Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩০
বরিশালের বাকেরগঞ্জে সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতির আড়ালে চলছে ভয়াবহ সুদের কারবার। তথাকথিত এসব মাল্টিপারপাস সমিতির ‘গলাকাটা’ সুদের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
সচ্ছলতার আশায় চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আসল ও সুদের ঘানি টানতে গিয়ে অনেক পরিবার এখন ভিটেমাটি হারানোর পথে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা সমবায় অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর তদারকি না থাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব অবৈধ সমিতি গ্রামীণ অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ এসব সমিতির দ্বারস্থ হলে তাদের ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে স্বাক্ষর করা খালি ব্যাংক চেক ও সাদা স্ট্যাম্প জমা দিতে হয়।
পরবর্তীতে ঋণের টাকা পরিশোধে সামান্য দেরি হলেই ওই চেক ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে গ্রাহককে মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের স্থাবর সম্পত্তি লিখে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।
পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সমিতিরই কোনো বৈধ নিবন্ধন নেই। নামসর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠান মাসে হাজারে ১০০ টাকা (শতকরা ১০ টাকা হারে) পর্যন্ত সুদ আদায় করছে।
লেনদেনের স্বচ্ছতার জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রেজিস্টার ব্যবহার না করে ছোট ছোট ‘টালি খাতায়’ সাঙ্কেতিক ভাষায় সুদের হিসাব রাখা হয়। লোকলজ্জার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী মুখ না খুললেও ভেতরে ভেতরে চরম আর্থিক ও মানসিক যন্ত্রণায় দিনাতিপাত করছেন।
উপজেলা সদর থেকে শুরু করে ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অলিগলিতে গড়ে ওঠা এসব সমিতির পাস বইয়ে ‘মানবসেবা’ ও ‘উন্নয়নের’ স্লোগান লেখা থাকলেও নেপথ্যে রয়েছে কেবলই সুদের ব্যবসা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ সমিতিরই সমবায় অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন নেই। নিবন্ধন থাকলেও তারা সমবায় আইন তোয়াক্কা না করে ব্যাংকিং স্টাইলে চড়া সুদে লেনদেন করছে।
উপজেলা সমবায় অফিস ও প্রশাসনের যথাযথ নজরদারি না থাকায় এই অশুভ চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, এই অবৈধ সুদি ব্যবসা বন্ধ না হলে গ্রামীণ জনপদে অপরাধ ও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, "অভাবের সময় টাকা নিয়ে এখন আমরা চোখে সর্ষে ফুল দেখছি। সুদের টাকা দিতে গিয়ে খাওয়ার টাকাও থাকছে না। প্রশাসনের উচিত এখনই এসব সমিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।"
বরিশালের বাকেরগঞ্জে সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতির আড়ালে চলছে ভয়াবহ সুদের কারবার। তথাকথিত এসব মাল্টিপারপাস সমিতির ‘গলাকাটা’ সুদের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
সচ্ছলতার আশায় চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আসল ও সুদের ঘানি টানতে গিয়ে অনেক পরিবার এখন ভিটেমাটি হারানোর পথে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা সমবায় অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর তদারকি না থাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব অবৈধ সমিতি গ্রামীণ অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ এসব সমিতির দ্বারস্থ হলে তাদের ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে স্বাক্ষর করা খালি ব্যাংক চেক ও সাদা স্ট্যাম্প জমা দিতে হয়।
পরবর্তীতে ঋণের টাকা পরিশোধে সামান্য দেরি হলেই ওই চেক ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে গ্রাহককে মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের স্থাবর সম্পত্তি লিখে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।
পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সমিতিরই কোনো বৈধ নিবন্ধন নেই। নামসর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠান মাসে হাজারে ১০০ টাকা (শতকরা ১০ টাকা হারে) পর্যন্ত সুদ আদায় করছে।
লেনদেনের স্বচ্ছতার জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রেজিস্টার ব্যবহার না করে ছোট ছোট ‘টালি খাতায়’ সাঙ্কেতিক ভাষায় সুদের হিসাব রাখা হয়। লোকলজ্জার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী মুখ না খুললেও ভেতরে ভেতরে চরম আর্থিক ও মানসিক যন্ত্রণায় দিনাতিপাত করছেন।
উপজেলা সদর থেকে শুরু করে ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অলিগলিতে গড়ে ওঠা এসব সমিতির পাস বইয়ে ‘মানবসেবা’ ও ‘উন্নয়নের’ স্লোগান লেখা থাকলেও নেপথ্যে রয়েছে কেবলই সুদের ব্যবসা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ সমিতিরই সমবায় অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন নেই। নিবন্ধন থাকলেও তারা সমবায় আইন তোয়াক্কা না করে ব্যাংকিং স্টাইলে চড়া সুদে লেনদেন করছে।
