একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, এটি হাজারও শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ গড়ার স্থান। কিন্তু যখন সেই ক্যাম্পাসে একের পর এক শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু বা আত্মহত্যার ঘটনাপ্রবাহ অব্যাহত থাকে বা সামনে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু দায়িত্ব রক্ষার্থে সোচ্চার? বিশেষ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত কয়েকটি বছরে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার একাধিক ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রতিটি ঘটনার পর শোক প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের দাবি উঠলেও, স্থায়ীভাবে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, যা উদ্বেগের বিষয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের চলতি মাস পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৬জন শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। এছাড়া একাধিক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন বলে জানা গেছে।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর মৃত্যুর ঘটনায় প্ররোচনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলমের কাছে এক মাসের মধ্যে একজন স্থায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবির ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা সংক্ষুব্ধ এবং উদ্বিগ্নও বটে।
এরই মধ্যে গত ২১ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন একটি মেস থেকে ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচ্ছাস কর্মকারের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাটি আবারও পুরো বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্টদের শোকাহত করেছে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আনাসহ বহুমুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অবশ্য জানাশোনা মহলও এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে, যা ফেসবুকসহ সমাজপাতাগুলোতে নেটিজেনদের পোস্ট কমেন্টে দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি মর্মান্তিক ঘটনার পর শুধু শোকবার্তা নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাজিব বরিশালটাইমসকে বলেন, “বিগত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে যখনই কোনো শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিসরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি ওঠে। সর্বশেষ আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর মৃত্যুর পরও এক মাসের মধ্যে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু আজও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই দাবি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
বারবার আত্মহত্যা বা আত্মহত্যাচেষ্টার মতো ঘটনার মাধ্যমে আমরা আমাদের সহপাঠী, বড়ভাইদের হারাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না দেখার কারণে এমন পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত একজন যোগ্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি। "
এ বিষয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ভূমিকা সরকার বরিশালটাইমসকে বলছেন, একজন শিক্ষার্থীর হতাশা কিংবা ব্যক্তিগত দু:সময়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মত শক্তি জোগাবে এতটুকুর ব্যবস্থা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক আয়োজনের মধ্যে নেই। সম্ভাবনাময় প্রাণের এমন নিদারুন অপচয় গোটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে আহত করে, ক্ষতি হয় রাষ্ট্র ও সমাজের। আমরা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বারবার একজন কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগের কথা বললেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কৌশলে সেই দাবি অতীতে এড়িয়ে গিয়েছে, এখনও যাচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, অনতিবিলম্বে একজন কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগ দিতে হবে এবং মনোবিজ্ঞানী ও অপরাপর বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে একাডেমিক ও কো কারিকুলার আয়োজনকে ঢেলে সাজাতে হবে যেন একজন শিক্ষার্থী তার স্বকীয়তা- প্রাণোচ্ছলতা বাচিয়ে রাখার সুযোগটুকু পায় এবং জীবনের নানা প্রতিকূলতাকে ফেস করার জন্য প্রস্তুত হয়ে গড়ে উঠতে পারে।
বিভিন্ন মহলের অভিন্ন যৌক্তিক এই দাবি অচীরের মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ববি কর্তৃপক্ষ। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বরিশালটাইমসকে জানান, শিগগিরই একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সম্পন্ন হবে।
অবশ্য একই ধরনের ঘটনাপ্রবাহে বিতর্কের মুখে আগেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিকিৎসক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু ঘটনার রেশ কেটে যেতেই আলোচনা থেমে যায়। তবে এবার শিক্ষার্থী বিয়োগান্তের ঘটনায় পূর্বের সেই দাবিটি বাস্তবায়নে দ্রুত বাস্তবায়নে যে রব উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত কি ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।'

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:২৮
বরিশালের উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের মামলার দুই আসামির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সন্ধ্যার পর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে কারা আগুন দিয়েছে, তা শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে মাইক্রোবাসসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর আলামদী গ্রামের খালপাড় বড় ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি সজল মোল্লার বাড়িতে এবং ভরচ্ছন্ন এলাকায় নান্না মোল্লার বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একটি টিনের ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার সুযোগ না থাকায় ঘরটি পুড়ে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আরও একটি ঘরে আগুন দেওয়ার খবর পেয়েছেন তাঁরা।
কাওসার হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে এসব ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে ওসি বলেন, আগুন দেওয়ার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা ও বরিশাল থেকে মাইক্রোবাস ও তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একটি সশস্ত্র দল সাতলা-কান্দি সড়কের উজিরপুর-কোটালীপাড়া সীমান্ত এলাকার একটি সেতুর ওপর কাওসার হাওলাদার ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশেদ আমিনের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা সেতু থেকে পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে পাশের হাবিব হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন।
