পটুয়াখালীর বাউফল পৌর শহরে বাড়ি তৈরি করার নকশা আটকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে প্রকৌশলী আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ২০০১ সালে বিএনপি সময় চাকুরিতে যোগদান করলেও পরবর্তীতে বনে যান আওয়ামী লীগের সমর্থক। কিন্তু ৫ আগস্টের পর আবারও বোল পাল্টে অন্য সংগঠনের কর্মী হওয়ার চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন। সে চেষ্টায় তিনি সফল হবেন হয়তো কিন্তু স্থানীয়দের দাবি ইঞ্জিনিয়ার আতিকের অপসারণ।
বিভিন্ন মাধ্যম জানা গেছে, ইঞ্জিনিয়ার আতিকুল ইসলাম ২০০১ সালে চাকুরিতে যোগদান করেন। যোগদানের ২৫ বছরে মধ্যে বাউফল পৌরসভাতেই প্রায় ১৮ বছর কর্মরত আছেন। পৌরসভার বিল্ডিং প্লানিংয়ের অনুমোদনের দায়িত্ব তার হাতে। কিন্তু বাহিরের কোন আর্কিটেকচারের করা নকশা তার হাতে পাশ হয় না বলে অভিযোগে রয়েছে। বিধান রয়েছে, প্লান অনুমোদন প্রক্রিয়ার সাথে পৌরসভার কর্মকর্তাবৃন্দ কোনভাবেই জড়িত থাকতে পারবেন না। কিন্তু নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইঞ্জিনিয়ার আতিকের মাধ্যমে নকশা তৈরি করে পাশ করাতে বাধ্য করা হয় গ্রাহককে। না হলে প্ল্যান পাশ করাতে পারেন না ভবন নির্মাণ মালিকগণ।
তাছাড়া নিজের করা প্লান পাশ করাতে গুণতে হয় মোটা অংকের টাকা। ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন ফি ১০০০ টাকা, ৫০০ বর্গফিট একটি একতলা বিশিষ্ট ভবনের জন্য ২০০০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি বর্গফিটের জন্য ২০০০ করে সরকারী ভাবে জমা দিতে হয়। পৌরসভা কর্তৃক নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও গ্রাহককে দুইগুণ, তিনগুণ ক্ষেত্রবিশেষ তারচেয়েও বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
অথচ নিয়ম রয়েছে, প্রতি তিন মাস অন্তর বিল্ডিং প্ল্যানিং কমিটির সভা করতে হবে। কিন্তু ২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ১টি সভাও অনুষ্ঠিত হয়নি। ৫ আগস্টের পর দেড় বছরে মাত্র ২টি সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক শক্তি কাজে লাগিয়ে নিজেই নিজের মত করে তার দপ্তর পরিচালনা করে আসছেন গত ১৯ বছর ধরে।
অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের সাথে আঁতাত করে একই উপজেলায় বহু বছর কর্মরত রয়েছেন। একজন কর্মকর্তা এত বছর একই উপজেলায় কর্মরত থাকতে পারেন কিনা সে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন মাধ্যমে প্ল্যান তৈরি করার কারণে বর্তমানে পৌরসভা ইঞ্জিনিয়ারের কাছে ২৫-৩০টি প্ল্যান পেন্ডিং রয়েছে। পৌরসভার শুরু থেকেই ভবন নির্মাণের নকশা বাধ্যতামূলক। এ সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আতিক। ভবন নির্মাণ মালিকদের কাছ থেকে নানা টালবাহানা পাকিয়ে অনৈতিক ভাবে অর্থ হাতিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএননিসি) এর নিয়ম অনুসারে ডিজাইনকৃত প্রকৌশলী ওই সাইট সুপারভাইস বা দেখাশোনা করবেন এবং অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। কাগজে কলমে সব ঠিক থাকলেও নকশা করা প্রকৌশলীরা বাউফল উপজেলায় কোন দিন আসে নাই বা তারা চিনেনও না।
মুঠোফোনে কথা হয় প্রকৌশলী মো ফয়েজউল্লাহর সাথে। তিনি জানান, ইঞ্জিনিয়ার আতিক তাকে দিয়ে নকশার সকল কাজ করিয়ে থাকেন। প্লানের তদারকি তারা করেন না। তিনি বাউফল উপজেলায় অসেননি এবং চিনেনও না।
ইঞ্জিনিয়ার নাঈম নামের অপর এক প্রকৌশলী জানান, তিনি আগে ইঞ্জিনিয়ার আতিকের সকল কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি ভান্ডারিয়া পৌরসভায় কর্মরত রয়েছেন। কোন কাজের তদারকি তিনি বাউফলে এসে করেননি।
ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় নামের পটুয়াখালীর একজন প্রকৌশলী জানান, তাকে দিয়ে নামমাত্র পারিশ্রমিক দিয়ে নকশার ডিজাইনের কাজ করাতেন। ইঞ্জিনিয়ার আতিক তাকে বলতেন, বাউফল পৌরসভার সকল নাগরিকের নকসার কাজ আতিক সাহেব বিনামূল্যে করে থাকেন। তাই তাকে নামমাত্র পারিশ্রমিক পরিশোধ করতেন।
মো. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, ইঞ্জিনিয়ার আতিকের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সত্য। আমি নিজে একজন ইঞ্জিনিয়ার। আমাদের করা কোন নকসার কাজের অনুমোদন দেয়া হয় না। আমি এর আগে পৌর প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছিলাম।
পৌর প্রশাসক আমাদেরকে এক সাথে নিয়ে বসে সকল নকশা পাশ করার নির্দেশ দেন আতিক সাহেবকে। কিন্তু এর পরও সে আমাদের কোন নকসা অনুমোদন দেন না। বর্তমান ইউএনও মহোদয়ের কাছে অভিযোগ করলে তিনি কিছুটা তাড়িয়ে দেয়ার মত আচারণ করেছেন।
এবিষয়ে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘আমি ২৪ সালের ৫ আগস্টের ৩ মাস আগে প্লান অনুমোদনের জন্য দিয়েছি। এখনও অনুমোদন পাইনি। আমার কাছ থেকে কয়েক ধাপে মোট ৬০ হাজার টাকার বেশি নেয়া হয়েছে। টাকাও ফেরৎ দেয় না আর নকসা অনুমোদনও দেয় না।
পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোহাগ বলেন, ‘চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে প্লান অনুমোদনের জন্য যাবতীয় সকল কাগজ-পত্র দিয়েছি কিন্তু কবে অনুমোদন হবে জানিনা। আমার কাছ থেকে ২৬-২৮হাজার টাকা নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের একজন সরকারী কর্মকর্তা জানান, আমার কাছ থেকে ২৩ হাজার টাকা নিয়েছে নকসা অনুমোদনের জন্য। ১বছর হয়ে গেছে এখন পর্যন্ত অনুমোদন হয়নি। তার প্লানটি বাহিরের ইঞ্জিয়ার দিয়ে করিয়েছেন।
পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের নির্মাণ ভবন মালিক তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমি বাহিরে একজন ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা নকশা তৈরি করেছি। প্রায় ৬মাস হয়েছে অনুমোদন দিচ্ছে না। কাজ শুরু করতে মালামাল এনে রেখেছি অনুমোদনের কারণে কাজ শুরু করতে পারছি না। অনেক মাল নষ্ট হয়ে গেছে।
পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মহিলা কলেজ রোডের বাসিন্দা মো. ফয়সাল বলেন, ‘আমি ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে আমার বিল্ডিং প্লান ও সয়েল স্টেস্টের কথা বলে ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আতিক। এখনও পর্যন্ত প্লান পাশ হয়নি। সম্প্রতি তিনি আবার নতুন করে টাকা দাবি করছেন।’
পৌরসভার ২নংওয়ার্ডে বাসিন্দা মো আনিক জানান, তার নিজস্ব সম্পত্তিতে একটি বাউন্ডারি ওয়াল করতে আতিক তার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়েছেন। ১ বছরের বেশি সময় হয়ে গেলেও কোন ধরনের প্লান অনুমোদন না দিয়ে নানা অজুহাতে আজ-কাল করে সময় ক্ষেপণ করছেন।
অভিযুক্ত প্রকৌশলী মো আতিকুল ইসলাম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোন অনিয়মের সাথে জড়িত নই। এমনকি জানুয়ারী পর্যন্ত কোন প্লান পেইন্ডিং নেই। তিনি কোন প্লানের সাথে জড়িত না বলেও জানান তিনি।’
এবিষয়ে ডেপুটি ডিরেক্টর অব লোকাল গভার্নমেন্ট (ডিডিএলজি) জুয়েল রানা বলেন, ‘পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে আমরা তদন্ত করেছি তার বিরুযদ্ধে কোন অভিযোগ পাইনি। এক ব্যক্তি এক উপজেলায় ১৮/১৯ বছর থাকতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এটি মন্ত্রণালয়ের বিষয়।’

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১৯

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩১
পটুয়াখালীর গলাচিপায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে গিয়ে অবৈধ জেলেদের হামলার শিকার হয়েছেন অভিযানকারী দলের সদস্যরা। এ সময় এক পুলিশ কনস্টেবল ও স্পিডবোটের চালক আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যের হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর কালিরচর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহতরা হলেন গলাচিপা থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. জসিম এবং অভিযানে ব্যবহৃত স্পিডবোটের চালক মো. শাহজালাল।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারের খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে যৌথ অভিযান চালায় মৎস্য বিভাগ ও পুলিশ। স্পিডবোট নিয়ে নদীতে থাকা ট্রলারগুলোর দিকে এগিয়ে গেলে জেলেরা পালানোর চেষ্টা করেন। প্রায় ১০ মিনিট ধাওয়া করার পর একটি ট্রলারের কাছাকাছি পৌঁছালে ওই ট্রলারে থাকা ১০ থেকে ১২ জন জেলে বৈঠা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অভিযানকারী দলের ওপর হামলা চালান।
অভিযানে অংশ নেওয়া মৎস্য বিভাগের সদস্য সুধাংশু জানান, জেলেরা প্রথমে স্পিডবোটের চালক শাহজালালকে বৈঠা দিয়ে আঘাত করেন। তাকে রক্ষা করতে পুলিশ কনস্টেবল জসিম এগিয়ে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়। এতে তার হাত কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে ডাবল ইঞ্জিনচালিত দ্রুতগতির ট্রলার নিয়ে পালিয়ে যান জেলেরা।
গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, “অসাধু জেলেদের আটক করতে গেলে স্পিডবোটে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জড়িত জেলেদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।’

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২০

১১ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৫৫
পটুয়াখালীর বাউফল পৌর শহরে বাড়ি তৈরি করার নকশা আটকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে প্রকৌশলী আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ২০০১ সালে বিএনপি সময় চাকুরিতে যোগদান করলেও পরবর্তীতে বনে যান আওয়ামী লীগের সমর্থক। কিন্তু ৫ আগস্টের পর আবারও বোল পাল্টে অন্য সংগঠনের কর্মী হওয়ার চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন। সে চেষ্টায় তিনি সফল হবেন হয়তো কিন্তু স্থানীয়দের দাবি ইঞ্জিনিয়ার আতিকের অপসারণ।
বিভিন্ন মাধ্যম জানা গেছে, ইঞ্জিনিয়ার আতিকুল ইসলাম ২০০১ সালে চাকুরিতে যোগদান করেন। যোগদানের ২৫ বছরে মধ্যে বাউফল পৌরসভাতেই প্রায় ১৮ বছর কর্মরত আছেন। পৌরসভার বিল্ডিং প্লানিংয়ের অনুমোদনের দায়িত্ব তার হাতে। কিন্তু বাহিরের কোন আর্কিটেকচারের করা নকশা তার হাতে পাশ হয় না বলে অভিযোগে রয়েছে। বিধান রয়েছে, প্লান অনুমোদন প্রক্রিয়ার সাথে পৌরসভার কর্মকর্তাবৃন্দ কোনভাবেই জড়িত থাকতে পারবেন না। কিন্তু নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইঞ্জিনিয়ার আতিকের মাধ্যমে নকশা তৈরি করে পাশ করাতে বাধ্য করা হয় গ্রাহককে। না হলে প্ল্যান পাশ করাতে পারেন না ভবন নির্মাণ মালিকগণ।
তাছাড়া নিজের করা প্লান পাশ করাতে গুণতে হয় মোটা অংকের টাকা। ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন ফি ১০০০ টাকা, ৫০০ বর্গফিট একটি একতলা বিশিষ্ট ভবনের জন্য ২০০০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি বর্গফিটের জন্য ২০০০ করে সরকারী ভাবে জমা দিতে হয়। পৌরসভা কর্তৃক নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও গ্রাহককে দুইগুণ, তিনগুণ ক্ষেত্রবিশেষ তারচেয়েও বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