উপজেলা সমবায় অফিস ও প্রশাসনের যথাযথ নজরদারি না থাকায় এই অশুভ চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, এই অবৈধ সুদি ব্যবসা বন্ধ না হলে গ্রামীণ জনপদে অপরাধ ও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, "অভাবের সময় টাকা নিয়ে এখন আমরা চোখে সর্ষে ফুল দেখছি। সুদের টাকা দিতে গিয়ে খাওয়ার টাকাও থাকছে না। প্রশাসনের উচিত এখনই এসব সমিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।"

২৫ মে, ২০২৬ ২৩:৫৭
বরিশালের হিজলায় ঝড়ে নৌকাডুবিতে বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় এক দুর্ঘটনায় তাঁরা নিখোঁজ হন। আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটে যাওয়ার সময় আটজন যাত্রী, জেলে কার্ডের ৫০০ কেজি চালসহ একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।
এ সময় জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও ৩ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার রাতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে হিজলা ফায়ার সার্ভিস, থানা ও নৌ পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালায়। হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার ধুলখোলা গ্রামের জাফর জোমাদ্দারের ছেলে নুর ইসলাম জোমাদ্দার (৪৫), নুর ইসলাম জোমাদ্দারের ছেলে মো. ইব্রাহিম (১২) এবং হামিদ বিশ্বাসের ছেলে মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫)।
হিজলা নৌ পুলিশ জানায়, আজ বিকেলে জেলে কার্ডের সরকারি ৫০০ কেজি চাল নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। নৌকাটিতে চালের পাশাপাশি আটজন যাত্রীও ছিল। নৌকাটি হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে।
বাতাসের তীব্রতা ও ঢেউয়ের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়। নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পরপরই কাছাকাছি থাকা স্থানীয় জেলেরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে নদী থেকে পাঁচজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করলেও তিনজন নিখোঁজ হয়। সংবাদ পেয়ে হিজলা থানা-পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং হিজলা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান শুরু করে।
হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় প্রশাসনের উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।’

২৫ মে, ২০২৬ ২১:১২
কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ‘ত্রিশ গোডাউন’ এলাকায় ট্রলার মাঝিদের সিন্ডিকেট ও পর্যটক হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ‘জাস্টিস অব দ্যা পিস’ এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ।
ভ্রমণপিপাসুদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং দুর্ব্যবহারের বিষয়টি এই বিচারকের নজরে এলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পর্যটকদের এভাবে ঠকানো স্পষ্টত ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন’ এর চরম লঙ্ঘন।
শুধু আদেশই দেননি, সংশ্লিষ্টদের ডেকে সতর্ক করেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারকের নির্দেশের পরই বদলে গেছে ত্রিশ গোডাউন ঘাটের চিত্র। এখন নৌকাঘাটেই শোভা পাচ্ছে নির্ধারিত ভাড়ার মূল্যতালিকা।
ত্রিশ গোডাউনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সাদ্দাম কিবরিয়া বলেন, 'আগে মাঝিরা মুখ দেখে ভাড়া চাইত। প্রতিবাদ করলে দল বেঁধে এসে অপমান করত। ঘাটে ভাড়ার তালিকা দেখে স্বস্তি লাগছে।'
পরিবার নিয়ে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন বলেন বলেন, 'আগে এখানে এসে মাঝিদের সাথে দরদাম করতে গিয়ে মেজাজটাই খারাপ হয়ে যেত। কোনো দরাদরি নেই, তালিকায় যা লেখা, তা-ই দিচ্ছি।'
বিচারক এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ’র এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বরিশালের স্থানীয় সুশীল সমাজ ও পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, পর্যটন নগরী হিসেবে বরিশালের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের আইন কানুন অনেক আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে তার প্রয়োগ দেখা যায় খুব কম। একজন ম্যাজিস্ট্রেট যখন নিজের স্ব-প্রণোদিত ক্ষমতায় নৈরাজ্য থামান, তখন আইনের প্রতি মানুষের আস্থা শতগুণ বেড়ে যায়। বরিশালের অন্যান্য সেক্টরেও এমন দৃশ্যমান তদারকি চলুক।'

২৫ মে, ২০২৬ ২১:০৬
বরিশালে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোট ১ হাজার ৩৭৮ জন কর্মীকে এ উপহার দেওয়া হয়।
সোমবার (২৫ মে) বিকেলে বরিশাল নগর ভবনের নগর মিলনায়তনে (অডিটোরিয়াম) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব উপহার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