অভিযোগ রয়েছে, ১৫ থেকে ২০ জনের সশস্ত্র দলটি তাঁদের ধাওয়া করে ওই বাড়িতে ঢোকে। দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে খাটের নিচ থেকে কাওসারকে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এ সময় দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বাঁচেন রাশেদ আমিন।
পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওসার হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় শুক্রবার রাতে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় মাইক্রোবাসসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে উজিরপুর মডেল থানা-পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সজল মোল্লা, শামীম মোল্লা, তরিকুল ইসলাম, সোহাগ, সাগর শেখ, হাসিব শেখ, হাবিব শেখ, মাহাবুবুর রহমান ও শরীফ হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার এশার নামাজের পর জানাজা শেষে কাওসার হাওলাদারের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিন নিহতের মেজ ভাই মোস্তফা হাওলাদার বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।'
বরিশালের উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের মামলার দুই আসামির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সন্ধ্যার পর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে কারা আগুন দিয়েছে, তা শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে মাইক্রোবাসসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর আলামদী গ্রামের খালপাড় বড় ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি সজল মোল্লার বাড়িতে এবং ভরচ্ছন্ন এলাকায় নান্না মোল্লার বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একটি টিনের ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার সুযোগ না থাকায় ঘরটি পুড়ে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আরও একটি ঘরে আগুন দেওয়ার খবর পেয়েছেন তাঁরা।
কাওসার হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে এসব ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে ওসি বলেন, আগুন দেওয়ার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা ও বরিশাল থেকে মাইক্রোবাস ও তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একটি সশস্ত্র দল সাতলা-কান্দি সড়কের উজিরপুর-কোটালীপাড়া সীমান্ত এলাকার একটি সেতুর ওপর কাওসার হাওলাদার ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশেদ আমিনের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা সেতু থেকে পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে পাশের হাবিব হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন।
অভিযোগ রয়েছে, ১৫ থেকে ২০ জনের সশস্ত্র দলটি তাঁদের ধাওয়া করে ওই বাড়িতে ঢোকে। দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে খাটের নিচ থেকে কাওসারকে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এ সময় দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বাঁচেন রাশেদ আমিন।
পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওসার হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় শুক্রবার রাতে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় মাইক্রোবাসসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে উজিরপুর মডেল থানা-পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সজল মোল্লা, শামীম মোল্লা, তরিকুল ইসলাম, সোহাগ, সাগর শেখ, হাসিব শেখ, হাবিব শেখ, মাহাবুবুর রহমান ও শরীফ হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার এশার নামাজের পর জানাজা শেষে কাওসার হাওলাদারের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিন নিহতের মেজ ভাই মোস্তফা হাওলাদার বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।'

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০১
দাপ্তরিক গণ্ডি পেরিয়ে কোমরসমান পানিতে নেমে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট পরিত্যক্ত পুকুর পরিষ্কারে অংশ নিলেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানা। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিডি ক্লিন’-এর তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শুক্রবার উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পুকুর পরিষ্কারে নামেন তিনি। এর আগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক খন্দকার মামুন।
উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা হয়েও পরিত্যক্ত পুকুরে নেমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলোতে ফরিদা সুলতানার এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অনেকে। বিশেষ করে একজন নারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার সরাসরি ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে অংশ নেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন নেটিজেনরা।
স্থানীয় প্রেক্ষাপটে একজন নারী কর্মকর্তার এভাবে পুকুরে নেমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ঘটনা ব্যতিক্রমী বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে বরিশালে এর আগে এমন উদ্যোগের নজির নেই—এমন দাবি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রয়োজন।
দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা পুকুরটি পরিষ্কারে তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে ইউএনওর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—জনকল্যাণমূলক কাজে পদমর্যাদা কোনো বাধা নয়। সম্মিলিত উদ্যোগ ও সবার অংশগ্রহণ থাকলে দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যারও সমাধান সম্ভব। বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পুকুরটি পরিষ্কারের উদ্যোগ সেই বার্তাই তুলে ধরেছে।
ইউএনও ফরিদা সুলতানা বলেন, উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনসংলগ্ন দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত পুকুরটি পরিষ্কারের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ার সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতার অংশ হিসেবেই তরুণ-তরুণীদের সম্পৃক্ত করে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিচ্ছন্ন উপজেলা গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
