https://jamunabankbd.com/

পটুয়াখালী

জুলাই হত্যা মামলা নিয়ে বাণিজ্য, বিএনপি নেতা বাবা-ছেলের দলীয় সাজা

বরিশালটাইমস রিপোর্ট

বরিশালটাইমস রিপোর্ট

২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১৯:০৯

প্রিন্ট এন্ড সেভ

জুলাই হত্যা মামলা নিয়ে বাণিজ্য, বিএনপি নেতা বাবা-ছেলের দলীয় সাজা

জুলাই হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে ‘বাণিজ্যিক কার্যক্রমে’ জড়িত থাকার অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে দল থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা দুজন সম্পর্কে বাবা-ছেলে। এর মধ্যে বাবার পদ স্থগিত ও ছেলেকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিষয়টি জানাজানি হয়। এর আগে গত ২১ অক্টোবর এ সিদ্ধান্ত হলেও বিষয়টি দীর্ঘদিন দলীয় নেতাকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রকাশিত ছিল।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন জানান, দলীয় শৃঙ্খলা, নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকায় সদর উপজেলা বিএনপি সদস্য ও মাদারবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হানিফের পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার ছেলে সদর উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মশিউর রহমানকে তার পদসহ সকল সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের জুলাই শহিদ রায়হানের মৃত্যুর পর মামলা ও আসামিদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়াসহ একাধিক বিষয়ে আবু হানিফ ও তার ছেলে মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জেলা বিএনপি তদন্ত করে দুজনের বিরুদ্ধেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

দলীয় সূত্র জানায়, বাবা-ছেলে দুজনের বিরুদ্ধে গত ২১ সেপ্টেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর তারা লিখিত জবাব দিলেও জেলা বিএনপি সেটিকে ‘সন্তোষজনক’ মনে করেনি। পরে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

আরও পড়ুন:

মির্জাগঞ্জে বিদায়ী ইউএনও’র মতবিনিময়

মল্লিক মাকসুদ, মির্জাগঞ্জ

মল্লিক মাকসুদ, মির্জাগঞ্জ

০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০১:১৩

প্রিন্ট এন্ড সেভ

মির্জাগঞ্জে বিদায়ী ইউএনও’র মতবিনিময়

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলামের বদলিজনিত কারণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) বেলা ১২টায় উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত ভবনের কনফারেন্স রুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য দেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সাহাবুদ্দিন নান্নু, সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসান উল্লাহ পিন্টু, সহ-সভাপতি গোলাম ফারুক মুন্সি, আমিনুল ইসলাম খোকন,ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মুন্সি, সাবেক আহ্বায়ক ও সদস্য আশরাফ আলী হাওলাদার, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সরওয়ার মনজু, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন সিকদার,মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব বরিশালের সেক্রেটারি প্রিন্স আল-আমিন, জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ গোলদার, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন হাওলাদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম এবং সাংবাদিক রাসেল মৃধা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তরিকুল ইসলাম দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সফলভাবে পরিচালনা করছেন। তিনি  সবার সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তাকে ভারাক্রান্ত মনে বিদায় জানাতে হচ্ছে। তার মতো দক্ষ ও মানবিক নির্বাহী অফিসারের স্থান পূরণ হবে কি না এ এনিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন।

সমুদ্র থেকে কয়লাবাহী জাহাজে লাফিয়ে উঠলো শত শত ইলিশ

বরিশালটাইমস রিপোর্ট

বরিশালটাইমস রিপোর্ট

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৪:৩৭

প্রিন্ট এন্ড সেভ

সমুদ্র থেকে কয়লাবাহী জাহাজে লাফিয়ে উঠলো শত শত ইলিশ

পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের প্রথম বয়া থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে অভাবনীয় এক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্র থেকে হঠাৎ ঝাঁকে ঝাঁকে ছোট ইলিশ লাফিয়ে ওঠে কয়লাবাহী লাইটার জাহাজ ‘এমভি ক্যাসেল গ্যালাডিয়েটর’-এর দুই পাশে। মুহূর্তের মধ্যে ইলিশগুলো জাহাজের ডেকে ছুটোছুটি করতে থাকে।

জাহাজে থাকা নাবিকরা জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই তারা প্রায় তিন মণ ইলিশ সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। বাকি ইলিশগুলো আবার সাগরে পড়ে যায়। কয়লা নিয়ে পায়রা বন্দরের দিকে আসার সময় জাহাজটিতে এই ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে।

ঘটনার ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও জাহাজের প্রকৌশলী রবিউল হোসেন ধারণ করেন, যা আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি জানান, এমন দৃশ্য তারা আগে কখনো দেখেননি।

ভিডিওটি ধারণের সময় ছিল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুর। জাহাজটি পায়রা বন্দর তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটির দিকে যাচ্ছিল।

এই অস্বাভাবিক ঘটনার কারণ জানা না গেলেও ভিডিওটি ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

দুমকিতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

রাজিবুল ইসলাম, দুমকি

রাজিবুল ইসলাম, দুমকি

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৩:৪৮

প্রিন্ট এন্ড সেভ

দুমকিতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আপতুন্নেছা খাতুন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণ-শীর্ণ একটি ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৬৬ সালে নির্মিত ভবনটির দেয়াল ও ছাদে চওড়া ফাটল, পলেস্তার ঝরঝর করে খসে পড়া, আর ছাদের রড বেরিয়ে থাকার মতো পরিস্থিতি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে আতঙ্কে রেখেছে।

শ্রেণিকক্ষের ঘাটতির কারণে ঝুঁকি জেনেও শিক্ষকরা প্রতিদিন এ ভবনেই পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি ভূমিকম্পের ঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের ভয় আরও বেড়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বেশিরভাগ কক্ষেই ছাদের পলেস্তার উন্মুক্ত, কোথাও কোথাও ইট পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। কিছু কক্ষ এমন অবস্থায় রয়েছে, যেন সামান্য চাপেই ছাদ ধসে পড়তে পারে। তবুও পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় সেসব রুম ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্মৃতি ও জান্নাতুল ফেরদাউস জানান, প্রতিদিন ক্লাসে ঢোকা মানে ভয়কে সঙ্গে নিয়ে চলা। “হঠাৎ করে ছাদ থেকে পলেস্তার পড়ে—কি হয় কে জানে,” বলেন তারা।

অভিভাবক মামুন ও সরোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সন্তানদের নিরাপদ জায়গায় পড়ানোর কথা থাকলেও তারা প্রতিদিন বিপদ মাথায় নিয়ে ক্লাস করছে। খুব দ্রুত ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন জরুরি।”

শিক্ষক পরিতোষ চন্দ্র দাস জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে ক্লাস নেওয়ার সময় তার মাথায় ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে। “এমন অভিজ্ঞতার পরও ক্লাস নিতে হচ্ছে, কারণ অন্য কোনো রুম নেই,” বলেন তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা আক্তার হ্যাপি বলেন, প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়টি চলছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ সংকট তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যায় ফেলেছে। “ভবনটি যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। নতুন ভবন অত্যন্ত জরুরি,” মন্তব্য করেন তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন ভবন থাকলেও সেখানে ঠিকঠাক সংকলন না থাকায় পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই নিতে হচ্ছে। “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তাব দেওয়া হবে,” বলেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে ভবন সংস্কারের দাবি জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, এটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদাসীনতার প্রমাণ। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ বা সংস্কার না হলে যে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে—এ আশঙ্কা স্থানীয়দের মনে প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

custom sidebar ads

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

জনপ্রিয়

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.