
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:০৭
বরগুনার পাথরঘাটা ভৌগলিক কারণে সুপেয় পানি তীব্র সংকট। নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং শিশু সুরা জোরদারের ল্েয গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক, সাংবাদিক, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের বিনাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অনুষ্ঠিত গণ-শুনানির আয়োজন করে নজরুল স্মৃতি সংসদ, সহযোগিতায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।
গণশুনানীতে চরদুয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পাথরঘাটা উপজেলা জনস¦াস্থ্য প্রকৌশলী মো.মেহেদী হাসান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, নজরুল স¥ৃতি সংসদের নির্বাহী পরিচালক সাহাব উদ্দিন পান্না, জ্ঞানপাড়া খলিফারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক মো.বেলায়েত হোসেন, উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন, পাথরঘাটা প্রেসকাবের সাধারণ সম্পাদক নজমুল হক সেলিম প্রমুখ।
গণশুনানীতে পাথরঘাটায় সুপেয় পানির সংকট এবং বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে পিএসএফ অচল থাকা, লবণাক্ততা, টাংকির অভাবে বৃষ্টির পানি সংরণে সীমাবদ্ধতা, নিরাপদ পানি উৎস্য স্থাপন ও রনাবেণ,মনিটরিং ও তদারকি, জরুরী ব্যবস্থা ও প্রতিকার, সুবিধাজনক পানির ব্যবস্থা তৈরী সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিা, শিা প্রতিষ্ঠান এবং সাইকোন শেল্টার কাম স্কুল দুর্যোগকালীন পানি নিশ্চিত করণ, নারীদের নিরাপত্তাসহ নীতিমালা ও পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রশ্ন করেন স্থানীয়রা।
সভায় উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা ও অতিথিদের নিকট নিরাপদ পানি, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও শিশু সুরার বিষয়ে সাধারণ জনগণ কিংবা সেবাগ্রহীতাদের প থেকে নানামুখী প্রশ্ন করা হয়।
এসময় প্রশ্নের উওর সহ এবং ফলাফলে জনগণের সমস্যা সমাধানে সেবাদাতা হিসেবে একাধিক অতিথি উত্তর দেন এবং এলাকাবাসির দাবিগুলো প্রতিবেদন আকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপরে কাছে পাঠানোর জন্য সুপারিশ করা হয়।
বরগুনার পাথরঘাটা ভৌগলিক কারণে সুপেয় পানি তীব্র সংকট। নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং শিশু সুরা জোরদারের ল্েয গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক, সাংবাদিক, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের বিনাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অনুষ্ঠিত গণ-শুনানির আয়োজন করে নজরুল স্মৃতি সংসদ, সহযোগিতায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।
গণশুনানীতে চরদুয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পাথরঘাটা উপজেলা জনস¦াস্থ্য প্রকৌশলী মো.মেহেদী হাসান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, নজরুল স¥ৃতি সংসদের নির্বাহী পরিচালক সাহাব উদ্দিন পান্না, জ্ঞানপাড়া খলিফারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক মো.বেলায়েত হোসেন, উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন, পাথরঘাটা প্রেসকাবের সাধারণ সম্পাদক নজমুল হক সেলিম প্রমুখ।
গণশুনানীতে পাথরঘাটায় সুপেয় পানির সংকট এবং বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে পিএসএফ অচল থাকা, লবণাক্ততা, টাংকির অভাবে বৃষ্টির পানি সংরণে সীমাবদ্ধতা, নিরাপদ পানি উৎস্য স্থাপন ও রনাবেণ,মনিটরিং ও তদারকি, জরুরী ব্যবস্থা ও প্রতিকার, সুবিধাজনক পানির ব্যবস্থা তৈরী সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিা, শিা প্রতিষ্ঠান এবং সাইকোন শেল্টার কাম স্কুল দুর্যোগকালীন পানি নিশ্চিত করণ, নারীদের নিরাপত্তাসহ নীতিমালা ও পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রশ্ন করেন স্থানীয়রা।
সভায় উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা ও অতিথিদের নিকট নিরাপদ পানি, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও শিশু সুরার বিষয়ে সাধারণ জনগণ কিংবা সেবাগ্রহীতাদের প থেকে নানামুখী প্রশ্ন করা হয়।
এসময় প্রশ্নের উওর সহ এবং ফলাফলে জনগণের সমস্যা সমাধানে সেবাদাতা হিসেবে একাধিক অতিথি উত্তর দেন এবং এলাকাবাসির দাবিগুলো প্রতিবেদন আকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপরে কাছে পাঠানোর জন্য সুপারিশ করা হয়।
২০ জুন, ২০২৬ ১৪:১০
২০ জুন, ২০২৬ ১৩:৫৩
২০ জুন, ২০২৬ ১৩:৪৩
২০ জুন, ২০২৬ ১৩:৩০

২০ জুন, ২০২৬ ১২:১১
বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর সংখ্যা। খামারিদের পালন করা প্রায় গরুই আক্রান্ত হচ্ছে এই রোগে।
তবে সরকারিভাবে এই মুহূর্তে বরগুনায় ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় এবং ওষুধ সংকটের কারণে আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা করাতে বিপাকে পড়ছেন বিভিন্ন এলাকার খামারি ও পশুপালকরা।