দীর্ঘদিনের অবহেলায় ময়লা-আবর্জনায় ভরে যাওয়া একটি পুকুর পরিষ্কারের এই উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষার কাজ নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলারও একটি প্রয়াস। প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে উদ্যোগটি পরিচ্ছন্ন বরিশাল গড়ার পথে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
দাপ্তরিক গণ্ডি পেরিয়ে কোমরসমান পানিতে নেমে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট পরিত্যক্ত পুকুর পরিষ্কারে অংশ নিলেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানা। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিডি ক্লিন’-এর তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শুক্রবার উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পুকুর পরিষ্কারে নামেন তিনি। এর আগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক খন্দকার মামুন।
উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা হয়েও পরিত্যক্ত পুকুরে নেমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলোতে ফরিদা সুলতানার এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অনেকে। বিশেষ করে একজন নারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার সরাসরি ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে অংশ নেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন নেটিজেনরা।
স্থানীয় প্রেক্ষাপটে একজন নারী কর্মকর্তার এভাবে পুকুরে নেমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ঘটনা ব্যতিক্রমী বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে বরিশালে এর আগে এমন উদ্যোগের নজির নেই—এমন দাবি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রয়োজন।
দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা পুকুরটি পরিষ্কারে তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে ইউএনওর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—জনকল্যাণমূলক কাজে পদমর্যাদা কোনো বাধা নয়। সম্মিলিত উদ্যোগ ও সবার অংশগ্রহণ থাকলে দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যারও সমাধান সম্ভব। বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পুকুরটি পরিষ্কারের উদ্যোগ সেই বার্তাই তুলে ধরেছে।
ইউএনও ফরিদা সুলতানা বলেন, উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনসংলগ্ন দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত পুকুরটি পরিষ্কারের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ার সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতার অংশ হিসেবেই তরুণ-তরুণীদের সম্পৃক্ত করে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিচ্ছন্ন উপজেলা গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
দীর্ঘদিনের অবহেলায় ময়লা-আবর্জনায় ভরে যাওয়া একটি পুকুর পরিষ্কারের এই উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষার কাজ নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলারও একটি প্রয়াস। প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে উদ্যোগটি পরিচ্ছন্ন বরিশাল গড়ার পথে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৪
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাওছার হাওলাদার (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেলচালককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাশেদ আমিন হাওলাদার নামে আরও এক যুবক আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্তবর্তী এলাকায় এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মৃত সান্টু হাওলাদারের ছেলে আশিকুল হাওলাদার ও মৃত মোনাফছের হাওলাদারের ছেলে কাওছার হাওলাদারের সঙ্গে ফরিদ মোল্লার ছেলে নান্না মোল্লা, স্বজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা এবং তাঁদের চাচা কাঞ্চন মোল্লার বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার আলোচনা চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান। তবে এর মধ্যেই ঢাকা ও বরিশাল থেকে একটি মাইক্রোবাস ও তিনটি মোটরসাইকেলে করে একদল লোক ঘটনাস্থলে আসে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১০টার দিকে সাতলা-কান্দী সড়কের সীমান্তবর্তী এলাকায় কাওছার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা পাশের বিলের পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে সড়কের পাশে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।
অভিযোগ রয়েছে, ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে কাওছার হাওলাদারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় রাশেদ আমিন হাওলাদার দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান।
পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে মায়ের দোয়া ক্লিনিকে এবং সেখান থেকে কোটালীপাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওছার হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই সাতলা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানের একপর্যায়ে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডে তাঁদের প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
তুচ্ছ বিরোধের জেরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাতলা এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাওছার হাওলাদার (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেলচালককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাশেদ আমিন হাওলাদার নামে আরও এক যুবক আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্তবর্তী এলাকায় এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মৃত সান্টু হাওলাদারের ছেলে আশিকুল হাওলাদার ও মৃত মোনাফছের হাওলাদারের ছেলে কাওছার হাওলাদারের সঙ্গে ফরিদ মোল্লার ছেলে নান্না মোল্লা, স্বজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা এবং তাঁদের চাচা কাঞ্চন মোল্লার বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার আলোচনা চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান। তবে এর মধ্যেই ঢাকা ও বরিশাল থেকে একটি মাইক্রোবাস ও তিনটি মোটরসাইকেলে করে একদল লোক ঘটনাস্থলে আসে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১০টার দিকে সাতলা-কান্দী সড়কের সীমান্তবর্তী এলাকায় কাওছার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা পাশের বিলের পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে সড়কের পাশে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।
