পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে সূর্যমুখী চাষের পরিমাণ। কম খরচ, কম সেচ এবং ভালো বাজারমূল্যের আশায় কৃষকরা ঝুঁকছেন এই তেলবীজ ফসলের দিকে। এতে বদলে যাচ্ছে এলাকার কৃষিচিত্র এবং তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিস্তীর্ণ জমিতে এখন চোখ জুড়ানো হলুদ রঙের সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ। একসময় যেখানে বোরো ধান বা অন্যান্য ফসল চাষ হতো, সেখানে এখন সূর্যমুখীর আবাদ বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় কৃষক আবুল বাশার বলেন, এই তেলবীজ চাষে খরচের তুলনায় ফলন বেশি এবং লাভজনক হওয়ায় আমি প্রতিবছর এই চাষাবাদ করি। আমি উপজেলা থেকে কোনো সার বা বীজ পাইনি। এটা এমন একটা ফসল যা করতে পারলে নিশ্চিত লাভ। আমাদের এলাকায় আস্তে আস্তে সূর্যমুখী চাষের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন অনেক কৃষক।
আরেক কৃষক সিরাজ খান বলেন, আমি এটা চাষ করে তেল নিজেও খাই এবং বিক্রিও করি। উপজেলা থেকে আমাকে ২০ কেজি সার এবং কিছু বীজ দিয়েছে। এই তেলবীজ চাষ অত্যন্ত লাভজনক, আমি মনে করি যারা কৃষক আছেন তাদের সবার এই চাষে উদ্যোগী হওয়া উচিত।
শ্রীরামপুর ইউনিয়নের তরুন কৃষক ওলি বলেন, আমি এই বছরই প্রথম সূর্যমুখী চাষ করেছি চব্বিশ শতাংশ জমিতে, আশা করি কমপক্ষে ৪০০ কেজি ফলন হবে যা থেকে অন্তত ৩০০ কেজি তেল হবে।
আশেপাশের যত ব্লক আছে তার মধ্যে আল্লাহর রহমতে আমার ফুলগুলো বড় হয়েছে এবং ফলন ভালো হয়েছে। তবে উপজেলা থেকে যদি আমাদের একটা পাম্প ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে আমাদের সেচের জন্য আরও সুবিধা হতো।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সূর্যমুখী চাষে ধানের তুলনায় খরচ কম এবং সেচের প্রয়োজনও তুলনামূলক কম। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটের কারণে অনেক কৃষক বিকল্প হিসেবে এই ফসল বেছে নিচ্ছেন।
উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়ন ব্লকে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে এবং পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী ব্লকে চাষ হয়েছে ১০ হেক্টর জমিতে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ৪১ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরছেন কৃষকরা। তারা জানান, বাজারজাতকরণ, ন্যায্য মূল্য এবং তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইসমিতা আক্তার সোনিয়া বলেন, আমাদের দুমকি উপজেলায় সূর্যমুখীর আবাদ এবার বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার লক্ষমাত্রা ছিলো ৩৫ হেক্টর, তবে আবাদ হয়েছে ৪১ হেক্টর জমিতে।
বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর ভোজ্য তেল আমদানি করতে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে থাকে, আমরা এই আমদানি ব্যয় হ্রাস করার জন্যে আমরা কৃষকদের এই তেলজাতীয় ফসলের আবাদ বৃদ্ধির জন্য। এজন্যে কৃষি প্রনোদনার আওতায় কৃষকদের সার এবং বিভিন্ন প্রকল্প থেকে বীজ,কীটনাশক দিয়ে থাকি।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি এবছরের চেয়েও আগামী বছর দুমকিতে আরও বেশি সূর্যমুখী আবাদ বাড়বে এবং সরকারি সরবরাহ অনুযায়ী কৃষকদের যথাসাধ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এদিকে, সূর্যমুখী ক্ষেতের সৌন্দর্য দেখতে অনেক দর্শনার্থীও ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় সূর্যমুখী ফুলের চাষীদের এমন সফলতা দেখে আরও অনেক তরুন উদ্যোক্তা কৃষকেরাও আগ্রহী হচ্ছেন এই তেলবীজ চাষে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আরও সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দিলে আমাদের উপজেলা ব্যপক আকারে ছড়িয়ে যাবে লাভজনক এই ফসলের আবাদ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দুমকিতে সূর্যমুখী চাষ দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৭:২৫
পটুয়াখালীর বাউফলে সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে একটি পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় ২০ হাজার টাকা নগদ ও ১০ হাজার টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে রক্ষা পান ওই পরিবারটি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাউফল থানায় মামলা করেছেন রতন মন্ডল নামের ভুক্তভোগী পরিবারের এক ব্যক্তি। মামলায় দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ-ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের।
মামলায় উল্লেখ দুই আসামি হলেন এনামুল হক এনা (৩৫) ও মো. রিয়াজ (৩৭)। এনামুল হক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপকূলীয় প্রতিনিধি। রিয়াজ দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি।
