পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে সোলজারফিশ (Soldierfish) নামে একটি সামুদ্রিক মাছ। মাছটির আকর্ষণীয় লালচে বর্ণ ও ভিন্নধর্মী গঠনের কারণে আলীপুর মৎস্য বন্দরে এনে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মাছটি বন্দরে নিয়ে আসার পর একনজর দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
জানা গেছে, এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি ইদ্রিসের জালে তিন-চার দিন আগে গভীর সমুদ্রে মাছটি ধরা পড়ে। পরে সেটি আলীপুর বন্দরের মেসার্স সিফাত ফিসে নিয়ে আসা হয়।
ট্রলারের মাঝি ইদ্রিস বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছটি জালে উঠে আসে। দেখতে খুব সুন্দর হওয়ায় আমরা এটি ফেলে না দিয়ে তীরে নিয়ে আসি। আমার জালে এ ধরনের মাছ এই প্রথম ধরা পড়েছে।
মেসার্স সিফাত ফিসের ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম শামিম বলেন, মাছটি দেখতে অনেক সুন্দর। তাই বরফে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সোলজারফিশের বৈজ্ঞানিক নাম Myripristis murdjan। এটি Holocentridae পরিবারের একটি সামুদ্রিক মাছ। যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, মাছটি সাধারণত ৫ থেকে ২০০ মিটার গভীরতায় প্রবালপ্রাচীর, পাথুরে তলদেশ ও গুহাময় এলাকায় বসবাস করে। দিনের বেলায় আশ্রয়ে থাকলেও রাতে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। ছোট মাছ, চিংড়ি, জুপ্ল্যাঙ্কটন ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী এ মাছের প্রধান খাদ্য। সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ প্রজাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের উপকূলে এটি খুব ঘন ঘন ধরা না পড়লেও বৈশ্বিকভাবে এ মাছ বিরল নয়।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, সোলজারফিশ মূলত গভীর সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর ও পাথুরে পরিবেশে বসবাসকারী একটি সামুদ্রিক প্রজাতি। আমাদের উপকূলীয় জেলেদের জালে এটি খুব কম ধরা পড়ে। তাই স্থানীয়ভাবে এটি মানুষের কাছে অপরিচিত। এ ধরনের মাছ ধরা পড়া বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। জেলেদের এমন ভিন্নধর্মী বা অচেনা প্রজাতির মাছ ধরা পড়লে দ্রুত মৎস্য বিভাগকে জানানো উচিত। যাতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যায়।

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০১:৩৩
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীর এই হামলায় পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তত ১২ সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিসংলগ্ন বটতলা বাজার এলাকায় ধানখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তপন মৃধার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়।
আহতদের মধ্যে রেজাউল প্যাদা (৪০), হীরন প্যাদা (৩৫), ইমাম প্যাদা (৩০), খোকন (২৫) এবং হাসানকে (২০) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের অভিযোগ, ধানখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তপন মৃধার নেতৃত্বে ৭-৮ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান।
শ্রমিকরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে জাহাজের মালামাল বোঝাই ও খালাস কার্যক্রমে সরকার নিবন্ধিত সংগঠন পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন তারা। পরে বিকেল ৩টার দিকে কলাপাড়া থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। তবে কয়েকজন শ্রমিক বটতলা বাজার এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বিকেল ৫টার দিকে যুবদল নেতা তপন মৃধার নেতৃত্বে ৭-৮ জন সেখানে এসে অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ধানখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তপন মৃধা বলেন, ‘ঘটনাস্থলে প্রশাসনের লোকজন ছিলেন। তারা যদি বলেন, আমি মারধরের সঙ্গে জড়িত ছিলাম, তাহলে আমি অপরাধী। মারধরের পর ঘটনা শুনে আমি সেখানে গিয়েছি। কারা কারা মারামারি করেছে, তা আমি জানি না।’
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীর এই হামলায় পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তত ১২ সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিসংলগ্ন বটতলা বাজার এলাকায় ধানখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তপন মৃধার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়।
আহতদের মধ্যে রেজাউল প্যাদা (৪০), হীরন প্যাদা (৩৫), ইমাম প্যাদা (৩০), খোকন (২৫) এবং হাসানকে (২০) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের অভিযোগ, ধানখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তপন মৃধার নেতৃত্বে ৭-৮ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান।
শ্রমিকরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে জাহাজের মালামাল বোঝাই ও খালাস কার্যক্রমে সরকার নিবন্ধিত সংগঠন পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন তারা। পরে বিকেল ৩টার দিকে কলাপাড়া থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। তবে কয়েকজন শ্রমিক বটতলা বাজার এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বিকেল ৫টার দিকে যুবদল নেতা তপন মৃধার নেতৃত্বে ৭-৮ জন সেখানে এসে অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ধানখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তপন মৃধা বলেন, ‘ঘটনাস্থলে প্রশাসনের লোকজন ছিলেন। তারা যদি বলেন, আমি মারধরের সঙ্গে জড়িত ছিলাম, তাহলে আমি অপরাধী। মারধরের পর ঘটনা শুনে আমি সেখানে গিয়েছি। কারা কারা মারামারি করেছে, তা আমি জানি না।’