অথচ নিয়ম রয়েছে, প্রতি তিন মাস অন্তর বিল্ডিং প্ল্যানিং কমিটির সভা করতে হবে। কিন্তু ২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ১টি সভাও অনুষ্ঠিত হয়নি। ৫ আগস্টের পর দেড় বছরে মাত্র ২টি সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক শক্তি কাজে লাগিয়ে নিজেই নিজের মত করে তার দপ্তর পরিচালনা করে আসছেন গত ১৯ বছর ধরে।
অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের সাথে আঁতাত করে একই উপজেলায় বহু বছর কর্মরত রয়েছেন। একজন কর্মকর্তা এত বছর একই উপজেলায় কর্মরত থাকতে পারেন কিনা সে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন মাধ্যমে প্ল্যান তৈরি করার কারণে বর্তমানে পৌরসভা ইঞ্জিনিয়ারের কাছে ২৫-৩০টি প্ল্যান পেন্ডিং রয়েছে। পৌরসভার শুরু থেকেই ভবন নির্মাণের নকশা বাধ্যতামূলক। এ সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আতিক। ভবন নির্মাণ মালিকদের কাছ থেকে নানা টালবাহানা পাকিয়ে অনৈতিক ভাবে অর্থ হাতিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএননিসি) এর নিয়ম অনুসারে ডিজাইনকৃত প্রকৌশলী ওই সাইট সুপারভাইস বা দেখাশোনা করবেন এবং অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। কাগজে কলমে সব ঠিক থাকলেও নকশা করা প্রকৌশলীরা বাউফল উপজেলায় কোন দিন আসে নাই বা তারা চিনেনও না।
মুঠোফোনে কথা হয় প্রকৌশলী মো ফয়েজউল্লাহর সাথে। তিনি জানান, ইঞ্জিনিয়ার আতিক তাকে দিয়ে নকশার সকল কাজ করিয়ে থাকেন। প্লানের তদারকি তারা করেন না। তিনি বাউফল উপজেলায় অসেননি এবং চিনেনও না।
ইঞ্জিনিয়ার নাঈম নামের অপর এক প্রকৌশলী জানান, তিনি আগে ইঞ্জিনিয়ার আতিকের সকল কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি ভান্ডারিয়া পৌরসভায় কর্মরত রয়েছেন। কোন কাজের তদারকি তিনি বাউফলে এসে করেননি।
ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় নামের পটুয়াখালীর একজন প্রকৌশলী জানান, তাকে দিয়ে নামমাত্র পারিশ্রমিক দিয়ে নকশার ডিজাইনের কাজ করাতেন। ইঞ্জিনিয়ার আতিক তাকে বলতেন, বাউফল পৌরসভার সকল নাগরিকের নকসার কাজ আতিক সাহেব বিনামূল্যে করে থাকেন। তাই তাকে নামমাত্র পারিশ্রমিক পরিশোধ করতেন।
মো. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, ইঞ্জিনিয়ার আতিকের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সত্য। আমি নিজে একজন ইঞ্জিনিয়ার। আমাদের করা কোন নকসার কাজের অনুমোদন দেয়া হয় না। আমি এর আগে পৌর প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছিলাম।
পৌর প্রশাসক আমাদেরকে এক সাথে নিয়ে বসে সকল নকশা পাশ করার নির্দেশ দেন আতিক সাহেবকে। কিন্তু এর পরও সে আমাদের কোন নকসা অনুমোদন দেন না। বর্তমান ইউএনও মহোদয়ের কাছে অভিযোগ করলে তিনি কিছুটা তাড়িয়ে দেয়ার মত আচারণ করেছেন।
এবিষয়ে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘আমি ২৪ সালের ৫ আগস্টের ৩ মাস আগে প্লান অনুমোদনের জন্য দিয়েছি। এখনও অনুমোদন পাইনি। আমার কাছ থেকে কয়েক ধাপে মোট ৬০ হাজার টাকার বেশি নেয়া হয়েছে। টাকাও ফেরৎ দেয় না আর নকসা অনুমোদনও দেয় না।
পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোহাগ বলেন, ‘চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে প্লান অনুমোদনের জন্য যাবতীয় সকল কাগজ-পত্র দিয়েছি কিন্তু কবে অনুমোদন হবে জানিনা। আমার কাছ থেকে ২৬-২৮হাজার টাকা নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের একজন সরকারী কর্মকর্তা জানান, আমার কাছ থেকে ২৩ হাজার টাকা নিয়েছে নকসা অনুমোদনের জন্য। ১বছর হয়ে গেছে এখন পর্যন্ত অনুমোদন হয়নি। তার প্লানটি বাহিরের ইঞ্জিয়ার দিয়ে করিয়েছেন।
পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের নির্মাণ ভবন মালিক তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমি বাহিরে একজন ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা নকশা তৈরি করেছি। প্রায় ৬মাস হয়েছে অনুমোদন দিচ্ছে না। কাজ শুরু করতে মালামাল এনে রেখেছি অনুমোদনের কারণে কাজ শুরু করতে পারছি না। অনেক মাল নষ্ট হয়ে গেছে।
পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মহিলা কলেজ রোডের বাসিন্দা মো. ফয়সাল বলেন, ‘আমি ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে আমার বিল্ডিং প্লান ও সয়েল স্টেস্টের কথা বলে ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আতিক। এখনও পর্যন্ত প্লান পাশ হয়নি। সম্প্রতি তিনি আবার নতুন করে টাকা দাবি করছেন।’
পৌরসভার ২নংওয়ার্ডে বাসিন্দা মো আনিক জানান, তার নিজস্ব সম্পত্তিতে একটি বাউন্ডারি ওয়াল করতে আতিক তার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়েছেন। ১ বছরের বেশি সময় হয়ে গেলেও কোন ধরনের প্লান অনুমোদন না দিয়ে নানা অজুহাতে আজ-কাল করে সময় ক্ষেপণ করছেন।
অভিযুক্ত প্রকৌশলী মো আতিকুল ইসলাম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোন অনিয়মের সাথে জড়িত নই। এমনকি জানুয়ারী পর্যন্ত কোন প্লান পেইন্ডিং নেই। তিনি কোন প্লানের সাথে জড়িত না বলেও জানান তিনি।’
এবিষয়ে ডেপুটি ডিরেক্টর অব লোকাল গভার্নমেন্ট (ডিডিএলজি) জুয়েল রানা বলেন, ‘পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে আমরা তদন্ত করেছি তার বিরুযদ্ধে কোন অভিযোগ পাইনি। এক ব্যক্তি এক উপজেলায় ১৮/১৯ বছর থাকতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এটি মন্ত্রণালয়ের বিষয়।’
১৫ তলা পাঁচতারা হোটেলসহ নানা স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা, তত্ত্বাবধানে এমপি মাসুদ সাঈদী
