ছাত্রনেতা সুজয় শুভকে নিয়ে অপপ্রচার, মানহানির অভিযোগে মামলা
গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা সুজয় বিশ্বাস শুভর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার ও মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি সুজয় শুভ বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে এ মামলা করেন।
এদিকে, সুজয় শুভর বিচারের দাবিতে সম্প্রতি বরিশাল নগরীতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ৯ জনের মধ্যে অন্তত দুজন জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত না হয়েই তারা মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বাদীর সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশে তার সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি তার শরীর, সম্পত্তি ও সামাজিক সুনামের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের নেতা মাহিদুল ইসলাম দাউদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংগঠনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এরপর মাহিদুল ইসলাম দাউদ ক্ষুব্ধ হয়ে আলিসা মুনতাজ, হুজাইফা রহমানসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলে মামলার বাদী সুজয় বিশ্বাস শুভর মানহানি করার উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও অপমানজনক বক্তব্য প্রচার শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় মামলার অন্যান্য আসামিরা ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সুজয় শুভকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন অবমাননাকর মন্তব্য ও বক্তব্য প্রকাশ করেন। পরে একই বছরের ১৬ এপ্রিল পুনরায় বাদীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার চালানো হয়।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুজয় শুভ ২১ এপ্রিল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও অভিযুক্তরা অপপ্রচার বন্ধ না করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার, ভিডিওচিত্র তৈরি এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে থাকেন।
অভিযোগপত্রে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের জুন মাসে বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে উল্লেখ করে আদালতের কাছে বিচার চেয়ে মামলাটি দায়ের করেন সুজয় শুভ।
এদিকে, সুজয় শুভর বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ৯ জন ব্যক্তির একজন শামীম দাবি করেন, তাকে কার বিরুদ্ধে এবং কী অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে তা না জানিয়েই সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে শামীম বলেন, ‘ও... হ্যাঁ, না, আমি ওইখানে ছিলাম আরকি। আমার এক বড় ভাই আমাকে নিয়ে গেছে।’
সুজয় শুভর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে এই ব্যাপারে তেমন কোনো তথ্য জানি না। আপনি বরং যারা ফ্রন্টে ছিল, ওনাদেরকে জিজ্ঞেস করেন। মানে... আমাদের ওই সিরাজুল ভাইসহ যারা ছিল, ওনাদেরকে জিজ্ঞেস করেন।’
আপনি মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছেন, কিন্তু কেন অংশ নিচ্ছেন তা জানেন না- এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম বলেন, ‘না, আমি জানি যে আমি একটা প্রতিবাদী মিছিলে অংশগ্রহণ করছি আরকি, এইটুকু।’
অভিযোগ সত্য না মিথ্যা তা না জেনেই মানববন্ধনে দাঁড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘না, কারণ ছাড়া বলতে কী, আমাকে তো এমনিতে বলা হইছে যে চলো...।’
মানববন্ধনের অভিযোগকারীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না- এ অবস্থায় কীভাবে মানববন্ধনে অংশ নিলেন জানতে চাইলে শামীম বলেন, ‘যারা লিডিংয়ে ছিল, ওনারা হয়তো জানেন আরকি। এই ব্যাপারে আমার কাছে তেমন কোনো তথ্য নাই। আমার যেটা মনে হয় যে হয়তোবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওনারে(সুজয় শুভকে) হয়তো হ্যারাস করার জন্য এটা করছে।"
এছাড়া মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধনা হালদার নামে এক নারীও একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সুজয় শুভর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি শুনেছেন, তাই তিনি মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন।
সাধনা হালদার আরও বলেন, ‘আমি সুজয় শুভকে চিনতাম। বিভিন্ন আন্দোলন তাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখেছি। গত কিছুদিন ধরে শুনতেছি- আমাদের সিনিয়র আপুরা তারা বলতেছে, তারা বিভিন্ন ধরণের যৌন নির্যাতনবা নিপীড়নের শিকার হইছে, ব্যাড টাচের শিকার হইছে, এই ধরণের ম্যানুপুলেশন বা ভিক্টিম ব্লেমিং এর শিকার হইছে। যখন শুনলাম একাধিক মানুষের কাছ থেকে তখন খুবই খারাপ লাগছে।’
মামলার বাদীপক্ষের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই সাধারণ মানুষকে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করানো হয়েছে এবং তাদের ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একজন ছাত্রনেতার মানহানি করা হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন বাদী সুজয় শুভ।
সুজয় আরও বলেন, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষের জায়গা থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কিছুদিন ধরে আমার বিরদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। তারা ফেইসবুকে নানা অসত্য, অসংলগ্ন ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুললেও কোনো অভিযোগের স্বপক্ষে ন্যূনতম প্রমাণ হাজির করতে পারেন নি। কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে তথ্য, প্রমাণহীন ভুয়া অভিযোগ সাজিয়ে ভিকটিম কার্ড প্লে করা ; গুরুতর অন্যায় বলে মনে করি। এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আমি আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমি চাই এই অসাধু চক্রের দ্বারা আর কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য প্রচলিত আইনে মামলা করেছি।
এ সকল বিষয় বক্তব্য জানতে মামলার আসামি হুজাইফা রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৩
