মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেশি-বিদেশি অপশক্তি তখনের মতো এখনো সক্রিয় আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীদের রং-রূপ- চেহারা হয়তো পাল্টালেও চরিত্র পাল্টায়নি।
১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিন আমাদের মহান বিজয় দিবস। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে কখনোই এই দিবসের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য মলিন হবে না। তবে একটি বিষয় আমাদের সবার স্মরণে রাখা দরকার, সতর্ক থাকা দরকার। সেটি হলো—বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেশি-বিদেশি অপশক্তি তখনো যেমন সক্রিয় ছিল এখনো সক্রিয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীদের রং-রূপ- চেহারা হয়তো পাল্টেছে চরিত্র কিন্তু পাল্টায়নি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ হঠাৎ করেই সাগরের বুকে ভেসে ওঠা কোনো ভূখণ্ড নয়। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ আর অসংখ্য মা বোনের সম্মান সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ নামক এই ভূখণ্ডটির স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সেই গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে অসংখ্য গল্প বই কবিতা রচিত হয়েছে। অনেকেই হয়তো জানেন, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর ঘটনাবলী নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নিজের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ রয়েছে। এই নিবন্ধটি আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য দলিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘পতিত পলাতক একটি চক্র স্রেফ নিজেদের হীন দলীয় স্বার্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছে। স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয় ইতিহাসে পরিণত করার অপরিণামদর্শী অপচেষ্টার কারণেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত একটি চক্র ‘বিজয়ের’ নতুন ইতিহাস রচনার অপচেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘পরাজিত চক্রকে মোকাবেলায় প্রতিশোধ প্রতিহিংসার পরিবর্তে ‘বিজয়ের সুফল প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছে দেয়ার জন্য স্বনির্ভর সমৃদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই হোক এবারের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার। আমি মনে করি, বিএনপি মনে করে, যতদিন পর্যন্ত এই রাষ্ট্রে জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা যাবে না, ততদিন পর্যন্ত স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র টেকসই ভিত্তির উপর দাঁড়াবেনা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে আজ পর্যন্ত যতবার দেশে গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে আমরা দেখেছি ততবারই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বও হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর কিংবা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে এর সত্যতা প্রমাণিত। জনগণকে ক্ষমতাহীন করে রাষ্ট্রযন্ত্র কখনো ক্ষমতাশীল হয়ে উঠতে পারে না।
তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণকে ক্ষমতাবান করার পূর্ব শর্তই হচ্ছে, জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ জনগণের কাছে জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠা। এ কারণেই বিএনপি সবসময় রাষ্ট্র এবং সরকারে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেই যেকোনো মূল্যে দেশে অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ সাক্ষী, অকারণ শর্তের পর শর্ত জুড়ে দিয়ে কিংবা নানা অজুহাতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী একাধিক চক্র নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বারবার নানারকম বিঘ্ন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ, সব রকম বাধা উপেক্ষা করে প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় পর নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত জনগণের সেই কাঙ্ক্ষিত সেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করেছে। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা কিন্তু এখনো থেমে নেই। গণতন্ত্রের পক্ষের সাহসী সন্তান ওসমান হাদিকে গুলি করা সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ। কি ছিল ওসমান হাদির অপরাধ? আমি মনে করি কয়েকটি প্রশ্নের জবাবের মধ্যেই গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে ঘাতকদের চরিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে।’
তিনি এসময় প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা গেলে কারা খুশি হবে? নির্বাচন ছাড়াই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বহাল রাখা গেলে
কারা লাভবান হবে? দেশে জনগণের ভোটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে কাদের লাভ? আমি বিশ্বাস করি এসব প্রশ্নের জবাবের মধ্যেই হাদির ঘাতকেরা লুকিয়ে রয়েছে। স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের শত্রুরা ঘাপটি মেরে রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বিজয় দিবসের এই গৌরবজনক সময়ে দৃঢ়ভাবে বলে দিতে চাই, যারা স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণকে ভয় দেখাতে চায়, তারা অবশ্যই ব্যর্থ হবে ইনশাআল্লাহ। ভয়ের কিছু নেই, মানুষের জয় পরাজয়-জীবন মৃত্যু সবকিছুই আল্লাহর হাতে নির্ধারিত। সুতরাং, আল্লাহর উপর ভরসা রেখে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মিছিল নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকি, ষড়যন্ত্রকারীরা অবশ্যই পিছু হটতে বাধ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে প্রমাণিত হয়েছে, ২০২৪ সালে প্রমাণিত হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে প্রমাণিত হয়েছে—জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে জনতার বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। আমি দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামে গঞ্জে শহরে নগরে বন্দরে বাজারে মহল্লায় অলিতে গলিতে-রাজপথে জনগণের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই নির্বাচনি মিছিলে আমিও আপনাদের সঙ্গে থাকবো ইনশাআল্লাহ।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘মহান বিজয় দিবসের প্রাক্কালে আমি দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে কৃষিজীবী শ্রমজীবী পেশাজীবী শিল্পী-সাহিত্যিক-শিক্ষক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী আলেম ওলামা-পীর মাশায়েখ তথা বাংলাদেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষ/প্রতিটি নাগরিককে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানাই। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘বিজয়’ বার্তাকে শুধুমাত্র উদ্দীপ্ত স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে ‘বিজয়ের’ সুফল প্রতিটি নাগরিকের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি আবারো জনগণের সহযোগিতা সমর্থন এবং সুযোগ প্রত্যাশা করছে।
