বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের দপদপিয়া সেতুর ঢালে বাস ও থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত (২১) নিহত হয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) রাত সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তবে ইয়াসিনের মৃত্যুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করে সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে হট্টগোল করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ইয়াসিনকে ঢাকায় নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সময়মতো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা না করার অভিযোগ করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর আহত ইয়াসিনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। কিন্তু দুর্ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছান। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের পরিবর্তে একটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে ইয়াসিনকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পথে তার মৃত্যু হয় বলে জানান সহপাঠীরা।
ইয়াসিনের সিনিয়র বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাজিব অভিযোগ করে বলেন, ‘হাসপাতালে যাওয়ার পর একাধিকবার প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার স্যারকে ফোন করেছি। রেজিস্ট্রার স্যার আমাকে বলেছেন, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন করছে। কিন্তু এরপর প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর প্রশাসন হাসপাতালে যায়। আমার ভাইয়ের জন্য বারবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের কথা বলার পরও তারা সেটির ব্যবস্থা করতে পারেনি। আমার ভাইয়ের মৃত্যুর দায় এই প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না।’
আবু বক্কর নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি নিজে উপাচার্যকে ফোন করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য বলেছি। কিন্তু আমাদের দুঃখ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন পারলেও আমাদের প্রশাসন সেটা করতে পারেনি।’
এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বছির প্রশাসনের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘যে ক্ষতি হয়ে গেছে, সেটার ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব নয়। এটার ব্যর্থতা, দায়—যাই বলেন, সবই আমাদের।’
প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা কেন সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেননি—এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর আশিকুর রহমান বলেন, ‘গত এক মাস ধরে আমাদের প্রক্টরিয়াল বডির মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। আমি আমার জায়গা থেকে সময়মতো গিয়েছি।’
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন আর রশিদ বলেন, ‘রাস্তার জ্যাম থাকার কারণে আমরা সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারিনি। আর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের যে বিষয়, সেটা তখন আমার মাথায় ছিল না।’
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা ইয়াসিনের মৃত্যুর ঘটনায় দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:২৮
বরিশালের উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের মামলার দুই আসামির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সন্ধ্যার পর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে কারা আগুন দিয়েছে, তা শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে মাইক্রোবাসসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর আলামদী গ্রামের খালপাড় বড় ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি সজল মোল্লার বাড়িতে এবং ভরচ্ছন্ন এলাকায় নান্না মোল্লার বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একটি টিনের ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার সুযোগ না থাকায় ঘরটি পুড়ে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আরও একটি ঘরে আগুন দেওয়ার খবর পেয়েছেন তাঁরা।
কাওসার হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে এসব ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে ওসি বলেন, আগুন দেওয়ার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা ও বরিশাল থেকে মাইক্রোবাস ও তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একটি সশস্ত্র দল সাতলা-কান্দি সড়কের উজিরপুর-কোটালীপাড়া সীমান্ত এলাকার একটি সেতুর ওপর কাওসার হাওলাদার ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশেদ আমিনের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা সেতু থেকে পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে পাশের হাবিব হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন।
অভিযোগ রয়েছে, ১৫ থেকে ২০ জনের সশস্ত্র দলটি তাঁদের ধাওয়া করে ওই বাড়িতে ঢোকে। দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে খাটের নিচ থেকে কাওসারকে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এ সময় দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বাঁচেন রাশেদ আমিন।
পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওসার হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় শুক্রবার রাতে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় মাইক্রোবাসসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে উজিরপুর মডেল থানা-পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সজল মোল্লা, শামীম মোল্লা, তরিকুল ইসলাম, সোহাগ, সাগর শেখ, হাসিব শেখ, হাবিব শেখ, মাহাবুবুর রহমান ও শরীফ হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার এশার নামাজের পর জানাজা শেষে কাওসার হাওলাদারের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিন নিহতের মেজ ভাই মোস্তফা হাওলাদার বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।'
বরিশালের উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের মামলার দুই আসামির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সন্ধ্যার পর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে কারা আগুন দিয়েছে, তা শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে মাইক্রোবাসসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর আলামদী গ্রামের খালপাড় বড় ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি সজল মোল্লার বাড়িতে এবং ভরচ্ছন্ন এলাকায় নান্না মোল্লার বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একটি টিনের ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার সুযোগ না থাকায় ঘরটি পুড়ে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আরও একটি ঘরে আগুন দেওয়ার খবর পেয়েছেন তাঁরা।
কাওসার হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে এসব ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে ওসি বলেন, আগুন দেওয়ার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা ও বরিশাল থেকে মাইক্রোবাস ও তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একটি সশস্ত্র দল সাতলা-কান্দি সড়কের উজিরপুর-কোটালীপাড়া সীমান্ত এলাকার একটি সেতুর ওপর কাওসার হাওলাদার ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশেদ আমিনের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা সেতু থেকে পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে পাশের হাবিব হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন।