উত্তর আন্দামান সাগরে থাইল্যান্ড উপকূলের কাছাকাছি তৈরি হয়েছে নতুন ঘূর্ণাবর্ত। অনুকূল পরিস্থিতি পেলে শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই এটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এরপর শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছে কিছু আবহাওয়া মডেল।
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে বাংলাদেশের দেওয়া নাম অনুযায়ী এর নাম হবে ‘অর্ণব’।
তবে এখনই ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস নিশ্চিত করছে না ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)। সংস্থাটির পূর্বাভাসে আপাতত ঘূর্ণাবর্তটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার কথাই বলা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া মডেল জিএফএস সিস্টেমটির পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিস্টেমটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর এটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্ভাব্য এই সিস্টেমের প্রভাবে ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গেও এর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্তের পাশাপাশি সৌরাষ্ট্র থেকে বঙ্গোপসাগর এবং সিকিম থেকে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় জারি রয়েছে হলুদ সতর্কতা।
তবে ঘূর্ণাবর্তটি শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তি সঞ্চয় করবে এবং এর গতিপথ কোন দিকে হবে—তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি আবহাওয়া দপ্তর।’
উত্তর আন্দামান সাগরে থাইল্যান্ড উপকূলের কাছাকাছি তৈরি হয়েছে নতুন ঘূর্ণাবর্ত। অনুকূল পরিস্থিতি পেলে শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই এটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এরপর শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছে কিছু আবহাওয়া মডেল।
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে বাংলাদেশের দেওয়া নাম অনুযায়ী এর নাম হবে ‘অর্ণব’।
তবে এখনই ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস নিশ্চিত করছে না ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)। সংস্থাটির পূর্বাভাসে আপাতত ঘূর্ণাবর্তটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার কথাই বলা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া মডেল জিএফএস সিস্টেমটির পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিস্টেমটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর এটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্ভাব্য এই সিস্টেমের প্রভাবে ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গেও এর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্তের পাশাপাশি সৌরাষ্ট্র থেকে বঙ্গোপসাগর এবং সিকিম থেকে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় জারি রয়েছে হলুদ সতর্কতা।
তবে ঘূর্ণাবর্তটি শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তি সঞ্চয় করবে এবং এর গতিপথ কোন দিকে হবে—তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি আবহাওয়া দপ্তর।’

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:২৪
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. শরিফুল ইসলাম নামে এক নবীন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শরিফুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৫তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন শশী ছাত্রীনিবাসের পাশের সড়ক হয়ে নদীর পাড়ের বালুর মাঠ এলাকায় ১৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের ডেকে নেন ১৪তম ব্যাচের কয়েকজন সিনিয়র। কয়েকজন সেখানে যেতে দেরি করলে তাঁদের দ্রুত হাজির হওয়ার জন্য চাপ ও শাসানো হয়।
পরে রাত ৯টার দিকে নবীন শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত হলে রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত তাঁদের র্যাগিং করা হয় বলে অভিযোগ। এ সময় গালিগালাজ, মানসিক হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে আতঙ্কিত হয়ে শরিফুল জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনায় ১৪তম ব্যাচের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ পরশ, অনিক, নাজ, শ্রাবণ, অনুপম, লিমন, জয়, রিয়াদ, প্রীতম ও রাফির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ১৪তম ব্যাচের সিআর নূর মোহাম্মদ পরশ। তাঁর দাবি, শরিফুল আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন এবং পরে তাঁরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘র্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওই শিক্ষার্থীর পেটের সমস্যা ছিল। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘র্যাগিংয়ের ঘটনায় কোনো ছাড় নেই। অভিযুক্তদের তদন্তপূর্বক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
ঘটনাটি নিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. শরিফুল ইসলাম নামে এক নবীন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শরিফুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৫তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন শশী ছাত্রীনিবাসের পাশের সড়ক হয়ে নদীর পাড়ের বালুর মাঠ এলাকায় ১৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের ডেকে নেন ১৪তম ব্যাচের কয়েকজন সিনিয়র। কয়েকজন সেখানে যেতে দেরি করলে তাঁদের দ্রুত হাজির হওয়ার জন্য চাপ ও শাসানো হয়।
