করবে? তাদের কাজের সময় পার হচ্ছে যাচ্ছে সেটা জানান দিতেই আজ এখানে আসা।
আরেক সদস্য মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, সড়ক ও জনপদের কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেছিল রাস্তায় যতবার গর্ত হবে ততবার সেটা বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করে দিবে। কিন্তু নামে মাত্র একবার সংস্কার করে দিয়েই সড়ক ও জনপদের লোক হাওয়া হয়ে গেছে। রাস্তায় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে প্রতিদিনই কোন না দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় দুরবস্থার কারণে আমরা মাইশা, ইয়াসিন আরাফাতকে হারিয়েছি। এখন আর কত লাশ দিলে এই রাস্তার সংস্কার হবে? লিখিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত সড়ক সংস্কার, ফুটপাত নির্মাণ, আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যই এখানে আসা।
অপর দিকে বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে ফুটপাত নির্মাণ, আরসিসি রোড নির্মাণ, সড়কে লাইটের ব্যবস্থা করা। সে ব্যাপারে একটা প্রস্তবনা ইতিমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। সেটা যদি অনুমোদন হয় তাহলে আমরা অতিশীগ্রই নতুন দরপত্র আহ্বান করে এই কাজগুলো করতে পারবো। তবে কবে নাগাত এই কাজ শুরু করতে পারবো সেটা বলতে পারছি না।

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪১
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৭৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৬২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।
নিম্নচাপের কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের গতিপথ ও শক্তি পরিবর্তন সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে।
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৭৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৬২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।
নিম্নচাপের কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের গতিপথ ও শক্তি পরিবর্তন সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে।

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫১
বরিশাল নগরীতে স্বামী নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫) হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা বেগমকে ঢাকার ভাটারা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার আইচ জানান, নাসিমাকে গ্রেপ্তারের পর রাতেই পুলিশের একটি দল তাকে নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠী কলোনির একটি ভাড়া বাসায় নুরুজ্জামানের মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন ভোরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নুরুজ্জামান বরিশাল আদালতের একজন আইনজীবীর সহকারী (মুহুরি) ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বরিশাল আইনজীবী সহকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগে কয়েকদিন ধরে নুরুজ্জামান ও নাসিমার মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দাম্পত্য কলহের জেরে নুরুজ্জামানকে আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর বাসার বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে নাসিমা আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশের দাবি।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নাসিমা পলাতক ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকার ভাটারা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ।
নিহত নুরুজ্জামান মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের মৃত সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। কর্মসূত্রে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমাকে নিয়ে বরিশাল নগরীর ইছাকাঠী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
হত্যার নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল—গ্রেপ্তার নাসিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে তারই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