অভিযোগ রয়েছে, ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে কাওছার হাওলাদারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় রাশেদ আমিন হাওলাদার দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান।
পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে মায়ের দোয়া ক্লিনিকে এবং সেখান থেকে কোটালীপাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওছার হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই সাতলা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানের একপর্যায়ে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডে তাঁদের প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
তুচ্ছ বিরোধের জেরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাতলা এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।

২২ জুলাই, ২০২৬ ২২:৩৫
একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, এটি হাজারও শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ গড়ার স্থান। কিন্তু যখন সেই ক্যাম্পাসে একের পর এক শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু বা আত্মহত্যার ঘটনাপ্রবাহ অব্যাহত থাকে বা সামনে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু দায়িত্ব রক্ষার্থে সোচ্চার? বিশেষ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত কয়েকটি বছরে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার একাধিক ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রতিটি ঘটনার পর শোক প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের দাবি উঠলেও, স্থায়ীভাবে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, যা উদ্বেগের বিষয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের চলতি মাস পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৬জন শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। এছাড়া একাধিক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন বলে জানা গেছে।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর মৃত্যুর ঘটনায় প্ররোচনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলমের কাছে এক মাসের মধ্যে একজন স্থায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবির ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা সংক্ষুব্ধ এবং উদ্বিগ্নও বটে।
এরই মধ্যে গত ২১ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন একটি মেস থেকে ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচ্ছাস কর্মকারের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাটি আবারও পুরো বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্টদের শোকাহত করেছে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আনাসহ বহুমুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অবশ্য জানাশোনা মহলও এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে, যা ফেসবুকসহ সমাজপাতাগুলোতে নেটিজেনদের পোস্ট কমেন্টে দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি মর্মান্তিক ঘটনার পর শুধু শোকবার্তা নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাজিব বরিশালটাইমসকে বলেন, “বিগত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে যখনই কোনো শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিসরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি ওঠে। সর্বশেষ আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর মৃত্যুর পরও এক মাসের মধ্যে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু আজও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই দাবি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
বারবার আত্মহত্যা বা আত্মহত্যাচেষ্টার মতো ঘটনার মাধ্যমে আমরা আমাদের সহপাঠী, বড়ভাইদের হারাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না দেখার কারণে এমন পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত একজন যোগ্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি। "
এ বিষয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ভূমিকা সরকার বরিশালটাইমসকে বলছেন, একজন শিক্ষার্থীর হতাশা কিংবা ব্যক্তিগত দু:সময়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মত শক্তি জোগাবে এতটুকুর ব্যবস্থা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক আয়োজনের মধ্যে নেই। সম্ভাবনাময় প্রাণের এমন নিদারুন অপচয় গোটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে আহত করে, ক্ষতি হয় রাষ্ট্র ও সমাজের। আমরা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বারবার একজন কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগের কথা বললেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কৌশলে সেই দাবি অতীতে এড়িয়ে গিয়েছে, এখনও যাচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, অনতিবিলম্বে একজন কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগ দিতে হবে এবং মনোবিজ্ঞানী ও অপরাপর বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে একাডেমিক ও কো কারিকুলার আয়োজনকে ঢেলে সাজাতে হবে যেন একজন শিক্ষার্থী তার স্বকীয়তা- প্রাণোচ্ছলতা বাচিয়ে রাখার সুযোগটুকু পায় এবং জীবনের নানা প্রতিকূলতাকে ফেস করার জন্য প্রস্তুত হয়ে গড়ে উঠতে পারে।
বিভিন্ন মহলের অভিন্ন যৌক্তিক এই দাবি অচীরের মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ববি কর্তৃপক্ষ। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বরিশালটাইমসকে জানান, শিগগিরই একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সম্পন্ন হবে।
অবশ্য একই ধরনের ঘটনাপ্রবাহে বিতর্কের মুখে আগেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিকিৎসক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু ঘটনার রেশ কেটে যেতেই আলোচনা থেমে যায়। তবে এবার শিক্ষার্থী বিয়োগান্তের ঘটনায় পূর্বের সেই দাবিটি বাস্তবায়নে দ্রুত বাস্তবায়নে যে রব উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত কি ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।'
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২৭
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১০
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৩৯
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:২৮