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সমুদ্রসৈকতের কাছে ১৫ তলাবিশিষ্ট পাঁচতারা হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামের এ প্রকল্পে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও জামে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটিকে প্রচারে দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত বা ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ সময় নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞাসংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পটির প্রচার করেছেন তিনি।
প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পাঁচতারা হোটেল ও রিসোর্টের পাশাপাশি সেখানে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটিতে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের সুযোগের কথাও প্রচার করা হয়েছে। সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করে অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বিনা মূল্যে অবস্থানের সুযোগ এবং বছর শেষে মুনাফার অংশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
তবে প্রকল্পটির ওয়েবসাইটে বিনিয়োগের বিস্তারিত শর্ত, এ পর্যন্ত সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ এবং মুনাফা বণ্টনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, প্রকল্পটির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই। প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া কুয়াকাটা হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইস্তানবুল প্রকল্পের একটি অংশ প্রস্তাবিত রেললাইনের জন্য নির্ধারিত এলাকায় পড়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্মাণকাজ বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজায় এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিকে কেন্দ্র করে প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমিতে উন্নয়নকাজ ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দা উমাচ্যান জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তাঁর দাদা চিথাও ও নাথোও। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন ছিল না। এ জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ কবে পুনরায় শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
১৫ তলা পাঁচতারা হোটেলসহ নানা স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা, তত্ত্বাবধানে এমপি মাসুদ সাঈদী
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সমুদ্রসৈকতের কাছে ১৫ তলাবিশিষ্ট পাঁচতারা হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামের এ প্রকল্পে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও জামে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটিকে প্রচারে দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত বা ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ সময় নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞাসংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পটির প্রচার করেছেন তিনি।
প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পাঁচতারা হোটেল ও রিসোর্টের পাশাপাশি সেখানে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটিতে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের সুযোগের কথাও প্রচার করা হয়েছে। সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করে অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বিনা মূল্যে অবস্থানের সুযোগ এবং বছর শেষে মুনাফার অংশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
তবে প্রকল্পটির ওয়েবসাইটে বিনিয়োগের বিস্তারিত শর্ত, এ পর্যন্ত সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ এবং মুনাফা বণ্টনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, প্রকল্পটির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই। প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া কুয়াকাটা হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইস্তানবুল প্রকল্পের একটি অংশ প্রস্তাবিত রেললাইনের জন্য নির্ধারিত এলাকায় পড়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্মাণকাজ বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজায় এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিকে কেন্দ্র করে প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমিতে উন্নয়নকাজ ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দা উমাচ্যান জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তাঁর দাদা চিথাও ও নাথোও। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন ছিল না। এ জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ কবে পুনরায় শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
পটুয়াখালীর গলাচিপায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে গিয়ে অবৈধ জেলেদের হামলার শিকার হয়েছেন অভিযানকারী দলের সদস্যরা। এ সময় এক পুলিশ কনস্টেবল ও স্পিডবোটের চালক আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যের হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর কালিরচর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহতরা হলেন গলাচিপা থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. জসিম এবং অভিযানে ব্যবহৃত স্পিডবোটের চালক মো. শাহজালাল।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারের খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে যৌথ অভিযান চালায় মৎস্য বিভাগ ও পুলিশ। স্পিডবোট নিয়ে নদীতে থাকা ট্রলারগুলোর দিকে এগিয়ে গেলে জেলেরা পালানোর চেষ্টা করেন। প্রায় ১০ মিনিট ধাওয়া করার পর একটি ট্রলারের কাছাকাছি পৌঁছালে ওই ট্রলারে থাকা ১০ থেকে ১২ জন জেলে বৈঠা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অভিযানকারী দলের ওপর হামলা চালান।
