ছবি: সংগৃহীত
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল হাই আর নেই। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আব্দুল হাই। শেষ পর্যন্ত আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
আব্দুল হাইয়ের জানাজা বৃহস্পতিবার কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে প্রথম জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিকেল ৪টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যার পর মুন্সীগঞ্জ শহরের সুপারমার্কেট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে তৃতীয় জানাজা এবং রাতে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মিরেশ্বরাই আলিয়া মাদ্রাসার ঈদগাহ মাঠে চতুর্থ ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আব্দুল হাই বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়েও দলের কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতির পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল হাই। তাঁর বাবা মনির উদ্দিন ছিলেন ব্যবসায়ী। মুন্সীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৭৯ সালে প্রথমবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তাঁর সংসদীয় রাজনীতির সূচনা হয়। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ঢাকা-৮ আসনে একবার এবং বিলুপ্ত মুন্সীগঞ্জ-৪ আসন থেকে তিনবার—মোট পাঁচবার জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।
পঞ্চম জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল হাই। পরে অষ্টম জাতীয় সংসদে প্যানেল স্পিকার নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক জীবনে কঠোর নীতি, ব্যক্তিগত সততা, সাদাসিধে জীবনযাপন ও সহজ-সরল আচরণের কারণে নিজ এলাকায় ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছিলেন তিনি। দলীয় পরিচয়ের বাইরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছেও তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা ছিল।
আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী, দীর্ঘদিনের অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা এই প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা।

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩৪
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, একই ব্যক্তির নামে একাধিক সরকারি ডিলারশিপ পরিচালনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী আবেদনকারীকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত, বিতর্কিত নিয়োগের পুনর্মূল্যায়ন এবং বিধি মোতাবেক প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মেসার্স ইয়ামিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহিনুর বেগম।
এ বিষয়ে তিনি বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতির বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে কলসকাঠী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া পুনরায় অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অধিকতর যাচাই-বাছাই এবং অনিয়মের সত্যতা উদ্ঘাটন সাপেক্ষে বিধিসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহিনুর বেগম বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের বেবাজ এলাকার বাসিন্দা। সার ডিলার নিয়োগের নির্ধারিত শর্তাবলি পূরণ করে তিনি ৭৫ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাকা গুদামঘরের বৈধ ভাড়াচুক্তিপত্রসহ আবেদন দাখিল করেন। অভিযোগে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, গুদামঘরটির এসএ খতিয়ান নম্বর ৫২৫, এসএ দাগ নম্বর ৬২৪ এবং এর দৈর্ঘ্য ৩৪ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে গুদামঘর পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান নয়ন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নিমাই কীর্তনীয়ার গুদামঘর হিসেবে বসতঘর দেখানোর বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শাহিনুর বেগম। তাঁর দাবি, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে গুদামঘরের প্রকৃত অবস্থা ও প্রয়োজনীয় দলিলাদি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি হলেও এ বিষয়ে যথেষ্ট স্বচ্ছতা পরিলক্ষিত হয়নি।
শাহিনুর বেগমের অভিযোগ, কলসকাঠী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের জন্য মাত্র একটি আবেদন জমা পড়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও তাঁর দাখিলকৃত আবেদনের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নিমাই কীর্তনীয়ার নামে সার ডিলারশিপের পাশাপাশি ওএমএস ডিলারশিপ বহাল থাকার বিষয়টি নিয়েও তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। একই ব্যক্তির নামে একাধিক সরকারি ডিলারশিপ পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারী আরও জানান, কথিত অনিয়মের বিষয়গুলো উল্লেখ করে গত ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বরিশালের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তবে অভিযোগ দাখিলের পরও দৃশ্যমান কোনো প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন শাহিনুর বেগম। তাঁর মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল জানান, তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতেই সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শাহিনুর বেগম সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের পুনঃযাচাই এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি করে প্রচলিত বিধিবিধান অনুসারে যোগ্য আবেদনকারীকে ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, একই ব্যক্তির নামে একাধিক সরকারি ডিলারশিপ পরিচালনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী আবেদনকারীকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত, বিতর্কিত নিয়োগের পুনর্মূল্যায়ন এবং বিধি মোতাবেক প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মেসার্স ইয়ামিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহিনুর বেগম।
