বড় বড় ভবন, প্রশস্ত সড়ক কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি—এসব থাকলেই একটি শহর বাসযোগ্য হয়ে ওঠে না। প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, কার্যকর নাগরিক সেবা, সুশাসন, নিরাপদ জীবন ও টেকসই অর্থনীতি। এসব সূচকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান তৈরি করতে না পারায় বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকাতেই জায়গা হয়নি বাংলাদেশের কোনো শহরের।
বরং এক বছরের ব্যবধানে দেশের প্রধান শহরগুলোর বৈশ্বিক অবস্থান আরও পিছিয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রাজধানী ঢাকায়। গত বছর ৪৮২তম অবস্থানে থাকা ঢাকা এবার ৩৩ ধাপ পিছিয়ে নেমে গেছে ৫১৫তম অবস্থানে। ফলে বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে রাজধানী।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের ১৬৩টি দেশের এক হাজার শহরকে অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ ও শাসন—এই পাঁচ সূচকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের আট শহরের মধ্যে ঢাকার পর অবস্থান চট্টগ্রামের। তবে চট্টগ্রামও পিছিয়েছে ১৪ ধাপ; রয়েছে ৭৬৩তম স্থানে। রাজশাহী ৬৬ ধাপ পিছিয়ে ৭৭৯তম এবং খুলনা রয়েছে ৮১১তম অবস্থানে। সিলেটের অবস্থান ৮৩৪তম, কুমিল্লা ৮৮৩তম, ময়মনসিংহ ৮৯৫তম এবং বগুড়া ৩২ ধাপ পিছিয়ে ৯২৬তম অবস্থানে।
অর্থাৎ দেশের কোনো শহরই বৈশ্বিক শীর্ষ ৫০০-তে জায়গা করে নিতে পারেনি।
অর্থনীতিতে এগিয়ে, পরিবেশে তলানিতে ঢাকা
সূচকটির মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে অর্থনীতির জন্য ৩০, মানবসম্পদের জন্য ২৫, জীবনযাত্রার মানের জন্য ২৫ এবং পরিবেশ ও শাসনের জন্য ১০ করে নম্বর রাখা হয়েছে। শহরের অর্থনীতির আকার ও প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা, ব্যবসার পরিবেশ, জনমিতিক প্রবণতা, স্বাস্থ্য, আর্থিক সক্ষমতা, নাগরিক সুবিধা, পরিবেশ, জলবায়ু ঝুঁকি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিক অধিকার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতি সূচকে বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে ঢাকা। বিশ্বে এ সূচকে রাজধানীর অবস্থান ২৮৬তম। মানবসম্পদেও ঢাকার অবস্থান ১৭৮তম।
কিন্তু পরিবেশের চিত্র একেবারেই বিপরীত। এই সূচকে ঢাকার অবস্থান ৯৩০তম। অর্থাৎ অর্থনীতি ও মানবসম্পদে তুলনামূলক শক্ত অবস্থান থাকলেও পরিবেশগত দুর্বলতা সামগ্রিক র্যাংকিংয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে।
শুধু ঢাকা নয়, পরিবেশ সূচকে দেশের প্রায় সব বড় শহরের অবস্থানই উদ্বেগজনক। সিলেট ৭৩৫তম, রাজশাহী ৮৫২তম, চট্টগ্রাম ৯২৪তম, ময়মনসিংহ ৯৪০তম এবং খুলনা ৯৭৪তম অবস্থানে রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম মিজানুর রহমান বলেন, রাজশাহীর পরিবেশ দিন দিন খারাপ হচ্ছে। বায়ুদূষণ বৃদ্ধি, গাছপালা কমে যাওয়া, তীব্র গরম, বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি সংকট এবং নদীদূষণ শহটির পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করছে।
অবকাঠামো আছে, স্বস্তির নগরজীবন নেই
জীবনযাত্রার মানের সূচকেও বাংলাদেশের শহরগুলোর চিত্র খুব শক্তিশালী নয়। এ সূচকে দেশের মধ্যে এগিয়ে রাজশাহী—বিশ্বে ৫৪২তম। এরপর খুলনা ৬১২তম এবং চট্টগ্রাম ৬৫৩তম অবস্থানে রয়েছে।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন ভবন, সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণ করলেই শহরের জীবনমান বাড়ে না। প্রয়োজন বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন।
অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, যানজট, বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা, পানির সংকট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে শহরগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মহিনুজ্জামান বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো শহরে একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা ও পানির সংকট দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টির সময় রাস্তা পানিতে ডুবে যায়, আবার বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় পানির সংকট থাকে। এ পরিস্থিতি শহরগুলোর পরিবেশগত ঝুঁকি স্পষ্ট করে।
ঢাকামুখী চাপ কমানোই বড় চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার ওপর বাড়তি জনসংখ্যার চাপ কমাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো গেলে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ কমানো সম্ভব।
একই সঙ্গে পরিকল্পিত আবাসন, সবুজ এলাকা সংরক্ষণ, কার্যকর গণপরিবহন, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে হবে। তা না হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শহরের বাসযোগ্যতা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাবে না।
বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ শহরের তালিকায় রয়েছে নিউইয়র্ক, লন্ডন, প্যারিস, সিয়াটল ও সান ফ্রান্সিসকো। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের শহরগুলোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারতের দিল্লি, বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, চেন্নাই ও হায়দরাবাদ।
এদিকে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ২০২৬ সালের গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্সেও ঢাকার অবস্থান নিয়ে নেতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। দুটি আন্তর্জাতিক সূচকের ফলাফলই একই প্রশ্ন সামনে আনছে—শহর বড় হচ্ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে কি নাগরিক জীবনের মানও বাড়ছে?

