
২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৪৭
সাত সকালের রোদ তখনও উত্তাপ ছড়ায়নি। সেই কাঁচা রোদ মেখেই ঘর থেকে নেমে পড়েন মনীষা চক্রবর্ত্তী। বরিশাল শহরের এক প্রান্তে হাঁটা শুরু করেন। সঙ্গে নেই গাড়ি; নেই দলীয় বহর কিংবা হ্যান্ড মাইকের চিৎকার। পাঁচ-সাতজন মানুষ পাশে থাকলেও নেই স্লোগান, এমনকি শোরগোলও নেই।
মনীষা পেশায় চিকিৎসক। পরিচিত ‘গরিবের ডাক্তার’ নামে। বিনা পয়সায় চিকিৎসা করাই তাঁর পরিচয়ের বড় অংশ। ৩৪তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুযোগ পেয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ দেননি। বেছে নিয়েছেন রাজনীতিকেই। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র বরিশাল জেলা কমিটির সমন্বয়ক তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসনে বাসদ মনোনীত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী।
পথে হাঁটার সময় একজনের হাতে থাকে শুধু একটি ব্যাগ। ভেতরে কিছু লিফলেট। তাও নিজে বাড়িয়ে দেন না মনীষা। কেউ চাইলে দেন, না চাইলে নয়। তাঁর রাজনীতি কেবল বক্তৃতা আর পোস্টারে আটকে নেই।
আন্দোলন-সংগ্রামে মনীষাকে প্রায়ই দেখা যায় সামনের সারিতে। মাসের এক তৃতীয়াংশ সময় তাঁর সকাল শুরু হয় শহরের প্রাণকেন্দ্র অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে কোনো না কোনো কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে জেলেও যেতে হয়েছে। তবু রাজপথ ছাড়েননি।
নির্বাচনী প্রচারণায়ও মনীষার কৌশল আলাদা। সকালে টানা তিন ঘণ্টা হাঁটা। দোকানে ঢোকেন, বেঞ্চিতে বসেন, চা খান। ভোট চান না। বরং প্রশ্ন করেন-গত কয়েক বছরে কী বদলেছে, কী বদলায়নি। মানুষের সমস্যা কী, তারা দিন কাটাচ্ছে কীভাবে, সেটাই জানতে চান।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে সরকারি ব্রজমোহন কলেজে গিয়েছিলেন পূজো দেখতে। সেখানেও প্রচারণার কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিল। কারণ তাঁদের আন্দোলন-সংগ্রামে মনীষাকে পাশে পেয়েছেন তারা।
এই কথোপকথনের ছবি তোলা হয় না। ভিডিও হয় না। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয় না। মনীষার যুক্তি, প্রচার যত কম, সম্পর্ক তত গভীর। তাঁর কথায়, ‘ভোট চাইতে সবাই আসে। কথা শুনতে আসে কয়জন?’
দুপুরের পর আবার হাঁটা। পথে পথে ছোট ছোট উঠান বৈঠক। বক্তৃতা দীর্ঘ হয় না। দুই-তিনজন মানুষ থাকলেও তিনি কম বলেন, বেশি শোনেন। ভোটারদের প্রশ্ন করেন, তাদের অভাব-অভিযোগের কথা জানতে চান।
সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো তাঁর অজানা নয়। তবু নিজেকে তিনি শ্রোতার জায়গায় রাখেন। তাঁর ধারণা, নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতির পাহাড় গড়া হয়, ভোটের পর সেই পাহাড়ে আর কেউ ওঠে না। পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোয় প্রার্থীদের দেখা মেলে শুধু নির্বাচন এলেই।
অন্য প্রার্থীরা যখন মিছিল আর শোডাউনে ব্যস্ত, এলাকায় ঢোকার আগেই বহরের শব্দে জানান দেন কোনো মান্যগণ্য ব্যক্তি এসেছেন, মনীষাদের পথ সেখানে আলাদা। সাধারণ মানুষের সংকট নিয়ে আন্দোলনই তাঁদের রাজনীতির কেন্দ্র। প্রচারণায় সেই কথাই সামনে আসে।
মানুষের কথা শোনা, সেই কথাকে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া- এটাই তাঁদের কৌশল। ভোটারদের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা হয়, নির্বাচিত হলেও আন্দোলনে থাকবেন। নির্বাচিত না হলেও মানুষের পাশে থাকবেন। কারণ তাঁরা অতিথি পাখির মতো শোডাউন দিয়ে এলাকায় ঢোকেন না। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে শিকড় গড়ে উঠেছে, সেটাকেই ভরসা করেন। তাই হাতে গোনা কয়েকজনকে নিয়েই মানুষের কাছে যান, যেন কেউ বিরক্ত না হন।