অভিযানে অংশ নেওয়া মৎস্য বিভাগের সদস্য সুধাংশু জানান, জেলেরা প্রথমে স্পিডবোটের চালক শাহজালালকে বৈঠা দিয়ে আঘাত করেন। তাকে রক্ষা করতে পুলিশ কনস্টেবল জসিম এগিয়ে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়। এতে তার হাত কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে ডাবল ইঞ্জিনচালিত দ্রুতগতির ট্রলার নিয়ে পালিয়ে যান জেলেরা।
গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, “অসাধু জেলেদের আটক করতে গেলে স্পিডবোটে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জড়িত জেলেদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।’
১০–২০ হাজার টাকায় নদীতে মাছ ধরার সুযোগ, টাকা দিয়ে জেলে ও জাল ছাড়ানোর অভিযোগ
মা ইলিশ রক্ষায় তেঁতুলিয়া নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে নদীতে দিনরাত অভিযান চালানোর কথা নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের। কিন্তু এই অভিযান ঘিরেই পটুয়াখালীর বাউফলে উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে জেলেদের নদীতে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আটক জেলেদের কারও কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি অভিযানে জব্দ করা জাল ও মাছ গোপনে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে।
তেঁতুলিয়া নদীর চরফেডারেশন, বাতিরখাল, চরওয়াঢেল, খানকা, চরকলাইয়া ও চর শৌলা পয়েন্ট ঘিরে কয়েক দিনের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় জেলে, নদীপারের বাসিন্দা এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে অর্থ লেনদেনের একাধিক ঘটনা। তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত ৮ অক্টোবর থেকে তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়, যা ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানের কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রে এককভাবে অভিযান পরিচালনা করছেন। এসব অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের শুরু থেকেই একশ্রেণির জেলের সঙ্গে আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে নদীতে মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ট্রলারপ্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও নদীপারের বাসিন্দা।
গত ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর চরফেডারেশন ও দক্ষিণ চরওয়াঢেলের মাঝামাঝি এলাকায় সরেজমিন পর্যবেক্ষণে একাধিক মাছ ধরার ট্রলার দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, নৌ পুলিশের একটি টহল ট্রলার ওই এলাকায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় অবস্থান করছিল। কাছাকাছি দূরত্বে কয়েকটি জেলেট্রলারকে নদীতে জাল ফেলতে এবং মাছ ধরে চলে যেতে দেখা যায়।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পুলিশের টহল ট্রলারের কাছাকাছি এমন দৃশ্য দেখে অভিযান পরিচালনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওই সময় মাছ ধরতে দেখা যাওয়া জেলেরা কোনো আর্থিক চুক্তির আওতায় ছিলেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় জেলে ও নদীপারের বাসিন্দাদের দাবি, কিছু জেলে আগে থেকেই অভিযানের গতিবিধি জানতে পারেন। ফলে পুলিশ নদীতে নামার আগেই তাঁরা নিরাপদ স্থানে সরে যান। তাঁদের অভিযোগ, চরব্যারেট, বাতিরখাল, খানকা, দেবীরচর, চরকলাইয়া ও বগী-তুলাতলা এলাকার প্রায় অর্ধশত ট্রলারের জেলেদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সমঝোতা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, টাকার বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। তবে টহলের কাছাকাছি জেলেদের মাছ ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক অসচ্ছল মানুষ নদীতে জাল ফেলেন, মানবিক কারণে তাঁদের ধরা হয় না।
অভিযান ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আটক জেলে ও জব্দ করা সরঞ্জাম নিয়ে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সময় জেলেদের আটক করার পর কখনো নদীর মধ্যেই অর্থ লেনদেনের আলোচনা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে কোনো কোনো জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা জালও ১ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। জব্দ মাছ হালি হিসেবে ৪০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এসব লেনদেনে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্য, ট্রলারচালক জালাল গাজী এবং তাঁর ভাই ফিরোজ গাজীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে অভিযোগের প্রতিটি লেনদেনের স্বাধীন প্রমাণ বা পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযান শুরুর পর থেকে ২১ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার অভিযোগে ৪৪ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ২২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ১১টি নিয়মিত মামলার মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও মাছ জব্দের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস এবং মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
