
১১ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:১০
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বরিশালের ভোটের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আগেভাগেই ইসলামপন্থী দুই দল জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলার ছয়টি আসনেই প্রার্থী দিয়ে মাঠে নেমে প্রচার চালিয়ে আসছে। এবার দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপিও। ফলে ছয়টি আসনেই ত্রিমুখী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী গত ফেব্রুয়ারিতেই প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে। একই সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামে। দুই দলের প্রার্থীরা নিয়মিত গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ এবং সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। জেলায় চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের আলাদা একটি ভোটব্যাংক আছে। সে ক্ষেত্রে এই দলটি এখানে বিএনপির সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বসে নেই জামায়াতে ইসলামীও। এই দলটিও সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। যদিও জাতীয় রাজনীতিতে ইসলামপন্থী দলগুলোর জোট গঠনের আলোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসাইন বলেন, এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। আলাপ-আলোচনা অব্যাহত আছে। সময়ই বলে দেবে কী হবে। তিনি বলেন, দেশবাসী পরিবর্তন চায়। দেশবাসী আজ এককাট্টা হয়ে নতুন শক্তি জামায়াতকে পছন্দ করছে।
প্রার্থীজটের কারণে বিএনপিতে মাঠের আমেজ তেমন ছিল না। তবে ৩ নভেম্বর বরিশালের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর পরিস্থিতি পাল্টেছে। প্রার্থীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ শুরু করায় নির্বাচনী যাত্রায় নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নির্বাচনকেন্দ্রিক তৎপরতায় দলীয় নেতা-কর্মীরা সক্রিয় হলেও সাধারণ ভোটারদের অনেকের মধ্যে এখনো নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা। এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনী প্রস্তুতির কথা বললেও এখনো তাদের তেমন দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। বাম দলগুলোর প্রার্থীরাও এখনো মাঠে নামেননি।
ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পালাবদলের আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল–১ আসন। এখানে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিশাল জনসভা করে অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী যাত্রা শুরু করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। এক বছর ধরেই তিনি এলাকায় নিয়মিত সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় উৎসব ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী দিয়েছে মাওলানা কামরুল ইসলামকে। তিনি ইতিমধ্যে দলীয় নেতা–কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ ও সভা–সমাবেশে সক্রিয় হয়েছেন। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী দলের আগৈলঝাড়া উপজেলা সভাপতি রাসেল সরদার মেহেদীও বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সভা আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের মানুষের কাছে বহুল প্রত্যাশিত উল্লেখ করে দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন বলেন, বিগত নির্বাচনকে পতিত ফ্যাসিবাদ কলুষিত ও প্রহসনে পরিণত করেছিল। ফলে দেশের ৪৮ শতাংশ তরুণ ভোটার এবার প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য উন্মুখ। অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল–২ আসনে তৃতীয়বারের মতো বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন এস সরফুদ্দিন আহমেদ (সান্টু)। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। জামায়াতে ইসলামী এখানে প্রার্থী করেছে আবদুল মান্নানকে। ইসলামী আন্দোলন এই আসনে প্রার্থী করেছে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীনকে। তিনজনই এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
এস সরফুদ্দিন আহমেদ ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনিরুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার মো. ইউনুসের কাছেও পরাজিত হন তিনি।
এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভির সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা চলছে। এক সময়ের ছাত্রদল নেতা গোলাম ফারুক ৯০–এর দশকের শেষভাগে ছাত্রদল ছেড়ে জাতীয় পার্টির ছাত্রসংগঠন ছাত্রসমাজে যোগ দেন। পরে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী হিসেবে বরিশাল–২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। আলোচিত মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি হত্যাসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে ২০০২ সালে তিনি দেশ ছাড়েন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি তিন্নি হত্যা মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পর তাঁর দেশে ফেরার গুঞ্জন জোরালো হয়।
দুজন প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতাসহ তিনজন বরিশাল–৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছেন। এই আসনে এখনো কোনো প্রার্থী দেয়নি দলটি। তবে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করে নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী তিন নেতা হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান আসাদ। সেলিমা রহমান এবং জয়নুল আবেদীন এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন সামাজিক আয়োজন ও গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সেলিমা রহমান। জয়নুল আবেদীন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দলীয় প্রার্থী ঘোষণা না হওয়া প্রসঙ্গে সেলিমা রহমান বলেন, ‘দল যাঁকে চূড়ান্ত করবে, আমরা তাঁকেই মেনে নেব। হয়তো তাঁরা চিন্তাভাবনা করছেন। আমরা দুজনই সিনিয়র, তাই একটু সময় নিচ্ছেন।’
এদিকে এই আসনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদও নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে তৎপর আছেন মহানগরের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামও এলাকায় সক্রিয়ভাবে সভা-সমাবেশ করছেন।
নিজের আসনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে নগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, জামায়াত প্রার্থীরা বরিশালের ছয়টি আসনেই ভালো অবস্থানে আছেন। ডাকসুসহ বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামী ছাত্রশিবির যে ভূমিধস বিজয় পেয়েছে, তার প্রতিফলন আগামী জাতীয় নির্বাচনে পড়বে এবং বরিশালেও এর প্রভাব দেখা যাবে। তাঁরা জনগণের কাছ থেকে তেমনই সাড়া পাচ্ছেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানকে বরিশাল–৪ আসনে দলীয় প্রার্থী করেছে বিএনপি। এর আগে ২০০৮ সালে এখানে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। এবার তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ আছে।
এখানে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন বরিশাল জেলা আমির মাওলানা আবদুর জব্বার। তিনি অনেক দিন ধরেই এখানে গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন। অপর দিকে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রমে অনেক আগে থেকেই সক্রিয় রয়েছেন। তিনি চরমোনাই পীরের ছোট ভাই।
বিভাগীয় সদরের আসন হওয়ায় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বরিশাল–৫ আসন। এবারও এখানে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন চারবারের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার। বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়রও ছিলেন। প্রায় ২০ বছর সভাপতি হিসেবে নগর বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব নিয়ে গত কয়েক বছর তিনি দলীয় রাজনীততে কোণঠাসা থাকলেও মনোনয়ন পাওয়ার পর সবাই তাঁর পক্ষে এককাট্টা হয়েছেন।
নগর বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘বরিশাল বিএনপিতে আর কোনো বিভেদ বা দ্বন্দ্ব নেই। এখন সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমাদের সবার লক্ষ্য একটাই, ধানের শীষকে বিজয়ী করা।’
এমনিতেই আসনটি বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় ইসলামী আন্দোলন বড় ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। একই সঙ্গে জামায়াতও সাংগঠনিকভাবে আগের চেয়ে অনেকটা এগিয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন এই আসনে দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি এরই মধ্যে নানাভাবে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন। এখানে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসাইনকে। তিনিও দীর্ঘদিন ধরেই নানাভাবে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। সব মিলিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এই আসনের আগামী নির্বাচন।
মজিবর রহমান বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে বরিশাল বিএনপির ঘাঁটি, এটা সবাই জানেন। তা ছাড়া এখানে জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন, আস্থা আগের চেয়ে আরও অনেক বেড়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী শক্তি অভূতপূর্ব সমর্থন পাবে।’
ইসলামী আন্দোলন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী বলে মনে করেন সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। তিনি বলেন, পুরোনো নির্বাচনের হিসাব দিয়ে আগামী নির্বাচনের হিসাব মেলানো যাবে না। দেশের মানুষ আর পুরোনো বন্দোবস্ত চায় না। তাঁর ধারণা, দেশের যুবসমাজ, শান্তিপ্রিয় মানুষ এখন ইসলামি রাজনীতির পক্ষে। তারা গুন্ডাতন্ত্র, মাস্তানতন্ত্র চায় না। তবে বর্তমান প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢেলে সাজানো ছাড়া নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে না বলেও মনে করেন তিনি।
