স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডে বিএনপির দুটি গ্রুপ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম এবং মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম তরিক অনুসারী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের রোববার রাতের এই সংঘর্ষে বান্দরোড-বেলসপার্কসহ আশপাশ এলাকাসমূহে উত্তেজনা দেখা দেয়। উভয়গ্রুপের অন্তত ত্রিশ মিনিটের অধিক সময় লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় বেলসপার্কে আগন্তক দর্শনার্থীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেকার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে উভয়গ্রুপকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে ১০ নং ওয়ার্ডে বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম-কবির সিকদারদের সাথে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই শুরু হয় মহানগর ছাত্রদল সিনিয়র সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম তরিকের অনুগত হিরন-বেল্লালদের। বেশকিছু দিন ধরে উভয়গ্রুপের মধ্যে এনিয়ে ভেতরে ভেতরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
বুধবার দুপুরে তরিক অনুসারী ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতাকর্মী পার্শ্ববর্তী বরফকল এলাকায় কবিরের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। তখন ওয়ার্ড বিএনপি নেতা তোতাসহ আরও কজনের হস্তক্ষেপে থামলেও রাত ১১টার দিতে তা ব্যাপক আকারে দেখা দেয়।
ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম এ প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, কোস্টগার্ডে মাঝি নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা তরিক অনুসারীরা বরিশাল মহানগর যুবদলের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক কবির সিকদারকে মারধর করেছে। অবশ্য এই কবির সিকদারের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে স্থানীয় নীরিহ বাসিন্দাদের হয়রানির অভিযোগ আছে।
কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দুপুরে কবির সিকদারকে হেনস্থার ঘটনাটি মীমাংসা করতে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল। রাত ১০টায় আহুত সেই শালিস আয়োজনে তরিকের অনুসারী কেউ অংশ নেয়নি। বরং রাব্বি নামের যুবক তাকে ফোন করে মারার হুমকি দেয়।
১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহাদাত ইসলাম তোতা জানান, তিনিও রাতের সংঘাতের ঘটনার সাক্ষী। দুটি গ্রুপ লাঠিসোটা এবং অস্ত্রের মহড়া দিয়ে সংঘাতে জড়িয়েছে। এতে কামরুল-কবির গ্রুপের চারজন বেল্লাল, মামুন, ইমন এবং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মালেক আহত হয়েছেন, তাদের বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় ছাত্রদল নেতা তরিক উপস্থিত থাকলেও তিনি উভয়গ্রুপকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন, জানান তোতা।
তবে তরিক অনুসারীদের দাবি, বেলসপার্ক মাঠ থেকে তার কর্মীরা একযোগে ১০ নং ওয়ার্ডের বরফকল এলাকায় শালিস বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এর আগে কামরুল-কবির লোকজন নিয়ে এসে তাদের ওপর হামলা করে। এতে বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন। তরিকের কর্মীদের অভিযোগ, বিএনপি নেতা কামরুল আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে ‘জয়বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে তাদের ওপর হামলা করে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের আওতাধীন স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ গোলাম মো. নাসিম বরিশালটাইমসকে জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে কেডিসি-বান্দরোড এবং বেলসপার্ক এলাকার বিশৃঙ্খলা রোধ করে। পুলিশের ধাওয়ায় দুগ্রুপ ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে পরিবেশ পরিস্থিতিও শান্ত রয়েছে। পরবর্তীতে এই ঘটনায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
সংঘাতের এই ঘটনার পরে বরফকল এবং কেডিসি এলাকায় পুলিশ-সেনাবাহিনী কয়েক দফা হানা দিয়েছে। তবে সংঘর্ষে জড়িত কাউকে আটক করার খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার রাত পৌনে ২টার সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, দুটি গ্রুপই মুখোমুখি অবস্থানে আছে এবং এনিয়ে স্থানীয় আতঙ্কে রয়েছেন।
যদিও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহাদাত ইসলাম তোতা এ প্রতিবেদককে এবার বলছেন, বিষয়টি তাদের রাজনৈতিক অভিভাবক বরিশাল সদর আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার এবং বরিশাল মহানগর যুবদলের সভাপতি মাসুদ হাসান মামুনকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন, এই জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন।
অবশ্য ছাত্রদল নেতা তরিকও এমপি সরওয়ারের অনুসারী এবং বেল্লাল-সোহেল ও আল আমিনদের নিয়ে কেডিসি এলাকায় তার একটি বৃহৎ বলয় রয়েছে।

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৬
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’

২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩১
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘফষন তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে ২২ জুলাই চাকরিচ্যুৎ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া স্থানীয় রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরে ২২ জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়। ওই দিন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন। এবং দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিবিবর্জিত এই কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়। এরপরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘফষন তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে ২২ জুলাই চাকরিচ্যুৎ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া স্থানীয় রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরে ২২ জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়। ওই দিন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন। এবং দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিবিবর্জিত এই কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়। এরপরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

