বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাসহ ১৯২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক বৃহস্পতিবার ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করছে শিক্ষার্থীরা। শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে অত্যাধুনিক ডাস্টবিন। উপজেলার অর্ধশতাধিক হাট-বাজার এবং স্টেশনেও নিয়মিত চলছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কের পাশে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করে লাগানো হচ্ছে কৃষ্ণচূড়া, কাঠগোলাপ, কামিনী, বাগানবিলাস, আমলকি, নারিকেল কিংবা জামের মতো বাহারি সব ফলদ আর সৌন্দর্যবর্ধনের গাছ। বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী কর্মযজ্ঞ দেখে যারপরনাই আপ্লুত হয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পরিদর্শনে এসে বদলে যাওয়া এক নতুন বাবুগঞ্জের যাত্রা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে নিজ হাতে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারাও রোপন করেছেন তিনি। একইসাথে সেখানে একটি কাঠগোলাপের চারা রোপণ করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার। বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রধান সড়কের রহমতপুর থেকে খানপুরা পর্যন্ত রাস্তার পাশে প্রায় দেড় কিলোমিটার জায়গায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করার পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে এর শুভ উদ্বোধন করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোশাহিদুল্লাহ। রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কে ওই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন কালে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও আসমা উল হুসনা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার রায়, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুহাম্মদ আব্দুর রউফ, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সন্ন্যামত, শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন ডলি, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়েদা আক্তার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল হোসেন, রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুমন সিকদার, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি আরিফ আহমেদ মুন্না, সম্পাদক রোকন মিয়া, বিডি ক্লিনের বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী জায়েদ ইরফান, সহ-সমন্বয়কারী আরিফ হোসেন, মাঠের খবরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ মামুন প্রমুখ। এসময় বিডি ক্লিনের একটি পেশাদার টিম ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাবুগঞ্জে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্যোক্তা বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে এসময় 'গ্রীণ বাবুগঞ্জ' কর্মসূচিতে ১ হাজার বনজ ও ফলদ গাছের চারা উপহার দেয় পূবালী ব্যাংক পিএলসির বাবুগঞ্জ শাখা। এরআগে ইউএনওর আহবানে 'ক্লিন বাবুগঞ্জ' কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অত্যাধুনিক ডাস্টবিন উপহার দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স। গত ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বহনযোগ্য চাকা ও ঢাকনাযুক্ত আধুনিক ওই ডাস্টবিনগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের হাতে তুলে দেন ইউএনও আসমা উল হুসনা।
এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কে ওই বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত সুধীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভা করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ। এসময় তিনি বলেন, 'পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। ইউএনও আসমা উল হুসনা বাবুগঞ্জ উপজেলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন সেগুলো নিঃসন্দেহে অনন্য এবং অনুকরণীয়। ইতোমধ্যে বরিশালের অধিকাংশ উপজেলায় বাবুগঞ্জকে অনুসরণ করে কাজ শুরু করেছে। ভালো কাজে প্রতিযোগিতা থাকলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। আমি সবাইকে বলেছি শুধু গাছ লাগালেই হবে না। পরিকল্পিতভাবে লাগাতে হবে এবং সেগুলো পরিচর্যা করতে হবে। হিজল, তমাল, বকুল, জারুলসহ অনেক গাছ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। সেগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। এর পাশাপাশি মানুষ এবং পাখির খাবারের জন্য বেশি বেশি ফলের গাছ লাগাতে হবে। ফুলের গাছ লাগাতে হবে। বেশি অক্সিজেন দেয় এমন গাছ নির্বাচন করতে হবে। ইউক্যালিপটাস বা আকাশমণি গাছগুলো আগে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো হলেও পরিবেশের জন্য এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। তাই এসব গাছ পরিহার করে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পরিকল্পিতভাবে ফলদ ও বনজ গাছের চারা লাগাতে হবে।'
উল্লেখ্য বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা নেতৃত্বে প্রায় ২ মাস আগে থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার, বৃক্ষরোপণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনকে সাথে নিয়ে নাগরিক সংগঠন সুজন-এর সহায়তায় একটি সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। 'বাবুগঞ্জ ক্লিন' শীর্ষক ওই কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার ১৯২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করাসহ উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহনযোগ্য এবং অটোমেটিক ঢাকনাযুক্ত আধুনিক ডাস্টবিন প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উপজেলার সকল হাট-বাজার এবং স্টেশনে নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলার জন্য স্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন খালগুলো ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানা মুক্ত করে পানি প্রবাহ সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে স্বেচ্ছাসেবী ও সুনাগরিকসহ উপজেলার সকল শ্রেণিপেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেছেন ইউএনও আসমা উল হুসনা। #