তবে আটক ও সাজাপ্রাপ্তদের সরকারি নথি, জব্দ করা জালের পরিমাণ, ধ্বংসের কার্যবিবরণী এবং মাছ বিতরণের রসিদ যাচাই করা গেলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
গত ১৬ অক্টোবর সকালে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তেঁতুলিয়া নদীতে জাল ফেলতে গিয়ে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে নুর আলম আটক হন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ফিরোজ গাজীর মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি মুক্তি পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
একইভাবে গত ১৮ অক্টোবর ভোরে তেঁতুলিয়া নদীর চরদিয়ারা এলাকা থেকে চারটি ট্রলারসহ কয়েকজন জেলেকে আটক করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ট্রলারপ্রতি ৫ হাজার টাকা হিসেবে মোট ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়া জেলেদের একজন রাকিব (ছদ্মনাম)। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চারটি ছোট ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ তাঁদের আটক করা হয়েছিল। পরে ট্রলারপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকায় ছেড়ে দেওয়ার সমঝোতা হয়। তাঁদের কাছে নগদ টাকা না থাকায় নৌ পুলিশের ট্রলারচালক জালাল গাজীর ভাই ফিরোজ গাজীর জিম্মায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁরা ওই টাকা পরিশোধ করেন বলে দাবি করেন রাকিব।
একই দিন চরদিয়ারা এলাকার জেলে শাহিন, হারুন গাজীসহ কয়েকজনকে জালসহ আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, হারুন গাজীসহ দুজনকে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে শাহিনকে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে মামলার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়।
শাহিনের অভিযোগ, তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নৌ পুলিশের এএসআই কবির হোসেন ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, জব্দ করা জাল ভোলার লালমোহনের নাজিম নামের এক ব্যক্তির কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই কবির হোসেনের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। জাল জব্দ, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তির সরকারি নথি পরীক্ষা করলেই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
গত ১৯ অক্টোবর চরফেডারেশন এলাকার একটি খাল থেকে মাছ ধরতে নামা এক জেলের ট্রলার জব্দ করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে নৌ পুলিশের ট্রলারচালক জালাল গাজীকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ট্রলারটি ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরদিন ২০ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে দক্ষিণ চরওয়াঢেল ও খানকা বাজারের পূর্ব-দক্ষিণ দিক থেকে চর রায়সাহেব এলাকা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ জন জেলের জাল জব্দ করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানান।
তাঁদের দাবি, জালগুলো জব্দের পর নৌ পুলিশের ট্রলারে রাখা হয়। পরে কয়েকজন জেলে জাল ফেরত পেতে ট্রলারচালকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে চরওয়াঢেলের জেলে শহিদুল ও সুজন ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে জাল ছাড়িয়ে আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জাল ফেরত আনার পর স্থানীয় আরেক জেলে নুর জামাল অভিযোগ করেন, শহিদুল টাকা দিয়ে তাঁর জালও নিয়ে এসেছেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে পূর্ব কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহাগের অভিযোগ, নদীতে জাল ফেলার পর চরফেডারেশন এলাকায় অবস্থানকালে নৌ পুলিশ তাঁর জাল জব্দ করে। পরে সেই জাল চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের কালা রাশেদ নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরকালাইয়া গ্রামের আরেক জেলে বলেন, শনিবার নদীতে জাল ফেলে তিনি চরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় নৌ পুলিশের ট্রলার তাঁর জাল তুলে নেয়। পরে সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর ১ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে জাল ফেরত পান বলে তাঁর দাবি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অভিযানে জব্দ করা জাল ও মাছ ট্রলারচালক জালাল গাজীর কাছে রাখা হতো। পরে সেগুলো বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো এবং এর বিনিময়ে কমিশন দেওয়া হতো। তবে এই অভিযোগের পক্ষে আর্থিক লেনদেনের নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টাকার বিনিময়ে জেলে ও তাঁদের নৌকা-জাল ছেড়ে দেওয়া এবং জব্দ করা মাছ ও জাল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার ও এএসআই কবির হোসেন। তাঁদের দাবি, এসব অভিযোগ মিথ্যা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল অঞ্চল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার এসএম নাজমুল হক বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ বলেন, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করার কথা। কিন্তু নৌ পুলিশ পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করায় সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।
মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন ধরে রাখা। এ সময়ে নদীতে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু অভিযানের মধ্যেই যদি অর্থের বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া বা জব্দ করা সরঞ্জাম বিক্রির অভিযোগ ওঠে, তাহলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযানের সরকারি নথি যাচাই, জব্দ করা জাল ও মাছের হিসাব পরীক্ষা এবং অভিযোগকারী জেলেদের বক্তব্য গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা উচিত। মা ইলিশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নদী রক্ষার উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।'
১০–২০ হাজার টাকায় নদীতে মাছ ধরার সুযোগ, টাকা দিয়ে জেলে ও জাল ছাড়ানোর অভিযোগ
মা ইলিশ রক্ষায় তেঁতুলিয়া নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে নদীতে দিনরাত অভিযান চালানোর কথা নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের। কিন্তু এই অভিযান ঘিরেই পটুয়াখালীর বাউফলে উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে জেলেদের নদীতে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আটক জেলেদের কারও কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি অভিযানে জব্দ করা জাল ও মাছ গোপনে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে।
তেঁতুলিয়া নদীর চরফেডারেশন, বাতিরখাল, চরওয়াঢেল, খানকা, চরকলাইয়া ও চর শৌলা পয়েন্ট ঘিরে কয়েক দিনের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় জেলে, নদীপারের বাসিন্দা এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে অর্থ লেনদেনের একাধিক ঘটনা। তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত ৮ অক্টোবর থেকে তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়, যা ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানের কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রে এককভাবে অভিযান পরিচালনা করছেন। এসব অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের শুরু থেকেই একশ্রেণির জেলের সঙ্গে আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে নদীতে মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ট্রলারপ্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও নদীপারের বাসিন্দা।
গত ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর চরফেডারেশন ও দক্ষিণ চরওয়াঢেলের মাঝামাঝি এলাকায় সরেজমিন পর্যবেক্ষণে একাধিক মাছ ধরার ট্রলার দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, নৌ পুলিশের একটি টহল ট্রলার ওই এলাকায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় অবস্থান করছিল। কাছাকাছি দূরত্বে কয়েকটি জেলেট্রলারকে নদীতে জাল ফেলতে এবং মাছ ধরে চলে যেতে দেখা যায়।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পুলিশের টহল ট্রলারের কাছাকাছি এমন দৃশ্য দেখে অভিযান পরিচালনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওই সময় মাছ ধরতে দেখা যাওয়া জেলেরা কোনো আর্থিক চুক্তির আওতায় ছিলেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় জেলে ও নদীপারের বাসিন্দাদের দাবি, কিছু জেলে আগে থেকেই অভিযানের গতিবিধি জানতে পারেন। ফলে পুলিশ নদীতে নামার আগেই তাঁরা নিরাপদ স্থানে সরে যান। তাঁদের অভিযোগ, চরব্যারেট, বাতিরখাল, খানকা, দেবীরচর, চরকলাইয়া ও বগী-তুলাতলা এলাকার প্রায় অর্ধশত ট্রলারের জেলেদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সমঝোতা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, টাকার বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। তবে টহলের কাছাকাছি জেলেদের মাছ ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক অসচ্ছল মানুষ নদীতে জাল ফেলেন, মানবিক কারণে তাঁদের ধরা হয় না।
অভিযান ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আটক জেলে ও জব্দ করা সরঞ্জাম নিয়ে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সময় জেলেদের আটক করার পর কখনো নদীর মধ্যেই অর্থ লেনদেনের আলোচনা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে কোনো কোনো জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা জালও ১ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। জব্দ মাছ হালি হিসেবে ৪০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এসব লেনদেনে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্য, ট্রলারচালক জালাল গাজী এবং তাঁর ভাই ফিরোজ গাজীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে অভিযোগের প্রতিটি লেনদেনের স্বাধীন প্রমাণ বা পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযান শুরুর পর থেকে ২১ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার অভিযোগে ৪৪ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ২২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ১১টি নিয়মিত মামলার মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও মাছ জব্দের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস এবং মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
তবে আটক ও সাজাপ্রাপ্তদের সরকারি নথি, জব্দ করা জালের পরিমাণ, ধ্বংসের কার্যবিবরণী এবং মাছ বিতরণের রসিদ যাচাই করা গেলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
গত ১৬ অক্টোবর সকালে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তেঁতুলিয়া নদীতে জাল ফেলতে গিয়ে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে নুর আলম আটক হন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ফিরোজ গাজীর মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি মুক্তি পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