তিনি বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাদের এ পরিশ্রমের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এই উপহার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এবং কর্মীদের কল্যাণে বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, সাবেক কাউন্সিলর আলতাফ মাহমুদ সিকদার, শাহ্ আমিনুল ইসলাম আমিন, হাবিবুর রহমান টিপুসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বরিশালের হিজলায় ঝড়ে নৌকাডুবিতে বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় এক দুর্ঘটনায় তাঁরা নিখোঁজ হন। আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটে যাওয়ার সময় আটজন যাত্রী, জেলে কার্ডের ৫০০ কেজি চালসহ একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।
এ সময় জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও ৩ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার রাতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে হিজলা ফায়ার সার্ভিস, থানা ও নৌ পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালায়। হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার ধুলখোলা গ্রামের জাফর জোমাদ্দারের ছেলে নুর ইসলাম জোমাদ্দার (৪৫), নুর ইসলাম জোমাদ্দারের ছেলে মো. ইব্রাহিম (১২) এবং হামিদ বিশ্বাসের ছেলে মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫)।
হিজলা নৌ পুলিশ জানায়, আজ বিকেলে জেলে কার্ডের সরকারি ৫০০ কেজি চাল নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। নৌকাটিতে চালের পাশাপাশি আটজন যাত্রীও ছিল। নৌকাটি হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে।
বাতাসের তীব্রতা ও ঢেউয়ের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়। নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পরপরই কাছাকাছি থাকা স্থানীয় জেলেরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে নদী থেকে পাঁচজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করলেও তিনজন নিখোঁজ হয়। সংবাদ পেয়ে হিজলা থানা-পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং হিজলা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান শুরু করে।
হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় প্রশাসনের উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।’
কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ‘ত্রিশ গোডাউন’ এলাকায় ট্রলার মাঝিদের সিন্ডিকেট ও পর্যটক হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ‘জাস্টিস অব দ্যা পিস’ এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ।
ভ্রমণপিপাসুদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং দুর্ব্যবহারের বিষয়টি এই বিচারকের নজরে এলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পর্যটকদের এভাবে ঠকানো স্পষ্টত ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন’ এর চরম লঙ্ঘন।
শুধু আদেশই দেননি, সংশ্লিষ্টদের ডেকে সতর্ক করেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারকের নির্দেশের পরই বদলে গেছে ত্রিশ গোডাউন ঘাটের চিত্র। এখন নৌকাঘাটেই শোভা পাচ্ছে নির্ধারিত ভাড়ার মূল্যতালিকা।
ত্রিশ গোডাউনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সাদ্দাম কিবরিয়া বলেন, 'আগে মাঝিরা মুখ দেখে ভাড়া চাইত। প্রতিবাদ করলে দল বেঁধে এসে অপমান করত। ঘাটে ভাড়ার তালিকা দেখে স্বস্তি লাগছে।'
পরিবার নিয়ে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন বলেন বলেন, 'আগে এখানে এসে মাঝিদের সাথে দরদাম করতে গিয়ে মেজাজটাই খারাপ হয়ে যেত। কোনো দরাদরি নেই, তালিকায় যা লেখা, তা-ই দিচ্ছি।'
বিচারক এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ’র এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বরিশালের স্থানীয় সুশীল সমাজ ও পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, পর্যটন নগরী হিসেবে বরিশালের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের আইন কানুন অনেক আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে তার প্রয়োগ দেখা যায় খুব কম। একজন ম্যাজিস্ট্রেট যখন নিজের স্ব-প্রণোদিত ক্ষমতায় নৈরাজ্য থামান, তখন আইনের প্রতি মানুষের আস্থা শতগুণ বেড়ে যায়। বরিশালের অন্যান্য সেক্টরেও এমন দৃশ্যমান তদারকি চলুক।'
বরিশালে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোট ১ হাজার ৩৭৮ জন কর্মীকে এ উপহার দেওয়া হয়।
সোমবার (২৫ মে) বিকেলে বরিশাল নগর ভবনের নগর মিলনায়তনে (অডিটোরিয়াম) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব উপহার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
তিনি বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাদের এ পরিশ্রমের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এই উপহার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এবং কর্মীদের কল্যাণে বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, সাবেক কাউন্সিলর আলতাফ মাহমুদ সিকদার, শাহ্ আমিনুল ইসলাম আমিন, হাবিবুর রহমান টিপুসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।