এই আসনে এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান। ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী করেছে দলটির কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী মাওলানা মাহমুদুন্নবীকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই আসনে জাতীয় পার্টির নেতা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন আছে। তিনি ও তাঁর স্ত্রী এই আসনে একাধিকবার সংসদ সদস্য ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বরিশালের ভোটের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আগেভাগেই ইসলামপন্থী দুই দল জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলার ছয়টি আসনেই প্রার্থী দিয়ে মাঠে নেমে প্রচার চালিয়ে আসছে। এবার দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপিও। ফলে ছয়টি আসনেই ত্রিমুখী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী গত ফেব্রুয়ারিতেই প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে। একই সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামে। দুই দলের প্রার্থীরা নিয়মিত গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ এবং সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। জেলায় চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের আলাদা একটি ভোটব্যাংক আছে। সে ক্ষেত্রে এই দলটি এখানে বিএনপির সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বসে নেই জামায়াতে ইসলামীও। এই দলটিও সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। যদিও জাতীয় রাজনীতিতে ইসলামপন্থী দলগুলোর জোট গঠনের আলোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসাইন বলেন, এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। আলাপ-আলোচনা অব্যাহত আছে। সময়ই বলে দেবে কী হবে। তিনি বলেন, দেশবাসী পরিবর্তন চায়। দেশবাসী আজ এককাট্টা হয়ে নতুন শক্তি জামায়াতকে পছন্দ করছে।
প্রার্থীজটের কারণে বিএনপিতে মাঠের আমেজ তেমন ছিল না। তবে ৩ নভেম্বর বরিশালের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর পরিস্থিতি পাল্টেছে। প্রার্থীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ শুরু করায় নির্বাচনী যাত্রায় নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নির্বাচনকেন্দ্রিক তৎপরতায় দলীয় নেতা-কর্মীরা সক্রিয় হলেও সাধারণ ভোটারদের অনেকের মধ্যে এখনো নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা। এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনী প্রস্তুতির কথা বললেও এখনো তাদের তেমন দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। বাম দলগুলোর প্রার্থীরাও এখনো মাঠে নামেননি।
ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পালাবদলের আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল–১ আসন। এখানে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিশাল জনসভা করে অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী যাত্রা শুরু করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। এক বছর ধরেই তিনি এলাকায় নিয়মিত সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় উৎসব ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী দিয়েছে মাওলানা কামরুল ইসলামকে। তিনি ইতিমধ্যে দলীয় নেতা–কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ ও সভা–সমাবেশে সক্রিয় হয়েছেন। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী দলের আগৈলঝাড়া উপজেলা সভাপতি রাসেল সরদার মেহেদীও বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সভা আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের মানুষের কাছে বহুল প্রত্যাশিত উল্লেখ করে দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন বলেন, বিগত নির্বাচনকে পতিত ফ্যাসিবাদ কলুষিত ও প্রহসনে পরিণত করেছিল। ফলে দেশের ৪৮ শতাংশ তরুণ ভোটার এবার প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য উন্মুখ। অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল–২ আসনে তৃতীয়বারের মতো বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন এস সরফুদ্দিন আহমেদ (সান্টু)। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। জামায়াতে ইসলামী এখানে প্রার্থী করেছে আবদুল মান্নানকে। ইসলামী আন্দোলন এই আসনে প্রার্থী করেছে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীনকে। তিনজনই এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
এস সরফুদ্দিন আহমেদ ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনিরুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার মো. ইউনুসের কাছেও পরাজিত হন তিনি।
এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভির সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা চলছে। এক সময়ের ছাত্রদল নেতা গোলাম ফারুক ৯০–এর দশকের শেষভাগে ছাত্রদল ছেড়ে জাতীয় পার্টির ছাত্রসংগঠন ছাত্রসমাজে যোগ দেন। পরে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী হিসেবে বরিশাল–২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। আলোচিত মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি হত্যাসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে ২০০২ সালে তিনি দেশ ছাড়েন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি তিন্নি হত্যা মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পর তাঁর দেশে ফেরার গুঞ্জন জোরালো হয়।
