বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাসহ ১৯২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক বৃহস্পতিবার ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করছে শিক্ষার্থীরা। শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে অত্যাধুনিক ডাস্টবিন। উপজেলার অর্ধশতাধিক হাট-বাজার এবং স্টেশনেও নিয়মিত চলছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কের পাশে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করে লাগানো হচ্ছে কৃষ্ণচূড়া, কাঠগোলাপ, কামিনী, বাগানবিলাস, আমলকি, নারিকেল কিংবা জামের মতো বাহারি সব ফলদ আর সৌন্দর্যবর্ধনের গাছ। বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী কর্মযজ্ঞ দেখে যারপরনাই আপ্লুত হয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পরিদর্শনে এসে বদলে যাওয়া এক নতুন বাবুগঞ্জের যাত্রা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে নিজ হাতে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারাও রোপন করেছেন তিনি। একইসাথে সেখানে একটি কাঠগোলাপের চারা রোপণ করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার। বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রধান সড়কের রহমতপুর থেকে খানপুরা পর্যন্ত রাস্তার পাশে প্রায় দেড় কিলোমিটার জায়গায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করার পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে এর শুভ উদ্বোধন করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোশাহিদুল্লাহ। রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কে ওই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন কালে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও আসমা উল হুসনা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার রায়, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুহাম্মদ আব্দুর রউফ, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সন্ন্যামত, শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন ডলি, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়েদা আক্তার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল হোসেন, রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুমন সিকদার, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি আরিফ আহমেদ মুন্না, সম্পাদক রোকন মিয়া, বিডি ক্লিনের বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী জায়েদ ইরফান, সহ-সমন্বয়কারী আরিফ হোসেন, মাঠের খবরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ মামুন প্রমুখ। এসময় বিডি ক্লিনের একটি পেশাদার টিম ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাবুগঞ্জে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্যোক্তা বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে এসময় 'গ্রীণ বাবুগঞ্জ' কর্মসূচিতে ১ হাজার বনজ ও ফলদ গাছের চারা উপহার দেয় পূবালী ব্যাংক পিএলসির বাবুগঞ্জ শাখা। এরআগে ইউএনওর আহবানে 'ক্লিন বাবুগঞ্জ' কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অত্যাধুনিক ডাস্টবিন উপহার দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স। গত ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বহনযোগ্য চাকা ও ঢাকনাযুক্ত আধুনিক ওই ডাস্টবিনগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের হাতে তুলে দেন ইউএনও আসমা উল হুসনা।
এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কে ওই বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত সুধীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভা করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ। এসময় তিনি বলেন, 'পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। ইউএনও আসমা উল হুসনা বাবুগঞ্জ উপজেলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন সেগুলো নিঃসন্দেহে অনন্য এবং অনুকরণীয়। ইতোমধ্যে বরিশালের অধিকাংশ উপজেলায় বাবুগঞ্জকে অনুসরণ করে কাজ শুরু করেছে। ভালো কাজে প্রতিযোগিতা থাকলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। আমি সবাইকে বলেছি শুধু গাছ লাগালেই হবে না। পরিকল্পিতভাবে লাগাতে হবে এবং সেগুলো পরিচর্যা করতে হবে। হিজল, তমাল, বকুল, জারুলসহ অনেক গাছ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। সেগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। এর পাশাপাশি মানুষ এবং পাখির খাবারের জন্য বেশি বেশি ফলের গাছ লাগাতে হবে। ফুলের গাছ লাগাতে হবে। বেশি অক্সিজেন দেয় এমন গাছ নির্বাচন করতে হবে। ইউক্যালিপটাস বা আকাশমণি গাছগুলো আগে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো হলেও পরিবেশের জন্য এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। তাই এসব গাছ পরিহার করে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পরিকল্পিতভাবে ফলদ ও বনজ গাছের চারা লাগাতে হবে।'
