মাত্র ২৫ দিনের ব্যবধানে বরগুনার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে আলোচিত হত্যাকাণ্ড, রহস্যজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা এবং গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার ঘটনা। একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ৩ জুন। ওইদিন বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দুটি পৃথক কক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী ও তার দুই শিশু কন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ডাকবাংলোতে প্রবেশ করেন ইতি রানী। পরে তারা পৃথক কক্ষে অবস্থান নেন। কয়েক ঘণ্টা পর কেয়ারটেকার এক শিশুকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
পরে দরজা ভেঙে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে এখনো রহস্য কাটেনি। নিহতের স্বজনরা এটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এর কয়েকদিন পর ৮ জুন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না বাজার সংলগ্ন বড় খাল থেকে ব্যবসায়ী মো. শামীমের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৭ জুন সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।
১৯ মে আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে ২৬ মে জেলা জজ আদালত চত্বর সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় আরেক নারীর মরদেহ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে তাকে গণকবরে দাফন করা হয়।
১২ জুন মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে কুপিয়ে আহত করা হয় প্যানেল চেয়ারম্যানকে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে গ্রামবাসী ও তার স্বজনরা মিলে গণপিটুনি ও কুপিয়ে হত্যা করেন কালু বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম হোসেন কালুকে।
পরদিন ১৩ জুন পাথরঘাটা উপজেলার একটি সড়কের পাশ থেকে এক রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে বরগুনা সদরে দুই নারী, বামনায় এক যুবক এবং বেতাগীতে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
১৪ জুন খোদ তালতলী থানা পুলিশের ব্যারাক থেকে ফারুক হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার কক্ষ থেকে চার পৃষ্ঠার একটি চিঠিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
সবশেষ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বরগুনা সদর উপজেলার হেউলিবুনিয়া গ্রামে এলিজা নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমার স্ত্রী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় মাস্টার রোলে চাকরি করতো।
মারা যাওয়ার আগেও আমি যখন কাজের জন্য বাইরে যাই, ওকে ২০০ টাকা দিয়ে গিয়েছিলাম বাজার করতে। ও বলছিল, ওর বোনের বাসায় যাবে। কিন্তু দুপুরে শুনলাম আমার দুই সন্তান নিয়ে ও বেঁচে নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো পারিবারিক অশান্তি ছিল না। আমার বাচ্চারাও কখনো ডাকবাংলাতে যায়নি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
শামীম হত্যার পরে এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা টিটু খান বলেন, ‘শামীমের মতো এমন নিরীহ মানুষকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাতে আমরা এলাকাবাসী খুবই আতঙ্কে আছি। শামীমের কোনো শত্রু ছিল না, তাও ওকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।’
বরগুনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দাবি করে আইনজীবী আব্দুল ওয়াসি মতিন বলেন, ‘আমরা চাই পুলিশ ও জেলা প্রশাসন, স্থানীয় নাগরিকদের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি সভা করুক। সেখানে আইনশৃঙ্খল পরিস্থিতি কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হোক। চিহ্নিত হত্যাকাণ্ডগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করাও খুব প্রয়োজন।’
একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সচেতন নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি (সনাক) বরগুনার সাবেক সভাপতি মনির হোসেন কামাল।
তিনি বলেন, ‘বরগুনায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এক ধরনের অবনতির দিকে যাচ্ছে। এতে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। এতগুলো মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ কী, তা এখনো প্রকাশ করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশের এমন ভূমিকার কারণে মানুষের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে। তারা আস্থা হারাচ্ছেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’
প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি জানিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘বরগুনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। বরগুনা বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা যৌথ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এদিকে চলতি মাসে ২২টি মরদেহ উদ্ধার নিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে দুটি হত্যাকাণ্ড। এছাড়া আত্মহত্যা ১০ জন এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনাজনিত কারণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বরগুনায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘উদ্ধার প্রতিটি মরদেহের ক্ষেত্রে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং আইনানুগ তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।’

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫১
বরগুনার তালতলীতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর পানি, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা। তাঁদের অভিযোগ, নদীতে বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কালো ধোঁয়াও জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এসব দূষণ বন্ধ এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসংলগ্ন পায়রা নদীর তীরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ‘পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটি’ আয়োজিত মানববন্ধনে দুই শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলে অংশ নেন।
‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) ও ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর তালতলী শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব মো. বাবুল হাওলাদার, কামাল চৌকিদার, সুলতানা মিয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলেরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বরিশাল ৩৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে অটোরিকশা ও নৌকায় করে নদীতে ফেলছে বলে তাঁদের দাবি। এভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে পায়রা নদীর পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
