জেলা প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে জেলেদের অভিযোগ
ভোলা কোস্টগার্ডের কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর এবং শরিয়তপুরের গোসাইরহাট এলাকা থেকে জেলেদের বিভিন্ন প্রজাতির বৈধ মাছ লুট করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জেলেরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর আগে ট্রলার থেকে মাছ লুটপাট করার বেশকিছু ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযানের সময় জেলেদের সঙ্গে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে কোস্টগার্ডের সদস্যদের মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় তাদের গুলি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে কোস্টগার্ডের এ অভিযান সম্পর্কে মৎস্য অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।
বরিশালের হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে উপজেলার ধুলখোলা গ্রামের মেঘনার শাখা নদীর পাড়ের মাছঘাটের ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন মাঝি, জামাল গাজী, আব্দুল হক চৌকিদার, ছাত্তার দপ্তরী, রহমান সরদার, কবির রাঢ়ী, মামুন মাঝি, জসিম তালুকদার, মাসুম সরদার এবং জসিম সরদার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকা ব্যতীত চর দুর্গাপুর লঞ্চঘাটসংলগ্ন নদীর মাঝে গত ৯ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনটি স্পিডবোট দিয়ে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠবডির ট্রলার ঘিরে ধরেন ভোলা জেলা থেকে আসা কোস্টগার্ডের সদস্যরা।
কোস্টগার্ড কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মৎস্য কর্মকর্তা কিংবা তাদের প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়াই অন্যায়ভাবে ট্রলারে থাকা প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ১৮টি ব্যারেলে বৈধ পোয়া, ইলিশ, আইড়, চিংড়ি মাছসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ ডাকাতের মতো লুটপাট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বরিশালের কোস্টগার্ড ব্যতীত ভোলা থেকে আসা কোস্টগার্ডের সদস্যদের অভিযান অন্যায় ও মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় কোস্টগার্ডের সদস্যরা ট্রলারে থাকা তাদের কর্মচারী আরিফ সরদার, ফয়সাল, হাশেম, আনোয়ার, লিটন, ড্যানি এবং মাইদুলসহ অন্তত ১০ জনকে মারধর করে একটি ট্রলারসহ তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছেও স্থানীয় কোদালপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মৎস্য ব্যবসায়ী মো. সুরুজ, সবুজ বেপারী, বাবুল হাওলাদার, দাদন মীর অনুরূপ অভিযোগ করেন।
ভোলা জেলার কোস্টগার্ড দপ্তর থেকে কয়েকজন সদস্য একাধিকবার গোসাইরহাট উপজেলার মেঘনা নদীতে তাদের ব্যবসায়িক মাছ পরিবহনের সময় অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। গত ৪ মার্চ বেলা ১১টার দিকে মাছ ব্যবসায়ীরা বৈধ ইলিশ, চিংড়ি, আইড়, পাঙ্গাস ও পোয়া মাছ পরিবহন করে কোদালপুর ঘাটের দিকে আসছিলেন।
পথিমধ্যে খেজুরতলা কুচাইপট্টি নামক স্থানে তিনটি স্পিডবোটে কতিপয় কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাদের ট্রলারটিকে আক্রমণ করে। এ সময় ট্রলারে কোনো অবৈধ জাটকা ইলিশ নেই বলা সত্ত্বেও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ব্যবসায়ীদের কথা না শুনে তরিঘড়ি করে মাছগুলো তাদের স্পিডবোটে তুলে চাঁদপুরের দিকে রওনা দেয়।
এ সময়কার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কোস্টগার্ডের এ অভিযানের সময় কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। ভিডিওতে আরও দেখা গেছে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে কোস্টগার্ডের মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে মৎস্য ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন, কোস্টগার্ডের ওইসব অসাধু সদস্যদের কারণে তারা বৈধ ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় ব্যবসায়ীরা যদি অবৈধ মাছ পরিবহন করে থাকেন, তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা মাথা পেতে নিতে সম্মত আছেন। তারপরও কোস্টগার্ডের কতিপয় অসাধু সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য তারা অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা কিংবা প্রতিনিধি ছাড়া যেন কেউ অভিযান পরিচালনা করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের উল্লেখিত অভিযোগের অনুলিপি কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, নৌ-পুলিশ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইলিয়াস সিকদার রূপালী বাংলাদেশকে জানান, অভিযোগসমূহ কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনাটি উপজেলা প্রশাসনও তদন্ত করছে।
এই বিষয়ে জানতে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আরিফ হোসেনকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। পরে সংস্থাটির মিডিয়া সেলে যোগাযোগ করলে জনৈক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করলেও তিনি নাম-পরিচয় জানতে অস্বীকার করেন। এবং সেদিনের অভিযানসংক্রান্ত তথ্য হোটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।’