এ বিষয়ে তিনি বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতির বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে কলসকাঠী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া পুনরায় অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অধিকতর যাচাই-বাছাই এবং অনিয়মের সত্যতা উদ্ঘাটন সাপেক্ষে বিধিসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহিনুর বেগম বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের বেবাজ এলাকার বাসিন্দা। সার ডিলার নিয়োগের নির্ধারিত শর্তাবলি পূরণ করে তিনি ৭৫ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাকা গুদামঘরের বৈধ ভাড়াচুক্তিপত্রসহ আবেদন দাখিল করেন। অভিযোগে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, গুদামঘরটির এসএ খতিয়ান নম্বর ৫২৫, এসএ দাগ নম্বর ৬২৪ এবং এর দৈর্ঘ্য ৩৪ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে গুদামঘর পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান নয়ন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নিমাই কীর্তনীয়ার গুদামঘর হিসেবে বসতঘর দেখানোর বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শাহিনুর বেগম। তাঁর দাবি, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে গুদামঘরের প্রকৃত অবস্থা ও প্রয়োজনীয় দলিলাদি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি হলেও এ বিষয়ে যথেষ্ট স্বচ্ছতা পরিলক্ষিত হয়নি।
শাহিনুর বেগমের অভিযোগ, কলসকাঠী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের জন্য মাত্র একটি আবেদন জমা পড়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও তাঁর দাখিলকৃত আবেদনের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নিমাই কীর্তনীয়ার নামে সার ডিলারশিপের পাশাপাশি ওএমএস ডিলারশিপ বহাল থাকার বিষয়টি নিয়েও তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। একই ব্যক্তির নামে একাধিক সরকারি ডিলারশিপ পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারী আরও জানান, কথিত অনিয়মের বিষয়গুলো উল্লেখ করে গত ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বরিশালের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তবে অভিযোগ দাখিলের পরও দৃশ্যমান কোনো প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন শাহিনুর বেগম। তাঁর মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল জানান, তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতেই সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শাহিনুর বেগম সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের পুনঃযাচাই এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি করে প্রচলিত বিধিবিধান অনুসারে যোগ্য আবেদনকারীকে ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩১
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় মাদক ও জুয়ার আসর এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্কুর আলী ব্যাপারী (৪০) নামে এক বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হামলার শিকার হওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত শুক্কুর আলী ব্যাপারী মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চরধলেশ্বর গ্রামের আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর ছেলে। তিনি গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শরীয়ত উল্লাহর ভাতিজা বলেও জানা গেছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার ডুমুরীতলা লঞ্চঘাট এলাকায় মাদক সেবন, জুয়া খেলা এবং নয়াভাঙনী নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেন শুক্কুর আলী। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘোষণার জের ধরেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকার সালাউদ্দীনের দোকানে চা পান করছিলেন শুক্কুর আলী। এ সময় কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের বাবা আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর অভিযোগ, ডুমুরীতলা গ্রামের রহমত ফরাজী, বারেক ফরাজী, মুজাম্মেল ফরাজী, মন্টু ফরাজী, রফিক ফরাজী ও তাসলিমা নাসরিনসহ কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হামলার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত শুক্কুর আলীকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত বারেক ফরাজী হামলা ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দোকানের সামনে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শুক্কুর আলীর সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতি হয়েছিল। তবে তাঁকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, মারধরের অভিযোগের পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পুলিশ পেয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় মাদক ও জুয়ার আসর এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্কুর আলী ব্যাপারী (৪০) নামে এক বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হামলার শিকার হওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত শুক্কুর আলী ব্যাপারী মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চরধলেশ্বর গ্রামের আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর ছেলে। তিনি গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শরীয়ত উল্লাহর ভাতিজা বলেও জানা গেছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার ডুমুরীতলা লঞ্চঘাট এলাকায় মাদক সেবন, জুয়া খেলা এবং নয়াভাঙনী নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেন শুক্কুর আলী। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘোষণার জের ধরেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকার সালাউদ্দীনের দোকানে চা পান করছিলেন শুক্কুর আলী। এ সময় কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের বাবা আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর অভিযোগ, ডুমুরীতলা গ্রামের রহমত ফরাজী, বারেক ফরাজী, মুজাম্মেল ফরাজী, মন্টু ফরাজী, রফিক ফরাজী ও তাসলিমা নাসরিনসহ কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হামলার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত শুক্কুর আলীকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত বারেক ফরাজী হামলা ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দোকানের সামনে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শুক্কুর আলীর সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতি হয়েছিল। তবে তাঁকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, মারধরের অভিযোগের পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পুলিশ পেয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৫৩