অভিযোগ রয়েছে, ১৫ থেকে ২০ জনের সশস্ত্র দলটি তাঁদের ধাওয়া করে ওই বাড়িতে ঢোকে। দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে খাটের নিচ থেকে কাওসারকে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এ সময় দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বাঁচেন রাশেদ আমিন।
পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওসার হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় শুক্রবার রাতে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় মাইক্রোবাসসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে উজিরপুর মডেল থানা-পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সজল মোল্লা, শামীম মোল্লা, তরিকুল ইসলাম, সোহাগ, সাগর শেখ, হাসিব শেখ, হাবিব শেখ, মাহাবুবুর রহমান ও শরীফ হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার এশার নামাজের পর জানাজা শেষে কাওসার হাওলাদারের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিন নিহতের মেজ ভাই মোস্তফা হাওলাদার বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।'

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০১
দাপ্তরিক গণ্ডি পেরিয়ে কোমরসমান পানিতে নেমে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট পরিত্যক্ত পুকুর পরিষ্কারে অংশ নিলেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানা। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিডি ক্লিন’-এর তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শুক্রবার উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পুকুর পরিষ্কারে নামেন তিনি। এর আগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক খন্দকার মামুন।
উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা হয়েও পরিত্যক্ত পুকুরে নেমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলোতে ফরিদা সুলতানার এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অনেকে। বিশেষ করে একজন নারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার সরাসরি ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে অংশ নেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন নেটিজেনরা।
স্থানীয় প্রেক্ষাপটে একজন নারী কর্মকর্তার এভাবে পুকুরে নেমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ঘটনা ব্যতিক্রমী বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে বরিশালে এর আগে এমন উদ্যোগের নজির নেই—এমন দাবি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রয়োজন।
দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা পুকুরটি পরিষ্কারে তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে ইউএনওর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—জনকল্যাণমূলক কাজে পদমর্যাদা কোনো বাধা নয়। সম্মিলিত উদ্যোগ ও সবার অংশগ্রহণ থাকলে দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যারও সমাধান সম্ভব। বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পুকুরটি পরিষ্কারের উদ্যোগ সেই বার্তাই তুলে ধরেছে।
ইউএনও ফরিদা সুলতানা বলেন, উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনসংলগ্ন দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত পুকুরটি পরিষ্কারের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ার সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতার অংশ হিসেবেই তরুণ-তরুণীদের সম্পৃক্ত করে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিচ্ছন্ন উপজেলা গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
দীর্ঘদিনের অবহেলায় ময়লা-আবর্জনায় ভরে যাওয়া একটি পুকুর পরিষ্কারের এই উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষার কাজ নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলারও একটি প্রয়াস। প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে উদ্যোগটি পরিচ্ছন্ন বরিশাল গড়ার পথে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
দাপ্তরিক গণ্ডি পেরিয়ে কোমরসমান পানিতে নেমে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট পরিত্যক্ত পুকুর পরিষ্কারে অংশ নিলেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানা। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিডি ক্লিন’-এর তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শুক্রবার উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পুকুর পরিষ্কারে নামেন তিনি। এর আগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক খন্দকার মামুন।
উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা হয়েও পরিত্যক্ত পুকুরে নেমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলোতে ফরিদা সুলতানার এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অনেকে। বিশেষ করে একজন নারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার সরাসরি ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে অংশ নেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন নেটিজেনরা।
স্থানীয় প্রেক্ষাপটে একজন নারী কর্মকর্তার এভাবে পুকুরে নেমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ঘটনা ব্যতিক্রমী বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে বরিশালে এর আগে এমন উদ্যোগের নজির নেই—এমন দাবি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রয়োজন।
দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা পুকুরটি পরিষ্কারে তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে ইউএনওর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—জনকল্যাণমূলক কাজে পদমর্যাদা কোনো বাধা নয়। সম্মিলিত উদ্যোগ ও সবার অংশগ্রহণ থাকলে দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যারও সমাধান সম্ভব। বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পুকুরটি পরিষ্কারের উদ্যোগ সেই বার্তাই তুলে ধরেছে।
ইউএনও ফরিদা সুলতানা বলেন, উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনসংলগ্ন দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত পুকুরটি পরিষ্কারের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ার সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতার অংশ হিসেবেই তরুণ-তরুণীদের সম্পৃক্ত করে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিচ্ছন্ন উপজেলা গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
দীর্ঘদিনের অবহেলায় ময়লা-আবর্জনায় ভরে যাওয়া একটি পুকুর পরিষ্কারের এই উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষার কাজ নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলারও একটি প্রয়াস। প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে উদ্যোগটি পরিচ্ছন্ন বরিশাল গড়ার পথে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৪