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮
বরিশালের উজিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক শয্যাশায়ী ব্যক্তির বসতঘর থেকে চিকিৎসার জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গৌরনদী সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে গত এক মাসে দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল ওড়াবাশবাড়ি গ্রামের কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন সাদা পোশাকে আসা ডিএনসি সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী কামরুজ্জামান কালুর চিকিৎসার জন্য বালিশের নিচে ১৫ হাজার টাকা রাখা ছিল। ঘরে তল্লাশির সময় ওই টাকা নিয়ে যান অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন কালুর স্ত্রী সুখী বেগম।
সুখী বেগমের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে ফাইজুল ইসলাম ও হৃদয়সহ চার থেকে পাঁচজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। শুরুতে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে তাঁর স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তাঁরা।
সুখী বেগম বলেন, অভিযানে আসা ব্যক্তিরা তাঁকে বলেন, তাঁর স্বামী মাদক সেবন ছেড়ে দিলেও ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আগের মাদক সেবনের বিষয়টি বের করে মামলা দেওয়া হবে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন বাড়িতে জড়ো হন। পরে গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেনকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর উপস্থিতিতে বসতঘরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
সুখী বেগমের অভিযোগ, তল্লাশির একপর্যায়ে বালিশের নিচে রাখা চিকিৎসার ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, স্বামী কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি গৌরনদী সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার। তাঁর নেতৃত্বে অভিযানে রুবেল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। এটি তাঁদের একটি ‘নিষ্ফল অভিযান’ ছিল।
তবে তল্লাশির সময় টাকা চুরি এবং এর আগে দুই দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেন বলেন, সাদা পোশাকে ডিএনসি কর্মকর্তারা কালুর বাড়িতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে বাড়ি থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান বলেন, গৌরনদী সার্কেল থেকে সকালে একটি অভিযান পরিচালনার তথ্য তাঁর জানা আছে। তবে সেটি উজিরপুরে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন।
টাকা চুরি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসআই ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার দীর্ঘ সাত বছর ধরে গৌরনদী সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। একই স্টেশনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা হারানোর অভিযোগ তুলে সুখী বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে কী উঠে আসে।
বরিশালের উজিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক শয্যাশায়ী ব্যক্তির বসতঘর থেকে চিকিৎসার জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গৌরনদী সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে গত এক মাসে দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল ওড়াবাশবাড়ি গ্রামের কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন সাদা পোশাকে আসা ডিএনসি সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী কামরুজ্জামান কালুর চিকিৎসার জন্য বালিশের নিচে ১৫ হাজার টাকা রাখা ছিল। ঘরে তল্লাশির সময় ওই টাকা নিয়ে যান অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন কালুর স্ত্রী সুখী বেগম।
সুখী বেগমের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে ফাইজুল ইসলাম ও হৃদয়সহ চার থেকে পাঁচজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। শুরুতে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে তাঁর স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তাঁরা।
সুখী বেগম বলেন, অভিযানে আসা ব্যক্তিরা তাঁকে বলেন, তাঁর স্বামী মাদক সেবন ছেড়ে দিলেও ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আগের মাদক সেবনের বিষয়টি বের করে মামলা দেওয়া হবে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন বাড়িতে জড়ো হন। পরে গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেনকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর উপস্থিতিতে বসতঘরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
সুখী বেগমের অভিযোগ, তল্লাশির একপর্যায়ে বালিশের নিচে রাখা চিকিৎসার ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, স্বামী কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি গৌরনদী সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার। তাঁর নেতৃত্বে অভিযানে রুবেল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। এটি তাঁদের একটি ‘নিষ্ফল অভিযান’ ছিল।