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:০১
পটুয়াখালীর বাউফলে পুলশিরে বিশেষ অভিযানে ৮০০ পিস ইয়াবাসহ একাধিক মাদক মামলার আসামি মো. সুমন মৃধা (৩০) ও তানিয়া বগেম (৩৩) নামে দুজনকে আটক করে বাউফল থানা পুলশি।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী পুলশি সুপার (বাউফল সারকেল) সব্যসাচী মজুমদার ও ওসি সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের আর্দশপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুমন মৃধা তানিয়ার স্বামীর কাছ থেকে ২০০ পসি ইয়াবা কিনে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের হাতে আটক হন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তানিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় তানিয়াকে আটক করা হলেও তার স্বামী মোঃ সুমন মৃধা (৩৫) পালিয়ে যায়।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আটক সুমন এর আগেও মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিল। এ ঘটনায় আটক দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে । মাদকরে বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
পটুয়াখালীর বাউফলে পুলশিরে বিশেষ অভিযানে ৮০০ পিস ইয়াবাসহ একাধিক মাদক মামলার আসামি মো. সুমন মৃধা (৩০) ও তানিয়া বগেম (৩৩) নামে দুজনকে আটক করে বাউফল থানা পুলশি।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী পুলশি সুপার (বাউফল সারকেল) সব্যসাচী মজুমদার ও ওসি সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের আর্দশপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুমন মৃধা তানিয়ার স্বামীর কাছ থেকে ২০০ পসি ইয়াবা কিনে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের হাতে আটক হন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তানিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় তানিয়াকে আটক করা হলেও তার স্বামী মোঃ সুমন মৃধা (৩৫) পালিয়ে যায়।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আটক সুমন এর আগেও মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিল। এ ঘটনায় আটক দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে । মাদকরে বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

২০ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:০৩
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরে একটি সালিশ বৈঠক চলাকালে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন ভাইসহ চারজন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালাইয়া বন্দরের সিনেমা সড়কের এ ঘটনাটি ঘটেছে।
আহতরা হলেন উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড মোল্লা বাড়ীর ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. শহিদুল মোল্লা (৩২), তার ভাই রিয়াজ মোল্লা (৪৬) এবং শাহিন মোল্লা (২৬)। এছাড়াও তাদের দোকানের কর্মচারী রাব্বি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহত শহিদুল মোল্লার অভিযোগ, তিনি একই এলাকার ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন (২৩) দীর্ঘদিন ধরে তার (শহিদুল) কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অবহিত করলে বুধবার রাতে সালিশ বৈঠকের আয়োাজন করা হয়। বৈঠকে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে ইয়াসিন, ইব্রাহিম ও সোহান পঞ্চায়েতসহ ২০-৩০ জন তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় সালিশ বৈঠকে উপস্থিত লোকজনের ওপরও হামলা হয়। এতে শহিদুলের ছোট ভাই শাহিন ও বড় ভাই রিয়াজসহ কয়েকজন আহত হন। পরে তারা সিনেমা হল থেকে বের হয়ে একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় রিয়াজ মোল্লা দাবি করেন, হামলার সময় তার কাছে থাকা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায় হামলাকারিরা।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে বাউফল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেওয়া ইয়াসিন (২৫), কালাইয়ার ইব্রাহিম এবং সোহান পঞ্চায়েত।
অভিযুক্ত ইয়াসিন দাবি করেন, গত ১৬ আগস্ট রাত ৯টার দিকে শাহিন তাকে অপহরণ করে মারধর করেন। পরদিন শহিদুল মোল্লার দোকানের সামনে শাহিনের সঙ্গে তার ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরেই বুধবার সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয় পক্ষের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তার উপর হামলা করে। এ ঘটনায় ইভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয় এবং তিনিও আহত হয়েছন বলে দাবি করেন।