দুজন প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতাসহ তিনজন বরিশাল–৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছেন। এই আসনে এখনো কোনো প্রার্থী দেয়নি দলটি। তবে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করে নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী তিন নেতা হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান আসাদ। সেলিমা রহমান এবং জয়নুল আবেদীন এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন সামাজিক আয়োজন ও গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সেলিমা রহমান। জয়নুল আবেদীন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দলীয় প্রার্থী ঘোষণা না হওয়া প্রসঙ্গে সেলিমা রহমান বলেন, ‘দল যাঁকে চূড়ান্ত করবে, আমরা তাঁকেই মেনে নেব। হয়তো তাঁরা চিন্তাভাবনা করছেন। আমরা দুজনই সিনিয়র, তাই একটু সময় নিচ্ছেন।’
এদিকে এই আসনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদও নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে তৎপর আছেন মহানগরের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামও এলাকায় সক্রিয়ভাবে সভা-সমাবেশ করছেন।
নিজের আসনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে নগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, জামায়াত প্রার্থীরা বরিশালের ছয়টি আসনেই ভালো অবস্থানে আছেন। ডাকসুসহ বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামী ছাত্রশিবির যে ভূমিধস বিজয় পেয়েছে, তার প্রতিফলন আগামী জাতীয় নির্বাচনে পড়বে এবং বরিশালেও এর প্রভাব দেখা যাবে। তাঁরা জনগণের কাছ থেকে তেমনই সাড়া পাচ্ছেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানকে বরিশাল–৪ আসনে দলীয় প্রার্থী করেছে বিএনপি। এর আগে ২০০৮ সালে এখানে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। এবার তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ আছে।
এখানে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন বরিশাল জেলা আমির মাওলানা আবদুর জব্বার। তিনি অনেক দিন ধরেই এখানে গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন। অপর দিকে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রমে অনেক আগে থেকেই সক্রিয় রয়েছেন। তিনি চরমোনাই পীরের ছোট ভাই।
বিভাগীয় সদরের আসন হওয়ায় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বরিশাল–৫ আসন। এবারও এখানে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন চারবারের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার। বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়রও ছিলেন। প্রায় ২০ বছর সভাপতি হিসেবে নগর বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব নিয়ে গত কয়েক বছর তিনি দলীয় রাজনীততে কোণঠাসা থাকলেও মনোনয়ন পাওয়ার পর সবাই তাঁর পক্ষে এককাট্টা হয়েছেন।
নগর বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘বরিশাল বিএনপিতে আর কোনো বিভেদ বা দ্বন্দ্ব নেই। এখন সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমাদের সবার লক্ষ্য একটাই, ধানের শীষকে বিজয়ী করা।’
এমনিতেই আসনটি বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় ইসলামী আন্দোলন বড় ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। একই সঙ্গে জামায়াতও সাংগঠনিকভাবে আগের চেয়ে অনেকটা এগিয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন এই আসনে দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি এরই মধ্যে নানাভাবে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন। এখানে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসাইনকে। তিনিও দীর্ঘদিন ধরেই নানাভাবে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। সব মিলিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এই আসনের আগামী নির্বাচন।
মজিবর রহমান বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে বরিশাল বিএনপির ঘাঁটি, এটা সবাই জানেন। তা ছাড়া এখানে জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন, আস্থা আগের চেয়ে আরও অনেক বেড়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী শক্তি অভূতপূর্ব সমর্থন পাবে।’
ইসলামী আন্দোলন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী বলে মনে করেন সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। তিনি বলেন, পুরোনো নির্বাচনের হিসাব দিয়ে আগামী নির্বাচনের হিসাব মেলানো যাবে না। দেশের মানুষ আর পুরোনো বন্দোবস্ত চায় না। তাঁর ধারণা, দেশের যুবসমাজ, শান্তিপ্রিয় মানুষ এখন ইসলামি রাজনীতির পক্ষে। তারা গুন্ডাতন্ত্র, মাস্তানতন্ত্র চায় না। তবে বর্তমান প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢেলে সাজানো ছাড়া নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে না বলেও মনে করেন তিনি।
এই আসনে এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান। ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী করেছে দলটির কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী মাওলানা মাহমুদুন্নবীকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই আসনে জাতীয় পার্টির নেতা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন আছে। তিনি ও তাঁর স্ত্রী এই আসনে একাধিকবার সংসদ সদস্য ছিলেন।

