পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে সূর্যমুখী চাষের পরিমাণ। কম খরচ, কম সেচ এবং ভালো বাজারমূল্যের আশায় কৃষকরা ঝুঁকছেন এই তেলবীজ ফসলের দিকে। এতে বদলে যাচ্ছে এলাকার কৃষিচিত্র এবং তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিস্তীর্ণ জমিতে এখন চোখ জুড়ানো হলুদ রঙের সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ। একসময় যেখানে বোরো ধান বা অন্যান্য ফসল চাষ হতো, সেখানে এখন সূর্যমুখীর আবাদ বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় কৃষক আবুল বাশার বলেন, এই তেলবীজ চাষে খরচের তুলনায় ফলন বেশি এবং লাভজনক হওয়ায় আমি প্রতিবছর এই চাষাবাদ করি। আমি উপজেলা থেকে কোনো সার বা বীজ পাইনি। এটা এমন একটা ফসল যা করতে পারলে নিশ্চিত লাভ। আমাদের এলাকায় আস্তে আস্তে সূর্যমুখী চাষের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন অনেক কৃষক।
আরেক কৃষক সিরাজ খান বলেন, আমি এটা চাষ করে তেল নিজেও খাই এবং বিক্রিও করি। উপজেলা থেকে আমাকে ২০ কেজি সার এবং কিছু বীজ দিয়েছে। এই তেলবীজ চাষ অত্যন্ত লাভজনক, আমি মনে করি যারা কৃষক আছেন তাদের সবার এই চাষে উদ্যোগী হওয়া উচিত।
শ্রীরামপুর ইউনিয়নের তরুন কৃষক ওলি বলেন, আমি এই বছরই প্রথম সূর্যমুখী চাষ করেছি চব্বিশ শতাংশ জমিতে, আশা করি কমপক্ষে ৪০০ কেজি ফলন হবে যা থেকে অন্তত ৩০০ কেজি তেল হবে।
আশেপাশের যত ব্লক আছে তার মধ্যে আল্লাহর রহমতে আমার ফুলগুলো বড় হয়েছে এবং ফলন ভালো হয়েছে। তবে উপজেলা থেকে যদি আমাদের একটা পাম্প ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে আমাদের সেচের জন্য আরও সুবিধা হতো।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সূর্যমুখী চাষে ধানের তুলনায় খরচ কম এবং সেচের প্রয়োজনও তুলনামূলক কম। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটের কারণে অনেক কৃষক বিকল্প হিসেবে এই ফসল বেছে নিচ্ছেন।
উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়ন ব্লকে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে এবং পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী ব্লকে চাষ হয়েছে ১০ হেক্টর জমিতে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ৪১ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরছেন কৃষকরা। তারা জানান, বাজারজাতকরণ, ন্যায্য মূল্য এবং তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইসমিতা আক্তার সোনিয়া বলেন, আমাদের দুমকি উপজেলায় সূর্যমুখীর আবাদ এবার বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার লক্ষমাত্রা ছিলো ৩৫ হেক্টর, তবে আবাদ হয়েছে ৪১ হেক্টর জমিতে।
বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর ভোজ্য তেল আমদানি করতে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে থাকে, আমরা এই আমদানি ব্যয় হ্রাস করার জন্যে আমরা কৃষকদের এই তেলজাতীয় ফসলের আবাদ বৃদ্ধির জন্য। এজন্যে কৃষি প্রনোদনার আওতায় কৃষকদের সার এবং বিভিন্ন প্রকল্প থেকে বীজ,কীটনাশক দিয়ে থাকি।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি এবছরের চেয়েও আগামী বছর দুমকিতে আরও বেশি সূর্যমুখী আবাদ বাড়বে এবং সরকারি সরবরাহ অনুযায়ী কৃষকদের যথাসাধ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এদিকে, সূর্যমুখী ক্ষেতের সৌন্দর্য দেখতে অনেক দর্শনার্থীও ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় সূর্যমুখী ফুলের চাষীদের এমন সফলতা দেখে আরও অনেক তরুন উদ্যোক্তা কৃষকেরাও আগ্রহী হচ্ছেন এই তেলবীজ চাষে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আরও সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দিলে আমাদের উপজেলা ব্যপক আকারে ছড়িয়ে যাবে লাভজনক এই ফসলের আবাদ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দুমকিতে সূর্যমুখী চাষ দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:০৫
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে সেতু নির্মাণের দাবিতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সব শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ।
ভোলা (ভেলুমিয়া)- পটুয়াখালী (ধুলিয়া) সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তেঁতুলিয়া নদীর তীরের পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মঠবাড়িয়া-ধুলিয়া লঞ্চঘাট ও বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশা এলাকার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. মোফাজ্জেল হোসেন মফু। তিনি লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশের সড়ক পথের সঙ্গে দ্বীপ জেলা ভোলাকে যুক্ত করতে সবচেয়ে সহজ পথ তেঁতুলিয়া নদীর ভোলার ভেলুমিয়া থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া পয়েন্টে সেতু নির্মাণ। যার দুরত্বমাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার। এতে দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে। যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
ভোলা থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া হয়ে বরিশালের বারেকগঞ্জ হয়ে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বরিশাল শহরে পৌঁছানো যাবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও ভোলার সাথে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে, মংলা বন্দর সহ দক্ষিণের ৬টি জেলার ২৫টি উপজেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে।
ওই সংবাদ সম্মেল ও মানববন্ধনে তেঁতুলিয়া নদী বেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নসহ ধুলিয়া, নাজিরপুর ও কাছিপাড়া ইউনিয়ন রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণেরও জোরালো দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভার্চুয়াল বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক(ভারপ্রাপ্ত) তসলিম তালুকদার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাও. রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি আ. রব খান, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মো. বাবুল মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মো. নাইম সিকদার তারেক, ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম, সৈয়দ মো. রিপন, মো. তৌসিফুর রহমান রাফা প্রমূখ।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ ও দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে সেতু নির্মাণের দাবিতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সব শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ।
