বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন সাহেদা পারভীন। পড়াতেন পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে ২০২৪ সালে তথ্য গোপন করে অর্জিত ছুটি নিয়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। গ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্ব। তবে কলেজে ক্লাস না করেও তিনি নিয়মিত তুলছিলেন তার বেতন ভাতা। অপারেশনের অজুহাত দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ছুটিতে থাকার জন্য করেছিলেন আবেদন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এদিকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য উল্টো কলেজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার আর চাপসৃষ্টি করছেন। দেশে না থেকেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত চাকরি এবং বেতন-ভাতা চালু রেখে অবসরে যাওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের পৌরনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।
জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য গোপন করে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর অর্জিত ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের পৌরনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীন। বিদেশে যাওয়ার জন্য তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেননি। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেও বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখেন। ৪ মাসের লম্বা ছুটিতে থাকার পরে ছুটি শেষে তিনি অধ্যক্ষকে জানান, চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং সুচিকিৎসার জন্য ছুটি আরো ২ মাস বাড়ানো দরকার। চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ মানবিক কারণে চলতি বছরের ২১ জুন পর্যন্ত তার বর্ধিত ছুটির আবেদন মঞ্জুর করেন। চিকিৎসা শেষ করে জুনে দেশে এসে কলেজে তার যোগদান করার কথা থাকলেও তিনি তালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি আবারও ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেন। এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তার একটি অপারেশন করাতে দীর্ঘ সিরিয়ালের অজুহাত দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সিএল ছুটির জন্য আবেদন করেন। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ তার ছুটির আবেদন নাকচ করে দিয়ে ১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে ফিরে এসে কলেজে যোগদান করার নির্দেশ দেন।
এরপরে কলেজে যোগদানের জন্য তাকে পরপর ৩টি নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি দেশে ফেরেননি। নোটিশ দেওয়ার পরেও টানা ২ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে কলেজে গভর্নিং কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়। গত ২১ আগস্ট ওই সভায় তাকে সশরীরে হাজির হয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গোপনে দেশত্যাগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তথ্য গোপন করে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন, সেখানে নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওই সভায় প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেইসঙ্গে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এসময় এসব গুরুতর অনিয়মের প্রেক্ষিতে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না, এই মর্মে একটি শোকজ লেটারও ইস্যু করা হয়। এদিকে তিনি গত ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিত বেতনভাতা তুলে নিচ্ছেন। এছাড়াও এভাবে বিদেশে বসে ২০২৭ সালে তার চাকরি জীবনের ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বেতনভাতা তুলে পূর্ণ সুযোগসুবিধাসহ অবসরে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তার এই অনৈতিক প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের উপর বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি করছেন বলেও জানা যায়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা আক্তার বলেন, 'চিকিৎসার কথা বলায় মানবিক কারণে ২১ জুন পর্যন্ত সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের ছুটি মঞ্জুর করেছে কলেজের গভর্নিং বোর্ড। ইএফটি'র মাধ্যমে বেতন-ভাতা সরাসরি তার ব্যাংক একাউন্টে চলে যায় বিধায় আমাদের পক্ষে তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বৈধ কোনো অনুমোদন ছাড়াই কাউকে না জানিয়ে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন এবং সেখানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি অত্র কলেজে আর ক্লাস নিতে পারবেন না, এটা তিনি নিশ্চিত করার পরেই তাকে কলেজ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তার ছুটি মঞ্জুর করার জন্য গভর্নিং বোর্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। যাতে তিনি চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ করে বাংলাদেশ থেকে তার সম্পূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে পারেন। তার এই অনৈতিক প্রস্তাব কলেজের গভর্নিং বডি প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হন তিনি। এদিকে দীর্ঘদিন তিনি কলেজে অনুপস্থিত থাকায় তার সাবজেক্টে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।'
চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও বরিশাল জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম তসলিম উদ্দিন বলেন, 'যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তথ্য গোপন করে বিদেশ গমন, নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার কারণে সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান এবং শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও কলেজের পদ ছাড়তে চাইছেন না তিনি। ২০২৭ পর্যন্ত চাকরি বহাল রেখে বাংলাদেশ থেকে বেতনভাতাসহ পূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে চাইছেন। তার এই অন্যায় অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাকে চাকরি বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সশরীরে কলেজে উপস্থিত হয়ে এর উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।'
এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। এসব বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ বিষয় নিয়ে তাকে বিরক্ত না করার জন্যেও অনুরোধ করেন। তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য গ্রহণের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ম্যাসেজ দিয়ে অনুরোধ জানালেও তাতে কোনো সাড়া দেননি তিনি। #

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২২
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সম্মুখে যুবকদের দুটি গ্রুপ শুক্রবার মধ্য রাতে হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। লাঠিসোঠা নিয়ে উভয়গ্রুপের ঘণ্টাব্যাপি পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-ইটপাটকেল নিক্ষেপে ভিসি গেটসংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক সড়কসহ আশপাশ এলাকাসমূহে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন বন্দর (সাহেবেরহাট) পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও নৈরাজ্যে কারা জড়িত তা নিশ্চিত বলতে পারছে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশের একটি মেসে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপ আকস্মিক লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এবং একপর্যায়ে দুটি গ্রুপ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হওয়ার পাশাপাশি একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছেন। তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘণ্টাখানেক ধরে এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার রাত ১০টার এই সংঘাতে কারা জড়িত তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, ১ নম্বর গেটের বিপরিত পাশের মেস থেকে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা ব্যাপক আকারে রূপ এবং তার আভা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ দুটি গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখ সড়কে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। মেসের অভ্যন্তরে দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
তবে এই সংঘাতে কারা জড়িত সেই খবর তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে না পারলেও সূত্রগুলো গভীর রাতে জানিয়েছে, প্রথমে সংঘাতটি সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকলেও পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন।
সবশেষ রাত ১২টার সময় খবর নিয়ে জানা গেছে, অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে আছেন। অনুরূপভাবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলার রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের এই মুখোমুখি অবস্থান রাতে ফের সংঘাতের আশঙ্কা বদ্ধমূল করে তুলেছে, পুলিশও আছে সতর্ক।
পুলিশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের এই সংঘাত রোধে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন। তবে ঘটনায় কারা জড়িত তিনিও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনও অনুরূপ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, দুটি গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে আছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি তারাও কাজ করছেন। তবে কি কারণে এবং কারা গভীর রাতে সংঘাতে জড়ালেন তা সুনিশ্চিত বলা সম্ভব হচ্ছে না, মন্তব্য করেন ওসি।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সম্মুখে যুবকদের দুটি গ্রুপ শুক্রবার মধ্য রাতে হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। লাঠিসোঠা নিয়ে উভয়গ্রুপের ঘণ্টাব্যাপি পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-ইটপাটকেল নিক্ষেপে ভিসি গেটসংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক সড়কসহ আশপাশ এলাকাসমূহে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন বন্দর (সাহেবেরহাট) পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও নৈরাজ্যে কারা জড়িত তা নিশ্চিত বলতে পারছে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশের একটি মেসে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপ আকস্মিক লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এবং একপর্যায়ে দুটি গ্রুপ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হওয়ার পাশাপাশি একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছেন। তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘণ্টাখানেক ধরে এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার রাত ১০টার এই সংঘাতে কারা জড়িত তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, ১ নম্বর গেটের বিপরিত পাশের মেস থেকে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা ব্যাপক আকারে রূপ এবং তার আভা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ দুটি গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখ সড়কে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। মেসের অভ্যন্তরে দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
তবে এই সংঘাতে কারা জড়িত সেই খবর তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে না পারলেও সূত্রগুলো গভীর রাতে জানিয়েছে, প্রথমে সংঘাতটি সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকলেও পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন।
সবশেষ রাত ১২টার সময় খবর নিয়ে জানা গেছে, অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে আছেন। অনুরূপভাবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলার রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের এই মুখোমুখি অবস্থান রাতে ফের সংঘাতের আশঙ্কা বদ্ধমূল করে তুলেছে, পুলিশও আছে সতর্ক।
পুলিশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের এই সংঘাত রোধে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন। তবে ঘটনায় কারা জড়িত তিনিও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনও অনুরূপ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, দুটি গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে আছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি তারাও কাজ করছেন। তবে কি কারণে এবং কারা গভীর রাতে সংঘাতে জড়ালেন তা সুনিশ্চিত বলা সম্ভব হচ্ছে না, মন্তব্য করেন ওসি।’

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৬
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকাগামী ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৭৯৫) আশোকাঠী এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গৌরনদীর মো. মাহবুব (৩৯) ও শিশু আব্দুর রহমান (২), বরিশালের মনিরুজ্জামান (৩৮) ও মমতাজ বেগম (৬০) এবং চট্টগ্রামের জামাল হোসেন (৩৩)।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু। এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকাগামী ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৭৯৫) আশোকাঠী এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গৌরনদীর মো. মাহবুব (৩৯) ও শিশু আব্দুর রহমান (২), বরিশালের মনিরুজ্জামান (৩৮) ও মমতাজ বেগম (৬০) এবং চট্টগ্রামের জামাল হোসেন (৩৩)।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু। এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৭
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দেড় বছর ধরে পড়ে আছে সংযোগ সড়কের অভাবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি এখনো যান চলাচলের জন্য কার্যকর না হওয়ায় স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না।
এদিকে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, যথাযথ জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে জমির মালিকদের চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের আগে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সেতু নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
জমির মালিক আঃ রব হাওলাদার অভিযোগ করেন, সেতু নির্মাণের সময় তার জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানালে প্রকৌশলী সুব্রত রায় সরকারি নিয়মে জমি অধিগ্রহণ করে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তার দাবি।
আঃ রব হাওলাদারের অভিযোগ, বর্তমানে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি না হয়ে বরং মামলা করার হুমকি ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় জমির মালিকদের প্রশ্ন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহার করা হবে কি না। তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প হলেও জমির মালিকের সম্পত্তির অধিকার এবং প্রচলিত আইন মেনেই জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময়ই সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, মালিকানা ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এখন প্রকল্পের সেই ঘাটতির দায় সাধারণ জমির মালিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরুর আগে প্রকল্পের নকশা, জমির দাগ-খতিয়ান, মালিকানা এবং জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কোনো কাজ না করার দাবি তাদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা না হলে জমির মালিকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি উন্নয়নের নামে জমি দখল নয়, আইনানুগভাবে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দেড় বছর ধরে পড়ে আছে সংযোগ সড়কের অভাবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি এখনো যান চলাচলের জন্য কার্যকর না হওয়ায় স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না।
এদিকে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, যথাযথ জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে জমির মালিকদের চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের আগে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সেতু নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
জমির মালিক আঃ রব হাওলাদার অভিযোগ করেন, সেতু নির্মাণের সময় তার জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানালে প্রকৌশলী সুব্রত রায় সরকারি নিয়মে জমি অধিগ্রহণ করে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তার দাবি।
আঃ রব হাওলাদারের অভিযোগ, বর্তমানে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি না হয়ে বরং মামলা করার হুমকি ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় জমির মালিকদের প্রশ্ন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহার করা হবে কি না। তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প হলেও জমির মালিকের সম্পত্তির অধিকার এবং প্রচলিত আইন মেনেই জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময়ই সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, মালিকানা ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এখন প্রকল্পের সেই ঘাটতির দায় সাধারণ জমির মালিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরুর আগে প্রকল্পের নকশা, জমির দাগ-খতিয়ান, মালিকানা এবং জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কোনো কাজ না করার দাবি তাদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা না হলে জমির মালিকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি উন্নয়নের নামে জমি দখল নয়, আইনানুগভাবে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক।

২৪ আগস্ট, ২০২৫ ২৩:৩৩
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন সাহেদা পারভীন। পড়াতেন পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে ২০২৪ সালে তথ্য গোপন করে অর্জিত ছুটি নিয়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। গ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্ব। তবে কলেজে ক্লাস না করেও তিনি নিয়মিত তুলছিলেন তার বেতন ভাতা। অপারেশনের অজুহাত দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ছুটিতে থাকার জন্য করেছিলেন আবেদন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এদিকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য উল্টো কলেজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার আর চাপসৃষ্টি করছেন। দেশে না থেকেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত চাকরি এবং বেতন-ভাতা চালু রেখে অবসরে যাওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের পৌরনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।
জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য গোপন করে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর অর্জিত ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের পৌরনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীন। বিদেশে যাওয়ার জন্য তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেননি। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেও বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখেন। ৪ মাসের লম্বা ছুটিতে থাকার পরে ছুটি শেষে তিনি অধ্যক্ষকে জানান, চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং সুচিকিৎসার জন্য ছুটি আরো ২ মাস বাড়ানো দরকার। চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ মানবিক কারণে চলতি বছরের ২১ জুন পর্যন্ত তার বর্ধিত ছুটির আবেদন মঞ্জুর করেন। চিকিৎসা শেষ করে জুনে দেশে এসে কলেজে তার যোগদান করার কথা থাকলেও তিনি তালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি আবারও ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেন। এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তার একটি অপারেশন করাতে দীর্ঘ সিরিয়ালের অজুহাত দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সিএল ছুটির জন্য আবেদন করেন। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ তার ছুটির আবেদন নাকচ করে দিয়ে ১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে ফিরে এসে কলেজে যোগদান করার নির্দেশ দেন।
এরপরে কলেজে যোগদানের জন্য তাকে পরপর ৩টি নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি দেশে ফেরেননি। নোটিশ দেওয়ার পরেও টানা ২ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে কলেজে গভর্নিং কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়। গত ২১ আগস্ট ওই সভায় তাকে সশরীরে হাজির হয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গোপনে দেশত্যাগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তথ্য গোপন করে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন, সেখানে নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওই সভায় প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেইসঙ্গে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এসময় এসব গুরুতর অনিয়মের প্রেক্ষিতে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না, এই মর্মে একটি শোকজ লেটারও ইস্যু করা হয়। এদিকে তিনি গত ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিত বেতনভাতা তুলে নিচ্ছেন। এছাড়াও এভাবে বিদেশে বসে ২০২৭ সালে তার চাকরি জীবনের ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বেতনভাতা তুলে পূর্ণ সুযোগসুবিধাসহ অবসরে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তার এই অনৈতিক প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের উপর বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি করছেন বলেও জানা যায়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা আক্তার বলেন, 'চিকিৎসার কথা বলায় মানবিক কারণে ২১ জুন পর্যন্ত সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের ছুটি মঞ্জুর করেছে কলেজের গভর্নিং বোর্ড। ইএফটি'র মাধ্যমে বেতন-ভাতা সরাসরি তার ব্যাংক একাউন্টে চলে যায় বিধায় আমাদের পক্ষে তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বৈধ কোনো অনুমোদন ছাড়াই কাউকে না জানিয়ে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন এবং সেখানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি অত্র কলেজে আর ক্লাস নিতে পারবেন না, এটা তিনি নিশ্চিত করার পরেই তাকে কলেজ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তার ছুটি মঞ্জুর করার জন্য গভর্নিং বোর্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। যাতে তিনি চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ করে বাংলাদেশ থেকে তার সম্পূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে পারেন। তার এই অনৈতিক প্রস্তাব কলেজের গভর্নিং বডি প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হন তিনি। এদিকে দীর্ঘদিন তিনি কলেজে অনুপস্থিত থাকায় তার সাবজেক্টে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।'
চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও বরিশাল জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম তসলিম উদ্দিন বলেন, 'যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তথ্য গোপন করে বিদেশ গমন, নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার কারণে সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান এবং শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও কলেজের পদ ছাড়তে চাইছেন না তিনি। ২০২৭ পর্যন্ত চাকরি বহাল রেখে বাংলাদেশ থেকে বেতনভাতাসহ পূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে চাইছেন। তার এই অন্যায় অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাকে চাকরি বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সশরীরে কলেজে উপস্থিত হয়ে এর উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।'
এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। এসব বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ বিষয় নিয়ে তাকে বিরক্ত না করার জন্যেও অনুরোধ করেন। তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য গ্রহণের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ম্যাসেজ দিয়ে অনুরোধ জানালেও তাতে কোনো সাড়া দেননি তিনি। #
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