তবে তল্লাশির সময় টাকা চুরি এবং এর আগে দুই দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেন বলেন, সাদা পোশাকে ডিএনসি কর্মকর্তারা কালুর বাড়িতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে বাড়ি থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান বলেন, গৌরনদী সার্কেল থেকে সকালে একটি অভিযান পরিচালনার তথ্য তাঁর জানা আছে। তবে সেটি উজিরপুরে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন।
টাকা চুরি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসআই ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার দীর্ঘ সাত বছর ধরে গৌরনদী সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। একই স্টেশনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা হারানোর অভিযোগ তুলে সুখী বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে কী উঠে আসে।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১১
বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শ্রমিক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এসএস প্রি-ক্যাডেট স্কুলসংলগ্ন ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন (৫০) এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ (৪২)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সৃষ্টি শিক্ষা একাডেমির শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, দুপুরে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের বাঁশ খুলতে গিয়ে দুই শ্রমিক ভেতরে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে তাঁরা বিপদে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিককে ট্যাংকের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে অক্সিজেন ব্যবহার করে গ্যাস অপসারণের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁদের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, সেপটিক ট্যাংকে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফুর আজিজের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শ্রমিক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এসএস প্রি-ক্যাডেট স্কুলসংলগ্ন ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন (৫০) এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ (৪২)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সৃষ্টি শিক্ষা একাডেমির শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, দুপুরে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের বাঁশ খুলতে গিয়ে দুই শ্রমিক ভেতরে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে তাঁরা বিপদে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিককে ট্যাংকের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে অক্সিজেন ব্যবহার করে গ্যাস অপসারণের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁদের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, সেপটিক ট্যাংকে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফুর আজিজের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৭
কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী একটি বাস বরগুনার আমতলীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়েছে। এতে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বরগুনার আমতলী উপজেলার বান্দ্রা বাজার এলাকায় বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ইমরান পরিবহনের বাসটি বুধবার রাতে ঢাকা থেকে পর্যটক ও অন্যান্য যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের আমতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মাহবুবুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বাসটির বেশির ভাগ যাত্রীই কুয়াকাটার পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগের একটি স্টপেজে বাসের চালক নেমে যান। এরপর বাসটি চালাচ্ছিলেন তাঁর সহকারী (হেলপার)। সড়কের একটি বাঁক ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বাসের চালক ও সহকারী পলাতক থাকায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী একটি বাস বরগুনার আমতলীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়েছে। এতে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বরগুনার আমতলী উপজেলার বান্দ্রা বাজার এলাকায় বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ইমরান পরিবহনের বাসটি বুধবার রাতে ঢাকা থেকে পর্যটক ও অন্যান্য যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের আমতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মাহবুবুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বাসটির বেশির ভাগ যাত্রীই কুয়াকাটার পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগের একটি স্টপেজে বাসের চালক নেমে যান। এরপর বাসটি চালাচ্ছিলেন তাঁর সহকারী (হেলপার)। সড়কের একটি বাঁক ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বাসের চালক ও সহকারী পলাতক থাকায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:২৮
জেলা প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে জেলেদের অভিযোগ
