ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগের ঠিকাদারের বিলের তদ্বির করতে এসে জনতার হাতে আটক হয়েছে বরিশালের দুই সমন্বয়ক। বৃহস্পতিবার বিকালে ঝালকাঠি এলজিইডিতে এ ঘটনা ঘটে।
এলজিইডি অফিস সূত্র ও উপস্থিত ঠিকাদাররা জানান, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর কম্পিউটার অপারেট শাওন খানের ৩ কোটির টাকার ব্রিজ ও সড়কে কাজের চূড়ান্ত বিল তুলতে গত দুই মাস ধরে বরিশালের দুই সমন্বয়ক নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলীকে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে তারা উপজেলা প্রকৌশলীকে বিল ছাড়ানোর জন্য ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভন্ন জায়গায় দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ দেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় তারা ঝালকাঠি এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে বিল না দেয়ার কৈফিয়ত চান। এসময় সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে উপস্থিত বিএনপি পন্থি ঠিকাদাররা ২ সমন্বয়ককে আমির হোসেন আমুর স্টাফ শাওনের বিল ছাড়াতে আসার অপরাধে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকা দুই সমন্বক সাংবাদিকদের জানান, নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীরের ঘুষ ও দুর্নীতির বিষয়ে আমরা নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু এসময় উপস্থিত ঠিকাদাররা মব সৃষ্টি করে আমাদের পুলিশে ধরিয়ে দেয়।
আটককৃতরা হলেন, সদ্য বিলুপ্ত হওয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব ও আইন বিভাগের তৃত্বীয় বর্ষের ছাত্র সিরাজুল ইসলাম (২৪) এবং বরিশাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সেমিস্টারের ছাত্র মো. মেহেদী(২৫)। সিরাজুল ইসলাম ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের দোগলচিড়া গ্রামের নুরুল বাশারের ছেলে এবং মেহেদী বরিশাল শহরের কাকলীর মোড়ের মো. কালামের ছেলে।
ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, এলজিইডিতে দুই বৈসম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ককে চাঁদাবাজির ঘটনায় আটক হয়েছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে তাদেরকে দুজনকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসি। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়ে এক সমন্বয়করা তাদের অনৈতিকভাবে হয়রানি করে আসছে। আজ একটি কাজের বিল তুলে নিতে নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসে গিয়েছিল। এ নিয়ে ঠিকাদারদের সাথে জামেলা হলে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসে। তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আসলে আমি মামলা নিব।
নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীর জানান, বরিশালের দুই সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর স্টাফ শাওনের পক্ষে ৩ কোটি টাকার একটি কাজের চূড়ান্ত বিল ছাড়িয়ে নিতে আসে। কাজ শেষ না হওয়ায় এবং যথাযথ প্রক্রিয়া বিল না করায় প্রকৃত ঠিকদারকে নিয়ে আসতে বলি। প্রকৃত ঠিকাদারকে না নিয়ে তারা কিছু ছেলেপেলে নিয়ে এসে বারবার চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নলছিটি উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের, স্থানীয় ছাত্রদল ও ছাত্র সম্বয়কদের জানিয়েছি। ঠিকাদার ছাড়া বিল কিভাবে দিব? এক পর্যায়ে তারা এ বিল ছাড়ানোর জন্য ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। আমি রাজি না হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে হয়রানি করে আসছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪০

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৪২
ঝালকাঠির নলছিটিতে গাঁজাসহ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির এক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। একই রাতে পৃথক অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে নলছিটি শহরের সবুজবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনের সময় পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আদনান রুবেল (২৮)কে আটক করা হয়। তিনি সবুজবাগ এলাকার আব্দুস ছত্তার হাওলাদারের ছেলে। পরে তাকে নলছিটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটকের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে পুলিশ জানায়, কোনো ধরনের তদবিরে সাড়া না দিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
একই রাতে ঝালকাঠি-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের কালিজিরা এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসিয়ে অভিযান চালায় নলছিটি থানা পুলিশ। এ সময় ২০ পিস ইয়াবাসহ হাসিবুর রহমান (৩৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বরিশালের জাগুয়া এলাকার আব্দুল লতিফ হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক দুইজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সৈয়দ আলী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

২১ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩৭

৩১ জুলাই, ২০২৫ ২২:২৬
ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগের ঠিকাদারের বিলের তদ্বির করতে এসে জনতার হাতে আটক হয়েছে বরিশালের দুই সমন্বয়ক। বৃহস্পতিবার বিকালে ঝালকাঠি এলজিইডিতে এ ঘটনা ঘটে।