বরিশাল নগরীতে স্বামী নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫) হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা বেগমকে ঢাকার ভাটারা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার আইচ জানান, নাসিমাকে গ্রেপ্তারের পর রাতেই পুলিশের একটি দল তাকে নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠী কলোনির একটি ভাড়া বাসায় নুরুজ্জামানের মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন ভোরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নুরুজ্জামান বরিশাল আদালতের একজন আইনজীবীর সহকারী (মুহুরি) ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বরিশাল আইনজীবী সহকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগে কয়েকদিন ধরে নুরুজ্জামান ও নাসিমার মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দাম্পত্য কলহের জেরে নুরুজ্জামানকে আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর বাসার বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে নাসিমা আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশের দাবি।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নাসিমা পলাতক ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকার ভাটারা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ।
নিহত নুরুজ্জামান মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের মৃত সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। কর্মসূত্রে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমাকে নিয়ে বরিশাল নগরীর ইছাকাঠী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
হত্যার নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল—গ্রেপ্তার নাসিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে তারই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

০৭ মে, ২০২৬ ১২:৩৪
দীর্ঘ অনাবৃষ্টির পর অতিবর্ষণে বরিশালের প্লাবিত ফসলের মাঠের ক্ষত ফুটে উঠতে শুরু করেছে। সরকারি হিসেবেই লক্ষাধিক কৃষকের ৮৫ কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে। বেসরকারি মতে ক্ষতির পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকারও বেশি। গত তিন দিন ভারী কোনো বর্ষণ না হওয়ায় ইতোমধ্যে উঠতি বোরো, রোপা আউশসহ বীজতলা এবং মুগ, সয়াবিন ও সূর্যমুখীসহ অন্তত ১৭টি ফসলের ভয়াবহ ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এ অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাদের অভিযোগ, ‘গণমাধ্যমসহ সরকারি প্রশাসন সবাই শুধু হাওর নিয়ে আছে, তারা আমাদের কোনো খোঁজ রাখে না’।
মার্চে বৃষ্টিপাতের ৪৯ ভাগ ঘাটতির পর এপ্রিলে ১৬৯ ভাগ বেশি বৃষ্টিপাত বরিশালের অনেক ফসলের মাঠ বিরান করে দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের রেকর্ড ভারী বৃষ্টিপাতে বরিশালের প্রায় ২৫ হাজার টন ফসলের উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৮৫ কোটি টাকা। সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় বোরো ধান ছাড়াও মুগ ডাল, চীনা বাদাম, মরিচ, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল ফসল ছাড়াও বিপুল রোপা আউশ ও আউশ বীজতলা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)-র মতে, সদ্য বিদায়ী রবি মৌসুমে আবাদকৃত প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার হেক্টরের মধ্যে এখনো ২.৮১ লাখ হেক্টর জমির ফসল মাঠে। যার ১.৯১ লাখ হেক্টরই গত সপ্তাহের লাগাতার প্রবল বর্ষণে আক্রান্ত হয়েছে। এর প্রায় পুরোটাই সম্পূর্ণ থেকে আংশিক ক্ষতির কবলে পড়ে। তবে এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জমির প্রায় ২৫ হাজার টন ফসল সম্পূর্ণভাবেই বিনষ্ট হয়েছে।
ডিএই’র মতে, ৭৫,৬১১ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির তলায় চলে যাওয়ার ফলে ৫০০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রায় আড়াই হাজার টন বোরো চালের উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৭৭ হাজার হেক্টরের মুগ ডালের জমি প্লাবনের শিকার হয়েছে; যার মধ্যে প্রায় ৯ হাজার হেক্টরের মুগ সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে। ফলে প্রায় ১০ হাজার টন মুগ ডালের উৎপাদন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা।
অনুরূপভাবে সাড়ে ১০ হাজার হেক্টরের চীনা বাদাম ছাড়াও বিপুল পরিমাণ রোপা আউশ ও আউশ বীজতলা এবং প্রায় ৪ হাজার হেক্টরের গ্রীষ্মকালীন সবজি ও ৫ হাজার হেক্টরের সয়াবিন এবং আড়াই হাজার হেক্টরের সূর্যমুখী তেল বীজের বাগান অতিবর্ষণে প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ ক্ষতির কবলে পড়েছে।
