ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলী ওরফে ধলা হুজুরের গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে পুরো নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া কলরেকর্ডটি নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা, বিএনপি সমর্থক এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম ওরফে রবি মেম্বার এবং একই এলাকার রিকশা প্রতীকের সমর্থক মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মাওলানা শোয়াইব ইসলামের মধ্যকার কথোপকথন বলে দাবি করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রিকশা প্রতীকের সমর্থক মাওলানা শোয়াইব ইসলাম নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আল্লামা শাহ আকরাম আলীকে বনগ্রাম এলাকায় আনার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিএনপি সমর্থক রবি মেম্বার ওই এলাকায় ধলা হুজুরকে আনতে নিষেধ করেন।
ভাইরাল কলরেকর্ডে রবিউল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘তোর ভোট দেওয়ার দরকার হইলে, তুই হুজুরকে ভোট দে। কিন্তু হুজুরকে আনার দরকার নাই। তুই হুজুরকে আনলে আমার সমস্যা হয়।’
একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘তোর ধলা হুজুর কেন, ধলা হুজুরের বাপও বনগ্রাম মোড়ে আসতে পারবে না। গাড়ি দিবানে জ্বালাইয়া।’ কলরেকর্ডটি প্রকাশ্যে আসার পর ফরিদপুর-২ আসনের ভোটার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এ ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্যকে নির্বাচনি পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মন্তব্য করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম ওরফে রবি মেম্বার বলেন, বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করা হয়েছে। মাওলানা শোয়াইব ইসলাম আমার এলাকার এক বিএনপি সমর্থকের বাড়িতে জোরপূর্বক ধলা হুজুরকে নিয়ে কর্মসূচি করতে চাচ্ছিল।
ওই পরিবারটি এতে বিব্রত হয়ে আমাকে জানায়। আমি শুধু বলেছি, যেখানে বাড়ির মালিকই চাচ্ছে না, সেখানে জোর করে কেন যাবেন। আমার বক্তব্য এআই দিয়ে এডিট করে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলীর নির্বাচনি মুখপাত্র মুফতি সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি।
আমাদের জনপ্রিয়তা দেখে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। রবি মেম্বারের বক্তব্য নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমাদের নেতাকর্মীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান (বাবুল) বলেন, ‘সে আমাদের দলের কেউ না, দলে তার কোনো পদ নেই। পদ থাকলে তো বহিষ্কার করা যায়। আওয়ামী লীগের সময় সে আওয়ামী লীগ করতো, এখন সুর বদলাইয়া বিএনপি হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে তাকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।’
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। টহল টিম কাজ করছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নগরকান্দা (সালথা সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান জানান, ‘বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি, হুমকির বিষয়ে জিডি করলে তা নেওয়া হবে। ওই এলাকায় নাইট পেট্রোলিং(রাতের টহল) ও ইন্টার্নাল সোর্স বৃদ্ধি করা হয়েছে।’ বিষয়টি নিয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহরাজ শারবীন বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ইলেক্টরাল তদন্ত কমিটির নিকট দেওয়া হবে।

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে সার মজুদ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে সার মজুদ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৮
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০২
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।

১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৫২
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলী ওরফে ধলা হুজুরের গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে পুরো নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া কলরেকর্ডটি নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা, বিএনপি সমর্থক এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম ওরফে রবি মেম্বার এবং একই এলাকার রিকশা প্রতীকের সমর্থক মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মাওলানা শোয়াইব ইসলামের মধ্যকার কথোপকথন বলে দাবি করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রিকশা প্রতীকের সমর্থক মাওলানা শোয়াইব ইসলাম নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আল্লামা শাহ আকরাম আলীকে বনগ্রাম এলাকায় আনার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিএনপি সমর্থক রবি মেম্বার ওই এলাকায় ধলা হুজুরকে আনতে নিষেধ করেন।
ভাইরাল কলরেকর্ডে রবিউল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘তোর ভোট দেওয়ার দরকার হইলে, তুই হুজুরকে ভোট দে। কিন্তু হুজুরকে আনার দরকার নাই। তুই হুজুরকে আনলে আমার সমস্যা হয়।’
একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘তোর ধলা হুজুর কেন, ধলা হুজুরের বাপও বনগ্রাম মোড়ে আসতে পারবে না। গাড়ি দিবানে জ্বালাইয়া।’ কলরেকর্ডটি প্রকাশ্যে আসার পর ফরিদপুর-২ আসনের ভোটার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এ ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্যকে নির্বাচনি পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মন্তব্য করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম ওরফে রবি মেম্বার বলেন, বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করা হয়েছে। মাওলানা শোয়াইব ইসলাম আমার এলাকার এক বিএনপি সমর্থকের বাড়িতে জোরপূর্বক ধলা হুজুরকে নিয়ে কর্মসূচি করতে চাচ্ছিল।
ওই পরিবারটি এতে বিব্রত হয়ে আমাকে জানায়। আমি শুধু বলেছি, যেখানে বাড়ির মালিকই চাচ্ছে না, সেখানে জোর করে কেন যাবেন। আমার বক্তব্য এআই দিয়ে এডিট করে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলীর নির্বাচনি মুখপাত্র মুফতি সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি।
আমাদের জনপ্রিয়তা দেখে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। রবি মেম্বারের বক্তব্য নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমাদের নেতাকর্মীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান (বাবুল) বলেন, ‘সে আমাদের দলের কেউ না, দলে তার কোনো পদ নেই। পদ থাকলে তো বহিষ্কার করা যায়। আওয়ামী লীগের সময় সে আওয়ামী লীগ করতো, এখন সুর বদলাইয়া বিএনপি হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে তাকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।’
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। টহল টিম কাজ করছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নগরকান্দা (সালথা সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান জানান, ‘বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি, হুমকির বিষয়ে জিডি করলে তা নেওয়া হবে। ওই এলাকায় নাইট পেট্রোলিং(রাতের টহল) ও ইন্টার্নাল সোর্স বৃদ্ধি করা হয়েছে।’ বিষয়টি নিয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহরাজ শারবীন বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ইলেক্টরাল তদন্ত কমিটির নিকট দেওয়া হবে।