এসময় তিনি ৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধে শহীদ এবং ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে শহীদ এবং ৭১ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সকল শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে হতাহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৭
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার মিরপুরে শামীম ফিরোজ তালুকদার (৪০) নিহতের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ওরফে মঈন আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক এবং বরিশালের সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১১-এর বিচারক আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
কারাগার থেকে মঈনউদ্দীনকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিম আহমেদ তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে তাঁকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে রাস্তা পার হচ্ছিলেন শামীম ফিরোজ তালুকদার। সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় আলোক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী, পুলিশ কর্মকর্তা, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, শামীম ফিরোজ হত্যাকাণ্ডে মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হন মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার মিরপুরে শামীম ফিরোজ তালুকদার (৪০) নিহতের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ওরফে মঈন আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক এবং বরিশালের সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১১-এর বিচারক আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
কারাগার থেকে মঈনউদ্দীনকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিম আহমেদ তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে তাঁকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে রাস্তা পার হচ্ছিলেন শামীম ফিরোজ তালুকদার। সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় আলোক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী, পুলিশ কর্মকর্তা, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, শামীম ফিরোজ হত্যাকাণ্ডে মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হন মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।’

১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩২
বরিশালের বাবুগঞ্জে স্ত্রী ঐশী আক্তারকে (২৫) হত্যার অভিযোগে স্বামী সোহেল খানকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ। দাম্পত্য কলহের জেরে লোহার রড দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐশীর মৃত্যু হয়।
নিহত ঐশী আক্তার উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর সাধুকাঠী গ্রামের শাহে আলমের মেয়ে। অভিযুক্ত সোহেল খান কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামের কাদের খানের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। তাঁদের তিন মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার চার দিন আগে দাম্পত্য কলহের জেরে ঐশীর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন সোহেল—এমন অভিযোগ রয়েছে। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সকালে তাঁকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে মনিরুল ইসলাম জানান, মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ঐশীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সোহেল খানকে আটক করেছে। নিহতের চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।'
বরিশালের বাবুগঞ্জে স্ত্রী ঐশী আক্তারকে (২৫) হত্যার অভিযোগে স্বামী সোহেল খানকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ। দাম্পত্য কলহের জেরে লোহার রড দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐশীর মৃত্যু হয়।
নিহত ঐশী আক্তার উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর সাধুকাঠী গ্রামের শাহে আলমের মেয়ে। অভিযুক্ত সোহেল খান কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামের কাদের খানের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। তাঁদের তিন মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার চার দিন আগে দাম্পত্য কলহের জেরে ঐশীর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন সোহেল—এমন অভিযোগ রয়েছে। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সকালে তাঁকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে মনিরুল ইসলাম জানান, মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ঐশীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সোহেল খানকে আটক করেছে। নিহতের চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।'

১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২২
দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী মঙ্গলবারের (১৩ অক্টোবর) মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে বরিশালসহ দেশের তিন বিভাগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস নেই। সোমবার (১২ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরে নতুন করে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী মঙ্গলবারের (১৩ অক্টোবর) মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে বরিশালসহ দেশের তিন বিভাগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস নেই। সোমবার (১২ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরে নতুন করে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৯:২৫
মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেশি-বিদেশি অপশক্তি তখনের মতো এখনো সক্রিয় আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীদের রং-রূপ- চেহারা হয়তো পাল্টালেও চরিত্র পাল্টায়নি।