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২৭
আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের ৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিকের পরিবারে সন্তান ৫৮ জন। চার স্ত্রী ও এতগুলো সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। অভাবের কারণে পরিবারের কিছু শিশুকে কখনো কখনো ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়। বিশাল এই পরিবারের খাবার, পোশাক ও শিক্ষার খরচ জোগাতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাকে।
খামা প্রেস এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, নিজের পরিবারের ভরণপোষণের কঠিন বাস্তবতা নিয়ে বিবিসির সঙ্গে কথা বলেছেন সাদিক। তিনি জানান, সন্তানদের সবার নাম মনে রাখাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনো পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাওয়ার সময় সন্তানদের গুনে দেখতে হয়। তখন দেখা যায়, কেউ একজন অনুপস্থিত—হয়তো সে অন্য কোথাও রয়েছে। দীর্ঘ সময়ে তার ও স্ত্রীদের ১৪ সন্তান মারা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাদিক স্থানীয় একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তার ভাষ্য, একটি গাড়ি বিক্রি হলে তিনি প্রায় এক হাজার আফগানি আয় করেন। এই সামান্য আয়ে পরিবারের এত সদস্যের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। সংসারের খরচ মেটাতে তার কয়েকজন সন্তানকেও কাজ করতে হয়। তাদের কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাগজ ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে।
পরিবারে সাধারণত দিনে দুই বেলা খাবার তৈরি হয়—সকালের নাশতা ও রাতের খাবার। দুই স্ত্রী রান্নার দায়িত্ব সামলান। শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন, আর গ্রীষ্মে বসেন উঠানে। ঘুমানোর ব্যবস্থাও অত্যন্ত সীমিত। কখনো ছয়-সাতজনকে একটি পাতলা কম্বল ভাগাভাগি করে রাত কাটাতে হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে পরিবারটির বসবাসের অপ্রতুল পরিবেশের চিত্র উঠে এসেছে। বাড়ির ঘরগুলোতে প্রচলিত দরজা-জানালার পরিবর্তে পাতলা পর্দা ব্যবহার করা হয়। গোসলের স্থানেই কাপড় ও থালাবাসন ধোয়ার কাজ চলে; কখনো সেটি শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন সাদিক। তবে অর্থের অভাবে তাদের পড়াশোনার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাদিক জানান, বড় পরিবার গড়ার পেছনে তার উদ্দেশ্য ছিল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা। কিন্তু এত সন্তানকে নিয়ে দৈনন্দিন জীবনে নানা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখেও পড়তে হয় তাকে।
একবার বিয়ের অনুষ্ঠানে এক ধর্মীয় নেতার কাছে এক মেয়ের পরিবর্তে অন্য মেয়ের নাম বলে ফেলেন তিনি। অনেক সময় সন্তানের নাম মনে করতে না পেরে তাদের ‘আমার ছেলে’ কিংবা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাদিকের চার স্ত্রী যখন তাকে বিয়ে করেন, তখন তাদের বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। প্রথম বিয়ের সময় সাদিকের বয়স ছিল ২০ বছর। প্রতিটি বিয়ের আগে কনের বিয়ের মূল্য বা দেনমোহরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে তাকে দীর্ঘ সময় সঞ্চয় করতে হয়েছে।
সাদিকের পরিবারের ঘটনা অল্প বয়সে বিয়ে এবং কৈশোরে গর্ভধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে। অল্প বয়সে গর্ভধারণ মেয়েদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে, ঘন ঘন গর্ভধারণ মায়েদের শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা এসব ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সাদিক নিজেও পড়তে বা লিখতে পারেন না। পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে তিনি সরকার, ত্রাণ সংস্থা এবং ব্যবসায়ীদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন।
তার প্রত্যাশা, সন্তানরা যেন শিক্ষার সুযোগ পায় এবং পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য অন্তত পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা যায়। বিশাল পরিবার নিয়ে তার এই সংগ্রাম আফগানিস্তানের দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট ও শিক্ষাবঞ্চনার কঠিন বাস্তবতাকে সামনে এনেছে।
সূত্র: খামা প্রেস এজেন্সি ও বিবিসির প্রতিবেদন।
আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের ৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিকের পরিবারে সন্তান ৫৮ জন। চার স্ত্রী ও এতগুলো সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। অভাবের কারণে পরিবারের কিছু শিশুকে কখনো কখনো ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়। বিশাল এই পরিবারের খাবার, পোশাক ও শিক্ষার খরচ জোগাতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাকে।