পটুয়াখালী সদর থানার বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক প্রধান আসামি মো. আব্বাসকে (২৭) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন কুড়িল ফ্লাইওভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. আব্বাস পটুয়াখালী জেলার উত্তর বাজারঘোনা এলাকার বাসিন্দা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৮ (সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প) এবং এসআরবি-১ (সিপিসি-১, উত্তরা, ঢাকা)-এর একটি যৌথ অভিযানিক দল কুড়িল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর পটুয়াখালী ইপিজেড মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে ভুক্তভোগী আব্বাস ও তাঁর চাচাতো ভাই রুবেল সিকদারকে অভিযুক্তদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কৌশল অবলম্বন করে রুবেলকে ছেড়ে দেওয়া হলেও আব্বাসকে আটকে রাখা হয়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরবর্তীকালে স্বজনেরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পটুয়াখালী সদর থানাধীন পশ্চিম আউলিয়াপুর এলাকায় ইপিজেড সংলগ্ন মহাসড়কের পাশের ঢাল থেকে আব্বাসের নিথর দেহ উদ্ধার করেন। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান। ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি এবং মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মগোপনে থাকা প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ঢাকার বিমানবন্দর (এয়ারপোর্ট) থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসআরবি-৮, সিপিসি-১ (পটুয়াখালী)-এর কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার রাশেদ জানান, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাঁদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পটুয়াখালী সদর থানার বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক প্রধান আসামি মো. আব্বাসকে (২৭) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন কুড়িল ফ্লাইওভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. আব্বাস পটুয়াখালী জেলার উত্তর বাজারঘোনা এলাকার বাসিন্দা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৮ (সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প) এবং এসআরবি-১ (সিপিসি-১, উত্তরা, ঢাকা)-এর একটি যৌথ অভিযানিক দল কুড়িল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর পটুয়াখালী ইপিজেড মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে ভুক্তভোগী আব্বাস ও তাঁর চাচাতো ভাই রুবেল সিকদারকে অভিযুক্তদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কৌশল অবলম্বন করে রুবেলকে ছেড়ে দেওয়া হলেও আব্বাসকে আটকে রাখা হয়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরবর্তীকালে স্বজনেরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পটুয়াখালী সদর থানাধীন পশ্চিম আউলিয়াপুর এলাকায় ইপিজেড সংলগ্ন মহাসড়কের পাশের ঢাল থেকে আব্বাসের নিথর দেহ উদ্ধার করেন। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান। ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি এবং মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মগোপনে থাকা প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ঢাকার বিমানবন্দর (এয়ারপোর্ট) থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসআরবি-৮, সিপিসি-১ (পটুয়াখালী)-এর কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার রাশেদ জানান, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাঁদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৫
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল হাই আর নেই। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আব্দুল হাই। শেষ পর্যন্ত আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
আব্দুল হাইয়ের জানাজা বৃহস্পতিবার কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে প্রথম জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিকেল ৪টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যার পর মুন্সীগঞ্জ শহরের সুপারমার্কেট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে তৃতীয় জানাজা এবং রাতে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মিরেশ্বরাই আলিয়া মাদ্রাসার ঈদগাহ মাঠে চতুর্থ ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আব্দুল হাই বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়েও দলের কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতির পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল হাই। তাঁর বাবা মনির উদ্দিন ছিলেন ব্যবসায়ী। মুন্সীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৭৯ সালে প্রথমবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তাঁর সংসদীয় রাজনীতির সূচনা হয়। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ঢাকা-৮ আসনে একবার এবং বিলুপ্ত মুন্সীগঞ্জ-৪ আসন থেকে তিনবার—মোট পাঁচবার জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।
পঞ্চম জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল হাই। পরে অষ্টম জাতীয় সংসদে প্যানেল স্পিকার নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক জীবনে কঠোর নীতি, ব্যক্তিগত সততা, সাদাসিধে জীবনযাপন ও সহজ-সরল আচরণের কারণে নিজ এলাকায় ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছিলেন তিনি। দলীয় পরিচয়ের বাইরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছেও তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা ছিল।
আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী, দীর্ঘদিনের অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা এই প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা।
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩৪
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩১
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৫
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৫৩