ফলে আক্রান্ত গরু মৃত্যুর শঙ্কাসহ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। তবে জুলাই মাস থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী নামক এলাকার বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায়। তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে গরু পালন করছেন। এ বছর তার পালন করা ৬টি গরুই ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
শুধু মিলন চন্দ্রই নয়, একই এলাকার নাসির নামে আরেক প্রতিবেশীরও ৫টি গরু আক্রান্ত হয়েছে একই রোগে। আক্রান্তের এক দিন পরই তার একটি ছোট গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, ওই এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দার গরু, ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হঠাৎ করে বরগুনায় গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এই মুহূর্তে ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই জেলার প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে। ফলে স্থানীয় পদ্ধতি এবং চিকিৎসকের পরামর্শে বাইরের দোকান থেকেই ওষুধ কিনে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা চালাচ্ছেন খামারি ও পশুপালকরা।
সরেজমিনে সদর উপজেলার ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায়ের বাড়িতে ঘুরে দেখা যায়, ঘরের সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে তার ছয়টি গরু। প্রত্যকটি গরুই গত এক মাস ধরে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত।
আর এ কারণেই গরুগুলোকে খাবার খাওয়ানোর জন্য কোথাও নিয়ে যেতে পারছেন না তিনি। দীর্ঘ একমাস ধরে আক্রান্ত ওই গরুগুলোকে সুস্থ করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন মিলন ও তার স্ত্রী। প্রতিদিন খাবার ও ওষুধ খাওয়ানোসহ গরুগুলোকে বিশেষভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হচ্ছে তাদের।
মিলন ও তার স্ত্রী শিপু রানীর অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে গরুর জন্য ভ্যাকসিন এবং কোনো ধরনের ওষুধই পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরের দোকান থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাদের। শুধু তারাই নয় এলাকার অন্য পশুপলকদেরও এ একই অভিযোগ।
এ ছাড়া, আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী নামক এলাকার বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে গরু পালন করি। এ বছর প্রায় ১ মাস ধরে আমার গরুগুলো ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
শুধু আমার নয়, আশপাশের প্রায় সবার গরুই একই রোগে আক্রান্ত। পশু হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার জন্য কোনো ওষুধ পাচ্ছি না। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে ওষুধ কিনে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। গরুর পেছনে সময় দিতে গিয়ে এখন অন্য কোনো কাজও করতে পারছি না।
মিলন চন্দ্র রায়ের স্ত্রী শিপু রানী বলেন, গত একমাস ধরে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে আমাদের ছয়টি গুরু অসুস্থ। আমরা গরিব মানুষ, গরুর চিকিৎসা করাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। বাজার থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে আমাদের।
একই এলাকার বাসিন্দা মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এ বছর আমাদের এলাকার অসংখ্য গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে বড় গরু মারা না গেলেও এলাকার বাসিন্দাদের ৩ থেকে ৪টি ছোট গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, চিকিৎসকরা গ্রামে আসেন না। তাদের কাছে গেলে ওষুধ লিখে দেওয়া হয় তাও কিনতে হয় বাইরের দোকান থেকে। বর্তমান ক্ষুরা রোগের কোনো ভ্যাকসিনই পাওয়া যাচ্ছে না।
মো. নাসির নামে ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রথমে আমার একটি গরু রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। এক দিন পরে আমার পাঁচটি গরু আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আক্রান্ত হওয়ার এক দিনের মধ্যে ছোট একটি গরু মারা যায়। এরপর চিকিৎসক অন্য গরুগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে দিলেও সরবরাহ না থাকায় সরকারিভাবে গরুর জন্য কোনো ওষুধ পাইনি। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।
বরগুনায় হঠাৎ করে ব্যাপকভাবে গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষুরা রোগ সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়।
মানুষের সংস্পর্শের মাধ্যমেও এ রোগ সুস্থ পশুর মধ্যে ছড়াতে পারে। কোরবানির সময় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পশু নিয়ে যাওয়া হয়। সাধারণত ওই সময়ের পরই ক্ষুরা রোগের বিস্তার ঘটে৷ আমাদের কাছে থাকা রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থায় বিভিন্ন এলাকায় এ রোগ দেখা দিয়েছে।
খামারিদের ভ্যাকসিনের পাশাপাশি আক্রান্ত পশুকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আক্রান্ত ওই পশুটিকে অন্য পশু থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। এ রোগে আক্রান্ত হলে বড় পশুর মৃত্যু হয় না। ছয় মাস থেকে এক বছর বয়সী কিছু পশুর মৃত্যু হতে পারে।
ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই এবং ওষুধ সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে কোনো ভ্যাকসিন মজুদ নেই। কোরবানির আগে ভ্যাকসিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেই আমরা ভ্যাকসিন পাবো এবং পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এখন আমরা খামারিদের প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ানোসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর সংখ্যা। খামারিদের পালন করা প্রায় গরুই আক্রান্ত হচ্ছে এই রোগে।
তবে সরকারিভাবে এই মুহূর্তে বরগুনায় ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় এবং ওষুধ সংকটের কারণে আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা করাতে বিপাকে পড়ছেন বিভিন্ন এলাকার খামারি ও পশুপালকরা।
ফলে আক্রান্ত গরু মৃত্যুর শঙ্কাসহ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। তবে জুলাই মাস থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী নামক এলাকার বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায়। তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে গরু পালন করছেন। এ বছর তার পালন করা ৬টি গরুই ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
শুধু মিলন চন্দ্রই নয়, একই এলাকার নাসির নামে আরেক প্রতিবেশীরও ৫টি গরু আক্রান্ত হয়েছে একই রোগে। আক্রান্তের এক দিন পরই তার একটি ছোট গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, ওই এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দার গরু, ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হঠাৎ করে বরগুনায় গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এই মুহূর্তে ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই জেলার প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে। ফলে স্থানীয় পদ্ধতি এবং চিকিৎসকের পরামর্শে বাইরের দোকান থেকেই ওষুধ কিনে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা চালাচ্ছেন খামারি ও পশুপালকরা।
সরেজমিনে সদর উপজেলার ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায়ের বাড়িতে ঘুরে দেখা যায়, ঘরের সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে তার ছয়টি গরু। প্রত্যকটি গরুই গত এক মাস ধরে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত।
আর এ কারণেই গরুগুলোকে খাবার খাওয়ানোর জন্য কোথাও নিয়ে যেতে পারছেন না তিনি। দীর্ঘ একমাস ধরে আক্রান্ত ওই গরুগুলোকে সুস্থ করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন মিলন ও তার স্ত্রী। প্রতিদিন খাবার ও ওষুধ খাওয়ানোসহ গরুগুলোকে বিশেষভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হচ্ছে তাদের।
মিলন ও তার স্ত্রী শিপু রানীর অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে গরুর জন্য ভ্যাকসিন এবং কোনো ধরনের ওষুধই পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরের দোকান থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাদের। শুধু তারাই নয় এলাকার অন্য পশুপলকদেরও এ একই অভিযোগ।
এ ছাড়া, আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী নামক এলাকার বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে গরু পালন করি। এ বছর প্রায় ১ মাস ধরে আমার গরুগুলো ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
শুধু আমার নয়, আশপাশের প্রায় সবার গরুই একই রোগে আক্রান্ত। পশু হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার জন্য কোনো ওষুধ পাচ্ছি না। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে ওষুধ কিনে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। গরুর পেছনে সময় দিতে গিয়ে এখন অন্য কোনো কাজও করতে পারছি না।
মিলন চন্দ্র রায়ের স্ত্রী শিপু রানী বলেন, গত একমাস ধরে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে আমাদের ছয়টি গুরু অসুস্থ। আমরা গরিব মানুষ, গরুর চিকিৎসা করাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। বাজার থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে আমাদের।
একই এলাকার বাসিন্দা মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এ বছর আমাদের এলাকার অসংখ্য গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে বড় গরু মারা না গেলেও এলাকার বাসিন্দাদের ৩ থেকে ৪টি ছোট গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, চিকিৎসকরা গ্রামে আসেন না। তাদের কাছে গেলে ওষুধ লিখে দেওয়া হয় তাও কিনতে হয় বাইরের দোকান থেকে। বর্তমান ক্ষুরা রোগের কোনো ভ্যাকসিনই পাওয়া যাচ্ছে না।
মো. নাসির নামে ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রথমে আমার একটি গরু রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। এক দিন পরে আমার পাঁচটি গরু আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আক্রান্ত হওয়ার এক দিনের মধ্যে ছোট একটি গরু মারা যায়। এরপর চিকিৎসক অন্য গরুগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে দিলেও সরবরাহ না থাকায় সরকারিভাবে গরুর জন্য কোনো ওষুধ পাইনি। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।
