মাত্র ২৫ দিনের ব্যবধানে বরগুনার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে আলোচিত হত্যাকাণ্ড, রহস্যজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা এবং গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার ঘটনা। একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ৩ জুন। ওইদিন বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দুটি পৃথক কক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী ও তার দুই শিশু কন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ডাকবাংলোতে প্রবেশ করেন ইতি রানী। পরে তারা পৃথক কক্ষে অবস্থান নেন। কয়েক ঘণ্টা পর কেয়ারটেকার এক শিশুকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
পরে দরজা ভেঙে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে এখনো রহস্য কাটেনি। নিহতের স্বজনরা এটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এর কয়েকদিন পর ৮ জুন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না বাজার সংলগ্ন বড় খাল থেকে ব্যবসায়ী মো. শামীমের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৭ জুন সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।
১৯ মে আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে ২৬ মে জেলা জজ আদালত চত্বর সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় আরেক নারীর মরদেহ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে তাকে গণকবরে দাফন করা হয়।
১২ জুন মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে কুপিয়ে আহত করা হয় প্যানেল চেয়ারম্যানকে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে গ্রামবাসী ও তার স্বজনরা মিলে গণপিটুনি ও কুপিয়ে হত্যা করেন কালু বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম হোসেন কালুকে।
পরদিন ১৩ জুন পাথরঘাটা উপজেলার একটি সড়কের পাশ থেকে এক রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে বরগুনা সদরে দুই নারী, বামনায় এক যুবক এবং বেতাগীতে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
১৪ জুন খোদ তালতলী থানা পুলিশের ব্যারাক থেকে ফারুক হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার কক্ষ থেকে চার পৃষ্ঠার একটি চিঠিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
সবশেষ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বরগুনা সদর উপজেলার হেউলিবুনিয়া গ্রামে এলিজা নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমার স্ত্রী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় মাস্টার রোলে চাকরি করতো।
মারা যাওয়ার আগেও আমি যখন কাজের জন্য বাইরে যাই, ওকে ২০০ টাকা দিয়ে গিয়েছিলাম বাজার করতে। ও বলছিল, ওর বোনের বাসায় যাবে। কিন্তু দুপুরে শুনলাম আমার দুই সন্তান নিয়ে ও বেঁচে নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো পারিবারিক অশান্তি ছিল না। আমার বাচ্চারাও কখনো ডাকবাংলাতে যায়নি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
শামীম হত্যার পরে এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা টিটু খান বলেন, ‘শামীমের মতো এমন নিরীহ মানুষকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাতে আমরা এলাকাবাসী খুবই আতঙ্কে আছি। শামীমের কোনো শত্রু ছিল না, তাও ওকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।’
বরগুনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দাবি করে আইনজীবী আব্দুল ওয়াসি মতিন বলেন, ‘আমরা চাই পুলিশ ও জেলা প্রশাসন, স্থানীয় নাগরিকদের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি সভা করুক। সেখানে আইনশৃঙ্খল পরিস্থিতি কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হোক। চিহ্নিত হত্যাকাণ্ডগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করাও খুব প্রয়োজন।’
একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সচেতন নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি (সনাক) বরগুনার সাবেক সভাপতি মনির হোসেন কামাল।
তিনি বলেন, ‘বরগুনায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এক ধরনের অবনতির দিকে যাচ্ছে। এতে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। এতগুলো মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ কী, তা এখনো প্রকাশ করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশের এমন ভূমিকার কারণে মানুষের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে। তারা আস্থা হারাচ্ছেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’
প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি জানিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘বরগুনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। বরগুনা বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা যৌথ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এদিকে চলতি মাসে ২২টি মরদেহ উদ্ধার নিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে দুটি হত্যাকাণ্ড। এছাড়া আত্মহত্যা ১০ জন এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনাজনিত কারণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বরগুনায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘উদ্ধার প্রতিটি মরদেহের ক্ষেত্রে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং আইনানুগ তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।’

২৪ জুলাই, ২০২৬ ২০:২৬
বরগুনার বেতাগী পৌর শহরে গভীর রাতে সরকারি জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নেছার খানের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিযান চালিয়ে ঘর দুটি উচ্ছেদ করেন। পাশাপাশি দুই নির্মাণশ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বেতাগী পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফলপট্টি এলাকায় একটি খাসজমি দখল করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নেছার খান। পরে রাতেই দুটি টিনশেড দোকানঘর নির্মাণ করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সরকার পরিবর্তনের পর নেছার খান বেতাগী বাজারের ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করেছেন। তাঁর অত্যাচারে অনেকে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হন। সবশেষ তিনি বাজারের ভেতরে সরকারি জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেন।
বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহীন মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি এই জমি ইজারা নিয়ে খোরসেদ আলী মল্লিক ও মতি সিকদার ব্যবসা করেছেন। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন এই জমি খালি পড়ে ছিল। এই সুযোগে বিএনপি নেতা অবৈধভাবে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করেন। দলের পরিচয়ে তিনি এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন।
বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শাহ জাহান কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা রাতের আঁধারে দখলবাজি করে, তারা বিএনপির কেউ হতে পারে না। এদের আমরা কঠোরভাবে প্রতিহত করব।’
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পৌরসভার মধ্যে ঘর নির্মাণ করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। বাজারের ভেতরে সরকারি জমি দখল করে যাঁরা ঘর নির্মাণ করেছেন, তাঁরা আইন অমান্য করেছেন। জামাল ও রুবেল নামের দুই নির্মাণশ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
বরগুনার বেতাগী পৌর শহরে গভীর রাতে সরকারি জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নেছার খানের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিযান চালিয়ে ঘর দুটি উচ্ছেদ করেন। পাশাপাশি দুই নির্মাণশ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বেতাগী পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফলপট্টি এলাকায় একটি খাসজমি দখল করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নেছার খান। পরে রাতেই দুটি টিনশেড দোকানঘর নির্মাণ করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সরকার পরিবর্তনের পর নেছার খান বেতাগী বাজারের ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করেছেন। তাঁর অত্যাচারে অনেকে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হন। সবশেষ তিনি বাজারের ভেতরে সরকারি জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেন।
বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহীন মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি এই জমি ইজারা নিয়ে খোরসেদ আলী মল্লিক ও মতি সিকদার ব্যবসা করেছেন। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন এই জমি খালি পড়ে ছিল। এই সুযোগে বিএনপি নেতা অবৈধভাবে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করেন। দলের পরিচয়ে তিনি এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন।
বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শাহ জাহান কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা রাতের আঁধারে দখলবাজি করে, তারা বিএনপির কেউ হতে পারে না। এদের আমরা কঠোরভাবে প্রতিহত করব।’
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পৌরসভার মধ্যে ঘর নির্মাণ করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। বাজারের ভেতরে সরকারি জমি দখল করে যাঁরা ঘর নির্মাণ করেছেন, তাঁরা আইন অমান্য করেছেন। জামাল ও রুবেল নামের দুই নির্মাণশ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪৮
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক সার্জনকে অনৈতিক প্রস্তাব, অশালীন ইঙ্গিত এবং মানসিকভাবে হয়রানির অভিযোগে হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব (শৃঙ্খলা-২ শাখা) মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত (২২ জুলাই) পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ওই নারী চিকিৎসক বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক সার্জন হিসেবে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন সময় কোনো প্রয়োজন ছাড়াই নিজের দপ্তরে ডাকতেন তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম। সেখানে তিনি তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন এবং অশালীন ইঙ্গিত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের মধ্যে পড়ে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে ডা. রেজওয়ানুর আলমকে নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ উপযুক্ত বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি ব্যক্তিগত শুনানি চান কি না, তাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা শুরু হলে অভিযোগের গুরুত্ব ও তদন্তে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারে। সেই বিধান অনুযায়ী ডা. রেজওয়ানুর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এর আগে, ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী ওই আবাসিক সার্জন উল্লেখ করেন, গত ৬ জুন হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক তাকে বিভিন্ন সময় নিজের অফিস কক্ষে ডেকে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করতেন এবং মানসিকভাবে হয়রানি করতেন।
অভিযোগে ভুক্তভোগী আরও বলেন, ১৩ জুলাই সকালে তত্ত্বাবধায়ক হোয়াটসঅ্যাপ কলে যোগাযোগ করে নিজের ডরমিটরি কক্ষে একসঙ্গে সময় কাটানোর অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরদিন হাসপাতালের স্টাফ ও নার্সদের সামনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। এতে তিনি নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করে বিষয়টির তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানান।