এলজিইডি অফিস সূত্র ও উপস্থিত ঠিকাদাররা জানান, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর কম্পিউটার অপারেট শাওন খানের ৩ কোটির টাকার ব্রিজ ও সড়কে কাজের চূড়ান্ত বিল তুলতে গত দুই মাস ধরে বরিশালের দুই সমন্বয়ক নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলীকে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে তারা উপজেলা প্রকৌশলীকে বিল ছাড়ানোর জন্য ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভন্ন জায়গায় দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ দেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় তারা ঝালকাঠি এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে বিল না দেয়ার কৈফিয়ত চান। এসময় সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে উপস্থিত বিএনপি পন্থি ঠিকাদাররা ২ সমন্বয়ককে আমির হোসেন আমুর স্টাফ শাওনের বিল ছাড়াতে আসার অপরাধে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকা দুই সমন্বক সাংবাদিকদের জানান, নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীরের ঘুষ ও দুর্নীতির বিষয়ে আমরা নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু এসময় উপস্থিত ঠিকাদাররা মব সৃষ্টি করে আমাদের পুলিশে ধরিয়ে দেয়।
আটককৃতরা হলেন, সদ্য বিলুপ্ত হওয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব ও আইন বিভাগের তৃত্বীয় বর্ষের ছাত্র সিরাজুল ইসলাম (২৪) এবং বরিশাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সেমিস্টারের ছাত্র মো. মেহেদী(২৫)। সিরাজুল ইসলাম ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের দোগলচিড়া গ্রামের নুরুল বাশারের ছেলে এবং মেহেদী বরিশাল শহরের কাকলীর মোড়ের মো. কালামের ছেলে।
ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, এলজিইডিতে দুই বৈসম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ককে চাঁদাবাজির ঘটনায় আটক হয়েছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে তাদেরকে দুজনকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসি। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়ে এক সমন্বয়করা তাদের অনৈতিকভাবে হয়রানি করে আসছে। আজ একটি কাজের বিল তুলে নিতে নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসে গিয়েছিল। এ নিয়ে ঠিকাদারদের সাথে জামেলা হলে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসে। তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আসলে আমি মামলা নিব।
নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীর জানান, বরিশালের দুই সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর স্টাফ শাওনের পক্ষে ৩ কোটি টাকার একটি কাজের চূড়ান্ত বিল ছাড়িয়ে নিতে আসে। কাজ শেষ না হওয়ায় এবং যথাযথ প্রক্রিয়া বিল না করায় প্রকৃত ঠিকদারকে নিয়ে আসতে বলি। প্রকৃত ঠিকাদারকে না নিয়ে তারা কিছু ছেলেপেলে নিয়ে এসে বারবার চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নলছিটি উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের, স্থানীয় ছাত্রদল ও ছাত্র সম্বয়কদের জানিয়েছি। ঠিকাদার ছাড়া বিল কিভাবে দিব? এক পর্যায়ে তারা এ বিল ছাড়ানোর জন্য ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। আমি রাজি না হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে হয়রানি করে আসছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৫০ নম্বর কুশঙ্গল নিকাড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আয়শা আক্তার শান্তার বিরুদ্ধে। তবে তাঁর ছুটির আবেদনপত্রে বিদেশে যাওয়ার কোনো তথ্য উল্লেখ নেই। সেখানে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে চিকিৎসার জন্য ছুটি চাওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক এস এম সেলিম হোসাইনের অবসরের পর সেখানে চারজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সহকারী শিক্ষক শায়লা আমিন গত ৩০ মার্চ থেকে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। এরপর সহকারী শিক্ষক আয়শা আক্তার শান্তা দুই মাসের চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়ে কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত হন। স্থানীয়দের দাবি, ছুটি চলাকালে তিনি স্বামীর কাছে বিদেশে গেছেন।
ফলে বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদাউস ও একজন সহকারী শিক্ষক। মাত্র দুই শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মাসিক সভা, উপজেলা পর্যায়ের বৈঠক বা অন্য সরকারি কাজে বাইরে যেতে হলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হয়।
গত ১৬ জুন নলছিটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া ছুটির আবেদনে আয়শা আক্তার শান্তা উল্লেখ করেন, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ১৬ জুন থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসাজনিত ছুটি ভোগের অনুমতি চান তিনি।
আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর কর্মস্থল থেকে বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। শারীরিক অবস্থার কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