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৫
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজেল নিউজের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। অপরাধের গুরুত্ব এবং সময় ও স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সাজা দেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখে এবং সাজা কার্যকরের জন্য রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়।
তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন বাস্তবায়নে সৌদি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও আজেল নিউজ।
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজেল নিউজের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। অপরাধের গুরুত্ব এবং সময় ও স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সাজা দেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখে এবং সাজা কার্যকরের জন্য রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়।
তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন বাস্তবায়নে সৌদি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও আজেল নিউজ।

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৩৭
স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন—এমন দাবি করে ভারতের হরিদ্বারে একটি মোবাইল টাওয়ারে উঠে বসেন এক যুবক। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত নিচে নামবেন না বলে জানান তিনি। তাঁকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতে নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন ওই যুবক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার শিবালিক নগরে এ ঘটনা ঘটে। স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে পালিয়ে হরিদ্বারে চলে গেছেন বলে জানতে পেরে সেখানে ছুটে যান ওই যুবক। একপর্যায়ে তিনি উঠে পড়েন এলাকার একটি মোবাইল টাওয়ারে।
বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা যুবককে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। তবে নানা অনুরোধেও তিনি রাজি হননি। টাওয়ারের ওপর থেকে যুবক দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে হবে। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দিলে তিনি নিচে নামবেন না বলেও জানান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিরাপদে নিচে নামানোর উদ্যোগ নেয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক চেষ্টাও সফল হয়নি। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে স্ত্রী না আসা পর্যন্ত টাওয়ার থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান ওই যুবক।
এ অবস্থায় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁকে শান্ত করার পাশাপাশি নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও টাওয়ারের ওপর অবস্থান করছিলেন তিনি। পরে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামার সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘ সময় পর ওই যুবক নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘ভূপি পাওয়ার’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভিডিওটি বহু মানুষের নজরে এসেছে।
স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন—এমন দাবি করে ভারতের হরিদ্বারে একটি মোবাইল টাওয়ারে উঠে বসেন এক যুবক। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত নিচে নামবেন না বলে জানান তিনি। তাঁকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতে নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন ওই যুবক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার শিবালিক নগরে এ ঘটনা ঘটে। স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে পালিয়ে হরিদ্বারে চলে গেছেন বলে জানতে পেরে সেখানে ছুটে যান ওই যুবক। একপর্যায়ে তিনি উঠে পড়েন এলাকার একটি মোবাইল টাওয়ারে।
বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা যুবককে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। তবে নানা অনুরোধেও তিনি রাজি হননি। টাওয়ারের ওপর থেকে যুবক দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে হবে। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দিলে তিনি নিচে নামবেন না বলেও জানান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিরাপদে নিচে নামানোর উদ্যোগ নেয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক চেষ্টাও সফল হয়নি। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে স্ত্রী না আসা পর্যন্ত টাওয়ার থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান ওই যুবক।
এ অবস্থায় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁকে শান্ত করার পাশাপাশি নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও টাওয়ারের ওপর অবস্থান করছিলেন তিনি। পরে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামার সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘ সময় পর ওই যুবক নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘ভূপি পাওয়ার’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভিডিওটি বহু মানুষের নজরে এসেছে।

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১২