দিনের বেলায় গ্রামের মানুষ কাজে ব্যস্ত। তাই রাত নামলেই গ্রামের দৃশ্য বদলায়। বাজারে, বাড়ির ভেতরে ছোট ছোট বৈঠক বসে। পর্দা টানা বারান্দায় গোল হয়ে বসেন দশ-বারোজন। আলো কম, কথা বেশি। রাজনীতি, বঞ্চনা আর জীবনের হিসাব একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়।
এসব বৈঠকেই মনীষা হয়ে ওঠেন গল্পের অংশ। তাঁর কথায়, ‘এগুলোই আসল প্রচার। বহর নিয়ে দিনের বেলায় যে প্রচার হয়, তার অনেকটাই লোক দেখানো।’ দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ছয় ঘণ্টার প্রচারণার মধ্যে অন্তত পাঁচ ঘণ্টাই হাঁটেন মনীষা। ক্লান্তি লুকোনোর চেষ্টা নেই। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে আগে তাদের জীবন বুঝতে হবে।
বরিশাল জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, হেঁটে হেঁটে মানুষের পাশে থাকার এমন রাজনীতি মনীষা ছাড়া আর কারো মধ্যে চোখে পড়ে না। বড় ব্যানার বা জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারে এই জনসম্পৃক্ততার রাজনীতি ধরা পড়ে না। কিন্তু অনেক উঠান বৈঠক, অনেক চায়ের দোকানে তাঁর নীরব ছাপ থেকে যায়। কারণ মনীষা খেটে খাওয়া মানুষের বিপদে-আপদে ৩৬৫ দিনই পাশে থাকেন।
সাত সকালের রোদ তখনও উত্তাপ ছড়ায়নি। সেই কাঁচা রোদ মেখেই ঘর থেকে নেমে পড়েন মনীষা চক্রবর্ত্তী। বরিশাল শহরের এক প্রান্তে হাঁটা শুরু করেন। সঙ্গে নেই গাড়ি; নেই দলীয় বহর কিংবা হ্যান্ড মাইকের চিৎকার। পাঁচ-সাতজন মানুষ পাশে থাকলেও নেই স্লোগান, এমনকি শোরগোলও নেই।
মনীষা পেশায় চিকিৎসক। পরিচিত ‘গরিবের ডাক্তার’ নামে। বিনা পয়সায় চিকিৎসা করাই তাঁর পরিচয়ের বড় অংশ। ৩৪তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুযোগ পেয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ দেননি। বেছে নিয়েছেন রাজনীতিকেই। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র বরিশাল জেলা কমিটির সমন্বয়ক তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসনে বাসদ মনোনীত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী।
পথে হাঁটার সময় একজনের হাতে থাকে শুধু একটি ব্যাগ। ভেতরে কিছু লিফলেট। তাও নিজে বাড়িয়ে দেন না মনীষা। কেউ চাইলে দেন, না চাইলে নয়। তাঁর রাজনীতি কেবল বক্তৃতা আর পোস্টারে আটকে নেই।
আন্দোলন-সংগ্রামে মনীষাকে প্রায়ই দেখা যায় সামনের সারিতে। মাসের এক তৃতীয়াংশ সময় তাঁর সকাল শুরু হয় শহরের প্রাণকেন্দ্র অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে কোনো না কোনো কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে জেলেও যেতে হয়েছে। তবু রাজপথ ছাড়েননি।
নির্বাচনী প্রচারণায়ও মনীষার কৌশল আলাদা। সকালে টানা তিন ঘণ্টা হাঁটা। দোকানে ঢোকেন, বেঞ্চিতে বসেন, চা খান। ভোট চান না। বরং প্রশ্ন করেন-গত কয়েক বছরে কী বদলেছে, কী বদলায়নি। মানুষের সমস্যা কী, তারা দিন কাটাচ্ছে কীভাবে, সেটাই জানতে চান।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে সরকারি ব্রজমোহন কলেজে গিয়েছিলেন পূজো দেখতে। সেখানেও প্রচারণার কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিল। কারণ তাঁদের আন্দোলন-সংগ্রামে মনীষাকে পাশে পেয়েছেন তারা।
এই কথোপকথনের ছবি তোলা হয় না। ভিডিও হয় না। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয় না। মনীষার যুক্তি, প্রচার যত কম, সম্পর্ক তত গভীর। তাঁর কথায়, ‘ভোট চাইতে সবাই আসে। কথা শুনতে আসে কয়জন?’