তবে স্থানীয়দের দাবি, ছুটি চলাকালে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদাউস বলেন,ছুটির আবেদন অনুযায়ী তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। লোকমুখে শুনেছি, তিনি স্বামীর কাছে বিদেশে গেছেন। এ বিষয়ে তিনি আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।
নলছিটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আক্তার বলেন, বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে। ছুটির আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে আয়শা আক্তার শান্তার বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৫০ নম্বর কুশঙ্গল নিকাড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আয়শা আক্তার শান্তার বিরুদ্ধে। তবে তাঁর ছুটির আবেদনপত্রে বিদেশে যাওয়ার কোনো তথ্য উল্লেখ নেই। সেখানে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে চিকিৎসার জন্য ছুটি চাওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক এস এম সেলিম হোসাইনের অবসরের পর সেখানে চারজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সহকারী শিক্ষক শায়লা আমিন গত ৩০ মার্চ থেকে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। এরপর সহকারী শিক্ষক আয়শা আক্তার শান্তা দুই মাসের চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়ে কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত হন। স্থানীয়দের দাবি, ছুটি চলাকালে তিনি স্বামীর কাছে বিদেশে গেছেন।
ফলে বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদাউস ও একজন সহকারী শিক্ষক। মাত্র দুই শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মাসিক সভা, উপজেলা পর্যায়ের বৈঠক বা অন্য সরকারি কাজে বাইরে যেতে হলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হয়।
গত ১৬ জুন নলছিটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া ছুটির আবেদনে আয়শা আক্তার শান্তা উল্লেখ করেন, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ১৬ জুন থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসাজনিত ছুটি ভোগের অনুমতি চান তিনি।
আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর কর্মস্থল থেকে বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। শারীরিক অবস্থার কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
তবে স্থানীয়দের দাবি, ছুটি চলাকালে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদাউস বলেন,ছুটির আবেদন অনুযায়ী তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। লোকমুখে শুনেছি, তিনি স্বামীর কাছে বিদেশে গেছেন। এ বিষয়ে তিনি আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।
নলছিটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আক্তার বলেন, বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে। ছুটির আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে আয়শা আক্তার শান্তার বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ঝালকাঠির নলছিটিতে গাঁজাসহ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির এক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। একই রাতে পৃথক অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে নলছিটি শহরের সবুজবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনের সময় পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আদনান রুবেল (২৮)কে আটক করা হয়। তিনি সবুজবাগ এলাকার আব্দুস ছত্তার হাওলাদারের ছেলে। পরে তাকে নলছিটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটকের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে পুলিশ জানায়, কোনো ধরনের তদবিরে সাড়া না দিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
একই রাতে ঝালকাঠি-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের কালিজিরা এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসিয়ে অভিযান চালায় নলছিটি থানা পুলিশ। এ সময় ২০ পিস ইয়াবাসহ হাসিবুর রহমান (৩৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বরিশালের জাগুয়া এলাকার আব্দুল লতিফ হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক দুইজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সৈয়দ আলী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঝালকাঠির নলছিটিতে স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ি থেকে দুই সন্তানসহ মুন্নি আক্তার কলি (৩৬) নামে এক গৃহবধূকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার ভাসুর ছেলে ও ননদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে ভাসুর ছেলে শহীদ আলম ও ননদ তাসলিমা বেগমসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ঝালকাঠির আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জন আসামী রয়েছে। নলছিটি থানা পুলিশকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছে আদালত।
বাদীর আইনজীবী অ্যাড. গোলাম মাওলা শান্ত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে মারাত্মক জীবন নাশক অস্ত্র-সস্ত্র, দা, লোহার রডসহ শক্তির মহড়া দিয়া জনমনে ভীতি, আতংক, ত্রাস ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে ঘেরের মাছ লুট, গাছ কাটা, বসতঘরে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট করে গৃহবধূকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