তবে এখনো প্রায় ১ লাখ হেক্টরের উঠতি বোরো ধান মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদকৃত প্রায় ৪ লাখ হেক্টরে চলতি মৌসুমে প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো চাল ঘরে তোলার কথা। কিন্তু মাঝারি থেকে বড় ধরনের কোনো ঝড় ছাড়াই অনাবৃষ্টির পর অতিবৃষ্টিতে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ হতে চলেছে। এখনো বোরো ধানের মাত্র ৩০ ভাগও কর্তন সম্ভব হয়নি। অন্তত পৌনে ৩ লাখ হেক্টর জমির বোরো ধান মাঠে। এসব ধানের অন্তত ১ লাখ হেক্টরই ‘হার্ড ডাব’ বা পাকার পর্যায়ে রয়েছে, যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঘরে তুলতে হবে। অবশিষ্ট আরও অন্তত দেড় লাখ হেক্টর ‘সফট ডাব’ বা দুধ পর্যায়ে, যা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কর্তন শুরু করতে হবে। ফ্লাওয়ারিং স্টেজে রয়েছে অবশিষ্ট ধান, যা চলতি মাসের শেষভাগে কর্তন শুরু করতে হবে।
কিন্তু বোরোর মাঠে পানি এবং নরম মাটির কারণে এসব জমিতে হার্ভেস্টার নামতে পারছে না। উপরন্তু বরিশাল অঞ্চলে এখনো কৃষি ব্যবস্থার অর্ধেকও যান্ত্রিকীকরণ সম্ভব হয়নি, ফলে হার্ভেস্টার সংকটও রয়েছে।
সব মিলিয়ে বৈশাখের ভারী বর্ষণ বোরো ধান নিয়ে চরম বিপাকে ফেলেছে বরিশাল অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাদের। টানা অনাবৃষ্টিতে অতিরিক্ত সেচ আর ডিজেল নিয়ে নানামুখী অপতৎপরতার পর বাড়তি দামে জ্বালানি সংগ্রহে সেচ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যেই বৈশাখের অতিবর্ষণে বিপুল পরিমাণ বোরো ধান পানির তলায়। এমনকি অতিবর্ষণের সাথে হালকা ঝড়ো হাওয়ায় অনেক জমির ধান ইতোমধ্যে নুয়ে পড়েছে। ফলে এসব ধানে চিটা ছাড়াও আংশিক থেকে পূর্ণ ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
টানা ১২৭ দিন পর গত ৯ মার্চ বরিশালে প্রথম বৃষ্টি হলেও পুরো মার্চ জুড়ে ঘাটতি ছিল প্রায় ৪৯%। ফলে বোরো ধানের জমিতে অতিরিক্ত সেচ দিতে হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ এপ্রিলে বরিশালে ১২০-১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিলেও ২০ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছিল মাত্র ৩১ মিলিমিটার। ফলে বোরো ধানে বাড়তি সেচের প্রয়োজনে ডিজেলের অতিরিক্ত চাহিদার সাথে মূল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। সাথে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওপরে উঠে যাওয়ায় জমিতে পানি ধরে রাখতে বাড়তি দামেই অতিরিক্ত সেচ দিতে এবার বোরো ধানের উৎপাদন ব্যয় সাড়ে ১২০০ টাকার ওপরে উঠে যাওয়ার মধ্যে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ জুড়ে লাগাতার ভারী বর্ষণে বোরোসহ সব রবি ফসলের জমি পানির তলায় চলে যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, ভাটি এলাকা বিধায় এ অঞ্চলে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রোপণ অব্যাহত থাকায় বোরো ধান পাকে প্রায় এক মাস বিলম্বে। কিন্তু এবারের বৈশাখের অতিবর্ষণসহ নানামুখী প্রাকৃতিক ছন্দপতন এ অঞ্চলের কৃষকের সব স্বপ্নকে মুছে দিতে উদ্যত।
এসব বিষয়ে ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী ও অতিরিক্ত পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদারের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, “আমরা আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা শংকিত থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি করতে সব ব্লক সুপারভাইজারদের মাঠে থাকতে বলা হয়েছে।” পরিস্থিতি অনুযায়ী কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। ইতোমধ্যে বরিশালে প্রায় ৩২ ভাগ বোরো কর্তন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়ে ‘হার্ড ডাব’ স্তরের ধানের কোনো ক্ষতি হবে না বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ‘সফট ডাব’ স্তরের ধানের জমি থেকে পানি বের করতে কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ প্রদানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ধানেরও তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে যেসব বোরো ধান ফুল স্তরে রয়েছে সেখানে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও দ্রুত পানি সরে যাওয়ায় ক্ষতি হ্রাস করা সম্ভব হচ্ছে বলেও জানান অতিরিক্ত পরিচালক।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২৪
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৪
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪১
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫১