
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২৪ আগস্ট, ২০২৫ ২৩:৩৩
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন সাহেদা পারভীন। পড়াতেন পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে ২০২৪ সালে তথ্য গোপন করে অর্জিত ছুটি নিয়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। গ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্ব। তবে কলেজে ক্লাস না করেও তিনি নিয়মিত তুলছিলেন তার বেতন ভাতা। অপারেশনের অজুহাত দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ছুটিতে থাকার জন্য করেছিলেন আবেদন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এদিকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য উল্টো কলেজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার আর চাপসৃষ্টি করছেন। দেশে না থেকেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত চাকরি এবং বেতন-ভাতা চালু রেখে অবসরে যাওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের পৌরনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।
জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য গোপন করে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর অর্জিত ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের পৌরনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীন। বিদেশে যাওয়ার জন্য তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেননি। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেও বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখেন। ৪ মাসের লম্বা ছুটিতে থাকার পরে ছুটি শেষে তিনি অধ্যক্ষকে জানান, চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং সুচিকিৎসার জন্য ছুটি আরো ২ মাস বাড়ানো দরকার। চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ মানবিক কারণে চলতি বছরের ২১ জুন পর্যন্ত তার বর্ধিত ছুটির আবেদন মঞ্জুর করেন। চিকিৎসা শেষ করে জুনে দেশে এসে কলেজে তার যোগদান করার কথা থাকলেও তিনি তালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি আবারও ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেন। এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তার একটি অপারেশন করাতে দীর্ঘ সিরিয়ালের অজুহাত দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সিএল ছুটির জন্য আবেদন করেন। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ তার ছুটির আবেদন নাকচ করে দিয়ে ১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে ফিরে এসে কলেজে যোগদান করার নির্দেশ দেন।
এরপরে কলেজে যোগদানের জন্য তাকে পরপর ৩টি নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি দেশে ফেরেননি। নোটিশ দেওয়ার পরেও টানা ২ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে কলেজে গভর্নিং কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়। গত ২১ আগস্ট ওই সভায় তাকে সশরীরে হাজির হয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গোপনে দেশত্যাগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তথ্য গোপন করে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন, সেখানে নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওই সভায় প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেইসঙ্গে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এসময় এসব গুরুতর অনিয়মের প্রেক্ষিতে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না, এই মর্মে একটি শোকজ লেটারও ইস্যু করা হয়। এদিকে তিনি গত ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিত বেতনভাতা তুলে নিচ্ছেন। এছাড়াও এভাবে বিদেশে বসে ২০২৭ সালে তার চাকরি জীবনের ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বেতনভাতা তুলে পূর্ণ সুযোগসুবিধাসহ অবসরে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তার এই অনৈতিক প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের উপর বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি করছেন বলেও জানা যায়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা আক্তার বলেন, 'চিকিৎসার কথা বলায় মানবিক কারণে ২১ জুন পর্যন্ত সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের ছুটি মঞ্জুর করেছে কলেজের গভর্নিং বোর্ড। ইএফটি'র মাধ্যমে বেতন-ভাতা সরাসরি তার ব্যাংক একাউন্টে চলে যায় বিধায় আমাদের পক্ষে তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বৈধ কোনো অনুমোদন ছাড়াই কাউকে না জানিয়ে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন এবং সেখানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি অত্র কলেজে আর ক্লাস নিতে পারবেন না, এটা তিনি নিশ্চিত করার পরেই তাকে কলেজ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তার ছুটি মঞ্জুর করার জন্য গভর্নিং বোর্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। যাতে তিনি চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ করে বাংলাদেশ থেকে তার সম্পূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে পারেন। তার এই অনৈতিক প্রস্তাব কলেজের গভর্নিং বডি প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হন তিনি। এদিকে দীর্ঘদিন তিনি কলেজে অনুপস্থিত থাকায় তার সাবজেক্টে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।'
চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও বরিশাল জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম তসলিম উদ্দিন বলেন, 'যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তথ্য গোপন করে বিদেশ গমন, নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার কারণে সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান এবং শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও কলেজের পদ ছাড়তে চাইছেন না তিনি। ২০২৭ পর্যন্ত চাকরি বহাল রেখে বাংলাদেশ থেকে বেতনভাতাসহ পূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে চাইছেন। তার এই অন্যায় অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাকে চাকরি বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সশরীরে কলেজে উপস্থিত হয়ে এর উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।'
এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। এসব বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ বিষয় নিয়ে তাকে বিরক্ত না করার জন্যেও অনুরোধ করেন। তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য গ্রহণের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ম্যাসেজ দিয়ে অনুরোধ জানালেও তাতে কোনো সাড়া দেননি তিনি। #
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন সাহেদা পারভীন। পড়াতেন পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে ২০২৪ সালে তথ্য গোপন করে অর্জিত ছুটি নিয়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। গ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্ব। তবে কলেজে ক্লাস না করেও তিনি নিয়মিত তুলছিলেন তার বেতন ভাতা। অপারেশনের অজুহাত দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ছুটিতে থাকার জন্য করেছিলেন আবেদন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এদিকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য উল্টো কলেজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার আর চাপসৃষ্টি করছেন। দেশে না থেকেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত চাকরি এবং বেতন-ভাতা চালু রেখে অবসরে যাওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের পৌরনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।
জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য গোপন করে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর অর্জিত ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের পৌরনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীন। বিদেশে যাওয়ার জন্য তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেননি। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেও বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখেন। ৪ মাসের লম্বা ছুটিতে থাকার পরে ছুটি শেষে তিনি অধ্যক্ষকে জানান, চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং সুচিকিৎসার জন্য ছুটি আরো ২ মাস বাড়ানো দরকার। চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ মানবিক কারণে চলতি বছরের ২১ জুন পর্যন্ত তার বর্ধিত ছুটির আবেদন মঞ্জুর করেন। চিকিৎসা শেষ করে জুনে দেশে এসে কলেজে তার যোগদান করার কথা থাকলেও তিনি তালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি আবারও ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেন। এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তার একটি অপারেশন করাতে দীর্ঘ সিরিয়ালের অজুহাত দিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সিএল ছুটির জন্য আবেদন করেন। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ তার ছুটির আবেদন নাকচ করে দিয়ে ১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে ফিরে এসে কলেজে যোগদান করার নির্দেশ দেন।
এরপরে কলেজে যোগদানের জন্য তাকে পরপর ৩টি নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি দেশে ফেরেননি। নোটিশ দেওয়ার পরেও টানা ২ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে কলেজে গভর্নিং কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়। গত ২১ আগস্ট ওই সভায় তাকে সশরীরে হাজির হয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গোপনে দেশত্যাগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তথ্য গোপন করে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন, সেখানে নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওই সভায় প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেইসঙ্গে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এসময় এসব গুরুতর অনিয়মের প্রেক্ষিতে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না, এই মর্মে একটি শোকজ লেটারও ইস্যু করা হয়। এদিকে তিনি গত ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিত বেতনভাতা তুলে নিচ্ছেন। এছাড়াও এভাবে বিদেশে বসে ২০২৭ সালে তার চাকরি জীবনের ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বেতনভাতা তুলে পূর্ণ সুযোগসুবিধাসহ অবসরে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তার এই অনৈতিক প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের উপর বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি করছেন বলেও জানা যায়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা আক্তার বলেন, 'চিকিৎসার কথা বলায় মানবিক কারণে ২১ জুন পর্যন্ত সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের ছুটি মঞ্জুর করেছে কলেজের গভর্নিং বোর্ড। ইএফটি'র মাধ্যমে বেতন-ভাতা সরাসরি তার ব্যাংক একাউন্টে চলে যায় বিধায় আমাদের পক্ষে তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বৈধ কোনো অনুমোদন ছাড়াই কাউকে না জানিয়ে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন এবং সেখানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি অত্র কলেজে আর ক্লাস নিতে পারবেন না, এটা তিনি নিশ্চিত করার পরেই তাকে কলেজ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তার ছুটি মঞ্জুর করার জন্য গভর্নিং বোর্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। যাতে তিনি চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ করে বাংলাদেশ থেকে তার সম্পূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে পারেন। তার এই অনৈতিক প্রস্তাব কলেজের গভর্নিং বডি প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হন তিনি। এদিকে দীর্ঘদিন তিনি কলেজে অনুপস্থিত থাকায় তার সাবজেক্টে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।'
চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও বরিশাল জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম তসলিম উদ্দিন বলেন, 'যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তথ্য গোপন করে বিদেশ গমন, নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার কারণে সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে কেন তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান এবং শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও কলেজের পদ ছাড়তে চাইছেন না তিনি। ২০২৭ পর্যন্ত চাকরি বহাল রেখে বাংলাদেশ থেকে বেতনভাতাসহ পূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে চাইছেন। তার এই অন্যায় অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাকে চাকরি বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সশরীরে কলেজে উপস্থিত হয়ে এর উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।'
এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাহেদা পারভীনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। এসব বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ বিষয় নিয়ে তাকে বিরক্ত না করার জন্যেও অনুরোধ করেন। তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য গ্রহণের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ম্যাসেজ দিয়ে অনুরোধ জানালেও তাতে কোনো সাড়া দেননি তিনি। #

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:২২
বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) পুলিশের কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রশংসায় ভাসছেন নগরবাসীর। গত (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোঃ শফিকুল ইসলাম,(বিএমপি) পুলিশের কমিশনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেই,নগরবাসীর নিরাপত্তা,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি,মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ, কিশোর গ্যাং,ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ কমিশনার নির্দেশনায়,মাদকের স্পটগুলো (মাদকমুক্ত) নগরীতে রুপ নিয়েছে। নগরীর অর্ধশত স্পটে প্রকাশ্যে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
বিনোদন কেন্দ্রগুলোর আশপাশে হরহামেশাই চলতে মাদক সেবন। ত্রিশ গোডাউন,বেলসপার্কের হ্যালিপ্যাড, কেডিসি, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, রসুলপুর, পলাশপুর, বেলতলা, লামছড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় মাদক বিক্রি ও সেবন করতে প্রকাশ্যে।
তিনি গভীর রাতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আকস্মিক পরিদর্শন করেন (বিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি চেকপোস্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে তদারকি করেন এবং রাত্রীকালীন নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা প্রদান করেন।
কমিশনার শফিকুল ইসলাম নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে পথচারী, দুরপাল্লার লঞ্চ ও নাইটকোচ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। যাত্রাপথে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্রমণ নিরাপত্তায় করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে বিএমপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪৭

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৩৭
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় আগমনকে কেন্দ্র করে জনসভাস্থল পাতারহাট আরসি কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনসভাস্থলের মাঠ পরিদর্শনের সময় বরিশাল জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. মাহফুজুর রহমান, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মজলিশে শুরা সদস্য সগির বিন সাঈদ, জেলা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন ইয়ামিন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ এম সাইফুর রহমান, নুরুল হক সোহরাব, জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আকবর হোসেন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শহিদুল ইসলাম, হিজলা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী সৈয়দ গুলজার আলমসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বরিশাল-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল জব্বার বলেন, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারী আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনসভায় এতো বেশি লোকের সমাগম ঘটবে শেষপর্যন্ত আরসি কলেজ মাঠে আমরা জায়গা দিয়ে কিভাবে সামাল দিবো তা ভেবে দেখা হচ্ছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) পুলিশের কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রশংসায় ভাসছেন নগরবাসীর। গত (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোঃ শফিকুল ইসলাম,(বিএমপি) পুলিশের কমিশনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেই,নগরবাসীর নিরাপত্তা,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি,মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ, কিশোর গ্যাং,ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ কমিশনার নির্দেশনায়,মাদকের স্পটগুলো (মাদকমুক্ত) নগরীতে রুপ নিয়েছে। নগরীর অর্ধশত স্পটে প্রকাশ্যে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
বিনোদন কেন্দ্রগুলোর আশপাশে হরহামেশাই চলতে মাদক সেবন। ত্রিশ গোডাউন,বেলসপার্কের হ্যালিপ্যাড, কেডিসি, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, রসুলপুর, পলাশপুর, বেলতলা, লামছড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় মাদক বিক্রি ও সেবন করতে প্রকাশ্যে।
তিনি গভীর রাতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আকস্মিক পরিদর্শন করেন (বিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি চেকপোস্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে তদারকি করেন এবং রাত্রীকালীন নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা প্রদান করেন।
কমিশনার শফিকুল ইসলাম নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে পথচারী, দুরপাল্লার লঞ্চ ও নাইটকোচ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। যাত্রাপথে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্রমণ নিরাপত্তায় করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে বিএমপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
যাদের জন্ম নদীতে, সংসার নৌকায় আর জীবন কাটে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে; সেই মান্তা সম্প্রদায়ের কাছে ‘রাষ্ট্র’ কিংবা ‘সরকার’ ছিল এতদিন কেবলই ধোঁয়াশা। নাগরিকত্বের স্বাদহীন কয়েক প্রজন্মের বঞ্চনা পেরিয়ে এবার ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখতে যাচ্ছেন তারা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের সহস্রাধিক মান্তা মানুষ প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন।
বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের লাহারহাটে বসবাস করেন ১৭৯টি মান্তা পরিবারের প্রায় চারশ মানুষ। এদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি এবার নতুন ভোটার হয়েছেন। এই সম্প্রদায়ের সর্দার জাকির হোসেন জানান, আগে ভোট আসত আর যেত, কিন্তু ডাঙার মানুষের মতো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তাদের কাছে ছিল কল্পনাতীত।
তিনি বলেন, কখনও কোনো প্রার্থী আমাদের খোঁজ নিতে আসত না। এবার আমরা ভোটার হয়েছি। আমরা এমন প্রার্থীকে বেছে নেব, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা বুঝবেন।
নতুন ভোটার হওয়া আলমগীর শোনালেন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, নৌকায় ফিরতে রাত হলে ডাঙায় পুলিশ ধরলে পরিচয়পত্র দেখাতে পারতাম না, ফলে চরম হয়রানির শিকার হতে হতো। জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ায় এখন অন্তত বুক ফুলিয়ে নিজের পরিচয় দিতে পারব।
অন্যদিকে, ষাটোর্ধ্ব সামিরন বিবি জানান তাদের মৌলিক সংকটের কথা। নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় অভাব এখন নিত্যসঙ্গী। মারা গেলে দাফনের জায়গাটুকুও সহজে মেলে না। তাই যে প্রার্থী এই সংকট দূর করবে, তাকেই তারা সংসদে পাঠাতে চান।
বরিশাল জেলা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান মান্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বছর কাজ করে আসছে। তাদের চেষ্টা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এই জনগোষ্ঠীর প্রায় হাজারের বেশি মানুষ নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
মান্তা সম্প্রদায়কে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটির প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্বই বুঝত না। বারবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে সচেতন করতে হয়েছে।
এখানকার প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস তিনি জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জের। অনীহা ছিল তাদের নিজেদেরই। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন- মান্তারা জাতীয় পরিচয়পত্র কী সেটাই জানত না। তাদের এর সুফল বোঝাতেই সময় লেগেছে সবচে বেশি। একাধিকবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে জানাতে হয়েছে।
তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মান্তা সম্প্রদায়ের ভোট গুরুত্ব রাখবে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, যে সকল প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের ইশতেহারে অবশ্যই এই মান্তা সম্প্রদায়ের উন্নয়নে করণীয় কী সেটি সুনিদৃষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, 'যে সকল প্রার্থী এই গোষ্ঠীর ভোটকে নিজের দিকে টানতে পারবেন তার জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।'
যাদের জন্ম নদীতে, সংসার নৌকায় আর জীবন কাটে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে; সেই মান্তা সম্প্রদায়ের কাছে ‘রাষ্ট্র’ কিংবা ‘সরকার’ ছিল এতদিন কেবলই ধোঁয়াশা। নাগরিকত্বের স্বাদহীন কয়েক প্রজন্মের বঞ্চনা পেরিয়ে এবার ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখতে যাচ্ছেন তারা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের সহস্রাধিক মান্তা মানুষ প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন।
বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের লাহারহাটে বসবাস করেন ১৭৯টি মান্তা পরিবারের প্রায় চারশ মানুষ। এদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি এবার নতুন ভোটার হয়েছেন। এই সম্প্রদায়ের সর্দার জাকির হোসেন জানান, আগে ভোট আসত আর যেত, কিন্তু ডাঙার মানুষের মতো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তাদের কাছে ছিল কল্পনাতীত।
তিনি বলেন, কখনও কোনো প্রার্থী আমাদের খোঁজ নিতে আসত না। এবার আমরা ভোটার হয়েছি। আমরা এমন প্রার্থীকে বেছে নেব, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা বুঝবেন।
নতুন ভোটার হওয়া আলমগীর শোনালেন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, নৌকায় ফিরতে রাত হলে ডাঙায় পুলিশ ধরলে পরিচয়পত্র দেখাতে পারতাম না, ফলে চরম হয়রানির শিকার হতে হতো। জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ায় এখন অন্তত বুক ফুলিয়ে নিজের পরিচয় দিতে পারব।
অন্যদিকে, ষাটোর্ধ্ব সামিরন বিবি জানান তাদের মৌলিক সংকটের কথা। নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় অভাব এখন নিত্যসঙ্গী। মারা গেলে দাফনের জায়গাটুকুও সহজে মেলে না। তাই যে প্রার্থী এই সংকট দূর করবে, তাকেই তারা সংসদে পাঠাতে চান।
বরিশাল জেলা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান মান্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বছর কাজ করে আসছে। তাদের চেষ্টা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এই জনগোষ্ঠীর প্রায় হাজারের বেশি মানুষ নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
মান্তা সম্প্রদায়কে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটির প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্বই বুঝত না। বারবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে সচেতন করতে হয়েছে।
এখানকার প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস তিনি জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জের। অনীহা ছিল তাদের নিজেদেরই। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন- মান্তারা জাতীয় পরিচয়পত্র কী সেটাই জানত না। তাদের এর সুফল বোঝাতেই সময় লেগেছে সবচে বেশি। একাধিকবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে জানাতে হয়েছে।
তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মান্তা সম্প্রদায়ের ভোট গুরুত্ব রাখবে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, যে সকল প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের ইশতেহারে অবশ্যই এই মান্তা সম্প্রদায়ের উন্নয়নে করণীয় কী সেটি সুনিদৃষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, 'যে সকল প্রার্থী এই গোষ্ঠীর ভোটকে নিজের দিকে টানতে পারবেন তার জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।'
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় আগমনকে কেন্দ্র করে জনসভাস্থল পাতারহাট আরসি কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনসভাস্থলের মাঠ পরিদর্শনের সময় বরিশাল জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. মাহফুজুর রহমান, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মজলিশে শুরা সদস্য সগির বিন সাঈদ, জেলা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন ইয়ামিন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ এম সাইফুর রহমান, নুরুল হক সোহরাব, জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আকবর হোসেন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শহিদুল ইসলাম, হিজলা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী সৈয়দ গুলজার আলমসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বরিশাল-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল জব্বার বলেন, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারী আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনসভায় এতো বেশি লোকের সমাগম ঘটবে শেষপর্যন্ত আরসি কলেজ মাঠে আমরা জায়গা দিয়ে কিভাবে সামাল দিবো তা ভেবে দেখা হচ্ছে।