২৬ জুলাই, ২০২৬ ১৫:০৩
বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগের প্রতিবাদ এবং বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিতর্কিত ও শাস্তিপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তারা মেনে নেবেন না।
পরে শিক্ষার্থীরা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, যোগদানের শেষ দিন হলেও ডা. মনিরুজ্জামান অফিসে উপস্থিত হননি। এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার জন্য নির্ধারিত কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জানিয়েছেন, যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, তাকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তার দাবি, ডা. মনিরুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। বরিশালে একজন সৎ, যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার বলেছেন, বরিশালের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। তাই জনস্বার্থে বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগ দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন জনস্বার্থে।
কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগ বাতিল এবং একজন যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।’
বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগের প্রতিবাদ এবং বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিতর্কিত ও শাস্তিপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তারা মেনে নেবেন না।
পরে শিক্ষার্থীরা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, যোগদানের শেষ দিন হলেও ডা. মনিরুজ্জামান অফিসে উপস্থিত হননি। এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার জন্য নির্ধারিত কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জানিয়েছেন, যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, তাকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তার দাবি, ডা. মনিরুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। বরিশালে একজন সৎ, যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার বলেছেন, বরিশালের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। তাই জনস্বার্থে বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগ দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন জনস্বার্থে।
কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগ বাতিল এবং একজন যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।’

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০২:০০
স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডে বিএনপির দুটি গ্রুপ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম এবং মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম তরিক অনুসারী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের রোববার রাতের এই সংঘর্ষে বান্দরোড-বেলসপার্কসহ আশপাশ এলাকাসমূহে উত্তেজনা দেখা দেয়। উভয়গ্রুপের অন্তত ত্রিশ মিনিটের অধিক সময় লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় বেলসপার্কে আগন্তক দর্শনার্থীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেকার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে উভয়গ্রুপকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে ১০ নং ওয়ার্ডে বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম-কবির সিকদারদের সাথে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই শুরু হয় মহানগর ছাত্রদল সিনিয়র সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম তরিকের অনুগত হিরন-বেল্লালদের। বেশকিছু দিন ধরে উভয়গ্রুপের মধ্যে এনিয়ে ভেতরে ভেতরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
বুধবার দুপুরে তরিক অনুসারী ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতাকর্মী পার্শ্ববর্তী বরফকল এলাকায় কবিরের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। তখন ওয়ার্ড বিএনপি নেতা তোতাসহ আরও কজনের হস্তক্ষেপে থামলেও রাত ১১টার দিতে তা ব্যাপক আকারে দেখা দেয়।
ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম এ প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, কোস্টগার্ডে মাঝি নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা তরিক অনুসারীরা বরিশাল মহানগর যুবদলের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক কবির সিকদারকে মারধর করেছে। অবশ্য এই কবির সিকদারের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে স্থানীয় নীরিহ বাসিন্দাদের হয়রানির অভিযোগ আছে।
কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দুপুরে কবির সিকদারকে হেনস্থার ঘটনাটি মীমাংসা করতে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল। রাত ১০টায় আহুত সেই শালিস আয়োজনে তরিকের অনুসারী কেউ অংশ নেয়নি। বরং রাব্বি নামের যুবক তাকে ফোন করে মারার হুমকি দেয়।
১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহাদাত ইসলাম তোতা জানান, তিনিও রাতের সংঘাতের ঘটনার সাক্ষী। দুটি গ্রুপ লাঠিসোটা এবং অস্ত্রের মহড়া দিয়ে সংঘাতে জড়িয়েছে। এতে কামরুল-কবির গ্রুপের চারজন বেল্লাল, মামুন, ইমন এবং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মালেক আহত হয়েছেন, তাদের বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় ছাত্রদল নেতা তরিক উপস্থিত থাকলেও তিনি উভয়গ্রুপকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন, জানান তোতা।
তবে তরিক অনুসারীদের দাবি, বেলসপার্ক মাঠ থেকে তার কর্মীরা একযোগে ১০ নং ওয়ার্ডের বরফকল এলাকায় শালিস বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এর আগে কামরুল-কবির লোকজন নিয়ে এসে তাদের ওপর হামলা করে। এতে বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন। তরিকের কর্মীদের অভিযোগ, বিএনপি নেতা কামরুল আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে ‘জয়বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে তাদের ওপর হামলা করে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের আওতাধীন স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ গোলাম মো. নাসিম বরিশালটাইমসকে জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে কেডিসি-বান্দরোড এবং বেলসপার্ক এলাকার বিশৃঙ্খলা রোধ করে। পুলিশের ধাওয়ায় দুগ্রুপ ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে পরিবেশ পরিস্থিতিও শান্ত রয়েছে। পরবর্তীতে এই ঘটনায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
সংঘাতের এই ঘটনার পরে বরফকল এবং কেডিসি এলাকায় পুলিশ-সেনাবাহিনী কয়েক দফা হানা দিয়েছে। তবে সংঘর্ষে জড়িত কাউকে আটক করার খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার রাত পৌনে ২টার সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, দুটি গ্রুপই মুখোমুখি অবস্থানে আছে এবং এনিয়ে স্থানীয় আতঙ্কে রয়েছেন।
যদিও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহাদাত ইসলাম তোতা এ প্রতিবেদককে এবার বলছেন, বিষয়টি তাদের রাজনৈতিক অভিভাবক বরিশাল সদর আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার এবং বরিশাল মহানগর যুবদলের সভাপতি মাসুদ হাসান মামুনকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন, এই জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন।
অবশ্য ছাত্রদল নেতা তরিকও এমপি সরওয়ারের অনুসারী এবং বেল্লাল-সোহেল ও আল আমিনদের নিয়ে কেডিসি এলাকায় তার একটি বৃহৎ বলয় রয়েছে।