বরগুনায় হঠাৎ করে ব্যাপকভাবে গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষুরা রোগ সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়।
মানুষের সংস্পর্শের মাধ্যমেও এ রোগ সুস্থ পশুর মধ্যে ছড়াতে পারে। কোরবানির সময় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পশু নিয়ে যাওয়া হয়। সাধারণত ওই সময়ের পরই ক্ষুরা রোগের বিস্তার ঘটে৷ আমাদের কাছে থাকা রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থায় বিভিন্ন এলাকায় এ রোগ দেখা দিয়েছে।
খামারিদের ভ্যাকসিনের পাশাপাশি আক্রান্ত পশুকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আক্রান্ত ওই পশুটিকে অন্য পশু থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। এ রোগে আক্রান্ত হলে বড় পশুর মৃত্যু হয় না। ছয় মাস থেকে এক বছর বয়সী কিছু পশুর মৃত্যু হতে পারে।
ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই এবং ওষুধ সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে কোনো ভ্যাকসিন মজুদ নেই। কোরবানির আগে ভ্যাকসিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেই আমরা ভ্যাকসিন পাবো এবং পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এখন আমরা খামারিদের প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ানোসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:৫৪
মাত্র ২৫ দিনের ব্যবধানে বরগুনার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে আলোচিত হত্যাকাণ্ড, রহস্যজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা এবং গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার ঘটনা। একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ৩ জুন। ওইদিন বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দুটি পৃথক কক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী ও তার দুই শিশু কন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ডাকবাংলোতে প্রবেশ করেন ইতি রানী। পরে তারা পৃথক কক্ষে অবস্থান নেন। কয়েক ঘণ্টা পর কেয়ারটেকার এক শিশুকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
পরে দরজা ভেঙে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে এখনো রহস্য কাটেনি। নিহতের স্বজনরা এটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এর কয়েকদিন পর ৮ জুন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না বাজার সংলগ্ন বড় খাল থেকে ব্যবসায়ী মো. শামীমের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৭ জুন সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।
১৯ মে আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে ২৬ মে জেলা জজ আদালত চত্বর সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় আরেক নারীর মরদেহ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে তাকে গণকবরে দাফন করা হয়।
১২ জুন মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে কুপিয়ে আহত করা হয় প্যানেল চেয়ারম্যানকে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে গ্রামবাসী ও তার স্বজনরা মিলে গণপিটুনি ও কুপিয়ে হত্যা করেন কালু বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম হোসেন কালুকে।
পরদিন ১৩ জুন পাথরঘাটা উপজেলার একটি সড়কের পাশ থেকে এক রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে বরগুনা সদরে দুই নারী, বামনায় এক যুবক এবং বেতাগীতে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
১৪ জুন খোদ তালতলী থানা পুলিশের ব্যারাক থেকে ফারুক হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার কক্ষ থেকে চার পৃষ্ঠার একটি চিঠিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
সবশেষ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বরগুনা সদর উপজেলার হেউলিবুনিয়া গ্রামে এলিজা নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমার স্ত্রী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় মাস্টার রোলে চাকরি করতো।
মারা যাওয়ার আগেও আমি যখন কাজের জন্য বাইরে যাই, ওকে ২০০ টাকা দিয়ে গিয়েছিলাম বাজার করতে। ও বলছিল, ওর বোনের বাসায় যাবে। কিন্তু দুপুরে শুনলাম আমার দুই সন্তান নিয়ে ও বেঁচে নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো পারিবারিক অশান্তি ছিল না। আমার বাচ্চারাও কখনো ডাকবাংলাতে যায়নি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
শামীম হত্যার পরে এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা টিটু খান বলেন, ‘শামীমের মতো এমন নিরীহ মানুষকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাতে আমরা এলাকাবাসী খুবই আতঙ্কে আছি। শামীমের কোনো শত্রু ছিল না, তাও ওকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।’
বরগুনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দাবি করে আইনজীবী আব্দুল ওয়াসি মতিন বলেন, ‘আমরা চাই পুলিশ ও জেলা প্রশাসন, স্থানীয় নাগরিকদের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি সভা করুক। সেখানে আইনশৃঙ্খল পরিস্থিতি কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হোক। চিহ্নিত হত্যাকাণ্ডগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করাও খুব প্রয়োজন।’
একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সচেতন নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি (সনাক) বরগুনার সাবেক সভাপতি মনির হোসেন কামাল।
তিনি বলেন, ‘বরগুনায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এক ধরনের অবনতির দিকে যাচ্ছে। এতে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। এতগুলো মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ কী, তা এখনো প্রকাশ করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশের এমন ভূমিকার কারণে মানুষের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে। তারা আস্থা হারাচ্ছেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’
প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি জানিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘বরগুনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। বরগুনা বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা যৌথ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এদিকে চলতি মাসে ২২টি মরদেহ উদ্ধার নিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে দুটি হত্যাকাণ্ড। এছাড়া আত্মহত্যা ১০ জন এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনাজনিত কারণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বরগুনায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘উদ্ধার প্রতিটি মরদেহের ক্ষেত্রে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং আইনানুগ তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।’
মাত্র ২৫ দিনের ব্যবধানে বরগুনার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে আলোচিত হত্যাকাণ্ড, রহস্যজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা এবং গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার ঘটনা। একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ৩ জুন। ওইদিন বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দুটি পৃথক কক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী ও তার দুই শিশু কন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ডাকবাংলোতে প্রবেশ করেন ইতি রানী। পরে তারা পৃথক কক্ষে অবস্থান নেন। কয়েক ঘণ্টা পর কেয়ারটেকার এক শিশুকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
পরে দরজা ভেঙে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে এখনো রহস্য কাটেনি। নিহতের স্বজনরা এটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এর কয়েকদিন পর ৮ জুন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না বাজার সংলগ্ন বড় খাল থেকে ব্যবসায়ী মো. শামীমের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৭ জুন সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।
১৯ মে আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে ২৬ মে জেলা জজ আদালত চত্বর সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় আরেক নারীর মরদেহ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে তাকে গণকবরে দাফন করা হয়।
১২ জুন মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে কুপিয়ে আহত করা হয় প্যানেল চেয়ারম্যানকে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে গ্রামবাসী ও তার স্বজনরা মিলে গণপিটুনি ও কুপিয়ে হত্যা করেন কালু বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম হোসেন কালুকে।
পরদিন ১৩ জুন পাথরঘাটা উপজেলার একটি সড়কের পাশ থেকে এক রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে বরগুনা সদরে দুই নারী, বামনায় এক যুবক এবং বেতাগীতে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
১৪ জুন খোদ তালতলী থানা পুলিশের ব্যারাক থেকে ফারুক হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার কক্ষ থেকে চার পৃষ্ঠার একটি চিঠিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
সবশেষ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বরগুনা সদর উপজেলার হেউলিবুনিয়া গ্রামে এলিজা নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমার স্ত্রী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় মাস্টার রোলে চাকরি করতো।
মারা যাওয়ার আগেও আমি যখন কাজের জন্য বাইরে যাই, ওকে ২০০ টাকা দিয়ে গিয়েছিলাম বাজার করতে। ও বলছিল, ওর বোনের বাসায় যাবে। কিন্তু দুপুরে শুনলাম আমার দুই সন্তান নিয়ে ও বেঁচে নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো পারিবারিক অশান্তি ছিল না। আমার বাচ্চারাও কখনো ডাকবাংলাতে যায়নি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
