সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ঐতিহাসিক মসজিদের অংশ অপসারণের উদ্যোগ, বিক্ষোভে কাঁদানে গ্যাস; জাহাঙ্গিরপুরী থেকে উজ্জয়ন—সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের উদ্যোগ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সিংহস্থ মেলা-২০২৮ সামনে রেখে সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে মসজিদটির নির্দিষ্ট অংশ ভাঙার পরিকল্পনা করেছে উজ্জয়ন পৌর করপোরেশন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারতে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদের অংশ অপসারণের উদ্যোগের প্রতিবাদে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের দিকে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ভিডিওতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
উজ্জয়নে ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলায় বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগমের কথা বিবেচনায় নিয়ে শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে মোট ২৭২টি স্থাপনা ভাঙার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শাহী মসজিদেরও একটি অংশ প্রস্তাবিত সড়কের মধ্যে পড়েছে। মসজিদটির কিছু অংশের বয়স প্রায় ৬০০ বছর বলে দাবি করেছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
মসজিদের অংশ অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের করা আবেদন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ গত ৯ সেপ্টেম্বর খারিজ করে দেয়। আদালত সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা, জনস্বার্থ এবং সিংহস্থ মেলায় যানজট নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত জানিয়েছে, একই সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে এর আগে ১০টি মন্দির ও একটি মসজিদের অংশ অপসারণ করা হয়েছে। উজ্জয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮০টি ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও আদালতের পর্যবেক্ষণে এসেছে। এ কারণে শুধু ধর্মীয় স্থাপনা হওয়ার ভিত্তিতে শাহী মসজিদকে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে—আবেদনকারীদের এমন অভিযোগ আদালত গ্রহণ করেনি।
তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য বিকল্প নকশা গ্রহণ করা সম্ভব। মসজিদের বিপরীত পাশের স্থাপনা সরিয়ে বা অন্য দিক থেকে জমি নিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। এ নিয়ে সোমবার হাইকোর্টে পরবর্তী শুনানির কথা রয়েছে।
উজ্জয়নের ঘটনা ভারতের বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যে মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ কিংবা বিক্ষোভের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার ঘটনাকে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশ ‘বুলডোজার জাস্টিস’ বলে অভিহিত করেছে।
২০২২ সালের এপ্রিলে দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরীতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পর উত্তর দিল্লি পৌর করপোরেশন উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এতে মুসলিম মালিকানাধীন দোকানপাট ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুপ্রিম কোর্ট স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়ার পরও উচ্ছেদ কার্যক্রম চলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
একই বছরের এপ্রিলে মধ্যপ্রদেশের খারগোনে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পরও ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে খারগোনের এক মুসলিম নারীর বাড়ি ভাঙার ঘটনাসহ বিভিন্ন উচ্ছেদের বিবরণ তুলে ধরা হয়।
সংস্থাটি জানায়, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আসাম, দিল্লি, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং বিক্ষোভের পর অন্তত ১২৮টি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে। এতে অন্তত ৬১৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন। অ্যামনেস্টির অভিযোগ, এসব অভিযানে মুসলিমদের সম্পত্তি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
তবে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর প্রশাসনের বক্তব্য, উচ্ছেদ অভিযানগুলো অবৈধ স্থাপনা বা দখলদারির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। ফলে এসব পদক্ষেপে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়। আদালত স্পষ্ট করে, কোনো ব্যক্তি অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেই তাঁর সম্পত্তি ধ্বংস করা যায় না। উচ্ছেদের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, আগাম নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয় আদালত।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি ভাঙার ঘটনায় একাধিক আবেদন ও সমালোচনার পর আদালতের এ নির্দেশনা আসে। মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ছিল, এ ধরনের অভিযান অনেক ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তবে উজ্জয়নের শাহী মসজিদ ঘিরে বিরোধটি অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তির বাড়ি ভাঙার ঘটনা নয়। এটি সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প ও আদালতের আদেশসংক্রান্ত বিরোধ। তাই দুই ধরনের ঘটনার আইনি প্রেক্ষাপট এক নয়। তারপরও ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সংবেদনশীলতা, বিকল্প পরিকল্পনা এবং স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ বিবেচনার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতে ধর্মীয় স্থাপনা ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা দেশটির সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত জমি রামমন্দির নির্মাণের জন্য দেওয়ার রায় দেয়। একই সঙ্গে বাবরি মসজিদ ধ্বংসকে আইনের শাসনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে এবং মুসলিম পক্ষকে বিকল্প জমি দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন ও প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠিত হয়। বিজেপি এ ঘটনাকে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণ হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দল ভারতে ধর্মীয় মেরুকরণ এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ঘটলেও তাঁর সরকারের আমলে ধর্মীয় পরিচয়কেন্দ্রিক রাজনীতি ও মুসলিম স্থাপনা ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে সমালোচকদের বক্তব্য।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এবং বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যের প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় যথেষ্ট উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিমদের সম্পত্তি উচ্ছেদ, সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে।