ভোলা (ভেলুমিয়া)- পটুয়াখালী (ধুলিয়া) সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তেঁতুলিয়া নদীর তীরের পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মঠবাড়িয়া-ধুলিয়া লঞ্চঘাট ও বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশা এলাকার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. মোফাজ্জেল হোসেন মফু। তিনি লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশের সড়ক পথের সঙ্গে দ্বীপ জেলা ভোলাকে যুক্ত করতে সবচেয়ে সহজ পথ তেঁতুলিয়া নদীর ভোলার ভেলুমিয়া থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া পয়েন্টে সেতু নির্মাণ। যার দুরত্বমাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার। এতে দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে। যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
ভোলা থেকে পটুয়াখালীর ধুলিয়া হয়ে বরিশালের বারেকগঞ্জ হয়ে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বরিশাল শহরে পৌঁছানো যাবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও ভোলার সাথে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে, মংলা বন্দর সহ দক্ষিণের ৬টি জেলার ২৫টি উপজেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে।
ওই সংবাদ সম্মেল ও মানববন্ধনে তেঁতুলিয়া নদী বেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নসহ ধুলিয়া, নাজিরপুর ও কাছিপাড়া ইউনিয়ন রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণেরও জোরালো দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভার্চুয়াল বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক(ভারপ্রাপ্ত) তসলিম তালুকদার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাও. রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি আ. রব খান, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মো. বাবুল মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মো. নাইম সিকদার তারেক, ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম, সৈয়দ মো. রিপন, মো. তৌসিফুর রহমান রাফা প্রমূখ।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৮
পটুয়াখালীর দশমিনায় এক গ্রাম্য কবিরাজের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আরিফুর রহমান (৪২) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মোল্লা বাড়ির কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আরিফুর রহমান ওই এলাকার নূর আলম মাতব্বরের ছেলে এবং পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন আরিফুর রহমান। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চিকিৎসার জন্য তাকে স্থানীয় কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতের দিকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে ভেবে তার স্ত্রী বাড়ি ফিরে গেলেও মা ও আরিফুর কবিরাজের কাছে থেকে যান।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মা ঘুম থেকে জেগে ছেলেকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে কবিরাজের ঘরের সামনের পুকুরপাড়ের লোটানো অবস্থায় ছেলেকে দেখতে পান তিনি। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে আরিফুরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে দশমিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
কবিরাজ নূরজাহান বেগম দাবি করেন, রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে আরিফুরকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি আবোল-তাবোল বলতে বলতে পুকুরে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা চলে গেলে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে হাঁস-মুরগি ছাড়তে গিয়ে আরিফুরকে rtsপুকুরপাড় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
দশমিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, পুকুরপাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পটুয়াখালীর দশমিনায় এক গ্রাম্য কবিরাজের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আরিফুর রহমান (৪২) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মোল্লা বাড়ির কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আরিফুর রহমান ওই এলাকার নূর আলম মাতব্বরের ছেলে এবং পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন আরিফুর রহমান। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চিকিৎসার জন্য তাকে স্থানীয় কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতের দিকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে ভেবে তার স্ত্রী বাড়ি ফিরে গেলেও মা ও আরিফুর কবিরাজের কাছে থেকে যান।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মা ঘুম থেকে জেগে ছেলেকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে কবিরাজের ঘরের সামনের পুকুরপাড়ের লোটানো অবস্থায় ছেলেকে দেখতে পান তিনি। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে আরিফুরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে দশমিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
কবিরাজ নূরজাহান বেগম দাবি করেন, রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে আরিফুরকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি আবোল-তাবোল বলতে বলতে পুকুরে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা চলে গেলে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে হাঁস-মুরগি ছাড়তে গিয়ে আরিফুরকে rtsপুকুরপাড় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
দশমিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, পুকুরপাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:২১
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আইকনিক পরিবহনের একটি ডাবল ডেকার স্লিপার বাস পুকুরে পড়ে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের খলিলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব ১২৪৫৫৫) ঢাকা থেকে ২০ থেকে ২৫ জন পর্যটক নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে খলিলপুর এলাকায় পৌঁছলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অগভীর পুকুরে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন এবং গুরুতর ৬ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে পাঠান। বাসটিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১ ও ২০২৩ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা ছিলেন। কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য তারা বাসটি রিজার্ভ নিয়েছিলেন।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আইকনিক পরিবহনের একটি ডাবল ডেকার স্লিপার বাস পুকুরে পড়ে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের খলিলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব ১২৪৫৫৫) ঢাকা থেকে ২০ থেকে ২৫ জন পর্যটক নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে খলিলপুর এলাকায় পৌঁছলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অগভীর পুকুরে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন এবং গুরুতর ৬ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে পাঠান। বাসটিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১ ও ২০২৩ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা ছিলেন। কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য তারা বাসটি রিজার্ভ নিয়েছিলেন।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫৭
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে সূর্যমুখী চাষের পরিমাণ। কম খরচ, কম সেচ এবং ভালো বাজারমূল্যের আশায় কৃষকরা ঝুঁকছেন এই তেলবীজ ফসলের দিকে। এতে বদলে যাচ্ছে এলাকার কৃষিচিত্র এবং তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিস্তীর্ণ জমিতে এখন চোখ জুড়ানো হলুদ রঙের সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ। একসময় যেখানে বোরো ধান বা অন্যান্য ফসল চাষ হতো, সেখানে এখন সূর্যমুখীর আবাদ বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় কৃষক আবুল বাশার বলেন, এই তেলবীজ চাষে খরচের তুলনায় ফলন বেশি এবং লাভজনক হওয়ায় আমি প্রতিবছর এই চাষাবাদ করি। আমি উপজেলা থেকে কোনো সার বা বীজ পাইনি। এটা এমন একটা ফসল যা করতে পারলে নিশ্চিত লাভ। আমাদের এলাকায় আস্তে আস্তে সূর্যমুখী চাষের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন অনেক কৃষক।
আরেক কৃষক সিরাজ খান বলেন, আমি এটা চাষ করে তেল নিজেও খাই এবং বিক্রিও করি। উপজেলা থেকে আমাকে ২০ কেজি সার এবং কিছু বীজ দিয়েছে। এই তেলবীজ চাষ অত্যন্ত লাভজনক, আমি মনে করি যারা কৃষক আছেন তাদের সবার এই চাষে উদ্যোগী হওয়া উচিত।
শ্রীরামপুর ইউনিয়নের তরুন কৃষক ওলি বলেন, আমি এই বছরই প্রথম সূর্যমুখী চাষ করেছি চব্বিশ শতাংশ জমিতে, আশা করি কমপক্ষে ৪০০ কেজি ফলন হবে যা থেকে অন্তত ৩০০ কেজি তেল হবে।
আশেপাশের যত ব্লক আছে তার মধ্যে আল্লাহর রহমতে আমার ফুলগুলো বড় হয়েছে এবং ফলন ভালো হয়েছে। তবে উপজেলা থেকে যদি আমাদের একটা পাম্প ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে আমাদের সেচের জন্য আরও সুবিধা হতো।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সূর্যমুখী চাষে ধানের তুলনায় খরচ কম এবং সেচের প্রয়োজনও তুলনামূলক কম। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটের কারণে অনেক কৃষক বিকল্প হিসেবে এই ফসল বেছে নিচ্ছেন।
উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়ন ব্লকে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে এবং পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী ব্লকে চাষ হয়েছে ১০ হেক্টর জমিতে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ৪১ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরছেন কৃষকরা। তারা জানান, বাজারজাতকরণ, ন্যায্য মূল্য এবং তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইসমিতা আক্তার সোনিয়া বলেন, আমাদের দুমকি উপজেলায় সূর্যমুখীর আবাদ এবার বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার লক্ষমাত্রা ছিলো ৩৫ হেক্টর, তবে আবাদ হয়েছে ৪১ হেক্টর জমিতে।
বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর ভোজ্য তেল আমদানি করতে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে থাকে, আমরা এই আমদানি ব্যয় হ্রাস করার জন্যে আমরা কৃষকদের এই তেলজাতীয় ফসলের আবাদ বৃদ্ধির জন্য। এজন্যে কৃষি প্রনোদনার আওতায় কৃষকদের সার এবং বিভিন্ন প্রকল্প থেকে বীজ,কীটনাশক দিয়ে থাকি।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি এবছরের চেয়েও আগামী বছর দুমকিতে আরও বেশি সূর্যমুখী আবাদ বাড়বে এবং সরকারি সরবরাহ অনুযায়ী কৃষকদের যথাসাধ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এদিকে, সূর্যমুখী ক্ষেতের সৌন্দর্য দেখতে অনেক দর্শনার্থীও ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় সূর্যমুখী ফুলের চাষীদের এমন সফলতা দেখে আরও অনেক তরুন উদ্যোক্তা কৃষকেরাও আগ্রহী হচ্ছেন এই তেলবীজ চাষে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আরও সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দিলে আমাদের উপজেলা ব্যপক আকারে ছড়িয়ে যাবে লাভজনক এই ফসলের আবাদ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দুমকিতে সূর্যমুখী চাষ দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