উল্লেখ্য বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা নেতৃত্বে প্রায় ২ মাস আগে থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার, বৃক্ষরোপণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনকে সাথে নিয়ে নাগরিক সংগঠন সুজন-এর সহায়তায় একটি সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। 'বাবুগঞ্জ ক্লিন' শীর্ষক ওই কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার ১৯২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করাসহ উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহনযোগ্য এবং অটোমেটিক ঢাকনাযুক্ত আধুনিক ডাস্টবিন প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উপজেলার সকল হাট-বাজার এবং স্টেশনে নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলার জন্য স্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন খালগুলো ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানা মুক্ত করে পানি প্রবাহ সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে স্বেচ্ছাসেবী ও সুনাগরিকসহ উপজেলার সকল শ্রেণিপেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেছেন ইউএনও আসমা উল হুসনা। #

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৪৯
"আমি শপথ করছি যে, সরকারি আবুল কালাম কলেজের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভালোবাসবো। আমার ক্যাম্পাসকে সর্বদা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং মাদকমুক্ত রাখবো। নিজে কখনো মাদক গ্রহণ করবো না এবং এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউকে মাদক গ্রহণ করতে দেবো না। মা-বাবা এবং শিক্ষকের সাথে কখনো অশোভন আচরণ করবো না। তাদের অমর্যাদা হয় এমন কাজ থেকে সর্বদা বিরত থাকবো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম পরিপন্থী বা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে কখনো লিপ্ত হব না। পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা অর্জনের চেষ্টা করবো। সবার আগে নিজের দেশকে ভালোবাসবো। একজন দেশপ্রেমিক সুনাগরিক হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে পরিবারের, সমাজের এবং দেশের জন্য সর্বদা কাজ করবো। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন। আমিন।" সমস্বরে এমনই এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী শপথ করেছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সরকারি আবুল কালাম কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সরকারি আবুল কালাম কলেজ মিলনায়তনে একাদশ শ্রেণির এক বর্ণাঢ্য নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওই অঙ্গীকার করেন কলেজের উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে ওই শপথবাক্য পাঠ করান বরিশাল বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না।
সরকারি আবুল কালাম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনুপম রায়ের সভাপতিত্বে এবং বাংলা বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক নুরুন্নবী রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই নবীন বরণ অনুষ্ঠানে এসময় বক্তব্য রাখেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, পৌরনীতি ও সুশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জহিরুল হক রোকন, হিসাব বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক আলী হোসেন শরীফ, ছাত্রনেতা নাঈম হাসান, রাকিব সিকদার, মেহেদী হাসান, শিক্ষার্থী তাইয়্যেবা রহমান প্রমুখ।
নবীন বরণ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের ব্যান্ড-শোসহ বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সরকারি আবুল কালাম কলেজের বাংলা বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নুরুন্নবী রাসেল। এসময় তিনি নব্বই দশকের জনপ্রিয় তাঁর এভারগ্রীণ ব্যান্ডের কালজয়ী ঐতিহাসিক গান 'ভেঙে দাও ফারাক্কা' গেয়ে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেন। কলেজ শিক্ষকদের মধ্য থেকে এছাড়াও সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রভাষক নুসরাত জাহান ও প্রভাষক লেলিন তালুকদার। কবিতা আবৃত্তি করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনুপম রায়। এসময় মনোজ্ঞ সঙ্গীতের সুরের মূর্ছনায় শিক্ষার্থীদের মাতোয়ারা করে বরিশাল শিল্পগোষ্ঠীর ব্যান্ডদল। #