তবে উজ্জয়নের শাহী মসজিদ অপসারণের সিদ্ধান্তটি স্থানীয় পৌর করপোরেশনের সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ এবং এ বিষয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে। ঘটনাটি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পৃথক ভূমিকা বিবেচনা করেই এ ঘটনার রাজনৈতিক দায় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি মসজিদ কমপ্লেক্সের অংশ অপসারণের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। তিনি রাজ্য সরকারকে স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য অন্য দিক থেকে জমি নেওয়ার বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মসজিদ ঘিরে প্রশাসনের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সড়ক সম্প্রসারণ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং বড় ধর্মীয় সমাবেশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং স্থানীয় মানুষের উদ্বেগও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
উজ্জয়নের শাহী মসজিদ ঘিরে বিরোধ তাই কেবল একটি সড়কের নকশা বা স্থাপনা অপসারণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।
মোদি আমলে বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, উজ্জয়নের ঘটনাও তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন সড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেয়।
সূত্র: এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও রয়টার্স।

১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৩২
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) জানায়, শনিবার গভীর রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি, দুজন বাংলাদেশি, একজন করে মার্কিন, মিসরীয়, জর্ডানি, সিরীয়, ফিলিস্তিনি ও সুদানি নাগরিক রয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলায় সম্পত্তিরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি।
এর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে জিএসিএ জানায়, হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। এ সময় কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা নিশ্চিত করার কাজ করেন।
ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এ হামলার জন্য হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি হামলাটিকে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী এ সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশেও একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছেন আল-মালকি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সৌদি আরবে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এসব হামলা নিরীহ বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞার প্রমাণ। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।
তবে সর্বশেষ হামলার দায় এখনো স্বীকার করেনি হুথিরা। আল জাজিরার প্রতিবেদক ইউসেফ মাউরি জানিয়েছেন, গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে। মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আকাশসীমায় চলাচলকারী বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দিয়েছে তারা।
এদিকে হামলার পর রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস সৌদি আরবে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) জানায়, শনিবার গভীর রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি, দুজন বাংলাদেশি, একজন করে মার্কিন, মিসরীয়, জর্ডানি, সিরীয়, ফিলিস্তিনি ও সুদানি নাগরিক রয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলায় সম্পত্তিরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি।
এর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে জিএসিএ জানায়, হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। এ সময় কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা নিশ্চিত করার কাজ করেন।
ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এ হামলার জন্য হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি হামলাটিকে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী এ সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশেও একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছেন আল-মালকি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সৌদি আরবে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এসব হামলা নিরীহ বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞার প্রমাণ। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।
তবে সর্বশেষ হামলার দায় এখনো স্বীকার করেনি হুথিরা। আল জাজিরার প্রতিবেদক ইউসেফ মাউরি জানিয়েছেন, গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে। মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আকাশসীমায় চলাচলকারী বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দিয়েছে তারা।
এদিকে হামলার পর রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস সৌদি আরবে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৫৫
ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমনে ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা জারি করে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয় পুলিশ। Reuters ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিক্ষোভের ডাক দেয় তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে দলটি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়েছে। সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ আরও কয়েকজন বিরোধী নেতার আটকের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই প্রক্রিয়া বন্ধ, বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম পুনর্বহাল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য ভোটার তালিকা যাচাই ও অযোগ্য নাম বাদ দেওয়া।
আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন বন্ধ, মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধ এবং বিক্ষোভস্থলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের অভিযানে শত শত বিক্ষোভকারী আটক হয়েছেন বলেও জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