শামীম হত্যার পরে এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা টিটু খান বলেন, ‘শামীমের মতো এমন নিরীহ মানুষকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাতে আমরা এলাকাবাসী খুবই আতঙ্কে আছি। শামীমের কোনো শত্রু ছিল না, তাও ওকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।’
বরগুনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দাবি করে আইনজীবী আব্দুল ওয়াসি মতিন বলেন, ‘আমরা চাই পুলিশ ও জেলা প্রশাসন, স্থানীয় নাগরিকদের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি সভা করুক। সেখানে আইনশৃঙ্খল পরিস্থিতি কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হোক। চিহ্নিত হত্যাকাণ্ডগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করাও খুব প্রয়োজন।’
একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সচেতন নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি (সনাক) বরগুনার সাবেক সভাপতি মনির হোসেন কামাল।
তিনি বলেন, ‘বরগুনায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এক ধরনের অবনতির দিকে যাচ্ছে। এতে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। এতগুলো মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ কী, তা এখনো প্রকাশ করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশের এমন ভূমিকার কারণে মানুষের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে। তারা আস্থা হারাচ্ছেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’
প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি জানিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘বরগুনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। বরগুনা বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা যৌথ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এদিকে চলতি মাসে ২২টি মরদেহ উদ্ধার নিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে দুটি হত্যাকাণ্ড। এছাড়া আত্মহত্যা ১০ জন এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনাজনিত কারণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বরগুনায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘উদ্ধার প্রতিটি মরদেহের ক্ষেত্রে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং আইনানুগ তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।’

১৩ জুন, ২০২৬ ১০:৫০
বরগুনা সদর উপজেলায় ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনার জেরে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম ইব্রাহিম হোসেন কালু। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি স্থানীয়ভাবে একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম হোসেন কালু সম্প্রতি জামিনে কারাগার থেকে বের হয়ে এলাকায় আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। এতে বাধা দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা। এর জেরে শুক্রবার দুপুরে দুর্বৃত্তরা ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
এই ঘটনার পর সংক্ষুব্ধ গ্রামবাসী কালু ও তার সহযোগীদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে গণপিটুনিতে ইব্রাহিম হোসেন কালুর মৃত্যু হয়। এ সময় তার সহযোগী তৌহিদ গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে স্থানান্তর করা হয়।
বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আলীম বরিশালটাইমসকে বলেন, নিহত কালুর বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতিসহ ১৩–১৪টি মামলা রয়েছে। তিনি একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। জামিনে বের হয়েই তিনি ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখম করেন, এরপর গণপিটুনিতে তার মৃত্যু।
বরগুনা সদর উপজেলায় ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনার জেরে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম ইব্রাহিম হোসেন কালু। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি স্থানীয়ভাবে একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম হোসেন কালু সম্প্রতি জামিনে কারাগার থেকে বের হয়ে এলাকায় আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। এতে বাধা দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা। এর জেরে শুক্রবার দুপুরে দুর্বৃত্তরা ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
এই ঘটনার পর সংক্ষুব্ধ গ্রামবাসী কালু ও তার সহযোগীদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে গণপিটুনিতে ইব্রাহিম হোসেন কালুর মৃত্যু হয়। এ সময় তার সহযোগী তৌহিদ গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে স্থানান্তর করা হয়।
বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আলীম বরিশালটাইমসকে বলেন, নিহত কালুর বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতিসহ ১৩–১৪টি মামলা রয়েছে। তিনি একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। জামিনে বের হয়েই তিনি ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখম করেন, এরপর গণপিটুনিতে তার মৃত্যু।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.