পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা স্বচ্ছ জলধারা, দূরে মেঘে ঢাকা সবুজ পাহাড়ের সারি আর নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা দুধসাদা পাথর। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের এমন মায়াবী মেলবন্ধনেই গড়ে উঠেছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর।
ঈদুল আজহার ছুটিতে সেই সাদাপাথর এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু। নগর জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছু নির্মল সময় কাটাতে ব্যস্ত তারা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাদাপাথরের স্বচ্ছ পানিতে জলকেলিতে মেতেছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ নৌকায় চড়ে উপভোগ করছেন পাহাড়ঘেরা নদীর সৌন্দর্য, কেউবা স্মৃতিময় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করছেন। আবার অনেককে দেখা যায় ঘোড়ার পিঠে চড়ে পুরো এলাকা ঘুরে দেখতে। চারদিকে যেন উৎসবের আমেজ। পর্যটকের ভিড়ে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। ফটোগ্রাফার, নৌকার মাঝি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবার মুখেই এখন হাসি।
পর্যটন ঘাটের ইজারাদার কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ হাজার পর্যটক সাদাপাথরে আসছেন। পর্যটন ঘাট থেকে মূল স্পটে যেতে প্রতি নৌকায় সর্বোচ্চ আটজন যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। যাওয়া-আসার জন্য জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা।
বরিশাল থেকে ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী ইমন আহমদ বলেন, সাদাপাথরের সৌন্দর্যের কথা অনেক শুনেছি। তবে বাস্তবে এসে দেখলাম, এটি কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। এখানে এসে মন ভরে গেছে।
নরসিংদী থেকে আসা পর্যটক ফাহিম মাহমুদ বলেন, পাহাড়ি ঝরনার শীতল পানিতে নেমে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে প্রকৃতির মাঝেই নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছি।
চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসা তানজিলা আক্তার কালবেলাকে বলেন, পরিবার নিয়ে সাদাপাথরে এসেছি। প্রকৃতির এত সুন্দর পরিবেশে সময় কাটিয়ে খুব ভালো লাগছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সন্তোষজনক মনে হয়েছে।
পর্যটকের ভিড়ে চাঙা হয়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতিও। কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফার সোসাইটির সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, 'আগের তুলনায় পর্যটক অনেক বেড়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ছবি তুলছেন। ফলে আমাদের কাজও বেড়েছে।'
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা সাবিহা রহমান কালবেলাকে বলেন, নদীর স্বচ্ছ পানি আর চারপাশের পাহাড়ের দৃশ্য মনকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। এখানে এসে ঈদের আনন্দ যেন আরও বেড়ে গেছে।
নৌকার মাঝি মজিবুর রহমান বলেন, ভালো আবহাওয়া আর ঈদের ছুটির কারণে এবার পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিদিন শত শত মানুষকে নৌকায় করে মূল স্পটে নিয়ে যাচ্ছি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নুর মিয়া জানান, ঈদের তৃতীয় দিন থেকে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
নৌকার মাঝি সেবুল আহমদ বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনে ভিড় তুলনামূলক কম ছিল। তবে পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যটকের চাপ অনেক বেড়েছে। এতে আমাদের আয়ও বেড়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, পাহাড়-নদী আর শ্বেত-শুভ্র পাথরের অনন্য সমন্বয়ে সাদাপাথর এখন ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পর্যটন সুবিধা আরও উন্নত করা গেলে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সাদাপাথরের আবেদন ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।
সাদাপাথর ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ বকুল সাহা বলেন, পর্যটনকেন্দ্রে পৃথক পৃথক টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত টিম রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবির সঙ্গেও সমন্বয় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টিসহ বিভিন্ন প্রতারণা সম্পর্কে পর্যটকদের মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন চন্দ্র কর্মকার বলেন, সাদাপাথর এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এখনও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, পুলিশ ও বিজিবির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত ব্যাপারে সার্বক্ষণিক মাইকিং, পরিদর্শন, পর্যবেক্ষন করছেন পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্কতায় প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১৪
রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে নারীসহ আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক মাহবুব আলম একসময় চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। বর্তমানে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত এবং সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাটের দরজায় দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে দরজা খুলে মাহবুব আলম ও এক নারীকে বের করে আনেন। পরে তাদের চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে।
আন্নির দাবি, এর আগেও রাজশিয়ার পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব ফ্ল্যাটে ওই নারীকে তার সঙ্গে পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও মাহবুবকে ওই নারীর সঙ্গে নাদের হাজির মোড়ের ফ্ল্যাটে থাকার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান।
মাহবুব আলম অবশ্য ওই নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। একই সঙ্গে আন্নিকে চারদিন আগে তালাক দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজ জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
