সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে আনাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (০১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিচর্চা করতে চাই এবং জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতির ধারায় এগিয়ে নিতে চাই, তখন দেখা যায় কেউ কেউ সংসদের চেয়ে রাজপথকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।সরকার ষড়যন্ত্রের গভীরতা সম্পর্কে সচেতন। তবে দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তারা উত্তেজনা নয়, বরং গঠনমূলক সমাধানেই বিশ্বাসী।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝি বলেই দায়িত্বশীল আচরণ করি, অভিভাবকের ভাষায় কথা বলি। সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে আনাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে। প্রতিক্রিয়াশীল ও উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই আন্দোলনের পর্ব শেষ হয়েছে। এখন দেশ গঠনের সময়।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব দেশ গড়া। যারা সমস্যা তৈরি করবে, তাদের সঙ্গে প্রথমে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে রাষ্ট্র, দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবে না।’
তিনি বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র ও আন্দোলনের ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। এই আন্দোলনের ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের বাস্তব চিত্র তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে।
তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী অতীতের নির্মমতা স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে যেন দেশে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ১৬ বছরের আন্দোলন, শোষণ, নিপীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তিনি শহিদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসীন বলেন, ফটোসাংবাদিকরা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। অথচ তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন অনেক সময় করা হয় না, যা দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ফটোসাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। এ সময় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে আহত ফটোসাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কেউ কেউ জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করে বিভাজন সৃষ্টি করছেন, যা আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্যাতনের শিকার হলেও তা নিয়ে কখনো রাজনৈতিক প্রচারণা করেননি।’

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৪
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অভিযানের একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে আকস্মিক অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তখন দৌঁড়ে কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করেন। একজনকে লাথি মারেন এক দেহরক্ষী।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির সমকালকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসে। ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রদর্শিত পিস্তলটির লাইসেন্স আছে কীনা জানতে চাইলে ইশরাক হোসেনের এপিএস আরিফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘পিস্তল নয়, তিনি লাঠি নিয়ে অভিযানে গেছেন।’
অস্ত্রহাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা চলছে। লাইসেন্স থাকলেও নিজের অস্ত্র এভাবে প্রদর্শন করা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক। মাঠপর্যায়ে তাদের সরাসরি অভিযান পরিচালনা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তাছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা সমকালকে বলেন, আইন অনুযায়ী মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। কোনো অভিযানে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন না করাই ভালো। কারণ, তার নিরাপত্তার জন্য তো পুলিশ থাকার কথা। সেক্ষেত্রে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা দেখি না।
এসব বিষয়ে জানার জন্য প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ফোন করা হয়, হোয়াটসআপে ম্যাসেজ পাঠানো হয়, তবে তাতে তিনি সাড়া দেননি।
নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযান শেষে ইশরাক বলেন- ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজ দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশে অভিযান চলবে, দেশের কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।
আসনটি মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অভিযানের একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে আকস্মিক অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তখন দৌঁড়ে কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করেন। একজনকে লাথি মারেন এক দেহরক্ষী।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির সমকালকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসে। ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রদর্শিত পিস্তলটির লাইসেন্স আছে কীনা জানতে চাইলে ইশরাক হোসেনের এপিএস আরিফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘পিস্তল নয়, তিনি লাঠি নিয়ে অভিযানে গেছেন।’
অস্ত্রহাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা চলছে। লাইসেন্স থাকলেও নিজের অস্ত্র এভাবে প্রদর্শন করা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক। মাঠপর্যায়ে তাদের সরাসরি অভিযান পরিচালনা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তাছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা সমকালকে বলেন, আইন অনুযায়ী মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। কোনো অভিযানে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন না করাই ভালো। কারণ, তার নিরাপত্তার জন্য তো পুলিশ থাকার কথা। সেক্ষেত্রে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা দেখি না।
এসব বিষয়ে জানার জন্য প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ফোন করা হয়, হোয়াটসআপে ম্যাসেজ পাঠানো হয়, তবে তাতে তিনি সাড়া দেননি।
নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযান শেষে ইশরাক বলেন- ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজ দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশে অভিযান চলবে, দেশের কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।
আসনটি মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৪৮
রাজধানীর রমনায় অবস্থিত অফিসার্স ক্লাবের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে নিচে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
অফিসার্স ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করেন মোশাররফ হোসেন। পরে মেয়েকে সুইমিংপুলের কাছে রেখে তিনি ক্লাবের ভেতরে থাকা নির্মাণাধীন ভবনটিতে যান।
প্রায় এক ঘণ্টা পর ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, মোশাররফ হোসেনের দৃষ্টিশক্তি কিছুটা কম ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণাধীন ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে নিচতলার ফাঁকা অংশে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মোশাররফ হোসেন অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর বনানী এলাকায় বসবাস করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফেরার পর বাবার দাফন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র: বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও পুলিশের বক্তব্য।
রাজধানীর রমনায় অবস্থিত অফিসার্স ক্লাবের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে নিচে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
অফিসার্স ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করেন মোশাররফ হোসেন। পরে মেয়েকে সুইমিংপুলের কাছে রেখে তিনি ক্লাবের ভেতরে থাকা নির্মাণাধীন ভবনটিতে যান।