মামলার এজাহার,স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,তিন বছরেরও বেশি সময় আগে অসম প্রেমের সম্পর্কের টানে একটি মুসলিম পরিবারের মেয়ে পালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ছেলেকে বিয়ে করে। এ নিয়ে শুরুতে দুই পরিবারের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলেও পরে এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করেননি মুসলিম পরিবারটি। মেয়েটি হিন্দু ধর্ম পালন করছে। তাঁদের সংসারে ছয় মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
ওই পুরানো ঘটনাকে সামনে এনে গত রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সাংবাদিক এনামুল হক মো. রিয়াজসহ আর পাঁচ-ছয় জন নিজেদের সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয়ে ওই হিন্দু পরিবারের বাড়িতে যান এবং হিন্দু পরিবারের ঘরে ঢুকে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
মামলার বাদী রতন মন্ডললের ভাষ্য মতে এনামুল হক পুলিশ পরিচয়ে তাঁদেরকে (হিন্দু পরিবার) বলেন-মুসলিম মেয়েকে অবৈধভাবে ঘরে রেখে অবৈধ কাজ করা হচ্ছে। বাঁচতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। পরে তাঁরা (হিন্দু পরিবার) মিনতি করে বলেন, তাঁরা (হিন্দু পরিবার) গরীব মানুষ, তাঁদের কাছে টাকা নাই। তখন তাঁরা (সাংবাদিক ও পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা) ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাড়ির অদূরে এক দোকানির কাছ থেকে ধার করে এনে এনামুলের হাতে ২০ হাজার টাকা দেন এবং পরের দিন (মঙ্গলবার) সকালে আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে তাঁরা চলে আসেন।
এ বিষয়ে এনামুল হক এনা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাংবাদিক পরিচয়ে বলেন,একজন মুসলিম নারীকে হিন্দু পরিবারের এক ছেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিবাহ ব্যতীত তাঁদের ঘরে রেখেছে, সন্তান প্রসব করিয়েছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনিসহ মানবকন্ঠের ডিজিটাল বিভাগের প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন অন্তু, জাগো জনতার মো. রিয়াজ ও আনন্দ টিভির জেলা প্রতিনিধি এম নাজিম উদ্দিন সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য যান। তবে চাঁদা দাবি ও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সত্য না।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে চাঁদা দাবি ও চাঁদা গ্রহণের সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’
পটুয়াখালীর বাউফলে সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে একটি পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় ২০ হাজার টাকা নগদ ও ১০ হাজার টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে রক্ষা পান ওই পরিবারটি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাউফল থানায় মামলা করেছেন রতন মন্ডল নামের ভুক্তভোগী পরিবারের এক ব্যক্তি। মামলায় দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ-ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের।
মামলায় উল্লেখ দুই আসামি হলেন এনামুল হক এনা (৩৫) ও মো. রিয়াজ (৩৭)। এনামুল হক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপকূলীয় প্রতিনিধি। রিয়াজ দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি।
মামলার এজাহার,স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,তিন বছরেরও বেশি সময় আগে অসম প্রেমের সম্পর্কের টানে একটি মুসলিম পরিবারের মেয়ে পালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ছেলেকে বিয়ে করে। এ নিয়ে শুরুতে দুই পরিবারের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলেও পরে এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করেননি মুসলিম পরিবারটি। মেয়েটি হিন্দু ধর্ম পালন করছে। তাঁদের সংসারে ছয় মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
ওই পুরানো ঘটনাকে সামনে এনে গত রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সাংবাদিক এনামুল হক মো. রিয়াজসহ আর পাঁচ-ছয় জন নিজেদের সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয়ে ওই হিন্দু পরিবারের বাড়িতে যান এবং হিন্দু পরিবারের ঘরে ঢুকে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
মামলার বাদী রতন মন্ডললের ভাষ্য মতে এনামুল হক পুলিশ পরিচয়ে তাঁদেরকে (হিন্দু পরিবার) বলেন-মুসলিম মেয়েকে অবৈধভাবে ঘরে রেখে অবৈধ কাজ করা হচ্ছে। বাঁচতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। পরে তাঁরা (হিন্দু পরিবার) মিনতি করে বলেন, তাঁরা (হিন্দু পরিবার) গরীব মানুষ, তাঁদের কাছে টাকা নাই। তখন তাঁরা (সাংবাদিক ও পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা) ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাড়ির অদূরে এক দোকানির কাছ থেকে ধার করে এনে এনামুলের হাতে ২০ হাজার টাকা দেন এবং পরের দিন (মঙ্গলবার) সকালে আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে তাঁরা চলে আসেন।