জানা গেছে, আসামী শহীদ আলম উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি এবং ভরতকাঠি গ্রামের মৃত রশিদ হাওলাদারের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের বাসিন্দা মুন্নি আক্তার কলির স্বামী মো. রফিক গত ২০২৪ সালের ২৭ মে সৌদি থেকে বাংলাদেশে আসার পথে এয়ারপোর্টে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। পরে সৌদি আরব থেকে রফিকের মরদেহের সঙ্গে তার জমাকৃত নগদ ১৮৪০০ সৌদি রিয়াল, স্বর্ণালংকার, অন্যান্য মালামাল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশে পাঠানো হয়। কিন্তু মামলার বাদী মুন্নি ও তার দুই সন্তানকে না জানিয়ে ভাসুরের ছেলে শহীদ আলম ও ননদ তাসলিমা বেগম দপদপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নামে একটি জাল প্রত্যয়নপত্র প্রস্তুত করে মুন্নির স্বামীর মরদেহসহ মালামাল, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, অন্যান্য কাগজপত্র ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে এসব বিষয় জানতে চাইলে আসামী শহীদ আলম ও তাসলিমা বেগম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মুন্নিকে হত্যা, গুরুতর জখমের হুমকি দেন। গত ২ জুলাই আসামী শহীদ, তাসলিমা ও তার জামাই আক্কাসসহ অন্যান্য আসামীরা মুন্নির বসতঘরের সামনের ঘের থেকে প্রায় ২০ মণ মাছ লুট করেন এবং ঘেরের বাঁধ কেটে ঘেরটি উন্মুক্ত করে দেন। আসামীরা মুন্নির ঘরের পাশের বাগানে থেকে ১৩টি গাছ জোরপূর্বক কেটে ফেলেন। এসবের প্রতিবাদ করলে আসামীরা মুন্নিকে ধাওয়া করেন এবং বসতঘরে ঢুকে দুই সন্তানসহ তাকে মারধর করেন। বসতঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর করে তাদেরকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে বসতঘরে তালা লাগিয়ে দেয়।
এ বিষয় জানতে চাইলে মামলার প্রধান আসামী শহীদ আলম বলেন, বাদী মুন্নির আনিত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। শুধুমাত্র হয়রানি করার জন্য তাকে ও অন্যান্যদের এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।’
ঝালকাঠির নলছিটিতে স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ি থেকে দুই সন্তানসহ মুন্নি আক্তার কলি (৩৬) নামে এক গৃহবধূকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার ভাসুর ছেলে ও ননদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে ভাসুর ছেলে শহীদ আলম ও ননদ তাসলিমা বেগমসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ঝালকাঠির আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জন আসামী রয়েছে। নলছিটি থানা পুলিশকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছে আদালত।
বাদীর আইনজীবী অ্যাড. গোলাম মাওলা শান্ত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে মারাত্মক জীবন নাশক অস্ত্র-সস্ত্র, দা, লোহার রডসহ শক্তির মহড়া দিয়া জনমনে ভীতি, আতংক, ত্রাস ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে ঘেরের মাছ লুট, গাছ কাটা, বসতঘরে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট করে গৃহবধূকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
জানা গেছে, আসামী শহীদ আলম উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি এবং ভরতকাঠি গ্রামের মৃত রশিদ হাওলাদারের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের বাসিন্দা মুন্নি আক্তার কলির স্বামী মো. রফিক গত ২০২৪ সালের ২৭ মে সৌদি থেকে বাংলাদেশে আসার পথে এয়ারপোর্টে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। পরে সৌদি আরব থেকে রফিকের মরদেহের সঙ্গে তার জমাকৃত নগদ ১৮৪০০ সৌদি রিয়াল, স্বর্ণালংকার, অন্যান্য মালামাল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশে পাঠানো হয়। কিন্তু মামলার বাদী মুন্নি ও তার দুই সন্তানকে না জানিয়ে ভাসুরের ছেলে শহীদ আলম ও ননদ তাসলিমা বেগম দপদপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নামে একটি জাল প্রত্যয়নপত্র প্রস্তুত করে মুন্নির স্বামীর মরদেহসহ মালামাল, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, অন্যান্য কাগজপত্র ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে এসব বিষয় জানতে চাইলে আসামী শহীদ আলম ও তাসলিমা বেগম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মুন্নিকে হত্যা, গুরুতর জখমের হুমকি দেন। গত ২ জুলাই আসামী শহীদ, তাসলিমা ও তার জামাই আক্কাসসহ অন্যান্য আসামীরা মুন্নির বসতঘরের সামনের ঘের থেকে প্রায় ২০ মণ মাছ লুট করেন এবং ঘেরের বাঁধ কেটে ঘেরটি উন্মুক্ত করে দেন। আসামীরা মুন্নির ঘরের পাশের বাগানে থেকে ১৩টি গাছ জোরপূর্বক কেটে ফেলেন। এসবের প্রতিবাদ করলে আসামীরা মুন্নিকে ধাওয়া করেন এবং বসতঘরে ঢুকে দুই সন্তানসহ তাকে মারধর করেন। বসতঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর করে তাদেরকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে বসতঘরে তালা লাগিয়ে দেয়।
এ বিষয় জানতে চাইলে মামলার প্রধান আসামী শহীদ আলম বলেন, বাদী মুন্নির আনিত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। শুধুমাত্র হয়রানি করার জন্য তাকে ও অন্যান্যদের এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।’
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪২
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪০
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৪
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:০১