তবে আন্নির দাবি, তিনি কোনো তালাকের কাগজ পাননি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মাহবুব আলমকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে নওগাঁ জেলা পুলিশে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।
সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, মাহবুব আলম কোনো ছুটি বা অনুমতি ছাড়াই রাজশিয়ায় গেছেন। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মারা গেছেন আরও আটজন, যা এ বছর একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ নিয়ে এবার মোট ১৫৭ জনের মৃত্যু হলো।
এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭৩৩ জন। এ নিয়ে এবার মোট ভর্তি হলেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে ছয়জন নারী ও দুজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ছয় থেকে ১০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক।
মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৫৭ জনের মধ্যে নারী ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।
সেই তুলনায় চলতি মাসে অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৬০ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর।
ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৫১, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৯ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ২৭, ময়মনসিংহে ১৬, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১৫, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।
রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব মতে, গত আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৯১ জন। এর মধ্যে সোমবারের আগ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৭১ জন ভর্তি হয়েছিলেন ৮ সেপ্টেম্বর।
এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে আসেন।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৪৬
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চায়ের দোকানের ৪৫ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ফের হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জয়ন্তীপুর এলাকার চা বিক্রেতা শামিম হোসেনের দোকানে মুদি ব্যবসায়ী মোস্তফার ৪৫ টাকা বাকি ছিল। সন্ধ্যার দিকে ওই টাকা পরিশোধের জন্য মোস্তফার কাছে জানতে চান শামিম। এ সময় পাওনা টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও লোকজন সেখানে এসে জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যেও বিরোধ সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসা নিতে এসে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে দুই পক্ষের লোকজন ফের বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে মারামারির ঘটনাও ঘটে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইফফাত মেহেজাবীন অনন্যা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন আহতদের নিয়ে হাসপাতালে আসতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

০৪ জুন, ২০২৬ ২০:০৬
পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা স্বচ্ছ জলধারা, দূরে মেঘে ঢাকা সবুজ পাহাড়ের সারি আর নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা দুধসাদা পাথর। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের এমন মায়াবী মেলবন্ধনেই গড়ে উঠেছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর।
ঈদুল আজহার ছুটিতে সেই সাদাপাথর এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু। নগর জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছু নির্মল সময় কাটাতে ব্যস্ত তারা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাদাপাথরের স্বচ্ছ পানিতে জলকেলিতে মেতেছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ নৌকায় চড়ে উপভোগ করছেন পাহাড়ঘেরা নদীর সৌন্দর্য, কেউবা স্মৃতিময় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করছেন। আবার অনেককে দেখা যায় ঘোড়ার পিঠে চড়ে পুরো এলাকা ঘুরে দেখতে। চারদিকে যেন উৎসবের আমেজ। পর্যটকের ভিড়ে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। ফটোগ্রাফার, নৌকার মাঝি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবার মুখেই এখন হাসি।
পর্যটন ঘাটের ইজারাদার কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ হাজার পর্যটক সাদাপাথরে আসছেন। পর্যটন ঘাট থেকে মূল স্পটে যেতে প্রতি নৌকায় সর্বোচ্চ আটজন যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। যাওয়া-আসার জন্য জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা।
বরিশাল থেকে ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী ইমন আহমদ বলেন, সাদাপাথরের সৌন্দর্যের কথা অনেক শুনেছি। তবে বাস্তবে এসে দেখলাম, এটি কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। এখানে এসে মন ভরে গেছে।
নরসিংদী থেকে আসা পর্যটক ফাহিম মাহমুদ বলেন, পাহাড়ি ঝরনার শীতল পানিতে নেমে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে প্রকৃতির মাঝেই নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছি।
চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসা তানজিলা আক্তার কালবেলাকে বলেন, পরিবার নিয়ে সাদাপাথরে এসেছি। প্রকৃতির এত সুন্দর পরিবেশে সময় কাটিয়ে খুব ভালো লাগছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সন্তোষজনক মনে হয়েছে।
পর্যটকের ভিড়ে চাঙা হয়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতিও। কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফার সোসাইটির সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, 'আগের তুলনায় পর্যটক অনেক বেড়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ছবি তুলছেন। ফলে আমাদের কাজও বেড়েছে।'
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা সাবিহা রহমান কালবেলাকে বলেন, নদীর স্বচ্ছ পানি আর চারপাশের পাহাড়ের দৃশ্য মনকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। এখানে এসে ঈদের আনন্দ যেন আরও বেড়ে গেছে।