খামা প্রেস এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, নিজের পরিবারের ভরণপোষণের কঠিন বাস্তবতা নিয়ে বিবিসির সঙ্গে কথা বলেছেন সাদিক। তিনি জানান, সন্তানদের সবার নাম মনে রাখাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনো পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাওয়ার সময় সন্তানদের গুনে দেখতে হয়। তখন দেখা যায়, কেউ একজন অনুপস্থিত—হয়তো সে অন্য কোথাও রয়েছে। দীর্ঘ সময়ে তার ও স্ত্রীদের ১৪ সন্তান মারা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাদিক স্থানীয় একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তার ভাষ্য, একটি গাড়ি বিক্রি হলে তিনি প্রায় এক হাজার আফগানি আয় করেন। এই সামান্য আয়ে পরিবারের এত সদস্যের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। সংসারের খরচ মেটাতে তার কয়েকজন সন্তানকেও কাজ করতে হয়। তাদের কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাগজ ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে।
পরিবারে সাধারণত দিনে দুই বেলা খাবার তৈরি হয়—সকালের নাশতা ও রাতের খাবার। দুই স্ত্রী রান্নার দায়িত্ব সামলান। শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন, আর গ্রীষ্মে বসেন উঠানে। ঘুমানোর ব্যবস্থাও অত্যন্ত সীমিত। কখনো ছয়-সাতজনকে একটি পাতলা কম্বল ভাগাভাগি করে রাত কাটাতে হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে পরিবারটির বসবাসের অপ্রতুল পরিবেশের চিত্র উঠে এসেছে। বাড়ির ঘরগুলোতে প্রচলিত দরজা-জানালার পরিবর্তে পাতলা পর্দা ব্যবহার করা হয়। গোসলের স্থানেই কাপড় ও থালাবাসন ধোয়ার কাজ চলে; কখনো সেটি শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন সাদিক। তবে অর্থের অভাবে তাদের পড়াশোনার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাদিক জানান, বড় পরিবার গড়ার পেছনে তার উদ্দেশ্য ছিল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা। কিন্তু এত সন্তানকে নিয়ে দৈনন্দিন জীবনে নানা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখেও পড়তে হয় তাকে।
একবার বিয়ের অনুষ্ঠানে এক ধর্মীয় নেতার কাছে এক মেয়ের পরিবর্তে অন্য মেয়ের নাম বলে ফেলেন তিনি। অনেক সময় সন্তানের নাম মনে করতে না পেরে তাদের ‘আমার ছেলে’ কিংবা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাদিকের চার স্ত্রী যখন তাকে বিয়ে করেন, তখন তাদের বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। প্রথম বিয়ের সময় সাদিকের বয়স ছিল ২০ বছর। প্রতিটি বিয়ের আগে কনের বিয়ের মূল্য বা দেনমোহরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে তাকে দীর্ঘ সময় সঞ্চয় করতে হয়েছে।
সাদিকের পরিবারের ঘটনা অল্প বয়সে বিয়ে এবং কৈশোরে গর্ভধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে। অল্প বয়সে গর্ভধারণ মেয়েদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে, ঘন ঘন গর্ভধারণ মায়েদের শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা এসব ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সাদিক নিজেও পড়তে বা লিখতে পারেন না। পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে তিনি সরকার, ত্রাণ সংস্থা এবং ব্যবসায়ীদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন।
তার প্রত্যাশা, সন্তানরা যেন শিক্ষার সুযোগ পায় এবং পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য অন্তত পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা যায়। বিশাল পরিবার নিয়ে তার এই সংগ্রাম আফগানিস্তানের দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট ও শিক্ষাবঞ্চনার কঠিন বাস্তবতাকে সামনে এনেছে।
সূত্র: খামা প্রেস এজেন্সি ও বিবিসির প্রতিবেদন।

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৫
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজেল নিউজের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। অপরাধের গুরুত্ব এবং সময় ও স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সাজা দেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখে এবং সাজা কার্যকরের জন্য রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়।
তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন বাস্তবায়নে সৌদি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও আজেল নিউজ।
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজেল নিউজের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। অপরাধের গুরুত্ব এবং সময় ও স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সাজা দেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখে এবং সাজা কার্যকরের জন্য রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়।
তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন বাস্তবায়নে সৌদি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও আজেল নিউজ।

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৩৭