পরে রাত ৯টার দিকে নবীন শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত হলে রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত তাঁদের র্যাগিং করা হয় বলে অভিযোগ। এ সময় গালিগালাজ, মানসিক হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে আতঙ্কিত হয়ে শরিফুল জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনায় ১৪তম ব্যাচের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ পরশ, অনিক, নাজ, শ্রাবণ, অনুপম, লিমন, জয়, রিয়াদ, প্রীতম ও রাফির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ১৪তম ব্যাচের সিআর নূর মোহাম্মদ পরশ। তাঁর দাবি, শরিফুল আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন এবং পরে তাঁরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘র্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওই শিক্ষার্থীর পেটের সমস্যা ছিল। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘র্যাগিংয়ের ঘটনায় কোনো ছাড় নেই। অভিযুক্তদের তদন্তপূর্বক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
ঘটনাটি নিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫২
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাজপথের নৈরাজ্যের রাজনীতির পরিবর্তে একটি কার্যকর জাতীয় সংসদ গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করার অবাধ সুযোগ পাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় গৌরনদীর সরিকল-বাটাজোর খালের পাশে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরে বিরোধী দল প্রতিদিন সমালোচনা করছে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কারের কাজও চলছে। জাতীয় সংসদকে কার্যকর করা হয়েছে। সংসদ যদি সব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়, তাহলে রাজপথে নৈরাজ্য ফিরে আসবে না।
পুলিশ প্রশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশকে জনগণের সেবক হিসেবে নতুনভাবে সাজাতে চায় সরকার। অতীত সরকারের সময়ে পুলিশের ইউনিফর্মকে রাজনৈতিক দলের বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। এর ফলে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি বলেন, একজন আইজি অপরাধ করে পালিয়ে বেড়ালে ইউনিফর্ম পরা একজন কনস্টেবলেরও খারাপ লাগে। পুলিশকে তাদের হারানো সম্মান ও মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে।
আমলাতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে আমলাতন্ত্রকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। সেটিকে নিরপেক্ষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে লুটপাট বন্ধ করে আমানতকারীদের অর্থ নিরাপদ রাখা এবং প্রকৃত শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে শেয়ারবাজারকে কার্যকর বাজারে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
খাল খননের গুরুত্ব তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, খাল খননের মাধ্যমে প্রতিটি জমিতে পানি পৌঁছানো সম্ভব হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে। এতে দেশ খাদ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যেতে পারবে।
গৌরনদী উপজেলা, পৌর ও কলেজ ছাত্রদলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান খোকন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল গোমস্তা, সদস্য সচিব আল-আমিন মোল্লা, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব খান, পৌর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহিম, হীরা রহমান সাদ্দাম, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তানভীর হাসান তানিম, সাধারণ সম্পাদক মুন্না খানসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাজপথের নৈরাজ্যের রাজনীতির পরিবর্তে একটি কার্যকর জাতীয় সংসদ গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করার অবাধ সুযোগ পাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় গৌরনদীর সরিকল-বাটাজোর খালের পাশে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরে বিরোধী দল প্রতিদিন সমালোচনা করছে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কারের কাজও চলছে। জাতীয় সংসদকে কার্যকর করা হয়েছে। সংসদ যদি সব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়, তাহলে রাজপথে নৈরাজ্য ফিরে আসবে না।
পুলিশ প্রশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশকে জনগণের সেবক হিসেবে নতুনভাবে সাজাতে চায় সরকার। অতীত সরকারের সময়ে পুলিশের ইউনিফর্মকে রাজনৈতিক দলের বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। এর ফলে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি বলেন, একজন আইজি অপরাধ করে পালিয়ে বেড়ালে ইউনিফর্ম পরা একজন কনস্টেবলেরও খারাপ লাগে। পুলিশকে তাদের হারানো সম্মান ও মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে।
আমলাতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে আমলাতন্ত্রকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। সেটিকে নিরপেক্ষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে লুটপাট বন্ধ করে আমানতকারীদের অর্থ নিরাপদ রাখা এবং প্রকৃত শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে শেয়ারবাজারকে কার্যকর বাজারে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
খাল খননের গুরুত্ব তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, খাল খননের মাধ্যমে প্রতিটি জমিতে পানি পৌঁছানো সম্ভব হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে। এতে দেশ খাদ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যেতে পারবে।
গৌরনদী উপজেলা, পৌর ও কলেজ ছাত্রদলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান খোকন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল গোমস্তা, সদস্য সচিব আল-আমিন মোল্লা, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব খান, পৌর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহিম, হীরা রহমান সাদ্দাম, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তানভীর হাসান তানিম, সাধারণ সম্পাদক মুন্না খানসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

০৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:০৫
ছাত্রনেতা সুজয় শুভকে নিয়ে অপপ্রচার, মানহানির অভিযোগে মামলা
গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা সুজয় বিশ্বাস শুভর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার ও মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি সুজয় শুভ বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে এ মামলা করেন।