সালিশ বৈঠকে সাবেক বাউফল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ পঞ্চায়েত, উপজেলা যুবদলের সদস্য স্বপন মৃধাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সালিশ বৈঠকে হামলার ঘটনাটি সম্পর্কে তারা শুনেছেন। সাথে সাথে ঘটনাস্থানে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরে একটি সালিশ বৈঠক চলাকালে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন ভাইসহ চারজন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালাইয়া বন্দরের সিনেমা সড়কের এ ঘটনাটি ঘটেছে।
আহতরা হলেন উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড মোল্লা বাড়ীর ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. শহিদুল মোল্লা (৩২), তার ভাই রিয়াজ মোল্লা (৪৬) এবং শাহিন মোল্লা (২৬)। এছাড়াও তাদের দোকানের কর্মচারী রাব্বি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহত শহিদুল মোল্লার অভিযোগ, তিনি একই এলাকার ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন (২৩) দীর্ঘদিন ধরে তার (শহিদুল) কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অবহিত করলে বুধবার রাতে সালিশ বৈঠকের আয়োাজন করা হয়। বৈঠকে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে ইয়াসিন, ইব্রাহিম ও সোহান পঞ্চায়েতসহ ২০-৩০ জন তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় সালিশ বৈঠকে উপস্থিত লোকজনের ওপরও হামলা হয়। এতে শহিদুলের ছোট ভাই শাহিন ও বড় ভাই রিয়াজসহ কয়েকজন আহত হন। পরে তারা সিনেমা হল থেকে বের হয়ে একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় রিয়াজ মোল্লা দাবি করেন, হামলার সময় তার কাছে থাকা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায় হামলাকারিরা।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে বাউফল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেওয়া ইয়াসিন (২৫), কালাইয়ার ইব্রাহিম এবং সোহান পঞ্চায়েত।
অভিযুক্ত ইয়াসিন দাবি করেন, গত ১৬ আগস্ট রাত ৯টার দিকে শাহিন তাকে অপহরণ করে মারধর করেন। পরদিন শহিদুল মোল্লার দোকানের সামনে শাহিনের সঙ্গে তার ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরেই বুধবার সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয় পক্ষের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তার উপর হামলা করে। এ ঘটনায় ইভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয় এবং তিনিও আহত হয়েছন বলে দাবি করেন।
সালিশ বৈঠকে সাবেক বাউফল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ পঞ্চায়েত, উপজেলা যুবদলের সদস্য স্বপন মৃধাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সালিশ বৈঠকে হামলার ঘটনাটি সম্পর্কে তারা শুনেছেন। সাথে সাথে ঘটনাস্থানে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৪:১১
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে সোলজারফিশ (Soldierfish) নামে একটি সামুদ্রিক মাছ। মাছটির আকর্ষণীয় লালচে বর্ণ ও ভিন্নধর্মী গঠনের কারণে আলীপুর মৎস্য বন্দরে এনে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মাছটি বন্দরে নিয়ে আসার পর একনজর দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
জানা গেছে, এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি ইদ্রিসের জালে তিন-চার দিন আগে গভীর সমুদ্রে মাছটি ধরা পড়ে। পরে সেটি আলীপুর বন্দরের মেসার্স সিফাত ফিসে নিয়ে আসা হয়।
ট্রলারের মাঝি ইদ্রিস বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছটি জালে উঠে আসে। দেখতে খুব সুন্দর হওয়ায় আমরা এটি ফেলে না দিয়ে তীরে নিয়ে আসি। আমার জালে এ ধরনের মাছ এই প্রথম ধরা পড়েছে।
মেসার্স সিফাত ফিসের ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম শামিম বলেন, মাছটি দেখতে অনেক সুন্দর। তাই বরফে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সোলজারফিশের বৈজ্ঞানিক নাম Myripristis murdjan। এটি Holocentridae পরিবারের একটি সামুদ্রিক মাছ। যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, মাছটি সাধারণত ৫ থেকে ২০০ মিটার গভীরতায় প্রবালপ্রাচীর, পাথুরে তলদেশ ও গুহাময় এলাকায় বসবাস করে। দিনের বেলায় আশ্রয়ে থাকলেও রাতে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। ছোট মাছ, চিংড়ি, জুপ্ল্যাঙ্কটন ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী এ মাছের প্রধান খাদ্য। সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ প্রজাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের উপকূলে এটি খুব ঘন ঘন ধরা না পড়লেও বৈশ্বিকভাবে এ মাছ বিরল নয়।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, সোলজারফিশ মূলত গভীর সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর ও পাথুরে পরিবেশে বসবাসকারী একটি সামুদ্রিক প্রজাতি। আমাদের উপকূলীয় জেলেদের জালে এটি খুব কম ধরা পড়ে। তাই স্থানীয়ভাবে এটি মানুষের কাছে অপরিচিত। এ ধরনের মাছ ধরা পড়া বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। জেলেদের এমন ভিন্নধর্মী বা অচেনা প্রজাতির মাছ ধরা পড়লে দ্রুত মৎস্য বিভাগকে জানানো উচিত। যাতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যায়।
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৫৭
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২৫
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:১৫
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩১