ছবি: সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনো গোপন বৈঠক হয়নি বলে জানিয়েছে রিয়াদ। সৌদি আরবের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, সম্প্রতি ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-এ দাবি করা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর একটি বিস্তৃত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছিল।
ইসরাইলি প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে ইরান ও হুথিদের মোকাবিলা, ইসরাইলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকটি আয়োজনের পেছনে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়োসি শেলির ভূমিকা ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তার বক্তব্যের পর ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বৈঠকের দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স

০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৪৯
চলতি বছরের ডিসেম্বরে চূড়ান্ত রূপ নিতে যাওয়া শক্তিশালী ‘এল নিনো’ নিয়ে চরম আশঙ্কার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির মাসিক জলবায়ু বুলেটিন জানায়, এই মহাবিপদের স্থায়ীত্ব ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
ডব্লিউএমও-এর সেক্রেটারি জেনারেল সেলেস্তে সাউলো জানিয়েছেন, ১৯৫০ সালের পর থেকে এটি অন্যতম শক্তিশালী ‘সুপার-এল নিনো’ হতে পারে। আসন্ন ডিসেম্বর মাসে মধ্য ও পূর্ব ট্রপিকাল প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে রেকর্ড ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৬.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছাতে পারে।
ধেয়ে আসছে হারিকেন সাইমন, ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা
ধেয়ে আসছে হারিকেন সাইমন, ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা
এর আগে ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির রেকর্ড ভাঙতে চলেছে এই পরিস্থিতি। মহাসাগরগুলোর ইতিহাসে বর্তমান উষ্ণতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকায় জলবায়ুর এই ভয়ঙ্কর রূপ বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই জলবায়ু চক্র বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার স্বাভাবিক ভারসাম্য সম্পূর্ণরূপে ওলটপালট করে দেয়। এর সরাসরি প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ খরা কিংবা অতিবৃষ্টির মতো চরম দুর্যোগ দেখা দিতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী ইতোমধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা রেকর্ড মাত্রা ছুঁয়েছে। এছাড়া গবেষকদের আশঙ্কা, এই ভয়াবহ এল নিনোর কারণে বিশ্বব্যাপী মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বড় ধরনের প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরে চূড়ান্ত রূপ নিতে যাওয়া শক্তিশালী ‘এল নিনো’ নিয়ে চরম আশঙ্কার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির মাসিক জলবায়ু বুলেটিন জানায়, এই মহাবিপদের স্থায়ীত্ব ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
ডব্লিউএমও-এর সেক্রেটারি জেনারেল সেলেস্তে সাউলো জানিয়েছেন, ১৯৫০ সালের পর থেকে এটি অন্যতম শক্তিশালী ‘সুপার-এল নিনো’ হতে পারে। আসন্ন ডিসেম্বর মাসে মধ্য ও পূর্ব ট্রপিকাল প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে রেকর্ড ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৬.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছাতে পারে।
ধেয়ে আসছে হারিকেন সাইমন, ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা
ধেয়ে আসছে হারিকেন সাইমন, ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা
এর আগে ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির রেকর্ড ভাঙতে চলেছে এই পরিস্থিতি। মহাসাগরগুলোর ইতিহাসে বর্তমান উষ্ণতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকায় জলবায়ুর এই ভয়ঙ্কর রূপ বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই জলবায়ু চক্র বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার স্বাভাবিক ভারসাম্য সম্পূর্ণরূপে ওলটপালট করে দেয়। এর সরাসরি প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ খরা কিংবা অতিবৃষ্টির মতো চরম দুর্যোগ দেখা দিতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী ইতোমধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা রেকর্ড মাত্রা ছুঁয়েছে। এছাড়া গবেষকদের আশঙ্কা, এই ভয়াবহ এল নিনোর কারণে বিশ্বব্যাপী মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বড় ধরনের প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২২
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা বিধায়ক ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেডইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের মধ্যে তাকে আটক করা হয়। ভোটকেন্দ্র ও পরে দলীয় কার্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার পর তাকে থানায় নেওয়া হয়। পরে ভোটারদের প্রভাবিত করা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সকাল থেকেই রেজিনগরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব ছিলেন হুমায়ুন। ভোট দিতে যাওয়ার সময় এবং ভোট দিয়ে বের হওয়ার পরও পুলিশের বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করেন তিনি। একপর্যায়ে বুথের বাইরে দাঁড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই নেতা।
পরে নিজের দলীয় কার্যালয়ে গেলে সেখানে পৌঁছায় পুলিশের একটি দল। পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে হুমায়ুনের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ সময় পুলিশের উদ্দেশে তাকে ‘দালালি না করার’ কথা বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। পরে তাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে থানায় নেওয়া হয়।
হুমায়ুনের অভিযোগ, ভোটের দিন সকাল থেকেই তার বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এ নিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই তিনি পুলিশের সমালোচনা করেন।
ভোট দেওয়ার পর তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সচীন মক্কর বলেন, হুমায়ুন কবীর উপনির্বাচনের প্রার্থী নন, এমনকি কোনো প্রার্থীর এজেন্টও নন। তাই নির্বাচনী এলাকায় তার এভাবে ঘোরাফেরার সুযোগ নেই। এ কারণেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রেজিনগরের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের আলোচিত নন্দীগ্রাম আসনেও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত রেজিনগরে ১৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং নন্দীগ্রামে ২০ দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা বিধায়ক ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেডইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের মধ্যে তাকে আটক করা হয়। ভোটকেন্দ্র ও পরে দলীয় কার্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার পর তাকে থানায় নেওয়া হয়। পরে ভোটারদের প্রভাবিত করা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সকাল থেকেই রেজিনগরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব ছিলেন হুমায়ুন। ভোট দিতে যাওয়ার সময় এবং ভোট দিয়ে বের হওয়ার পরও পুলিশের বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করেন তিনি। একপর্যায়ে বুথের বাইরে দাঁড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই নেতা।
পরে নিজের দলীয় কার্যালয়ে গেলে সেখানে পৌঁছায় পুলিশের একটি দল। পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে হুমায়ুনের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ সময় পুলিশের উদ্দেশে তাকে ‘দালালি না করার’ কথা বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। পরে তাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে থানায় নেওয়া হয়।
হুমায়ুনের অভিযোগ, ভোটের দিন সকাল থেকেই তার বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এ নিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই তিনি পুলিশের সমালোচনা করেন।
ভোট দেওয়ার পর তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সচীন মক্কর বলেন, হুমায়ুন কবীর উপনির্বাচনের প্রার্থী নন, এমনকি কোনো প্রার্থীর এজেন্টও নন। তাই নির্বাচনী এলাকায় তার এভাবে ঘোরাফেরার সুযোগ নেই। এ কারণেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রেজিনগরের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের আলোচিত নন্দীগ্রাম আসনেও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত রেজিনগরে ১৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং নন্দীগ্রামে ২০ দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২৫
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধাবস্থা ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রভাবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের অবিরাম সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে যে সার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল, তার ধারাবাহিকতায় এবার চরম খাদ্যসংকট তৈরি হতে চলেছে।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি আয়োজিত এক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে এস জয়শঙ্কর এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সংঘাতগুলো ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর ‘তীব্র মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপ’ তৈরি করছে।
চলমান সংঘাতের সামগ্রিক প্রভাব তুলে ধরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি একটি বড় চিন্তার বিষয়। ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং বর্তমানে ইরান-উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে এই পরিস্থিতি গ্লোবাল সাউথের উদীয়মান অর্থনীতির ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে।’
বিশ্বের জ্বালানিবাজারের অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন বর্তমানে দ্বিমুখী সংকটে পড়েছে। জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার প্রবণতা সমস্যাকে জটিল করে তুলছে। তিনি বলেন, ‘সমস্যাটির একটি দিক হলো তেল সরবরাহের নিরাপত্তা বজায় রাখা, আর অন্য দিকটি হলো তেল নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি। এই দুই উপাদান পরস্পরের ওপর জোরদার প্রভাব ফেলছে এবং সমস্যাটিকে দ্বিগুণ বা আরও জটিল রূপ দিচ্ছে।’ জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি এটা নিয়ে রাজনৈতিক খেলা খেলে, তবে তা বাজারে অস্থিরতা ও জটিলতা কেবল বাড়িয়েই তুলবে।
কৃষির অপরিহার্য উপাদান সার ও খাদ্যশস্যের পরিবহন প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের স্থবিরতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশ নিজেদের পণ্য বাইরে পাঠাতে পারছে না। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে সমুদ্রপথ দিয়ে রপ্তানি চালু রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের মূল সার উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলো মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ‘সুপার এল নিনো’র মতো জলবায়ুর বিরূপ আচরণ যুক্ত হয়ে খাদ্যনিরাপত্তাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।
সামগ্রিক সংকট ব্যাখ্যা করে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আগামী মাসগুলোয় এক বিশাল খাদ্যসংকট তৈরি হতে যাচ্ছে। প্রথমত জ্বালানির সংকট, তার ওপর খাদ্য ও সারের অপ্রতুলতা, আর সবশেষে মূলধনের সংকট ঘটতে চলেছে। কারণ, প্রতিবার কোনো বড় যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু হলে বিনিয়োগের অর্থ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয় এবং বর্তমানে এভাবেই গ্লোবাল সাউথ থেকে মূলধন বের হয়ে যাচ্ছে। তার সামগ্রিক প্রভাবে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন ও সংকটময় পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে।’
শক্তিশালী দেশগুলোর স্বার্থপর সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর এতটা স্বার্থপর হওয়া উচিত নয় যে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত বলয়ের স্বার্থেই শুধু সিদ্ধান্ত নেবে এবং বাকি বিশ্বের প্রতি দায়িত্ব এড়ানোর সুর তুলে বলবে—আমরা তো তোমাদের জীবন কঠিন করে তোলার জন্য এমন করিনি।’ তিনি প্রভাবশালী দেশগুলোকে ন্যূনতম ‘সাধারণ বুদ্ধিমত্তা’ বজায় রেখে দরিদ্র দেশগুলোর মৌলিক চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
জ্বালানিসংকটের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ইতিমধ্যে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের পরেই আমরা দেখেছি কীভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরাসরি তার প্রভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আমার আশঙ্কা, বর্তমানে ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যা ঘটছে, তা আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দেবে এবং সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে।’
উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে এই মন্দা ও সংকট কাটিয়ে উঠবে, তা নিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘কিছু দেশের পক্ষে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আমাদের মতো যারা কৌশলগতভাবে স্বায়ত্তশাসিত, তারা চাই আরও অনেক দেশ স্বনির্ভর হয়ে উঠুক। তবে এর কোনো একক বা সোজা সমীকরণ নেই। এসব দেশ ঠিক কী পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ভর করবে এ বিষয়ে তাদের নির্দিষ্ট সমস্যা ও স্বার্থ কতটা জড়িত, তার ওপর। এমন অনেক ঘটনা ঘটতে পারে, যা মোকাবিলা করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের নীতিতে কিছুটা নমনীয় হয়ে উঠবে অথবা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখবে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এমনও দেখা যাবে যে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় শক্তভাবে রুখে দাঁড়াচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধাবস্থা ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রভাবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের অবিরাম সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে যে সার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল, তার ধারাবাহিকতায় এবার চরম খাদ্যসংকট তৈরি হতে চলেছে।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি আয়োজিত এক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে এস জয়শঙ্কর এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সংঘাতগুলো ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর ‘তীব্র মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপ’ তৈরি করছে।
চলমান সংঘাতের সামগ্রিক প্রভাব তুলে ধরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি একটি বড় চিন্তার বিষয়। ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং বর্তমানে ইরান-উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে এই পরিস্থিতি গ্লোবাল সাউথের উদীয়মান অর্থনীতির ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে।’
বিশ্বের জ্বালানিবাজারের অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন বর্তমানে দ্বিমুখী সংকটে পড়েছে। জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার প্রবণতা সমস্যাকে জটিল করে তুলছে। তিনি বলেন, ‘সমস্যাটির একটি দিক হলো তেল সরবরাহের নিরাপত্তা বজায় রাখা, আর অন্য দিকটি হলো তেল নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি। এই দুই উপাদান পরস্পরের ওপর জোরদার প্রভাব ফেলছে এবং সমস্যাটিকে দ্বিগুণ বা আরও জটিল রূপ দিচ্ছে।’ জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি এটা নিয়ে রাজনৈতিক খেলা খেলে, তবে তা বাজারে অস্থিরতা ও জটিলতা কেবল বাড়িয়েই তুলবে।
কৃষির অপরিহার্য উপাদান সার ও খাদ্যশস্যের পরিবহন প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের স্থবিরতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশ নিজেদের পণ্য বাইরে পাঠাতে পারছে না। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে সমুদ্রপথ দিয়ে রপ্তানি চালু রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের মূল সার উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলো মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ‘সুপার এল নিনো’র মতো জলবায়ুর বিরূপ আচরণ যুক্ত হয়ে খাদ্যনিরাপত্তাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।
সামগ্রিক সংকট ব্যাখ্যা করে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আগামী মাসগুলোয় এক বিশাল খাদ্যসংকট তৈরি হতে যাচ্ছে। প্রথমত জ্বালানির সংকট, তার ওপর খাদ্য ও সারের অপ্রতুলতা, আর সবশেষে মূলধনের সংকট ঘটতে চলেছে। কারণ, প্রতিবার কোনো বড় যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু হলে বিনিয়োগের অর্থ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয় এবং বর্তমানে এভাবেই গ্লোবাল সাউথ থেকে মূলধন বের হয়ে যাচ্ছে। তার সামগ্রিক প্রভাবে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন ও সংকটময় পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে।’
শক্তিশালী দেশগুলোর স্বার্থপর সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর এতটা স্বার্থপর হওয়া উচিত নয় যে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত বলয়ের স্বার্থেই শুধু সিদ্ধান্ত নেবে এবং বাকি বিশ্বের প্রতি দায়িত্ব এড়ানোর সুর তুলে বলবে—আমরা তো তোমাদের জীবন কঠিন করে তোলার জন্য এমন করিনি।’ তিনি প্রভাবশালী দেশগুলোকে ন্যূনতম ‘সাধারণ বুদ্ধিমত্তা’ বজায় রেখে দরিদ্র দেশগুলোর মৌলিক চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
জ্বালানিসংকটের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ইতিমধ্যে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের পরেই আমরা দেখেছি কীভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরাসরি তার প্রভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আমার আশঙ্কা, বর্তমানে ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যা ঘটছে, তা আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দেবে এবং সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে।’
উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে এই মন্দা ও সংকট কাটিয়ে উঠবে, তা নিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘কিছু দেশের পক্ষে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আমাদের মতো যারা কৌশলগতভাবে স্বায়ত্তশাসিত, তারা চাই আরও অনেক দেশ স্বনির্ভর হয়ে উঠুক। তবে এর কোনো একক বা সোজা সমীকরণ নেই। এসব দেশ ঠিক কী পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ভর করবে এ বিষয়ে তাদের নির্দিষ্ট সমস্যা ও স্বার্থ কতটা জড়িত, তার ওপর। এমন অনেক ঘটনা ঘটতে পারে, যা মোকাবিলা করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের নীতিতে কিছুটা নমনীয় হয়ে উঠবে অথবা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখবে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এমনও দেখা যাবে যে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় শক্তভাবে রুখে দাঁড়াচ্ছে।’

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৩
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনো গোপন বৈঠক হয়নি বলে জানিয়েছে রিয়াদ। সৌদি আরবের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, সম্প্রতি ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-এ দাবি করা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর একটি বিস্তৃত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছিল।
ইসরাইলি প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে ইরান ও হুথিদের মোকাবিলা, ইসরাইলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকটি আয়োজনের পেছনে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়োসি শেলির ভূমিকা ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তার বক্তব্যের পর ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বৈঠকের দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৭
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০৬