নৌকার মাঝি মজিবুর রহমান বলেন, ভালো আবহাওয়া আর ঈদের ছুটির কারণে এবার পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিদিন শত শত মানুষকে নৌকায় করে মূল স্পটে নিয়ে যাচ্ছি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নুর মিয়া জানান, ঈদের তৃতীয় দিন থেকে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
নৌকার মাঝি সেবুল আহমদ বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনে ভিড় তুলনামূলক কম ছিল। তবে পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যটকের চাপ অনেক বেড়েছে। এতে আমাদের আয়ও বেড়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, পাহাড়-নদী আর শ্বেত-শুভ্র পাথরের অনন্য সমন্বয়ে সাদাপাথর এখন ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পর্যটন সুবিধা আরও উন্নত করা গেলে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সাদাপাথরের আবেদন ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।
সাদাপাথর ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ বকুল সাহা বলেন, পর্যটনকেন্দ্রে পৃথক পৃথক টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত টিম রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবির সঙ্গেও সমন্বয় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টিসহ বিভিন্ন প্রতারণা সম্পর্কে পর্যটকদের মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন চন্দ্র কর্মকার বলেন, সাদাপাথর এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এখনও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, পুলিশ ও বিজিবির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত ব্যাপারে সার্বক্ষণিক মাইকিং, পরিদর্শন, পর্যবেক্ষন করছেন পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্কতায় প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও।
রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে নারীসহ আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক মাহবুব আলম একসময় চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। বর্তমানে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত এবং সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাটের দরজায় দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে দরজা খুলে মাহবুব আলম ও এক নারীকে বের করে আনেন। পরে তাদের চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে।
আন্নির দাবি, এর আগেও রাজশিয়ার পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব ফ্ল্যাটে ওই নারীকে তার সঙ্গে পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও মাহবুবকে ওই নারীর সঙ্গে নাদের হাজির মোড়ের ফ্ল্যাটে থাকার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান।
মাহবুব আলম অবশ্য ওই নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। একই সঙ্গে আন্নিকে চারদিন আগে তালাক দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজ জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
তবে আন্নির দাবি, তিনি কোনো তালাকের কাগজ পাননি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মাহবুব আলমকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে নওগাঁ জেলা পুলিশে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।
সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, মাহবুব আলম কোনো ছুটি বা অনুমতি ছাড়াই রাজশিয়ায় গেছেন। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মারা গেছেন আরও আটজন, যা এ বছর একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ নিয়ে এবার মোট ১৫৭ জনের মৃত্যু হলো।
এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭৩৩ জন। এ নিয়ে এবার মোট ভর্তি হলেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে ছয়জন নারী ও দুজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ছয় থেকে ১০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক।
মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৫৭ জনের মধ্যে নারী ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।
সেই তুলনায় চলতি মাসে অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৬০ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর।
ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৫১, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৯ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ২৭, ময়মনসিংহে ১৬, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১৫, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।
রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব মতে, গত আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৯১ জন। এর মধ্যে সোমবারের আগ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৭১ জন ভর্তি হয়েছিলেন ৮ সেপ্টেম্বর।
এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে আসেন।
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চায়ের দোকানের ৪৫ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ফের হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জয়ন্তীপুর এলাকার চা বিক্রেতা শামিম হোসেনের দোকানে মুদি ব্যবসায়ী মোস্তফার ৪৫ টাকা বাকি ছিল। সন্ধ্যার দিকে ওই টাকা পরিশোধের জন্য মোস্তফার কাছে জানতে চান শামিম। এ সময় পাওনা টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও লোকজন সেখানে এসে জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যেও বিরোধ সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসা নিতে এসে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে দুই পক্ষের লোকজন ফের বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে মারামারির ঘটনাও ঘটে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইফফাত মেহেজাবীন অনন্যা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন আহতদের নিয়ে হাসপাতালে আসতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৫৩
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:১৯
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫৯
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৩৮