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাওছার হাওলাদার (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেলচালককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাশেদ আমিন হাওলাদার নামে আরও এক যুবক আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্তবর্তী এলাকায় এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মৃত সান্টু হাওলাদারের ছেলে আশিকুল হাওলাদার ও মৃত মোনাফছের হাওলাদারের ছেলে কাওছার হাওলাদারের সঙ্গে ফরিদ মোল্লার ছেলে নান্না মোল্লা, স্বজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা এবং তাঁদের চাচা কাঞ্চন মোল্লার বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার আলোচনা চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান। তবে এর মধ্যেই ঢাকা ও বরিশাল থেকে একটি মাইক্রোবাস ও তিনটি মোটরসাইকেলে করে একদল লোক ঘটনাস্থলে আসে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১০টার দিকে সাতলা-কান্দী সড়কের সীমান্তবর্তী এলাকায় কাওছার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা পাশের বিলের পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে সড়কের পাশে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।
অভিযোগ রয়েছে, ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে কাওছার হাওলাদারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় রাশেদ আমিন হাওলাদার দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান।
পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে মায়ের দোয়া ক্লিনিকে এবং সেখান থেকে কোটালীপাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওছার হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই সাতলা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানের একপর্যায়ে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডে তাঁদের প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
তুচ্ছ বিরোধের জেরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাতলা এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাওছার হাওলাদার (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেলচালককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাশেদ আমিন হাওলাদার নামে আরও এক যুবক আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্তবর্তী এলাকায় এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মৃত সান্টু হাওলাদারের ছেলে আশিকুল হাওলাদার ও মৃত মোনাফছের হাওলাদারের ছেলে কাওছার হাওলাদারের সঙ্গে ফরিদ মোল্লার ছেলে নান্না মোল্লা, স্বজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা এবং তাঁদের চাচা কাঞ্চন মোল্লার বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার আলোচনা চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান। তবে এর মধ্যেই ঢাকা ও বরিশাল থেকে একটি মাইক্রোবাস ও তিনটি মোটরসাইকেলে করে একদল লোক ঘটনাস্থলে আসে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১০টার দিকে সাতলা-কান্দী সড়কের সীমান্তবর্তী এলাকায় কাওছার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা পাশের বিলের পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে সড়কের পাশে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।
অভিযোগ রয়েছে, ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে কাওছার হাওলাদারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় রাশেদ আমিন হাওলাদার দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান।
পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে মায়ের দোয়া ক্লিনিকে এবং সেখান থেকে কোটালীপাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওছার হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই সাতলা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানের একপর্যায়ে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডে তাঁদের প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
তুচ্ছ বিরোধের জেরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাতলা এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।

১০ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৫৩
বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের দপদপিয়া সেতুর ঢালে বাস ও থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত (২১) নিহত হয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) রাত সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তবে ইয়াসিনের মৃত্যুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করে সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে হট্টগোল করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ইয়াসিনকে ঢাকায় নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সময়মতো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা না করার অভিযোগ করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর আহত ইয়াসিনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। কিন্তু দুর্ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছান। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের পরিবর্তে একটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে ইয়াসিনকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পথে তার মৃত্যু হয় বলে জানান সহপাঠীরা।
ইয়াসিনের সিনিয়র বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাজিব অভিযোগ করে বলেন, ‘হাসপাতালে যাওয়ার পর একাধিকবার প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার স্যারকে ফোন করেছি। রেজিস্ট্রার স্যার আমাকে বলেছেন, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন করছে। কিন্তু এরপর প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর প্রশাসন হাসপাতালে যায়। আমার ভাইয়ের জন্য বারবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের কথা বলার পরও তারা সেটির ব্যবস্থা করতে পারেনি। আমার ভাইয়ের মৃত্যুর দায় এই প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না।’
আবু বক্কর নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি নিজে উপাচার্যকে ফোন করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য বলেছি। কিন্তু আমাদের দুঃখ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন পারলেও আমাদের প্রশাসন সেটা করতে পারেনি।’
এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বছির প্রশাসনের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘যে ক্ষতি হয়ে গেছে, সেটার ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব নয়। এটার ব্যর্থতা, দায়—যাই বলেন, সবই আমাদের।’
প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা কেন সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেননি—এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর আশিকুর রহমান বলেন, ‘গত এক মাস ধরে আমাদের প্রক্টরিয়াল বডির মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। আমি আমার জায়গা থেকে সময়মতো গিয়েছি।’
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন আর রশিদ বলেন, ‘রাস্তার জ্যাম থাকার কারণে আমরা সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারিনি। আর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের যে বিষয়, সেটা তখন আমার মাথায় ছিল না।’
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা ইয়াসিনের মৃত্যুর ঘটনায় দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২৭
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১০
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৩৯
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:২৮