স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন—এমন দাবি করে ভারতের হরিদ্বারে একটি মোবাইল টাওয়ারে উঠে বসেন এক যুবক। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত নিচে নামবেন না বলে জানান তিনি। তাঁকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতে নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন ওই যুবক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার শিবালিক নগরে এ ঘটনা ঘটে। স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে পালিয়ে হরিদ্বারে চলে গেছেন বলে জানতে পেরে সেখানে ছুটে যান ওই যুবক। একপর্যায়ে তিনি উঠে পড়েন এলাকার একটি মোবাইল টাওয়ারে।
বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা যুবককে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। তবে নানা অনুরোধেও তিনি রাজি হননি। টাওয়ারের ওপর থেকে যুবক দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে হবে। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দিলে তিনি নিচে নামবেন না বলেও জানান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিরাপদে নিচে নামানোর উদ্যোগ নেয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক চেষ্টাও সফল হয়নি। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে স্ত্রী না আসা পর্যন্ত টাওয়ার থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান ওই যুবক।
এ অবস্থায় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁকে শান্ত করার পাশাপাশি নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও টাওয়ারের ওপর অবস্থান করছিলেন তিনি। পরে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামার সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘ সময় পর ওই যুবক নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘ভূপি পাওয়ার’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভিডিওটি বহু মানুষের নজরে এসেছে।
স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন—এমন দাবি করে ভারতের হরিদ্বারে একটি মোবাইল টাওয়ারে উঠে বসেন এক যুবক। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত নিচে নামবেন না বলে জানান তিনি। তাঁকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতে নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন ওই যুবক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার শিবালিক নগরে এ ঘটনা ঘটে। স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে পালিয়ে হরিদ্বারে চলে গেছেন বলে জানতে পেরে সেখানে ছুটে যান ওই যুবক। একপর্যায়ে তিনি উঠে পড়েন এলাকার একটি মোবাইল টাওয়ারে।
বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা যুবককে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। তবে নানা অনুরোধেও তিনি রাজি হননি। টাওয়ারের ওপর থেকে যুবক দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে হবে। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দিলে তিনি নিচে নামবেন না বলেও জানান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিরাপদে নিচে নামানোর উদ্যোগ নেয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক চেষ্টাও সফল হয়নি। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে স্ত্রী না আসা পর্যন্ত টাওয়ার থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান ওই যুবক।
এ অবস্থায় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁকে শান্ত করার পাশাপাশি নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও টাওয়ারের ওপর অবস্থান করছিলেন তিনি। পরে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামার সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘ সময় পর ওই যুবক নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘ভূপি পাওয়ার’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভিডিওটি বহু মানুষের নজরে এসেছে।

০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪৬
বড় বড় ভবন, প্রশস্ত সড়ক কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি—এসব থাকলেই একটি শহর বাসযোগ্য হয়ে ওঠে না। প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, কার্যকর নাগরিক সেবা, সুশাসন, নিরাপদ জীবন ও টেকসই অর্থনীতি। এসব সূচকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান তৈরি করতে না পারায় বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকাতেই জায়গা হয়নি বাংলাদেশের কোনো শহরের।
বরং এক বছরের ব্যবধানে দেশের প্রধান শহরগুলোর বৈশ্বিক অবস্থান আরও পিছিয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রাজধানী ঢাকায়। গত বছর ৪৮২তম অবস্থানে থাকা ঢাকা এবার ৩৩ ধাপ পিছিয়ে নেমে গেছে ৫১৫তম অবস্থানে। ফলে বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে রাজধানী।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের ১৬৩টি দেশের এক হাজার শহরকে অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ ও শাসন—এই পাঁচ সূচকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের আট শহরের মধ্যে ঢাকার পর অবস্থান চট্টগ্রামের। তবে চট্টগ্রামও পিছিয়েছে ১৪ ধাপ; রয়েছে ৭৬৩তম স্থানে। রাজশাহী ৬৬ ধাপ পিছিয়ে ৭৭৯তম এবং খুলনা রয়েছে ৮১১তম অবস্থানে। সিলেটের অবস্থান ৮৩৪তম, কুমিল্লা ৮৮৩তম, ময়মনসিংহ ৮৯৫তম এবং বগুড়া ৩২ ধাপ পিছিয়ে ৯২৬তম অবস্থানে।