"আমি শপথ করছি যে, সরকারি আবুল কালাম কলেজের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভালোবাসবো। আমার ক্যাম্পাসকে সর্বদা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং মাদকমুক্ত রাখবো। নিজে কখনো মাদক গ্রহণ করবো না এবং এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউকে মাদক গ্রহণ করতে দেবো না। মা-বাবা এবং শিক্ষকের সাথে কখনো অশোভন আচরণ করবো না। তাদের অমর্যাদা হয় এমন কাজ থেকে সর্বদা বিরত থাকবো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম পরিপন্থী বা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে কখনো লিপ্ত হব না। পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা অর্জনের চেষ্টা করবো। সবার আগে নিজের দেশকে ভালোবাসবো। একজন দেশপ্রেমিক সুনাগরিক হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে পরিবারের, সমাজের এবং দেশের জন্য সর্বদা কাজ করবো। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন। আমিন।" সমস্বরে এমনই এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী শপথ করেছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সরকারি আবুল কালাম কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সরকারি আবুল কালাম কলেজ মিলনায়তনে একাদশ শ্রেণির এক বর্ণাঢ্য নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওই অঙ্গীকার করেন কলেজের উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে ওই শপথবাক্য পাঠ করান বরিশাল বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না।
সরকারি আবুল কালাম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনুপম রায়ের সভাপতিত্বে এবং বাংলা বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক নুরুন্নবী রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই নবীন বরণ অনুষ্ঠানে এসময় বক্তব্য রাখেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, পৌরনীতি ও সুশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জহিরুল হক রোকন, হিসাব বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক আলী হোসেন শরীফ, ছাত্রনেতা নাঈম হাসান, রাকিব সিকদার, মেহেদী হাসান, শিক্ষার্থী তাইয়্যেবা রহমান প্রমুখ।
নবীন বরণ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের ব্যান্ড-শোসহ বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সরকারি আবুল কালাম কলেজের বাংলা বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নুরুন্নবী রাসেল। এসময় তিনি নব্বই দশকের জনপ্রিয় তাঁর এভারগ্রীণ ব্যান্ডের কালজয়ী ঐতিহাসিক গান 'ভেঙে দাও ফারাক্কা' গেয়ে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেন। কলেজ শিক্ষকদের মধ্য থেকে এছাড়াও সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রভাষক নুসরাত জাহান ও প্রভাষক লেলিন তালুকদার। কবিতা আবৃত্তি করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনুপম রায়। এসময় মনোজ্ঞ সঙ্গীতের সুরের মূর্ছনায় শিক্ষার্থীদের মাতোয়ারা করে বরিশাল শিল্পগোষ্ঠীর ব্যান্ডদল। #

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০০
প্রকৃতি যখন নিজের হাতে কোনো ক্যানভাস সাজায়, তখন তার রূপ কেমন হতে পারে, তা বরিশালের সাতলা বিলে না গেলে অনুধাবন করা অসম্ভব। শরতের ভোরের আলো ফুটতেই এখানে চোখ জুড়িয়ে যায় এক অলৌকিক দৃশ্যে। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত এক জলাশয়, আর তার বুক চিরে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে কোটি কোটি লাল শাপলা। দূর থেকে মনে হবে যেন সবুজ পাতার বিছানায় কেউ লাল গালিচা পেতে রেখেছে, কিংবা ভোরের উদীয়মান সূর্যটাই টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পানির বুকে।বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা হলেও, একসঙ্গে এত শাপলার মেলা দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। তাই বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার এই সাতলা গ্রামটি এখন সারা দেশে পরিচিত 'শাপলার রাজধানী' বা 'লাল শাপলার স্বর্গরাজ্য' হিসেবে।
বছরের অন্য সময়ে সাতলা বিল দেখতে আর দশটা সাধারণ জলাভূমির মতোই মনে হয়। শুষ্ক মৌসুমে এখানে চাষ হয় ইরি ধান। কিন্তু বর্ষার পানি আসতেই বিলটি তার রূপ বদলাতে শুরু করে। মে-জুন মাস থেকে বিলে পানি জমতে শুরু করলে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় লাল শাপলা। আগস্ট থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত চলে শাপলার এই রাজত্ব। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বিলের সৌন্দর্য পৌঁছায় তার চূড়ায়। ভোরের আলোয় লাল শাপলার মেলাসাতলা বিলের আসল রূপ দেখতে হলে আপনাকে ঘুমকে ছুটি দিতে হবে। সূর্য ওঠার ঠিক আগে, যখন চারপাশ হালকা কুয়াশায় ঢাকা থাকে, তখন বিলের রূপ সবচেয়ে মোহনীয় দেখায়। ভোরের নরম আলোয় পাপড়ি মেলে ধরা শাপলাগুলোর ওপর যখন ভোরের শিশিরবিন্দু জমে থাকে, তখন মনে হয় যেন মুক্তো ছড়ানো রয়েছে। সকাল ৮টা বা ৯টা বেজে যাওয়ার পর যখন রোদের তীব্রতা বাড়ে, তখন ফুলগুলো ধীরে ধীরে বুজে যায়। তাই সাতলার সৌন্দর্য উপভোগ করার মোক্ষম সময় হলো ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা।বিলের জীবন ও জীবিকাসাতলা বিল শুধু পর্যটকদের জন্যই আনন্দের খোরাক নয়, এটি স্থানীয় শত শত পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস। বিলের বুকজুড়ে যখন নৌকায় করে পর্যটকেরা ঘুরে বেড়ায়, স্থানীয় মাঝিরা গল্প শোনায় এই বিলের। অনেকে আবার বিল থেকে শাপলা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এই শাপলা দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু তরকারি। শুধু তাই নয়, বিলের মিষ্টি শালুকও স্থানীয়দের অন্যতম প্রিয় খাবার।
বরিশাল সদর কিংবা উজিরপুর উপজেলা থেকে খুব সহজেই সাতলা বিলে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে লঞ্চ বা বাসে বরিশাল এসে, সেখান থেকে মাহিন্দ্র (থ্রি-হুইলার) বা বাস যোগে শিকারপুর হয়ে শাতলা যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে করেও উজিরপুর বা সাতলা যাওয়া সম্ভব। বিলে ঘোরার জন্য স্থানীয় ঘাটে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা পাওয়া যায়, যা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ভাড়া নেওয়া যায়।
প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। ভ্রমণের সময় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট বা কোনো বর্জ্য বিলে ফেলে পানি দূষিত করবেন না। মনে রাখবেন, ফুল গাছের চেয়ে পানির বুকেই সবচেয়ে বেশি সুন্দর। তাই অকারণে ফুল ছিঁড়ে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য নষ্ট করা থেকে বিরত থাকাই একজন সচেতন ভ্রমণকারীর পরিচয়। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি মুছে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক চিলতে শান্তি পেতে চাইলে, শরতের কোনো এক ভোরে ঘুরে আসতেই পারেন লাল শাপলার এই স্বর্গরাজ্য থেকে।’
প্রকৃতি যখন নিজের হাতে কোনো ক্যানভাস সাজায়, তখন তার রূপ কেমন হতে পারে, তা বরিশালের সাতলা বিলে না গেলে অনুধাবন করা অসম্ভব। শরতের ভোরের আলো ফুটতেই এখানে চোখ জুড়িয়ে যায় এক অলৌকিক দৃশ্যে। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত এক জলাশয়, আর তার বুক চিরে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে কোটি কোটি লাল শাপলা। দূর থেকে মনে হবে যেন সবুজ পাতার বিছানায় কেউ লাল গালিচা পেতে রেখেছে, কিংবা ভোরের উদীয়মান সূর্যটাই টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পানির বুকে।বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা হলেও, একসঙ্গে এত শাপলার মেলা দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। তাই বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার এই সাতলা গ্রামটি এখন সারা দেশে পরিচিত 'শাপলার রাজধানী' বা 'লাল শাপলার স্বর্গরাজ্য' হিসেবে।
বছরের অন্য সময়ে সাতলা বিল দেখতে আর দশটা সাধারণ জলাভূমির মতোই মনে হয়। শুষ্ক মৌসুমে এখানে চাষ হয় ইরি ধান। কিন্তু বর্ষার পানি আসতেই বিলটি তার রূপ বদলাতে শুরু করে। মে-জুন মাস থেকে বিলে পানি জমতে শুরু করলে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় লাল শাপলা। আগস্ট থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত চলে শাপলার এই রাজত্ব। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বিলের সৌন্দর্য পৌঁছায় তার চূড়ায়। ভোরের আলোয় লাল শাপলার মেলাসাতলা বিলের আসল রূপ দেখতে হলে আপনাকে ঘুমকে ছুটি দিতে হবে। সূর্য ওঠার ঠিক আগে, যখন চারপাশ হালকা কুয়াশায় ঢাকা থাকে, তখন বিলের রূপ সবচেয়ে মোহনীয় দেখায়। ভোরের নরম আলোয় পাপড়ি মেলে ধরা শাপলাগুলোর ওপর যখন ভোরের শিশিরবিন্দু জমে থাকে, তখন মনে হয় যেন মুক্তো ছড়ানো রয়েছে। সকাল ৮টা বা ৯টা বেজে যাওয়ার পর যখন রোদের তীব্রতা বাড়ে, তখন ফুলগুলো ধীরে ধীরে বুজে যায়। তাই সাতলার সৌন্দর্য উপভোগ করার মোক্ষম সময় হলো ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা।বিলের জীবন ও জীবিকাসাতলা বিল শুধু পর্যটকদের জন্যই আনন্দের খোরাক নয়, এটি স্থানীয় শত শত পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস। বিলের বুকজুড়ে যখন নৌকায় করে পর্যটকেরা ঘুরে বেড়ায়, স্থানীয় মাঝিরা গল্প শোনায় এই বিলের। অনেকে আবার বিল থেকে শাপলা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এই শাপলা দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু তরকারি। শুধু তাই নয়, বিলের মিষ্টি শালুকও স্থানীয়দের অন্যতম প্রিয় খাবার।
বরিশাল সদর কিংবা উজিরপুর উপজেলা থেকে খুব সহজেই সাতলা বিলে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে লঞ্চ বা বাসে বরিশাল এসে, সেখান থেকে মাহিন্দ্র (থ্রি-হুইলার) বা বাস যোগে শিকারপুর হয়ে শাতলা যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে করেও উজিরপুর বা সাতলা যাওয়া সম্ভব। বিলে ঘোরার জন্য স্থানীয় ঘাটে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা পাওয়া যায়, যা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ভাড়া নেওয়া যায়।
প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। ভ্রমণের সময় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট বা কোনো বর্জ্য বিলে ফেলে পানি দূষিত করবেন না। মনে রাখবেন, ফুল গাছের চেয়ে পানির বুকেই সবচেয়ে বেশি সুন্দর। তাই অকারণে ফুল ছিঁড়ে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য নষ্ট করা থেকে বিরত থাকাই একজন সচেতন ভ্রমণকারীর পরিচয়। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি মুছে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক চিলতে শান্তি পেতে চাইলে, শরতের কোনো এক ভোরে ঘুরে আসতেই পারেন লাল শাপলার এই স্বর্গরাজ্য থেকে।’

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৪
বরিশালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষক নেতা, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাঁকে শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত, দোয়া মোনাজাত, বৃক্ষরোপণ, প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং এক আবেগঘন স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের শিক্ষা, সাহিত্য, সমাজসেবা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। স্মরণসভায় তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘যে জীবন মানুষের’ প্রদর্শিত হয়।

স্মরণসভায় উপস্থিত থেকে মরহুমের স্মৃতি ও কাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলা সভাপতি ও টিআইবি প্রতিনিধি প্রফেসর গাজী জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা, সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর স ম ইমানুল হাকিম ও প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস, বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল হক, এবং ঝালকাঠি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর নুরুল আমিন।
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন বাকশিস বরিশাল আঞ্চলিক শাখার সভাপতি অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মাহাবুবুর রহমান, সনাক সভাপতি অধ্যাপিকা টুনু রানী কর্মকার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজল ঘোষ, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম, বরিশাল মহানগর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফখরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ এম. এ. বায়েজিদ, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল মোতালেব হাওলাদার, নীলু-মনু ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নজরুল হক নিলু, শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা বেগম ফয়জুন নাহার শেলী, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খোকন এবং ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর বিমল চক্রবর্তী।

উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, 'অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন কেবল একজন সফল শিক্ষাবিদ বা শিক্ষক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠান গড়ার কারিগর ও মানবিকতার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হিজলা কলেজ, ঝালকাঠি মহিলা কলেজ ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন লড়ে গেছেন। প্রগতিশীল চেতনা, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীরব সমাজসেবার মাধ্যমে তিনি যে আদর্শ রেখে গেছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।'
উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের বড় ছেলে ড. মো. বাহাউদ্দিন গোলাপ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার এবং ছোট ছেলে রেহান উদ্দিন রোমান পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা। দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহীয়সী ব্যক্তিত্ব। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। #

বরিশালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষক নেতা, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাঁকে শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত, দোয়া মোনাজাত, বৃক্ষরোপণ, প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং এক আবেগঘন স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের শিক্ষা, সাহিত্য, সমাজসেবা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। স্মরণসভায় তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘যে জীবন মানুষের’ প্রদর্শিত হয়।

স্মরণসভায় উপস্থিত থেকে মরহুমের স্মৃতি ও কাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলা সভাপতি ও টিআইবি প্রতিনিধি প্রফেসর গাজী জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা, সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর স ম ইমানুল হাকিম ও প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস, বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল হক, এবং ঝালকাঠি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর নুরুল আমিন।
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন বাকশিস বরিশাল আঞ্চলিক শাখার সভাপতি অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মাহাবুবুর রহমান, সনাক সভাপতি অধ্যাপিকা টুনু রানী কর্মকার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজল ঘোষ, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম, বরিশাল মহানগর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফখরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ এম. এ. বায়েজিদ, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল মোতালেব হাওলাদার, নীলু-মনু ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নজরুল হক নিলু, শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা বেগম ফয়জুন নাহার শেলী, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খোকন এবং ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর বিমল চক্রবর্তী।

উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, 'অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন কেবল একজন সফল শিক্ষাবিদ বা শিক্ষক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠান গড়ার কারিগর ও মানবিকতার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হিজলা কলেজ, ঝালকাঠি মহিলা কলেজ ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন লড়ে গেছেন। প্রগতিশীল চেতনা, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীরব সমাজসেবার মাধ্যমে তিনি যে আদর্শ রেখে গেছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।'
উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের বড় ছেলে ড. মো. বাহাউদ্দিন গোলাপ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার এবং ছোট ছেলে রেহান উদ্দিন রোমান পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা। দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহীয়সী ব্যক্তিত্ব। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। #


০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৮
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাসহ ১৯২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক বৃহস্পতিবার ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করছে শিক্ষার্থীরা। শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে অত্যাধুনিক ডাস্টবিন। উপজেলার অর্ধশতাধিক হাট-বাজার এবং স্টেশনেও নিয়মিত চলছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কের পাশে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করে লাগানো হচ্ছে কৃষ্ণচূড়া, কাঠগোলাপ, কামিনী, বাগানবিলাস, আমলকি, নারিকেল কিংবা জামের মতো বাহারি সব ফলদ আর সৌন্দর্যবর্ধনের গাছ। বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী কর্মযজ্ঞ দেখে যারপরনাই আপ্লুত হয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পরিদর্শনে এসে বদলে যাওয়া এক নতুন বাবুগঞ্জের যাত্রা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে নিজ হাতে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারাও রোপন করেছেন তিনি। একইসাথে সেখানে একটি কাঠগোলাপের চারা রোপণ করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার। বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রধান সড়কের রহমতপুর থেকে খানপুরা পর্যন্ত রাস্তার পাশে প্রায় দেড় কিলোমিটার জায়গায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করার পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে এর শুভ উদ্বোধন করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোশাহিদুল্লাহ। রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কে ওই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন কালে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও আসমা উল হুসনা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার রায়, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুহাম্মদ আব্দুর রউফ, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সন্ন্যামত, শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন ডলি, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়েদা আক্তার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল হোসেন, রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুমন সিকদার, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি আরিফ আহমেদ মুন্না, সম্পাদক রোকন মিয়া, বিডি ক্লিনের বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী জায়েদ ইরফান, সহ-সমন্বয়কারী আরিফ হোসেন, মাঠের খবরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ মামুন প্রমুখ। এসময় বিডি ক্লিনের একটি পেশাদার টিম ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাবুগঞ্জে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্যোক্তা বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে এসময় 'গ্রীণ বাবুগঞ্জ' কর্মসূচিতে ১ হাজার বনজ ও ফলদ গাছের চারা উপহার দেয় পূবালী ব্যাংক পিএলসির বাবুগঞ্জ শাখা। এরআগে ইউএনওর আহবানে 'ক্লিন বাবুগঞ্জ' কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অত্যাধুনিক ডাস্টবিন উপহার দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স। গত ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বহনযোগ্য চাকা ও ঢাকনাযুক্ত আধুনিক ওই ডাস্টবিনগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের হাতে তুলে দেন ইউএনও আসমা উল হুসনা।
এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কে ওই বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত সুধীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভা করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ। এসময় তিনি বলেন, 'পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। ইউএনও আসমা উল হুসনা বাবুগঞ্জ উপজেলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন সেগুলো নিঃসন্দেহে অনন্য এবং অনুকরণীয়। ইতোমধ্যে বরিশালের অধিকাংশ উপজেলায় বাবুগঞ্জকে অনুসরণ করে কাজ শুরু করেছে। ভালো কাজে প্রতিযোগিতা থাকলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। আমি সবাইকে বলেছি শুধু গাছ লাগালেই হবে না। পরিকল্পিতভাবে লাগাতে হবে এবং সেগুলো পরিচর্যা করতে হবে। হিজল, তমাল, বকুল, জারুলসহ অনেক গাছ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। সেগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। এর পাশাপাশি মানুষ এবং পাখির খাবারের জন্য বেশি বেশি ফলের গাছ লাগাতে হবে। ফুলের গাছ লাগাতে হবে। বেশি অক্সিজেন দেয় এমন গাছ নির্বাচন করতে হবে। ইউক্যালিপটাস বা আকাশমণি গাছগুলো আগে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো হলেও পরিবেশের জন্য এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। তাই এসব গাছ পরিহার করে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পরিকল্পিতভাবে ফলদ ও বনজ গাছের চারা লাগাতে হবে।'
উল্লেখ্য বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা নেতৃত্বে প্রায় ২ মাস আগে থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার, বৃক্ষরোপণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনকে সাথে নিয়ে নাগরিক সংগঠন সুজন-এর সহায়তায় একটি সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। 'বাবুগঞ্জ ক্লিন' শীর্ষক ওই কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার ১৯২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করাসহ উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহনযোগ্য এবং অটোমেটিক ঢাকনাযুক্ত আধুনিক ডাস্টবিন প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উপজেলার সকল হাট-বাজার এবং স্টেশনে নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলার জন্য স্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন খালগুলো ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানা মুক্ত করে পানি প্রবাহ সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে স্বেচ্ছাসেবী ও সুনাগরিকসহ উপজেলার সকল শ্রেণিপেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেছেন ইউএনও আসমা উল হুসনা। #
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৪৯
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১১
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৪
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৬