এদিকে, সুজয় শুভর বিচারের দাবিতে সম্প্রতি বরিশাল নগরীতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ৯ জনের মধ্যে অন্তত দুজন জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত না হয়েই তারা মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বাদীর সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশে তার সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি তার শরীর, সম্পত্তি ও সামাজিক সুনামের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের নেতা মাহিদুল ইসলাম দাউদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংগঠনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এরপর মাহিদুল ইসলাম দাউদ ক্ষুব্ধ হয়ে আলিসা মুনতাজ, হুজাইফা রহমানসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলে মামলার বাদী সুজয় বিশ্বাস শুভর মানহানি করার উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও অপমানজনক বক্তব্য প্রচার শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় মামলার অন্যান্য আসামিরা ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সুজয় শুভকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন অবমাননাকর মন্তব্য ও বক্তব্য প্রকাশ করেন। পরে একই বছরের ১৬ এপ্রিল পুনরায় বাদীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার চালানো হয়।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুজয় শুভ ২১ এপ্রিল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও অভিযুক্তরা অপপ্রচার বন্ধ না করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার, ভিডিওচিত্র তৈরি এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে থাকেন।
অভিযোগপত্রে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের জুন মাসে বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে উল্লেখ করে আদালতের কাছে বিচার চেয়ে মামলাটি দায়ের করেন সুজয় শুভ।
এদিকে, সুজয় শুভর বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ৯ জন ব্যক্তির একজন শামীম দাবি করেন, তাকে কার বিরুদ্ধে এবং কী অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে তা না জানিয়েই সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে শামীম বলেন, ‘ও... হ্যাঁ, না, আমি ওইখানে ছিলাম আরকি। আমার এক বড় ভাই আমাকে নিয়ে গেছে।’
সুজয় শুভর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে এই ব্যাপারে তেমন কোনো তথ্য জানি না। আপনি বরং যারা ফ্রন্টে ছিল, ওনাদেরকে জিজ্ঞেস করেন। মানে... আমাদের ওই সিরাজুল ভাইসহ যারা ছিল, ওনাদেরকে জিজ্ঞেস করেন।’
আপনি মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছেন, কিন্তু কেন অংশ নিচ্ছেন তা জানেন না- এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম বলেন, ‘না, আমি জানি যে আমি একটা প্রতিবাদী মিছিলে অংশগ্রহণ করছি আরকি, এইটুকু।’
অভিযোগ সত্য না মিথ্যা তা না জেনেই মানববন্ধনে দাঁড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘না, কারণ ছাড়া বলতে কী, আমাকে তো এমনিতে বলা হইছে যে চলো...।’
মানববন্ধনের অভিযোগকারীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না- এ অবস্থায় কীভাবে মানববন্ধনে অংশ নিলেন জানতে চাইলে শামীম বলেন, ‘যারা লিডিংয়ে ছিল, ওনারা হয়তো জানেন আরকি। এই ব্যাপারে আমার কাছে তেমন কোনো তথ্য নাই। আমার যেটা মনে হয় যে হয়তোবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওনারে(সুজয় শুভকে) হয়তো হ্যারাস করার জন্য এটা করছে।"
এছাড়া মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধনা হালদার নামে এক নারীও একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সুজয় শুভর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি শুনেছেন, তাই তিনি মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন।
সাধনা হালদার আরও বলেন, ‘আমি সুজয় শুভকে চিনতাম। বিভিন্ন আন্দোলন তাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখেছি। গত কিছুদিন ধরে শুনতেছি- আমাদের সিনিয়র আপুরা তারা বলতেছে, তারা বিভিন্ন ধরণের যৌন নির্যাতনবা নিপীড়নের শিকার হইছে, ব্যাড টাচের শিকার হইছে, এই ধরণের ম্যানুপুলেশন বা ভিক্টিম ব্লেমিং এর শিকার হইছে। যখন শুনলাম একাধিক মানুষের কাছ থেকে তখন খুবই খারাপ লাগছে।’
মামলার বাদীপক্ষের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই সাধারণ মানুষকে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করানো হয়েছে এবং তাদের ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একজন ছাত্রনেতার মানহানি করা হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন বাদী সুজয় শুভ।
সুজয় আরও বলেন, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষের জায়গা থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কিছুদিন ধরে আমার বিরদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। তারা ফেইসবুকে নানা অসত্য, অসংলগ্ন ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুললেও কোনো অভিযোগের স্বপক্ষে ন্যূনতম প্রমাণ হাজির করতে পারেন নি। কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে তথ্য, প্রমাণহীন ভুয়া অভিযোগ সাজিয়ে ভিকটিম কার্ড প্লে করা ; গুরুতর অন্যায় বলে মনে করি। এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আমি আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমি চাই এই অসাধু চক্রের দ্বারা আর কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য প্রচলিত আইনে মামলা করেছি।
এ সকল বিষয় বক্তব্য জানতে মামলার আসামি হুজাইফা রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৩
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪০
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৩
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:২৪