ঘটনার একপর্যায়ে ২১ জুলাই হাসপাতালের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর ভুক্তভোগী চিকিৎসক অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। সেখানে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝির অবসানের কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে পরদিনই নতুন আবেদন দিয়ে তিনি অভিযোগ প্রত্যাহারের নেপথ্যের ঘটনা তুলে ধরেন। আবেদনে ভুক্তভোগী দাবি করেন, চাকরিজীবনে ক্ষতির আশঙ্কা দেখিয়ে কয়েকজন চিকিৎসক তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট ও সংবাদ দেখিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাকে বক্তব্য দিতেও বাধ্য করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগী আরও উল্লেখ করেন, জেলার স্বাস্থ্যসেবায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এমন বিবেচনায় সে সময় প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করেননি। তবে ১৪ জুলাই দেওয়া তার মূল অভিযোগের প্রতিটি বিষয়ে তিনি এখনো অনড় রয়েছেন এবং অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেন। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
ভুক্তভোগী বলেন, আমার অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। এটি সমাজের জন্যও একটি বার্তা। স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত সবারই দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদনটি আমার কাছ থেকে চাপ সৃষ্টি করে নেওয়া হয়েছিল। আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. রেজওয়ানুর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করে বাইরে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতেন। এ কারণে আমি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলাম। শোকজ দেওয়ার পরদিনই তিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি।’
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক সার্জনকে অনৈতিক প্রস্তাব, অশালীন ইঙ্গিত এবং মানসিকভাবে হয়রানির অভিযোগে হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব (শৃঙ্খলা-২ শাখা) মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত (২২ জুলাই) পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ওই নারী চিকিৎসক বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক সার্জন হিসেবে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন সময় কোনো প্রয়োজন ছাড়াই নিজের দপ্তরে ডাকতেন তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম। সেখানে তিনি তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন এবং অশালীন ইঙ্গিত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের মধ্যে পড়ে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে ডা. রেজওয়ানুর আলমকে নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ উপযুক্ত বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি ব্যক্তিগত শুনানি চান কি না, তাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা শুরু হলে অভিযোগের গুরুত্ব ও তদন্তে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারে। সেই বিধান অনুযায়ী ডা. রেজওয়ানুর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এর আগে, ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী ওই আবাসিক সার্জন উল্লেখ করেন, গত ৬ জুন হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক তাকে বিভিন্ন সময় নিজের অফিস কক্ষে ডেকে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করতেন এবং মানসিকভাবে হয়রানি করতেন।
অভিযোগে ভুক্তভোগী আরও বলেন, ১৩ জুলাই সকালে তত্ত্বাবধায়ক হোয়াটসঅ্যাপ কলে যোগাযোগ করে নিজের ডরমিটরি কক্ষে একসঙ্গে সময় কাটানোর অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরদিন হাসপাতালের স্টাফ ও নার্সদের সামনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। এতে তিনি নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করে বিষয়টির তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানান।
ঘটনার একপর্যায়ে ২১ জুলাই হাসপাতালের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর ভুক্তভোগী চিকিৎসক অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। সেখানে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝির অবসানের কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে পরদিনই নতুন আবেদন দিয়ে তিনি অভিযোগ প্রত্যাহারের নেপথ্যের ঘটনা তুলে ধরেন। আবেদনে ভুক্তভোগী দাবি করেন, চাকরিজীবনে ক্ষতির আশঙ্কা দেখিয়ে কয়েকজন চিকিৎসক তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট ও সংবাদ দেখিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাকে বক্তব্য দিতেও বাধ্য করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগী আরও উল্লেখ করেন, জেলার স্বাস্থ্যসেবায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এমন বিবেচনায় সে সময় প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করেননি। তবে ১৪ জুলাই দেওয়া তার মূল অভিযোগের প্রতিটি বিষয়ে তিনি এখনো অনড় রয়েছেন এবং অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেন। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
ভুক্তভোগী বলেন, আমার অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। এটি সমাজের জন্যও একটি বার্তা। স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত সবারই দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদনটি আমার কাছ থেকে চাপ সৃষ্টি করে নেওয়া হয়েছিল। আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. রেজওয়ানুর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করে বাইরে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতেন। এ কারণে আমি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলাম। শোকজ দেওয়ার পরদিনই তিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি।’

২১ জুলাই, ২০২৬ ০০:২৭
বরগুনার পাথরঘাটা পৌর শহরের ব্যবসায়ী রাধেশ্যাম কর্মকার তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা, ভুয়া লিগ্যাল নোটিশ ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার সকাল ১১ টায় পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে তিনি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সঞ্জিব কর্মকার তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন আদালতে মিথ্যা মামলা ও লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে হয়রানি করে আসছেন।