দুপুরের পর আবার হাঁটা। পথে পথে ছোট ছোট উঠান বৈঠক। বক্তৃতা দীর্ঘ হয় না। দুই-তিনজন মানুষ থাকলেও তিনি কম বলেন, বেশি শোনেন। ভোটারদের প্রশ্ন করেন, তাদের অভাব-অভিযোগের কথা জানতে চান।
সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো তাঁর অজানা নয়। তবু নিজেকে তিনি শ্রোতার জায়গায় রাখেন। তাঁর ধারণা, নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতির পাহাড় গড়া হয়, ভোটের পর সেই পাহাড়ে আর কেউ ওঠে না। পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোয় প্রার্থীদের দেখা মেলে শুধু নির্বাচন এলেই।
অন্য প্রার্থীরা যখন মিছিল আর শোডাউনে ব্যস্ত, এলাকায় ঢোকার আগেই বহরের শব্দে জানান দেন কোনো মান্যগণ্য ব্যক্তি এসেছেন, মনীষাদের পথ সেখানে আলাদা। সাধারণ মানুষের সংকট নিয়ে আন্দোলনই তাঁদের রাজনীতির কেন্দ্র। প্রচারণায় সেই কথাই সামনে আসে।
মানুষের কথা শোনা, সেই কথাকে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া- এটাই তাঁদের কৌশল। ভোটারদের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা হয়, নির্বাচিত হলেও আন্দোলনে থাকবেন। নির্বাচিত না হলেও মানুষের পাশে থাকবেন। কারণ তাঁরা অতিথি পাখির মতো শোডাউন দিয়ে এলাকায় ঢোকেন না। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে শিকড় গড়ে উঠেছে, সেটাকেই ভরসা করেন। তাই হাতে গোনা কয়েকজনকে নিয়েই মানুষের কাছে যান, যেন কেউ বিরক্ত না হন।
দিনের বেলায় গ্রামের মানুষ কাজে ব্যস্ত। তাই রাত নামলেই গ্রামের দৃশ্য বদলায়। বাজারে, বাড়ির ভেতরে ছোট ছোট বৈঠক বসে। পর্দা টানা বারান্দায় গোল হয়ে বসেন দশ-বারোজন। আলো কম, কথা বেশি। রাজনীতি, বঞ্চনা আর জীবনের হিসাব একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়।
এসব বৈঠকেই মনীষা হয়ে ওঠেন গল্পের অংশ। তাঁর কথায়, ‘এগুলোই আসল প্রচার। বহর নিয়ে দিনের বেলায় যে প্রচার হয়, তার অনেকটাই লোক দেখানো।’ দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ছয় ঘণ্টার প্রচারণার মধ্যে অন্তত পাঁচ ঘণ্টাই হাঁটেন মনীষা। ক্লান্তি লুকোনোর চেষ্টা নেই। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে আগে তাদের জীবন বুঝতে হবে।
বরিশাল জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, হেঁটে হেঁটে মানুষের পাশে থাকার এমন রাজনীতি মনীষা ছাড়া আর কারো মধ্যে চোখে পড়ে না। বড় ব্যানার বা জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারে এই জনসম্পৃক্ততার রাজনীতি ধরা পড়ে না। কিন্তু অনেক উঠান বৈঠক, অনেক চায়ের দোকানে তাঁর নীরব ছাপ থেকে যায়। কারণ মনীষা খেটে খাওয়া মানুষের বিপদে-আপদে ৩৬৫ দিনই পাশে থাকেন।
১০ জুন, ২০২৬ ১৭:২৪
১০ জুন, ২০২৬ ১৬:৩৭
১০ জুন, ২০২৬ ১৬:২৮
০৯ জুন, ২০২৬ ২১:৪৭

১০ জুন, ২০২৬ ১৭:২৪
বরিশালে কেএমসি হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দুপুর ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত মনির খান (৩৮) বাবুগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাহেরচর গ্রামের মৃত আব্দুল হক খানের ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় মনির খানকে কেএমসি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মনির খানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উভয় পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, কেএমসি হাসপাতালের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের কার্যকর সমাধান হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে কেএমসি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল টাইমস
বরিশালে কেএমসি হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দুপুর ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত মনির খান (৩৮) বাবুগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাহেরচর গ্রামের মৃত আব্দুল হক খানের ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় মনির খানকে কেএমসি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মনির খানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উভয় পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, কেএমসি হাসপাতালের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের কার্যকর সমাধান হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে কেএমসি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল টাইমস