বক্তাদের ভাষ্য, নদীর পানিদূষণের প্রভাব পড়ছে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীর ওপর। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রতিবেশব্যবস্থা ও মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জেলেদের আয় কমছে। নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ছে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে নদীনির্ভর বহু মানুষের জীবন-জীবিকা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে উদ্বেগ জানান তাঁরা।
নদীদূষণের পাশাপাশি বায়ুদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া স্থানীয় জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও দাবি করেন বক্তারা।
কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে পায়রা নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, দূষণের উৎস ও প্রকৃত কারণ শনাক্তে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অভিযোগের তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। নদীর পানি, ইলিশসহ অন্যান্য মৎস্যসম্পদ এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপও কামনা করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ নষ্ট করে ও নদীর পানি দূষিত করে কাউকে কোনো ধরনের অপকর্ম করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বরগুনার তালতলীতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর পানি, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা। তাঁদের অভিযোগ, নদীতে বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কালো ধোঁয়াও জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এসব দূষণ বন্ধ এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসংলগ্ন পায়রা নদীর তীরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ‘পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটি’ আয়োজিত মানববন্ধনে দুই শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলে অংশ নেন।
‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) ও ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর তালতলী শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব মো. বাবুল হাওলাদার, কামাল চৌকিদার, সুলতানা মিয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলেরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বরিশাল ৩৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে অটোরিকশা ও নৌকায় করে নদীতে ফেলছে বলে তাঁদের দাবি। এভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে পায়রা নদীর পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
বক্তাদের ভাষ্য, নদীর পানিদূষণের প্রভাব পড়ছে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীর ওপর। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রতিবেশব্যবস্থা ও মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জেলেদের আয় কমছে। নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ছে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে নদীনির্ভর বহু মানুষের জীবন-জীবিকা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে উদ্বেগ জানান তাঁরা।
নদীদূষণের পাশাপাশি বায়ুদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া স্থানীয় জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও দাবি করেন বক্তারা।
কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে পায়রা নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, দূষণের উৎস ও প্রকৃত কারণ শনাক্তে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অভিযোগের তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। নদীর পানি, ইলিশসহ অন্যান্য মৎস্যসম্পদ এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপও কামনা করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ নষ্ট করে ও নদীর পানি দূষিত করে কাউকে কোনো ধরনের অপকর্ম করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৩৯
বরগুনায় এক কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় কালবেলার প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
এদিকে সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন শুনানি মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা।
সাংবাদিককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তা, অমানবিক আচরণ ও পুলিশ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গত ৩ অক্টোবর বরগুনায় গিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।
পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এর আগে গত ১ অক্টোবর রাতে সুভাষ ঘোষের দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় আসাদ সবুজসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসাদ সবুজকে হ্যান্ডকাফ পরানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ বরগুনায় গিয়ে ঘটনার তদন্তের দাবি জানান।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসাদ সবুজের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। পরে বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
মামলার শুনানিতে আসাদ সবুজের পক্ষে অ্যাডভোকেট এম এ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের ও অ্যাডভোকেট বাবুল দাস উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের নামে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অমানবিক। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল বরগুনায় গিয়ে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমিজমা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দাবি, এলাকার কয়েকটি হিন্দু পরিবারের কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে মামলাটি করা হয়েছে।
তবে জমি দখল ও মামলাটি সাজানোর অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী সুভাষ ঘোষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বরগুনায় এক কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় কালবেলার প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
এদিকে সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন শুনানি মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা।
সাংবাদিককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তা, অমানবিক আচরণ ও পুলিশ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গত ৩ অক্টোবর বরগুনায় গিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।
পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এর আগে গত ১ অক্টোবর রাতে সুভাষ ঘোষের দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় আসাদ সবুজসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসাদ সবুজকে হ্যান্ডকাফ পরানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ বরগুনায় গিয়ে ঘটনার তদন্তের দাবি জানান।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসাদ সবুজের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। পরে বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
মামলার শুনানিতে আসাদ সবুজের পক্ষে অ্যাডভোকেট এম এ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের ও অ্যাডভোকেট বাবুল দাস উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের নামে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অমানবিক। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল বরগুনায় গিয়ে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমিজমা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দাবি, এলাকার কয়েকটি হিন্দু পরিবারের কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে মামলাটি করা হয়েছে।
তবে জমি দখল ও মামলাটি সাজানোর অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী সুভাষ ঘোষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৯
বরগুনার উপকূলজুড়ে প্রতিদিনই দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে নদী ও সাগরের ভাঙন। কোথাও জোয়ারের পানিতে হারিয়ে যাচ্ছে সৈকতের অংশ, কোথাও ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে পড়ছে ঝাউগাছ। আবার কোথাও বেড়িবাঁধের মাটি সরে গিয়ে বাড়ছে জনপদ প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা। দীর্ঘদিনের এ ভাঙনে ইতোমধ্যে বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও জীবিকার নানা অবলম্বন হারাচ্ছেন উপকূলের মানুষ।
বরগুনা সদর, তালতলী, পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে সঙ্কুচিত হচ্ছে নলটোনা ইউনিয়ন। অন্যদিকে সাগরের ভাঙনে ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তালতলীর শুভসন্ধ্যা সৈকত ও সংলগ্ন ঝাউবন। ঢেউয়ের আঘাতে বালু সরে গিয়ে অনেক গাছের শিকড় বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও গাছ উপড়ে পড়েছে, আবার কোথাও সৈকতের অংশ চলে গেছে পানির নিচে। লালদিয়া চরেও দেখা দিয়েছে ভাঙনের তীব্রতা। পর্যটনের সম্ভাবনাময় এসব এলাকা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
নদী ও সাগরঘেঁষা বেড়িবাঁধ নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। অস্বাভাবিক জোয়ার, ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপের সময় দুর্বল বাঁধ দিয়ে পানি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাঁধ ভেঙে বা উপচে পানি ঢুকে পড়লে দ্রুত প্লাবিত হয় বসতবাড়ি ও ফসলের মাঠ। লবণাক্ত পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎস।
স্থানীয় পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং ভূমিক্ষয়ের সম্মিলিত প্রভাবেই বরগুনার উপকূলের ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু বাঁধ মেরামত করে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদী-সাগরের গতিপথ, ভাঙনের ধরন ও ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঝাউবন, ম্যানগ্রোভসহ প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থা রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, “বরগুনার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা সাধ্যমতো বাঁধ সুরক্ষার চেষ্টা করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই বরগুনার জন্য কার্যক্রম শুরু করা যাবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ফলে এক মৌসুমে মেরামত করা বাঁধ পরের মৌসুমেই আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
পরিবেশবিদদের মতে, বরগুনার উপকূল রক্ষায় এখনই সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা, টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভাঙন পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনপদের জন্য আগাম সুরক্ষা পরিকল্পনা নিতে হবে। অন্যথায় উপকূলীয় জনপদ, কৃষি ও জীবিকার ওপর ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
বরগুনার উপকূলজুড়ে প্রতিদিনই দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে নদী ও সাগরের ভাঙন। কোথাও জোয়ারের পানিতে হারিয়ে যাচ্ছে সৈকতের অংশ, কোথাও ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে পড়ছে ঝাউগাছ। আবার কোথাও বেড়িবাঁধের মাটি সরে গিয়ে বাড়ছে জনপদ প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা। দীর্ঘদিনের এ ভাঙনে ইতোমধ্যে বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও জীবিকার নানা অবলম্বন হারাচ্ছেন উপকূলের মানুষ।
বরগুনা সদর, তালতলী, পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে সঙ্কুচিত হচ্ছে নলটোনা ইউনিয়ন। অন্যদিকে সাগরের ভাঙনে ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তালতলীর শুভসন্ধ্যা সৈকত ও সংলগ্ন ঝাউবন। ঢেউয়ের আঘাতে বালু সরে গিয়ে অনেক গাছের শিকড় বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও গাছ উপড়ে পড়েছে, আবার কোথাও সৈকতের অংশ চলে গেছে পানির নিচে। লালদিয়া চরেও দেখা দিয়েছে ভাঙনের তীব্রতা। পর্যটনের সম্ভাবনাময় এসব এলাকা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
নদী ও সাগরঘেঁষা বেড়িবাঁধ নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। অস্বাভাবিক জোয়ার, ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপের সময় দুর্বল বাঁধ দিয়ে পানি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাঁধ ভেঙে বা উপচে পানি ঢুকে পড়লে দ্রুত প্লাবিত হয় বসতবাড়ি ও ফসলের মাঠ। লবণাক্ত পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎস।
স্থানীয় পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং ভূমিক্ষয়ের সম্মিলিত প্রভাবেই বরগুনার উপকূলের ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু বাঁধ মেরামত করে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদী-সাগরের গতিপথ, ভাঙনের ধরন ও ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঝাউবন, ম্যানগ্রোভসহ প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থা রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, “বরগুনার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা সাধ্যমতো বাঁধ সুরক্ষার চেষ্টা করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই বরগুনার জন্য কার্যক্রম শুরু করা যাবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ফলে এক মৌসুমে মেরামত করা বাঁধ পরের মৌসুমেই আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