একইভাবে গত ১৮ অক্টোবর ভোরে তেঁতুলিয়া নদীর চরদিয়ারা এলাকা থেকে চারটি ট্রলারসহ কয়েকজন জেলেকে আটক করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ট্রলারপ্রতি ৫ হাজার টাকা হিসেবে মোট ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়া জেলেদের একজন রাকিব (ছদ্মনাম)। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চারটি ছোট ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ তাঁদের আটক করা হয়েছিল। পরে ট্রলারপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকায় ছেড়ে দেওয়ার সমঝোতা হয়। তাঁদের কাছে নগদ টাকা না থাকায় নৌ পুলিশের ট্রলারচালক জালাল গাজীর ভাই ফিরোজ গাজীর জিম্মায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁরা ওই টাকা পরিশোধ করেন বলে দাবি করেন রাকিব।
একই দিন চরদিয়ারা এলাকার জেলে শাহিন, হারুন গাজীসহ কয়েকজনকে জালসহ আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, হারুন গাজীসহ দুজনকে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে শাহিনকে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে মামলার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়।
শাহিনের অভিযোগ, তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নৌ পুলিশের এএসআই কবির হোসেন ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, জব্দ করা জাল ভোলার লালমোহনের নাজিম নামের এক ব্যক্তির কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই কবির হোসেনের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। জাল জব্দ, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তির সরকারি নথি পরীক্ষা করলেই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
গত ১৯ অক্টোবর চরফেডারেশন এলাকার একটি খাল থেকে মাছ ধরতে নামা এক জেলের ট্রলার জব্দ করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে নৌ পুলিশের ট্রলারচালক জালাল গাজীকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ট্রলারটি ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরদিন ২০ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে দক্ষিণ চরওয়াঢেল ও খানকা বাজারের পূর্ব-দক্ষিণ দিক থেকে চর রায়সাহেব এলাকা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ জন জেলের জাল জব্দ করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানান।
তাঁদের দাবি, জালগুলো জব্দের পর নৌ পুলিশের ট্রলারে রাখা হয়। পরে কয়েকজন জেলে জাল ফেরত পেতে ট্রলারচালকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে চরওয়াঢেলের জেলে শহিদুল ও সুজন ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে জাল ছাড়িয়ে আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জাল ফেরত আনার পর স্থানীয় আরেক জেলে নুর জামাল অভিযোগ করেন, শহিদুল টাকা দিয়ে তাঁর জালও নিয়ে এসেছেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে পূর্ব কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহাগের অভিযোগ, নদীতে জাল ফেলার পর চরফেডারেশন এলাকায় অবস্থানকালে নৌ পুলিশ তাঁর জাল জব্দ করে। পরে সেই জাল চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের কালা রাশেদ নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরকালাইয়া গ্রামের আরেক জেলে বলেন, শনিবার নদীতে জাল ফেলে তিনি চরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় নৌ পুলিশের ট্রলার তাঁর জাল তুলে নেয়। পরে সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর ১ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে জাল ফেরত পান বলে তাঁর দাবি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অভিযানে জব্দ করা জাল ও মাছ ট্রলারচালক জালাল গাজীর কাছে রাখা হতো। পরে সেগুলো বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো এবং এর বিনিময়ে কমিশন দেওয়া হতো। তবে এই অভিযোগের পক্ষে আর্থিক লেনদেনের নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টাকার বিনিময়ে জেলে ও তাঁদের নৌকা-জাল ছেড়ে দেওয়া এবং জব্দ করা মাছ ও জাল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার ও এএসআই কবির হোসেন। তাঁদের দাবি, এসব অভিযোগ মিথ্যা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল অঞ্চল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার এসএম নাজমুল হক বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ বলেন, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করার কথা। কিন্তু নৌ পুলিশ পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করায় সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।
মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন ধরে রাখা। এ সময়ে নদীতে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু অভিযানের মধ্যেই যদি অর্থের বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া বা জব্দ করা সরঞ্জাম বিক্রির অভিযোগ ওঠে, তাহলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযানের সরকারি নথি যাচাই, জব্দ করা জাল ও মাছের হিসাব পরীক্ষা এবং অভিযোগকারী জেলেদের বক্তব্য গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা উচিত। মা ইলিশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নদী রক্ষার উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।'