তিনি দাবি করেন, ২০১৭ সালে সঞ্জিব কর্মকার তার বিরুদ্ধে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এর জবাবে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে জানান, জমি বিক্রির কোনো বায়নাপত্র, দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর কিংবা ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ নেই। পরে ২০১৯ সালে মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশের প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাধেশ্যাম কর্মকার আরও বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যশোরের এক আইনজীবীর নাম ব্যবহার করে ডাকযোগে দুটি খাকি খাম পাঠানো হয়। খাম খুলে তিনি ভেতরে লিগ্যাল নোটিশের পরিবর্তে সাদা কাগজ পান। পরে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। এ ঘটনার কল রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালে তার বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়। মামলায় যে ব্যাংক হিসাব ও চেক নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে, সেই ব্যাংকের কোনো শাখায় তার নামে কোনো হিসাব নেই। একইভাবে সুনামগঞ্জ থেকে পাঠানো পৃথক দুটি লিগ্যাল নোটিশেও ভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হলেও একই ব্যাংক হিসাব ও চেক নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, যা তার ভাষ্য অনুযায়ী অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।
রাধেশ্যাম কর্মকার বলেন, সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই ডাকযোগে আরও দুটি খাকি খাম পান। পূর্বের অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় সাংবাদিক, ডাক বিভাগের কর্মচারী ও অন্যান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে খাম দুটি খোলা হলে ভেতরে কোনো লিখিত নোটিশ পাওয়া যায়নি। পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সঞ্জিব কর্মকার ও তার ছোট ভাই সঞ্জয় কর্মকারসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে ভুয়া চেক, লিগ্যাল নোটিশ ও মামলা দিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে হয়রানি করছে। তিনি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রধান বিচারপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয় সাংবাদিক ইমাম হোসেন নাহিদ, ব্যবসায়ী আবু সাইদ, আল আমিনসহ একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব কাজ করে মানুষকে হয়রানি করছে। রাধেশ্যাম কর্মকারকেও দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এ চক্রের সাথে স্থানীয় স্বর্ন ব্যবসায়ীরাও রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সঞ্জিব কর্মকারের ফোন দিলেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে বারবার লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো যশোরের আইনজীবী আব্দুল হালিম জোয়ার্দারকে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিককে বলেন, 'আপনি সাংবাদিক হন না কেন আপনি আমাকে ফোন দিবেন না।'
বরগুনার পাথরঘাটা পৌর শহরের ব্যবসায়ী রাধেশ্যাম কর্মকার তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা, ভুয়া লিগ্যাল নোটিশ ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার সকাল ১১ টায় পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে তিনি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সঞ্জিব কর্মকার তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন আদালতে মিথ্যা মামলা ও লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে হয়রানি করে আসছেন।
তিনি দাবি করেন, ২০১৭ সালে সঞ্জিব কর্মকার তার বিরুদ্ধে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এর জবাবে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে জানান, জমি বিক্রির কোনো বায়নাপত্র, দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর কিংবা ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ নেই। পরে ২০১৯ সালে মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশের প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাধেশ্যাম কর্মকার আরও বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যশোরের এক আইনজীবীর নাম ব্যবহার করে ডাকযোগে দুটি খাকি খাম পাঠানো হয়। খাম খুলে তিনি ভেতরে লিগ্যাল নোটিশের পরিবর্তে সাদা কাগজ পান। পরে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। এ ঘটনার কল রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালে তার বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়। মামলায় যে ব্যাংক হিসাব ও চেক নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে, সেই ব্যাংকের কোনো শাখায় তার নামে কোনো হিসাব নেই। একইভাবে সুনামগঞ্জ থেকে পাঠানো পৃথক দুটি লিগ্যাল নোটিশেও ভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হলেও একই ব্যাংক হিসাব ও চেক নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, যা তার ভাষ্য অনুযায়ী অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।
রাধেশ্যাম কর্মকার বলেন, সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই ডাকযোগে আরও দুটি খাকি খাম পান। পূর্বের অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় সাংবাদিক, ডাক বিভাগের কর্মচারী ও অন্যান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে খাম দুটি খোলা হলে ভেতরে কোনো লিখিত নোটিশ পাওয়া যায়নি। পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সঞ্জিব কর্মকার ও তার ছোট ভাই সঞ্জয় কর্মকারসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে ভুয়া চেক, লিগ্যাল নোটিশ ও মামলা দিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে হয়রানি করছে। তিনি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রধান বিচারপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয় সাংবাদিক ইমাম হোসেন নাহিদ, ব্যবসায়ী আবু সাইদ, আল আমিনসহ একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব কাজ করে মানুষকে হয়রানি করছে। রাধেশ্যাম কর্মকারকেও দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এ চক্রের সাথে স্থানীয় স্বর্ন ব্যবসায়ীরাও রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সঞ্জিব কর্মকারের ফোন দিলেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে বারবার লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো যশোরের আইনজীবী আব্দুল হালিম জোয়ার্দারকে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিককে বলেন, 'আপনি সাংবাদিক হন না কেন আপনি আমাকে ফোন দিবেন না।'