প্রায় এক ঘণ্টা পর ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, মোশাররফ হোসেনের দৃষ্টিশক্তি কিছুটা কম ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণাধীন ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে নিচতলার ফাঁকা অংশে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মোশাররফ হোসেন অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর বনানী এলাকায় বসবাস করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফেরার পর বাবার দাফন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র: বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও পুলিশের বক্তব্য।

০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৪
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে এনবিআর কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা ‘ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’সহ ঢাকার চারটি বার ও রেস্তোরাঁয় বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সংস্থা।
শনিবার সন্ধ্যায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে ‘অবৈধ উৎস’ থেকে অ্যালকোহল সংগ্রহ, শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং ‘অননুমোদিত’ গ্রাহকের কাছে অ্যালকোহল সরবরাহের অভিযোগ অনুসন্ধানে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযানের আওতায় থাকা অন্য তিন প্রতিষ্ঠান হলো—ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল ও মার্গারিটা লাউঞ্জ।
সিআইআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযোগ তদন্তে চারটি দল গঠন করা হয়েছে। অভিযানে সিআইআইডির পাশাপাশি এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), ভ্যাট গোয়েন্দা এবং ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ গুলশানের বন্ডেড ওয়্যারহাউজ টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডে যৌথ অভিযান চালায় সিআইআইডি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা মদ ‘অননুমোদিত’ দুটি গুদামে মজুত রাখার অভিযোগে সেগুলোসহ প্রতিষ্ঠানটির দুটি বৈধ গুদামও সিলগালা করা হয়।
এনবিআর কর্মকর্তারা শেখ নূর ইসলামকে টস বন্ডের মালিক হিসেবে উল্লেখ করলেও ফু-ওয়াং কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শেখ নূর ইসলাম বা তাঁর পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই।
ফু-ওয়াংয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে শেখ নূর ইসলামের মেয়ে দিশা ইসলামের বিয়ে তাঁর পরিবার মেনে নেয়নি। বিয়ের পর থেকেই শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
এদিকে দেশে মদ ও বার ব্যবসায় কথিত অনিয়মের পাশাপাশি কানাডায় শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের নাগরিকত্ব এবং সম্পদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর কর-সংক্রান্ত গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে এনবিআর কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা ‘ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’সহ ঢাকার চারটি বার ও রেস্তোরাঁয় বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সংস্থা।
শনিবার সন্ধ্যায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে ‘অবৈধ উৎস’ থেকে অ্যালকোহল সংগ্রহ, শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং ‘অননুমোদিত’ গ্রাহকের কাছে অ্যালকোহল সরবরাহের অভিযোগ অনুসন্ধানে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযানের আওতায় থাকা অন্য তিন প্রতিষ্ঠান হলো—ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল ও মার্গারিটা লাউঞ্জ।
সিআইআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযোগ তদন্তে চারটি দল গঠন করা হয়েছে। অভিযানে সিআইআইডির পাশাপাশি এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), ভ্যাট গোয়েন্দা এবং ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ গুলশানের বন্ডেড ওয়্যারহাউজ টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডে যৌথ অভিযান চালায় সিআইআইডি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা মদ ‘অননুমোদিত’ দুটি গুদামে মজুত রাখার অভিযোগে সেগুলোসহ প্রতিষ্ঠানটির দুটি বৈধ গুদামও সিলগালা করা হয়।
এনবিআর কর্মকর্তারা শেখ নূর ইসলামকে টস বন্ডের মালিক হিসেবে উল্লেখ করলেও ফু-ওয়াং কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শেখ নূর ইসলাম বা তাঁর পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই।
ফু-ওয়াংয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে শেখ নূর ইসলামের মেয়ে দিশা ইসলামের বিয়ে তাঁর পরিবার মেনে নেয়নি। বিয়ের পর থেকেই শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
এদিকে দেশে মদ ও বার ব্যবসায় কথিত অনিয়মের পাশাপাশি কানাডায় শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের নাগরিকত্ব এবং সম্পদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর কর-সংক্রান্ত গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৪
সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে আনাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (০১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিচর্চা করতে চাই এবং জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতির ধারায় এগিয়ে নিতে চাই, তখন দেখা যায় কেউ কেউ সংসদের চেয়ে রাজপথকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।সরকার ষড়যন্ত্রের গভীরতা সম্পর্কে সচেতন। তবে দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তারা উত্তেজনা নয়, বরং গঠনমূলক সমাধানেই বিশ্বাসী।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝি বলেই দায়িত্বশীল আচরণ করি, অভিভাবকের ভাষায় কথা বলি। সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে আনাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে। প্রতিক্রিয়াশীল ও উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই আন্দোলনের পর্ব শেষ হয়েছে। এখন দেশ গঠনের সময়।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব দেশ গড়া। যারা সমস্যা তৈরি করবে, তাদের সঙ্গে প্রথমে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে রাষ্ট্র, দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবে না।’
তিনি বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র ও আন্দোলনের ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। এই আন্দোলনের ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের বাস্তব চিত্র তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে।
তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী অতীতের নির্মমতা স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে যেন দেশে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ১৬ বছরের আন্দোলন, শোষণ, নিপীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তিনি শহিদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসীন বলেন, ফটোসাংবাদিকরা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। অথচ তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন অনেক সময় করা হয় না, যা দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ফটোসাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। এ সময় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে আহত ফটোসাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কেউ কেউ জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করে বিভাজন সৃষ্টি করছেন, যা আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্যাতনের শিকার হলেও তা নিয়ে কখনো রাজনৈতিক প্রচারণা করেননি।’
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৭
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২০
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪২
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৮