১০ জুন, ২০২৬ ১৬:৩৭
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার মধ্য গোমা গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে একই পরিবারের নারীসহ চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার (৮ জুন) রাতে আহত পরিবারের পক্ষ থেকে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুধল ইউনিয়নের মধ্য গোমা গ্রামের মিজানুর রহমান রিবুর পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার কাসেম খানের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মামলার বাদীপক্ষের নিষেধাজ্ঞার আবেদন আদালত নাকচ করে দেন।
অভিযোগে বলা হয়, সোমবার বিরোধপূর্ণ জমিতে মিজানুর রহমান রিবুর পরিবার পাকা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করলে প্রতিপক্ষের হৃদয় হোসেন ইউনুচ খা (৩৫), শাহআলম খা (৫৫), শাহিন খান (৩৬), সিরাজ হাওলাদার (৪০), ওহিদুল ইসলাম (৪৪), সোহাগ খান (২৫), রাব্বি হাওলাদার (২৫)সহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তারা রিবুর পাশের একটি দোকান ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
হামলার সময় বাধা দিতে গেলে মিজানুর রহমান রিবু (৪৪), আব্দুর রশিদ খান (৬২), শিরিন বেগম (৪০) ও খলিলুর রহমান (৬০) আহত হন। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠান।
এ ঘটনায় আহত মিজানুর রহমান রিবুর সহোদর আসাদুল হক নান্টু খান বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮-১০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আদিলুর রহমান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল টাইমস
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার মধ্য গোমা গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে একই পরিবারের নারীসহ চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার (৮ জুন) রাতে আহত পরিবারের পক্ষ থেকে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুধল ইউনিয়নের মধ্য গোমা গ্রামের মিজানুর রহমান রিবুর পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার কাসেম খানের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মামলার বাদীপক্ষের নিষেধাজ্ঞার আবেদন আদালত নাকচ করে দেন।
অভিযোগে বলা হয়, সোমবার বিরোধপূর্ণ জমিতে মিজানুর রহমান রিবুর পরিবার পাকা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করলে প্রতিপক্ষের হৃদয় হোসেন ইউনুচ খা (৩৫), শাহআলম খা (৫৫), শাহিন খান (৩৬), সিরাজ হাওলাদার (৪০), ওহিদুল ইসলাম (৪৪), সোহাগ খান (২৫), রাব্বি হাওলাদার (২৫)সহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তারা রিবুর পাশের একটি দোকান ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
হামলার সময় বাধা দিতে গেলে মিজানুর রহমান রিবু (৪৪), আব্দুর রশিদ খান (৬২), শিরিন বেগম (৪০) ও খলিলুর রহমান (৬০) আহত হন। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠান।
এ ঘটনায় আহত মিজানুর রহমান রিবুর সহোদর আসাদুল হক নান্টু খান বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮-১০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আদিলুর রহমান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল টাইমস

০৯ জুন, ২০২৬ ১৮:০৫
বরিশাল-পটুয়াখালীসহ দেশের ২০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে। তাই সেসব এলাকার নদীবন্দরগুলোতে তোলা হয়েছে এক নম্বর সংকেত। মঙ্গলবার (৯ জুন) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানিয়েছেন, বরিশাল, পটুয়াখালী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এসব এলাকার নৌবন্দরকে এক নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বরিশাল-পটুয়াখালীসহ দেশের ২০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে। তাই সেসব এলাকার নদীবন্দরগুলোতে তোলা হয়েছে এক নম্বর সংকেত। মঙ্গলবার (৯ জুন) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানিয়েছেন, বরিশাল, পটুয়াখালী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এসব এলাকার নৌবন্দরকে এক নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.