১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিন আমাদের মহান বিজয় দিবস। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে কখনোই এই দিবসের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য মলিন হবে না। তবে একটি বিষয় আমাদের সবার স্মরণে রাখা দরকার, সতর্ক থাকা দরকার। সেটি হলো—বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেশি-বিদেশি অপশক্তি তখনো যেমন সক্রিয় ছিল এখনো সক্রিয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীদের রং-রূপ- চেহারা হয়তো পাল্টেছে চরিত্র কিন্তু পাল্টায়নি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ হঠাৎ করেই সাগরের বুকে ভেসে ওঠা কোনো ভূখণ্ড নয়। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ আর অসংখ্য মা বোনের সম্মান সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ নামক এই ভূখণ্ডটির স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সেই গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে অসংখ্য গল্প বই কবিতা রচিত হয়েছে। অনেকেই হয়তো জানেন, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর ঘটনাবলী নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নিজের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ রয়েছে। এই নিবন্ধটি আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য দলিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘পতিত পলাতক একটি চক্র স্রেফ নিজেদের হীন দলীয় স্বার্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছে। স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয় ইতিহাসে পরিণত করার অপরিণামদর্শী অপচেষ্টার কারণেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত একটি চক্র ‘বিজয়ের’ নতুন ইতিহাস রচনার অপচেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘পরাজিত চক্রকে মোকাবেলায় প্রতিশোধ প্রতিহিংসার পরিবর্তে ‘বিজয়ের সুফল প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছে দেয়ার জন্য স্বনির্ভর সমৃদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই হোক এবারের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার। আমি মনে করি, বিএনপি মনে করে, যতদিন পর্যন্ত এই রাষ্ট্রে জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা যাবে না, ততদিন পর্যন্ত স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র টেকসই ভিত্তির উপর দাঁড়াবেনা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে আজ পর্যন্ত যতবার দেশে গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে আমরা দেখেছি ততবারই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বও হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর কিংবা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে এর সত্যতা প্রমাণিত। জনগণকে ক্ষমতাহীন করে রাষ্ট্রযন্ত্র কখনো ক্ষমতাশীল হয়ে উঠতে পারে না।
তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণকে ক্ষমতাবান করার পূর্ব শর্তই হচ্ছে, জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ জনগণের কাছে জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠা। এ কারণেই বিএনপি সবসময় রাষ্ট্র এবং সরকারে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেই যেকোনো মূল্যে দেশে অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ সাক্ষী, অকারণ শর্তের পর শর্ত জুড়ে দিয়ে কিংবা নানা অজুহাতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী একাধিক চক্র নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বারবার নানারকম বিঘ্ন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ, সব রকম বাধা উপেক্ষা করে প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় পর নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত জনগণের সেই কাঙ্ক্ষিত সেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করেছে। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা কিন্তু এখনো থেমে নেই। গণতন্ত্রের পক্ষের সাহসী সন্তান ওসমান হাদিকে গুলি করা সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ। কি ছিল ওসমান হাদির অপরাধ? আমি মনে করি কয়েকটি প্রশ্নের জবাবের মধ্যেই গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে ঘাতকদের চরিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে।’
তিনি এসময় প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা গেলে কারা খুশি হবে? নির্বাচন ছাড়াই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বহাল রাখা গেলে
কারা লাভবান হবে? দেশে জনগণের ভোটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে কাদের লাভ? আমি বিশ্বাস করি এসব প্রশ্নের জবাবের মধ্যেই হাদির ঘাতকেরা লুকিয়ে রয়েছে। স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের শত্রুরা ঘাপটি মেরে রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বিজয় দিবসের এই গৌরবজনক সময়ে দৃঢ়ভাবে বলে দিতে চাই, যারা স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণকে ভয় দেখাতে চায়, তারা অবশ্যই ব্যর্থ হবে ইনশাআল্লাহ। ভয়ের কিছু নেই, মানুষের জয় পরাজয়-জীবন মৃত্যু সবকিছুই আল্লাহর হাতে নির্ধারিত। সুতরাং, আল্লাহর উপর ভরসা রেখে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মিছিল নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকি, ষড়যন্ত্রকারীরা অবশ্যই পিছু হটতে বাধ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে প্রমাণিত হয়েছে, ২০২৪ সালে প্রমাণিত হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে প্রমাণিত হয়েছে—জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে জনতার বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। আমি দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামে গঞ্জে শহরে নগরে বন্দরে বাজারে মহল্লায় অলিতে গলিতে-রাজপথে জনগণের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই নির্বাচনি মিছিলে আমিও আপনাদের সঙ্গে থাকবো ইনশাআল্লাহ।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘মহান বিজয় দিবসের প্রাক্কালে আমি দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে কৃষিজীবী শ্রমজীবী পেশাজীবী শিল্পী-সাহিত্যিক-শিক্ষক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী আলেম ওলামা-পীর মাশায়েখ তথা বাংলাদেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষ/প্রতিটি নাগরিককে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানাই। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘বিজয়’ বার্তাকে শুধুমাত্র উদ্দীপ্ত স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে ‘বিজয়ের’ সুফল প্রতিটি নাগরিকের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি আবারো জনগণের সহযোগিতা সমর্থন এবং সুযোগ প্রত্যাশা করছে।
এসময় তিনি ৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধে শহীদ এবং ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে শহীদ এবং ৭১ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সকল শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে হতাহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৭
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০৬