এ বিষয়ে এনামুল হক এনা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাংবাদিক পরিচয়ে বলেন,একজন মুসলিম নারীকে হিন্দু পরিবারের এক ছেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিবাহ ব্যতীত তাঁদের ঘরে রেখেছে, সন্তান প্রসব করিয়েছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনিসহ মানবকন্ঠের ডিজিটাল বিভাগের প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন অন্তু, জাগো জনতার মো. রিয়াজ ও আনন্দ টিভির জেলা প্রতিনিধি এম নাজিম উদ্দিন সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য যান। তবে চাঁদা দাবি ও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সত্য না।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে চাঁদা দাবি ও চাঁদা গ্রহণের সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৫
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সৈকত হোটেলের সামনে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ব্যক্তির নাম কে এম বাচ্চু। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।
পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বায়জিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, স্থানীয় হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন কেএম বাচ্চুর ছোট ভাই সোহাগ খলিফা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বায়জিদসহ অভিযুক্ত কয়েকজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সৈকত হোটেলের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন কে এম বাচ্চু। এ সময় বায়জিদ সেখানে এসে তাঁর প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে বায়জিদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। হামলাকারীরা বাচ্চুকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, কে এম বাচ্চুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ। একই কথা বলেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুকও।
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বরিশালটাইমসকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সৈকত হোটেলের সামনে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ব্যক্তির নাম কে এম বাচ্চু। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।
পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বায়জিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, স্থানীয় হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন কেএম বাচ্চুর ছোট ভাই সোহাগ খলিফা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বায়জিদসহ অভিযুক্ত কয়েকজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সৈকত হোটেলের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন কে এম বাচ্চু। এ সময় বায়জিদ সেখানে এসে তাঁর প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে বায়জিদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। হামলাকারীরা বাচ্চুকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, কে এম বাচ্চুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ। একই কথা বলেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুকও।
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বরিশালটাইমসকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৪:২১
পটুয়াখালীর মহিপুরে ছোয়ামনি (১১) নামের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মহিপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছোট ভাইকে নিয়ে অবস্থান করছিল ওই শিশু। এ সময় তার মা জরুরি কাজে এবং বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, এই সুযোগে একই এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ হাওলাদার শিশুটির বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় লোকজন চলে আসতে দেখে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সামাজিক লজ্জা ও স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করেননি। দীর্ঘদিন স্থানীয়ভাবে সুবিচার পাওয়ার চেষ্টা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় বুধবার (২২ জুলাই) শিশুটির মা মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মহিপুর থানা পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পটুয়াখালীর মহিপুরে ছোয়ামনি (১১) নামের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মহিপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছোট ভাইকে নিয়ে অবস্থান করছিল ওই শিশু। এ সময় তার মা জরুরি কাজে এবং বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, এই সুযোগে একই এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ হাওলাদার শিশুটির বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় লোকজন চলে আসতে দেখে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সামাজিক লজ্জা ও স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করেননি। দীর্ঘদিন স্থানীয়ভাবে সুবিচার পাওয়ার চেষ্টা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় বুধবার (২২ জুলাই) শিশুটির মা মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মহিপুর থানা পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫৭
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে সূর্যমুখী চাষের পরিমাণ। কম খরচ, কম সেচ এবং ভালো বাজারমূল্যের আশায় কৃষকরা ঝুঁকছেন এই তেলবীজ ফসলের দিকে। এতে বদলে যাচ্ছে এলাকার কৃষিচিত্র এবং তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিস্তীর্ণ জমিতে এখন চোখ জুড়ানো হলুদ রঙের সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ। একসময় যেখানে বোরো ধান বা অন্যান্য ফসল চাষ হতো, সেখানে এখন সূর্যমুখীর আবাদ বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় কৃষক আবুল বাশার বলেন, এই তেলবীজ চাষে খরচের তুলনায় ফলন বেশি এবং লাভজনক হওয়ায় আমি প্রতিবছর এই চাষাবাদ করি। আমি উপজেলা থেকে কোনো সার বা বীজ পাইনি। এটা এমন একটা ফসল যা করতে পারলে নিশ্চিত লাভ। আমাদের এলাকায় আস্তে আস্তে সূর্যমুখী চাষের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন অনেক কৃষক।
আরেক কৃষক সিরাজ খান বলেন, আমি এটা চাষ করে তেল নিজেও খাই এবং বিক্রিও করি। উপজেলা থেকে আমাকে ২০ কেজি সার এবং কিছু বীজ দিয়েছে। এই তেলবীজ চাষ অত্যন্ত লাভজনক, আমি মনে করি যারা কৃষক আছেন তাদের সবার এই চাষে উদ্যোগী হওয়া উচিত।
শ্রীরামপুর ইউনিয়নের তরুন কৃষক ওলি বলেন, আমি এই বছরই প্রথম সূর্যমুখী চাষ করেছি চব্বিশ শতাংশ জমিতে, আশা করি কমপক্ষে ৪০০ কেজি ফলন হবে যা থেকে অন্তত ৩০০ কেজি তেল হবে।
আশেপাশের যত ব্লক আছে তার মধ্যে আল্লাহর রহমতে আমার ফুলগুলো বড় হয়েছে এবং ফলন ভালো হয়েছে। তবে উপজেলা থেকে যদি আমাদের একটা পাম্প ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে আমাদের সেচের জন্য আরও সুবিধা হতো।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সূর্যমুখী চাষে ধানের তুলনায় খরচ কম এবং সেচের প্রয়োজনও তুলনামূলক কম। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটের কারণে অনেক কৃষক বিকল্প হিসেবে এই ফসল বেছে নিচ্ছেন।
উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়ন ব্লকে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে এবং পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী ব্লকে চাষ হয়েছে ১০ হেক্টর জমিতে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ৪১ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরছেন কৃষকরা। তারা জানান, বাজারজাতকরণ, ন্যায্য মূল্য এবং তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইসমিতা আক্তার সোনিয়া বলেন, আমাদের দুমকি উপজেলায় সূর্যমুখীর আবাদ এবার বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার লক্ষমাত্রা ছিলো ৩৫ হেক্টর, তবে আবাদ হয়েছে ৪১ হেক্টর জমিতে।
বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর ভোজ্য তেল আমদানি করতে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে থাকে, আমরা এই আমদানি ব্যয় হ্রাস করার জন্যে আমরা কৃষকদের এই তেলজাতীয় ফসলের আবাদ বৃদ্ধির জন্য। এজন্যে কৃষি প্রনোদনার আওতায় কৃষকদের সার এবং বিভিন্ন প্রকল্প থেকে বীজ,কীটনাশক দিয়ে থাকি।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি এবছরের চেয়েও আগামী বছর দুমকিতে আরও বেশি সূর্যমুখী আবাদ বাড়বে এবং সরকারি সরবরাহ অনুযায়ী কৃষকদের যথাসাধ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এদিকে, সূর্যমুখী ক্ষেতের সৌন্দর্য দেখতে অনেক দর্শনার্থীও ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় সূর্যমুখী ফুলের চাষীদের এমন সফলতা দেখে আরও অনেক তরুন উদ্যোক্তা কৃষকেরাও আগ্রহী হচ্ছেন এই তেলবীজ চাষে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আরও সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দিলে আমাদের উপজেলা ব্যপক আকারে ছড়িয়ে যাবে লাভজনক এই ফসলের আবাদ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দুমকিতে সূর্যমুখী চাষ দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।