ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার চরগোলকনগর গ্রামে ভিজিএফ কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুবদলের দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় রাত ১১টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে চরগোলকনগর গ্রামে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সায়েম মণ্ডলের কাছে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে কথা বলতে যান যুবদল নেতা শামীম। এ সময় শামীম তার সমর্থকদের জন্য কিছু কার্ড দাবি করলে বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। শামীমের অভিযোগ, ওই সময় সায়েম মণ্ডলের লোকজন তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে খুঁজতে থাকে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে সায়েম মণ্ডলের সমর্থকরা শামীমের লোকজনের ওপর অতর্কিতে হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং উভয় পক্ষ দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৬০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হিমশিম খেলে পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
যুবদল নেতা শামীম অভিযোগ করে বলেন, ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে সায়েম মণ্ডলের কাছে অনেক ভিজিএফ কার্ড ছিল। আমি আমার কিছু সমর্থকের জন্য কার্ড চাইলে তিনি আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং তার লোকজন আমাকে হুমকি দেয়। সমঝোতা বৈঠকের নামে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সায়েম মণ্ডল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী কার্ড বণ্টন করেছি। শামীম যুবদল করে, সে আমার সঙ্গে মূল দল বিএনপি করে না, তাই তাকে কার্ড দেওয়া হয়নি।
এদিকে সরকারি ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে দুই নেতার এই বিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় দরিদ্র মানুষের অভিযোগ, প্রভাবশালী নেতা ও মাতবরদের খামখেয়ালিপনার কারণে প্রকৃত গরিবরা কার্ড পাচ্ছেন না। তালিকায় রাখা হচ্ছে শুধু নেতাদের পছন্দের লোকজনকে।
শৈলকুপা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাকিল আহমেদ জানান, এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩১
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১২
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

১৩ মার্চ, ২০২৬ ১৪:৩৯
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার চরগোলকনগর গ্রামে ভিজিএফ কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুবদলের দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় রাত ১১টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে চরগোলকনগর গ্রামে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সায়েম মণ্ডলের কাছে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে কথা বলতে যান যুবদল নেতা শামীম। এ সময় শামীম তার সমর্থকদের জন্য কিছু কার্ড দাবি করলে বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। শামীমের অভিযোগ, ওই সময় সায়েম মণ্ডলের লোকজন তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে খুঁজতে থাকে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে সায়েম মণ্ডলের সমর্থকরা শামীমের লোকজনের ওপর অতর্কিতে হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং উভয় পক্ষ দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৬০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হিমশিম খেলে পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
যুবদল নেতা শামীম অভিযোগ করে বলেন, ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে সায়েম মণ্ডলের কাছে অনেক ভিজিএফ কার্ড ছিল। আমি আমার কিছু সমর্থকের জন্য কার্ড চাইলে তিনি আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং তার লোকজন আমাকে হুমকি দেয়। সমঝোতা বৈঠকের নামে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সায়েম মণ্ডল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী কার্ড বণ্টন করেছি। শামীম যুবদল করে, সে আমার সঙ্গে মূল দল বিএনপি করে না, তাই তাকে কার্ড দেওয়া হয়নি।
এদিকে সরকারি ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে দুই নেতার এই বিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় দরিদ্র মানুষের অভিযোগ, প্রভাবশালী নেতা ও মাতবরদের খামখেয়ালিপনার কারণে প্রকৃত গরিবরা কার্ড পাচ্ছেন না। তালিকায় রাখা হচ্ছে শুধু নেতাদের পছন্দের লোকজনকে।
শৈলকুপা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাকিল আহমেদ জানান, এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৪৯
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১১
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৪
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৬