ভোলা কোস্টগার্ডের কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর এবং শরিয়তপুরের গোসাইরহাট এলাকা থেকে জেলেদের বিভিন্ন প্রজাতির বৈধ মাছ লুট করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জেলেরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর আগে ট্রলার থেকে মাছ লুটপাট করার বেশকিছু ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযানের সময় জেলেদের সঙ্গে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে কোস্টগার্ডের সদস্যদের মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় তাদের গুলি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে কোস্টগার্ডের এ অভিযান সম্পর্কে মৎস্য অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।
বরিশালের হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে উপজেলার ধুলখোলা গ্রামের মেঘনার শাখা নদীর পাড়ের মাছঘাটের ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন মাঝি, জামাল গাজী, আব্দুল হক চৌকিদার, ছাত্তার দপ্তরী, রহমান সরদার, কবির রাঢ়ী, মামুন মাঝি, জসিম তালুকদার, মাসুম সরদার এবং জসিম সরদার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকা ব্যতীত চর দুর্গাপুর লঞ্চঘাটসংলগ্ন নদীর মাঝে গত ৯ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনটি স্পিডবোট দিয়ে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠবডির ট্রলার ঘিরে ধরেন ভোলা জেলা থেকে আসা কোস্টগার্ডের সদস্যরা।
কোস্টগার্ড কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মৎস্য কর্মকর্তা কিংবা তাদের প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়াই অন্যায়ভাবে ট্রলারে থাকা প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ১৮টি ব্যারেলে বৈধ পোয়া, ইলিশ, আইড়, চিংড়ি মাছসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ ডাকাতের মতো লুটপাট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বরিশালের কোস্টগার্ড ব্যতীত ভোলা থেকে আসা কোস্টগার্ডের সদস্যদের অভিযান অন্যায় ও মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় কোস্টগার্ডের সদস্যরা ট্রলারে থাকা তাদের কর্মচারী আরিফ সরদার, ফয়সাল, হাশেম, আনোয়ার, লিটন, ড্যানি এবং মাইদুলসহ অন্তত ১০ জনকে মারধর করে একটি ট্রলারসহ তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছেও স্থানীয় কোদালপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মৎস্য ব্যবসায়ী মো. সুরুজ, সবুজ বেপারী, বাবুল হাওলাদার, দাদন মীর অনুরূপ অভিযোগ করেন।
ভোলা জেলার কোস্টগার্ড দপ্তর থেকে কয়েকজন সদস্য একাধিকবার গোসাইরহাট উপজেলার মেঘনা নদীতে তাদের ব্যবসায়িক মাছ পরিবহনের সময় অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। গত ৪ মার্চ বেলা ১১টার দিকে মাছ ব্যবসায়ীরা বৈধ ইলিশ, চিংড়ি, আইড়, পাঙ্গাস ও পোয়া মাছ পরিবহন করে কোদালপুর ঘাটের দিকে আসছিলেন।
পথিমধ্যে খেজুরতলা কুচাইপট্টি নামক স্থানে তিনটি স্পিডবোটে কতিপয় কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাদের ট্রলারটিকে আক্রমণ করে। এ সময় ট্রলারে কোনো অবৈধ জাটকা ইলিশ নেই বলা সত্ত্বেও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ব্যবসায়ীদের কথা না শুনে তরিঘড়ি করে মাছগুলো তাদের স্পিডবোটে তুলে চাঁদপুরের দিকে রওনা দেয়।
এ সময়কার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কোস্টগার্ডের এ অভিযানের সময় কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। ভিডিওতে আরও দেখা গেছে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে কোস্টগার্ডের মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে মৎস্য ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন, কোস্টগার্ডের ওইসব অসাধু সদস্যদের কারণে তারা বৈধ ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় ব্যবসায়ীরা যদি অবৈধ মাছ পরিবহন করে থাকেন, তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা মাথা পেতে নিতে সম্মত আছেন। তারপরও কোস্টগার্ডের কতিপয় অসাধু সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য তারা অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা কিংবা প্রতিনিধি ছাড়া যেন কেউ অভিযান পরিচালনা করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের উল্লেখিত অভিযোগের অনুলিপি কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, নৌ-পুলিশ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইলিয়াস সিকদার রূপালী বাংলাদেশকে জানান, অভিযোগসমূহ কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনাটি উপজেলা প্রশাসনও তদন্ত করছে।
এই বিষয়ে জানতে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আরিফ হোসেনকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। পরে সংস্থাটির মিডিয়া সেলে যোগাযোগ করলে জনৈক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করলেও তিনি নাম-পরিচয় জানতে অস্বীকার করেন। এবং সেদিনের অভিযানসংক্রান্ত তথ্য হোটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।’
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩১
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩১
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৩
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০১