১৯ জুন, ২০২৬ ১৬:১১
আগামী ৬ মাসের মধ্যে বরিশাল, খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগস্টের প্রথম দিকে চালুর সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি বড় পরিসরের আইসিইউ ইউনিটও থাকবে হাসপাতালগুলোতে।
এসব হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।
পুুরোদমে কার্যক্রম চালুর জন্য প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবলের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা গিয়ে হাসপাতাল ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন।
বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি আগামী আগস্টের শুরুতে হাসপাতালটি চালুর ঘোষণা দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্সরে মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর, ফটোথেরাপি মেশিনসহ ২০০ বেডের শিশু হাসপাতাল চালু করতে যেসব যন্ত্রাংশ প্রয়োজন, সেগুলো জুলাইয়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে।
এর আগে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের ছয় বিভাগে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন।
একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামী ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন। মূলত এরপরই হাসপাতালগুলো চালুর তোড়জোড় শুরু হয়।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাসস’কে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের পাঁচ বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থাও থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এই পাঁচটি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল প্রয়োজন। পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিটি শিশু হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন ব্যবস্থা থাকবে। একটি করে আইসিইউ থাকবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর পরিসরও রাখা হবে। আইসিইউর জন্য একটি বড় স্পেস রাখা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত বরিশাল শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এই শিশু হাসপাতালটিও আগস্টে চালু হবে। প্রথম ধাপে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালু করতেও জোরোশোরে কাজ শুরু হয়েছে।
গত ২০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। নতুন শিশু হাসপাতাল সম্পর্কে আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
এদিকে গত ২৫ মে কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এই হাসপাতালটিও আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেন তিনি।
নির্মাণকাজ শেষেও দীর্ঘ ছয়বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার পর চালু হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালও। তারেক রহমানের নির্দেশের প্রেক্ষিতে দ্রুত এই হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘শুধু এই পাঁচটি শিশু হাসপাতালই নয়, স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরণের আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো এখনও চালু হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেগুলো চালু করারও নির্দেশ দেন।’
এদিকে বহুল প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হতে যাচ্ছে কুমিল্লা শিশু হাসপাতালটিও। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।
এদিকে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করা হবে।
ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রাজশাহী শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, প্রথম ধাপে শিশু হাসপাতালটিতে আউটডোর সেবা চালু করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’
আগামী ৬ মাসের মধ্যে বরিশাল, খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগস্টের প্রথম দিকে চালুর সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি বড় পরিসরের আইসিইউ ইউনিটও থাকবে হাসপাতালগুলোতে।
এসব হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।
পুুরোদমে কার্যক্রম চালুর জন্য প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবলের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা গিয়ে হাসপাতাল ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন।
বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি আগামী আগস্টের শুরুতে হাসপাতালটি চালুর ঘোষণা দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্সরে মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর, ফটোথেরাপি মেশিনসহ ২০০ বেডের শিশু হাসপাতাল চালু করতে যেসব যন্ত্রাংশ প্রয়োজন, সেগুলো জুলাইয়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে।
এর আগে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের ছয় বিভাগে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন।
একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামী ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন। মূলত এরপরই হাসপাতালগুলো চালুর তোড়জোড় শুরু হয়।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাসস’কে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের পাঁচ বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থাও থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এই পাঁচটি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল প্রয়োজন। পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিটি শিশু হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন ব্যবস্থা থাকবে। একটি করে আইসিইউ থাকবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর পরিসরও রাখা হবে। আইসিইউর জন্য একটি বড় স্পেস রাখা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত বরিশাল শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এই শিশু হাসপাতালটিও আগস্টে চালু হবে। প্রথম ধাপে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালু করতেও জোরোশোরে কাজ শুরু হয়েছে।
গত ২০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। নতুন শিশু হাসপাতাল সম্পর্কে আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
এদিকে গত ২৫ মে কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এই হাসপাতালটিও আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেন তিনি।
নির্মাণকাজ শেষেও দীর্ঘ ছয়বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার পর চালু হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালও। তারেক রহমানের নির্দেশের প্রেক্ষিতে দ্রুত এই হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘শুধু এই পাঁচটি শিশু হাসপাতালই নয়, স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরণের আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো এখনও চালু হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেগুলো চালু করারও নির্দেশ দেন।’
এদিকে বহুল প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হতে যাচ্ছে কুমিল্লা শিশু হাসপাতালটিও। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।
এদিকে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করা হবে।
ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রাজশাহী শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, প্রথম ধাপে শিশু হাসপাতালটিতে আউটডোর সেবা চালু করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’
১৮ জুন, ২০২৬ ২৩:৩৯
বরিশাল নগরীর বান্দরোড এলাকায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় মেহেদী হাসান শুভ (২৫) নামে এক সৌদি প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় মো. আরিফ (২৫) নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বান্দ রোডের কেডিসি গলির মুখে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত শুভ পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী গ্রামের হেলাল প্যাদার ছেলে। আহত আরিফ একই এলাকার গনি হাওলাদারের ছেলে।
নিহতের বন্ধু ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাকিব খান জানান, 'বৃহস্পতিবার রাতে তারা দুইটি মোটরসাইকেলযোগে এক বন্ধুকে বরিশাল লঞ্চঘাটে পৌঁছে দেন। এরপর তারা পুনরায় মোটরসাইকেলে লেবুখালীর উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে নগরীর বান্দরোডের কেডিসি গলির মুখে পৌঁছালে শুভ মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশার পিছনে ধাক্কা দিয়ে সড়ক বিভাজকের লোহার পাইপের সাথে প্রচণ্ড আঘাত পান চালক শুভ ও আরোহী আরিফ।'
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই আল-আমিন জানান, 'শুভ সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। পাঁচ মাস আগে তিনি ছুটি নিয়ে দেশে আসেন এবং বর্তমানে বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করছিলেন। তবে কী কারণে শুভ বরিশালে এসেছিলেন, সে বিষয়ে জানা নেই তার।'
এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, 'দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। আহত যুবককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।'
ওসি আরও জানান, 'এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।'
বরিশাল নগরীর বান্দরোড এলাকায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় মেহেদী হাসান শুভ (২৫) নামে এক সৌদি প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় মো. আরিফ (২৫) নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বান্দ রোডের কেডিসি গলির মুখে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত শুভ পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী গ্রামের হেলাল প্যাদার ছেলে। আহত আরিফ একই এলাকার গনি হাওলাদারের ছেলে।
নিহতের বন্ধু ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাকিব খান জানান, 'বৃহস্পতিবার রাতে তারা দুইটি মোটরসাইকেলযোগে এক বন্ধুকে বরিশাল লঞ্চঘাটে পৌঁছে দেন। এরপর তারা পুনরায় মোটরসাইকেলে লেবুখালীর উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে নগরীর বান্দরোডের কেডিসি গলির মুখে পৌঁছালে শুভ মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশার পিছনে ধাক্কা দিয়ে সড়ক বিভাজকের লোহার পাইপের সাথে প্রচণ্ড আঘাত পান চালক শুভ ও আরোহী আরিফ।'