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইটি) রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কলেজটির বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট, প্রশাসনিক জটিলতা ও একাডেমিক অস্থিতিশীলতা নিরসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ছাড়াও ফরিদপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের কারিগরি শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয়।
চিঠিতে চারটি কলেজের বিদ্যমান আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এস এম খালিদ সাইফুল্লাহ মনে করেন, কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করা হলে শিক্ষকসংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের পথ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কলেজটির কার্যক্রমে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও বিশ্ববিদ্যালয়—দুই প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করা হলে একক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট দূর করা সম্ভব হবে।
খালিদ সাইফুল্লাহ আরও বলেন, সেমিস্টারের মাঝপথে যথেচ্ছ শিক্ষক বদলি বন্ধ করে একাডেমিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নেভাল আর্কিটেকচার বিভাগ চালু করা সম্ভব হবে। দক্ষ ল্যাব জনবল নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়সংকটও দূর করা যাবে।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হলে এর একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ডিগ্রি প্রদান, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পরীক্ষা পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে চলবে এবং রূপান্তরের ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য কী ব্যবস্থা রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে রূপান্তরের নির্দিষ্ট সময়সীমা কিংবা বাস্তবায়নের বিস্তারিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি। বরং বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পদক্ষেপসহ প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, চারটি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আপাতত এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও করণীয় নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. লিটন রাব্বানী বলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে চিঠি দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইউজিসি থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে রূপান্তরের প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের অংশ। মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইটি) রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কলেজটির বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট, প্রশাসনিক জটিলতা ও একাডেমিক অস্থিতিশীলতা নিরসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ছাড়াও ফরিদপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের কারিগরি শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয়।
চিঠিতে চারটি কলেজের বিদ্যমান আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এস এম খালিদ সাইফুল্লাহ মনে করেন, কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করা হলে শিক্ষকসংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের পথ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কলেজটির কার্যক্রমে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও বিশ্ববিদ্যালয়—দুই প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করা হলে একক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট দূর করা সম্ভব হবে।
খালিদ সাইফুল্লাহ আরও বলেন, সেমিস্টারের মাঝপথে যথেচ্ছ শিক্ষক বদলি বন্ধ করে একাডেমিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নেভাল আর্কিটেকচার বিভাগ চালু করা সম্ভব হবে। দক্ষ ল্যাব জনবল নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়সংকটও দূর করা যাবে।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হলে এর একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ডিগ্রি প্রদান, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পরীক্ষা পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে চলবে এবং রূপান্তরের ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য কী ব্যবস্থা রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে রূপান্তরের নির্দিষ্ট সময়সীমা কিংবা বাস্তবায়নের বিস্তারিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি। বরং বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পদক্ষেপসহ প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, চারটি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আপাতত এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও করণীয় নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. লিটন রাব্বানী বলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে চিঠি দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইউজিসি থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে রূপান্তরের প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের অংশ। মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৮