বিক্ষোভকারীরা পরিস্থিতিকে গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন, বিরোধী নেতাদের আটক এবং প্রতিবাদে বিধিনিষেধ—সব মিলিয়ে ভারতের নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমনে ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা জারি করে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয় পুলিশ। Reuters ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিক্ষোভের ডাক দেয় তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে দলটি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়েছে। সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ আরও কয়েকজন বিরোধী নেতার আটকের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই প্রক্রিয়া বন্ধ, বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম পুনর্বহাল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য ভোটার তালিকা যাচাই ও অযোগ্য নাম বাদ দেওয়া।
আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন বন্ধ, মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধ এবং বিক্ষোভস্থলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের অভিযানে শত শত বিক্ষোভকারী আটক হয়েছেন বলেও জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
বিক্ষোভকারীরা পরিস্থিতিকে গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন, বিরোধী নেতাদের আটক এবং প্রতিবাদে বিধিনিষেধ—সব মিলিয়ে ভারতের নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৪৯
চলতি বছরের ডিসেম্বরে চূড়ান্ত রূপ নিতে যাওয়া শক্তিশালী ‘এল নিনো’ নিয়ে চরম আশঙ্কার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির মাসিক জলবায়ু বুলেটিন জানায়, এই মহাবিপদের স্থায়ীত্ব ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
ডব্লিউএমও-এর সেক্রেটারি জেনারেল সেলেস্তে সাউলো জানিয়েছেন, ১৯৫০ সালের পর থেকে এটি অন্যতম শক্তিশালী ‘সুপার-এল নিনো’ হতে পারে। আসন্ন ডিসেম্বর মাসে মধ্য ও পূর্ব ট্রপিকাল প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে রেকর্ড ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৬.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছাতে পারে।
ধেয়ে আসছে হারিকেন সাইমন, ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা
ধেয়ে আসছে হারিকেন সাইমন, ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা
এর আগে ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির রেকর্ড ভাঙতে চলেছে এই পরিস্থিতি। মহাসাগরগুলোর ইতিহাসে বর্তমান উষ্ণতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকায় জলবায়ুর এই ভয়ঙ্কর রূপ বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই জলবায়ু চক্র বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার স্বাভাবিক ভারসাম্য সম্পূর্ণরূপে ওলটপালট করে দেয়। এর সরাসরি প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ খরা কিংবা অতিবৃষ্টির মতো চরম দুর্যোগ দেখা দিতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী ইতোমধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা রেকর্ড মাত্রা ছুঁয়েছে। এছাড়া গবেষকদের আশঙ্কা, এই ভয়াবহ এল নিনোর কারণে বিশ্বব্যাপী মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বড় ধরনের প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরে চূড়ান্ত রূপ নিতে যাওয়া শক্তিশালী ‘এল নিনো’ নিয়ে চরম আশঙ্কার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির মাসিক জলবায়ু বুলেটিন জানায়, এই মহাবিপদের স্থায়ীত্ব ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
ডব্লিউএমও-এর সেক্রেটারি জেনারেল সেলেস্তে সাউলো জানিয়েছেন, ১৯৫০ সালের পর থেকে এটি অন্যতম শক্তিশালী ‘সুপার-এল নিনো’ হতে পারে। আসন্ন ডিসেম্বর মাসে মধ্য ও পূর্ব ট্রপিকাল প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে রেকর্ড ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৬.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছাতে পারে।
ধেয়ে আসছে হারিকেন সাইমন, ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা
ধেয়ে আসছে হারিকেন সাইমন, ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা
এর আগে ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির রেকর্ড ভাঙতে চলেছে এই পরিস্থিতি। মহাসাগরগুলোর ইতিহাসে বর্তমান উষ্ণতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকায় জলবায়ুর এই ভয়ঙ্কর রূপ বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই জলবায়ু চক্র বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার স্বাভাবিক ভারসাম্য সম্পূর্ণরূপে ওলটপালট করে দেয়। এর সরাসরি প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ খরা কিংবা অতিবৃষ্টির মতো চরম দুর্যোগ দেখা দিতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী ইতোমধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা রেকর্ড মাত্রা ছুঁয়েছে। এছাড়া গবেষকদের আশঙ্কা, এই ভয়াবহ এল নিনোর কারণে বিশ্বব্যাপী মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বড় ধরনের প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২৮
সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ঐতিহাসিক মসজিদের অংশ অপসারণের উদ্যোগ, বিক্ষোভে কাঁদানে গ্যাস; জাহাঙ্গিরপুরী থেকে উজ্জয়ন—সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের উদ্যোগ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সিংহস্থ মেলা-২০২৮ সামনে রেখে সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে মসজিদটির নির্দিষ্ট অংশ ভাঙার পরিকল্পনা করেছে উজ্জয়ন পৌর করপোরেশন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারতে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদের অংশ অপসারণের উদ্যোগের প্রতিবাদে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের দিকে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ভিডিওতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
উজ্জয়নে ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলায় বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগমের কথা বিবেচনায় নিয়ে শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে মোট ২৭২টি স্থাপনা ভাঙার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শাহী মসজিদেরও একটি অংশ প্রস্তাবিত সড়কের মধ্যে পড়েছে। মসজিদটির কিছু অংশের বয়স প্রায় ৬০০ বছর বলে দাবি করেছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