পরিবেশবিদদের মতে, বরগুনার উপকূল রক্ষায় এখনই সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা, টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভাঙন পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনপদের জন্য আগাম সুরক্ষা পরিকল্পনা নিতে হবে। অন্যথায় উপকূলীয় জনপদ, কৃষি ও জীবিকার ওপর ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।

১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:৫৪
মাত্র ২৫ দিনের ব্যবধানে বরগুনার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে আলোচিত হত্যাকাণ্ড, রহস্যজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা এবং গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার ঘটনা। একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ৩ জুন। ওইদিন বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দুটি পৃথক কক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী ও তার দুই শিশু কন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ডাকবাংলোতে প্রবেশ করেন ইতি রানী। পরে তারা পৃথক কক্ষে অবস্থান নেন। কয়েক ঘণ্টা পর কেয়ারটেকার এক শিশুকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
পরে দরজা ভেঙে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে এখনো রহস্য কাটেনি। নিহতের স্বজনরা এটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এর কয়েকদিন পর ৮ জুন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না বাজার সংলগ্ন বড় খাল থেকে ব্যবসায়ী মো. শামীমের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৭ জুন সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।
১৯ মে আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে ২৬ মে জেলা জজ আদালত চত্বর সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় আরেক নারীর মরদেহ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে তাকে গণকবরে দাফন করা হয়।
১২ জুন মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে কুপিয়ে আহত করা হয় প্যানেল চেয়ারম্যানকে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে গ্রামবাসী ও তার স্বজনরা মিলে গণপিটুনি ও কুপিয়ে হত্যা করেন কালু বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম হোসেন কালুকে।
পরদিন ১৩ জুন পাথরঘাটা উপজেলার একটি সড়কের পাশ থেকে এক রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে বরগুনা সদরে দুই নারী, বামনায় এক যুবক এবং বেতাগীতে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
১৪ জুন খোদ তালতলী থানা পুলিশের ব্যারাক থেকে ফারুক হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার কক্ষ থেকে চার পৃষ্ঠার একটি চিঠিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
সবশেষ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বরগুনা সদর উপজেলার হেউলিবুনিয়া গ্রামে এলিজা নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমার স্ত্রী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় মাস্টার রোলে চাকরি করতো।
মারা যাওয়ার আগেও আমি যখন কাজের জন্য বাইরে যাই, ওকে ২০০ টাকা দিয়ে গিয়েছিলাম বাজার করতে। ও বলছিল, ওর বোনের বাসায় যাবে। কিন্তু দুপুরে শুনলাম আমার দুই সন্তান নিয়ে ও বেঁচে নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো পারিবারিক অশান্তি ছিল না। আমার বাচ্চারাও কখনো ডাকবাংলাতে যায়নি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
শামীম হত্যার পরে এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা টিটু খান বলেন, ‘শামীমের মতো এমন নিরীহ মানুষকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাতে আমরা এলাকাবাসী খুবই আতঙ্কে আছি। শামীমের কোনো শত্রু ছিল না, তাও ওকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।’
বরগুনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দাবি করে আইনজীবী আব্দুল ওয়াসি মতিন বলেন, ‘আমরা চাই পুলিশ ও জেলা প্রশাসন, স্থানীয় নাগরিকদের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি সভা করুক। সেখানে আইনশৃঙ্খল পরিস্থিতি কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হোক। চিহ্নিত হত্যাকাণ্ডগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করাও খুব প্রয়োজন।’
একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সচেতন নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি (সনাক) বরগুনার সাবেক সভাপতি মনির হোসেন কামাল।
তিনি বলেন, ‘বরগুনায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এক ধরনের অবনতির দিকে যাচ্ছে। এতে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। এতগুলো মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ কী, তা এখনো প্রকাশ করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশের এমন ভূমিকার কারণে মানুষের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে। তারা আস্থা হারাচ্ছেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’
প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি জানিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘বরগুনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। বরগুনা বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা যৌথ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এদিকে চলতি মাসে ২২টি মরদেহ উদ্ধার নিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে দুটি হত্যাকাণ্ড। এছাড়া আত্মহত্যা ১০ জন এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনাজনিত কারণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বরগুনায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘উদ্ধার প্রতিটি মরদেহের ক্ষেত্রে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং আইনানুগ তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।’
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৭
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২০
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪২
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৮