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাসহ ১৯২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক বৃহস্পতিবার ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করছে শিক্ষার্থীরা। শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে অত্যাধুনিক ডাস্টবিন। উপজেলার অর্ধশতাধিক হাট-বাজার এবং স্টেশনেও নিয়মিত চলছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কের পাশে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করে লাগানো হচ্ছে কৃষ্ণচূড়া, কাঠগোলাপ, কামিনী, বাগানবিলাস, আমলকি, নারিকেল কিংবা জামের মতো বাহারি সব ফলদ আর সৌন্দর্যবর্ধনের গাছ। বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী কর্মযজ্ঞ দেখে যারপরনাই আপ্লুত হয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পরিদর্শনে এসে বদলে যাওয়া এক নতুন বাবুগঞ্জের যাত্রা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে নিজ হাতে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারাও রোপন করেছেন তিনি। একইসাথে সেখানে একটি কাঠগোলাপের চারা রোপণ করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার। বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রধান সড়কের রহমতপুর থেকে খানপুরা পর্যন্ত রাস্তার পাশে প্রায় দেড় কিলোমিটার জায়গায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করার পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে এর শুভ উদ্বোধন করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোশাহিদুল্লাহ। রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কে ওই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন কালে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও আসমা উল হুসনা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার রায়, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুহাম্মদ আব্দুর রউফ, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সন্ন্যামত, শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন ডলি, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়েদা আক্তার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল হোসেন, রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুমন সিকদার, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি আরিফ আহমেদ মুন্না, সম্পাদক রোকন মিয়া, বিডি ক্লিনের বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী জায়েদ ইরফান, সহ-সমন্বয়কারী আরিফ হোসেন, মাঠের খবরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ মামুন প্রমুখ। এসময় বিডি ক্লিনের একটি পেশাদার টিম ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাবুগঞ্জে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্যোক্তা বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে এসময় 'গ্রীণ বাবুগঞ্জ' কর্মসূচিতে ১ হাজার বনজ ও ফলদ গাছের চারা উপহার দেয় পূবালী ব্যাংক পিএলসির বাবুগঞ্জ শাখা। এরআগে ইউএনওর আহবানে 'ক্লিন বাবুগঞ্জ' কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অত্যাধুনিক ডাস্টবিন উপহার দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স। গত ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বহনযোগ্য চাকা ও ঢাকনাযুক্ত আধুনিক ওই ডাস্টবিনগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের হাতে তুলে দেন ইউএনও আসমা উল হুসনা।
এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কে ওই বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত সুধীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভা করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ। এসময় তিনি বলেন, 'পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। ইউএনও আসমা উল হুসনা বাবুগঞ্জ উপজেলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন সেগুলো নিঃসন্দেহে অনন্য এবং অনুকরণীয়। ইতোমধ্যে বরিশালের অধিকাংশ উপজেলায় বাবুগঞ্জকে অনুসরণ করে কাজ শুরু করেছে। ভালো কাজে প্রতিযোগিতা থাকলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। আমি সবাইকে বলেছি শুধু গাছ লাগালেই হবে না। পরিকল্পিতভাবে লাগাতে হবে এবং সেগুলো পরিচর্যা করতে হবে। হিজল, তমাল, বকুল, জারুলসহ অনেক গাছ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। সেগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। এর পাশাপাশি মানুষ এবং পাখির খাবারের জন্য বেশি বেশি ফলের গাছ লাগাতে হবে। ফুলের গাছ লাগাতে হবে। বেশি অক্সিজেন দেয় এমন গাছ নির্বাচন করতে হবে। ইউক্যালিপটাস বা আকাশমণি গাছগুলো আগে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো হলেও পরিবেশের জন্য এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। তাই এসব গাছ পরিহার করে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পরিকল্পিতভাবে ফলদ ও বনজ গাছের চারা লাগাতে হবে।'
উল্লেখ্য বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা নেতৃত্বে প্রায় ২ মাস আগে থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার, বৃক্ষরোপণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনকে সাথে নিয়ে নাগরিক সংগঠন সুজন-এর সহায়তায় একটি সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। 'বাবুগঞ্জ ক্লিন' শীর্ষক ওই কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার ১৯২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করাসহ উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহনযোগ্য এবং অটোমেটিক ঢাকনাযুক্ত আধুনিক ডাস্টবিন প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উপজেলার সকল হাট-বাজার এবং স্টেশনে নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলার জন্য স্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন খালগুলো ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানা মুক্ত করে পানি প্রবাহ সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে স্বেচ্ছাসেবী ও সুনাগরিকসহ উপজেলার সকল শ্রেণিপেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেছেন ইউএনও আসমা উল হুসনা। #
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩৪
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩১
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৫
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৫৩