অর্থাৎ দেশের কোনো শহরই বৈশ্বিক শীর্ষ ৫০০-তে জায়গা করে নিতে পারেনি।
অর্থনীতিতে এগিয়ে, পরিবেশে তলানিতে ঢাকা
সূচকটির মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে অর্থনীতির জন্য ৩০, মানবসম্পদের জন্য ২৫, জীবনযাত্রার মানের জন্য ২৫ এবং পরিবেশ ও শাসনের জন্য ১০ করে নম্বর রাখা হয়েছে। শহরের অর্থনীতির আকার ও প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা, ব্যবসার পরিবেশ, জনমিতিক প্রবণতা, স্বাস্থ্য, আর্থিক সক্ষমতা, নাগরিক সুবিধা, পরিবেশ, জলবায়ু ঝুঁকি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিক অধিকার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতি সূচকে বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে ঢাকা। বিশ্বে এ সূচকে রাজধানীর অবস্থান ২৮৬তম। মানবসম্পদেও ঢাকার অবস্থান ১৭৮তম।
কিন্তু পরিবেশের চিত্র একেবারেই বিপরীত। এই সূচকে ঢাকার অবস্থান ৯৩০তম। অর্থাৎ অর্থনীতি ও মানবসম্পদে তুলনামূলক শক্ত অবস্থান থাকলেও পরিবেশগত দুর্বলতা সামগ্রিক র্যাংকিংয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে।
শুধু ঢাকা নয়, পরিবেশ সূচকে দেশের প্রায় সব বড় শহরের অবস্থানই উদ্বেগজনক। সিলেট ৭৩৫তম, রাজশাহী ৮৫২তম, চট্টগ্রাম ৯২৪তম, ময়মনসিংহ ৯৪০তম এবং খুলনা ৯৭৪তম অবস্থানে রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম মিজানুর রহমান বলেন, রাজশাহীর পরিবেশ দিন দিন খারাপ হচ্ছে। বায়ুদূষণ বৃদ্ধি, গাছপালা কমে যাওয়া, তীব্র গরম, বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি সংকট এবং নদীদূষণ শহটির পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করছে।
অবকাঠামো আছে, স্বস্তির নগরজীবন নেই
জীবনযাত্রার মানের সূচকেও বাংলাদেশের শহরগুলোর চিত্র খুব শক্তিশালী নয়। এ সূচকে দেশের মধ্যে এগিয়ে রাজশাহী—বিশ্বে ৫৪২তম। এরপর খুলনা ৬১২তম এবং চট্টগ্রাম ৬৫৩তম অবস্থানে রয়েছে।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন ভবন, সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণ করলেই শহরের জীবনমান বাড়ে না। প্রয়োজন বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন।
অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, যানজট, বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা, পানির সংকট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে শহরগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মহিনুজ্জামান বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো শহরে একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা ও পানির সংকট দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টির সময় রাস্তা পানিতে ডুবে যায়, আবার বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় পানির সংকট থাকে। এ পরিস্থিতি শহরগুলোর পরিবেশগত ঝুঁকি স্পষ্ট করে।
ঢাকামুখী চাপ কমানোই বড় চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার ওপর বাড়তি জনসংখ্যার চাপ কমাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো গেলে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ কমানো সম্ভব।
একই সঙ্গে পরিকল্পিত আবাসন, সবুজ এলাকা সংরক্ষণ, কার্যকর গণপরিবহন, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে হবে। তা না হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শহরের বাসযোগ্যতা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাবে না।
বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ শহরের তালিকায় রয়েছে নিউইয়র্ক, লন্ডন, প্যারিস, সিয়াটল ও সান ফ্রান্সিসকো। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের শহরগুলোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারতের দিল্লি, বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, চেন্নাই ও হায়দরাবাদ।
এদিকে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ২০২৬ সালের গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্সেও ঢাকার অবস্থান নিয়ে নেতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। দুটি আন্তর্জাতিক সূচকের ফলাফলই একই প্রশ্ন সামনে আনছে—শহর বড় হচ্ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে কি নাগরিক জীবনের মানও বাড়ছে?
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৫:০৬
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৩৩
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩৩
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২৫