১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:৫৪
মাত্র ২৫ দিনের ব্যবধানে বরগুনার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে আলোচিত হত্যাকাণ্ড, রহস্যজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা এবং গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার ঘটনা। একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ৩ জুন। ওইদিন বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দুটি পৃথক কক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী ও তার দুই শিশু কন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ডাকবাংলোতে প্রবেশ করেন ইতি রানী। পরে তারা পৃথক কক্ষে অবস্থান নেন। কয়েক ঘণ্টা পর কেয়ারটেকার এক শিশুকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
পরে দরজা ভেঙে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে এখনো রহস্য কাটেনি। নিহতের স্বজনরা এটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এর কয়েকদিন পর ৮ জুন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না বাজার সংলগ্ন বড় খাল থেকে ব্যবসায়ী মো. শামীমের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৭ জুন সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।
১৯ মে আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে ২৬ মে জেলা জজ আদালত চত্বর সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় আরেক নারীর মরদেহ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে তাকে গণকবরে দাফন করা হয়।
১২ জুন মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে কুপিয়ে আহত করা হয় প্যানেল চেয়ারম্যানকে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে গ্রামবাসী ও তার স্বজনরা মিলে গণপিটুনি ও কুপিয়ে হত্যা করেন কালু বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম হোসেন কালুকে।
পরদিন ১৩ জুন পাথরঘাটা উপজেলার একটি সড়কের পাশ থেকে এক রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে বরগুনা সদরে দুই নারী, বামনায় এক যুবক এবং বেতাগীতে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
১৪ জুন খোদ তালতলী থানা পুলিশের ব্যারাক থেকে ফারুক হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার কক্ষ থেকে চার পৃষ্ঠার একটি চিঠিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
সবশেষ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বরগুনা সদর উপজেলার হেউলিবুনিয়া গ্রামে এলিজা নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমার স্ত্রী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় মাস্টার রোলে চাকরি করতো।
মারা যাওয়ার আগেও আমি যখন কাজের জন্য বাইরে যাই, ওকে ২০০ টাকা দিয়ে গিয়েছিলাম বাজার করতে। ও বলছিল, ওর বোনের বাসায় যাবে। কিন্তু দুপুরে শুনলাম আমার দুই সন্তান নিয়ে ও বেঁচে নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো পারিবারিক অশান্তি ছিল না। আমার বাচ্চারাও কখনো ডাকবাংলাতে যায়নি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
শামীম হত্যার পরে এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা টিটু খান বলেন, ‘শামীমের মতো এমন নিরীহ মানুষকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাতে আমরা এলাকাবাসী খুবই আতঙ্কে আছি। শামীমের কোনো শত্রু ছিল না, তাও ওকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।’
বরগুনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দাবি করে আইনজীবী আব্দুল ওয়াসি মতিন বলেন, ‘আমরা চাই পুলিশ ও জেলা প্রশাসন, স্থানীয় নাগরিকদের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি সভা করুক। সেখানে আইনশৃঙ্খল পরিস্থিতি কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হোক। চিহ্নিত হত্যাকাণ্ডগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করাও খুব প্রয়োজন।’
একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সচেতন নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি (সনাক) বরগুনার সাবেক সভাপতি মনির হোসেন কামাল।
তিনি বলেন, ‘বরগুনায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এক ধরনের অবনতির দিকে যাচ্ছে। এতে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। এতগুলো মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ কী, তা এখনো প্রকাশ করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশের এমন ভূমিকার কারণে মানুষের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে। তারা আস্থা হারাচ্ছেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’
প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি জানিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘বরগুনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। বরগুনা বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা যৌথ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এদিকে চলতি মাসে ২২টি মরদেহ উদ্ধার নিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে দুটি হত্যাকাণ্ড। এছাড়া আত্মহত্যা ১০ জন এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনাজনিত কারণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বরগুনায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘উদ্ধার প্রতিটি মরদেহের ক্ষেত্রে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং আইনানুগ তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।’