মসজিদের অংশ অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের করা আবেদন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ গত ৯ সেপ্টেম্বর খারিজ করে দেয়। আদালত সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা, জনস্বার্থ এবং সিংহস্থ মেলায় যানজট নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত জানিয়েছে, একই সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে এর আগে ১০টি মন্দির ও একটি মসজিদের অংশ অপসারণ করা হয়েছে। উজ্জয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮০টি ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও আদালতের পর্যবেক্ষণে এসেছে। এ কারণে শুধু ধর্মীয় স্থাপনা হওয়ার ভিত্তিতে শাহী মসজিদকে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে—আবেদনকারীদের এমন অভিযোগ আদালত গ্রহণ করেনি।
তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য বিকল্প নকশা গ্রহণ করা সম্ভব। মসজিদের বিপরীত পাশের স্থাপনা সরিয়ে বা অন্য দিক থেকে জমি নিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। এ নিয়ে সোমবার হাইকোর্টে পরবর্তী শুনানির কথা রয়েছে।
উজ্জয়নের ঘটনা ভারতের বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যে মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ কিংবা বিক্ষোভের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার ঘটনাকে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশ ‘বুলডোজার জাস্টিস’ বলে অভিহিত করেছে।
২০২২ সালের এপ্রিলে দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরীতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পর উত্তর দিল্লি পৌর করপোরেশন উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এতে মুসলিম মালিকানাধীন দোকানপাট ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুপ্রিম কোর্ট স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়ার পরও উচ্ছেদ কার্যক্রম চলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
একই বছরের এপ্রিলে মধ্যপ্রদেশের খারগোনে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পরও ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে খারগোনের এক মুসলিম নারীর বাড়ি ভাঙার ঘটনাসহ বিভিন্ন উচ্ছেদের বিবরণ তুলে ধরা হয়।
সংস্থাটি জানায়, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আসাম, দিল্লি, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং বিক্ষোভের পর অন্তত ১২৮টি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে। এতে অন্তত ৬১৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন। অ্যামনেস্টির অভিযোগ, এসব অভিযানে মুসলিমদের সম্পত্তি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
তবে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর প্রশাসনের বক্তব্য, উচ্ছেদ অভিযানগুলো অবৈধ স্থাপনা বা দখলদারির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। ফলে এসব পদক্ষেপে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়। আদালত স্পষ্ট করে, কোনো ব্যক্তি অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেই তাঁর সম্পত্তি ধ্বংস করা যায় না। উচ্ছেদের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, আগাম নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয় আদালত।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি ভাঙার ঘটনায় একাধিক আবেদন ও সমালোচনার পর আদালতের এ নির্দেশনা আসে। মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ছিল, এ ধরনের অভিযান অনেক ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তবে উজ্জয়নের শাহী মসজিদ ঘিরে বিরোধটি অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তির বাড়ি ভাঙার ঘটনা নয়। এটি সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প ও আদালতের আদেশসংক্রান্ত বিরোধ। তাই দুই ধরনের ঘটনার আইনি প্রেক্ষাপট এক নয়। তারপরও ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সংবেদনশীলতা, বিকল্প পরিকল্পনা এবং স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ বিবেচনার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতে ধর্মীয় স্থাপনা ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা দেশটির সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত জমি রামমন্দির নির্মাণের জন্য দেওয়ার রায় দেয়। একই সঙ্গে বাবরি মসজিদ ধ্বংসকে আইনের শাসনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে এবং মুসলিম পক্ষকে বিকল্প জমি দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন ও প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠিত হয়। বিজেপি এ ঘটনাকে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণ হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দল ভারতে ধর্মীয় মেরুকরণ এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ঘটলেও তাঁর সরকারের আমলে ধর্মীয় পরিচয়কেন্দ্রিক রাজনীতি ও মুসলিম স্থাপনা ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে সমালোচকদের বক্তব্য।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এবং বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যের প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় যথেষ্ট উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিমদের সম্পত্তি উচ্ছেদ, সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে।
তবে উজ্জয়নের শাহী মসজিদ অপসারণের সিদ্ধান্তটি স্থানীয় পৌর করপোরেশনের সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ এবং এ বিষয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে। ঘটনাটি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পৃথক ভূমিকা বিবেচনা করেই এ ঘটনার রাজনৈতিক দায় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি মসজিদ কমপ্লেক্সের অংশ অপসারণের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। তিনি রাজ্য সরকারকে স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য অন্য দিক থেকে জমি নেওয়ার বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মসজিদ ঘিরে প্রশাসনের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সড়ক সম্প্রসারণ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং বড় ধর্মীয় সমাবেশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং স্থানীয় মানুষের উদ্বেগও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
উজ্জয়নের শাহী মসজিদ ঘিরে বিরোধ তাই কেবল একটি সড়কের নকশা বা স্থাপনা অপসারণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।
মোদি আমলে বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, উজ্জয়নের ঘটনাও তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন সড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেয়।
সূত্র: এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও রয়টার্স।
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৭
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০৬