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই আল-আমিন জানান, 'শুভ সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। পাঁচ মাস আগে তিনি ছুটি নিয়ে দেশে আসেন এবং বর্তমানে বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করছিলেন। তবে কী কারণে শুভ বরিশালে এসেছিলেন, সে বিষয়ে জানা নেই তার।'
এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, 'দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। আহত যুবককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।'
ওসি আরও জানান, 'এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।'

১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:২১
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ৩৭নং বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিতি অভিযোগ দিয়েছেন তিন অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তারা হলেন- মোঃ সমির হোসেন বেপারী, নুপুর বেগম, মোঃ জিয়াউর রহমান খান। অভিযোগে বলা হয়- ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তিনি গত ১৬ জুন এবং ১৭ জুন বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। শ্রেণিকক্ষে তিনি তার মোবাইল ফোনে রাখা নিজের-গোলাপ ফুল মার্কা এবং তার প্যানেলভূক্ত কাজী শাহিনের- বই, শিমু আক্তারের মই এবং রেহানা আক্তার হাসির কলস মার্কার পোস্টার দেখিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে প্রচারণা চালানোর জন্য এবং শিক্ষার্থীদের ভিতর থেকে যাদের ছোট ভাই বোন বা পরিচিত যাদের ছেলে মেয়ে বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত আছে তাদের বাবা-মাকে ওই চারটি মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য তাদের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানান।
এই চারজন প্রার্থী নির্বাচিত হলে পরবর্তীতে তিনি তাদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন বলে শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করেন। একাধিক শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ছুটি পরে বাইরে এসে তার এ সকল কার্যক্রমের বর্ণনা দেয় যা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং দুঃখজনক। এতে করে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে আপনার বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং উক্ত নির্বাচনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা শস্কা প্রকাশ করেন পরবর্তীতেও তিনি শ্রেণিকক্ষে এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীরা বলেন- মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এটা নিয়ম বহির্ভূত কাজ। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি। প্রধান শিক্ষক শিরিন আকতার বলেন- অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ৩৭নং বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিতি অভিযোগ দিয়েছেন তিন অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তারা হলেন- মোঃ সমির হোসেন বেপারী, নুপুর বেগম, মোঃ জিয়াউর রহমান খান। অভিযোগে বলা হয়- ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তিনি গত ১৬ জুন এবং ১৭ জুন বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। শ্রেণিকক্ষে তিনি তার মোবাইল ফোনে রাখা নিজের-গোলাপ ফুল মার্কা এবং তার প্যানেলভূক্ত কাজী শাহিনের- বই, শিমু আক্তারের মই এবং রেহানা আক্তার হাসির কলস মার্কার পোস্টার দেখিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে প্রচারণা চালানোর জন্য এবং শিক্ষার্থীদের ভিতর থেকে যাদের ছোট ভাই বোন বা পরিচিত যাদের ছেলে মেয়ে বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত আছে তাদের বাবা-মাকে ওই চারটি মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য তাদের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানান।
এই চারজন প্রার্থী নির্বাচিত হলে পরবর্তীতে তিনি তাদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন বলে শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করেন। একাধিক শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ছুটি পরে বাইরে এসে তার এ সকল কার্যক্রমের বর্ণনা দেয় যা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং দুঃখজনক। এতে করে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে আপনার বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং উক্ত নির্বাচনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা শস্কা প্রকাশ করেন পরবর্তীতেও তিনি শ্রেণিকক্ষে এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীরা বলেন- মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এটা নিয়ম বহির্ভূত কাজ। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি। প্রধান শিক্ষক শিরিন আকতার বলেন- অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
১৯ জুন, ২০২৬ ১৬:১১
১৮ জুন, ২০২৬ ২৩:৩৯
১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:৫৪
১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:২১