ফেনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি মামলায় মো. হাসান (২২) নামে এক আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জুলাই যোদ্ধাসহ এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে মাথিয়ারা এলাকায় হারুনের পিংকি স্টোরে এলাকার কিশোর-যুবকরা টেলিভিশনে খেলা দেখে হৈ-হুল্লোড় করে। এতে বিরক্ত হয়ে পার্শ্ববর্তী পল্লী চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম ভূঞা যুবকদেরকে হৈ-হুল্লোড় করতে বারণ করেন।
যুবকরা তার কথা না শোনায় তিনি ওই এলাকার ৪ যুবকের নাম উল্লেখ করে ফেনী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের পর ১৮ আগস্ট রাতে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরেফিন সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ কিশোর-যুবককে আটক করা হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৬ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে সিএনজি অটোরিকশা চালক হানিফের ছেলে হাসানকে আগস্ট অভ্যুত্থানের আহতের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা জানায়, ১৮ আগস্ট আটকরা সবাই ক্রীড়াপ্রেমী। তারা ওই দোকানে সব সময় টিভিতে খেলা দেখে হৈ-হুল্লোড় করে, এটা ঠিক আছে। কিন্তু তারা কেউ এলাকার খারাপ ছেলে নয়। তাদেরকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলেও শুধুমাত্র হাসানকে অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর ঘটনায় আমরা হতবাক।
হাসান আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি ও ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিল। ২ আগস্ট সে তার ফেসবুক প্রোফাইল লাল করায় তাকে স্থানীয় যুবলীগ কর্মীরা মারধরের চেষ্টাও করেছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ও সে নানাভাবে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছিল।
পার্শ্ববর্তী ধোনসাহাদ্দা এলাকার গ্যাজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা আদনান হোসেন অতুল জানান, হাসান আমার সঙ্গে বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন আন্দোলনে যুক্ত ছিল। ওই সময়ে আমরা নানা কর্মসূচিতে একসঙ্গে অংশ নিয়েছি। এলাকার সন্ত্রাসীদের ভয়ে তখন এগুলো আমরা কোথাও প্রচার করতাম না।
আমার সহযোদ্ধা হাসানকে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটি জুলাই আহত ব্যক্তির মামলার মেরিট নষ্ট করার ষড়যন্ত্র। এ মামলার মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধাদের হয়রানি কোনোভাবে কাম্য নয়।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল হক বলেন, হাসানসহ যাদেরকে আটক করা হয়েছে; তারাতো খারাপ ছেলে নয়। তারা দোকানে খেলা দেখে চিৎকার; চেঁচামেছি করতো। এ ঘটনায় আটক করে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো দুঃখজনক।
ভুক্তভোগী হাসানের বাবা হানিফ বলেন, আমার ছেলেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে চলতে দেখিনি। কোর্ট থেকে মামলার কাগজ তুলে দেখি, সেখানে আমার ছেলেকে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য বলে উল্লেখ করেছে। আমার ছেলে নাকি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তাকিয়া রোডে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করেছে।
এসব নাকি আমার ছেলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। সবই আমার ছেলেকে জেলে দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রকারীদের মিথ্যাচার। আমার অসুস্থ ছেলের বিরুদ্ধে যারা মিথ্যাচার করে হয়রানি করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমার ছেলের মুক্তি চাই।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকালে আহত এক ব্যক্তির মামলার তদন্তে গ্রেফতার হাসানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ফলে তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এখানে কাউকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়নি।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩১
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১২
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

২৬ আগস্ট, ২০২৫ ১৩:১০
ফেনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি মামলায় মো. হাসান (২২) নামে এক আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জুলাই যোদ্ধাসহ এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে মাথিয়ারা এলাকায় হারুনের পিংকি স্টোরে এলাকার কিশোর-যুবকরা টেলিভিশনে খেলা দেখে হৈ-হুল্লোড় করে। এতে বিরক্ত হয়ে পার্শ্ববর্তী পল্লী চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম ভূঞা যুবকদেরকে হৈ-হুল্লোড় করতে বারণ করেন।
যুবকরা তার কথা না শোনায় তিনি ওই এলাকার ৪ যুবকের নাম উল্লেখ করে ফেনী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের পর ১৮ আগস্ট রাতে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরেফিন সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ কিশোর-যুবককে আটক করা হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৬ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে সিএনজি অটোরিকশা চালক হানিফের ছেলে হাসানকে আগস্ট অভ্যুত্থানের আহতের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা জানায়, ১৮ আগস্ট আটকরা সবাই ক্রীড়াপ্রেমী। তারা ওই দোকানে সব সময় টিভিতে খেলা দেখে হৈ-হুল্লোড় করে, এটা ঠিক আছে। কিন্তু তারা কেউ এলাকার খারাপ ছেলে নয়। তাদেরকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলেও শুধুমাত্র হাসানকে অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর ঘটনায় আমরা হতবাক।
হাসান আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি ও ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিল। ২ আগস্ট সে তার ফেসবুক প্রোফাইল লাল করায় তাকে স্থানীয় যুবলীগ কর্মীরা মারধরের চেষ্টাও করেছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ও সে নানাভাবে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছিল।
পার্শ্ববর্তী ধোনসাহাদ্দা এলাকার গ্যাজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা আদনান হোসেন অতুল জানান, হাসান আমার সঙ্গে বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন আন্দোলনে যুক্ত ছিল। ওই সময়ে আমরা নানা কর্মসূচিতে একসঙ্গে অংশ নিয়েছি। এলাকার সন্ত্রাসীদের ভয়ে তখন এগুলো আমরা কোথাও প্রচার করতাম না।
আমার সহযোদ্ধা হাসানকে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটি জুলাই আহত ব্যক্তির মামলার মেরিট নষ্ট করার ষড়যন্ত্র। এ মামলার মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধাদের হয়রানি কোনোভাবে কাম্য নয়।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল হক বলেন, হাসানসহ যাদেরকে আটক করা হয়েছে; তারাতো খারাপ ছেলে নয়। তারা দোকানে খেলা দেখে চিৎকার; চেঁচামেছি করতো। এ ঘটনায় আটক করে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো দুঃখজনক।
ভুক্তভোগী হাসানের বাবা হানিফ বলেন, আমার ছেলেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে চলতে দেখিনি। কোর্ট থেকে মামলার কাগজ তুলে দেখি, সেখানে আমার ছেলেকে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য বলে উল্লেখ করেছে। আমার ছেলে নাকি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তাকিয়া রোডে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করেছে।
এসব নাকি আমার ছেলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। সবই আমার ছেলেকে জেলে দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রকারীদের মিথ্যাচার। আমার অসুস্থ ছেলের বিরুদ্ধে যারা মিথ্যাচার করে হয়রানি করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমার ছেলের মুক্তি চাই।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকালে আহত এক ব্যক্তির মামলার তদন্তে গ্রেফতার হাসানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ফলে তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এখানে কাউকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়নি।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১২
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৩
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪৩
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৫